ফন্ট সাইজ:
থিম:
পারমিতা (সিজন ২)

৩০তম পর্ব

লেখক: নাবিলা আহমেদ

#পারমিতা_২

#পর্ব_৩০

#লেখিকা_নাবিলা_আহমেদ(সেহরিশ)

এক সপ্তাহ পর।

পড়ার টেবিলে বসে আছে মিতা। চিলের মতো তীক্ষ্ণ তার দৃষ্টি। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে খাতার দিকে, অংক মেলাতে পারছে না।

“ধুর!” রাগে পুরো অংকটাই কেটে দেয় সে। মন চাচ্ছে খাতা ধরে ছুড়ে ফেলতে। আগে কত সহজেই ম্যাথ বুঝে যেত, আর এখন? অরিয়নকে বিয়ে করে তার মাথায় কি দিন দিন গোবর জমছে? পরক্ষণেই মাথা ঝাঁকায় দ্রুত। কী সব আজেবাজে কথা ভাবছে!

চেয়ার ছেড়ে উঠে মিতা। মাথাটা হ্যাং হয়ে আছে। এক কাপ দুধ-চা খেতে হবে, তাতে যদি মাথাটা একটু হালকা হয়।

ঠ্যাং ঠ্যাং করে নিচে চলে যায় মিতা। খোলা চুলগুলো দোল খাচ্ছে তার নাচানাচিতে। করিডর দিয়ে হাঁটছে মিতা। খোলা চুলগুলো তাকে বিরক্ত করছে। দুই হাত দিয়ে খোঁপা করার জন্য চুল ধরতেই থেমে যায় মিতা।

অরিয়ন মাত্র সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠেছে। মিতাকে দেখামাত্র সেও দাঁড়িয়ে যায়। একে অপরকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার দেখে নেয় দুজন। অরিয়ন হাঁটা শুরু করতেই মিতাও হাঁটা শুরু করে। খোঁপা করে নেয় মিতা।

হঠাৎ অরিয়ন মিতার সামনে নিজের ডান হাত মেলে দেয়। বাধা দেয় মিতাকে যেতে। মিতা অবাক হয়, ভ্রু কুঁচকে তাকায় অরিয়নের দিকে। অরিয়ন ফিক করে হাসে।

হাই, কেমন আছো?

তুমি কি ভালো আছো?

কথা কও না কেন, তুমি কি রাগ করেছো?

থতমত খায় মিতা। হকচকিয়ে তাকিয়ে থাকে অরিয়নের দিকে। বুড়ো বয়সে কি ভীমরতি হয়েছে অরিয়নের? এভাবে ভ্যা ভ্যা করে গান গাইছে। তাও এরকম একটা গান! দাঁত বের করে হাসে অরিয়ন, ভ্রু নাচিয়ে মিতাকে জিজ্ঞেস করছে কী অবস্থা। বিরক্ত হয় মিতা, তা লুকানোর একটু চেষ্টাও করে না।

“আপনার মাথা কি গেছে? খাম্বার সাথে কি বাড়ি খেয়েছেন? খেলে বলুন, সিঁড়ি থেকে ফেলে দিয়ে হেল্প করি স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে।”

অরিয়ন হাঁ করে তাকিয়ে থাকে মিতার দিকে। মেয়েরা নাকি ফানি ছেলে পছন্দ করে, তাই তো নিজেও একটু ফানি সাজার চেষ্টা করেছিল।

“সরুন।” মিতা অরিয়নের হাত ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। হনহনিয়ে নেমে যায় সিঁড়ি দিয়ে। অরিয়ন বেকুবের মতো মিতার দিকে তাকিয়ে থাকে।

“একদিন এর প্রতিশোধ আমি নেবই নেব, হাহ!” বিরবির করতে করতে রুমে প্রবেশ করে অরিয়ন।

-------------

পড়ার টেবিলের ওপর বিশাল বড় একটা কাপ। কাপভর্তি চা। গরম ধোঁয়া উঠছে তা থেকে। মিতার চুল মাথার ওপরে উঁচু করে খোঁপা করা। হাতের কলম নাক আর ঠোঁটের মাঝখানে ধরে চিন্তা করছে, কীভাবে অংকটা করা হয়েছে।

ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আছে অরিয়ন। ফোনে অফিসের ম্যানেজারের সাথে কথা বলছে সে। কথা বলতে বলতেই সিগারেটে আগুন ধরায় অরিয়ন।

সিগারেটের গন্ধ নাকে আসতেই নাক সিটকায় মিতা। শরীরে থাকা ওড়না দিয়ে নাক চেপে ধরে। এই দুর্গন্ধ তার নাকে গেলেই মাথাব্যথা শুরু হবে।

অরিয়ন ব্যালকনি থেকে রুমে প্রবেশ করে। দুই ঠোঁটের মাঝে তার সিগারেট। মৃদু পায়ে গিয়ে মিতার পাশে দাঁড়ায়।

অরিয়নের ছায়া পড়ে মিতার খাতার ওপর। মাথা তুলে অরিয়নের দিকে তাকায় সে। অরিয়নের দৃষ্টি খাতার দিকে।

মিতা কিছু বুঝে ওঠার আগেই অরিয়ন ঝুঁকে টেবিলের ওপর কনুই দিয়ে ভর দিয়ে দাঁড়ায়। ঠোঁট থেকে সিগারেট নিয়ে বাঁ-হাতে ধরে। ডান হাত দিয়ে পাশে থাকা পেন্সিল তুলে নেয়।

মিতার মনে হচ্ছে তার দম আটকে আসছে। সিগারেটের গন্ধে নয়। সে যেন সেই গন্ধটা এত কাছ থেকেও পাচ্ছে না। অরিয়নের মুখটা তার খুব কাছাকাছি। অরিয়নের শরীর থেকে আসা পারফিউমের ঘ্রাণ আর সিগারেটের গন্ধ মিলে একটা অদ্ভুত ঘ্রাণের সৃষ্টি হয়েছে। অস্বস্তি লাগছে মিতার।

অরিয়নের থেকে চোখ সরায় সে। খাতার দিকে তাকায়। অরিয়ন খাতায় অংকটা সমাধান করে দিচ্ছে, মাঝে মাঝে বাঁ-হাত দিয়ে সিগারেট নিয়ে তাতে টান দিচ্ছে।

অরিয়ন কেন এসব করছে, বুঝতে পারছে না মিতা। সে কি মিতাকে সিডিউস করতে চাইছে? মিতা ঘাড় ঘুরিয়ে এসির দিকে তাকায়, এসি চলছে। তবু তার গরম লাগছে, মনে হচ্ছে নিশ্বাস নিতে পারছে না। অরিয়নের দিকে না তাকাতে আবারও তাকায় সে।

অরিয়নের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটতেই গালে টোল পড়ে। অদ্ভুত সুন্দর লাগে তা মিতার। ক্ষণিকের জন্য ইচ্ছে করে টোলটা ছুঁয়ে দেখতে। অরিয়ন মুখ ঘোরায়।

চোখাচোখি হয় দুজনের। একটা থমথমে অবস্থা বিরাজ করে দুজনের মধ্যে। একে অপরের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে দুজনেই। আগে চোখ সরায় মিতা, অরিয়ন মিতার ঠোঁটের দিকে তাকায়। মিতা আবারও তাকায় অরিয়নের দিকে, চোখাচোখি হয় আবারও। অরিয়ন লোলুপ দৃষ্টিতে আবারও মিতার ঠোঁটের দিকে তাকায়।

“আর একবার আমার দিকে এভাবে তাকাবি, তো নেক্সট মুহূর্তে তোর ঠোঁট ভিজে যাবে” কর্কশ কণ্ঠে আওড়ায় অরিয়ন। অরিয়নের কথার ডাবল মিনিং ধরতে পারে না মিতা, ভ্রু কুঁচকায়। পরক্ষণেই চোখ বড় হয় তার। দ্রুত চোখ সরিয়ে খাতার দিকে তাকায়। অরিয়ন বাঁকা হাসে।

অরিয়ন সরে গিয়ে বিছানায় বসে। মিতা খাতার দিকে মনোযোগ দেয়।

“এ... এভাবে করা যাবে?” মিতা বেশিক্ষণ অরিয়নের দিকে তাকিয়ে থাকল না। কেমন যেন লাগছে তার, একবার অরিয়নের দিকে তাকায় তো পরক্ষণেই অন্যদিকে তাকায়। অরিয়ন বিষয়টা খেয়াল করতেই মৃদু হাসে।

“সব ভাবেই করা যাবে।”

“ধন্যবাদ।” অংকটা কত সহজেই বুঝে গেছে সে। তাই ধন্যবাদ জানায় অরিয়নকে।

“মাই প্লেজার।” মিতার মনে হচ্ছে এখন তার মাথাতেই কোনো সমস্যা আছে। অরিয়নের প্রতিটা কথা এমন কেন শোনাচ্ছে তার কাছে? সবকিছু নেশার ঝোঁকের মতো তাকে ঘিরে ধরছে। এক অজানা মোহে জড়িয়ে যাচ্ছে মিতা।

-----------

বসন্তভবন।

আফরিন মায়া চৌধুরীর রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। দরজায় কড়া নাড়বে কি না, বুঝতে পারছে না। তবে তার হাতে সময় একদম নেই বললেই চলে।

“ঠকঠক।”

“আসতে পারো” মায়া চৌধুরীর মিষ্টি কণ্ঠ ভেসে আসে ভেতর থেকে। বড় করে নিশ্বাস নেয় আফরিন। দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢোকে।

মায়া চৌধুরী খাটে বসে আছেন। তার হাতে একটা বই। চোখে চশমা। আফরিনকে দেখামাত্র বই বন্ধ করেন, চশমা খুলে সাইড টেবিলে রাখেন।

“কিছু বলবে?” বইটাও চশমার পাশে রাখেন তিনি। আফরিন কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। বলবে কি না, বুঝতে পারছে না। সেদিনের পর থেকে এই টপিক নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি, তবে আজ বলাটা জরুরি।

“ই... ইমরান আগামী মাসে চলে যাবে। ওর ছুটি শেষ” নিম্নস্বরে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলে আফরিন।

“ইমরান? কোন ইমরান?” ইমরান নামে কাউকে চেনেন বলে মনে পড়ছে না মায়া চৌধুরীর। তবু মনে করার চেষ্টা করেন। আফরিন কিছুটা মলিন মুখে মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে।

আফরিনের মুখটা দেখতেই সবটা পরিষ্কার হয় মায়া চৌধুরীর কাছে। পরক্ষণেই চোখমুখ কঠোর হয়।

“তোমার তো সাহস কম না দেখছি। এসব বলতে আবার এখানে এসেছো” ধারালো কণ্ঠে আওড়ান মায়া চৌধুরী। মেয়েকে কোনো সুযোগ দিতে চান না।

“মা... আমার কথাটা একবার ভাববে না?”

“তোমার কথা আমি কেন ভাবব? তুমি কি আমাদের কথা ভেবেছো? তোমার ছোট বোনটার কথা ভেবেছো?”

“মা...”

“মা কী? এসব করার আগে তোমার ভাবা উচিত ছিল। সবকিছু এত এগিয়ে আসার আগেই বলা উচিত ছিল তোমার অন্য কাউকে পছন্দ। তাহলে সেদিন সেই কাজটা হত না, না আমার মেয়েটার ওমন অবস্থা হত” মায়া চৌধুরীর কণ্ঠে রাগ প্রকাশ পায়।

“আমিও তোমার মেয়ে” অভিমান ফুটে ওঠে আফরিনের কথায়।

“হ্যাঁ, তুমিও আমার মেয়ে বলেই আমি তোমার জন্য মিতাকে আর কষ্ট দিতে চাইছি না।”

“কিন্তু আমি তোমার নিজের মে...”

“একটা থা'প্পড় মা'রব তোমাকে। অনেক বেয়াদব হয়ে গেছো, তাই না? কী বলতে চাইছো তুমি? মিতা আমারই মেয়ে। আর একদিন এসব কথা মুখ দিয়ে বের হবে, তো থা'প্পড়ে দাঁত ফেলে দেব” আফরিন কাঁদো কাঁদো অবস্থায় নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে। সে ওমনভাবে বলতে চায়নি। মিতাকে সে হিংসা করে, তেমনও না।

মায়া চৌধুরী রাগে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ান। আফরিনের কথাটা তার হৃদয়ে গিয়ে লেগেছে। যতই হোক, যে যাই বলুক, মিতা তার মেয়ে। তিনি মিতার মা। ছোট থেকে কোলেপিঠে আদর করে তিনি মিতাকে লালন-পালন করেছেন। তাই মিতার মা হওয়ার অধিকার তারই আছে।

“ছেলেটাকে ভুলে যাও। একটা ছেলের জন্য বোনদের মধ্যে আমি খারাপ সম্পর্ক তৈরি হতে দেব না” কড়া কণ্ঠে নিজের মতামত জানিয়ে দেন মায়া চৌধুরী।

“কিন্তু মা, মিতা জানতে পারলে কখনোই রাগ করবে না। ও আমাকে অনেক ভালোবাসে।”

“ভালোবাসে বলেই তোমার উচিত চুপ থাকা। নিজের ভালোবাসার লোভে অরিয়নের সাথে তুমি ওকে বিয়ে করতে দিয়েছো, তা ও কীভাবে সহ্য করবে? ঐ ছেলের সাথে সম্পর্ক না থাকলে তুমি কখনো বিয়ের এক সপ্তাহ আগে অরিয়নকে অন্য জায়গায় বিয়ে করতে দিতে? দিতে না। নিজের সম্মান রক্ষার জন্য হলেও করে নিতে বিয়েটা। কিন্তু কী করেছো তুমি?” আফরিন চুপ করে থাকে। মায়া চৌধুরী মিথ্যে বলছেন না। সে কাউকে ভালোবাসে বলেই সেদিন পিছিয়ে গিয়েছিল, যার ফলস্বরূপ অরিয়ন আর মিতার বিয়েটা হয়েছে।

“মিতা তার মেয়ে হওয়ার কর্তব্য পালন করেছে, আমি আশা করব তুমিও তাই করবে। এখন যেতে পারো।” আফরিন অশ্রুসিক্ত নয়নে মায়া চৌধুরীর দিকে তাকায়। তাতে যদি তার মনটা একটু নরম হয়, কিন্তু মুখ ঘুরিয়ে ফেলেন মায়া চৌধুরী। মৃদু পায়ে হেঁটে আফরিন রুম থেকে বেরিয়ে যায়।

মায়া চৌধুরী বড় করে নিশ্বাস ছাড়েন। পরক্ষণেই চোখের কোণে পানি আসে। দ্রুত মুছে ফেলেন তিনি। মা হয়ে সন্তানের চোখের পানি কীভাবে সহ্য করবেন তিনি? কিন্তু এক সন্তানের জন্য অন্য সন্তানের প্রতিও তিনি অবিচার করতে পারেন না। তাই তার কাছে যা ভালো মনে হয়, সেটাই করবেন বলে ঠিক করেছেন।

-------------

পরের দিন দুপুরে।

ছুটির ঘণ্টা বাজতেই কলেজ থেকে সকলে বের হতে শুরু করে। অরিয়ন গাড়ি নিয়ে কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ঘড়িতে এখন ১:৪০ বাজে। একটা ১:৩৫-এ মিতার ছুটি হওয়ার কথা।

মিতা বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে ক্লাস থেকে বের হয়। চেহারার অবস্থা বারোটা। ক্লাসে বসে একে অপরের চুল টানাটানি করতে করতে প্রায় অর্ধেক চুল বের হয়ে এসেছে মিতার। কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ নিয়ে ফাহমিদার গলা ধরে হাঁটে সে। ফাহমিদাও কিছু একটা নিয়ে হাসছে আর কথা বলছে। মিতার ডান পাশে রয়েছে তাদের নতুন বন্ধু সিয়াম।

মিতা ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে। বোতলের ঢাকনা খুলে চুমুক দিতে দিতে কলেজ থেকে বের হয়। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে কালো রঙের প্রাইভেট কার। ড্রাইভিং সিটে অরিয়ন বসা।

অরিয়নকে দেখতেই দাঁড়িয়ে যায় মিতা। হাতের পানি পড়ে যায় অজান্তেই, ভিজিয়ে ফেলে মিতার এপ্রোন।

“কিরে, চোখে দেখিস না?” পানি ফেলে দেওয়ায় বলে ফাহমিদা।

“কিরে, ভূত দেখলি নাকি?” প্রশ্ন করে সিয়াম।

“না। রা'ক্ষস দেখেছি” আনমনে জবাব দেয় মিতা। সকলে অবাক হয়।

“মানে?” একই সাথে সিয়াম আর ফাহমিদা বলে ওঠে।

“আচ্ছা, যাই আমি। বাই, কাল দেখা হবে।” মিতা আর অপেক্ষা করে না। দৌড়ে গাড়ির সামনে যায়। পেছন থেকে ফাহমিদা আর সিয়াম মিতাকে ছাড়া আর কাউকেই দেখতে পায় না। গাড়িতে উঠে বসে মিতা।

মিতা গাড়িতে উঠে বসে। অরিয়ন গাড়ি স্টার্ট দেয়। কলেজের স্টুডেন্টরা রাস্তা পার হচ্ছে অনেকেই, তাই ধীরে ধীরে গাড়ি চালায় অরিয়ন। মিতার দিকে একবার তাকায় সে। চোখ যায় এপ্রোনের দিকে, কিছু অংশ ভিজে আছে।

“বোতলে পানি আছে?” জিজ্ঞেস করে অরিয়ন। মিতা মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোঝায়।

“তোর বোতলে তুই ছাড়া অন্য কেউ মুখ লাগায়?”

“না। আমার বোতলে অন্যজন কেন মুখ লাগাবে? আর সবাই যার যার বোতল নিয়ে আসে” কড়া গলায় জবাব দেয় মিতা। মিষ্টি মিষ্টি কণ্ঠে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না।

“দে।” অরিয়ন হাত বাড়ায়। মিতা ভ্রু কুঁচকায়। কী চাইছে অরিয়ন? তাকিয়ে থাকে অরিয়নের দিকে।

“পানির বোতল।”

“ওহ!” পানির বোতল বের করে দেয় মিতা। অরিয়ন এক নিমিষেই বোতলের ঢাকনা খোলে।

“আরে আরে, আমি মুখ লাগিয়েছি ত...” কথা শেষ করতে পারে না মিতা। বোতলে মুখ লাগায় অরিয়ন, ঢকঢক করে এক নিমিষেই বোতলের পুরো পানি শেষ করে দেয়। মিতা আহাম্মকের মতো তাকিয়ে থাকে অরিয়নের দিকে। এতক্ষণে অরিয়নের প্রশ্নের কারণটা বুঝতে পেরেছে।

মুখ লাল হয়ে যায় মিতার। কান দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে মনে হয়। হার্টবিট কেমন যেন দ্রুত চলছে। বোতল ফিরিয়ে দেয় অরিয়ন। মিতা অরিয়নের দিকে তাকায় না, হাত বাড়িয়ে বোতল নেয়। ক্ষণিকের জন্য আড়চোখে অরিয়নের দিকে তাকায়। চোখাচোখি হয় দুজনের।

অরিয়নের ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি। মিতার সাথে চোখাচোখি হতেই চোখ মা'রে অরিয়ন। মিতা দ্রুত বাইরের দিকে তাকায়। কেমন যেন লাগছে তার। এই লোকটা ইদানীং এমন করছে কেন তার সাথে? যেন মিতাকে ছাড়া সে থাকতেই পারে না। সত্যি কি অরিয়ন মিতাকে ছাড়া থাকতে পারে না?

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন