ফন্ট সাইজ:
থিম:
নীল জোছনা

১১তম পর্ব

লেখক: ইসরাত জাহান এশা

#নীল_জোছনা | ১১ | #ইসরাত_জাহান_এশা

রাত ধীরে ধীরে নেমে এসেছে পুরো চৌধুরী বাড়িজুড়ে। আকাশজুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য তারা। দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা ডাক শোনা যাচ্ছে। বাগানের রজনীগন্ধাগুলো রাতের বাতাসে আরও বেশি সুবাস ছড়াচ্ছে। হালকা ঠান্ডা বাতাস জানালার ফাঁক গলে ভেতরে ঢুকে পর্দাগুলোকে দুলিয়ে দিচ্ছে। চারপাশে এক ধরনের প্রশান্ত নীরবতা।

রাতের খাবারের সময় পুরো পরিবারের যে কয়জন সদস্য বাসায় ছিল সবাই একসাথে ডাইনিং টেবিলে বসেছিল। নীরা বারবার ফারিহার প্লেটে খাবার তুলে দিচ্ছে।

— "না মা, আর দিয়েন না।"

— "এইটুকু খেলে হবে নাকি? "

তূর্য খেতে খেতে ফারিহার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করলো,

_" তোমার নাম যেনো কী?

ফারিহা মুখের খাবার দ্রুত শেষ করে বললো

-" ফারিহা তাবাসসুম।

-" চট্রগ্রাম কোথায় তোমার বাসা?

-" চট্রগ্রামের জেলার ছোট অঞ্চলে রাউজান নামের একটি গ্রাম আছে। সেখানেই আমাদের বাসা। "

-" পড়াশোনা করছো?

-" জ্বী করছি।

-" কীসে পড়ছো তুমি?

ফারিহা এবার কিছুক্ষণ থামলো। তারপর বললো

-" সামনে মাধ্যমিক দিবো। "

এই কথায় সবাই চমকে তাকালো ফারিহার দিকে। এতো ছোট মেয়ে। নীরা স্বাভাবিক কন্ঠে বললো,

-" পড়াশোনা করার ইচ্ছা আছে তোমার? "

ফারিহা মাথা নিচু করেই রইলো। তূর্য হাত ধুয়ে নীরার আচলে হাত মুছতে মুছতে বললো,

-" ভয় পাওয়ার দরকার নেই। পড়াশোনা করবে তুমি। আমার দুটো মেয়ে। এখন তুমি আমার ছেলের বউ। ফেলে দিতে পারবো ল না। আমি জানি আমার ছেলে ভুল কিছুই করেনি। তোমার দায়িত্ব যেহেতু নিয়েছে ও সেটা পালন করবেই। আই ট্রাস্ট হিম। "

ফারিহা চোখ তুলে তূর্যর দিকে তাকালো। তূর্য ফারিহাকে পাশে বসিয়েই খাওয়াচ্ছিলো। ফারিহা হাসি মুখে বললো,

-" আচ্ছা।

তূর্য ফারিহার মাথায় হাত দিয়ে বললো,

-" বাবা কী করে তোমার? মা কী করে করে? সেসব নিয়ে প্রশ্ন করবো না আমি। সেসব আমার রুচিতে আসে না। তাই এগুলো নিয়ে ভাববে না। "

বর্ষা কিঞ্চিৎ হেসে বললো,

-" পৃথিবীতে আর কোনো মেয়ে ছিলো না যে শেষমেশ গ্রাম্য মেয়েকেই বিয়ে করেছে নাহিয়ান ভাই। অদ্ভুত তো। তাও আবার মাধ্যমিকও দেয় নি এখনো। "

সবাই বর্ষার কথায় অবাক হলো। বর্ষা এসব কথা কোনোদিনও বলে নি। নীরা কপালে ভাজ ফেলে ফেলে বললো,

-" বর্ষা এসব কোনো ধরনের কথা? এসব তোমায় আমরা শিখাচ্ছি? "

বর্ষা খাবারের টেবিল থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বললো,

-" যেটা সত্যি আমি সেটাই বলেছি। সত্যি বলতে গায়ে বাধছে না আমার। "

--"তুই যেহেতু এতোই সত্যির জন্য পাগল তাহলে এটাও মেনে নে ফারিহা এই বাড়ির বড় বউ। নাহিয়ান চৌধুরীর ওয়াইফ সে। এটা মানতে কষ্ট হচ্ছে কেনো তোর। "

নাহিয়ানের কথায় সবাই সিড়ির ঘরের দিকে তাকালো। নাহিয়ান পকেটে হাত রেখে গম্ভীর কণ্ঠে কথা গুলো বললো। নাহিয়ান নেমে এসে ফারিহার পিছনে দাঁড়িয়ে আরো বললো,

-" আমি তোকে একবার বলেছি আল্লাহর বিধি অনুসারে বিয়েটা যেহেতু হয়েছে সেটা আমি অস্বীকার করতে পারবো না। এই বলবো না যে তাকে ছেড়ে দিবো। আমার কপালে যেহেতু এভাবে বিয়েটা লিখা ছিলো তাই হয়েছে। বিয়েটা আমার মানতেই হবে।তারপরও তুই এসব কথা কেনো বলছিস? "

নাহিয়ানের এরুপ কথায় ফারিহা অবিশ্বাস নিয়ে তাকায় নাহিয়ানের দিকে। নীরা তূর্য খুশি হয় তাদের ছেলের কথা শুনে। তূর্য নাহিয়ানের কাধ চাপরিয়ে বলে,

-" ভেরি গুড মাই সান। এভাবেই সবসময় পাশে থাকবে। মনে রাখবে সে তোমার ভরসায় এই বাসায় পা রেখেছে। অপমান হতে দিয়ো না। "

এর পরিপেক্ষিতে নাহিয়ান মুচকি হাসি দেয়। তূর্য ছেলের চুল এলোমেলো করে বললো,

-" খাবার শেষ করে ঘরে এসো কথা আছে। "

নাহিয়ান সম্মতি দিতে তূর্য ঘরে চলে যায়।

বর্ষার গায়ে নাহিয়ানের কথা গুলো তীরের ন্যায় বিধছে। খাবার শেষ না করেই ঘরে চলে যায়। রুশা মেয়ের যাওয়ার পানে তাকিয়ে থাকে। চোখের কোটরে পানি জমেছে। সে চাইলেও কিছুই করতে পারবে না। ছেলে যেহেতু বিয়েটা মেনে নিয়েছে সেখানে আর ঝামেলা করার প্রশ্নই উঠে না। রুশা দ্বীর্ঘ শ্বাস ফেললো।

★

নাহিয়ান খাওয়া শেষ করেই তূর্যের ঘরে যায়। তূর্য ডিভানে বসে কাজ করছে। নাহিয়ান গিয়ে তূর্যের পাশে বসে। তূর্য ছেলের আগমনে মুচকি হেসে ল্যাপটপ বন্ধ করে তাকায় নাহিয়ানের দিকে। নাহিয়ানের চুলে হাত বুলিয়ে বললো,

-" বাবা কিছু কথা বলি মনোযোগ দিয়ে শুনবে কেমন। "

নাহিয়ান হেসে বললো,

-" তোমাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবো নাতো কার কথা শুনবো বাবা। তুমি বলো কী বলবে আমি শুনবো সাথে মানবো। শুধু একটা কথা ছাড়া। তুমি ভুলেও বলবে না নাহিয়ান তুমি আমার বউকে জড়িয়ে ধরবে না বলে দিলাম। এই কথা ছাড়া হাজার কথা বলো আমি নাহিয়ান শুনবো। "

তূর্য ছেলের কথায় হেসে ফেললো। চোখের মোটা ফ্রেমের চশমা খুলে টি টেবিলে রেখে বললো,

-" তোমার আম্মু আর আমি তোমার এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিয়ে মেনে নিয়েছি। তুমিও এই বিয়ে মানবে আশা করি। আল্লাহর লিখন পালটানো যায় না। তোমাদের যেই অবস্থায় বিয়ে হয়েছে সেখানে কারোর মন মানসিকতার ভালো থাকার কথা নয়। বাবা তুমি যদি মেয়েকে না মানো তাহলে মেয়ের জীবন পুরো নষ্ট। মেয়েটা ছোট। রুস্মিতার থেকে দুই বছরের ছোট। আমার মেয়ের বয়সি। বাবা এই বিয়েটা যদি মন থেকে মানো তাহলে ওই ফারিহা কে বউ হিসেবে গ্রহণ কইরো। মেয়েটাকে এই বাড়ির অনেকেই হয়তো অপমান করবে তুমি ঢাল হয়ে থেকো। একজন বাবা হয়ে বলছি তোমায়। তোমার মনে আছে কিনা জানি না। তোমার আম্মু যখন চৌধুরী বাড়ির বউ হয়ে এসেছে তাকে অনেক অপমান করেছে৷ আমি তোমার আম্মুর ঢাল হয়ে ছিলাম। আশা করি তূর্য চৌধুরীর ছেলে তার অর্ধাঙ্গিনীকে অসম্মান করবে না। সম্মান করবে সব সময়। "

নাহিয়ান পুরোটা সময় ধরে তূর্যের বলা কথা শুনছিলো। নাহিয়ান তূর্যের হাত মুষ্টিবদ্ধ করে হাতে চুমু দিয়ে বললো,

-" বাবা আমি আম্মুর ছেলে। তোমার অবদান যতটুকু তার থেকেও আম্মুর অবদান অনেক বড়। আমি আম্মুর শিক্ষায় এতো দূর এসেছি। আম্মু আমায় শিখিয়েছে একজন নারি কী। তাদের সম্মান কতটুকু। আমি আম্মুর কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি তোমার মানা নিষেধ সব মেনেছি। এই কথাও মানবো। তোমার ছেলের প্রতি আস্থা নেই তোমার বাবা। "

তূর্য হেসে বললো,

-" অনেক আস্থা আছে আমার ছেলের প্রতি। আমি জানি আমার ছেলে ভুল কিছুই করবে না। "

নাহিয়ান তূর্যের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো,

-" আমায় শুধু আরো দুইটা বছর সময় দাও নিজের পায়ে দাঁড়াতে দাও আমায়। এল এল আম কমপ্লিট করতে চাই বাবা। "

-" তোমার বাবা আর আম্মু তোমার পাশে আছে। তুমি তোমার লাইফ সেটেল করো সাথে মেয়েটার পড়াশোনাও কন্টিনিউ করুক। সামনে মাধ্যমিক দিবে। আর তুমি তাকে সম্পুর্ন গাইড লাইন দিবে। বুঝতে পেরেছো বাবার কথা। "

-" জ্বী বাবা বুঝতে পেরেছি। "

-" যাও গিয়ে শুয়ে পড়। "

নাহিয়ান উঠে চলে আসে নিজের রুমে। নাহিয়ান বের হতেই তূর্য দ্বীর্ঘ ফেললো।

★

খাওয়া-দাওয়া শেষ হতে হতে রাত প্রায় সাড়ে দশটা বাজে। এক এক করে সবাই নিজেদের ঘরে চলে গেল। ফারিহা ভেবেছিল আজ সে আমেনা চৌধুরীর ঘরেই ঘুমাবে।

তাই চুপচাপ আমেনা চৌধুরীর ঘরের দিকে চলে এলো। ঘরে ঢুকতেই আমেনা চৌধুরী চশমা খুলতে খুলতে বললেন,

— "কী রে? এখানে কেনো তুই ?"

— "আমি... এখানে ঘুমাবো।"

কথাটা শুনে নীরা হেসে ফেললেন। নীরা আমেনা চৌধুরীর রাতের ঔষধ দিতে দিতে বললো

— "এখানে ঘুমাবে মানে?"

ফারিহা অবাক হয়ে তাকালো। নীরা এবার দুই হাত কোমড়ে রেখে বললেন,

— "তুমি বিবাহিত মেয়ে। নিজের স্বামীর ঘর রেখে এখানে ঘুমাবে কেন?"

— "কিন্তু..."

— "কোনো কিন্তু না।"

আমেনা চৌধুরীও এবার নীরার সুরে সুর মিলালেন।

— "যা দাদুভাইয়ের ঘরে যা।"

— "দাদিমা..."

— "না, আর কোনো কথা শুনবো না।"

ফারিহা অসহায় চোখে দুজনের দিকে তাকালো। কিন্তু তাদের মুখ দেখে বুঝে গেল কোনো লাভ হবে না। নীরা মুচকি হেসে বললেন,

— "যাও মা। ভয় পাওয়ার কিছু নেই।"

লজ্জা আর অস্বস্তি নিয়ে ফারিহা ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে উঠতে তার বুকের ভেতর আবার ধুকপুক শুরু হয়ে গেল। আজ সারাদিনে দ্বিতীয়বার নাহিয়ানের ঘরে যেতে হচ্ছে তাকে। দোতলার করিডোরটা একদম নীরব।

দূরে জানালা দিয়ে চাঁদের আলো এসে মেঝেতে সাদা ছোপ ফেলেছে। ফারিহা নিচের দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো। আজও তার গায়ে দুপুরের সেই গাঢ় নীল শাড়ি। শাড়ি বদলানোর কথা মাথায় এলেও আর ইচ্ছে করেনি। কেন জানি না, শাড়িটা খুলতে মন চায়নি তার। হাত তুলে আস্তে করে দরজায় নক করলো। ভেতর থেকে কোনো সাড়া এলো না। আরেকবার নক করতেই ভেতর থেকে গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এলো,

— " কান ইন ।"

ফারিহা ধীরে ধীরে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো। ঘরের একপাশে স্টাডি টেবিলের সামনে বসে আছে নাহিয়ান। টেবিল ল্যাম্পের নরম হলুদ আলো তার মুখের একপাশ আলোকিত করে রেখেছে। চারপাশে ছড়িয়ে আছে বই, আর নোটস।

এল.এল.এম-এর প্রস্তুতির জন্য মনোযোগ দিয়ে কিছু নোট পড়ছিল সে। দরজা খোলার শব্দে নাহিয়ান ফিরে তাকালো। ফারিহাকে দেখে তার ভ্রু কুঁচকে গেল। কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বললো,

— "একি! আপনি এই ঘরে কেন?"

ফারিহা সঙ্গে সঙ্গে অপ্রস্তুত হয়ে গেল।

আঙুল মুচড়াতে মুচড়াতে বললো,

— "দাদিমা আসতে বলেছে। আমি আসতে চাইনি। জোর করে পাঠিয়েছে।"

নাহিয়ান কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ফেললো।

— "ফাইন। ঘুমিয়ে পড়ুন।"

এইটুকু বলেই চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো সে। তারপর তোয়ালে হাতে নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল। ফারিহা কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো। তারপর ধীরে ধীরে বিছানার কাছে এগিয়ে গেল।

বিছানার ওপর থেকে একটা এক্সট্রা বালিশ আর কম্বল নিয়ে মেঝেতে বিছানা করতে শুরু করলো। সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে মেঝেতে শুয়ে পড়লো সে। জানালা দিয়ে ভেসে আসা চাঁদের আলো তার মুখে এসে পড়েছে। ঘরের ভেতর নীরবতা। দূরে কোথাও কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছে।

ফারিহা কম্বলটা গায়ে টেনে নিয়ে চোখ বন্ধ করলো। আজকের দিনটা যেন স্বপ্নের মতো কেটেছে। সকালে এই বাড়িতে আসার সময় যে ভয়, অস্বস্তি আর অনিশ্চয়তা ছিল, তার অনেকটাই যেন ধীরে ধীরে কমে এসেছে।

চোখের সামনে ভেসে উঠলো নীরার স্নেহভরা মুখ, আমেনা চৌধুরীর মমতা, সুনায়রা আর রাতুলের হাসিখুশি আচরণ।

অজান্তেই তার ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠলো। ভাবার মাঝেই ওয়াশরুমের দরজা খুলে বেরিয়ে এলো নাহিয়ান। ভেজা চুলে তোয়ালে ঘষতে ঘষতে সে একবার মেঝের দিকে তাকালো। কপালে ভাজ ফেলে বললো

__- নিচে বিছানা করেছেন কেনো?

ফারিহা নাহিয়ানের গম্ভীর কণ্ঠ শুনে শোয়া থেকে উঠে বসলো। কোনোমতে উত্তর দিলো,

--___ ঘুমানোর জন্য।

নাহিয়ান তোয়ালে টেবিলে রেখে বুকে হাত গুজে রেখে বললো,

-- __আমাকে দেখে আপনার কী মনে হয় আপনার?

-___ মানে?

-__ মানে হচ্ছে আপনি কী ভারতের সিরিয়াল দেখে অভ্যস্ত? যে আমাদের বিয়ে সাধারণ ভাবে হয় নি দেখে আপনি নিচে বিছানা করে ঘুমিয়ে প্রমাণ করতে চাচ্ছেন আপনি অনেক দয়ালু।

-- ___আমি ওইসব ভেবে নিচে বিছানা করিনি?

- __তাহলে কী ভেবে বিছানা করেছেন মহারাণি?

-- ___আমি ভেবেছি আপনার হয়তো অসুবিধা হবে আমি বিছানায় ঘুমালে তাই আরকি।

নাহিয়ান কপালে আঙ্গুল স্লাইড করতে করতে বললো,

-- ___উদ্ধার করেছেন এই কথা ভেবে। এবার বিছানায় এসে ঘুমিয়ে উদ্ধার করুন আমায় ।

ফারিহা দাঁড়িয়ে মিনমিন করে বললো,

- __এভাবে ধমকিয়ে বলছেন কেনো?

নাহিয়ান অবাক হয়ে তাকালো ফারিহার দিকে। সে কখন ধমকালো? নাহিয়ান রেশ ভরা কন্ঠে বললো,

-- ___বেশি কথা বললে জানালা দিয়ে ফিক্কা মেরে ফেলে দিবো রামছাগল একটা। ৫ সেকেন্ডের মধ্যে বিছানায় দেখা চাই।

--___ আচ্ছা।

- ___কী আচ্ছা?

--___ কিছুনা?

নাহিয়ান বিছানায় শুয়ে পড়লো। ড্রিম লাইট জ্বালিয়ে। কিছুক্ষণ পর ফারিহার দিকে তাকিয়ে আবার বললো,

- ___আসবেন আপনি?

- __আসছি তো।

- __কী দিয়ে আসছেন? আপনার শ্বশুর কী হেলিকপ্টার পাঠাচ্ছে?

-___ না জামাই পালকি পাঠাচ্ছে।

নাহিয়ান কটমট করে বললো,

-"___ কী বললেন আপনি? "

ফারিহা আর কিছু না বলে বাম পাশে শুয়ে পড়লো। চোখ বন্ধ করে বললো,

-" লাইট জ্বালানো যায় না? "

নাহিয়ান চিৎ হয়ে শুয়ে বললো,

-" লাইট জ্বালানো থাকলে ঘুম হয়না আমার। ড্রিম লাইট জ্বালানো আছে ঘুমিয়ে পড়ুন। "

ফারিহা উঠে বসে বললো,

-" আমার ভয় লাগে অন্ধকার ঘরে। আমার নাইক্টোফোবিয়া আছে। "

নাহিয়ান বিরক্তিকর নিশ্বাস ফেলে বললো,

-" আলো জ্বালালে আমার ঘুম হয় না। আপনি শুয়ে পড়ুন বারান্দা থেকে আলো আসছে সমস্যা নেই আর ঘরে তো ড্রিম লাইট তো জ্বলছেই। "

ফারিহা শুয়ে পড়ে নাহিয়ানের দিকে পিঠ ফিরে। কিন্তু ঘুমাতে পারে না। যতই ড্রিম লাইট জ্বালানো থাকুক না কেনো ভয় তো লাগবেই।

এভাবে কেটে গেলো কিছু মুহূর্ত কিন্তু ফারিহার চোখে ঘুম হানা দিচ্ছে না। এপাশ থেকে ওপাশ করছে। নাহিয়ানও ঘুমাতে পারছে না। পাশে থাকা একটা মানুষ যদি এভাবে নড়াচড়া করে তাহলে কি আর ঘুম হয়। নাহিয়ান চোখ মেলে ফারিহার দিকে তাকালো। সে এখন হাত পা কোলে নিয়ে চোখ খিচে বন্ধ করে রেখেছে। ভয় এর কারণে কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে ঘরের মৃদু আলোয় তা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। নাহিয়ান চোখ বন্ধ করে জোরে শ্বাস নিয়ে আস্তে করে ছেরে দিলো। ফারিহার দিকে ফিরে হাত ধরে টেনে নিজের সাথে মিশিয়ে নরম গলায় বললো,

-" ভয় পাওয়ার কিছুই নেই ঘুমান আপনি আমি আছি। "

আচমকা টানায় ফারিহা ভয় পেয়ে যায়। পরক্ষণেই নিজেকে ধাতস্থ করে। নাহিয়ানের দিকে ফিরে নাহিয়ানের বুকে মুখ গুজেই নাহিয়ানের হাত শক্ত করে ধরে চোখ বন্ধ করে নেয়। নাহিয়ান আর কিছু বললো না। ফারিহার চুলে হাত বুলিয়ে দিলো।

কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা ঘুমের রাজ্যে পারি জমায়।

চলবে...........♡

#fypシ゚viralシ #foryoupageシ #fbpost

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন