#মন_দিয়েছে_ধরা
#পর্ব_২১
লেখনীতে....#পুষ্পিতা_প্রিমা
নীরার গর্ভকালীন সময়গুলোতে বাড়ির সবাই চিন্তায় ছিল। প্রথমত ওর বিপি লো হয়ে যাওয়া, দ্বিতীয়ত ওর বমি বন্ধ না হওয়া, খাওয়ায় অরুচি এবং পা ফুলে যাওয়া। এমনকি ভাতের মাড়ের গন্ধও সে সইতে পারেনা। ফুলের গন্ধ, পারফিউম তার কাছে থেকে সরিয়ে সরিয়ে রাখতে হয় রিপকে।
মাছ মাংস ছোঁয়াও বন্ধ করে দিয়েছে সে। এত এত
শিদল ভর্তা খেল তারপরও শিদলে তার অতৃপ্তি আসে না। গরম ভাতের সাথে লাল মরিচ পেঁয়াজ কুঁচি দিয়ে মেখে কি তৃপ্তিকরে ভাত খায় সে। রিপ শুধু দেখে আর ভাবে মাতৃত্ব মুখের কথা নয়।
একদিন হুট করে এসে আবদার করে বসলো
আমার না কচু খেতে ইচ্ছে করছে।
রিপ সরাসরি উত্তর দিল।
খাওয়া চলবে না। ডাক্তার বারণ করেছে মনে নেই?
নীরা জেদ ধরলো।
না কচু খাবই। ওলকচু, পানিকচু,কচুর লতি সব খাব। না আনলে খবর আছে। আমি বাবাকে ফোন করে বলব। আর যে আসছে তাকে বলব তোর বাপ আস্ত একটা বদ। তুই ডাকবি বদমাশ বাপ।
বলেই হনহনিয়ে চলে গেল ঘর থেকে।
রিপ হা করে ওর যাওয়া দেখলো। কি অদ্ভুত মেয়ে সে!
ওর খাওয়ার তীব্র ইচ্ছে সাথে সারাক্ষণ প্যানপ্যানানি দেখে রিপ না এনে পারলো না। তবে অল্পকিছু খেতে বললো। কিন্তু অত বারণ শোনে কে? সেদিন কচু খেয়ে নীরার এলার্জি বেড়ে গেল। এলার্জিনামক ঝক্কিটা সামলানোর পর তার বিপি লো হয়ে যাওয়ায় ইমার্জেন্সি ইউনিটে ভর্তি করানো হলো। আটচল্লিশ ঘন্টা পর বাড়ি ফিরলো সে। সারাক্ষণ হাতের মুঠোয় লেবু কচলাতে কচলাতে দিন কাটে তার। চারিদিকে এত উদ্ভট উদ্ভট গন্ধ টের পায় সে। তালহা বেগম একসময় বলে বসলেন
তোমার বাচ্চা মাথাভর্তি চুল নিয়া আসতেছে তাই তোমার এত বমি হইতেছে।
নীরা আজববনে গেল। ওর মাথাভর্তি চুলের সাথে বমির কি সম্পর্ক?
অন্য একদিন বলে বসলেন,
যে আসতেছে সে হবে খুঁতখুঁতে টাইপ।
নীরা হ্যা না কিছু না বলে শুনেই গেল।
বয়স্ক মানুষের বিশ্বাসে সে আর জল ঢালতে গেল না।
সাতমাসে পড়েছে সবে। নওফুজ সাহেব এলেন মেয়েকে দেখতে নীরার মাও এসেছে। ছোট ছোট হাতের ফুলতোলা কাঁথা আর নীরার পছন্দের খাবার দাবার নিয়ে । সেই গর্ভধারণের দ্বিতীয় মাসেই নীরা বাপের বাড়ি গিয়েছিল আর যেতে পারেনি। রিপকে কত করে বুঝালেন নওফুজ সাহেব যে প্রথম সন্তান হওয়ার সময় বাপের বাড়িতে থাকলে ভালো। রিপ তা শোনার পাত্র নয়। মুনাও বেঁকে বসলো। কেন এই বাড়িতে কি ওর যত্ন-আত্তির কম হচ্ছে?
শ্বশুরবাড়িতে যত্ন-আত্তির কম হলে তখন বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে হয় যাতে মা যত্ন নিতে পারে মেয়ের। এখানে তো তার যত্নআত্তিরের অভাব হচ্ছে না। বরং এতগুলো বছর পর এই বাড়িতে একজন অতিথি আসছে তা নিয়ে সবার আনন্দের শেষ নেই।
____________
রিপ রাতের কাজগুলো ঘরে বসে করার চেষ্টা করে। দিনের বেলা কোর্টকাছারি আর ক্লায়েন্টের ঝক্কিঝামেলা শেষে রাতের বেলা নীরার সাথে দু একটা গল্প সাড়তে সাড়তে ফাইলপত্রের কাজ সেড়ে নেয়।
জগ নিয়ে রান্নাঘরে গিয়েছিল রিপ। ঘরে আসতে আসতে শুনতে পেল নীরা খিক খিক করে হাসছে হাসছে একা একা। ঘরে পা রেখেও একই দৃশ্য দেখতে পেল। সাত মাসের উঁচু হওয়া পেটে হাত রেখে এমনভাবে হাসছে যেন তাকে কেউ সুড়সুড়ি দিচ্ছে। রিপ হতচকিত, হতভম্ব চোখে চেয়েই রইলো। হ্যা মুড সুয়িং হয় ঠিক কিন্তু এভাবে?
সেদিন তো রিপকে ফোনে বলেই ফেলল
ধুরর মাতারি কিচ্ছু ভাল্লাগেনা ঘরে আইলে আয় নো আইলে রাখ।
রিপ ফোনের ওপাশে হাসবে কি কাঁদবে বুঝে উঠতে পারলো না। উফফ এই সাতটা মাস নীরাকে সে কিভাবে সামলে রেখেছে খোদা জানে।
রিপ ওর হাসি চেয়েই রইলো। আগে থেকে বেশ স্বাস্থ্যবান হয়েছে সে। গায়ের রঙ খুলে গিয়েছে। হাত পা গুলো হৃষ্টপুষ্ট দেখাচ্ছে ফুলে যাওয়ায়।
তালহা বেগম ওকে দেখে সেদিন বলে দিলেন যে নাতি আসছে। নীরা খুশি হলেও রিপ চেয়েছিল মা বলুক একজন নাতনি আসছে। সে খুশি হয়নি সেটা বলা যায় না কিন্তু তার ইচ্ছে ছিল একটা ছোট্ট নীরা।
নীরা স্টপ! কি হয়েছে? এভাবে হাসছো কেন?
নীরার হাসি থেমে গেল।
সে বড়ই আহ্লাদী গলায় বলল
এদিকে আসুন না।
রিপ এগিয়ে গেল।
কোনো সমস্যা?
আসুন। হাতটা এদিকে দিন।
রিপ গেল। হাত বাড়াতেই নীরা তার উঁচু হয়ে আসা পেটের ডানপাশে হাতটা রেখে বলল
এই যাহ ডিসুম ডিসুম থামিয়ে দিল? খুব সভ্য বাচ্চা আমার। বাবার গলা শুনেই শান্ত হয়ে গিয়েছে।
কি হয়েছে?
রিপের প্রশ্ন শুনে নীরা আবারও ফিক করে হেসে দিয়ে বলল
ও ফুটবল খেলছিল এতক্ষণ। বাবাহ গো কি লাতি। মা ঠিকই বলেছে ও হবে আমার শাহজাদা। আমার জান্টুস। ডিসুম ডিসুম ভালোই পারে দেখছি। মায়ের কথা শুনে তো ভেবেই নিয়েছি যে ওকে বক্সিং শেখাবো। আমরা মা ছেলে ডিসুম ডিসুম খেলবো। খেলায় আপনাকে নেব না। কারণ আপনি ফেল্টুস সেই খেলায়।
বলেই আবারও হাসতে লাগলো নীরা। রিপ বলল
ওহহ তুমি মুভমেন্ট বুঝতে পারছো।
বুঝতে পারছি মানে। ওর ভাষাও বুঝতে পারছি । ও বলছে মা আমার আর এখানে ভাল্লাগেনা। তাই ডিসুম ডিসুম করে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। দুষ্টু বাচ্চা আমার।
রিপ হেসেই ফেললো।
কোমরে হাত রেখে হেসে উঠতেই নীরা ওরদিকে তাকালো। ইশ মানুষটার হাসি কি সুন্দর!
এই এই এডভোকেট সাহেব এদিকে বসুন না। একটা কথা বলি।
রিপ ফাইলপত্র বন্ধ করে এসে তার পাশে বসলো। নীরা বুকে মাথা ঠেকিয়ে বলল
আমি না বাবুর নামও ঠিক করে রেখেছি।
কি নাম?
নাম একটাই। ছেলে হলেও ওই নাম দেব, মেয়ে হলেও ওই নাম দেব।
কি নাম দেবে?
মাহি। নামটা সুন্দর নাহ? ওটা আলুর মতো। ছেলেমেয়ে যাইহোক দুটোতে খাপ খেয়ে যাবে। আমি ডাকব ও মাহি, এই মাহি, হ্যা রে মাহি। আমার সারাটাদিন হবে মাহি মাহিময়। সে আমাকে মা মা ডেকে অস্থির বানিয়ে ফেলবে। আমাকে না বাড়ির সবাইকে পাগল বানিয়ে ফেলবে। আপনিও পাগল হয়ে যাবেন।
রিপ ওর উত্তেজনা দেখে
ওকে ওকে ফাইন। এখন একটু রিল্যাক্স নীরা। হাঁপিয়ে উঠেছ।
নীরা থামলো। পুনরায় বলা শুরু করলো,
ধরুন ছেলে হলো। আমি ওর বউয়ের জন্য সোনার গহনা বানিয়ে রাখবো। যাতে ওর বিয়ের সময় এত্তগুলা গহনা দিতে পারি বউকে। বৌমা তো খুশি হয়ে যাবে আর বলবে আমিই জগতের একমাত্র শ্বাশড়ি যে তার ছেলে বউকে এত এত গহনা দিয়েছে।
রিপ বলল
আচ্ছা দিও।
আর যদি মেয়ে হয় তার জন্যও গহনা বানাবো। বিয়ের দিন আমার মেয়ে আমার গহনা পড়ে সাজবে। ওর শ্বশুরবাড়ির লোকজন ভাববে জগতের এই একমাত্র মা যে নিজের মেয়েকে বিয়ের সময় এত গহনা দিয়েছে।
রিপ মাথা দুলালো।
আচ্ছা।
নীরা ওর মুখের দিকে তাকালো।
আমি খুব বকবক করছি না?
রিপ ওর মুখের দিকে তাকালো। মৃদু হেসে বলল
আরেহ না। ভালোই লাগছে। ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার স্যাপার থাকে তোমার গল্পে।
নীরা খুশি হলো। বলল
আসলে আমি কথা বললে ও একদম চুপ হয়ে থাকে। নইলে এমন লাতি মারে। বাবাহ গো। কি দুষ্টু বাচ্চা আমার। এডভোকেট সাহেব!
জ্বি বলো। শুনতে পাচ্ছি।
ও এরকম লাতালাতি করলে আমার কি যে আনন্দ লাগে। ও আমার হাসি-কান্না সব বুঝতে পারে জানেন?
কিভাবে বুঝলে।
বুঝি বুঝি। এটা মায়েরা বুঝে। আল্লাহ আমি নাকি মা হয়ে যাচ্ছি।
বলেই লাজুক হাসলো নীরা। রিপ বলল
হুহ তারপর।
ধুরর তারপর তারপর। তারপর আবার কি? আচ্ছা আপনি ওকে নিয়ে কিছু বলবেন না?
রিপ প্রশ্নটা শুনে চুপ হয়ে গেল। কি বলবে সে? তার কি বলার আছে? তবে ভয় হয় একটা ব্যাপারে। সে তো ভালোবাসে এটা বলতে পারেনা। সন্তানকে কি ভালোবাসা বলে বলে বুঝাতে হয়? যদি সে কোনোদিন মনে করে তার বাবা তাকে ভালোবাসে না রিপ এটা একদমই সহ্য করতে পারবে না।
কি ভাবছেন?
নীরা আমাকে এখন দেখলে মনে হয় আমি তোমাকে ভালোবাসি?
নীরা মাথা দুলালো।
কি দেখে মনে হয়?
আপনার চোখ।
চোখ?
হ্যা।
আপনার চোখদুটোর দিকে ভালো করে তাকালে তারা গড়গড় করে সবটা বলে দেয়। ওই চোখদুটো আমাকে কি বলে জানেন?
কি বলে?
কানে কানে বলি। আমার দুষ্ট বাচ্চা নইলে শুনতে পাবে।
রিপ ওর কান নিয়ে গেল নীরার কাছে। নীরা ওর গলা ঝাপটে ধরে ফিসফিসিয়ে বলে
চোখদুটো আমাকে বলে রিপ রেজওয়ান খান নীরাতে ফেঁসে গিয়েছে।
___________
সেদিন মাঝরাতে হঠাৎ রিপের ঘুম ছুটতেই সে কারো আর্তনাদ শুনতে পেল। ঘুমঘুুম চোখ মেলে দেখলো নীরা কাঁদছে। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেই চলেছে। চোখমুখ লাল হয়ে গেছে। ব্যাথায় গত কয়েক রাত ধরে এভাবে কেঁদে যাচ্ছে সে।
সে ভয়াজড়ানো গলায় নীরার মাথা টেনে এনে বুকে চেপে ধরে বলল
তুমি আমাকে ডাকবে না? খুব কষ্ট হচ্ছে ? পানি খাবে?
নীরা কান্না থামিয়ে দেয়।
না না।
রিপ তারপরও অনুভব করতে পারে। মাথায় হাত বুলায়। কপালে চুম্বন আঁকে। নীরা শান্ত বাচ্চার মতো চোখ বুঁজে রাখে। মিনমিন করে বলে
আমি তো আস্তে আস্তে কাঁদছিলাম যাতে আপনি না শুনতে পান। আমি কি একটু লুকিয়ে কাঁদতেও পারবে না?
অবশ্যই পারো। যেভাবে কাঁদলে তোমার মন ভালো থাকে সেভাবেই কাঁদো। তোমার কষ্টের ভাগ তো আমি নিতে পারছিনা কিন্তু পাশে তো থাকতে পারি। এই যে আমার কাছে আসামাত্রই তোমার কান্নার বেগ থেমে গেল।
নীরা নাক টেনে বলে
আপনার ঘুম নষ্ট হচ্ছে।
তুমি তো সারাক্ষণই কষ্ট সয়ে যাচ্ছ। এটুকু আমার জন্য কিছু না।
আচ্ছা আমি আর কাঁদছিনা। আপনি ঘুমিয়ে পড়ুন।
তুমি ঘুমাও। আমার চোখে আপনাআপনি ঘুম নামবে।
নীরার প্রেগন্যান্সির এই প্রত্যেকটা রাত রিপের আতঙ্কে কাটে। জীবনে এমন ভয় সে হয়ত এই প্রথমবার পাচ্ছে। কেমন একটা ভয়। বুক কামড়ে ধরে ভাবতে গেলে। তার হাতের বাঁধন জোরালো হতে হতে আবারও শীতল হয়। মেয়েটার শরীরটা তুলোর মতো নরম ঠেকছে তার কাছে। কত ধকল যাচ্ছে সে অনুভব করতে না পারলেও চোখের দেখায় দেখতে পাচ্ছে। এজন্যই বলে মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের বেহেশত।
_______________
হসপিটালে নিয়ে আসার পর থেকে রিপ নীরার হাত ছাড়েনি। ও চোখের আড়াল হলেই নীরা সাহস হারিয়ে ফেলছিল। ব্যাথায় বুদ হয়ে যাচ্ছিলো। রিপ থাকলে ও কথায় ভুলিয়ে রাখে।
বিপি লো হয়ে যাওয়া, শরীরে পানি আসা ইত্যাদি নিয়ে ডাক্তাররা বলেছে খুব সিরিয়াস কন্ডিশন। রক্ত দিতে হবে।
নীরা রিপকে ডেকে বারবার জিজ্ঞেস করছিল যে বাচ্চা তো আরও অনেকদিন পর হবে। আজ কেন নিয়ে এলেন হাসপাতালে? ডেট আঠারো তারিখ ছিল না? আজ তো তবে সাত তারিখ। আমার বাচ্চার কি কিছু হয়েছে? ওর নড়াচড়া টের পাই না দুদিন।
বলতে বলতে ওর চোখে জল নেমে এল। কথা বলতে গিয়ে বড়বড় শ্বাস টানছে।
রিপ কি উত্তর দেবে খুঁজে পেল না। মাথায় হাত বুলিয়ে শুধু সান্ত্বনা দিল
তোমার আর তোমার বাচ্চার কিছু হবে না। আমি কিছু হতে দেব না। আমি সবসময় আছি। তুমি একটুও চিন্তা করবে না।
নীরা তার কথা শুনে হুহু করে কেঁদে উঠে বলল
যদি আমার কিছুটিছু হয়ে যায় আমার বাচ্চাকে একদম বকাটকা দেবেন না ঠিক আছে? ও খুব নিষ্পাপ। আমার অনেক আদরের। অনেক সাধনার। ওকে বকাঝকা করলে আমি কিন্তু খুব কষ্ট পাব, খুব কাঁদবো এডভোকেট সাহেব।
এসব কি কথা নীরা? তুমি তোমার বাচ্চাকে নিয়ে ঘরে যাবে। ও তো তোমাকে ছাড়া আর কাউকেই চেনে না। কি বলছো এসব?
হ্যা তা ঠিক। ও আমাকে ছাড়া কাউকে চেনে না। কিন্তু আপনাকে তো চেনে কিন্তু ভয় পায়।
কেন ভয় পায়?
ভয় পায় না। লজ্জা পায়। আপনি আসামাত্রই ও নড়াচড়া বন্ধ করে দেয় তাই বলছি। আপনি কোথাও যাবেন না প্লিজ। ব্যাথায় আমার শরীরটা ঝাজড়া হয়ে যাচ্ছে। আমি কি করব এখন?
কুয়াশাচ্ছন্ন চোখদুটো দিয়ে নীরার যন্ত্রণাকাতর মুখটা দেখে তাকে ডাক্তারের হাতে ছেড়ে দিয়ে বেরিয়ে এল রিপ। হসপিটালের করিডোরে নীরার বাপের বাড়ির সবাই, রিক মুনা মা বাবা, চৌধুরী বাড়ির সবাই অপেক্ষারত। রিপ কারো সাথে কোনোরূপ কথা না বলে বেরিয়ে গেল সেখান থেকে। কেউ ওকে আটকালো না।
সবার ভয়, শঙ্কা, উত্তেজনা, কৌতূহলকে থমকে দিয়ে খুবই সুন্দর, সুশোভন, মনোরম একটি সুচিক্কণ ক্রন্দন সুর সবার কানে ভেসে এল অনেক অপেক্ষা প্রহর গোনা শেষে। সেই শব্দ শুনে সবার মুখে আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ রব উঠলো। অতি উত্তেজনায় নীরার মা কান্নায় ভেঙে পড়লো এই ভেবে তার পাগলিটা আজ মা হয়েই গেল। সময় কিছু পার হতেই পুরো করিডোর মাথায় তোলা নরম তুলতুলে অথচ তেজস্বী ক্রন্ধনরত নতুন সদস্যটিকে পেয়ে ঝলমলিয়ে হেসে উঠলো তিন তিনটি পরিবারের মানুষ। শুধুমাত্র একজনই বাচ্চাটির মাকে দেখার তাড়না অনুভব করছিল দূর থেকে। তার আর তার বাচ্চাটার তার মাকে দরকার। সে কেমন আছে?
চলমান.....
বড়বড় কমেন্ট করেনা এখন কেউ🥱🥱