ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমাকে ভাবিনি কখনও

২৮তম পর্ব

লেখক: মায়িশা নুরাইন

#তোমাকে_ভাবিনি_কখনও (২৭-খ)

#মায়িশা_নুরাইন

মেয়েটির সামনে গিয়ে নীলা আচমকা হাতের গ্লাসটি মেয়েটির উপর ফেলে দেয়। মেয়েটি চমকে উঠে। নীলা মুখে হাত দিয়ে করুন সুরে বলে,

" ওপস, সরি। নিজের স্বামীর সাথে পরনারীকে দেখে ভুল করেই গ্লাসটা হাত থেকে স্লিপ খেলো। আপনি ভিজে যাননি তো। "

" নীলা! "

" ওহহ স্বামী! লাঞ্চ করছেন বুঝি? এসব কি? লাঞ্চে কেউ এসব হালকা খাবার খায় নাকি? এই ওয়েটার, একটা ফ্যামিলি প্ল্যাটার প্লিজ। "

কিয়ান নীলাকে টেনে নিজের কাছে আনে। ফিসফিসিয়ে বলে,

" পাগল হয়ে গেছো তুমি? এসব কি করছো? "

মুহুর্তেই সামনের মেয়েটির দিকে তার নজর যায়। দ্রুত নিজের পড়নের কোটটি খুলে মেয়েটির গায়ে জড়িয়ে দেয়।

" আর ইউ ওকে মিস, ডায়না? "

" একচুয়েলি, আ'ম নট ওকে। আমার ড্রেস পুরোপুরি ভিজে গেছে। আমাকে একটু ওয়াসরুমে যেতে হবে৷ এক্সকিউজ মি... "

নীলা একপাশে দায়ছাড়া ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে৷ তার সামনে যা যা ঘটছে তাতে তার কোন খবর নেই। ডায়না ওয়াসরুমে যেতেই কিয়ান বিরক্তির দৃষ্টিতে নীলার দিকে তাকায়। রেস্টুরেন্টের অনেকেই তাদের দিকে তাকিয়ে ছিলো। কারণ এমন ঘটনা তো সচরাচর ঘটতে দেখা যায় নাহ। কিয়ান নীলাকে টেনে নিজের সাথে বসাতে চায়। নীলা রেগে হাত ঝাড়ি দিয়ে ছাড়িয়ে নেয়। কোন কথা নেই তার মুখে৷ ভেতরে ভেতরে রাগে, দুঃখে সে কাঁপছে। কিয়ান জোর করে তাকে বসায়। হাতের উপর হাত রেখে তাকে শান্ত করার প্রয়াস চালায়।

" আমার কথা শুনো প্লিজ। আগেই চিৎকার করো নাহ। "

নীলা পুনরায় নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়। কিয়ান আর জোড়াজুড়ি না করে বলে,

" ডায়না, সামিন ভাইয়ার অফিস পার্টনারের ছোট বোন হয়৷ "

নীলা রেগে তাকায়। তার চোখ লাল হয়ে আছে৷ রাগত স্বরে সে বলে,

" তো? আমার কি তাতে? আমি জানতে চেয়েছি ওই ডায়নীটা কে? "

" রিল্যাক্স নীলা। "

" কিসের রিল্যাক্স? আমি খেলার পুতুল? মন চাইলো খেললাম, তারপর ভালো না লাগলে ছুড়ে ফেলে দিলাম? নীলাকে সহজ পেয়ে বসেছেন? একটা সম্পর্কের দোহাই দিয়ে চুপ ছিলাম। তাতেই ভাবছেন নীলাকে বোকা বানানো খুব সহজ। নীলাকে যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করবো, তারপর ছুড়ে ফেলে দিবো। "

কিয়ান আশেপাশে তাকায়। সে বুঝে পাচ্ছে নাহ নীলা এখানে আসলো কিভাবে। তখনই তার চোখ পরে নাবিহার দিকে। তাদের দুই টেবিল পরে বসে আছে। হাতে ধরা লাচ্ছির গ্লাসটা যেন হাত দিয়েই ভেঙে ফেলবে। কিয়ান ঘাবড়ে যায়। এসব কি! দুই বান্ধবীই একই স্বভাবের কিভাবে!

" নীলা, আমার নীলপরি, একটু আমার কথা তো শুনো। প্লিজ বউ, স্বামীকে এভাবে অবিশ্বাস করতে হয় নাহ। আশেপাশের সবাই দেখছে আমাদের। "

নীলা রেগে তাকায়। তার নাকের পাটা ফুলে আছে৷ কোনভাবেও কিয়ানের ছোঁয়া তার সহ্য হচ্ছে নাহ। যখনই কিয়ান তাকে সামলাতে একটু ছুঁতে চাচ্ছে, ততবারই সে ঝাড়ি দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছে। সেই সময়ই সেখানে ডায়না আসে৷ তার কাঁধে কিয়ানের কোটটা এখনও জড়ানো। তা দেখে নীলার হাত নিশপিশ করছে মেয়েটির চুল ধরে টানতে।

" কিয়ান সাহেব, আমার গাড়ি চলে এসেছে৷ আমি আসি তবে। এন্ড সরি সব না জেনে আপনাকে এভাবে ইনভাইট করার জন্য। মেইবি আমার জন্য আপনার বিপদ বাড়লো। সাবধানে থাকবেন, আশেপাশের সবাইকে সাবধানে রাখবেন। "

কিয়ান মেকী হাসে। নীলা রেগে তেড়ে যেতে নেয়। তবে কিয়ান শক্ত হাতে তাকে আটকে নেয়। ডায়না নীলার রাগী মুখ দেখে বিব্রত হয়ে দ্রুত স্হান ত্যাগ করে।

" নীলা, খাবার খাবে? অর্ডার করবো কিছু? "

" আপনাকে খাবো। "

নীলার রাগী কথার উত্তর কিয়ান মৃদু হেসে বলে,

" বাসায় যাই আগে। তারপর খেয়ো। "

" আপনি আসলেই অসভ্য, খাটাশ, নোংরা জাতের মানুষ। আপনাকে আমি কখনই ক্ষমা করবো নাহ মি. কিয়ান শিকদার। আজই আমি ডিভোর্স... "

কিয়ান এক হাতে নীলাকে কাঁধে তুলে নেয়। নীলা ছটফটিয়ে উঠলে তাকে শক্ত করে ধরে রাখে। নাবিহা উঠে দাড়ালে তাকে বলে,

" তোমার বয়ফ্রেন্ডকে জানিয়ে দিচ্ছিে। এসে তোমাকে নিয়ে যাবে। ততক্ষণ বসে খাওয়া-দাওয়া করে। "

নীলাকে নিয়ে কিয়ান তার গাড়িতে এনে বসায়। নীলা নেমে পরতে চাইলে দ্রুত তার সীটবেল্ট বেঁধে দেয়৷ দৌড়ে ড্রাইভিং সীটে বসে গাড়ি লক করে, যাতে নীলা পালাতে না পারে৷ কিয়ান বিনা বাক্যে গাড়ি স্টার্ট দিতেই নীলা রাগে ফুঁপিয়ে উঠে৷ কখনও সে কল্পনাও করে নি তার সাথে এমন কিছু ঘটতে পারে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে তার কান্নাও বাড়তে থাকে৷ কিয়ান কিছুটা পথ পারি দিয়ে এক নির্জন যায়গায় গাড়ি থামায়। ক্রন্দনরত নীলাকে এক টানে নিজের বুকে চেপে ধরে। নীলা তার বুকে এলোমেলো হাত চালাতে থাকে। এত আঘাত স্বত্বেও কিয়ান তাকে ছাড়ে নাহ। শক্ত করে চেপে ধরে বলে,

" সরি বউ, আ'ম সো সরি। "

" আমি ঘৃণা করি, এইসব পুরুষকে ঘৃণা করি। আমি আপনাকে ঘৃণা করি। ছাড়ুন আমায়। "

" আমার কথাটা তো শুনো। "

" আমি কিছুই শুনতে চাই নাহ। "

" আর আমি এখন না জানিয়ে সমস্যা বাড়াতে চাই নাহ। বড্ড জেদী তুমি। এত জেদ ভালো না পাখি। "

নীলা ছুটাছুটি থামায়। তার চোখের পানিতে কিয়ানের বুক ভেসে যাচ্ছে। তবুও সে নীলাকে সরায় নাহ। নীলাকে ভালো করে বুকে আগলে রেখে নরম সুরে জানায়,

" মিস. ডায়না হচ্ছে সামিন ভাইয়ার বিজনেস পার্টনারের ছোট বোন। গতরাতে মা ওর কথাই বলেছিলো আমায়। ভাইয়ার থেকে জানতে পেরে নিজে ডায়নার সাথে কথা বলেছে। এমনকি আজকে দেখা করার টাইমও সিলেক্ট করে ফেলেছে। গতকাল আমার রাগারাগি তোমার অজানা না। তো কিভাবে ভাবছো আমি গতকাল রাগ দেখিয়ে আজই এত খুশি থাকবো? আমি এসেছিলাম শুধুমাত্র মায়ের কথা রাখতে৷ ভাইয়া বলেছে ডায়নার সাথে দেখা করতে। ভাইয়ার বিজনেসও এখন যুক্ত হয়ে গেছে। আমি ভাবলাম বুঝিয়ে বললে সে সব বুঝবে। তাই এসেছিলাম যাতে ডায়নার পক্ষ থেকেই বিয়েটা বানচাল করা যা। "

নীলা তাকে ঠেলে উঠে বসে।

" আমাকে বাচ্চা পেয়েছেন? আমি বুঝি নাহ কিছুই? ঠিকই তো ওই ডায়নীর সাথে হাসাহাসি করছিলেন। আমি দেখি নি ভেবেছেন? "

" ওটা তো তোমার কথা বলেই হাসছিলাম। একচুয়েলি ডায়নাকে আমি সব সত্যিই জানিয়েছি। আমার যে একটা পাগলাটে বউ আছে, তার কান্ডকারখানা শুনেই ডায়না হাসছিলো। "

" বাহ! আমি পাগল! মানুষকে বলে বেড়ান আপনার বউ পাগল? বাহ মি. বাহ! "

কিয়ান মাথায় হাত দিয়ে বসে। সে এখন যাই বলবে, নীলা তারই উল্টোটা বুঝবে। কিয়ান বড় করে একটা শ্বাস ফেলে। তারপরই নীলার ঘাড়ে চেপে নিজের ওষ্ঠজোড়ার সাহায্যে নীলার কথা বন্ধ করায়। কিয়ানের ওষ্ঠজোড়া নীলার ঠোঁট ছুঁয়ে দিতেই নীলা থমকে যায়। চোখজোড়া তার বিষ্ময়ে বড় বড় হয়ে গেছে। কিয়ানের তাতে কোন হেলদোল নেই। সে পরম আদরে নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর নীলা শান্ত হতেই কিয়ান তাকে ছাড়ে। কপালে কপাল ঠেকিয়ে

মৃদু হাসে।

" কোথায় যেন দেখেছিলাম মেয়েদের কথা বন্ধ করতে এটা খুবই কার্যকরী উপায়। আজ প্রমাণও পেলাম। "

নীলা কিয়ানের বুকে ঢলে পরে। সে ঘন ঘন শ্বাস ফেলছে। যেন একটু আগের ঘোর থেকে এখনও বের হতে পারে নি। কিয়ান তাকে আগলে রেখে বলে,

" মাঝে মাঝে জেদও ভালো। এতে করে এমন মিষ্টির ছোঁয়া পাওয়া যাবে। কি বলো? "

নীলা উঠে কিয়ানের বুকে ধুমধাম আঘাত করতে থাকে।

" অসভ্য, নির্লজ্জ, বদ লোক। "

" শুধু তোমারই। এখন বলো, মাথা ঠান্ডা হয়েছে? যা যা বলেছিলাম বুঝেছো, নাকি আবারও বলতে হবে? "

নীলাকে মুখ ফুলিয়ে বসে থাকতে দেখে কিয়ান নরম সুরে বলে,

" একটু বিশ্বাস করো আমায়। আমি তোমাকে ভালোবাসি নীলা। শুধু তোমাকেই ভালোবাসি৷ তোমাকে ছাড়া অন্য কোন মেয়ের কথা মাথাতেও আসে নাহ। আর কতভাবে তোমায় বুঝাবো? ভালোবাসি বলেই তোমায় বিয়ে করেছি। ছেড়ে দিতে নাহ। অথচ আমায় ভুল বুঝে কতগুলো কথা শুনালে আমায়। খুব হার্ট হয়েছি আমি। তোমার বিশ্বাস অর্জন না করতে পারাটা আমার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। "

নীলা থম মেরে বসে ছিলো হটাৎই এগিয়ে এসে কিয়ানের গালে ঠোঁট ছোঁয়ায়। কিয়ান কথা থামিয়ে থ হয়ে যায়৷ নীলা আবারও নিজের জায়গায় বসে বলে,

" আর অভিমান করতে হবে নাহ। আপনার অভিমান ভাঙাতে এর বেশী কিছুই করতে পারবো নাহ। ভুল আপনারও ছিলো, আমারও ছিলো। সমান সমান। এখন চুপচাপ গাড়ি স্টার্ট দিন। "

কিয়ান হটাৎই এগিয়ে আসে। নীলা হকচকিয়ে গিয়ে পিছিয়ে গেলে কিয়ান বলে,

" আমার অভিমান এখনও ভাঙে নি। ওয়ান মোর প্লিজ।"

" অসভ্য লোক। "

নীলা ধাক্কা দিয়ে কিয়ানকে সরায়। কিয়ান মুচকি হাসে। নীলার হটাৎ একটা কথা মাথায় আসতেই বলে,

" নাবিহাকে যে ফেলে আসলাম। "

" ওর প্রেমিক এসে নিয়ে যাবে। আমি জানিয়ে দিয়েছি।"

" আপনি শুভ্র ভাইকে কিভাবে চিনলেন? "

" আমার একমাত্র বউয়ের সাথে কোন ছেলে কথা বলবে, তার ব্যাপারে আমি খবর নিবো নাহ ভেবেছো? এতে অবশ্য তোমাকে ধন্যবাদের পরিবর্তে কতগুলো চুমু দেওয়া উচিত। কারণ তোমার জন্যই আমি একজনের ব্যাপারে অনেক কিছু জানতে পারলাম। আপাতত এই ফ্লাইং কিসটাই নাও বউ। "

" নির্লজ্জ লোক। "

নীলাকে লজ্জা পেতে দেখে কিয়ান হাসতে থাকে৷

****************

" মা, রফিক আঙ্কেলের সাথে কথা হলো। নীলা বাবার কাছে যেতে চাচ্ছে। যেহেতু ভার্সিটি দুদিন অফ আছে, আমিই নিয়ে যেতে চাচ্ছি। "

মমতাজ বেগম ছেলের দিকে তাকান। থমথমে সুরে বলেন,

" আর কিছু বলার নেই তোর? "

" আর কি জানতে চাও? "

" সত্যিই বুঝছিস নাহ? "

কিয়ান ফোঁস করে দম ফেলে। মায়ের কাছে এসে মা'কে জড়িয়ে ধরে বসে।

" ওহ মাই লাভলি মম, প্লিজ আন্ডারস্ট্যান্ড। ডায়না নিজেই বিয়ের কথা না করেছে। তারপরও আমাকেই চার্জ করছো কেন? "

মা ছেলেকে ঝটকা দিয়ে দূরে সরায়। রাগী কন্ঠে বলে,

" আমি জন্ম দিয়েছি তোকে। আমার পেট থেকে হয়েছিস তুই। তোকে আমি চিনি নাহ ভেবেছিস? কেন এসব করছিস? কাউকে পছন্দ তোর? বল তবে, বিয়ে করিয়ে দিই। এত ঝামেলা পাকাচ্ছিস কেন? "

" আমার পছন্দের মেয়েকে যদি তোমার পছন্দ না হয় তবে? এমনিই পরিবারের মেয়ের সংখ্যা কম নাহ। পরে তোমরা ঝগড়া করলে বাড়িতে টেকা যাবে নাহ। "

" সংসার তুই করবি, আমি তো নাহ। পছন্দ না হলে এডজাস্ট করে নিবো। কে সেই মেয়ে? "

কিয়ান জানে নীলার নাম নিলেই মা এখনই স্যাঁত করে উঠবে। তাও পরীক্ষা করতে বলে,

" নীলা..."

" কিহ! কার নাম বললি? "

" বলছিলাম নীলাকে তার বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা। "

" তারমানে তুই মেয়েটার কথা বলবি নাহ? তোর বয়সের দিকে খেয়াল আছে? বয়স কি কম হয়েছে? "

" মাআআ! আমাকে দেখলে কি বয়স্ক লাগে নাকি? এত ফিটফাট থাকি তোমাদের খোঁচা শুনার জন্য? তুমিও নাহ কেমন হয়ে যাচ্ছো। আদরের ছেলেকে খোঁচাও শুধু। "

" মা তো ভুল কিছু বলে নি। কিছুদিন পর ছত্রিশে পরবি। একটু তো লজ্জা কর। এখনও বিয়েটাই করতে পারলি নাহ। "

" আর তুমি? ছেলে ছোট বলে নিজের বয়সের কথা ভুলে যেও নাহ। দুদিন পরে তুমি চল্লিশে পরবে। "

" এইই, মিথ্যে বলবি নাহ। তোর থেকে মাত্র দুই বছরের বড় আমি। এত বুড়ো বানাস কেন? "

" কারণ তুমি সত্যিকার অর্থেই বুড়ো। "

দুই ভাইয়ের ঝগড়ায় মমতাজ বেগম বিরক্ত হন। এত্ত বড় হয়েও দুই ভাইয়ের কাজকর্ম বাচ্চাদের মতো। তিনি ধমকে উঠেন,

" কিয়ান, যাহ তো। নীলাকে কই নিয়ে যাবি যাহ। "

তখনই সামিন বলে উঠে,

" মা, এটা কি ঠিক হচ্ছে? বাচ্চা মেয়েটাকে তোমার আবিয়াইত্তা ছেলের সাথে পাঠানো, তাও অন্য শহরে। "

" সামিন ভাই! "

কিয়ান তেড়ে গিয়ে ভাইয়ের কলার চেপে ধরে। হিসহিসিয়ে বলে,

" সব জেনেও না জানার ভান ধরবে নাহ। "

সামিনও একইভাবে বলে,

" আমি যে জানি সেটা তোকে কে বলেছে? "

" তোমাকে আমাদের উকিলের সাথে কথা বলতে দেখেছি আমি। "

" জানাস নি কেন আমায়? "

" ইচ্ছে করে নি। তোমার মতো বদমাশ ভাই আর কারও না হোক। জেনে শুনে ডায়নার কথা মা'কে জানিয়েছো, যাতে মা আমাকে দেখা করতে ফোর্স করে। শুধু শুধু আর ঝামেলা পাকিও নাহ ভাইয়া। "

" যতদিন সবার সামনে স্বীকার না করবি, ততদিন আমি তোর পিছু ছাড়ছি নাহ। যতই হোক, নীলাকে আমি বোন বলেছি। ভাই হিসেবে আমার একটা দায়িত্ব আছে নাহ? "

দুই ভাই নয়, যেন দুই সিংহ একে অপরের উপর গর্জন করছে। মমতাজ বেগম দুই ছেলের কাহিনী দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। পাশ থেকে বিছানা ঝাড়া ঝাড়ুটা তুলে নেন।

" আজ অনেক বছর পর এটা হাতে তুলতে হলো। দাঁড়া তোরা, আমি আসছি। "

" ভাই, পালাআআ! "

দুই ভাই তড়িঘড়ি করে রুম থেকে পালায়। ছেলেদের পালাতে দেখে মমতাজ বেগম হেসে ফেলেন। আজও এদের একসাথে দেখলে তাদের বাচ্চাকালের কথা মনে পরে যায়। ছোটবেলায় কত্ত দুষ্টু ছিলো। প্রায় সমবয়সী বলে দুষ্টুমির মাত্রাও ছিলো বেশী। তাদের সামলাতে তার হিমশিম খেতে হতো। ছেলে দুটো আজও তাকে জ্বালিয়ে মারে। অবশ্য মা হয়ে তিনি এসব এখন বড্ড উপভোগ করেন। স্বামীর থেকে দূরে থেকে এখন ছেলে দুটোই তো ওনার প্রাণ। ঠিক তখনও ফোন সাজিদ সাহেব কল করেন। লোকটা যত ব্যস্তই হোক, প্রতিদিনই একবার করে ফেন করবেন। স্বামীর কল দেখে তিনি মুকি হাসেন। এখন আপাতত ঘন্টাখানিকের আগে তাদের কথা শেষ হবে নাহ।

***************

" নীলা, এদিকে আসো। "

তানহার গম্ভীর ডাকে নীলা একটু হকচকিয়ে যায়৷ রুমে বসে সে তার বিড়াল ছানা দুটোর সাথে বসে দুষ্টুমি করছিলো। কিয়ারা গোসলে গিয়েছে৷ তখনই তার রুমে তানহা এসে দাঁড়ায়। মুখটা তার অস্বাভাবিক রকম থমথমে।

" ভাবী, কি হয়েছে?.......আমি কি কিছু করেছি? "

" কেন বুঝতে পারছো নাহ কি করেছো তুমি? "

নীলা অবাক হয়ে তাকায়। তানহা তার সাথে রাগ দেখাচ্ছে কেন? তানহার সাথে তো তার কোন ঝামেলাই হয় নি। তবে...

" ভাবী কি হয়েছে বলুন নাহ। "

" এটা তুমি কিভাবে করতে পারলে? এভাবে...লুকিয়ে বিয়ে করতে তোমার গায়ে বাজলো নাহ? আমাকে তো একবার জানাতে পারতে সবটা। আমি তোমাকে নিজের বোন ভেবেছিলাম নীলা৷ "

চলবে.......

(কোন চরিত্রকে কেমন লাগে জানিও সবাই। ভালো বা খারাপ লাগার কারণটাও জানিও)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন