ফন্ট সাইজ:
থিম:
পারমিতা (সিজন ২)

২৯তম পর্ব

লেখক: নাবিলা আহমেদ

#পারমিতা_২

#পর্ব_২৯

#লেখিকা_নাবিলা_আহমেদ (সেহরিশ)

গাড়ির সঙ্গে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অরিয়ন। আবরার নিজেদের ব্যাগ এনে গাড়িতে তুলছে। আনিকা চৌধুরী আর মিতা সকলের কাছ থেকে বিদায় নিতে ব্যস্ত। বিদায় নেওয়া শেষ হলেই চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবে সবাই।

অরিয়ন নিজের মনে দাঁড়িয়ে আছে, অপেক্ষা করছে সবকিছু শেষ হওয়ার। হঠাৎ চোখ পড়ে এক কোণে থাকা জবা ফুলের গাছটার দিকে। বড় সাইজের একটা লাল রঙের জবা ফুল মাটিতে পড়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে, মাত্রই গাছ থেকে ছিঁড়ে পড়েছে। অরিয়ন এগিয়ে গেল। কোনো কিছু না ভেবেই ঝুঁকে ফুলটা তুলে নিল। আনমনে চোখ চলে গেল মিতার দিকে।

ফুলটা দেখতেই মিতার কথা মনে পড়ল অরিয়নের। ইচ্ছে হলো না ফুলটা মাটিতে ফেলে রাখতে। মিতার ঠোঁটে মৃদু হাসি, সবার সঙ্গে হেসে হেসে কথা বলছে।

অরিয়ন আবার গাড়ির কাছে ফিরে এল। সামনের সিটের পাশে ফুলটা রেখে দেয়।

কিছুক্ষণ পর সকলে বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠে বসে। আজও কিছুক্ষণ গাড়ি চালাবে অরিয়ন। সকাল সকাল গাড়ি চালাতে তার ভালোই লাগে।

“বিসমিল্লাহ বলে যাত্রা শুরু করো” গাড়িতে উঠেই বললেন আনিকা চৌধুরী। অরিয়ন গাড়ি স্টার্ট দিল।

মিতা আজ অন্যদিনের মতো লাফালাফি করল না। গান ছাড়া নিয়েও কাউকে বিরক্ত করল না। আবরার মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত। হঠাৎ মিতার চোখ পড়ল জবা ফুলটার দিকে। হাত বাড়িয়ে ফুলটা তুলে নিল। ফুলটা সুন্দর, অদ্ভুত সুন্দর লাগছে। লালের মাঝে একটু একটু সাদা রং ফুটে উঠেছে। তার ওপর পাতার সবুজ রং যেন এর সৌন্দর্য হাজার গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কিছু না ভেবেই মিতা ফুলটা কানে গুঁজে দিল। ঠোঁটে ফুটে উঠল স্নিগ্ধ হাসি।

ঘণ্টাখানেকের মধ্যে গাড়ি পদ্মা সেতুর ওপর উঠে। মিতা দরজার কাচ নামাল। ভেতরে এসি চলছে, তবু তার ইচ্ছে হলো নদীটা দেখতে দেখতে একটু প্রাকৃতিক বাতাস অনুভব করতে। প্রথমে হাত বাড়িয়ে দিল।

“হাত সাবধানে” চিন্তিত কণ্ঠে বলল অরিয়ন। মিতা কান দিল না। গাড়ির দরজায় দুই হাত রেখে মাথা ঠেকাল হাতের সঙ্গে। বাতাসে উড়তে লাগল মিতার ফুল। হঠাৎ কানে গোঁজা ফুলটা উড়ে যায়। মিতা স্পষ্ট দেখল, ফুলটা উড়ে সেতুর ওপারে চলে গেল।

“আ...” হতাশ হলো মিতা। সেতুর ওই পাশে পানি ছাড়া আর কিছুই নেই। যদি সেতুর ওপর পড়ত, তাহলে গাড়ি থামিয়েও ফুলটা কুড়িয়ে নিত। কিন্তু এখন সে সুযোগ নেই।

কন্যার চিরল বিরল চুল,

তাহার কেশে জবা ফুল।

সেই ফুল পানিতে ফেলা,

কন্যা করল ভুল।

কন্যা, ভুল করিস না,

ও কন্যা, ভুল করিস না।

আমি ভুল করা কন্যার সঙ্গে

কথা বলব না।

হঠাৎ গাইতে শুরু করল অরিয়ন। মিতা অবাক হয়ে অরিয়নের দিকে তাকাল। অরিয়নের ঠোঁটের কোণে স্নিগ্ধ হাসি।

একটা ছিল সোনার কন্যা,

মেঘবরণ কেশ।

ভাটি অঞ্চলে ছিল সেই কন্যার দেশ।

দুই চোখে তার, আহারে, কী মায়া!

অরিয়নের গানের তালে তালে আবরার হাততালি দিচ্ছে। মিতা একবার পেছনে তাকাল। আনিকা চৌধুরীর মুখে হাসি। হাসি লুকানোর চেষ্টায় তিনি বাইরে তাকালেন। মিতা লজ্জা পেল। দ্রুত সামনে তাকাল। অরিয়ন তখনো গান গেয়ে চলেছে। গানটা অনেক পুরোনো, তবু অরিয়নের কণ্ঠে অদ্ভুত রকম সুন্দর শোনাচ্ছে।

ভুল করা কন্যার লাগি

মন আনচান করে,

আমার মন আনচান করে,

আমার মন আনচান করে।

হা করে তাকিয়ে রইল মিতা। এসব কী গান গাইছে অরিয়ন! আনিকা চৌধুরী পেছনে বসে মুচকি হাসছেন, তার ওপর আবরারের “সেই” “ওরে বাপরে” “চালিয়ে যাও” কমেন্ট তো আছেই। মিতা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে অরিয়নের দিকে তাকিয়ে রইল।

গান শেষ করতেই অরিয়ন মৃদু হেসে মিতার দিকে তাকাল। বুঝানোর চেষ্টা করল, গানটা মিতার জন্যই গাওয়া। মিতা একটু এগিয়ে গেল অরিয়নের দিকে। অরিয়নও একটু এগিয়ে এল, একবার মিতার দিকে তাকাচ্ছে, তো একবার রাস্তার দিকে। আগ্রহ নিয়ে মিতার কথা শোনার অপেক্ষায় রইল।

“আপনি এত নির্লজ্জ কেন?” বিরবির করে বলল মিতা। অরিয়ন অবাক হলো। ভেবেছিল, এত সুন্দর গান গাওয়ায় মিতা ইমপ্রেস হবে, উলটো নির্লজ্জ বলছে।

“বউয়ের জন্য গান গাইলে বুঝি নির্লজ্জ হয়ে যায়?”

“আবারও! আবারও! কীভাবে কথা বলেন? লজ্জা করে না একদমই, তাই না? পেছনে আন্টি আর আবরার ভাইয়া আছেন, তবু আপনার লজ্জা করল না?” অরিয়ন পেছনের দিকে একবার তাকাল। পরক্ষণেই সোজা হয়ে বসল। দাঁত বের করে একটু হাসল।

“প্রেমে তো মানুষ কত কিছুই ভুলে যায়, আমি না হয় এতটুকু ভুলে গেলাম।” হা করে তাকিয়ে রইল মিতা। লোকটার নাকি ২৯ বছর বয়স। অথচ কথাবার্তা একদম ১৭-১৮ বছরের ছেলেদের মতো।

“তোকে রাগলে সুন্দর লাগে” কথাটা বলেই দাঁত বের করে হাসল অরিয়ন।

“আবারও শুরু করেছেন!” রাগল মিতা। আড়চোখে পেছনে তাকাল। আবরার হাত দিয়ে মুখ চেপে হাসি লুকানোর চেষ্টা করছে। আনিকা চৌধুরী যেন কিছু শুনেও শুনছেন না।

“অসভ্য লোক!” রাগান্বিত কণ্ঠে কথাটা বলে মিতা বাইরের দিকে ঘুরে বসল। ব্যাগ থেকে ব্লুটুথ বের করে তাড়াতাড়ি কানে গুঁজল। আনিকা চৌধুরীর সামনে অরিয়ন কী সব করছে, লজ্জা লাগছে তার। কী ভাববে সবাই? অরিয়ন মৃদু হাসল। মন দিল গাড়ি চালানোয়।

-------------

রাত আটটা।

চৌধুরী বাড়িতে গাড়ি প্রবেশ করল। আনিকা চৌধুরী, আবরার ও অরিয়ন নেমে আসে। মিতা পেছনের সিটে বসেছিল, নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে এল।

“উফ...” ব্যথায় গুঙিয়ে উঠল মিতা।

“কী হলো?” বাইরে অপেক্ষা করা অরিয়ন দ্রুত মিতার দিকে এগিয়ে যায়। মিতা ও অরিয়ন দুজনেই মিতার পায়ের দিকে তাকায়। মিতার পা ফুলে গেছে। এতক্ষণ গাড়িতে বসে থাকায় পা ফুলে গেছে, তাই পা দিতেই ব্যথা অনুভব করল।

“ঢাকায় এতক্ষণ জ্যামে আটকে থাকতে হবে, কে জানত? আগে জানলে গাড়ি করে আসতামই না” অরিয়নের কণ্ঠে হতাশা। বিকেলের মধ্যে চট্টগ্রাম পৌঁছানোর কথা ছিল, কিন্তু জ্যামের কারণে রাত আটটা হয়ে গেল।

“আরে... আরে... কী করছেন!” অরিয়ন কিছু না ভেবে মিতাকে কোলে তুলে নিল। পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচতে মিতা শক্ত করে অরিয়নের গলা জড়িয়ে ধরল।

“কী করছেন! নামান আমাকে, নামান বলছি!” মিতার কথা শুনেও অরিয়ন যেন শুনল না। আরও শক্ত করে ধরে রাখল। সরাসরি হেঁটে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে।

সামনে দাঁড়িয়ে আনিকা চৌধুরী শায়লার সঙ্গে কথা বলছেন। আবরার সোফায় বসে টেবিলের ওপর পা তুলে দিয়েছে। সবাই আজ খুব ক্লান্ত।

মিতাকে কোলে নিয়ে অরিয়নকে আসতে দেখে আনিকা চৌধুরীসহ সবাই ভয় পেয়ে গেলেন। দ্রুত অরিয়নের দিকে এগিয়ে এলেন।

“কী হয়েছে ওর? গাড়িতে তো ভালো ছিল!”

“দেখো, কী অবস্থা হয়েছে” মিতার পায়ের দিকে তাকিয়ে বলল অরিয়ন। আনিকা চৌধুরী সেদিকে তাকাতেই অবাক হলেন। পরক্ষণেই হাসি লুকানোর চেষ্টা করলেন।

“ওহ” মিতা আনিকা চৌধুরীর অভিব্যক্তি দেখে আরও লজ্জা পেল। লজ্জায় মাথা নিচু করে রাখে। মনে মনে অরিয়নের ওপর রাগ হলো।

“শায়লা!”

“জি, স্যার” শায়লা দ্রুত উত্তর দেয়।

“গরম তেল নিয়ে এসো” কথাটা বলেই অরিয়ন দ্রুত নিজের রুমের দিকে হাঁটা শুরু করে। শায়লা হতবাক নজরে অরিয়নের দিকে তাকিয়ে রইল। এটা কি আসলেই অরিয়ন, নাকি অন্য কেউ?

“ম্যাডাম, স্যারকে আবার জিন ধরেনি তো?”

“জিন না, জিন না। আসিক জিন ধরেছে” সোফা থেকে চেঁচিয়ে উত্তর দিল আবরার।

“তেল দিয়ে আসো, শায়লা” কথাটা বলে আনিকা চৌধুরীও সোফায় বসলেন। আজ হাবিব চৌধুরীর সঙ্গে বোঝাপড়া হবে। বিয়েতে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েও যাননি তিনি।

---------------

মিতাকে বিছানায় শুইয়ে দিল অরিয়ন।

“না, উঠিস না” গম্ভীর কণ্ঠে বলল অরিয়ন। মিতাকে যেন নড়তেই দেবে না। মিতা অবাক দৃষ্টিতে অরিয়নের দিকে তাকিয়ে রইল। কী করতে চাইছে, তা বুঝতে পারছে না মিতা। এটা কি আসলেই অরিয়ন? সব সময় গম্ভীর থাকা লোকটা কি সত্যিই এমন?

“কী করছেন...” অরিয়ন মিতার পায়ের কাছে বসে পায়ে হাত দিতে গেল। হকচকিয়ে উঠে মিতা পা সরিয়ে নিতে চাইল।

“কী অবস্থা হয়েছে!” মিতার পা ধরে বাধা দিল অরিয়ন। আলতো হাতে পা স্পর্শ করল। অরিয়নের কপালে ভাঁজ পড়েছে। মিতাকে নিয়ে তার দুশ্চিন্তা লক্ষ করল মিতা। অবাক হয়ে অরিয়নের দিকে তাকিয়ে রইল।

“স্যার” শায়লা একটা বাটিতে গরম তেল নিয়ে রুমে প্রবেশ করল।

“এখানে রাখো” মিতার পায়ের কাছে বিছানা দেখিয়ে বলল অরিয়ন।

“আমি মালিশ করে দেব?” অরিয়ন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে শায়লার দিকে তাকাল। তার কথায় সে সন্তুষ্ট নয়, তা বোঝাল। শায়লা কাঁচুমাচু করল।

“আমি তাহলে যাই” হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে গেল শায়লা। অরিয়ন তেলের মধ্যে হাত দিল।

“আমি নিজে মালিশ করতে পারব” মিতা দ্রুত পা সরিয়ে নিল। অরিয়নের উদ্দেশ্য বুঝতে পারছে মিতা। কেমন যেন অস্বস্তি লাগতে শুরু করেছে তার। অরিয়ন তার পায়ে তেল মালিশ করবে? কথাটা ভাবতেই মিতার কেমন লাগছে।

অরিয়ন কিছু বলল না। একদৃষ্টে মিতার দিকে তাকিয়ে বাম হাত বাড়িয়ে দিল। পায়ের গোড়ালি ধরে টেনে নিজের কাছে নিয়ে এল। মিতা অরিয়নের দিকে তাকিয়ে আছে, মুখ দিয়ে কথা বলার সাহস পাচ্ছে না।

অরিয়ন চোখ সরাল। মিতার পায়ে তেল মালিশ শুরু করে। হালকা গরম তেল মালিশ করতেই মিতার কিছুটা আরাম লাগতে শুরু করে। নিজের অজান্তেই চোখ বন্ধ করল। এতক্ষণ খুব ক্লান্ত লাগছিল, কিন্তু এখন ভালো লাগছে।

পায়ের তালুতে হাত যেতেই মিতা কেঁপে উঠে। সুরসুরি লাগছে তার। পা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেই অরিয়ন অন্য হাত দিয়ে পা বিছানায় চেপে ধরে। মাথা তুলে মিতার দিকে তাকায়।

হঠাৎ সবকিছু যেন কেমন লাগছে মিতার কাছে। অরিয়নের চাহনি, যা কিছুক্ষণ আগেও তার মধ্যে অস্থিরতা বাড়াচ্ছিল, তা এখন তার মনে এক অদ্ভুত অনুভূতি জাগাচ্ছে। এতটা আদর-যত্ন এর আগে কেউ করেনি তার। অরিয়নের মতো একজন মানুষের পক্ষে এভাবে তার সেবা করা কি বাস্তব, নাকি গাড়িতে বসে বসে স্বপ্ন দেখছে সে?

মিতা কেঁপে উঠল। প্রতিবার অরিয়নের হাত পায়ের তালুতে যাওয়ায় কেঁপে উঠছে মিতা। অরিয়ন দৃষ্টি ফেরাল না, মিতার দিকেই তাকিয়ে আছে। চোখ দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে, সে মিতাকে কতটা চায়। মিতার গা শিউরে উঠছে। না চাইতেও শিহরণ বইছে শিরদাঁড়া দিয়ে।

“আমার থেকে বেশি কেউ তোকে ভালোবাসতে পারবে না,ল” মায়াবী কণ্ঠে বলল অরিয়ন। মিতা চোখ সরাল। অন্য দিকে নজর ফেরায়। অরিয়নের কণ্ঠ কাঁপল না। দৃঢ়তা ফুটে উঠে। মিতা বুঝতে পারছে না, তার কী করা উচিত। অরিয়নের চোখে ভেসে ওঠা অনুভূতি তাকে এক অতল গহ্বরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। চোখ তুলে আবার তাকাল মিতা। অরিয়ন তখনো তার দিকে তাকিয়ে আছে।

অরিয়নের ব্রাউন চোখের মণিগুলো কেমন অদ্ভুত সুন্দর লাগছে মিতার কাছে। চুলগুলো পেছনের দিকে সেট করা। প্রতিবার পলক ফেলতেই চোখের পাপড়িগুলো গাল স্পর্শ করছে। গোলাপি রঙের ঠোঁটে গিয়ে মিতার চোখ আটকে যায়। অরিয়ন তো অনেক সি'গারেট খায়, তবু তার ঠোঁট বেশ গোলাপি। ভরাট ঠোঁটগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকল মিতা।

চোখ তুলে মুখের দিকে তাকায় মিতা। আজ হঠাৎ মনে হচ্ছে, তার সামনে বসে থাকা লোকটা আসলেই সুন্দর।

অরিয়ন আফনান চৌধুরী একজন সুদর্শন পুরুষ।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন