ফন্ট সাইজ:
থিম:
ব্লাডিং হার্ট

১৮তম পর্ব

লেখক: স্বপ্নীল সৃজনী
#ব্লাডিং_হার্ট
#স্বপ্নীল_সৃজনী
পর্ব: ১৮
অপর পাশ থেকে আতঙ্কিত বিধ্বস্ত এক স্বর ভেসে এলো -" স্যার, স্যার। প্লিজ হেল্প মি। আমি খুব বিপদে পরে আপনাকে ফোন করেছি। প্লিজ আমাকে রেসকিউ করে নিন। না হলে ওরা আমাকে বাঁচতে  দেবে না।"
-" হেই, লিসেন টু মি। হু আর ইউ? হয়ার আর ইউ ফর্ম?"
-..................
-" হ্যালো। আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন আমাকে।হ্যালো।
না এবারেও অপর পাশ থেকে কোনো কোনো উত্তর এলো না। হৃদ সময় নষ্ট না করে বিছানা থেকে উঠে দ্রুত রেডি হয়ে নিলো। তারপর ঘর থেকে বের হয়ে যেতে যেতে জাবিদকে কল করে নাম্বারটা সেন্ড করে লোকেশন পাঠাতে বললো।
নিচ থেকে উপরে আসছিলো  রিধি। হৃদ কে হন্তদন্ত হয়ে বের হতে দেখে হৃদের সামনে গিয়ে বললো-" কি হয়েছে? এনি প্রবলেম?"
-" হুম। একটা আননোন নাম্বার থেকে কল এসেছিল। একটা মেয়ে কল করে বললো সে বিপদে পরেছে। ইমিডিয়েটলি যেতে হবে।"
-" ওকে আমিও রেডি হয়ে আসছি।"
অয়না চৌধুরী তখন পেছন থেকে বললো-" তোমার আজকে যাওয়া হচ্ছে না রিধি। আজ বাদে কাল তোমার আর হৃদের বিয়ে। এমনিতেই সময় কম।একটু পর আমাদের সাথে শপিং করতে যাবে তুমি। হৃদকে তো মানা করলেও কাজ হবে না। তার মধ্যে তুমিও যদি না থাকো তাহলে শপিং করতে যাওয়ার কোনো মানেই হয় না।"
রিধি তখন ব্যস্ত সুরে বললো-" মা আমার কাছে আমার কাজ আগে। সরি টু সে আমাকে যেতে হবে।"
 অয়না চৌধুরী তখন খানিক রেগে বললেন-" তোমার বড় আব্বু জানলে রাগ করবে। যা ইচ্ছে করো তোমরা। আমাদের কথার তো কোনো দামই নেই।"
 কথাটা বলেই নিজের ঘরের দিকে চলে গেলেন অয়না চৌধুরী।
 
রিধি তখন অসহায় মুখ করে হৃদের দিকে তাকালো। হৃদ চোখ দিয়ে আশ্বস্ত করে বললো-" নো প্রবলেম রিধি। তুই শপিং চলে যা। তেমন ডেন্জারাস কিছু না। আমি আসছি।"
......................
......বেলা বারো টাই.........
ইট্রোগেশন রুমে বসে আছে হৃদ। রাগে তার শরীর রিরি করছে।মাথা গরম হয়ে আসছে তার। তার সামনে জড়সড় হয়ে বসে আছে একটি মেয়ে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে এক বেলা খেতে পেলে আরেক বেলা পায় না। 
টেবিলে উপর হাত দিয়ে থাপ্পড় দিয়ে রাগী সুরে হৃদ বললো-" এই মেয়ে শেষবারের মতো জিঙ্গেস করছি। সত্যি করে বলো কেন মিথ্যে কথা বলে ফোন করেছো আমাকে?"
মেয়েটি থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে বললো-" আমারে মাফ কইরা দ্যান স্যার। আমি বস্তিতে থাকি। একজন স্যার আইসা কইলো 'আপনার নাম্বারে ফোন দিয়া ঐ কথা গুলো কইলে আমারে খাইতে দিবো। দুই দিন ধরে খাই না স্যার।পেটের যন্ত্রণা সইতে না পাইরা এমন করছি।মাফ কইরা দেন।"
কথা গুলো বলে ঝরঝর করে কেঁদে দিল মেয়েটি। হৃদ উঠে চলে এলো। 
গম্ভীর মুখে  হৃদ  জাবিদ কে বললো-" জাবিদ। মেয়েটার জন্য কিছু খাওয়ার ব্যবস্থা করো। দেন ওকে সেইভলি ওর বাসায় পৌছে দিবে। গট ইট।"
-" ওকে স্যার।"
 ইট্রোগেশন রুম থেকে বের হয়ে সোজা আকরাম হাসানের কেবিনে ঢুকলো হৃদ। সোজা গিয়ে  আকরাম হাসানের সামনে বসে বললো-" স্যার। আই থিংক। মেয়েটাকে জাস্ট ইউজ করা হয়েছে মাত্র। ওদের মোটিভ অন্যকিছু।"
 _" তুমি সিউর হৃদ? মেয়েটার কোনো দোষ নেই।"
 
 -" অনেক দিনের এক্সপেরিয়েন্স। তা কখনো ভুল হতে পারে না। মেয়েটার চোখ-মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে মেয়েটা পরিস্থিতির স্বীকার।"
 
 -" আই নো হৃদ। তোমার আইকিউ সেন্স অনেক গভীর। তোমার অনুমান কখনো ভুল হয় না।"
-" তো তোমার কি মনে হয়। কে আর কেন করছে এসব।"
-" স্যার আমার যতদূর মনে হয় এর সাথে আকিব মির্জা যার সাথে ডিল করেছিলো তার কোনো না কোনো কানেশন আছে।
- " কি বললো। কিন্তু সে যে এই দেশে এসেছে তেমন তো কোনো ইনফরমেশন  পাইনি।"
- " কিন্তু আমি পেয়েছি। সে গতকাল সন্ধায় বাংলাদেশে ল্যান্ড করেছে ছয়টার ফ্লাইটে। সে লন্ডন  থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক শাহাজালাল বিমান বন্ধরে ল্যান্ড  করেছিল। 
-" যদিও তার মেইন পরিচয় আমার কাছে এখনো পৌছায়নি।"
হৃদের কথা শেষ হতেই ফোন বেজে উঠলো হৃদের। ফোন রিসিভ করতেই ফোনের অপর পাশ থেকে চৌধুরী বাড়ির সিকিউরিটি বললো-" স্যার। আপনি তারাতারি বাসায় আসেন। করা যেনো আক্রমণ..........।
আর বলতে পারলো না সিকিউরিটি। দূর থেকে একটি বু'লে'ট ঝা'ঝ'রা করে দিলো লোকটির বক্ষপিন্জর। লোকটি লুটিয়ে পরলো ভূ- মেদিনীর বুকে। পরনের মোটা শক্ত  খাকি পোশাক পেরিয়ে র'ক্ত কলকল  করে বের হতে লাগলো। নিমেষেই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করলো লোকটি।
ফোনের অপর পাশ থেকে ক্রমাগত সিকিউরিটি কে ডেকে চলেছে হৃদ। শেষে কোনো সারাশব্দ না পেয়ে বেরিয়ে পরলো বাড়ির উদ্দেশ্যে। 
 আকরাম হাসান পেছন থেকে বললো-" এনি থিং রং হৃদ?"
  -" জ্বি স্যার। আই গেস বাড়িতে কিছু হয়েছে আমি আসছি। আসসালামুয়ালাইকুম।
  
   জবাবের অপেক্ষা করলো না হৃদ। দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেল। তার মন বলছে বাড়িতে খারাপ কিছু হচ্ছে।
......................
বাড়ির গেইটের সামনে আসতেই থমকে গেল হৃদ। বাড়ির গেইটে আজ কোনো তালা নেই। গেইটা খোলা অবস্থায়  ভেঙ্গেছে জড়ঝির্ণ হয়ে পরে আছে। গাড়ি এক সাইটে পার্ক করতেই গেইটের কাছে সিকিউরিটির লাশ দেখতে পেল হৃদ। দৌড়ে গিয়ে সিকিউরিটিকে কয়েক বার ডাকলো কিন্তু কাজ হলো না। কারণ তিনি ইতোমধ্যে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করেছেন।
এর মধ্যেই জাবিদও এসে পৌছালো। হৃদের কাঁধে হাত দিয়ে বললো-" স্যার উঠে আসুন। ভিতরে যেতে হবে আমি এ্যম্বুলেন্সে কল করে দিয়েছি।"
হৃদ হন্তদন্ত হয়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো বাড়ির প্রবেশ দার ভেঙ্গে পরে আছে। বাড়িতে ডুকতেই ধক করে উঠলো হৃদের বুক। বাড়িতে শুমশান নিরবতা। কোথাও কোনো সারা শব্দ নেই। আনন্দ আহ্লাদের ঘেরা চৌধুরী বাড়ি আজ নিস্তব্ধ পাতাল পুরীর রূপ নিয়েছে। বাড়িতে ঢুকতেই কয়েক বার মা ছোট মা বলে ডাকলো হৃদ। কোনো উত্তর এলো না। হঠাৎ হৃদের চোখ খাবার টেবিলের দিকে যেতেই নিজের মাকে পরে থাকতে দেখলো হৃদ। দ্রুত গিয়ে  মায়ের মাথাটা নিজের  কুলে তুলে নিলো হৃদ। বাম হাতে জঘন্য ভাবে ব্যথা পেয়েছে ইরিনা চৌধুরী। হাতে ভারি কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়ে। হয়তো কাচ জাতীয় কিছু। হাতের বিভিন্ন জায়গায় কাঁচের টুকরো লেগে আছে। পেটে গুলি লাগার চিহ্ন। ইরিনা  চৌধুরীকে কুলে নিতেই ব্যথায় শিউরে উঠলেন তিনি।  কোনো রকমে কিছু বলার চেষ্টা করছেন তিনি কিন্তু তা হৃদের কান অবধি পৌছালো না। হৃদ বারবার মা মা বলে এটা ওটা জিঙ্গেস করলো কিন্তু উত্তর দিতে পারলো না ইরিনা চৌধুরী। অঙ্গান হয়ে গেলেন তিনি।
তখনই বাড়ির সিড়ির কাছ থেকে জাবিদের ডাক শুনতে পেল হৃদ। মাকে রেখে এগিয়ে যেতেই আরেক ধাক্কা। এবার যেনো মাথাটাও ঘুরে উঠলো তার। কোনো রকমে থেমেথেমে সিড়ির কাছে গিয়ে অয়না চৌধুরীকে দেখতে পেল হৃদ। র'ক্তে বর্নীল রূপ ধারণ করেছে অয়না চৌধুরীর দেহ খানি। ঠোঁট কেটে রক্ত বের হচ্ছে। দেখে বোঝাই যাচ্ছে কেউ নিষ্ঠুর ভাবে থাপ্পড় মেরেছে। গলায় গলা চেপে ধরার দাগ স্পষ্ট। দুইহাতে রশি দিয়ে বেধে রাখার দাগ। বুকের পাশে গুলির দাগ। মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিলো হৃদের। কোন দিকে যাবে কি করবে কিছুই যেন মাথায় ঢুকছে না তার তখনই শোনা গেল 
জাবিদের থমথমে স্বর-" স্যার।ম্যামের পালস রেট খুব কম। ইমিডিয়েটলি হসপিটালে পাঠাতে হবে। "কোনো উত্তর দিল হৃদ। সে যেনো পাথরে পরিণত হয়েছে। কোনো আওয়াজ যেনো পৌছাচ্ছে না তার মধ্যে।
তখনই বাইরে এ্যম্বুলেন্সের আওয়াজ শোনা গেল। হুড়মুড় করে কিছু লোক  ভিতরে প্রবেশ করলো।
 হৃদকে জোর করে সরিয়ে দিল হসপিটালের ইমারজেন্সি স্টাফের লোক জন। শুভ্র সাদা চাঁদরে মুড়িয়ে র'ক্তে রঞ্জিত দেহ খানি নিয়ে তাঁরা ছুট লাগালো হসপিটালের দিকে। 
 দ্রুত পায়ে উপরে উঠে গেল হৃদ। বাড়ির সব জিনিস লন্ডভন্ড হয়ে পরে আছে। এ ঘর;ঐ ঘর করে এক এক করে সব ঘর দেখতে লাগলো জাবিদ আর হৃদ। যখনই সিড়ি বেয়ে নিচের দিকে আসবে হৃদ তখনই শুনতে পেলো কেউ নিথর ভাবে ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকছে। পিছনে তাকাতেই বারান্দার কাছে নীতিকে পরে থাকতে দেখলো হৃদ। কাঁধের এক পাশে কাটা দাগ নীতির। শরীরে অজস্র অগণিত ছোট ছোট কাটার দাগ যেগুলো ইতোমধ্যে  শুকিয়ে র'ক্ত জমাট বেধেছে প্রায়।  পেটের কাছে চাকু ঢোকানোর চিহ্ন।ছোট্ট মেয়েটাকেও ছাড়েনি মানুষ রূপী নরপশু গুলো। নীতির রক্তে ভেসে যাচ্ছে বারান্দা। দ্রুত নীতিকে কোলে তুলে নিল হৃদ। 
 
 কোলে করে নিয়ে বাইরের দিকে যেতে যেতে জাবিদ কে বললো-" জাবিদ গাড়ির বের করো। জাবিদ।"
তখনই বাড়িতে  প্রবেশ করলো আবির। মাত্রই মেডিকেল থেকে বাড়িতে এসেছে সে। হৃদের কোলে নীতির দেহ খানি দেখে দৌড়ে হৃদের কাছে এসে নীতেকে ছুয়ে বললো-" ভাইয়া নীতির কি হয়েছে? ও এভাবে আছে কেন ভাইয়া? কথা বলছো না কেন তুমি? শুনতে পাচ্ছো তুমি আমার কথা?"
কথা বলেই ঝরঝর করে কেঁদে দিলো আবির। নীতি তখন হৃদের দিকে তাকিয়ে  থেমে থেমে বললো-" ভা ই য়া আ মি  বা চ তে চা ই। আ মা কে তু মি বা চা বে না?"
 এবার আর নিজেকে শক্ত রাখতে পারলো না হৃদ। অশ্রু কণায় ভর‍ে উঠলো হৃদের চোখ জোড়া। নীতিকে নিয়ে গাড়িতে বসতে বসতে বললো -" এই পাকনি বুড়ি। এসব কি বলছিস। ভাইয়া আছি না। ভাইয়া তোর কিচ্ছু হতে দিবে না।"
হৃদের পাশেই সমান তালে কেঁদের যাচ্ছে আবির। সামনে জাবিদও বাদ নেই। সে এক হাতে ড্রাইভ করছে।আর অন্য হাতে চোখে পানি মুছে ফেলছে।
নীতি চোখ দুটো বুজে নিতে নিলেই হৃদ ধরা গলায় বললো-" নীতি সোনা চোখ বন্ধ করো না। এই তো আমরা এসে গেছি হসপিটালে। তুমি একদম ভালো হয়ে যাবে।"
  নীতি  একটু একটু করে বলতে লাগলো-" ভাইয়া আমার না খুব কষ্ট হচ্ছে। ভাইয়া আমি হয়তো আর বাঁচবো না। ভাইয়া।"
  
আবির নীতির দিকে থাপ্পড় দেখিয়ে বললো-" এই পাগল এসব কথা বলতে নেই বোন। তুই আমার সাথে ঝগড়া করবি না চকলেট নিয়ে। ভাইয়া তো তোর সাথে ঝগড়া করবে।  শেষে তুই যদি তোর ঐ ছোট্ট হাত দুটি দিয়ে আমাকে মারিসও তবুও আমি তোর কান মুলে দেব না এই প্রমিজ। তবুও এসব কথা বলিস না বোন।"
নীতি মলিন হেসে হৃদে দিকে তাকিয়ে কাঁপা হাতে আবিরের চোখের পানি মুছে দেওয়ার চেষ্টা করলো কিন্তু পারলো না। শরীর অবশ হয়ে আসছে তার। হৃদের দিকে চেয়ে বললো -" ও ভাইয়া তুমিও কাঁদছো। ছোট ভাইয়াও তো কাদছে। তোমাকে কাঁদলে একদম ভালো লাগে তুমি কেঁদো না ভাইয়া। আমি বাঁচতে চাইয়া ভাইয়া।চকলেট নিয়ে বয়না করতে চাই। তোমাদের মাঝে হেসে খেলে থাকতে চাই।"
নীতির কথা শেষ হতেই নীতিকে বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো হৃদ। অশ্রুর কণারা আষাঢ়ের ঝুম বৃষ্টির মতো ঝরতে লাগতো। রাস্তা যেনো শেষ হচ্ছে না আজ।কংক্রিটের ঢাকা শহর। জ্যামের শেষ নেই। যা মানে না কোনো মানুষের জীবণ মরণের নিয়ম। শেষে না পেরে জাবিদ ড্রাইভিং সিট থেকে সামনে দাড়ানো গাড়ির ড্রাইভার গুলোকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে লাগলো। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তে  সে কি বলছে কিছুই তার মাথায় ঢুকছে না। সে শুধু একটা কথাই ভাবছে তাকে যতো দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
প্রায় আধা ঘন্টা পর হসপিটালে পৌছালো হৃদ। নার্সরা যখন স্টেচারে করে নীতিকে নিয়ে যাবে ততক্ষণে ঙ্গান হারিয়েছে নীতি। আগের মতো কথা বলছে না সে।
 ডাক্তার এসে নীতির পালস চেক করে বললো-" সরি। মিস্টার হৃদ। সি ইজ নো মোর। "
হৃদ ডাক্তারের কলার চেপে ধরে বললো-" হেই ডাক্তার। আর ইউ লস ইউর মাইন্ড। আমার বোনের কিচ্ছু হতে পারে না।"
জাবিদ দ্রুত এসে হৃদকে ছাড়িয়ে নিল। ডাক্তার কলার ঠিক করতে করতে বললো-" সরি টু সে মিস্টার হৃদ। আপনির অনেক দেরি করে ফেলেছেন ওকে এখানে আনতে। ওর দেহ  থেকে অনেক রক্ত বের হয়ে গেছে প্লাস ওর পেটের ক্ষতটা অনেক গভীর। সেই জন্যই মৃত্যু হয়েছে ওর।"
চিৎকার করে উঠলেন নিলিমা চৌধুরী। সকাল বেলাই অফিস গেছিলো তিনি। খবর পেয়ে ছুটে আসেন হসপিটালে। সাথেই আছে অয়ন চৌধুরীর। তার হসপিটালে নাইট ডিউটি ছিল। কিন্তু বাড়ি ফেরার আগেই এই নিশংস ঘটনা। আদরের বোনকে পরে যাওয়ার আগেই  আগলে নিলেন তিনি।  গলা কাটা মুরগির মতো হাওমাও করে পাগলের মতো কান্না করতে লাগলো নিলিমা চৌধুরী। বোনের আর পরিবারের এমন অবস্থায় অয়ন চৌধুরীও দূর্বল হয়ে পরেছে। ইশতিয়াক চৌধুরীর জরুরী ফ্লাইট বুক করে যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরার চেষ্টা করছে।
কান্না করতে করতে অবস্থান খারাপ হয়ে গেছে নালিমা চৌধুরীর। তাকেও এডমিট করা হয়েছে হসপিটালে। ডাক্তার বলেছেন অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে ছোট খাটো ব্রেইন স্টোক করছেন নিলিমা চৌধুরী।  চৌধুরীর বাড়ির সকলে যেন এক একটা জীবন্ত লাশ হয়ে গেছে।
হসপিটাল করিডোর বসে আছে হৃদ। মুখে তার কোনো কথা নেই; কোনো রিয়াকসন নেই। তার ভিতরে কি চলছে বোঝা বড় দায়। নিজেকে কঠিন আবরণে ঘিরে রেখেছে হৃদ। ভেঙ্গে পরলে চলবে না। রিশাদ চৌধুরী হৃদ কে ভাঙ্গা এতো সহজ না। 
এমন সময় জাবিদ এসে বললো-" স্যার আমি আপনাদের বাড়ির সব সিসিটিভি ফুটেজ চেক করেছি। ওরা সব মুখোশ পরে ছিল বিদায় চেনা যাচ্ছে না। তবে আপনার সন্দেহই ঠিক। ওরা রিধির মাথায় আঘাত করে রিধিকে তুলে নিয়ে গেছে।"
করিডরের চেয়ারে বসে মুখে হাত দিয়ে ছাপিয়ে ধরে জাবিদের কথা শুনছিল হৃদ। এমন সময় তার ফোনে ম্যাসেজ টিউন বেজে উঠলো। 
পকেট থেকে ফোন বের করে মেসেজ ওপেন করতেই হৃদ দেখতে পেল-" 
............. আমি এসে গেছি হৃদ। তোর জীবন বিষিয়ে দিতে আমি এসে গেছি।  তোর জীবন আমি নরক বানিয়ে দেব। শ্বাস নিতেও কষ্ট হবে তোর। প্রথম আঘাতটা কেমন লাগলো। কাউন ডাউন কিন্তু শুরু হয়ে গেছে।  সময় খুব কম।  নেক্সট  আঘাতটা আরও ভয়ানক হবে। পারলে রুখে দেখা। তৈরি হয়ে যা তুই নতুন কোনো আঘাতের জন্য।.........
 #চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন