ফন্ট সাইজ:
থিম:
নীল জোছনা

৯ম পর্ব

লেখক: ইসরাত জাহান এশা

#নীল_জোছনা | ৯ |

#ইসরাত_জাহান_এশা

মোড়লের কথায় পুরো উঠোন স্তব্ধ হয়ে গেল।

“এই নষ্টা মাইয়াডারে তোরে বিয়া করতেই অইবো। এই যা, কাজি ডেইকা আন। আজকেই এই মূহুর্তেই ওদের বিয়া অইব।"

কথাটা শেষ হতেই চারপাশে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লো। কেউ সম্মতি জানালো, কেউ আবার চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো। ফারিহা যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিল না। চোখ ভরা পানি নিয়ে সে একবার বাবার দিকে, একবার মায়ের দিকে তাকালো। কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারলো না। নাহিয়ানের ধৈর্যের বাঁধ এবার ভেঙে গেল।

— "আপনারা কি পাগল হয়ে গেছেন? এটা কোনো বিচার না, এটা জোরজবরদস্তি!"

মোড়ল লাঠি ঠুকে বললো,

— "গেরামের মান-সম্মানের চাইতে বড় কিছু নাই।"

— "মান-সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে একটা নির্দোষ মেয়ের জীবন নষ্ট করবেন?"

— "কথা কম কও। কাজি আইতাছে।"

নাহিয়ান রাগে দাঁত চেপে ফেললো। সায়ন আর রেহানও ক্ষুব্ধ চোখে চারপাশে তাকিয়ে আছে। কিন্তু গ্রামের লোকজনের ভিড় ক্রমশ বাড়তে লাগলো।

কিছুক্ষণ পর সত্যিই একজন কাজি এসে উপস্থিত হলো। ফারিহার বুক কেঁপে উঠলো। সে কাঁদতে কাঁদতে বললো,

— "আমি এই বিয়ে চাই না।"

কিন্তু তার কণ্ঠ যেন জনতার আওয়াজে হারিয়ে গেল।

রাজিয়া বেগম মুখ ঢেকে কাঁদছেন। জয়নুল হক অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি মেয়ের দিকে তাকাতে পর্যন্ত পারছেন না।

সামির ফারিহার সামনে দাঁড়িয়ে বললো,

" আমায় যদি বিয়ে করে নিতি তাহলে আজ এই দিন তোর দেখা লাগতো না। বেশি বুঝেছিস তুই। এখন পস্তাবি। অচেনা মানুষের সাথে থাকবি তুই। "

ফারিহা শক্ত কন্ঠে বললো,

" তোমার সাথে বিয়ে হওয়ার চেয়ে মরণ ভালো। তবুও এই ফারিহা তোমায় বিয়ে করবে না। "

সামির কিছু বলার আগেই নাহিয়ান শেষবারের মতো সামনে এগিয়ে এলো।

— "এই বিয়ে আইনতও ভুল। কারও ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে হয় না।"

মোড়ল গর্জে উঠলো,

— "বেশি কথা কইস না পোলা!"

চারপাশের চাপ, গ্রামের লোকজনের উত্তেজনা আর পরিস্থিতির ভয়াবহতায় মুহূর্তগুলো আরও ভারী হয়ে উঠলো। অবশেষে অনেক বাধা, তর্ক আর প্রতিবাদের মাঝেও কাজি বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করলো।

ফারিহার চোখ থেকে টপটপ করে পানি ঝরছে।

নাহিয়ানের চোয়াল শক্ত। কাজি নিয়ম মাফিক বিয়ে পড়ানো শুরু করে দিয়েছে। একসময় কাজির কণ্ঠ ভেসে এলো,

— "আলহামদুলিল্লাহ, বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে।"

মুহূর্তের জন্য পুরো উঠোন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

ফারিহা মাথা নিচু করে কাঁদছে। নাহিয়ান দূরে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখে স্পষ্ট রাগ আর অপমানের ছাপ। গ্রামের মানুষ একে একে সবাই চলে যাচ্ছে। ফারিহা পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছে। সায়ন নাহিয়ানের কাধে হাত রাখতেই আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়ালো না। দ্রুত গেটের দিকে হাঁটতে শুরু করলো। ফারিহার বুকটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠলো।

কিছু একটা হারিয়ে যাওয়ার ভয় তাকে গ্রাস করলো।

সে চোখের পানি মুছে দৌড়ে উঠোন পেরিয়ে গেল।

— "শুনুন!"

নাহিয়ান থামলো না।

— "একটু দাঁড়ান!"

কাঁদতে কাঁদতে তার পেছনে ছুটলো ফারিহা। রাতের আকাশে তখন আবার মেঘ গর্জে উঠেছে। ভেজা বাতাসে শিউলি ফুলের গন্ধ ভাসছে।আর নিকুঞ্জ ভিলার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো নিঃশব্দে তাকিয়ে রইলো নবদম্পতির দিকে, যাদের বিয়ে হলো ঠিকই, কিন্তু দুজনের মনেই যেন হাজারো অজানা প্রশ্নের ঝড়।

ফারিহা এক প্রকার দৌড়ে নাহিয়ানের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। চোখের পানি মুছে ভঙ্গুর গলায় বললো,

" আমি আপিনার পায়ে পড়ি উকিল সাহেব। আমাকে রেখে যায়েন না। মাকে রেখে গেলে ওই নর পশুরা আমাকে শেষ করে ফেলবে। আমি আপনার বাসায় চাকর হয়ে থাকবো। তাও রেখে যায়েন না আমায়। ফারিহার কথা শুনে উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে গেলো। নাহিয়ান কিছু বুঝার আগেই ফারিহা নাহিয়ানের পা জড়িয়ে ধরে বললো,

" একটু দয়া করুন আমায়। আমার তো কোনো দোষ নেই। গ্রামের মানুষরা আমাদের ভুল বুঝেছে তাতে আমার কী দোষ বলুন। "

নাহিয়ান ফারিহাকে দাঁড় করিয়ে দ্বীর্ঘ শ্বাস ফেলে বললো,

" একটা নারির সম্মান কী সেটা আমি জানি। নারিকে সম্মান করতে আমার আম্মু শিখিয়েছে। আমাকে বুঝাতে হবে না। আমার বোন আছে বাসায়। বিধায় আমি জানি। "

নাহিয়ান চুপ করে থেকে আবার বললো,

" ঢাকায় যাবে আমার সাথে? আমার সাথে যেতে হলে এই জেলায় আসতে পারবে না সহজে। রাজি থাকলে চলো। "

ফারিহা অমত না করে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিয়ে বললো,

" আসবো না এই বাসায়। আমি যাবো ঢাকায়। যেখানে রাখবেন সেখানেই থাকবো। তবুও আমায় রেখে যায়েন না। "

নাহিয়ান আর কিছু বলে না। ফারিহার হাত ধরে রিসোর্টের উদ্দেশ্যে চলে যায়।

★

রাত ঠিক ৮:০০টা। রিসোর্টের চারপাশে তখন নীরবতা নেমে এসেছে। দূরে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর সমুদ্রের মৃদু গর্জন রাতটাকে আরও গভীর করে তুলেছে। নাহিয়ান নিজের রুমে দাঁড়িয়ে একে একে সব জিনিসপত্র ব্যাগে গুছিয়ে নিচ্ছে। সায়ন রেহান আজ কোনো কথাই বলছে না। তারাও নিজেদের ব্যাগ গুছিয়ে নিচ্ছে। বিছানার ওপর ছড়িয়ে থাকা কাপড়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আর ব্যক্তিগত জিনিসগুলো যত্ন করে ব্যাগে ভরে নিল ।

সব গুছিয়ে নেওয়ার পর একবার পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে নিল নাহিয়ান। এই কয়েকদিনের স্মৃতিগুলো যেন দেয়ালের সঙ্গে মিশে আছে। বুকের ভেতর অদ্ভুত এক অনুভূতি নিয়ে গভীর শ্বাস ফেলল সে। তারপর ব্যাগের চেইন লাগিয়ে কাঁধে তুলে নিল। ফারিহা এতটুকু সময় দাঁড়িয়ে ছিলো।

রিসোর্টের দরজা পেরিয়ে বাইরে বের হতেই শীতল রাতের বাতাস মুখে এসে লাগল। চারপাশে আলোর ঝলকানি থাকলেও রাতের আকাশটা ছিল শান্ত। গাড়িতে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল সায়ন আর রিহান । নাহিয়ান এগিয়ে গিয়ে গাড়ির ড্রাইভিং সিটে উঠে বসল। তার পাশের দরজা খুলে দিলো নাহিয়ান। ফারিহা উঠে বসতেই গাড়ি স্টার্ট দিয়ে দিলো।

কিছুক্ষণ পর গাড়ি চট্টগ্রামের রাস্তা ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছুটতে শুরু করল। শহরের ব্যস্ততা ধীরে ধীরে পিছনে পড়ে রইল। রাস্তার দু'পাশের আলো একে একে মিলিয়ে যেতে লাগল অন্ধকারে। জানালার পাশে মাথা ঠেকিয়ে নাহিয়ান নির্বাক দৃষ্টিতে বাইরে তাকিয়ে রইল। রাত যত গভীর হতে লাগল, গাড়িও তত দ্রুত গতিতে ঢাকার পথে এগিয়ে চলল। সামনে অপেক্ষা করছে নতুন সকাল, নতুন অধ্যায় আর অজানা কিছু গল্প। গাড়িতে আজ নিস্তব্ধতা বিরাজ মান। কোনো কথা হাসাহাসি কিছুই নেই। নিস্তব্ধতা কাটিয়ে সায়ন নাহিয়ানের উদ্দেশ্যে বললো,

" নাহিয়ান আন্টিকে কী বলবি। আন্টি কষ্ট পাবে না?"

নাহিয়ান এই পর্যায় চোখ বন্দহ করলো। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো,

" আম্মু আমায় চিনে খুব ভালো করে। আমার আম্মু আমায় ভুল বুঝবে না। বুঝালে ঠিকি বুঝবে। আমার আম্মুও বলদ না সে একজন প্রফেসর একটু বললে হিস্ট্রি বলে দিবে। আমার আম্মুকে নিয়ে ভয় নেই। "

" তাহলে তুই চিন্তা করছিস না? "

" কে বলছে করছি না। বাবাকে নিয়ে চিন্তায় আছি। বাবার এক মাত্র ছেলে আমি। আমার এই কাজ বাবা জীবনে মাওবে কিনা সন্দেহ। বাকিটা আল্লাহর হাতে। কপের লিখন বদলানো যায় না। চুপ থাক ভালো লাগছে না। "

গাড়িতে আর কেউ কথা বললো না৷ গাড়ি ছুটে যাচ্ছে নিজ গন্তব্যে। দূরে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। গাড়িতে সবাই ঘুমাচ্ছে। ফারিহা নাহিয়ানের বাহুতে ঘুমিয়ে ছিলো। নাহিয়ান সারারাত দুই চোখের পাতা এক করেনি। বাম হাতের বাহুতে ফারিহা ঘুমিয়ে থাকায় এক হাত দিয়েই ড্রাইভ করেছে।

সকাল ৭ টায় গাড়ি থেমেছে চৌধুরী ভিলায়। রেহান সায়ন কেউ তাদের বাসায় যায় নি। নাহিয়ানের সাথেই এসেছে। নাহিয়ান বড় শ্বাস ফেলে কলিং বেল দিতেই মেঘলা দরজা খুলে। দরজায় দন্ডায়মান ব্যাক্তিকে দেখে মুখের হাসি গাঢ় হয়। মেঘলা চিল্লিয়ে নীরার উদ্দেশ্যে বললো,

" বড় মা দেখো তোমার আদরের ছেলে এসেছে। "

নীরা দ্রুত পায়ে আসে। নাহিয়ান দুই দিন পর মাকে দেখে মুখে হাসি বজায় রেঝে জড়িয়ে ধরে বললো,

" আম্মু ভালো আছো। "

নীরা ছেলের পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো,

" আমার মানিককে কতদিন পর দেখলাম। আর আমি খারাপ থাকবো বুঝি। "

রেহান সায়ন ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে রেহান বললো,

" ওলে আমার সুইটি আন্টি মাত্র ২ দিন এটা অনেক দিন হয়ে গেলো কেমনে। "

" ও তুই বুঝবি না হাদারাম। "

"থাক বুঝার দরকার নাই। "

আমেনা চৌধুরী লাঠিতে ভর দিয়ে আজ নিচে নেমেছে। সোফায় বসে নীরার উদ্দেশ্যে বললো,

" ওরে নীরা আগে নাতিকে ভিতরে আসতে দে। "

নীরা ছেলের হাত ধরে ভিতরে নিবে কিন্তু নাহিয়ান যায় না। নাহিয়ান একটু সরে দাঁড়ালে ফারিহা একটু উঁকি দেয়। নাহিয়ান পুরোপুরি সরে দাঁড়ালে ফারিহার অবয় সম্পুর্ন দেখা যায়। বাসায় অচেনা মেয়েকে দেখে সবাই একে একে দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়। তূর্য রেডি হয়ে নিচে নামছিলো সাথে সুনায়রা, আহিয়ানা । দুই বোন ভাইকে দেখে খুশি হয়ে দৌড়ে যায় দুই বোন। সুনায়রা নাহিয়ানকে জড়িয়ে ধরে বললো,

" ভাইয়া আই মিস ইউ। "

নাহিয়ান সুনায়রার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,

" আই মিস ইউ টু বনু। "

তূর্য চেয়ারে বসতে বসতে নীরার উদ্দেশ্যে বললো,

" নীরা ছেলেকে ভিতরে আসতে দাও আগে। বাহিরে দাঁড় করিয়ে রেখেছো কেনো? "

নীরা নাহিয়ান আর ফারিহাকে ঘরের ভিতর নিয়ে আসে। ফারিহা সবার দিকে এক পলক তাকিয়ে দেখলো বাসা ভর্তি মানুষ। আর তার দিকে তাকিয়ে আছে। আহিয়ানা নাহিয়ানের উদ্দেশ্যে বললো,

" ভাইয়ু হু ইজ শি? "

নাহিয়ান চুপ থাকে। বর্ষার হাত ঘামছে। সে যেটা আন্দাজ করছে সেটা নয় তো আবার। বর্ষা প্রশ্ন করার আগেই নীরা বললো,

" আব্বু এই মেয়েটা কে তোর সাথে? "

নাহিয়ান এবারো চুপ থাকে। রেহান দাঁড়িয়ে বললো,

"এই মেয়েটা হচ্ছে নাহিয়ানের স্ত্রী। সুইটি আন্টি আপনার আদরের ছেলের একমাত্র আদরের বউমা। আপনার বউমা কিন্তু সেই একটা চিজ। "

রেহানের কথা শুনার পর সবাই অবাক, হতবাক হয়ে রইলো। এক ধরণের নিস্তব্ধতা বিরাজ করলো বসার ঘরে। মেঘলা দুই তিন পা পিছিয়ে গেলো। তূর্য খাবারের টেবিলে থেকে উঠে নাহিয়ানের সামনে এসে দাঁড়ায়। নাহিয়ান শান্ত ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। আর তার ঠিক পিছনে ফারিহা।

তূর্য নাহিয়ানের সামনে দাঁড়িয়ে বললো,

" নাহিয়ান এসব কী? রেহান যা বলছে তা কী সত্য। তুমি বিয়ে করেছো? "

নাহিয়ান মাথা নিচু করে বললো,

" জ্বী বাবা। "

নাহিয়ানের এই দুই শব্দ শুনে বর্ষার চোখের কোটরে পানি জমা হয়৷ চোখের সামনে সব কিছু ঘোলাটে হয়ে যায়। নীরা নাহিয়ানের দুই গাল আজলায় নিয়ে আদুরে স্বরে বললো,

" আব্বু তুমি না আমার লক্ষি ছেলে। আমার থেকে কোনো কথা লুকাও না। তাহলে এসব কি বাবা। আম্মুকে বলো। "

নাহিয়ানের শুকনো মুখে হাসি ফুটলো। সে যানে তার মা তাকে ঠিকি বুঝবে।

নাহিয়ান নীরা হাতের তালুতে চুমু দিয়ে ফ্লোরে বসে পড়লো। নীরার দুই পা জড়িয়ে ধরে বললো,

" আম্মু তুমি তোমার ছেলেকে বিশ্বাস করো না?"

নীরা ছেলের মাথায় হাত রেখে বললো,

" খুব বিশ্বাস করি। এখন বলো তো কী হয়েছে? "

নাহিয়ান নীরার পা জড়িয়ে ধরেই প্রথম থেকে সব কিছু খুলে বললো। প্রথম দেখা থেকে শুরু করে বিয়ে হওয়া পর্যন্ত সব কিছু। নাহিয়ান নীরার দিকে তাকিয়ে বললো,

" আম্মু আমি পরিস্থিতির শিকার ছিলাম। এখানে কার দোষ আমি বুঝতে পারছি না। আম্মু বিশ্বাস করো আমি অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম ওউ বয়স্ক লোককে কিন্তু তারা বুঝতে চায় নি। আমি তোমাদেরকেও জানাতে চেয়েছিলাম কিন্তু তারা আমায় জানাতে দেয় নি। আম্মু তুমি না আমায় শিখিয়েছিলে নারির সম্মান রক্ষা করার জন্য। দেখো আজ রক্ষা করেছি। পরিস্থিতির শিকার হয়েও ওই মেয়েকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছি। এখন তাকে কোথায় রেখে আসতাম বলো। তাই আমার সাথেই নিয়ে এসেছি। আম্মু আমায় ভুল বুঝো না। "

নাহিয়ান নীরার দিকে তাকিয়ে আছে উত্তরের আশায়। নীরা নিচু হয়ে ছেলের কপালে চুমু দিয়ে বললো,

" যদি এই মেয়েকে না মানি তখন? "

নাহিয়ান হেসে বললো,

" আমি তোমায় চিনি আম্মু। "

নাহিয়ান এবার তূর্যের কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। তূর্যর দিকে সরাসরি না তাকিয়ে বললো,

" আমি কী ক্ষমার অযোগ্য আব্বু। আমায় ক্ষমা করে দেওয়া যায় না। এবারের মতো আমার এই ভুলটা মেনে নাও প্লিজ। "

তূর্য কড়া চোখে তাকিয়ে আছে নাহিয়ানের দিকে। নাহিয়ানের কাধে হাত রেখে নরম স্বরে বললো,

" তুই যখন ছোট তখন থেকেই তোর ভালো খারাপের সব সিদ্ধান্ত তোর আম্মু নিয়েছে। তোর আম্মু আমার থেকে ভালোই জানে কোনটা তোর ভালো আর কোনটা তোর খারাপ। তোর আম্মুকে যেদিন আমি বিয়ে করতে যাই সেদিন আমি তোর দাদি কে বলেছিলাম এই বউ যদি আমার জিন্য যোগ্য না হয় তখন? তখন তোর দাদি আমায় বলেছিলো তোর জন্য এই মেয়েই পারফেক্ট। এখিন দেখতোর আম্মুকে ছাড়া আমার চলেই না। "

নাহিয়ান তূর্যের দিকে চোখ ছোট ছোট তাকিয়ে বললো,

" তুমি কী মেনে নিচ্ছো? "

তূর্য আবার গম্ভীর কণ্ঠে বললো,

" মানতে পারি এক শর্তে। '

' কী শর্ত? '

' এখন থেকে তুমি আমার বউকে আমার সামনে আহ্লাদী করতে পারিবে না। আমার বউকে যখন তখন হাগ করতে পারবে না। "

এই বলে গটগট পায়ে ফারিহার সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে। ফারিহা ভিতু নয়নে তাকায়। তূর্য মুচকি হেসে ফারিহার মাথায় হাত রেখে বললো,

' ভয় পেয়ো না। বকবো না আমি। দোয়া করি আমার বদ ছেলেকে নিয়ে সুখে থাকো। "।

তূর্য চলে যায়। সুনায়রা, আহিয়ানা বর্ষার সাথেই দাঁড়িয়ে আছে। বর্ষা নাহিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে। বাসার সবাই খুশি হলেও রুশা বর্ষা রাজু তেমন খুশি হতে পারেনি। কীভাবে পারবে মেয়ের হৃদয় ভঙ্গুর হিচ্ছে তো। রুশা মেয়ের কাছে আসতেই দৌড়ে চলে যায় নিজের ঘরে। তার সাথে আহিয়ানাও চলে যায়। রুশার চোখে পানি জমা হচ্ছে৷ মেয়েতো তার এমনিতেই নাজুক কিছু করে ফেলবে নাতো আবার। আমেনা চৌধুরী লাঠি তে ভর করে এসে ফারিহার সামনে দাঁড়িয়ে বললো,

" নাম কী তোমার। "

ফারিহা স্লো ভয়েজে বললো,

" ফারিহা তাবাসসুম। "

" মা বাবার নাম কী? "

" মায়ের নাম রাজিয়া বেগম। বাবার নাম জয়নুল আহমেদ। "

"বাবা কী করে? "

" আমাদের নিজস্ব জমি আছে। সেখানেই বাবা চাষ করে। "

আমেনা চৌধুরী নাহিয়ানের উদ্দেশ্যে বললো, " দাদু ভাই মেয়েকে আমার ঘরে দিয়ে আসো । আর তুমি গিয়ে রেস্ট নাও। "

নাহিয়ান ফারিহাকে নিয়ে আমেনা চৌধুরীর ঘরে দিয়ে এসে নিজের ঘরে চলে যায়। সায়ন রেহান আর বসে থাকে না। নীরা তাদের খাবার দেয়। তারা দুইজন খাবার খেয়ে চলে যায় নিজ বাড়িতে।

নাহিয়ান ঘরে এসে গোসল করে নিলো। বিছানায় বসে ভাবছে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে। যেখানে তার কোনো আয় নেই বাবা মায়ের টাকায় চলে সেখানে আরেক জন চলে এসেছে। বর্ষা নাহিয়ানের দরজায় টোকা দিতেই নাহিয়ান ফিরে তাকায়। দেখে বর্ষা এসেছে। নাহিয়ান হেসে বললো,

" কীরে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো ভিতরে আয়। "

বর্ষা ভিতরে আসে। নাহিয়ান বর্ষার মাথায় হাত রেখে বললো,

" শুভ জন্মদিন বনু। দোয়া করি তুই যেনো সুখে থাকিস। কী গিফট লাগবে তোর? "

" তোমায় লাগবে নাহিয়ান ভাই। "

নাহিয়ান ভ্রু কুচকে তাকালো বর্ষার দিকে। বর্ষার চোখে পানিতে টইটম্বুর। বর্ষা নাহিয়ানের পায়ের কাছে বসে বললো,

" আমার গিফট হিসেবে তোমায় লাগবে। "

" কিসব বলছিস তুই? "

" আ আমি তোমায় ভালোবাসি নাহিয়ান ভাই। "

" পাগল তুই আমি এখন বিবাহিত। "

" নাহিয়ান ভাই তুমি এটা করতে পারো না। তুমি তী ঘুরতে গিয়েছিলে তাই না। তাহলে ওইবমেয়ে তীমার বউ হয় কীভাবে। আমি তোমায় পছন্দ করি। অলিজ তুমি বলে দাও এটা মিথ্যা। "

নাহিয়ানের রাগ আকাশ ছীয়া হলো। দাঁড়িয়ে শক্ত কন্ঠে বললো,

" শি ইজ মাই ওয়াইফ। আমাদের বিয়ে যেমনি হক আল্লাহর বিধি অনুসারে আমাদের বিয়ে হয়েছে। তাকে মানা ছাড়া আমার উপায় নেই। "

" আর আমার কী হবে তাহলে? এটা সত্য হতেই পারে না। কেউ এভাবে বিয়ে করে না নাহিয়ান ভাই। "

" এটাই সত্যি। ফারিহা আমার স্ত্রী। বিবাহিতা স্ত্রী আমার। এই বাসায় আমার যতটুকু মর্যাদা আর অধিকার আছে ঠিক ততটুকুই ফারিহারও আছে। এটা ওর হক। ওরে যেনো কেউ অসম্মান না করে বলে দিলাম। "

নাহিয়ান কথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। বর্ষ মেঝেতে বসে কাঁদতে থাকে। কিশোরী বয়সের প্রথম ভালোবাসার মানুষকে আজ অন্যকারোর সাথে দেখতে পারছে না সে। বুক ফেটে কান্না আসছে তার। কোনোমতে নিজের ঘরে চলে যায়। দরজা আটকিয়ে দিলো।

চলবে.....

#fypシ゚viralシ #গল্পফ্যাট #fbpost

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৯ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন