#মৃগতৃষ্ণা---৩১ (কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫)
#লেখিকা-মেহরুমা নূর
(রহস্য ভেদ--প্রথম অংশ)
★স্তব্ধ, অলংকারবহুল চোখে তাকিয়ে আছে পঙ্খি তার সম্মুখে থাকা ব্যাক্তির দিকে। চোখ যা দেখছে মন মস্তিষ্ক তা মানতে পারছেনা কোনমতে।মনে হচ্ছে সে নিশ্চয় কোন স্বপ্ন দেখছে। এটা সত্যি হতেই পারে না। উনি কিভাবে ইন্ধনের ক্ষতি করতে পারে? কিভাবে সম্ভব এটা? বিশ্বাস করতে পারছেনা পঙ্খি। ইন্ধনকে যে এই পৃথিবীর আলো দেখিয়েছে, যার গর্ভ থেকে ভূমিষ্ট হয়েছে ইন্ধন সেই জন্মদাত্রী মা কিভাবে তাঁর সন্তানের জানের দুশমন হতে পারে? পঙ্খি বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে বললো।
--মা আপনি? আপনি মারতে চান ইন্ধন কে?
রাবেয়া ঘাবড়ে গেল প্রচুর। কপাল বেয়ে ঘাম ছুটতে লাগলো তাঁর। তবুও কোনরকমে গলায় জোর আনার চেষ্টা করে বললো।
--ক ককি আবোলতাবোল কথা বলছ তুমি? মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোমার? আমি কেন আমার ছেলেকে মারতে চাইবো? এটা বলার সাহসও কী করে হলো তোমার?
--মিথ্যে কথা বলে লাভ নেই। আমি নিজের চোখে দেখেছি আপনাকে কফিতে বিষ মেশাতে। পরশুদিনও আপনিই কফিতে বিষ মিশিয়ে ছিলেন তাইনা?
--তোমার মাথা সত্যিই গেছে। এমন জঘন্য আরোপ কিভাবে লাগাতে পারলে তুমি আমার ওপর? একবারও বুক কাঁপলো না তোমার? ছিঃ ছিঃ ছিঃ। আরে আমিতো এখানে পানি নিতে এসেছিলাম। দেখলাম কফি উতলে পড়ে যাচ্ছে তাই একটু নেড়ে দিচ্ছিলাম। আর তুমি কিনা এতবড়ো একটা জঘন্য কথা বলছ আমাকে?তোমাকে নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসি আর সেই তুমি কিনা।ছিঃ ছিঃ এমন কথা শোনার আগে মরণ কেন হলোনা আমার।
রাবেয়ার ন্যাকা কান্না দেখে পঙ্খি থতমত খেয়ে গেল।মনে মনে ভাবলো আমি কি সত্যিই চিনতে ভুল করলো? তবে কি উনি সেই লোক না? হঠাৎ পঙ্খির চোখ গেল রাবেয়ার হাতের দিকে। চমকে উঠলো পঙ্খি। এটাই তো সেই হাত। সেদিনে এই হাতটাই তো চা,কু ধরে ছিলো। অন্ধকারে মানুষ না দেখা গেলেও হাতটা চোখের ওপর থাকায় হাতের আঙ্গুলের আংটি টা হালকা দেখা যাচ্ছিল। আর এই আংটি টাই ছিলো। তারমানে এখন সম্পূর্ণ পরিস্কার যে রাবেয়াই ইন্ধনকে মারতে চায়। পঙ্খি শক্ত গলায় বললো।
--বন্ধ করুন আপনার এই নাটক। এই মরা কান্না দেখিয়ে আর কোন লাভ হবে না। আপনার সত্যি আমার সামনে চলে এসেছে। তাই নাটক না করে সত্যি করে বলুন কেন করছেন এসব? একজন মা হয়ে নিজের সন্তান কে কেন মারতে চান আপনি? আপনি না বলেন ইন্ধনের মুখ দেখেই আপনি বেঁচে আছেন? ইন্ধনই আপনার সব। তাহলে সেই সন্তানের জানের দুশমন কেন হয়েছেন আপনি? আপনার অন্তর কাঁপল না এমন কাজ করতে? আপনি মানুষ নাকি অমানুষ?আরে মায়েরা তো নিজের জীবন দিয়ে সন্তানকে রক্ষা করে। কোনো পশুও তার সন্তানের ক্ষতি হতে দেয়না। অন্যান্য পশুদের থেকে আগলে রাখে। আর আপনি কিনা ছিহ্। আপনাকে আমি কতো শ্রদ্ধা করতাম। এই বাড়িতে আপনাকেই সবচেয়ে ভালো মানুষ মনে করেছিলাম। কিন্তু আপনার মুখোশের আড়ালে যে এমন কুৎসিত চেহারা আছে তা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি আমি।
রাবেয়া এবার তেজী সুরে বলে উঠলো।
--বাচ,অনেক বলেছ মেয়ে। সত্যি জানতে চাওনা তুমি? ঠিক আছে চলো আমার সাথে।
কথাটা বলে রাবেয়া রান্না ঘর থেকে বেড়িয়ে গেল। পঙ্খিও তাকে অনুসন্ধান করলো। রাবেয়া পঙ্খিকে একটা রুমে নিয়ে এলো। রুমটা হয়তো অনেক দিন বন্ধ থাকায় কেমন ভ্যাপসা গন্ধ। রুমের দেয়ালে ঈশিতা আর ইন্ধনের একসাথে তোলা ছবি টানানো দেখে বুঝতে পেরেছ এটা হয়তো ঈশিতার রুম। রাবেয়া এবার পঙ্খির দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক সুরে বললো।
--হুমম, তো ধরে যখন ফেলেসই তাহলে আর কোন ভঙ্গিমা করে কি লাভ? হ্যাঁ তোমার ইন্ধন কে আমিই মারতে চাই।
পঙ্খির ওপর বিস্ফোরণ ঘটলো। স্তব্ধ হয়ে গেল সে। বিস্মিত কন্ঠে বললো।
--কিন্তু কেন? নিজের সন্তানকে কেন মারতে চান আপনি? মা হয়ে কিভাবে আপনার ছেলেকে মারতে পারেন আপনি?
রাবেয়া ক্রুদ্ধ কন্ঠে গর্জে উঠে বলতে লাগলো।
--কিসের ছেলে হ্যাঁ? কিসের ছেলে? ও আমার কিচ্ছু না। আমার শুধু একটাই সন্তান। আমার মেয়ে, ঈশিতা। ওই ইন্ধন আমার কিছুই না। ও শুধু আমার জীবনের কাল ছাড়া আর কিছুই না।
আরও এক দফা ঝটকা খেল পঙ্খি। অবিশ্বাস্য কন্ঠে বললো।
--মানে??
--মানে ও আমার ছেলে না। ও হলো ওই জহির মজুমদারের নাজায়েজ সন্তান। ঈশিতা জন্ম নেওয়ার দুই বছর পর আমার জরায়ুতে টিউমার হয়। সেটার অপারেশনের সময় ডক্টর বলে আমার গর্ভধারণের রাস্তা বন্ধ করে দিতে হবে। নাহলে পরবর্তীতে সমস্যা হবে। তাই আমার অপারেশনের সময় আমার গর্ভধারণ ক্ষমতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এটা নিয়ে আমার তেমন কোন আপসোস ছিলো না। কারণ আমার ঈশিতাই আমার কাছে যথেষ্ট ছিলো। কিন্তু এই মজুমদার দের জন্য তা যথেষ্ট ছিলোনা। সামছুল মজুমদার জহির মজুমদারকে পরামর্শ দেন। এভাবে নাকি চলবেনা। ঘরে ছেলে সন্তান না আসলে নাকি বংশের প্রদীপ নিভে যাবে। পিতার নাম বাঁচিয়ে রাখার কেউ থাকবেনা। তাই যে করেই হোক একটা ছেলে সন্তান জন্ম দিতেই হবে। ভাইয়ের পা চাটা কু,কুরের মতো জহির মজুমদারও তার কথায় রাজি হয়ে যায়। আর ছেলে সন্তান জন্ম দিতে সে অন্য এক মহিলাকে ভাড়া করেন। তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে তাঁর গর্ভে নিজের সন্তান দেন। সেই সময় জহির আমাকে আর ঈশিতাকে এখান থেকে দূরে চট্টগ্রামে নিয়ে রাখেন। নয়মাস পর সেখান থেকে আমাকে নিয়ে এসে আমার কোলে ইন্ধনকে দিয়ে বলে, এটা তোমার সন্তান।তুমি ওর মা। আজ থেকে সবাই জানবে এটা আমাদের ছেলে। আমি অনুভূতি শূন্য পাথরের মতো তাকিয়ে থাকি বাচ্চাটার দিকে। কিন্তু কিছুতেই তাঁর প্রতি আমার মমতা জাগেনা। জাগে শুধু একরাশ আক্রোশ আর ঘৃণা। কারণ এই সন্তানের জন্য আমার স্বামী অন্য মহিলার সাথে লিপ্ত হয়েছে। যতবার ওর দিকে তাকাই ততবার শুধু জহির মজুমদারের দেওয়া আঘাত মনে পড়ে আমার। ঘৃণায় বিষিয়ে ওঠে আমার সারা শরীর। ঘৃণা হয় জহির মজুমদারের ওপরও। খু,ন করতে ইচ্ছে হয় তাঁকে। কিন্তু নিজের আক্রোশ নিজের মনেই চেপে রাখি আমি। কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে ওই ইন্ধনকে সন্তানের মতো মানুষ করতে থাকি আমি। কিন্তু সময়ের সাথে আমার মনের আক্রোশও জমে জমে পাহাড় হতে থাকে। ইন্ধনের যখন বারো বছর বয়স তখন একদিন উঠোনে ক্রিকেট খেলছিল। ওর ক্রিকেটের বল গিয়ে লাগে ঈশিতার মাথায়। মাথা ফেটে গলগল করে র,ক্ত বের হয় মেয়েটার। হাসপাতালে নিয়ে চারটা সেলাই দিতে হয় ওঁকে। আমার মেয়ের ওই অবস্থা দেখে সেদিন প্রথম আমার আক্রোশ বাইরে বেড়িয়ে আসে। ক্রোধের আগুনে ফেটে পড়ি আমি। লাঠি নিয়ে ইন্ধনের রুমের দিকে যাই ওকে আঘাত করতে। কিন্তু তার আগেই জহির মজুমদার আঁটকে দেয় আমাকে। সেদিন জহির মজুমদার আমার ক্রোধ দেখে ঘাবড়ে যায়। ছেলের সুরক্ষার জন্য ওঁকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়।
এই পর্যায়ে পঙ্খি বুঝতে পারে ইন্ধন কে কেন জোর করে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। রাবেয়া আরও বলতে থাকে।
--এভাবেই চলতে থাকে দিন। আমার মনের ঘৃণা আক্রোশ এক বিন্দুও কম হয়না। ঈশিতার বয়স তখন ১৯ বছর। মজুমদার রা জানতে পারে ঈশিতা একটা ছেলের সাথে প্রেম করছে। ছেলেটা নিচু জাতির। এই নিয়ে মেয়েটাকে অনেক বকাঝকা করে রুমে আঁটকে রাখে ওকে। মা হয়ে আমি চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারিনা। মেয়েটা আরেকটা ভুল করে বসে। পালিয়ে যায় সেই ছেলেটার সাথে। ব্যাস সেদিন থেকেই রায় হয়ে যায় ঈশিতা এই বাড়ির জন্য মৃ,ত। আমার মেয়ে আমার জীবন থেকে হারিয়ে যায়। কেড়ে নেয় এই মজুমদাররা। সেদিন থেকেই আমি পণ করেছি। এই মজুমদার দের আমি একদিন তাদের উচিত শিক্ষা দিবোই। শুধু সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। ইন্ধন ফিরে এলো। তাঁকে দেখেই আমার মনের আক্রোশ আবারও জেগে উঠলো। কিন্তু যখন দেখলাম ইন্ধন ওর বাপ জহির মজুমদারকে ঘৃণা করে তখন আমার ভালোই লাগলো। মনে হলো এভাবেই শাস্তি দিবো জহির মজুমদারকে। ছেলের সামনে ওঁকে খারাপ বানিয়ে।তাই আর ইন্ধনের কোনো ক্ষতি করিনা আমি। আমার বোন তুশিকে বিয়ে দিতে চায় ইন্ধনের সাথে। আমিও ভাবলাম বোনের মেয়েকে নিজের কাছে আনলে আমার মেয়ের খালি জায়গা টা একটু হলেও পূরণ হবে। ওরা।ও বললো ওর নাকি গার্লফ্রেন্ড আছে। আমি তখন কিছু বললাম না। ভাবলাম দেখি কোনভাবে বিয়েটা করিয়ে দেওয়া যায় নাকি।কিন্তু অনেক সেই আশাও ধ্বংস করে দিলো। তোমাকে বিয়ে করে এনে। প্রথমে ভাবলাম হয়তো পরিস্থিতিতে পড়ে বাধ্য হয়ে বিয়ে করেছে তোমাকে। কিন্তু তুশি সেদিন যখন বললো, ইন্ধনের তো গার্লফ্রেন্ড ছিলো তাহলে এই বিয়ে এতো খুশিখুশি কিভাবে মেনে নিলো? তখন আমারও সন্দেহ হলো। আর আমি বিষয় টা খতিয়ে দেখলাম। আর জানতে পারলাম এইসব কিছুই ইন্ধনেরই পরিকল্পনা। বুঝতে পারলাম ইন্ধনের কোনো গার্লফ্রেন্ড নেই। তোমাকে বিয়ে করার জন্য আমাদের সাথে ছলচাতুরী করেছে। ব্যাস আমার সব ধৈর্য সেদিন ভেঙে গেল। ঘৃণা, আক্রোশে মস্তিষ্ক ফেটে পড়লো আমার। প্রতিশোধের আগুন জ্বলে উঠলো। আর ইন্ধনের হ,ত্যার পরিকল্পনা করলাম। কারণ এতেই আমার সব প্রতিশোধ নেয়া হয়ে যাবে। ইন্ধনও মরবে, আর জহির মজুমদারও শোকে পাগল হয়ে যাবে। সেদিন থেকেই ইন্ধন কে মারার পরিকল্পনা করছি আমি। সেদিন কফিতে আমিই বিষ মিশিয়ে ছিলাম,পরশু রাতে আমিই মারতে গিয়েছিলাম ওকে। আর কাল রাতে কারেন্টের তারও আমিই লিক করেছিলাম। কিন্তু ও বারবার বেঁচে যায়।
সব শুনে পঙ্খি বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। পঙ্খির সাথে আরও একজন ব্যাক্তি যে তাদের এই কথপোকথনের সাক্ষী হলো তা জানলো না ওরা।দরজার অগোচরে সবকথা শুনে সেই ব্যাক্তি চলে গেল।
পঙ্খি নিজেকে একটু সামলে নিয়ে বলে উঠলো। --বুঝলাম আপনার কথা। কিন্তু এতে ইন্ধনের কি দোষ? তাঁকে কেন শাস্তি দিচ্ছেন। আরে ইন্ধনের জন্য তো আপনিই সব। মা বলতে পাগল ইন্ধন। আরে আপনি চাইলে ও হাসিখুশি নিজের জান এমনিতেই আপনার হাতে তুলে দিবে। আর সেই ছেলেকে আপনি মারতে চান? কেমন মহিলা আপনি? আরে মানুষ একটা পশুও পাললেও তাঁর প্রতি মায়া জন্মে যায়। আর ইন্ধনের এতো ভালোবাসাও কখনো আপনার মন গলাতে পারলোনা? আপনার মন এতো পাথর কেন? মানলাম সে আপনার সন্তান নয়। তাই বলে তাঁর আপনার প্রতি এতো ভক্তি কি একটুও নাড়ায়নি আপনাকে? তাঁকে মারতে একবারও হাত কাঁপল না আপনার?
--না কাঁপল না। কেন কাঁপবে? আজ ওর জন্যই আমি সব হারিয়েছি। স্বামী সন্তান সবকিছু।
--আর বাকিরা? তাদেরও কি আপনি মেরেছেন?
--নাহ। তাদের আমি মারিনি। আর কে মেরেছে তাও জানি না। কিন্তু আমি এই সুযোগ টাই কাজে লাগাতে চাচ্ছিলাম। আমি যদি এখন ইন্ধন কে মারি। তাহলে সবাই ভাববে ওই অজানা খু,নিই ওকেও মেরেছে। আমাকে কেউ সন্দেহ করতো না। কিন্তু ও বারবারই বেঁচে যাচ্ছে। এতবার মারার চেষ্টা করার পরও বারবার বেঁচে যায় ও।
--হ্যাঁ বাঁচবে। আপনি ওর কিচ্ছু করতে পারবেন না। এই পঙ্খি বেঁচে থাকতে আপনি ওর একটা পশমও ছুঁতে পারবেননা। আমি এখুনি গিয়ে ইন্ধন কে সব বলে দিবো। দরকার হলে পুলিশকেও জানিয়ে দিবো। অ্যাটেম টু মার্ডার কেসে জেলে ঢুকিয়ে দিবো আপনাকে।
রাবেয়া হঠাৎ হো হো করে হাসলো। তারপর বললো।
--বলে দিবে? যাও বলে দাও। এখুনি যাও। কিন্তু কি বলবে? যে আমি তাঁকে মারতে চাই? তোমার কি মনে হয় তুমি বলবে আর ইন্ধন মেনে নিবে তোমার কথা? আরে তুমিতো দূরের কথা, আমি নিজে গিয়েও যদি ওকে বলি তবুও ও মানবে না।এতটা ভক্ত ও আমার। তাও চলো তোমার খুশির জন্য নাহয় মানলাম তুমি ইন্ধনকে বিশ্বাস করাতে পারলে এই কথা। তারপর? তারপর কি হবে ভেবেছ? তোমার ইন্ধন যখন জানবে সে একটা নাজায়েজ সন্তান তখন তাঁর মনোভাব কি হবে বুঝতে পারছ? নিজের ওপরই ঘৃণা হবে তাঁর। একেবারে ভেঙে পড়বে সে। আত্মসম্মান ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। নিজের জীবন মুহুর্তেই মিথ্যা হয়ে যাবে তাঁর কাছে। তখন কি করবে তুমি? কিভাবে সামলাবে তাঁকে? এমনও হতে পারে তোমাকেও সে নিজের জীবন থেকে সরিয়ে দিতে পারে। তখন?
রাবেয়ার কথার কোনো জবাব দিতে পারলোনা পঙ্খি। সে সত্যিই ভয় পেয়ে গেল। ইন্ধন নিজের সম্পর্কে এমন সত্য জানলে সত্যিই সইতে পারবেনা।পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। পঙ্খির দমে যাওয়া চেহারা দেখে রাবেয়া সয়তানি হেঁসে বললো।
--কি পারবেনা তো? তাই আমাকে ভয় দেখাতে এসোনা। তুমি আমার কিচ্ছু করতে পারবেনা। কারণ মজুমদাররা নিজেদের সম্মান রক্ষার্থে কখনো এই কথা বাইরে আসতে দিবেনা। তাই তোমার কথাও কেউ শুনবেনা। এইজন্য আমাকে এসব হুমকি দিয়ে কোনো লাভ হবে না। যাও পারলে যা খুশি তাই করো। আমার কিছুই করতে পারবেনা তুমি।
কথাগুলো বলে রাবেয়া চলে গেল রুম থেকে। পঙ্খি কতক্ষণ হতবিহ্বলের মতো দাঁড়িয়ে রইলো। তারপর ধীরে ধীরে পা বাড়াল তার রুমের দিকে। রুমে এসে দেখলো ইন্ধন উল্টো দিকে কাত হয়ে ঘুমিয়ে আছে। পঙ্খি বিছানায় গিয়ে আস্তে করে ইন্ধনের পাশে শুলো। পেছন থেকে ইন্ধনকে জড়িয়ে ধরে পিঠে মাথা এলিয়ে দিলো। বুকের মাঝে হু হু করছে পঙ্খির। নীরবে চোখের নোনাজল গড়িয়ে পড়লো।মন মস্তিষ্ক তুমুল ঝড় চলছে। ওর ইন্ধন কে কিভাবে বলবে সে এসব কথা? সত্যি টা জানলে ইন্ধন কিভাবে সহ্য করবে? পুরোপুরি ভেঙে পড়বে সে। আমি কিভাবে হতে দিবো তা? কিন্তু না জানালেও তো ওর জীবনের ওপর থেকে এই কালোছায়া সরবেনা। কি করবো এখন আমি? ওই কাল নাগিনীর কাছ থেকে কিভাবে বাঁচাব আমার ইন্ধন কে? ইন্ধন কে সত্যি টা না জানিয়ে কিভাবে বাঁচাব তাঁকে? না না কিছু একটা তো করতেই হবে। একবার সকাল হোক, তারপর ভেবে দেখা যাবে কি করা যায়। কারোর না কারোর সাথে এই ব্যাপারে কথা বলতেই হবে। ভেবেচিন্তে একটা উপায় বের করতে হবে। বাচ এখন শুধু সকালের অপেক্ষা। বাচ আমার ইন্ধনের যেন কোনে ক্ষতি না হয়।
দুশ্চিন্তা করতে করতেই একসময় ইন্ধনকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়ে পঙ্খি। কিন্তু সে কখনো কল্পনাও করেনি আজকের সকাল টা আবার নতুন এক ভয়ংকর রুপ নিয়ে আসবে। যা পুরো পরিবারকে কাঁপিয়ে তুলবে। রাতে যে ব্যাক্তির কাছ থেকে ইন্ধন কে বাঁচানোর দোয়া করছিলো পঙ্খি সকালে সেই ব্যাক্তির মৃ,ত লা,শ দেখতে হবে তা স্বপ্নেও ভাবেনি সে। বাড়ির পাশের আমবাগানে রাবেয়ার র,ক্তা,ক্ত লা,শ পড়ে থাকতে দেখে পঙ্খিসহ পুরো পরিবার আতঙ্কে শিউরে ওঠে। থমকে য়ায় সবাই।
চলবে.....
গল্পের লেটেস্ট আপডেট পেতে আর গল্প নিয়ে যেকোনো আলোচনা আড্ডা দিতে আমার গ্রুপে জয়েন হওয়ার আমন্ত্রণ রইল। নিচে গ্রুপ লিংক দেওয়া হলো। জয়েন হতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন। 👇
গ্রুপ
https://facebook.com/groups/170529085281953/