#পদ্মপাতা~🪷
#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন
#পর্বঃ- ২৪
🚫⛔কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।⛔🚫
🪷🪷🪷
পদ্ম এখনো দোতলা বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে।
কিছুক্ষণ আগেই…
তার হাত শক্ত করে ধরা সেই মহিলার আঙুল যেন লোহার শিকল।
“চলো এখান থেকে…”
মহিলা ঠান্ডা গলায় বলল।
“তোমার এখানে থাকার কথা না। কিন্তু এখন যেহেতু ঢুকেছো—সব নিয়ম জানতেই হবে।…”
“ছাড়ুন আমাকে, এই জমিদার বাড়ির নাতবউ আমি।…”
পদ্ম কাঁপা গলায় বলল।
এতে সেই মহিলা হেসে উঠল। নীচু কন্ঠস্বর, ঠান্ডা হাসি।
“এখানে নাতবউ, বউ কিছু না।
এখানে শুধু দুই রকম মানুষ—
যারা বিক্রি হয়…
আর যারা বিক্রি করে।..”
পদ্মর বুকের ভেতর আগুন জ্বলে উঠল।
“ওরা মানুষ! কোনো খেলনা নয়। আর এটা অন্যায়।..”
তার গলা এবার কাঁপছে না।
“তোমরাও মানুষ!. কিন্তু ওরা মানুষ নয়।...”
মহিলার চোখ এক মুহূর্তের জন্য কেঁপে উঠল।
সেই এক মুহূর্তেই বোঝা গেল—
এই মহিলা একসময় ওদের একজন ছিল। কিন্তু এখন সে সিস্টেমের অংশ।
“কিন্তু এখানে মানুষ হলে টিকে থাকা যায় না।..”
সে ফিসফিস করে বলল।
“এখানে বাঁচতে হলে পাথর হতে হয়।..”
ঠিক তখনই পাশের ঘর থেকে একটা মেয়ের চিৎকার।
পদ্ম ছুটে যেতে চাইল।
মহিলা শক্ত করে টেনে ধরল।
“না মেয়ে!.. তুমি গেলে আর বের হতে পারবে না। ওটা তোমার কল্পনার চাইতেও নিকৃষ্ট জায়গা।…”
এই কথাটা হাওয়ায় ঝুলে রইল।
পদ্ম বুঝে গেল সে এখন সীমার একদম কিনারায় দাঁড়িয়ে।
এক পা ভুল মানে—
সে নিজেও বন্দি। তাই এটা সঠিক সময় নয়। তারপর ঐ মহিলা টানতে টানতে পদ্ম কে এনে গেটের বাইরে ছুড়ে ফেলে দিল। আর তারপর স্বশব্দে গেট বন্ধ করে দিল।
— — —
একই সময়ে — জমিদার বাড়িতে।
আরমান হন্তদন্ত হয়ে এসে সোজা দাদার ঘরে ঢুকল।
সৈয়দ আশরাফুল আলম নিশিন্দীপুরের বর্তমান জমিদার।
চোখে অভিজ্ঞতা, কণ্ঠে নির্লিপ্ত ক্ষমতা। তিনি আরমান কে দেখেই বলে উঠলেন…
“তুমি হাসপাতালে ঝামেলা করছো কেন?..?..”
দাদা ঠান্ডা গলায় জিজ্ঞেস করল।
“কারণ আমি ডাক্তার..
আরমান বলল।
আর ওরা মানুষ।…”
দাদা জমিদার মৃদু হাসল।
“মানুষ?.?..
এই গ্রামে মানুষ আর সম্পত্তির পার্থক্য খুব পাতলা। ..”
এই কথাটা ছুরির মতো বিঁধল।
“দোতলা বাড়ির কথা আমি জানি। ওখানে যে কি হচ্ছে সেটাও আমার কানে এসেছে। আমাকে যদি ওদিকে যেতে হয় , তাহলে কিন্তু ভালো হবে না।…”
আরমান সরাসরি বলল।
ঘরটা এক মুহূর্তের জন্য নিস্তব্ধ।
তারপর দাদার চোখের রঙ বদলে গেল।
“সব কথা জানার দরকার নেই।
আর তোমাকে কেউ ওদিকে যেতে বলেনি। সব জায়গায় গিয়ে জমিদারি দেখাবে না।…”
দাদা বলল।
“এই জমিদারি শুধু জমি না। এটা শক্তি, আর শক্তি টিকিয়ে রাখতে কিছু জিনিস ময়লা হয়।..”
“ময়লা না, বলো বলি দিতে হয়। আর তার জন্য তুমি গ্ৰামের নিরীহ মানুষ বেঁচে নিয়েছো। কিন্তু এবার আর নয়।..”
আরমান ফিসফিস করে বলল।
“এটা দণ্ডনীয় অপরাধ। আমি কিন্তু কোন ভাবেই চুপ থাকবো না। আর সেটা তুমিও জানো।…”
দাদা আশরাফুল আলম এবার বেশ গম্ভীর হয়ে গেলেন।
“তুমি আমেরিকায় ছিলে। এই মাটির নিয়ম জানো না।
এখানে যারা আওয়াজ তোলে—
তারা হারিয়ে যায়।…”
এই লাইনটাই ছিল হুমকি। তবে
আরমান সেটা বুঝতে পেলেও পিছিয়ে না এসে এক পা এগিয়ে গেল।
“তাহলে যদি আমাকেও হারাতে হয়—
আমি সত্য জেনেই হারাবো। আর সেটা তোমার জন্য বেশি ভালো হবে না।...”
দাদার চোখে এবার প্রথমবার
এক ঝলক ভয়। আরমান যেভাবে হন্তদন্ত হয়ে এসেছিল, আবার সেভাবেই বেরিয়ে গেল।
পদ্মকে বাইরে বের করে দেওয়া হয়।
কিন্তু যাওয়ার সময় পদ্মর কেবল শিরিনের কথা মনে পড়ে।
ওর ঐ ছলছল চোখজোড়া যেন বলছিল…
“পদ্ম…
আমাদের জন্য কেউ লড়ছে না…
তুই লড়। আমাদের কে ন্যায় বিচার পাইয়ে দে।…”
এই ভাবনাটাই পদ্মর ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেয়। সে বুঝে যায়—
এই গল্প শুধু তার বিয়ের না।
এই গল্প একটা গ্রামের বন্দি মেয়েদের মুক্তির।
— — —
নিশিন্দীপুর জমিদার বাড়ি যতটা রাজকীয়, তার দেয়ালের ভেতরে ততটাই অন্ধকার।
পদ্ম সেই রাতে আর ঘুমাতে পারে না।
চোখ বন্ধ করলেই শিরিনের ছলছল চোখ ভেসে ওঠে।
ভাঙা..ক্লান্ত.. সাহায্যের জন্য চুপচাপ চিৎকার করা চোখ।
সে জানে ওই দোতলা বাড়িতে শুধু মেয়েরা বন্দি না। ওখানে পুরো একটা সত্য বন্দি। পদ্ম ধীরে বিছানায় উঠে বসে। ডাক্তার মশাই এখনো কামরায় ফিরে আসেননি। লোকটা এতো রাত অবধি হাসপাতালে কি করছে কে জানে।
পদ্ম ভাবছে এই বাড়ির ভেতরেই কেউ আছে…যে সব জানে।
যে সব লুকিয়ে রাখে। ও সেটা অনুভব করতে পারে। হয়তোবা এই গ্ৰামের জমিদারই এখানে প্রধান?!.!.. এসব চিন্তা করতে করতেই পদ্ম একটা সময় ঘুমিয়ে পড়লো।
— — —
পরদিন দুপুরে, পদ্ম একা বারান্দায় দাঁড়িয়ে।
হঠাৎ কেউ পাশে এসে দাঁড়ায়।
একজন নারী, বয়স মাঝামাঝি।
চোখে গভীর ক্লান্তি, পরনে সাদা শাড়ি।
খুবই সুন্দর দেখতে সেই নারী।
সে খুব নিচু গলায় বলল—
“তুমি ওখানে গিয়েছিলে, তাই না?.?..”
পদ্মর বুকের ভেতর ধাক্কা খেল।
“কোথায়??!..”
পদ্ম স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করল।
সেই মহিলা অদূরে তাকিয়ে রইল।
“দোতলা বাড়ি।..”
এই দুইটা শব্দেই বাতাস ভারী হয়ে গেল। পদ্মর নিঃশ্বাস টা যেন গলায় এসে আটকে গেল। ও ভয় পেলো, যদি এই বাড়ির কারো কানে এই খবর যায়?!..
পদ্ম ধীরে বলল,
“আপনি কীভাবে জানলেন?..?.. আর আপনি কে?!. আগে তো দেখিনি।”
সেই মহিলার ঠোঁট কাঁপল।
“কারণ… আমার একসময় ওখানে থাকার কথা ছিল।…”
এই কথাটা যেন বজ্রপাত ঘটালো।
পদ্ম হতভম্ব হয়ে ঘুরে তাকাল।
“মানে??..”
সেই মহিলা চোখ নামিয়ে বলল—
“আমি জমিদার বাড়ির বউ হওয়ার আগে আমাকে ওখানেই পাঠানোর কথা ছিল।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে আমাকে ‘উদ্ধার’ করে এই বাড়িতে বিয়ে দেওয়া হয়।…”
“উদ্ধার।..”
কত ভয়ংকর শব্দ। এর পিছনেও নিশ্চয়ই কোন না কোন কালো অতীত লুকিয়ে আছে।
“আর বাকিরা??!...”
পদ্ম ফিসফিস করে বলল।
এই কথায় সেই মহিলার চোখ ভিজে উঠল।
“বাকিরা কখনো বউ হয় না। আমার তো ভাগ্য ভালো থাকায় সেই যাত্রায় বেঁচে এসেছিলাম। তবুও বাঁচতে আর পারলাম কই?!..”
এই কথা শুনে পদ্ম ভীষণ চমকে উঠে পাশ ফিরে তাকালো।
“মানে?!..”
— — —
আরমানের হাতে আগুন
একই সময়ে হাসপাতালে।
আরমান অবশেষে সেই গোপন রেজিস্টার পুরোটা কপি করে ফেলে।
C-Block.
নাম নেই।
শুধু নম্বর।
কিন্তু কিছু কেসে ছোট করে লেখা—
“Approved — A.S.”
“A.S.?!..”
আরমান জানে এই ইনিশিয়াল কার।
এই ইনিশিয়াল তার দাদার।
রক্ত যেন এবার মাথায় উঠে গেল।
আরমান বুঝে গেল—
এই ব্যবসা দুর্ঘটনা না।
এই ব্যবসা পারিবারিক।
ঠিক তখনই সেই ওয়ার্ডবয় কোথা থেকে যেন দৌড়ে আসে।
“স্যার! আজ রাতে…
আরেকটা ট্রান্সফার!..”
“কোথা থেকে??..”
“পশ্চিম দিকের কুসুমপুর গ্ৰাম থেকে….”
আরমানের বুক কেঁপে উঠল।
কুসুমপুর?!.. পদ্মর গ্রাম।
অজানা আতঙ্কে আরমানের সমস্ত কায়া যেন কেঁপে উঠলো।
একই সময়ে দোতলা বাড়িতে।
একটা কালো গাড়ি ঢোকে।
একটা ফাইলের ভেতরে কাগজপত্র।
একজন লোক ফাইল খুলে পড়ে—
নতুন নাম।
একটা নাম আলাদা করে দাগানো।
“পদ্ম” নামের সাথে একটা ক্রস চিহ্ন বসানো আছে।
না পুরো নাম না, শুধু পরিচয়—
“জমিদার বাড়ির নতুন বউ। ঝামেলাপূর্ণ, ওকে নজরে রাখবে।”
— — —
রাতে আরমান জমিদার বাড়িতে ফেরে। পদ্ম দরজার সামনে দাঁড়িয়ে।
দুজনের চোখে চোখ পড়ে।
দুজনেই বুঝে যায়—
কিছু একটা ভেঙে পড়তে যাচ্ছে।
“ডাক্তার মশাই…”
পদ্ম ফিসফিস করে বলে,
“ওরা আমাকে দেখেছে।…”
আরমান চমকে যায়।
“কারা?..?..”
পদ্ম এক শব্দে উত্তর দেয়—
“দোতলা বাড়ি।..”
আরমানের মুখ শক্ত হয়ে যায়।
সে ধীরে বলে
“তোমাকে বাড়ন করার পরেও ওখানে কেন গিয়েছিলে?!.. আমি নিষেধ করেছিলাম না?!....”
পদ্ম কথা অমান্য করার অপরাধে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইল। আরমান এবার বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ে। ওদের পরবর্তী টার্গেট কি?!. ওদের সাথে কার কারা জড়িত?!.. কিছুই এখনো ও জানতে পারেনি। তবে এই বাড়ি থেকেই সবটা শুরু হয়েছে। এটা আরমান বেশ ভালো করেই বুঝতে পেরেছে।
“তাহলে আর সময় নেই। যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে।….”
ঠিক তখন—
দূরে কালো গাড়ির শব্দ , নিশিন্দীপুরের রাস্তায়। একটা গাড়ি থামে। জমিদার বাড়ির গেটের সামনে।
এইবার গন্তব্য আর দোতলা বাড়ি না।
এইবার টার্গেট জমিদার বাড়ির ভেতরে রয়েছে।
পদ্ম জানালার দিকে তাকায়।
হেডলাইটের আলোয়
দুজন লোকের ছায়া।
তার বুকের ভেতর একটা কথাই বাজে— এই বাড়ি আর ওর জন্য নিরাপদ রইলো না।
— — —
নিশিন্দীপুর জমিদার বাড়িতে সেই রাতে অদ্ভুত নীরবতা।
নীরবতা মানে শান্ত না।
নীরবতা মানে—ঝড়ের আগের শান্ত আকাশ।
পদ্ম জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার।
কুকুরের ডাক থেমে গেছে।
পাখিরাও যেন ঘুমায়নি—লুকিয়ে আছে।
এই ধরনের নীরবতা সে আগে কখনো শোনেনি। এই নীরবতা সতর্ক করে। যেন কোনো আগাম বিপদের সংকেত দিয়ে যায়।
হঠাৎ পদ্ম দেখল—
পুকুরপাড় দিয়ে একজন মানুষ হেঁটে যাচ্ছে।
না, হেঁটে না, চুপিচুপি সরে যাচ্ছে।
লোকটার মুখ দেখা যায় না।
কিন্তু তার হাঁটার ভঙ্গি পরিচিত।
এই বাড়ির কেউ।পদ্মর বুক শক্ত হয়ে গেল।এই মানে—শত্রু বাইরে না।
শত্রু ভেতরেই।
ঠিক তখনই হঠাৎ দরজায় খুব হালকা টোকা পড়লো। পদ্ম চমকে গেল।
দরজা খুলতেই সেই সাদা শাড়ির নারী।
তখনকার মতোই তার মুখ ফ্যাকাশে।
“তুমি আজ রাতে ঘুমাবে না, নিজের ভালো চাইলে আজ ঘুম ত্যাগ করো মেয়ে।…”
সেই মহিলা ফিসফিস করে বলল।
“মানে??..”
পদ্মর গলা কেঁপে উঠল।
“কারণ আজ রাতে নতুন নাম লেখা হয়েছে যে।…”
“কোন নাম??.. কাদের নাম?!..”
পদ্মর এই প্রশ্নে সেই মহিলার ঠোঁট কাঁপল। তারপর একটু চুপ থেকে বলল…
“তোমার।..”
পদ্মর বুকের ভেতর যেন শূন্য হয়ে গেল।
“তারা জানে তুমি দোতলা বাড়িতে গিয়েছিলে, তাদের গোপন সবকিছু তুমি দেখে এসেছো। এবার তারা তো তোমাকে এভাবে ছেড়ে রাখবে না মেয়ে।…”
সেই মহিলা রহস্য করে বলে উঠলো।
পদ্ম অজানা আতঙ্কে ঘামতে লাগলো।
“এখন তারা শুধু নিশ্চিত হতে চায়—
তুমি শুধু দেখেছো…
নাকি বুঝেছোও?!..”
“দেখা মানে বিপদ।
বোঝা মানে মৃত্যু।..”
— — —
এদিকে তখন আরমান একা।
করিডোরে আলো কম।
কাগজপত্র ছড়ানো।
সে C-Block ফাইলের এক পৃষ্ঠা উল্টায়।
এইবার সে শুধু নম্বর দেখে না।
সে একটা প্যাটার্ন খুঁজে পায়।
প্রতিটা “Transferred” কেসের পাশে
একই তারিখের মতো করে
হালকা করে লেখা—
🌑 “N-17”
🌑 “N-23”
N.
নিশিন্দীপুর। আর তারিখ না।
এগুলো রাতের নম্বর। নির্দিষ্ট রাত।
নির্দিষ্ট ট্রান্সফার নাইট।
মানে—
এই কাজ নিয়ম করে হয়।
ব্যবসার মতো।
আরমানের হাত কাঁপতে লাগল।
সে বুঝে গেল—
এই নেটওয়ার্ক শুধু এই গ্রাম না।
এই নেটওয়ার্ক অনেক বড়।
ঠিক তখনই তার ফোনে মেসেজ আসে।অচেনা নাম্বার।
শুধু এক লাইন—
“তুমি যত জানবে, তত একা হবে। তাই এগুলো ছেড়ে দাও, এই গ্ৰাম থেকে সরে যাও।..”
এই লাইনটাই ছিল খোলা হুমকি।
তবে আরমানের তাতে কিচ্ছু যায় আসে না। ও এর শেষ দেখেই ছাড়বে।
সেদিন রাতে নিশিন্দীপুর জমিদার বাড়িতে। পদ্ম খাবার খেয়ে ঘরে ঢোকে।
দরজা বন্ধ করতে যায়।
কিন্তু—
তালা আগেই লাগানো।
ভেতর থেকে।
তার বুক কেঁপে উঠল। এই মানে—
কেউ আগেই এই ঘরে ছিল।তার ঘরে।
তার বিছানার পাশে
একটা জিনিস রাখা।
একটা ছোট রূপার চুড়ি।
ভাঙা।
পদ্ম চিনে ফেলে।
এই চুড়ি—শিরিনের।
এই মানে—ওরা বলতে চাইছে—
“আমরা তোমাকে খুব কাছে থেকে দেখছি।..”
পদ্ম ধীর পায়ে চেয়ারে গিয়ে বসে পড়ে। এই প্রথম সে বুঝে যায়— সে শুধু সাক্ষী না। সে এখনো ওদের
টার্গেট।
রাতে আরমান বাড়ি ফেরে।
পদ্ম দরজার সামনেই পায়চারী করছিল। তার হাতে ভাঙা চুড়ি।
“ওরা শিরিনকে ব্যবহার করে আমাকে হুমকি দিচ্ছে।…”
পদ্ম ফিসফিস করে বলে।
আরমানের চোখ অন্ধকার হয়ে যায়।
ঠিক তখন— বাড়ির পেছনের দিক থেকে একটা তীব্র চিৎকার।
নারীর চিৎকার , চেনা অজ্ঞাত সেই নারীর কন্ঠস্বর ভেসে আসছে।
দুজনেই দৌড়ে বের হয়।
কিন্তু করিডোর ফাঁকা।
শুধু মেঝেতে পড়ে আছে— রক্তের দাগ।
আর একটা কাগজ।
তাতে রক্ত দিয়ে লেখা—
“পরেরজন কে?.?..”
—চলবে—
ইনশাআল্লাহ