ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমাকে ভাবিনি কখনও

৫ম পর্ব

লেখক: মায়িশা নুরাইন

#তোমাকে_ভাবিনি_কখনও

#পর্ব_৫

#মায়িশা_নুরাইন

" নাবু দোস্ত, তোর কথাই ঠিক রে। এই খাটাশ কিয়ানই সেই পেট মোটা কিয়ান। "

" কিহ! সিরিয়াসলি? "

" হু। "

" ও মাই গড। আমি এমন কিছুই ভাবছিলাম। তবে আমার ভাবনা যে এভাবে মিলে যাবে কখনো ভাবি নি। "

" তোর এসব আজেবাজে ভাবনাই সবসময় মিলে যায়। তুই আর কখনো কিছুই ভাববি নাহ। "

" অপবাদ দেস কেন? "

" তুই অপবাদ ভাবছিস কেন? "

" ধ্যাত! তোর সাথে কথা বলাই মুশকিলের। "

" তো বলিস নাহ কথা। ব্রেকআপ তোর সাথে। "

" আমারও। "

তাদের কথার মাঝে ক্লাসে কিয়ান ক্লাস নিতে প্রবেশ করে। নীলার এমনিই মেজাজ খারাপ ছিলো। তার মাঝে কিয়ান বলে উঠে,

" মিস নীলা, নেক্সট প্রেজেন্টেশন আপনি দিবেন। "

" স্যার, আমি? "

" ওয়েল, এখন পর্যন্ত ক্লাসে আমি একজন নীলাকেই পেয়েছি। "

নীলা সবার অলক্ষ্যে মুখ ভেঙচি দেয়। কিয়ান সেটা লক্ষ্য করে বলে,

" বাকী ক্লাসটা দাঁড়িয়ে থাকবেন মিস। "

" কিহ! আমি কি করেছি? শাস্তি দিছেন কেন? "

" আপনি কি করেছেন সেটা আপনি ভালোই জানেন। অযথা কথা বাড়িয়ে ক্লাসের সময় নষ্ট করবেন নাহ। "

নীলা মুখ গোমড়া করে দাঁড়িয়ে থাকে। নাবিহা পাশে বসে মুখ টিপে হাসছিলো। তবে অবাক করা বিষয়, আজকে নীলা কোন ঝামেলা করে নি। কোন তর্কও করেন নি। কিয়ানের দেওয়া শাস্তি সে মাথা পেতে নেয়। বিষয়টাতে কিয়ান নিজেও একটু অবাক হয়েছিলো বটে।

কিয়ানের ক্লাস শেষ হলে নীলা কোমড় ব্যাথায় সেখানেই বসে পরে। নাবিহাকে সে ক্যান্টিনে পাঠায় নাস্তা কিনে আনার জন্য। ক্লাসের মেয়েরা তখন দলে দলে বাহিরে চলে গিয়েছে। তাদের পরবর্তী একটা ক্লাস নেই। তারপর ল্যাব আছে। নয়তো ক্লাস না থাকায় সে বাসায় চলে যেতো। ল্যাব ক্লাসের জন্যই আটকে পরলো। নাবিহা চলে যেতেই নীলা একা হয়ে পরে। সে ফোন বের করে বসে বসে ভিডিও দেখছিলো। হটাৎই তার টেবিলে কিছু পরতেই সে চমকে তাকায়। একটি ছেলে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। হাতে একটা গোলাপ আর ছোট্ট কাগজের মত কিছু আছে। ছেলেটাকে সে চিনে নাহ। তবে চোখে চশমা পড়ায় ছেলেটাকে বেশ ভোলাভালা লাগছে।

" এক্সকিউজ মি, কি সমস্যা? "

ছেলেটি ঘাবড়ে গিয়ে বলে,

" আ-আমি আপনার কাছে আসি নি। আমাকে ভুল বুঝবেন নাহ। "

" হাতে ফুল, কাগজ নিয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে থেকে বলছেন আমার কাছে আসেন নি। তো কার কাছে এসেছেন?"

" আ..আপনার সাথে ছিলো যে, ঘাড়ের একটু নীচ পর্যন্ত ছোট্ট চুল। ওই মেয়েটা কোথায়? "

" নাবিহা? "

ছেলেটা কিছুক্ষণ ভাবুক হয়ে বলে,

" নাবিহা? হয়তো। "

" আজব তো! কার কাছে এসেছেন সঠিকভাবে বলতেই পারছেন নাহ। যান তো, ঝামেলা করবেন নাহ। আমার এসব আজাইরা কাহিনী পছন্দ নাহ। "

ছেলেটা একবার অস্হির হয়ে বলে,

" আমি ওনাকে সেদিন লাইব্রেরিতে দেখেছিলাম। সাইকোলজির বই খুঁজছিলো। আমি নিজে ওকে উপরের তাক থেকে নামিয়ে দিয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম ও হয়তো সাইকোলজি ডিপার্টমেন্টে পড়ে। আপনি বিশ্বাস করুন, আমি ওনাকে সাইকোলজি ডিপার্টমেন্টের সব জায়গায় খুঁজেছি। কোথাও পাই নি। "

নীলা মনোযোগ দিয়ে ছেলেটার কথা শুনছিলো। এবার সে দু হাত একত্র করে থুতনির নিচে রেখে বলে,

" তারপর পেলেন কিভাবে? "

" আজকে সকালে আপনাদের একসাথে দেখলাম এই ডিপার্টমেন্টের দিকে আসতে। তখনই দেখে জানতে পেরেছি। আপনি ওর পিঠে তখন জোড়ে থাপ্পড় মেরেছিলেন। "

" আচ্ছা! তারপর কি হয়েছিলো? "

" তারপর কিছুক্ষণ আপনারা দুজন বাচ্চাদের মতো ছুটছিলেন। "

নীলা এবার টেবিলে থাপ্পড় মেরে উঠে দাঁড়িয়ে বলে,

" ব্যস। আপনার তো সাহস কম নাহ। আমাদের পেছনে পেছনে ফলো করছিলেন? আমরা যেখানে খালি করিডোর পেয়ে দুজন মস্তি করছিলাম, সেখানে আপনি আমাদের লুকিয়ে দেখে নিলেন। "

" আমি আপনাকে দেখি নি। শুধু নাবিহাকে দেখেছি। "

" ওকে কেন দেখবেন? আপনি জানেন, আমি অনুমতি না দিলে আপনি এক সেকেন্ডই রিজেক্ট হয়ে যেতে পারেন। "

নীলার এই বান্ধবীকে নিয়ে অহংকার করাটা বোধহয় ছেলেটার পছন্দ হলো নাহ। সে এবার কন্ঠে রাগ মিশিয়ে বলে,

" কেন? ভালোবেসেছি আমি নাবিহাকে। ভবিষ্যতে সেও আমাকে ভালোবাসবে। আপনি মাঝে বাধা দেওয়ার কে? "

" ওরে ব্যাটা, আমার সামনে গলাবাজি? তাও আবার আমার বান্ধবীকে নিয়ে? আর এটা কি? "

ছেলেটির হাত থেকে গোলাপটি টেনে নিয়ে বলে,

" একটা গোলাপ দিয়ে প্রপোজ করতে এসেছেন? ছ্যাহ! প্রপোজ করতে এসেও কিপটেমি। আপনি রিজেক্টেড। আমার বান্ধবীর জন্য আপনাকে সিলেক্ট করা হলো নাহ। বিদেয় হন এখন। "

" ভালোবাসা প্রকাশ করতে এসব গোলাপ-টোলাপের কি দরকার? আমি তো এই একটাও আনতে চাই নি। "

" আপনি তো কিপটের উপর কিপটে প্রমাণিত হলেন। আপনি আবারও রিজেক্টেড। "

" আপনি কেন বারবার আমায় রিজেক্ট করছেন? আপনাকে কি আমি প্রপোজ করেছি? আপনার থেকে আমার নাবিহা শতগুনে ভালো। "

" আমার নাবিহা! তবে রে..."

নীলা আশেপাশে তাকিয়ে নাবিহার স্কেলটা পেয়ে ছেলেটার দিকে তেড়ে আসতোই ছেলেটি দৌড় লাগায়। নীলাও তো ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নয়। সেও পেছনে ছুটতে থাকে। মুখে বিরবির করতে থাকে,

" আমার বান্ধবীকে প্রপোজ করতে এসে আমার সাথে ঝগড়া করছে। আমি তো তোকে দুলাভাই হিসেবে একশতবার রিজেক্ট করবো। শালা কিপটে কোথাকার। "

ছেলেটি দৌড়াতে দৌড়াতে বলে উঠে,

" নেক্সট বার, আমি শুভ্র চৌধুরি সরাসরি আপনার বান্ধবীর সামনে হাজির হবো। তবুও ভুলেও আপনার সামনে আর পরবো নাহ। "

নীলা দৌড়াতে গিয়ে হটাৎ কারও সাথে ধাক্কা খায়৷ টনটনে ব্যথাযুক্ত নাকে হাত রেখে রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখে সামনে কিয়ান দাড়িয়ে আছে। কিয়ান বিরক্তি নিয়ে বলে,

" সমস্যা কি তোমার? বাচ্চা বসে আছো তুমি? এভাবে দৌড়াচ্ছো কেন? ছেলেটি কে ছিলো। "

" প্রেমিক। "

" কিহ! "

" হু। দেখেন নি, হাতে ফুল আর প্রেমপত্র ছিলো৷ তবে আমার স্ট্যান্ডার্ডে মিলে নি। তাই তাড়িয়ে দিয়েছি। "

" তোমার স্ট্যান্ডার্ডে কেমন ছেলে আছে শুনি? "

" কেন? পাত্র খুঁজে দিবেন? দেখুন, এমনি বাবার জ্বালায় বাঁচছি নাহ। আপনি আর পেছনে লাগবেন নাহ। "

" বেয়াদবের মতো কথা বলছো কেন? আমি তোমার শিক্ষক হই, ভুলে গেছো? "

" তা কেন ধরনের শিক্ষক একজন ছাত্রীর প্রেমিকের স্ট্যান্ডার্ড জানতে আসে শুনি? আপনি যেভাবে প্রশ্ন করেছেন, আমিও সেভাবেই উত্তর করেছি। "

কিয়ান কিছু বলতে যায়, তখনই তার ফোন বেজে উঠে। নীলার দিকে একবার তাকিয়ে সে ফোন রিসিভ করে। নীলা চলে না গিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে তাদের কথা শুনতে থাকে।

" হুম কিয়ারা, বাড়ি চলে এসেছো তুমি? আচ্ছা, আমি বাড়ি ফিরছি শীঘ্রই। অপেক্ষা করো। "

কথা শেষ করতেই দেখে নীলা কৌতুহল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কিয়ানের কথা শেষ হতে দেখে নীলা বলে,

" ফোনে কে ছিলো?

" তোমাকে কেন বলবো? "

" তার মানে আমি ঠিক ধরেছিলাম। আপনি শুধু বুড়োই নয়। বিয়াইত্তা বুড়ো একটা। বউ ফোন করেছিলো নাহ? বউ থাকতে আবার পাত্রী দেখতে যেতো লজ্জা করে নাহ? "

" হুয়াট দ্যা হেল! কুড ইউ সাট ইউর মাউথ প্লিজ? "

" নো। "

কিয়ান বিরক্তি নিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। সে যেতেই নীলা আবারও মুখ ভেঙচি মেরে বলে,

" দেখতে সুন্দর হলে কি! মনটা তো কুৎসিত। বাড়িতে বউ রেখে আবার মেয়ে দেখতে চলে এসেছিলো। লিচু ব্যাডা একটা। "

নাবিহা করিডোরে পৌছে নীলাকে একাকী বিরবির করতে দেখে তাকে ঠেলে বলে,

" কি রে নীলু, এখানে দাঁড়িয়ে কিসব বিরবির করছিস? "

" তোর আশিকের কথা ভাবছি। "

" আমার আবার আশিক আসলো কোথা থেকে? "

" সম্ভবত লাইব্রেরি থেকে। আমার আড়ালে আশিক খুঁজে খুঁজে বেড়াও। আর আমার সামনে সাধু সাজো? ভন্ড মেয়ে কোথাকার। "

" কিসব পাগলের মতো কথা বলছিস? "

নীলা এবার সরাসরি বলে,

"তোকে একটা ছেলে খুঁজতে এসেছিলো। চশমা পরা চারচোখা ছেলে। হাতে একটা গোলাপ আর ছোট্ট একটা প্রেমপত্র নিয়ে এসে তোর খুঁজ করছিলো। আমি ভাগিয়ে দিয়েছি। "

নাবিহা মিটিমিটি হেসে বলে,

" কেন ভাগিয়ে দিলি? তোর হিংসে হচ্ছিলো বুঝি? "

নীলাও পাল্টা বলে,

" তোর আফসোস হচ্ছে বুঝি? "

" অবশ্যই। জীবনে প্রথমবার প্রপোজাল পেতে যাচ্ছিলাম। তোর জন্য পেয়েও পেলাম নাহ। "

" ছেলেটা নিশ্চিত আবার আসবে। এবার আসলে সোজা তোর কাছে আসবে বলে গিয়েছে। "

নাবিহা হাসতে হাসতে সেদিনের লাইব্রেরির কাহিনীটা জানায়৷ সবটা শুনে নীলা বলে,

" কিন্তু হিসেব তো মিললো নাহ। ছেলেটাকে মোটেও ফ্রেশার্স মনে হলো নাহ আমার কাছে। "

" কি জানি ভাই। তবুও তো তুই স্কেল নিয়ে তাকে দৌড়ানি দিলি। তবে আমি তো জুনিয়র ভেবেই সেদিন কত কি শুনিয়ে দিয়েছিলাম। এখন যদি শুনি আমাদের সিনিয়র, তখন কি হবে? "

" কচু হবে। এই নীলা থাকতে নো টেনশন বেইব৷ সকল বিপদকে তোর থেকে দূর সরিয়ে দিবো আমি। "

" আই নো। বাই দ্যা ওয়ে, আমি আসার সময় দেখলাম কিয়ান স্যারকে যেতে। দেখা হয়েছে নাকি? "

" হু। "

" কি বললো? "

" কি বলবে? লেকচার দিলো আমায়। পেয়েছে আমাকে শুধু লেকচার দিতে। "

নাবিহা মুচকি হেসে বলে,

" বিয়েটা হলে লেকচার না দিয়ে উঠতে বসতে ভালোবাসা দিতো। হ্যান্ডসাম জামাই পেতি তুই। ডায়মন্ড ফেলে তুই এখন কোন কয়লার খুঁজে বসে আছিস কে জানে। "

" ডায়মন্ড বলিস! ভুল তুই। ওনার বউ আছে। ফোনে বলছিলো বাসায় অপেক্ষা করতে। "

" তুই নিশ্চিত সেটা ওনার বউ? "

" থাউজ্যান্ড পার্সেন্ট। কি সুন্দর তুমি করে কি নরম স্বরে কথা বললো। বউ না হলে এভাবে বলতো নাকি! "

চলবে....

( আর লেখা সম্ভব হলো নাহ। হটাৎই মাথা ব্যথা শুরু হলো। সবাই রেসপন্স করবেন। কালকেও ইনশাআল্লাহ গল্প আসবে।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন