ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমাকে ভাবিনি কখনও

৪র্থ পর্ব

লেখক: মায়িশা নুরাইন

#তোমাকে_ভাবিনি_কখনও

#পর্ব_৪

#মায়িশা_নুরাইন

🎀

" নীলা মা, কোথায় তুই? "

" এইতো বাবা, বাড়ি ফিরছি। "

" জলদি আয়। বাসায় মেহমান এসেছে। তোর জন্যই অপেক্ষা করছে। "

কে এসেছে? কেন এসেছে? এসব কোন প্রশ্ন না করেই নীলা খট করে ফোন কেটে দেয়। নাবিহা পাশ থেকে বলে,

" কি হলো আবার? মুহুর্তেই মুডের এমন দফারফা হলো কেন? "

" আমি পাগল হয়ে যাবো ভাই। "

" পাগলাগারদে সীট বুকিং করে রাখবো? "

নীলা কেমন একদৃষ্টিতে নাবিহার দিকে তাকিয়ে বলে,

" পাগলে কি না করে! এখন কি পাগলের কামড় খেতে চাস?"

নাবিহা পিছিয়ে গিয়ে বলে,

" রেগে যাচ্ছিস কেন? চিন্তা করিস নাহ, পাগলাগারদে তোর পাশের সীটে আমি থাকবো৷ নো টেনশন, ঢু ফুর্তি। "

" মে ক্যায়সে ফুর্তি কারোঙ্গা? মেরা জীবন তেনা তেনা হো গেয়া৷ আআআ, মাই পুওর লাইফ। "

" উল্টোপাল্টা কথা রেখে আসল কাহিনি বল৷ "

" বাবা মাত্রই বললো কিসের নাকি মেহমান এসেছে বাসায়। আমি নিশ্চিত আবারও বাসায় পাত্রপক্ষ ধরে এনেছে। দোস্ত, আমাকে বাঁচা। আজকের দিনটা তোদের বাসায় থাকতে দে। "

" নে ওয়ে। পরে আমি আঙ্কেলের বকা খেতে পারবো নাহ। তুমি যাও, বিয়ে করে সংসার করো। আমি দূর থেকে তোমায় দোয়া করে দিবো। "

নীলা তেড়ে আসলে নাবিহা দৌড়ে পালায়৷ কিছুক্ষণ দুষ্টুমি করে নীলা স্কুটি নিয়ে নাবিহাকে তার বাসায় নামিয়ে দিয়ে নিজের বাসার দিকে আগায়। বাসার সামনে পৌছে একটা প্রাইভেট কার দেখে সে নিশ্চিত হয় বাসায় মানুষ আছে। তাই সে বাড়ির সামনের গেইট রেখে পেছনের গেইট দিয়ে বাড়িতে ঢুকে। ড্রয়িংরুম থেকে বাবার সাথে আরেকজন পুরুষের কন্ঠ শোনা যাচ্ছে। কন্ঠ শুনেই বুঝা যাচ্ছে লোকটি বয়স্ক। বাবা সব শেষে তার জন্য দাদার বয়সী কাউকে সিলেক্ট করলো! রাগে দুঃখে নীলার এখন খুব কান্না পাচ্ছে।

সে বাবার প্রতি রাগ নিয়ে বিরবির করতে করতে নিজের রুমে প্রবেশ করে। তবে নিজের রুমে প্রবেশ করেই সে একটা বড়সড় ঝটকা খায়। তার বিছানায় একজন ছেলে শুয়ে আছে! ছেলেটি একপাশে হেলে শুয়ে আছে। তার মাথার সামনে আড়াআড়িভাবে একটা বালিশ রাখা। নীলা পা টিপে টিপে এগিয়ে গিয়ে উঁকি দিলে দেখতে পায় সেই বালিশে হেলান দিয়ে একটা ফোন রাখা আছে। আর ফোনের স্ক্রিনে এখন টম এন্ড জেরী চলছে। টম তখন একটা খুন্তি হাতে জেরীর পেছনে ধাওয়া করেছে। তবে জেরীর বুদ্ধিমত্তায় টম হেরে গিয়ে এক দেয়ালের সাথে চ্যাপ্টা হয়ে গেছে। ছেলেটি এটা দেখে খিলখিলিয়ে হেসে উঠে।

নীলা চুপচাপ বসে থেকে নিজেও ফোনের স্ক্রিনে মন দিয়ে ফেলেছে। হটাৎ আরেকটি কাহিনী দেখে ছেলেটির সাথে সে নিজেও হেসে ফেলে।

তার হাসি শুনেই ছেলেটি লাফিয়ে উঠে বসে। তারপর কেমন বিড়ালের মতো লাফিয়ে এসে তার কোলে উঠে পরে।

" পরিইইই... "

নীলার গালে ছেলেটি নিজের ঠোঁট ছোঁয়াতেই তার হুশ ফিরে। ছেলেটির উড়ে এসে তার কোলে বসায় সে আলতো করে তাকে ধরে বসে।

" এই পাকনা বুড়ো। তুমি আমার রুমে কি করছো? এখন আবার আমারই কোলে বসে আছো। "

সোহান তার প্রশ্নকে পাত্তা না দিয়ে উল্টো শক্ত করে গলা জড়িয়ে ধরে।

" আই মিসড ইউ সো মাচ, মাই ফেইরি। "

বাচ্চা বাচ্চা হাতে এত আদুরে ভাবে গলা জড়িয়ে ধরায় নীলা নিজেও গলে যায়। সোহানের গালে চুমু দিয়ে বলে,

" মাই হ্যান্ডসাম বয়, আই মিসড ইউ টু। "

" আই নো পরি। তাই তো আজ মাম্মামকে বলে ড্রাইভার আঙ্কেলের সাথে তোমার কাছে চলে এসেছি। "

নীলা বুঝতে পারে ড্রয়িংরুমে বাবার সাথে কথা বলা লোকটি তবে সোহানের ড্রাইভার আঙ্কেল৷ সোহান নীলার গলা জড়িয়ে রেখেই বলতে থাকে,

" জানো পরি, আমি সেই কখন থেকে তোমার জন্য ওয়েট করছিলাম। তুমি তো আসছিলেই নাহ। আমার খুব মন খারাপ হচ্ছিলো। তাই তোমার পাপা আমাকে টম, জেরী দেখতে দিয়েছে। এখন তুমি এসে গিয়েছো, আ'ম সো হ্যাপি নাও। "

" ওলে আমার সোনা-মনাটা, তোমাকে পেয়ে আমিও খুবই হ্যাপি। "

সোহান খিলখিলিয়ে হাসে। তাদের দুষ্টুমির মাঝেই সেখানে রফিকুল সাহেবের আগমন ঘটে। তিনি মেয়ের রুমের বাহির থেকে হাসির শব্দ শুনে দ্রুত পায়ে এসেছেন।

" কি রে, কোথা দিয়ে আসলি তুই? আমরা তো বাহিরের রুমেই ছিলাম। দেখলাম নাহ তো তোকে। "

" উড়ে উড়ে এসেছি বাবা। আমি তো পরি। এন্ড আই ক্যান ফ্লাই। "

" ইয়েস আঙ্কেল। পরি মাত্রই এই জানালা দিয়ে উড়ে উড়ে এসেছে। আমি দেখেছি। "

রফিকুল সাহেব অবাক হন। এই বাচ্চা ছেলেটাও তার মেয়ের সাথে কেমন মিশে গেলো। দুটো মিলে মুহুর্তেই কেমন এক হয়ে গেলো। রফিকুল সাহেব একটা শ্বাস ফেলে বলেন,

" নীলা, দ্রুত গিয়ে ফ্রেস হয়ে আয়। তোর জন্য সোহানও এসে থেকে কিছুই খায় নি। বাচ্চা ছেলে, কতক্ষণ খিদে আটকে রাখবে? সোহান বাবা, আসো আঙ্কেলের কাছে। তোমার পরি ফ্রেস হয়ে আসুক। "

সোহান লাফিয়ে রাফিক সাহেবের কোলে উঠে পরে। রফিক সাহেব সোহানকে নিয়ে বেরিয়ে যেতেই নীলা হেসে ফেলে। সে দ্রুত পায়ে ওয়াসরুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে আসে। খাবার টেবিলে তার বাবা আগে থেকেই খাবার রেডি করে রেখেছে। সে যেতেই সোহান বলে,

" পরি, আমাকে খাইয়ে দাও। "

নীলা করুণ চোখে তার বাবার দিকে তাকায়। নীলা এতটাই আদরে বড় হয়েছে, আজও মাঝে মাঝে তাকে তার বাবা খাবার খাইয়ে দেয়। সেখানে আজ এই বাচ্চা তার হাতে খেতে চাচ্ছে! এ তো বড্ড কঠিন একটা কাজ। রফিক সাহেব এবার বিজয়ী হাসি দেন। দেখে মনে হবে তিনিই যেন সোহানকে শিখিয়ে দিয়েছেন, নীলার হাতে খাবার খেতে চাওয়ার কথা বলতে।

সোহান খুবই আগ্রহ নিয়ে বসে আছে। তাই বাচ্চা ছেলেটির মান ভাঙাতে মন চায় নি তার। তাই সে বসে খাবার নিয়ে সোহানকে খাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ কাজে আনাড়ি নীলা বারবার ভুল করছিলো। আর দুষ্টু সোহানও সুযোগ পেয়ে বারবার নীলার হাতে কামড়ে দিচ্ছিলো। এসব নিয়ে খাবারের সময়টা পুরোই ঝমঝমাট হয়ে যায়।

সোহানের খাবার শেষে সে চেয়ারে বসোই জিমোতে থাকে। নীলা তখন নিজের খাবারে ব্যস্ত। হটাৎ অনুভব করে এক জোড়া ছোট্ট হাত তার বা হাতের বাহু আঁকড়ে ধরেছে। নীলা পাশ ফিরে দেখে সোহান তার বাহু জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে গিয়েছে। এই দৃশ্যটা এতটাই মুগ্ধকর ছিলো যে, নীলা খাবার ফেলে সেদিকেই তাকিয়ে থাকে। অনেক বছর পর সে একটা বাচ্চার সংস্পর্শ পেলো। তাই এই মুহুর্তগুলো তার জন্য স্পেশাল ছিলো।

নীলা তার বাবার দিকে তাকিয়ে বলে,

" কেমন পরিবার এরা? বাচ্চা ছেলেটাকে এভাবে ড্রাইভারের সাথে একাকী পাঠিয়ে দিলো। ভয় করে নাহ ওদের? "

" আমাদের বিশ্বাস করে বলেই এভাবে পাঠাতে পেরেছে। তাছাড়া দেখ, বাচ্চাটাও কেমন তোর সাথে মিশে গেছে। এই পরিবারে তোর বিয়ে হলে তোকে মাথায় করে রাখতো। তুই তো বুঝতে চাইলি নাহ। "

" আহ বাবা! আবার শুরু করো নাহ তো। আচ্ছা, ওকে নিতে আসবে কে? নাকি থাকবে এখানেই? "

" থাকবে নাহ। রাতে নাকি মা'কে ছাড়া থাকতে পারে নাহ। বিকালে ড্রাইভারই নিতে আসবে হয়তো। "

নীলা খাবার শেষ করে হাত ধুয়ে ঘুমন্ত সোহানকে কোলে তুলে নেয়। সোহান ঘুমের ঘোরে নীলার সাথে আরও মিশে যায়। নীলা তাকে নিয়ে বিছানায় শোয়াতেই সোহান নীলাকে জড়িয়ে ধরেই রাখে। অগত্যা নীলাকেও শুয়ে পরতে হয়। তাছাড়া সে সবসময়ই দুপুরে খাবারের পর একটা ঘুম দেয়। তাই সে নিজেও সোহানকে আগলে রেখে ঘুমিয়ে পরে।

********

" আমার ফুচকাআআআ....। এটা কি করলেন আপনি? "

" মাই মিসটেক মিস। আমি ইচ্ছে করে ধাক্কা দিই নি। "

কন্ঠের মালিকের দিকে তাকিয়ে নীলার চোখ উপরে উঠার জোগার।

" স্যার, আপনি এখানে? "

কিয়ানকে দেখেই সোহান দৌড়ে এসে কোলে উঠে পরে। কিয়ানের দুই গালে হাত রেখে মিষ্টি হেসে বলে,

" চাচ্চু, আই মিসড ইউ৷ "

" আই মিসড ইউ টু, মাই হ্যান্ডসাম বয়। "

নীলা হতভম্ব হয়ে পরে এখানে কিয়ানকে দেখে। সে সোহানকে বলে,

" সোহান সোনা, ছাড়ো লোকটাকে। এভাবে অপরিচিত লোকের কোলে উঠা ঠিক নাহ সোনা বাবু...থুক্কু, হ্যান্ডসাম বয়। পরির কাছে আসো সোনা। "

" পরি, ইউ আর রং। ইনি অপরিচিত নাহ। ইনি আমার কিয়ান চাচ্চু। "

সোহানের কথায় নীলার মাথায় যেন বাজ পরে। সে হতভম্ভ হয়ে যায়। কিয়ান তার চাচ্চু!

" চ-চাচ্চু মানে? কি যা-তা বলছো। এই ব্যাডা তোমার চাচ্চু হতে যাবে কেন? তোমার চাচ্চু তো পেট মোটা, বুড়ি ওয়ালা বুড়ো লোক। "

সোহান অবাক হয়ে চাচ্চুর কোলে থেকেই নিজের শরীর পেছনে বাকিয়ে কিয়ানের পেটের দিকে তাকায়। কিয়ানের পেটে তার ছোট্ট হাত রেখে তারপর সরল গলায় বলে,

" কিন্তু আমার চাচ্চুর পেট তো একদম ফ্ল্যাট। তুমিও দেখো পরি। "

নীলাও সোহানের কথায় কিয়ানের দিকে তাকায়। কিয়ানের পড়নে তখন একটা পাতলা টি-শার্ট পড়া ছিলো। সোহানকে কোলে নেওয়ায় টি-শার্ট গায়ের সাথে চেপে গিয়ে তার পেটের অ্যাবস গুলো স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। নীলা সেদিকে নির্লজ্জের মতো তাকিয়ে থাকে। কিয়ান তার দৃষ্টি লক্ষ্য করে একটু গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,

" এক্সকিউস মি, হোয়ার আর ইউ লুকিং এট মিস? "

নীলা মুখ ঘুড়িয়ে নেয় লজ্জায়। নিজেও গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,

" আমি কিছু দেখি নি। আব... মানে..."

সোহানের এসবের দিকে কোন খেয়াল নেই। সে এরই মাঝে কিয়ানের গালে ধরে ফিসফিস করে বলে উঠে,

" চাচ্চু, আমি পি করবো। "

কিয়ান ফোঁস করে শ্বাস ফেলে বলে,

" আমার কাছে এসে বলছিস কেন? তোর পরির কাছে গিয়ে বল। "

" উহু...লজ্জা করে আমার। তাড়াতাড়ি কিছু করে। নয়তো এখানেই করে দিবো। "

" আরেহ ব্যাটা, তুই তো আমায় জ্বালিয়ে মারবি। "

নীলা একটু অপ্রস্তুত হয়ে হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। কিয়ান সোহানকে নিয়ে একটু খালি জায়গায় নিয়ে আড়াল করে দাঁড়ায়। কিছুটা রাগ দেখিয়ে বলে,

" এর পর থেকে বাসা থেকে সব সেরে না আসলে তোর মাম্মামকে বলবো যাতে বের হতে না দেয়। খারাপ ব্যাটা, রাস্তায় আসলে তার যত কাজ এসে পরে। "

সোনা নিজের কাজ সেরে উঠে বলে,

" চাচ্চু, চেইন লাগিয়ে দাও। তাড়াতাড়ি, নয়তো পরি এসে যাবে। "

" দেখুক তোর পরি। তাহলেই তোর শিক্ষা হবে। "

কিয়ান সোহানকে নিয়ে আবার নীলার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। নীলা তখন মাটিতে পরে থাকা তার ফুচকার প্লেটের দিকে অসহায় ভঙিতে তাকিয়ে আছে। এবার কিয়ান আসতেই সে রাগত স্বরে বলে উঠে,

" হেই মি. সোহানের চাচ্চু। আমার ফুচকার হিসেব দেন। ফেলেছেন কেন আমার ফুচকা? "

" লিসেন মিস. ইট ওয়াজ যাস্ট এন এক্সিডেন্ট। "

" রাখেন আপনার এক্সিডেন্ট আপনার কাছে। আনার ফুচকাআআ....."

নীলা নাকি কান্না শুরু করে। সোহান তা দেখে কিয়ানকে বলে,

" ও চাচ্চু, পরি কান্না করছে। পরিকে ফুচকা কিনে দাও নাহ। "

" তোমার পরিকে বলো আগে এসব নেকু কান্না থামাতে। "

" ও পরি, তুমি কান্না করো নাহ। চাচ্চু তোমায় কিনে দিবে বলেছে। "

" আগে বলো কিনে দিতে। নয়তো আমি কান্না থামাবো নাহ। "

এত্ত বড় মেয়ে রাস্তার এসব বাচ্চামো শুরু করেছে। বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি সামলাতে কিয়ানকে ফুচকা কিনে দিতেই হয়। সেখানে একটা চেয়ারে কিয়ান বসে ছিলো। সামনে বেঞ্চে নীলা আর সোহান বসে একের পর এক ফুচকা গিলছে। নীলা একটা ফুচকা মুখে নিয়ে বলে,

" বুঝলে হ্যান্ডসাম বয়। তোমার চাচ্চু একটা খাটাশ। পেট মোটা, বুড়িওয়ালা না হলেও আস্ত খাটাশ একটা লোক। আমি আবারও বলছি, তোমার চাচ্চুকে আমি বিয়ে করবো নাহ, না, না। "

" আমি তাহলে তোমার সাথে থাকবো কিভাবে পরি? "

" একেবারে চলে আসো তবে আমাদের বাড়ি। "

" মাম্মা আমার জন্য কাঁনবে। "

" তাহলে থাকো গিয়ে তোমার মাম্মার সাথে। আমার সাথে থাকার কথা ভুলে যাও। খাটাশ লোকের পঁচা ভাতিজা তুমি। পঁচা সোহান। "

সোহান খাওয়া ফেলে ঠোঁট উল্টে দেয়। তা দেখে নীলা হকচকিয়ে গিয়ে দ্রুত সোহানকে আগলে নেয়।

" নাহ নাহ, তুমি তো ভালো। অন্নেক ভালো ছেলে। তোমার চাচ্চুর মতো মোটেও খাটাশ নাহ। "

সোহান ফোঁপানো বন্ধ করে নীলার বুকের সাথে মিশে থাকে। নীলা মেকী হাসি দিয়ে কিয়ানের দিকে তাকায়। কিয়ান তখন বুকে হাত বেঁধে এক দৃষ্টিতে তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে।

তার দৃষ্টি লক্ষ্য করে নীলা একটু ভয় পেয়ে যায়। সে ভাবে সোহানের ফোঁপানোর জন্যই হয়তো কিয়ান রেগে গেছে।

তাই সে আমতা আমতা করে বলে,

" আসলে...আমি সোহানকে.. কাঁদাতে চাই নি। "

" তুমিই রফিকুল আঙ্কেলের মেয়ে? "

কিয়ানের গুরুগম্ভীর প্রশ্ন শুনে নীলা ঘাবড়ে গিয়ে উত্তর করে,

" হু। তো? "

" বড্ড বেয়াদব মেয়ে তো তুমি। কার সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় শিখো নি? "

" নাহ, শিখি নি। তো? "

কিয়ান প্রচন্ড রেগে যায়। এই মেয়ের সাথে কথা বললে নিজেরই মানসম্মানে লাগে। তাই সে হুট করে উঠে এসে সোহানকে এক টানে নীলার থেকে নিয়ে নিজের কোলে তুলে নেয়। এভাবে টেনে তুলায় সোহানও হতভম্ব হয়ে গেছে। নীলা তেড়ে গিয়ে বলে,

" এভাবে টেনে তুললেন কেন? ও ব্যথা পেলে কি করতেন? "

" আমার ভাতিজা, আমি বুঝবো। তোমাকে মাথা ঘামাতে বলি নি। "

সে সোহানকে নিয়ে সোজা নিজের সাথে আনা গাড়ির দিকে আগায়। নীলা প্লেটে থাকা শেষ ফুচকাটা মুখে নিয়ে বলে,

" এই সোহানের খাটাশ চাচ্চু, বিলটা তো দিয়ে যান। "

কিয়ান শুনেও না শোনার ভান করে চলে যায়। নীলা মুখ ফুলিয়ে সেখানেই বসে পরে। বিল দিতে গিয়ে খেয়াল করে তার পার্সটা সাথে নেই। সে লাফিয়ে উঠে চারপাশে নিজের পার্সটা খুঁজতে থাকে। সে দ্রুত ফুচকামামার কাছে গিয়ে বলে,

" মামা, আমার পার্সটা দেখেছেন? সাথে নিয়েই তো বসেছিলাম। "

" আপনার ব্যাগ আমি কেমনে দেখুম আপা? দেহেন কই ফালাইছেন। দেইখা রাখা উচিত আছিন৷ এমনেই চারপাশে চোর-বাটপারের সীমা নাই। "

এবার নীলা মাথায় হাত দিয়ে বসে। পার্সের ভেতর তার ফোনটাও ছিলো। ফোনটাও হারিয়ে সে অসহায় হয়ে পরে। না পারছে এখান থেকে যেতে, আর না পারছে বাবাকে ফোন করতে। উভয় সংকট দেখে নীলা সেখানেই বসে থাকে। তার মন খারাপের সাথে পাল্লা দিয়ে আকাশও কালো হতে শুরু করেছে। ঘুম থেকে উঠে সোহানের আবদারে নীলা তাকে নিয়ে ফুচকা খেতে এসেছিলো। বাচ্চা ছেলেকে সাথে আনায় নিজের স্কুটি নেয় নি। বরং রিকশা করে এসেছিলো। এখন সবদিকে বিপদে পরে তার মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে।

তার মাঝে আকাশও মেঘলা হতে শুরু করেছে। বাতাসের ঝাপটায় তার খোলা চুল বাতাসের সাথে পাল্লা দিয়ে উড়ছে। পড়নে তার একটা লং স্কার্ট আর হাটু পর্যন্ত একটা কামিজ পড়া। গলায় ঝুলানো ওরনাও বাতাসে উড়ছে। নীলা মন খারাপ করে বসে থাকে।

নীলাকে একাকী বসে থাকতে দেখে ফুচকা মামা বলে,

" ও আপা, বিলডা দিয়া যান। দোকান বন্ধ করে দিমু এহনই। "

নীলা সংকোচ নিয়ে বলে,

" আসলে মামা, আমার পার্সটা হারিয়ে গিয়েছে। আমি তে এখন বাসায় ফেরার মতোও উপায় পাচ্ছি নাহ। "

ফুচকা মামার চোখে মুখে চরম অসন্তোষ। নীলা তিন প্লেট ফুচকা নিয়েছে। একটারও বিল শোধ না করে এখন পার্স হারানের কথা বলায় তার বিরক্তি লাগছে।

" এই যে আঙ্কেল, নাও তোমার টাকা। পরির হয়ে আমি দিয়ে দিচ্ছি। "

সোহানের কন্ঠ শুনে নীলা তাড়িঘড়ি করে তার কাছে গিয়ে বলে,

" সোহান বাবু, তুমি এখনও যাও নি? "

" নাহ তো। তোমাকে মন খারাপ করে বসে থাকতে দেখে চাচ্চু এই টাকাগুলো দিয়ে পাঠালো। "

নীলা পাশে তাকিয়ে অদূরে দন্ডায়মান কিয়ানকে দেখতে পায়। সে ট্রাউজারের পকেটে হাত রেখে গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নীলা হালকা মুখ ভেঙচি দেয়। তবে আপাতত সে অসহায় বলে আপত্তি করে নাহ। বিল পরিশোধ করে সে সোহানকে নিয়ে গাড়ির কাছে যায়।

" বাই সোহান বাবু। ভালো থেকো তুমি। মাঝে মাঝেই আমাদের বাসায় এসো। "

সোহান মাথা নেড়ে গাড়িতে উঠে বসে। নীলা পাশ কাটিয়ে যেতে নিলে কিয়ান বলে,

" গাড়িতে উঠো। "

" হু? "

" গাড়িতে উঠতে বলেছি। "

" কেন? "

কিয়ান বিরক্ত হয়ে বলে,

" আর ইউ আ ফুল? আকাশের অবস্হা ভালো নাহ। আর আমি ততটাও অমানবিক নই। গাড়িতে উঠো, বাড়ি পৌছে দিচ্ছি। "

নীলা জেদ দেখিয়ে না করতেই যায়। তবে তখনই আকাশ ফেটে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে। ফলে নীলা লাফিয়ে গাড়িতে উঠে বসে। তার আর জেদ দেখিয়ে না করা হয় নাহ। এমন প্রতিকুল পরিস্হিতিতে তার সবচেয় অপছন্দের মানুষের থেকেই তার সাহায্য নিতে হলো। এর থেকে দুঃখের বিষয় আর কিছুই নেই।

চলবে.......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন