ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ বসন্ত

২য় পর্ব

লেখক: দিশা মনি

#শেষ_বসন্ত

#পর্ব_২
#লেখিকা_দিশা_মনি
সুজা তখনো নিজের ঘরে চুপচাপ বসে ছিল। তখনো অব্দি সে নিজের বাবা আর প্রিয় বান্ধবীর বিয়ে মন থেকে মেনে নিতে পারছিল না৷ এমন সময় সে খেয়াল করল জানালা দিয়ে হালকা রোদ আসছে৷ সকাল হয়ে গেছে। অথচ সুজার সারা রাত কেটেছে নির্ঘুম। সুজা কোন রকমে উঠে দাঁড়ালো। কাল রাতে কিছু খাওয়া হয়নি। সে দ্রুত ফ্রেশ হয়ে নিচে নামলো। উদ্দ্যেশ্য কিছু একটা বানিয়ে খেয়ে নেবে। কিন্তু রান্নাঘরে ঢুকতেই সুজার দুচোখ ক্রোধে ভড়ে উঠল। অনন্তা একদম নতুন শাড়ি, গহনা পড়ে নতুন বউ সেজে রান্নাঘরে কব্জা বসিয়ে ফেলেছে৷ সবথেকে জঘন্য ব্যাপার হলো তার পরণে যে শাড়িটা সেটা সুজার মায়ের। মায়ের মৃত্যুর পর তার বাবা যত্ন করে এই শাড়িগুলো রেখে দিয়েছিল। সুজাকেও কখনো ব্যবহার করতে দেয়নি। অথচ আজ অনন্তা কত অবলীলায় এই শাড়ি পড়েছে৷ সুজা এটা মেনে নিতে পারল না। 
সে একধাপ এগিয়ে এলো ক্রোধের সাথে। অনন্তা সুজাকে দেখে বলল,
"উঠে পড়েছিস সুজা? ব্রেকফাস্টে কি খাবি বল আমি রান্না করে দিচ্ছি।"
"তুই কি করছিস এই রান্নাঘরে? আর তোর সাহস কি করে হলো আমার মায়ের শাড়ি পড়ার?"
অনন্তা সুজার এমন রাগী স্বর শুনে কিছুটা হচকচিয়ে গেলো। সে আমতাআমতা করে বলল,
"এভাবে কথা বলছিস কেন সুজা? একটু ভালো ভাবে বল। জানি তুই আমার উপর রেগে আছিস কিন্তু... "
"শোন,,,তোর থেকে আমি কোন জ্ঞান শুনতে চাই না। অনেক নাটক করেছিস আর না৷"
"আমি কি নাটক করলাম সুজা? আমি তো তোকে ভালো ভাবে বলছি কি খাবি বল আমি রান্না করে দিচ্ছি।"
"তোর মতো বিষাক্ত মেয়ের হাতের কোন রান্না আমি খেতে চাই না। পারলে আমায় বিষ এনে দে খেয়ে মরে যাই।"
"ছি সুজা! এমন কথা বলতে নেই।"
"তুই আমার মায়ের শাড়ি পড়েছিস কোন সাহসে সেটা আগে বল। ভালো চাইলে এক্ষুনি খোল এই শাড়ি।"
অনন্তার চোখে জল চলে আসে সুজার মুখে এমন কথা শুনে। সে বলে,
"এটা তোর মায়ের শাড়ি আমি জানতাম না সুজা। সাব্বিরই সকালে আমায় এই শাড়িটা দিয়ে বলল এটা পড়তে..আমায় এটা ভালো মানাবে আর তাই আমি..."
"তোর মধ্যে বিন্দুমাত্র লজ্জা নেই তাই না অনন্তা? কাল অব্দি যেই লোকটাকে আঙ্কেল বলতি, আজ তাকেই নাম ধরে ডাকছিস৷ তার বউ হয়ে গেছিস। আমার তো ভাবতেও লজ্জা করছে।"
"সুজা,, বারবার এসব বলিস না।"
"কেন বলব না? যেমন কর্ম করেছিস তেমন শুনতেও হবে। আসলে দোষটা আমারই..তোর মতো গরীব পরিবারের লোভী মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব করেছিলাম। তোকে এই বাড়িতে অবাধে আসতে দিয়েছিলাম। আর সেই সুযোগে তুই আমার বাবার...ভাবলেও আমার বমি পাচ্ছে।"
অনন্তার কান্নার গতি বাড়ে,
"তুই যা ভাবছিস সেটা একদম ঠিক নয় সুজা। আমি লোভী নই আর না তো আমি তোর বাবাকে আমি সত্যিই. ভালোবাসি."
"চুপ কর নির্লজ্জ মেয়ে,,তোর মুখ থেকে আর কিছু আমি শুনতে চাই না।"
এমন সময় সাব্বির শেখ সেখানে উপস্থিত হয়ে সুজাকে অনন্তার উপর চেচাতে দেখে ফেলেন। তিনি অগ্নিমূর্তি নিয়ে এগিয়ে এসে বলেন,
"সুজা...কি বলছ এসব তুমি? মুখ সামলে কথা বলো।"
সুজার রাগ তখন সপ্ত আসমানে। সে একটুও না থেমে সাব্বির শেখের উপরও গলা উচিয়ে বলে,
"তুমি তো চুপই থাকো। যা করেছ তার পর কোন মুখে উঁচু গলায় কথা বলো? নিজের হাটুর বয়সী একটা মেয়ের সাথে রাসলীলা করেছ যে কিনা তোমারই মেয়ের বান্ধবী ছিল আর এখন আমার উপর রাগ দেখাচ্ছ।"
"সুজা..."
"চিৎকার করলেই সত্যটা মিথ্যা হয়ে যাবে না আব্বু। তোমাকে এখন আমার আব্বু বলতেও ইচ্ছা করছে না। কি জঘন্য মানসিকতার লোক তুমি। এই বয়সে
এত বড় একটা আকাম করে এখন আমাকে শাসাচ্ছ৷ আরে গোটা দুনিয়া হাসবে তোমার উপর। তুমি নিজের, আমাদের পরিবারের পুরো সন্মান ধুলোয় মিটিয়ে দিয়েছ। আর এখন নিজের এই কচি বউয়ের জন্য আমাকে কথা শোনাবে।"
সাব্বির শেখ এগিয়ে এসে সুজার উদ্দ্যেশ্যে বলে,
"তোমাকে আমি এই শিক্ষা দিয়েছি সুজা? তুমি নিজের বাবাকে, নিজের বাবার স্ত্রীকে এসব বলছ।"
"তোমার মুখও দেখতে চাই না আমি আর "
"যদি আমাকে বাবা হিসেবে মেনে নিতে তোমার এতই অসহ্য লাগে তাহলে বেরিয়ে যাও এই বাড়ি থেকে।"
অনন্তা সাথে সাথেই বলে ওঠে,
"সাব্বির,,কি বলছ এসব? সুজা তোমার মেয়ে। ও এখন হয়তো রাগের মাথায় এসব বলছে ওর বয়স কম কিন্তু তুমি তো যথেষ্ট বুঝদার। তুমি অন্তত এসব বলো না।"
সুজা অনন্তার উদ্দ্যেশ্যে বলে,
"এই সব ভালো মানুষী নাটক বন্ধ কর অনন্তা। তোর এই নাটক আর দেখতে চাই না৷ আর মিস্টার সাব্বির শেখ, আপনার এই অধ:পতন দেখে খুব ভালো লাগছে৷ এখন এই মেয়েটার জন্য আপনি আমাকে আমার বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলছেন।"
"সুজা.."
"আপনি অনেক বলেছেন এবার আমায় বলতে দিন। এই বাড়িটা আপনার একার না, এই বাড়িতে আমার মায়েরও অংশীদারিত্ব আছে৷ আর তাই আপনার কোন এখতিয়ার নেই আমাকে এই বাড়ি থেকে বের হতে বলার৷ এখন আপনি বলতে পারেন, আপনার টাকায় আমি খাই পড়ি..তো শুনে রাখুন..আজ থেকে আমি আপনার টাকায় কেনা এক ফোটা পানি স্পর্শ করব না।"
সাব্বির শেখ বলেন,
"বাহ,,,আমার এতদিনের ভালোবাসার খুব সুন্দর প্রতিদান দিচ্ছ। সারাজীবন ধরে আমি তোমার আর তোমার ভাইয়ের কথা ভেবেছি, আজ এই প্রথম নিজের কথা ভাবলাম তো তোমরা নিজের জাত চিনিয়ে দিচ্ছ। বেশ, যদি তুমি এটাই চাও তাহলে তাই হবে। দেখি, তোমার এই জেদ তোমায় কোথায় নিয়ে যায়।"
"আমিও দেখব, আপনার এই সুগার বেবি আপনাকে কই নিয়ে যায়।"
বলেই সুজা ফুসতে ফুসতে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ায়। এদিকে অনন্তা কাঁদতে কাঁদতে বলে,
"সব কিছু আমার জন্য হয়েছে..আমিই এসবের জন্য দায়ী। আমার জন্য আপনার মেয়ের সাথে আপনার সম্পর্ক খারাপ হলো। আমাএ এই বাড়ি থেকে চলে যাওয়া উচিত।"
"একদম নিজেকে দোষ দেবে না অনন্তা। তুমি কিছু করো নি৷ সমস্যা সুজার। ওর চিন্তাভাবনা এখনো উন্নত করতে পারে নি। আমি হয়তো ওকে সঠিক চিন্তা দিতে পারি নি।"
"আপনি দয়া করে আমার জন্য সুজার সাথে সম্পর্ক খারাপ করবেন না। প্রয়োজনে আমি এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাব।"
সাব্বির শেখ অনন্তাকে জড়িয়ে ধরে বলেন,
"খবরদার এই কথা মুখে আনবে না। তুমি আমার স্ত্রী,,,তুমি এই বাড়িতেই থাকবে। আমাকে ভালোবেসে, আমার অধিকারে।"
"কিন্তু সুজা.."
"এজন্যই তোমাকে আমার এত ভালো লাগে অনন্তা। তুমি সবার কথা কত ভাবো। যেই সুজা তোমাকে এত অপমান করল তুমি তার কথা ভাবছ।"
"ও যা করছে তা ভ্যালিড। ওকে সময় দিন।"
"যদি সুজাও তোমার মতো বুঝত তাহলে সমস্যাই হতো না।"
"দেখবেন এক সময় সব ঠিক হবে।"
"তাই যেন হয়।"
চলবে ইনশাআল্লাহ ✨

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন