ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমাকে ভাবিনি কখনও

৭ম পর্ব

লেখক: মায়িশা নুরাইন

#তোমাকে_ভাবিনি_কখনও

#পর্ব_৭

#মায়িশা_নুরাইন

নাবিহাকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে কিয়ান নীলার বাড়ির সামনে গাড়ি থামায়। বাড়ির গেইটে নীলার বাবা আগে থকেই মেয়ের অপেক্ষায় পায়চারি করছেন। নীলাকে আসতে দেখেই তিনি দ্রুত পায়ে এগিয়ে আসেন। কিছু বলতেই যাবেন, তখনই মেয়ের হাতে ব্যান্ডেজ দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে বলেন,

" কি হয়েছে তোর? এই আঘাত...কিভাবে হলো? "

" কিছুই হয় নি বাবা। আমি ঠিক আছি। "

" ব্যাথা কিভাবে পেলি? আজ আবার স্কুটি এক্সিডেন্ট করেছিস? স্কুটি কোথায়? "

কিয়ান পেছন থেকে এসে বলে,

" আমি লোক লাগিয়ে স্কুটি সার্ভিসিং-এ পাঠিয়েছি। তারা ঠিক করে সোজা বাড়িতে পাঠিয়ে দিবে। "

কিয়ানকে দেখে তিনি কৃতজ্ঞতার সুরে বলেন,

" তোমাকে অনেক ঝামেলায় ফেলে দিলাম বাবা৷ আমার অনেক উপকার করলে তুমি। একমাত্র মেয়ে আমার। কোন খবর না পেয়ে বাধ্য হয়েই তোমাকে ফোন করেছিলাম। "

কিয়ান সরাসরি বলে,

" একমাত্র মেয়ে বলে এত আদরে মাথায় তোলা ঠিক হয় নি আঙ্কেল। ও দিন দিন বেয়াদব হচ্ছে। একটু শাসন করবেন প্লিজ। তাহলে একটু যদি শান্ত, ভদ্র হয়। "

কিয়ানের কথা শুনে নীলা রেগে তার দিকে তাকায়। বিরবির করে বলে,

" সাহায্য করায় যাও একটু ভদ্দরনোক ভবেছিলাম, আমার সেসব ভাবনায় জল ঢেলে দিলো। জন্মের খাটাশ লোক একটা। "

নীলার বাবা একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলেন,

" তোমার কথা বুঝেছি বাবা। তবে আমি তো একজন বাবা। আমার মেয়ের তিন কুলে আমি ছাড়া আর কেউ নেই। যেদিন বাবা হবে, সেদিন বুঝবে বাবাদের কত দায়িত্ব। "

নীলা ঠোঁট ফুলিয়ে তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে। রফিকুল সাহেব একটু হেসে বলেন,

" মেয়েটা বড় আর হলো নাহ। তাই আমিও ওকে এখনও সেই ছোট্ট মেয়েটাই দেখতে পাই। "

তারপরই তিনি ভোল পাল্টে বলেন,

" তবে ছোটদেরও শাসন করতে হয়। আমিও তাই করবো। সব বিষয়ে ছাড় দেওয়া ঠিক নয়। আজকে আমাকে যা টেনশনে ফেললো তার জন্য বকুনি তো খাবেই। "

নীলা মুখ গোমড়া করে বাবার কাছ থেকে দূরে গিয়ে দাঁড়ায়। কিয়ান একটা ক্লান্তির শ্বাস ফেলে বলে,

" আমি তাহলে আজ আসি আঙ্কেল৷ অনেক দেরী হয়ে গেলো। অনেকটা রাস্তা যেতে হবে আমাকে। "

রফিকুল সাহেব হাতঘড়িতে দেখেন রাত নয়টা বেজে গেছে। কিয়ানের বাড়ি পৌছতে অনেকটা দেরী হয়ে যাবে। তাই তিনি বলেন,

" অনেকটা দেরী হয়ে গেছে কিয়ান। আজকে আমাদের এখানেই থেকে যাও। সকালে এখান থেকে সোজা ভার্সিটি চলে যেও। "

" না আঙ্কেল, সেটা সম্ভব নাহ। "

" এভাবে না করো নাহ বাবা। বাড়ির ভেতরে আসো। "

কিয়ান আর না করতে পারে নাহ। নীলা দ্রুত গিয়ে গাড়ি থেকে তার ব্যাগটা নিয়ে আসে। ব্যাগের ভেতর বিড়াল দুটো জড়ে সরো হয়ে বসে ছিলো। নীলাকে দেখেই তারা ডাকতে শুরু করে। নীলা ব্যাগ নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। বিড়ালের আওয়াজ শুনে রফিকুল সাহেব বলেন,

" এই, বিড়ালের আওয়াজ শুনলাম মনে হয়? বাড়িতে বিড়াল ঢুকলো নাকি? "

নীলা খুশিতে বলে,

" হ্যা বাবা। একটা নয়, দুটো ডুকেছে। "

তাকে বিড়ালদুটো দেখাতেই তিনি রেগে বলেন,

" এখনও নিজের দেখভালই করতে পারে নাহ। সে আসছে বিড়াল পালতে। যাহ, বাহিরে রেখে আয়। "

" বাচ্চা এগুলো। বাহিরে রাখলে মারা যাবে। আমি সত্যিই পালতে পারবো। আমি একজন ভালো মা হয়ে দেখিয়ে দিবো, প্রমিস। "

রফিকুল সাহেব হাল ছেড়ে দেন। মেয়েটা সত্যিই বেয়াদব হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। এখন বিড়ালের মা হওয়ার জন্য পাগল হয়েছে! তিনি কিয়ানকে নিয়ে গেস্ট রুমে যান। নীলা তার বাবার নীরবতা দেখে তাকে সম্মতি ভেবে খুশিতে রুমে চলে যায়। রুমে গিয়ে বিড়ালগুলোকে বিছানায় রাখতেই তারা ডাকাডাকি শুরু করে।

" আরে বাচ্চারা, একটু শান্ত হ। আমি ফ্রেস হয়ে এসেই তোদের খাবার দিবো। চুপ থাক বাচ্চারা। "

তবে বিড়াল তো আর মানুষের ভাষা বুঝে নাহ। তাদের ক্রমাগত ডাকাডাকিতে নীলা রেগে বলে,

" খারাপ সন্তান তোরা। মাকেও শান্তি দেস নাহ। বেয়াদব গলু-মনু।.... ধ্যাত, এখন আমিও ওই খাটাশটার মতো বেয়াদব বলা শুরু করেছি। ধুর, যন্ত্রনা। "

নীলা বিরক্ত হয়ে রান্নাঘরে যায়। সেখান থেকে ছোট্ট দুটো বাটিতে করে দুধ এনে বিড়াল দুটোকে খেতে দেয়। সাথে সাথে বিড়াল দুটো খাবারের উপর হামলে পরে। তাদের দেখে নীলা অসহায় সুরে বলে,

" বেচারা গুলো। কতদিনের অভুক্ত যেন। খা, বেশি করে খেয়ে দ্রুত সুস্হ হয়ে যাহ। "

নীলা ওয়াসরুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে বেরোয়। ভাগ্যিস সে খাবারের আগে বিড়ালদের বিছানা থেকে মাটিতে নামিয়ে দিয়েছিলো। তারা মারামারি করতে গিয়ে বাটি উল্টে ফেলে রেখেছে। নীলা একটু বিরক্ত হলেও বিড়ালগুলোর মায়াবী চেহারা দেখে

গলে যায়। ফ্লোর ম্যাপ এনে ফ্লোর পরিষ্কার করতে থাকে। রফিকুল সাহেব কিয়ানকে ফ্রেস হতে বলে মেয়ের রুমের দিকেই আসছিলেন। রুমের সামনে গিয়ে নীলাকে কাজ করতে দেখে তিনি চমকে উঠে। তার মেয়ে এসব ঘরুয়া কাজের কিছুই পারে নাহ, করা তো দূরের কথা। সাপ্তাহিক ছুটির দিন একজন কাজের মহিলা এসে তাদের এসব কাজ করে দিয়ে যায়। আর রান্না তো রফিকুল সাহেবই করেন।

আজ বিড়ালের জন্য নিজের মেয়েকে কাজ করতে দেখে তিনি অবাকই হন। তবে মেয়েকে কিছু না বলে তিনি চলে যান।

এদিকে কিয়ানের ঘেমে গিয়ে অবস্হা খারাপ। তাই সে গোসল করার কথা বললে রফিকুল সাহেব তার একটা টিশার্ট আর লুঙ্গি দিয়ে যান। কারণ ওনার প্যান্ট কিয়ানের হবে নাহ। লুঙ্গি দেখে কিয়ান মুখ কুঁচকে নেয়। সে লুঙ্গি পড়তে বড্ড অনাগ্রহী। তবে আর কেন উপায় না পেয়ে তাকে এটাই পড়তে হয়। সে যখনই এই ড্রেসআপে করিডোর দিয়ে হেটে যাচ্ছিলো, তখনই নীলা পেছন থেকে তাকে দেখে চিৎকার করে বসে।

" বাবা, চোর এসেছে বাসায়। চোর! চোর! "

কিয়ান দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে তার মুখ চেপে ধরে বলে,

" চুপ! আরেকবার চিৎকার করলে খবর আছে। যা চিৎকার জুড়েছে, বাহিরের সব মানুষ এক করে ফেলবে। "

নীলা মুখ ছাড়িয়ে হা করে কিয়ানকে উপর থেকে নিচে দেখতে থাকে। অবাকের সুরে বলে,

" এমাআআ, এ কি অবস্হা আপনার স্যার? আপনাকে তো এখন সত্যিই মাঝবয়সী বুড়োদের মতো লাগছে। একটু পেট উঁচু থাকলে আমি সোহানকে আপনার বুড়ো হওয়ার প্রমাণ দিয়ে দিতাম। "

কিয়ানকে দেখতে দেখতে সে মুখ টিপে হাসতে থাকে। কিয়ান অপ্রস্তুত হয়ে বলে,

" শাট আপ। এই বুঝি তোমার আতিথিয়েতা! বাড়িতে মেহমান ডেকে তাকে অপমান করছো! "

" আমি তো আপনাকে ডাকি নি। বাবা ডেকে এনেছে। এখানে এনে আপনাকেও বাবার মতোই বানিয়ে দিয়েছে৷ "

কিয়ান এবার রেগে বলে উঠে,

" একটু আগে যে নিজেকে বিড়ালের মা বলছিলে। তখন মায়েদের বয়সের কথা মনে ছিলো নাহ? "

" আমি মা হলেও সুইট, কিউট ইয়াং মা। আর আপনি! আপনাকে তো আমার বিড়ালরাও বাবা ডাকতে রাজি হবে নাহ। "

" আমি তোমার বিড়ালের বাবা হতেও চাই নি। "

" হতে চাইলেও আমি বানাতাম নাহ। ওদের এসব বুড়ো বাবা মানায় নাহ৷ "

রফিকুল সাহেব চেঁচামেচি শুনে এদিকে এগিয়ে আসেন৷

" নীলা, তখন চিৎকার করছিলি কেন? "

কিয়ান আর নীলা ওনাকে দেখে থেমে যায়। এই সময় কিয়ানের মাথায় আসে সে কি করছিলো! নীলার সাথে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে একটা সিলি বিষয় নিয়ে সে ঝগড়া করছিলো! ওহ নো! কদিনেই নীলার পাল্লায় পরে তার ব্যাক্তিসম্মান ডুবতে বসেছে।

" একটা বুড়ো তেলাপোকা দেখে ভয়ে চিৎকার করে ফেলেছি।"

" বুড়ো তেলাপোকা? "

" হ্যাঁ বাবা। তেলাপোকাটার মুখে বড় বড় দাড়ি ছিলো। "

কিয়ান তার মুখে হাত দিয়ে বসে। কোথায়, তার মুখে তো বড় দাঁড়ি নেই। সে কখনও ক্লীন শেইভ করে নাহ বলে দাড়িগুলো ট্রীম করে রাখে। নীলা সেটাকে বুড়োদের দাড়ি বানিয়ে দিলো!

নীলা কিয়ানের মুখে হাত দেওয়া দেখে হাসতে থাকে। কিয়ান রেগে তার দিকে তাকায়। তবে রফিকুল সাহেব তাদের কথা না বুঝে তাদের খেতে ডেকে চলে আসেন।

নীলার পায়ের ব্যাথা এতক্ষণ বুঝা না গেলেও এখন একটু একটু করে বুঝা যাচ্ছে। তাই সে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে অনেক ধীরে হাঁটছিলো। কিছুদূর গিয়ে সে পায়ে পা বেজে পরে যেতে নিলে কিয়ান দ্রুত পায়ে এসে তাকে ধরে ফেলে।

" ধিঙ্গি মেয়ে একটা, ঠিকমতো হাঁটতেও পারে নাহ। কি শিখেছো জীবনে? "

" সরুন তো। 'মরার উপর খাড়ার ঘা' যাকে বলে। ব্যাথা পেয়েছি যে। তাই এই পায়েই বারবার ব্যাথা পাচ্ছি। "

কিয়ান তাকে টেবিল পর্যন্ত নিয়ে যায়। কিয়ানের মনে হচ্ছিলো সে সত্যিই আজকের জন্য নীলার বডিগার্ড হয়ে গেছে। নয়তো উঠতে বসতে কেন তাকেই সাহায্য করা লাগছে!

খাবার টেবিলে বসে নীলা তার বাবাকে বলে,

" বাবা, ফ্রীজে একটা বয়ামে দেখো লাড্ডু বানানো। আমি যে বানালাম সেদিন তোমার জন্য। সেগুলো স্যারকেও দাও৷ "

কিয়ান ভ্রু উঁচিয়ে তাকায়। এই মেয়ে কিছু একটা হলেও রেঁধেছে। এতেই কি গর্ব করে বলছে! রফিকুল সাহেব একটু দোনামোনা করছিলো। তবে নীলার এত উৎসাহ দেখে না করতে পারেন নাহ। তিনি ফ্রিজ থেকে লাড্ডুর বয়াম এনে কিয়ানকে দেয়। তবে ওনার চেহারায় বিষন্নতা লক্ষ্য করা যায়। তিনি যেন না করতে চাচ্ছেন কিয়ানকে। তবে কিয়ান সেটা না বুঝে একটা লাড্ডু মুখে দেয়। সাথে সাথে তার মুখটা বিষিয়ে যায়। রফিকুল সাহেব আঁতকে উঠেন৷ এই বুঝি কিয়ান সবটা প্রকাশ করে দিলো। তবে তাকে অবাক করে দিয়ে কিয়ান স্বাভাবিক থাকে। মূলত নীলা সেদিন লাড্ডু বানাতে গিয়ে ফুড কালার দিতে গিয়ে মরিচের গুড়া দিয়ে বসেছে। তবে সে নিজে লাড্ডু টেস্ট করে নি বলে বুঝতে পারে নি। এখন সেটা কিয়ান খেয়ে ঠিকই কাহিনী বুঝতে পেরেছে।

তাই কোন রিয়েকশন দেয় নাহ৷ কিন্তু নীলা নাছোড়বান্দা হয়ে বলে,

" বলুন নাহ স্যার, কেমন হয়েছে? প্রথমবার বানিয়েছি। বাবা বলেছে অনেক মজা হয়েছে। আপনিও একটু রিভিউ দেন৷ "

কিয়ান অতি কষ্টে অল্প হেসে বলে,

" হুম, মজা হয়েছে। "

" কতটুকু মজা হয়েছে? ভালোভাবে বলুন নাহ৷ "

" নীলা, অনেক হয়েছে। খাবার খা এখন। কিয়ানকেও খেতে দে। "

বাবার কথায় তার আর কিয়ানের কমপ্লিমেন্ট পাওয়া হলো নাহ। এদিকে ঝাল লাড্ডু খেয়ে কিয়ানের রুচিই নষ্ট হয়ে গেছে। ফলস্বরুপ সে ভালোভাবে খেতে পারে নাহ। অথচ নীলা সেসব বুঝতেই পারে নাহ। সে নিজের মতো খাবার খেয়ে নেয়।

*****

নীলা রুমে গিয়ে দেখে তার বিড়াল দুটো এদিক সেদিক লাফালাফি করছে। সে বুঝতে পারে জাতে বিড়াল দুটো তার মতোই চঞ্চল। তবে মাঝে খাবার না পেয়ে অসুস্হ থাকায় এমন নিস্তেজ হয়ে ছিলো। এখন পেটে খাবার পরায় নিজেদের স্বরুপ প্রকাশ করছে। নীলা ধীরে ধীরে গিয়ে পেছন থেকে তাদের ভয় দেখায়। এতে দুটোই লাফিয়ে পালাতে থাকে। নীলাও ধরার জন্য পেছনে যায়।

" গলু-মনু, পালাবি নাহ বলছি। আমার পা তোদের মতো এত সুস্হসবল নাহ। দাঁড়া বলছি। "

নীলা গিয়ে একটাকে ধরে ফেললেও অপর বাচ্চাটি সোজা রুম থেকে বেরিয়ে যায়। নীলাও বেরিয়ে দেখে সেটি কিয়ানের রুমে ডুকে পরেছে। নীলা কপালে হাত দিয়ে আগায়। কিয়ান ততক্ষণে রুমের লাইট অফ করে শুয়ে পরেছে। নীলা তখন ফ্লোরে হামাগুড়ি দিয়ে রুমে প্রবেশ করে। অন্ধকারেই হাত বুলিয়ে ফ্লোরে বিড়ালটাকে খুঁজতে থাকে। তবে তা কি এত সহজ নাকি! ছোট্ট বাচ্চাটা যে কোথায় লুকিয়ে আছে কে জানে!

এত মাঝে কিয়ান বুঝতে পারে রুমে কেউ প্রবেশ করেছে। কারণ সে তখনও ঘুমিয়ে সারে নি। আর করিডোরে লাইট অন থাকায় দরজা খোলায় আলো ভেতরে প্রবেশ করেছে।

কিয়ান চুপ করে থাকে বিষয়টা বুঝার জন্য। এরই মাঝে নীলার কোলে থাকা বিড়ালটি মিঁয়াও করে উঠে। আর তখনই কিয়ান অনুভব করে তার পায়ের কাছে কিছু একটা সুরসুর করছে। সে আঁতকে উঠে। ছোট থেকেই তার বিড়ালে কিছুটা ফোবিয়া কাজ করে। বড় হতে হতে তার কিছুটা কমে এলেও আজও সে বিড়াল থেকে দূরত্ব বজায় রাখে।

তার মাঝে এখন পায়ের কাছে বিড়ালের উপস্হিতি অনুভব করে সে লাফিয়ে উঠে। বিছানার শব্দে নীলা ফ্লোরেই স্হির হয়ে বসে পরে। তার মানে কিয়ান সজাগ আছে। সে দ্রুত পালাতে নিলে কিয়ান ফোনের আলো জ্বালায়। এতে নীলা দেখে তার গলু কিয়ানের পায়ের কাছে পরে আছে৷ কিয়ান তাকে পা দিয়ে সরাতেই নিচ্ছিলো, তবে নীলা গিয়ে বাধা দিতে যায়। আর ফ্লোরে থাকা কার্পেটে পা বেজে হুট করে লাফিয়ে কিয়ানের উপরই পরে যায়। আর কিয়ানও তাকে সামলাতে গেলে দুজনে একত্রে বিছানায় আছড়ে পরে। আর এই সুযোগে গলু-মনু রুম থেকে পালিয়ে যায়।

নীলা কিয়ানের উপর পরতেই কিয়ানের হাতের ফোন বিছানায় উল্টে পরে। আর ফেনের ফ্ল্যাশলাইটটের আলোয় ঘর আলেকিত হয়ে যায়। নীলার হাত তখন কিয়ানের বুকের টি-শার্ট আঁকড়ে ধরে আছে। খোলা চুলে তার মুখ ডাকা পরেছে। আর কিয়ান তার কোমড় জড়িয়ে ধরে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। এ সময় ঘরের আবহাওয়া অস্বাভাবিক রকম স্হির হয়ে যায়। দুজনেই দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে। মুখে কারও টু শব্দও নেই। অথচ চোখে চোখে যেন কত কথাই তারা সেরে নিচ্ছে।

চলবে.......

(অবাস্তব কল্পকাহিনি। তাই রোমান্সও কল্পকাহিনীই হবে। চেষ্টা করবে কিছু মিছু রোমান্স রাখতে গল্পে। আপনারাও চেষ্টা করবেন নিয়মিত রেসপন্স করতে। আর হ্যাঁ, দ্রুত ১০কে করে দিন নাহ। নন-ফলোয়ারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। হেল্প মি গাইজ🥹❤️)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন