ফন্ট সাইজ:
থিম:
নীল জোছনা

১০ম পর্ব

লেখক: ইসরাত জাহান এশা

#রাগে_অনুরাগে_তুমি_সিজন_২

#নীল_জোছনা | ১০ |

#ইসরাত_জাহান_এশা

আমেনা চৌধুরীর ঘরটায় এক ধরনের শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। বড় জানালার পর্দা ভেদ করে সকালের কোমল রোদ এসে পড়েছে মেঝেতে। পুরোনো কাঠের আলমারি, দেয়ালে ঝোলানো সাদা-কালো কিছু ছবি আর হালকা আতরের সুবাসে ঘরটা যেন আরও আপন মনে হচ্ছে। ফারিহা বিছানার এক কোণায় চুপচাপ বসে আছে। নতুন জায়গা, নতুন মানুষ, নতুন সম্পর্ক—সব মিলিয়ে তার বুকের ভেতরটা কেমন অস্থির লাগছে। দুই হাত শক্ত করে জড়িয়ে বসে আছে সে। কিছুক্ষণ পর আমেনা চৌধুরী ঘরে প্রবেশ করলেন। ধীরে ধীরে লাঠিতে ভর দিয়ে আলমারির সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। আলমারি খুলে ভেতর থেকে গাঢ় নীল রঙের একটি শাড়ি আর সাদা রঙের ব্লাউজ বের করলেন।

শাড়িটা ফারিহার হাতে দিয়ে মুচকি হেসে বললেন,

— "যা এই শাড়িটা পরে আয় তো দেখি।"

ফারিহা ভড়কে গিয়ে শাড়ির দিকে তাকালো।

— "আ... আমি শাড়ি পরতে পারি না।"

আমেনা চৌধুরী হেসে ফেললেন।

— "নিজের ছেলের বউকেও শাড়ি পড়িয়ে দিয়েছি । এখন নাতবউকেও শাড়ি পড়িয়ে দিতে হবে আমার।"

তারপর একটু গম্ভীর হওয়ার ভান করে বললেন,

— "যা যা, আগে ব্লাউজ আর পেটিকোট পইরা আয়। শাড়ি আমি পড়িয়ে দিচ্ছি ।"

ফারিহা আর কিছু বললো না। আস্তে করে মাথা নেড়ে ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল।

★

কিছুক্ষণ পর গোসল সেরে বেরিয়ে এলো সে। ভেজা চুল পিঠ বেয়ে নেমে এসেছে। সাদা ব্লাউজ আর পেটিকোট পরে লজ্জায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

আমেনা চৌধুরী ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে শাড়ির আঁচল হাতে নিলেন। অভিজ্ঞ হাতে একে একে কুঁচি ঠিক করে দিলেন। কোমরে গুঁজে দিলেন। তারপর সুন্দর করে আঁচল কাঁধে তুলে দিতে দিতে বললো,

-" আমার নাতি খারাপ মানুষ না। আমার নাতি আমার বউমার শিক্ষায় বড় হয়েছে। "

একটু থেমে আমার বললো,

-" এই যে শাড়ি আর ব্লাউজটা দেখিছো এটা তোমার শ্বাশুড়ির। তোমার শ্বাশুড়ির বডি ফিটনেস তোমার মতোই ছিলো। আমার বউমা খুব ভালো। ওর অনেক ইচ্ছা ওর ছেলের বউকে নিজের মেয়ে মনে করেই রাখবে। নিজে দেখে শুনে পুত্র বধু বানাবে। কিন্তু সেটা হয়নি। আমার দাদু ভাই যেটা করেছে তাতে সবার একটু খারাপ লাগলে আমার লাগে নি। আমার দাদু ভাইয়ের বউকে দেখার ইচ্ছা ছিলো অনেক। এক বার যেহেতু বিয়ে হয়েছে সেখান থেকে আর পালাবার সুযোগ নেই। আল্লাহ বিধিমালা অনুযায়ী তোদের বিয়ে হয়েছে চেষ্টা করবি এই সম্পর্ক ধরে রাখার। জামাইকে আঁচলে বাধার চেষ্টার করবি বুঝলি। "

ফারিহা অবাক হয়ে তাকিতে রইলো আমেনা চৌধুরীর দিকে। মাথা নাড়িয়ে সম্মতি সম্মতি দিলো আর মুখে বললো,

-" আচ্ছা দাদিমা।

, কয়েক মিনিটের মধ্যেই শাড়িটা কত সুন্দরভাবে পড়ানো হয়ে গেলো। আমেনা চৌধুরী একটু দূরে সরে দাঁড়িয়ে বললেন,

— "এইবার আয়নায় নিজেকে দেখ।"

ফারিহা ধীরে ধীরে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।

নিজেকে দেখে সে নিজেই অবাক হয়ে গেল। গাঢ় নীল শাড়িতে তাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। শ্যামলা মুখে পানির আভা, বড় বড় চোখ আর লাজুক অভিব্যক্তি মিলিয়ে যেন অন্যরকম এক সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে।

ফারিহার ঠোঁটের কোণে লাজুক হাসি ফুটে উঠলো।

নীরা খাবারের ট্রে নিয়ে আমেনা চৌধুরীর দরজায় টোকা দিয়ে বললো,

— "মা, আসবো?"

নীরার কণ্ঠ শুনে আমেনা চৌধুরী বললেন,

— "আয় অনুমতি নিচ্ছিস কেনো ।"

নীরা হাতে খাবারের ট্রে নিয়ে ঘরে ঢুকলো। ঘরে ঢুকেই ফারিহাকে দেখে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইলো ফারিহার দিকে। হেসে বললো

— " কী সুন্দর লাগছে আমার পুত্র বধুকে ! "

ফারিহা লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললো।

নীরা ট্রেটা টেবিলে রেখে তার পাশে বসে বললো,

-"কিন্তু মা এই শাড়িটা চিনা চিনা লাগতাসে আমার।"

আমেনা চৌধুরী চোখের চশমা মুছতে মুছতে বললো,

-" এটা তোর শাড়ি আর তোর ব্লাউজ। "

-" ও তাই বলি চিনা চিনা লাগছে কেনো। সকাল থেকে কিছু খেয়েছো?"

ফারিহা মাথা নাড়িয়ে বললো,

— "না।"

— "তাহলে আগে খাও।"

ফারিহা সংকোচে বললো,

— "আমি নিজেই খেয়ে নিতে পারবো।"

নীরা ভ্রু উঁচু করলো।

— "তুমি আমার ছেলের বউ না?"

— "জি..."

— "তাহলে কথা কম। মুখ খোলো।"

বাচ্চাদের মতো করে এক লোকমা ভাত তুলে ধরলেন তিনি। ফারিহার বুকটা হঠাৎ উষ্ণ হয়ে উঠলো। নিজের মায়ের কথা মনে পড়ে গেল। চোখ ভিজে উঠতেই নীরা মমতা ভরা কণ্ঠে বললেন,

— "কাদছো কেনো? "

ফারিহা ভাত মুখে নিয়েই বললো,

-" আমার মায়ের কথা মনে পরছে। আসার সময় মায়ের সাথে দেখা হয়নি আমার। '

নীরা ফারিহার চোখের পানি মুছে দিয়ে বললো,

-"এখন থেকে আমরাই তোমার আপন মানুষ। চিন্তা করো না সব ঠিক হয়ে যাবে। তুমিতো ছোট তাই বেশি মন খারাপ লাগছে। কেদো না। "

এই কথাটুকু শুনেই ফারিহার চোখ বেয়ে কয়েক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। নীরা নিজের হাতে তাকে সম্পুর্ন ভাত খাইয়ে দিলো।

★

খাওয়া শেষ হওয়ার পর নীরা আরেকটা ট্রে হাতে তুলে নিলেন। তারপর সেটি ফারিহার হাতে দিয়ে বললেন,

— "যাও এবার।"

ফারিহা অবাক হয়ে তাকালো।

— "কোথায়?"

— "আমার ছেলের ঘরে। এই খাবারটা দিয়ে আসো।"

ফারিহা চোখ বড় বড় করে বললো,

— "আমি কেনো?"

নীরা ভান করে অবাক হলেন।

— "তুমি কেনো মানে? তুমি ওর স্ত্রী। তুমি না গেলে কে যাবে?"

ফারিহা অপ্রস্তুত হয়ে গেল।

— "আ... আচ্ছা আন্টি..."

কথাটা শেষ করতেই নীরা কপালে ভাঁজ ফেললেন।

— "আন্টি?"

ফারিহা থমকে গেল। নীরা নাটকীয় ভঙ্গিতে বুক চাপড়ে বললেন,

— "ও মা গো! আমার একটাই ছেলে। তার বউ কিনা আমায় আন্টি ডাকতেছে!"

আমেনা চৌধুরী পাশে বসেই হেসে উঠলেন। নীরা আবার বললেন,

— "না না, এইসব চলবো না।"

তারপর ফারিহার দুই গাল আলতো করে ছুঁয়ে বললেন,

— "আমায় মা বলবা। আন্টি-ফান্টি কিছু শুনতে চাই না।"

ফারিহার ধীরে ধীরে মাথা নেড়ে বললো,

— "আচ্ছা... মা।"

শব্দটা শুনে নীরার মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠলো।

— "এই তো আমার লক্ষ্মী মেয়ে।"

ফারিহা দরজা থেকে ফিরে এসে আবার নীরার কাছে দাঁড়িয়ে বললো,

-" ঘর কোনটা? "

নীরা কপাল চাপরিয়ে বললো,

-" হায় আল্লাহ আমি দিনে দিনে মন ভুলা হয়ে যাচ্ছি। শোনো দোতলায় গিয়ে দুই নাম্বার যেই ঘর সেটাই নাহিয়ানের। "

ফারিহা মাথা নেরে সম্মতি দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেলো। ড্রয়িং রুমে আসতেই দেখে জেউ নেই আশেপাশে। ফারিহা শুকনো ঢোক গিলে উপরে উঠে গেলো। খাবারের ট্রেটা হাতে নিয়ে ফারিহা দরজার দিকে এগিয়ে গেল। কিন্তু নাহিয়ানের ঘরের সামনে এসে তার পা দুটো যেন থেমে গেল। বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ বাড়ছে। একবার ট্রের দিকে তাকালো, একবার বন্ধ দরজার দিকে। তারপর সাহস সঞ্চয় করে ধীরে ধীরে দরজায় টোকা দিল। ভেতর থেকে ভেসে এলো পরিচিত কণ্ঠ—

— " দরজা খোলা আছে ভিতরে আসতে পারো "

ফারিহার গলা শুকিয়ে গেল।

কাঁপা কাঁপা হাতে দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলো। ঘরের ভিতর অন্ধকার ছেয়ে আছে। বিছানায় নজর দিয়ে দেখলো নাহিয়ান উপুর হয়ে শুয়ে আছে। ফারিহা দরজায় আবার নক করলে নাহিয়ান বিরক্ত হয়ে ফিরে তাকালো। ঘর অন্ধকার হওয়ায় তেমন কিছু না দেখতে পেয়ে টেবিল ল্যাম্প জালিয়ে দেখলো ফারিহা দাঁড়িয়ে আছে নীল শাড়ি পড়ে। নাহিয়ান কিছুক্ষন তাকিয়ে দেখলো। তারপর চোখ ফিরিয়ে নিয়ে শুয়ে পড়ল আবার। চুপ থেকে বললো,

-" কী চাই?

ফারিহা আমতা আমতা করে বললো,

-" আপনার খাবার।

নাহিয়ান একি অবস্থায় থেকে বললো,

-" আমি খাবার চেয়েছি?

--" না, কিন্তু মা বললো দিতে।

নাহিয়ান বিছানায় বসে কপকলে ভাজ ফেলে বললো,

--" কে মা?

ফারিহা থতমত খেয়ে বললো,

--" আপনার আম্মু বলেছে আমি যেনো তাকে মা বলে ডাকি।

--" খাবো না আমি। খাবার নিয়ে যান।

ফারিহা সামনে এগিয়ে এসে বললো

-" আমার রাগ খাবারের উপর দেখাচ্ছেন কেনো?

নাহিয়ান বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পরতেই ফারিহা পিছিয়ে যায়। নাহিয়ান পকেটে হাত গুজে রেখে বললো,

-" আপনি এবার বেশি করছেন।

ফারিহা দম ফেলে শক্তি সঞ্চয় করে বললো,

--" বউ বলে যেহেতু একবার মেনেছেন তাহলে বেশি বেশি করতেই পারি।

নাহিয়ান গম্ভীরকণ্ঠে বললো,

--" বেশি বেশি করবেন মানে?

ফারিহা খাবারের ট্রে বিছানার উপর রাখতে রাখতে বললো,

--" সেটা আপনার না জানলেও চলবে। শুধু খাবার শেষ করে নিন।

ফারিহা আর দাঁড়ায় না ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়ে। সিড়ি ঘরের সামনে আসতেই আহিয়ানা আর সুনায়রার সাথে দেখা হয়। আহিয়ানা কিছু না বলে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। সুনায়রা ফারিহার দিকে তাকিতে থাকে কিছুক্ষণ। ফারিহা এতে অস্বস্তি বোধ করে। সুনায়রা হয়তো বুঝতে পারলো। তাই নিজেই ফারিহার হাত ধরে টেনে সোফায় বসিয়ে বললো,

-" আমি সুনায়রা চৌধুরী সারা। ভাইয়ার ছোট বোন। আব্বুর ছোট প্রিন্সেস। তোমার নাম কী?

ফারিহা বুঝলো এই মেয়ে খুব চঞ্চল। ফারিহা সুনায়রার গাল টেনে দিয়ে হাসি মুখে বললো,

--" আমি ফারিহা তাবাসসুম।

--" আচ্ছা তুমি তো আমার ভাইয়ার বউ লাগো তাই না?

ফারিহা মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বুঝায়। সুনায়রা গালে হাত কিছুক্ষণ ভেবে বললো,

--" তোমায় না খুব ছোট ছোট লাগছে। আমি তোমায় ভাবি বলবো না। অন্য কিছু ডাকি তোমায়?

ফারিহা এই কথা শুনে একটু লজ্জা পায়। মাথা নাড়িয়ে বললো,

--" কী বলে ডাকিতে চাও?

--" ক্যান আই কল ইউ বউ মনি? আই থিংক ভাবি সাউন্ডস আউটডেটেড।

ফারিহা হেসে ফোলা গাল দুটো টেনে বললো,

--" আচ্ছা যেটা খুশি সেটাই ডেকো। আই ওন্ট মাইন্ড অ্যাট অল।

ফারিহা আর সুনায়রা কথা বলার মাঝেই আহির, রাতুল আসলো। আহির এসেই ফারিহার উদ্দেশ্যে বললো,

--" আমরা দুইজন আপনার দেওর হই পরিচিতি হওয়া লাগবে না বুঝি।

ফারিহা মাথা তুলে তাকালো আহিরের দিকে। লম্বা চওরা দেহের অধিকারি। আহির সুনায়রার পাশে বসে বললো,

--" আমি আহির চৌধুরী সান। আমার দুটি পরিচয়। এক আমার মা এই বাড়ির মেয়ে। এক হিসেবে আপনার ফুপি শ্বাশুড়ি লাগে আর দুই মা এই বাড়ির সেজো বউ। আপনার সেজো চাচি শ্বাশুড়ি। আপনি বড় ভাইয়ার বউ। সম্পর্কে আমার বড় কিন্তু আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি আমার ছোট। আমিও এই ভাবি ডাকতে পারবো না। সারা যেহেতু বউ মণি বলে ডাকবে আমি ভাবি বলেই ডাকছি। আমার আবার একটাই বড় ভাই তার বউকে ভাবি ডাকার খুব ইচ্ছা।

ফারিহা এর পরিপেক্ষিতে হাসি দিলো। রাতুল এসে ফারিহার পাশে বসে বললো,

--" এবার আমার পালা। শোনো ভাবি আমি হচ্ছে এহসানুর চৌধুরী রাতুল । এই বাড়ির ছোটা প্যাকেট। এই নাম তোমার বর দিয়েছে। আমিও তোমায় বউ মণি বলেই ডাকবো।

ফারিহা হেসে বললো,

--" আচ্ছা।

চারজন মিলে টুকটাক কথা বলছে। নাহুয়ান উপর থেকে প্রত্যেকের কথাই শুনেছে।

রান্নাঘর থেকে লিপি, সুমি বের হয়ে আসলো হাতে মিষ্টি। নীরা আমেনা চৌধুরীকে নিয়ে বসার ঘরে আসলো। বড়রা এসেছে দেখে ফারিহা দাঁড়িয়ে পড়ে। সুমি গিয়ে সিমিন চৌধুরীকে নিচে নামিয়ে আনে। ওয়াসিম চৌধুরী সকালে বেরিয়েছে এখনো বাসায় আসে নি। আদি, তূর্য, রাজু, রিহান রিজবি যার যার কর্মসংস্থানে। রুশা, আহিয়ানা, বর্ষা অনুপস্থিত। নীরা ডাক পাঠালেও আসে না। নীরার এতে খারাপ লাগলেও কিছু করার নেই। বাসায় যেই কয়জন আছে তারাই কিছু নিয়ম পালন করে৷ ফারিহার এতে ভালোই লাগে সবাই যে তাকে আপজ করে নিচ্ছে। সিমিন চৌধুরী আমেনা চৌধুরী মন ভরে দোয়া করে ফারিহাকে।

★

বিকেলের নরম আলো ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়েছে পুরো চৌধুরী বাড়িজুড়ে। পশ্চিম আকাশে সূর্যটা একটু একটু করে ঢলে পড়ছে। সোনালি আলো এসে পড়েছে বাড়ির সামনের বিশাল বাগানে। ফুলের গাছগুলোর ওপর আলো পড়ে যেন আরও উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। হালকা বাতাসে দুলছে গোলাপ, বেলি আর রজনীগন্ধার ডালপালা। চারপাশে এক ধরনের শান্ত, সুন্দর পরিবেশ।

সুনায়রা আর রাতুল মিলে ফারিহাকে পুরো বাড়ি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাচ্ছে।

সুনায়রা একবার এদিক যায়, একবার ওদিক যায়। মুখ বন্ধ হওয়ার কোনো নাম নেই তার।

— "বউ মণি, এইদিকে আসো। এই ফুলগাছটা আমি লাগিয়েছিলাম । যদিও তিনদিন পানি দিতে ভুলে গেছিলাম।"

পাশ থেকে রাতুল বললো,

— "মিথ্যা কথা বলছো কেনো আপাই । গাছটা শুকিয়ে যাওয়ার পর বড় মা নতুন গাছ এনে লাগিয়েছে ।"

— "চুপ কর তো!"

সুনায়রা চোখ রাঙিয়ে বলতেই ফারিহা হেসে ফেললো। বাগানের মাঝখানে একটা ছোট্ট দোলনা রাখা। দোলনার পাশে গিয়ে সুনায়রা বললো,

— "এখানে আমি ছোটবেলায় সারাদিন বসে থাকতাম। এটা ইবশ্য আমার আম্মুর দোলনা। কিন্তু আমরা ভাই বোনরা সারাদিন এখানে বসে দোল খেতাম ছোট থাকতে। "

রাতুল সঙ্গে সঙ্গে বললো,

— "এখনো বসে থাকো তুমি । তোমার বয়সটা একটু বাড়ছে।"

— "রাতুল!"

সুনায়রার চিৎকারে পুরো বাগান যেন মুখর হয়ে উঠলো। ফারিহা ওদের খুনসুটি দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো। নিজের অজান্তেই তার মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। কিছুক্ষণ পর রাতুল তাকে নিয়ে গেল বাগানের এক কোণায়। সেখানে একটা বড় আমগাছ দাঁড়িয়ে আছে।

— "এই গাছটা কিন্তু ঐতিহাসিক।"

ফারিহা কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলো,

— "কেনো?"

রাতুল গম্ভীর মুখে বললো,

— "কারণ বড় ভাইয়া ছোটবেলায় এই গাছে উঠে আটকে গেছিল। "

— "কি?"

ফারিহা অবাক হয়ে তাকাতেই সুনায়রা হেসে উঠলো।

— "সত্যি বলছে। পরে মেজো চাচা গাছে উঠে ভাইয়া কে নামিয়েছিলো। "

ফারিহার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।

সবসময় গম্ভীর, রাগী নাহিয়ানের এমন গল্প শুনে তার হাসি পেয়ে গেল। বেশ কিছুক্ষণ বাগানে ঘোরাঘুরি করলো। ফারিহা জবা গাছের সামনে গিয়ে সুনায়রাকে বললো,

--" সারা একটা ফুল ছিরলে কিছু হবে ?

--" না বউ মণি ছিরো। এটা আম্মুর গাছ। এখানে প্রায় সব গাছ আমার আম্মুর।

ফারিহা সাদা ছোট জবা ছিরে কানে গুজলো। ঢুবে যাওয়ার আগের সূর্যের রশ্মি ফারিহার মুখে প্রতিফলন হলো। শ্যামলা মুখ খানা জ্বল জ্বল করে উঠলো। ওপরের বারান্দা থেকে নাহিয়ান নিচের দিকে তাকিয়ে ছিল ভাই বোনদের আওয়াজ শুনে ।দু'হাত বুকের কাছে ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে ছিল সে। বাগানে দাঁড়িয়ে থাকা ফারিহার মুখের হাসিটা তার চোখ এড়ালো না। এক মুহূর্তের জন্য নাহিয়ানের দৃষ্টি স্থির হয়ে রইলো ফারিহার উপর। গাঢ় নীল শাড়ি, বাতাসে উড়তে থাকা চুল আর মুখভরা সেই নির্মল হাসি। কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে নাহিয়ান নিজের অজান্তেই চোখ সরিয়ে নিল। তারপর বিরক্ত ভঙ্গিতে বিড়বিড় করে বললো,

— "অদ্ভুত মেয়ে একটা।"

চলবে... ♡

🕊️ গল্পটা কী আদৌ ভালো লাগছে তোমাদের? উত্তর দিয়ো কিন্তু 🕊️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন