#তোমাকে_ভাবিনি_কখনও
#পর্ব_৬
#মায়িশা_নুরাইন
" ওগো বধু সুন্দরী, বউ সাজতে আর কত দেরী? "
" মেলা দেরী গো মনা। বধুর বরের যে কোন খবর নেই। "
" বধূর বর যে তার জন্য অপেক্ষায় ছিলো। বধুই তো তাড়িয়ে দিলো। "
" সেই বর যে ভালো ছিলো নাহ। বধুরই বা দোষ কি! "
রাস্তায় চলতে চলতে পাশ দিয়ে একটা গাড়ি যাওয়ার সময় ভেতর থেকে "ওগো বধূ সুন্দরী" গানটা চলছিলো। নাবিহা তা শুনে নীলাকে টিজ করছিলো। আর নীলাও নাবিহার সাথে তাল মিলিয়ে উত্তর করছিলো। তারা আলাপে মশগুল থাকায় হটাৎ স্কুটির সামনে ছোট্ট কিছু এসে পড়ায় নীলা দ্রুত ব্রেক কষে। নাবিহা চমকে উঠে বলে,
" কিরে, এভাবে ব্রেক কষে কেউ? এখনই তো আত্মাটাকে উপরে পাঠিয়ে দিচ্ছিলি। "
" সর সর, নাম গাড়ি থেকে। আমার গাড়ির নিচে কিছু একটা পরলো বোধহয়। "
নাবিহা নামতেই নীলা দ্রুত নেমে আসে। স্কুটির সামনে গিয়ে
চাকার দিকে তাকাতেই তার চোখ চকচক করে উঠে। একটা বাচ্চা বিড়াল তার স্কুটির নিচে পরতেই যাচ্ছিলো। সময়মতো ব্রেক কষায় বেঁচে গেছে। বিড়ালের বাচ্চাটি "মিয়াও" করে উঠতেই নীলা খুশিতে গদগদ হয়ে বিড়ালটিকে কোলে তুলে নেয়।
" ও মা, কি কিউট বাচ্চাটা। "
" একটুর জন্যই উপরে যেতে বসছিলো। ভাগ্যিস সময়মতো ব্রেক কষেছিলাম। "
" কি করবি এখন বাচ্চাটিকে নিয়ে? "
" চল দেখি, আশেপাশে মা বিড়াল আছে কি নাহ? "
" ভাই, সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে। এমনিই ল্যাবক্লাসে দেরী হলো। পরে রাস্তা খালি থাকলে সমস্যা হবে। "
" আমি আছি তো। দেখ নাহ আশেপাশে। "
দুজনে মিলে আশেপাশে একটু ঢু দিতে থাকে। নাবিহা খুঁজতে খুজতে একটা ঝোপের ধারে আসতেই কিছু একটা তার পাশে লাগে। সে ভয়ে চিৎকার করতে করতে লাফাতে থাকে। নীলা দৌড়ে আসে সেদিকে। নাবিহা নীলাকে খামচে ধরে বলে,
" ও আল্লাহ, কি ছিলে সেটা! সাপ নয় তো? আমি মরে যাবো।আমাকে হাসপাতালে নে নীলু। "
নীলা উপুর হয়ে সেদিকে তাকালে ঝোপের ভেতর থেকে আরেকটা বিড়ালের বাচ্চা বেড়িয়ে আসে। করুণ সুরে ডেকে উঠে, " মিয়াও।"
" ওরে বোকা মানবী, তাকিয়ে দেখ। এটা আরেকটা বিড়ালের
বাচ্চা। "
" এই, এটাকে আমি নিবো। সর সর। "
নীলাকে সরিয়ে দিয়ে নাবিহা বিড়ালটিকে তুলে নেয়। সন্ধ্যার টিমটিমে আলোয় দুই রমনী ঝোপের ধারে দাঁড়িয়ে কিছু নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। হটাৎ পেছন থেকে একটা কন্ঠ ভেসে আসে।
" কি গো সুন্দরীরা, ঝোপের ধারে কি করছো? সঙ্গী এখনও আসে নি বুঝি? "
" আমরা থাকতে সঙ্গীকে কি দরকার? আমরা আছি তো! "
মীলা, নাবিহা পেছনে তাকাতেই দেখে চার-পাঁচটি ছেলে সেখানে এসে দাঁড়িয়েছে। নাবিহা হটাৎই কেমন প্যানিক করতে থাকে। সে দ্রুত নিজেকে নীলার পেছনে লুকিয়ে নেয়। নাবিহার ভীত চেহারা দেখে নীলা তাকে আগলে নেয়। সামনে ছেলেগুলোর দিকে তাকিয়ে কঠোর কন্ঠে বলে,
" কি চাই? সমস্যা কি আপনাদের? "
" চাই তো তোমাদের। সমস্যা নেই, আমরা এক রাতের জন্য টাকা দিতেও রাজি আছি। বল, কত চাই? "
নীলা কথাটি শুনেই প্রচন্ড রেগে যায়। সে নিজের বিড়ালটিকে নাবিহার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে দ্রুত পায়ে ছেলেগুলোর দিকে এগিয়ে যায়। যে ছেলেটি তাদের কটু কথা বলেছিলো, গিয়েই তাকে সজোড়ে থাপ্পড় দিয়ে বলে,
" বাড়িতে বোন আছে তোদের কারও? বোনকে গিয়ে বলিস এসব কথা। জানোয়ার কোথাকার। "
ছেলেটি রেগে গিয়ে হাত উঠিয়ে নীলার চুল ধরতে নিলে নীলা তার হাত আটকে ধরে পরপর কয়েকটা থাপ্পড় মেরে বসে। বাকী ছেলেগুলো তো হতভম্ব হয়ে যায়। মুহুর্তের মাঝেই পরপর থাপ্পরে তারা কিছুই বুঝে উঠতে পারে নাহ।
এদিকে নাবিহা তার কাধের ব্যাগটাকে সামনে এনে তাতে বিড়ালের বাচ্চাদুটোকে আলতো করে রেখে দেয়। কারণ সে জানে নীলার এর পরের ধাপ কি হতে পারে। নীলার সহযোগিতায় নাবিহা নিজেও স্কুটি চালানো শিখেছিলো। সে দ্রুত পায়ে গিয়ে স্কুটিতে উঠে স্কুটি স্টার্ট দেয়। অন্যদিকে নীলার সেই ছেলেটিকে পরপর কয়েকটা থাপ্পড় মেরে এখন হাত ব্যথা করছে। তখনই খেয়াল করে নাবিহা স্কুটি স্টার্ট করে নিয়েছে। সে তাকাতেই নাবিহা মুচকি হেসে ইশারা করে। নীলা ইশারা বুঝে সামনের ছেলেটির নিচে একটা সজোরে লাথি মেরে বলে,
" হোপ, তোদের এটা চিরদিনের মতো নিস্তেজ হয়ে পরুক। শালা জানোয়ার কতগুলো। "
ছেলেগুলো এবার গর্জে উঠে। অপর একটি ছেলে তেড়ে আসতে নিলে নীলা তাকেও একটা থাপ্পড় মারতে যায়। তবে এবার তার ভাগ্য প্রসন্ন হয় নাহ। ছেলেটি তার হাত ধরে ফেলে বিধায় নীলা আটকা পরে। এই সুযোগে অপর ছেলেটি তাকে ধরতে আসলে নীলা কায়দা করে তার হাত ছাড়িয়ে নেয়।
নীলাকে ছোটবেলাতেই তার বাবা কিছু সেল্ফ ডিফেন্স শিখিয়েছিলো। আজ পর্যন্ত সেসব তার মনে আছে। সেসব কিছু টেকনিক খাটিয়ে সে নিজেক ছাড়িয়ে নেয় ঠিকই। তবে এতগুলো ছেলের সাথে তার একা পেরে উঠা সম্ভব হবে নাহ। নাবিহাও তখন বিষয়টা বুঝে স্কুটিটি নিয়ে সজোড়ে ছেলেগুলোর দিকে এগিয়ে আসে।
" এই, এই মেয়ে, মেরে দিবে তো আমাদের। "
নাবিহা সজোড়ে এসে ছেলেগুলোর সামনে গাড়ি থামায়। সাথে সাথেই নীলা গাড়িতে উঠে বসে।
" এইই, পালালো মেয়েটা। ধর ওদের। আমাদের মারার শাস্তি দিতেই হবে। "
নীলা গাড়িতে উঠে বসতেই নাবিহা পুনরায় স্কুটি স্টার্ট করে এগিয়ে চলে। কিছুদূর যেতেই তারা হাফ ছেড়ে বাঁচে।
" ভালোই করলি নাবু। থা'পড়াতে থা'পড়াতে হাত ব্যথা করে ফেলেছি। এই হাতে স্কুটি কন্ট্রোল করা সম্ভব হতো নাহ। "
" কি শিখলি এতোদিন? কয়েকটা থাপ্পড় মেরেই পালালি? "
" তুই যে আরও ভীতু বলদী। পরে আমিও সহ দুজনেই আটকা পরতাম। এত সাহস দেখানেও ভালো হতো নাহ। ছেলে কতগুলো ছিলো দেখলি নাহ! "
" বুঝছি কত সাহসী তুমি। "
" এইই, আমাদের বিড়াল ছানা কোথায়? "
" আছে রে, ব্যাগে রাখছি। আর কোথায়ও জায়গা পাই নি।
হাতে রাখলে স্কুটি চালানো যেতো নাহ। "
" আরেহ, সামনে তাকিয়ে কথা বলতে পারিস নাহ। কি শিখালাম এতদিন? এমন আঁকাবাকা চালাচ্ছিস কেন? "
নাবিহা ভীত কন্ঠে বলে,
" কি জানি। নিয়ন্ত্রণ নিতে পারছি নাহ রে। "
" হায় আল্লাহ! বাঁচাও আমাদের। "
হটাৎই সামনে থেকে একটা গাড়ি আসতে দেখে নাবিহা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কুটি থামাতে গিয়ে উল্টো স্কুটি নিয়ে হেলতে দুলতে একসময় পরেই যায়। সামনের গাড়িটি থামতেই ভেতর থেকে একজন বেরিয়ে আসে।
" আর ইউ ওকে মিস? "
" ওহহ নো। হেল্প মি নাবু। হাতটা ঝলছে, ছি'লে গেছে হয়তো৷"
" আমিও তো ব্যাথা পাইছি নীলু। আমাকে বাঁচা। "
হটাৎ নীলা হাতে টান খেয়ে দাঁড়িয়ে পরে। সামনে দাঁড়ানো মানুষটিকে দেখে সে ভুত দেখার মতো চমকে উঠে৷
" আপনি? "
নাবিহাও দেখে সামনে কিয়ান দাঁড়িয়ে আছে। চোখে মুখে তার রাগ স্পষ্ট। সে নীলাকে রাগ দেখিয়ে বলে,
" আর ইউ ক্রেজি? ক্লাস শেষ হয়েছে কখন? এই সময়ে বাহিরে কি করছো তোমরা? "
নীলা উত্তর দিতেই যায়। তখনই তার কানে বিড়ালের শব্দ ভেসে আসে। সে কিয়ানের থেকে নিজের হত ছাড়িয়ে নিয়ে দৌড়ে গিয়ে ব্যাগ খুলে। তাদের সাথে সাথে ব্যাগে থাকা বিড়াল দুটোও একটু ব্যাথা পেয়েছে।
" নাবিহার বাচ্চা, তুই এই গলু, মনুকে ব্যাথা দিলি। তোকে আমি ছাড়বো নাহ। "
" নীলার বাচ্চা, তোর জন্যই স্কুটি আমাকে চালাতে হলো। কে বলেছিলো গুন্ডাদের সামনে হিরোইনগিরি করতে? "
" চুপ! একদম চুপ! বেয়াদব হচ্ছো দিন দিন। আমি একটা প্রশ্ন করেছিলাম, উত্তর না দিয়ে এখানে ঝগড়া লাগিয়েছো দুজনে। "
কিয়ানের ধমকে দুজনেই চমকে যায়। নীলা আবারও কিছু বলতে নিলে কিয়ান বলে,
" ফোন কোথায় তোমার? নিজের ফোন থাকতে আঙ্কেলকে কেন আমার সাথে যোগাযোগ করতে হবে? আমাকে তোমার বডিগার্ড পেয়েছো? আমার কেন তোমাকে খোঁজার দায়িত্ব নিতে হবে? "
নীলা বুঝতে পারে তাকে ফোনে না পেয়ে তার বাবা কিয়ানের সাথেই যোগাযোগ করেছে। তার মানে বাবা আগে থেকেই জানে কিয়ান তারই ভার্সিটিতে জয়েন করেছে। নীলা একটু আমতা আমতা করে বলে,
" আমার কোন দোষ নেই। রাস্তায় একটু বিপদে পরেছিলাম বলেই দেরী হলো। "
নাবিহা সাহস নিয়ে কিয়ানকে সব বলে। ততক্ষণে তাদের গাড়ির অবস্হা বেহাল। সামনের লাইট ভেঙে গেছে। তাছাড়া দুজনেই ব্যাথা পেয়েছে। তাই কিয়ান বলে,
" দুজনেই আমার গাড়িতে উঠে বসো। "
নীলা নাকচ করে বলে,
" আমি আমার স্কুটি ছাড়া যাবো নাহ। "
" আমি স্কুটি ঠিক করিয়ে বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্হা করবো৷
গাড়িতে উঠো। "
নীলা খোঁড়াতে খোঁড়াতে এগিয়ে চলে। তার দুহাতে বিড়ালের বাচ্চা দুটো ধরা। নাবিহা আগে আগে গিয়ে গাড়িতে উঠে বসে৷ নীলাও পেছনে বসতে নিলে কিয়ান গম্ভীর স্বরে বলে,
" আমি কারও বডিগার্ড নই। "
নীলা কথাটার মিনিং বুঝতে পেরে বলে,
" সরাসরিই বলতে পারেন সামনে বসতে। এত ভঙি করার কি আছে? "
" আস্ত বেয়াদব মেয়ে তুমি। আঙ্কেলের থেকে ভালো কোন শিক্ষা পাও নি। "
" বাপ টেনে কথা বলেন কেন? "
" কারণ মানুষ ম্যানার্সটা বাপের বাড়ি থেকেই শিখে আসে। আর তুমি অতি আদরে বাদর হয়েছো। ম্যানার্স তো দূর, আমি যে তোমার শিক্ষক হই, সেটাও ভুলে গেছো। "
" আপনিও ভুলে যাচ্ছেন এটা আপনার ক্লাস নয়। ক্লাসের বাহিরে আমি আপনাকে স্যার হিসেবে চিনি নাহ। চিনি একজন প্রতারক, পেট মোটা বুড়ো লোক হিসেবে৷ "
নীলা খটখট করে এগিয়ে গিয়ে গাড়িতে উঠে বসে। কিয়ান দাঁড়িয়ে নিজের রাগ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছিলো। প্রথমদিন যখন তার পরিবার তাকে নিয়ে নীলাদের বাড়িতে গেলো, সেদিন কিয়ানের একদমই ইচ্ছা ছিলো নাহ। শুধু পরিবারের চাপে তাকে রাজি হতে হয়। তবে গিয়েই নীলার বেয়াদবী দেখে তার মন উঠে যায়। অন্তত তার বাবার সম্মান রক্ষার্থে সে বাহিরে আসতে পারতো। তা না করে উল্টো রুম আটকে বসে থাকে। তার পরিবার অনেকক্ষণ মেয়েকে দেখতে অপেক্ষা করছিলো। তবুও নীলা আসে নি।
তখনও সে জানতো নাহ কে এই বেয়াদব মেয়েটা। তবে সেদিন সোহানকে আনতে গিয়ে নীলাকে সাথে দেখে সে চমকে যায়। এই নীলাই তবে সেই বেয়াদব নীলা ছিলো! কিয়াবের নীলার প্রতি অন্যরকম বিরক্তি উঠে যায়। তার উপর একের পর এক নীলার নেগেটিভ দিকগুলোই তার সামনে পরছিলো। ক্লাসে অমনোযোগী হওয়া, তর্ক করা, বেয়াদবী করা, অন্য মেয়ের সাথে ঝামেলা বাধানো, আর সবশেষে আজকে নীলার জন্য তাকে ঝামেলায় পরা। সব মিলিয়ে নীলা এখন তার কাছে স্রেফ এক যন্ত্রণা ব্যতীত আর কিছুই নয়।
নীলা তখন গাড়ির জানালা দিয়ে মাথা বের করে বলে,
" এখন আপনার দেরী হচ্ছে নাহ? আমাদের গাড়িতে বসিয়ে নিজে দাঁড়িয়ে আছেন। "
কিয়ান বিরক্তি নিয়ে তাকাতেই নীলা মুখ ভেঙচি দিয়ে বসে থাকে। কিয়ান গাড়িতে বসে গাড়ি স্টার্ট করতেই গাড়ির শব্দে নীলার কোলের বিড়াল দুটো আতঙ্কে ডাকতে থাকে। বিড়ালের ডাক শুনে কিয়ান সেদিকে তাকিয়ে বলে,
" এসব কি এনেছো গাড়িতে। সরাও এটাকে। "
" কিসের শিক্ষক আপনি? বিড়ালকেও চিনেন নাহ। "
কিয়ান একটু দূরত্ব রেখে বলে,
" নীলা, সরাও এটাকে এখনই। "
কিয়ানের রাগ দেখে নীলা বিড়াল দুটোকে পেছনে নাবিহার দিকে বাড়িয়ে দেয়। তারপর সে মুখ গোমড়া করে চুপচাপ বসে থাকে। তাদের গাড়িটা একটা হাসপাতালের সামনে থামতেই নীলা বলে,
" এখানে থামালেন কেন? "
" দুজনেই নামো গাড়ি থেকে। "
তারা নামতেই কিয়ান তাদের নিয়ে ডাক্তার দেখাতে যায়। তখন স্কুটি থেকে পরে গিয়ে ওদের দুজনই হাতে চোট পেয়েছিলো। নাবিহা শুধু হাতে ব্যাথা পেলেও পেছনে বসা নীলা হাতে, পায়ে উভয় জায়গাতেই ব্যাথা পেয়েছিলো। গাড়িতে বসে সে নিজের হাঁটুর দিকটা খামচে ধরে রেখেছিলো। প্রচন্ড ব্যাথা করছিলো তার, তাও কিছুই বলছিলো নাহ। কিয়ান সেসব লক্ষ্য করেই তাদের নিয়ে ডাক্তারের কাছে এসেছে। নাবিহাকে ড্রেসিং করে ব্যান্ডেজ করে দিয়ে তারপর নীলার কাছে যায়। নীলার হাতে ব্যান্ডেজ করে দিলেও তার পায়ের হাঁটুতে ব্যাথা পাওয়ায় সে কিছুতেই পা উন্মুক্ত করতে চাচ্ছিলো নাহ। কিয়ান তার অস্বস্তি বুঝতে পেরে সে কিছু সময়ের জন্য বাহিরে চলে যায়। যাওয়ার আগে বলে যায় পায়ের তালুতেও সম্ভবত আঘাত আছে। সেখানেও ব্যান্ডেজ করে দিতে।
ভেতরে থাকা মহিলা ডাক্তারটি তার ড্রেসিং করিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছিলো। নীলা মারামারির সময় তার পায়ের তালুতে সম্ভবত কেন লোহাজাতীয় কিছুর আঘাত লেগেছিলো। তাই তাকে একটা ই'নজেকশন নিতে হবে। তবে নীল তা নিতে অনিচ্ছুক। তার নাছোড়বান্দা ভাব দেখে নাবিহা বলে,
" বাচ্চাদের মতো করছিস কেন? এই ই'নজেকশন না নিলে পরে ইন'ফেকশন হয়ে যেতে পারে। "
" সর তো। জীবনে আমার মতো কয়েকটা ইনজেকশন খেলে টের পেতি ভয় কাকে বলে। আমি নিবো নাহ এটা। "
ডাক্তার মহিলা বাধ্য হয়ে বাহিরে এসে কিয়ানকে বলে,
" স্যার, আপনার মিসেস ইনজেকশন নিতে চাচ্ছে নাহ। আপনি এসে একটু বুঝিয়ে বললে সুবিধা হতো। "
কিয়ান সাথে সাথে ওনাকে শুধরে দিয়ে বলে,
" আপনি ভুল করছেন। ওরা দুজনই আমার স্টুডেন্ট। আসার সময় পথে ওদের আঘাত পেতে দেখে নিয়ে আসলাম। "
" দুঃখিত স্যার৷ তবে ম্যামের ইন'জেকশনটা না নিলে ইনফেকশনের সম্ভাবনা আছে। "
কিয়ান ভেতরে প্রবেশ করে দেখে নীলা তখনও মানা করছিলো। কিয়ান রেগে ধমকে বলে,
" বাচ্চামাে করছো তুমি? সব কিছুকে মজা পেয়েছো তুমি? বাড়িতো যেতো হবে নাহ? নাকি বডিগার্ডের মতো তোমার পেছন পেছনে ঘুরবো? "
নীলা এবার করুন স্বরে বলে,
" আমি ই'নজেকশনে ভয় পাই স্যার। প্লিজ, জোর করবেন নাহ আমায়। আমার কিছুই হবে নাহ দেখবেন।"
কিয়ান কিছু একটা ভেবে বলে,
" ঠিক আছে, আমি আমার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি। তুমি আমার হাত ধরে রাখো। ব্যাথা পেলে খামচে দিতে পারো৷ কিছুই বলবো নাহ। "
নীলা একটু কনভিন্স হয়ে কিয়ানের বাড়িয়ে দেওয়া হাতটা ধরে নেয়। কিয়ানের পুরুষালী হাতটা ধরে নীলা একটু শিউরে উঠে। তার ধ্যান তখন কিয়ানের হাতের দিকে থাকলে এদিকে তার ই'নজেকশন দেওয়া কখন শেষ হয়ে যায়, তা টেরই পায় নাহ।
তবে শেষে টের পেতেই সে কিয়ানের হাতে নিজের ধারালো নখগুলো ঢুকিয়ে দেয়। কিয়ান ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই নীলা মেকী হেসে বলে,
" মাত্রই ব্যাথা পেলাম। আপনিই তো বলেছিলেন কিছুই বলবেন নাহ। "
অথচ তার ইনজেকশন দেওয়া আরও কিছুক্ষণ আগেই শেষ হয়েছিলো, আর সে টেরও পায় নি। এখন সে হয়তো কাজটা ইচ্ছাকৃতভাবেই করেছে৷ সেটা পরে নাবিহার দিকে তাকিয়ে নীলার শয়তানি হাসি দেখেই বুঝা যায়। নাবিহা তার হাসি দেখে দম ফেলে বিরবিরায়,
" শুধু পাত্রপক্ষ হয়ে গিয়েছে বলেই কিয়ান স্যার এখন যেসব বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে। সেদিন যদি বিয়েটা হয়েই যেতো, তাহলে তো কিয়ান স্যারের জীবনটা নীলার অত্যাচারেই শেষ হয়ে যেতো। স্যারের ভাগ্যটা অনেক ভালো বলায় যায়। "
চলবে......
(সবাই রেসপন্স করবেন প্লিজ। গল্পটা নিয়মিতই আসবে ইনশাআল্লাহ। আর যারা পেইজে ফলো দেননি, দিয়ে দিবেন।)