#ব্লাডিং_হার্ট
#স্বপ্নীল_সৃজনী
পর্ব: ২০
এমন সময় পিছন থেকে কেউ বললো-" থেমে যা বলছি। না হলে তোর বউ শেষ।"
হৃদ চমকে পেছনে তাকাতেই একজন কে দেখে থেমে গেল সে। মাথার চুল গুলো টানতে টানতে রিভলবার টা কোমরে গুজে নিলো হৃদ। হাফ- ভাব বুঝা মুশকিল তার। পেছনে তাকিয়ে চোখ -মুখ গম্ভীর করে বললো-" রোহান মির্জা। আনিস মির্জার ছেলে। বাহ্। বাবা-চাচা যে পথে ছিল। তাদের ছেলেতো এক ধাপ এগিয়ে। ইতোমধ্যে পাঁচটা ধর্ষণ কেসের আসামি। নেহাতই টাকার জোরে মিথ্যে সাক্ষীর ভিত্তিতে এখনো বাইরে। তাছাড়া নারী পাচারকারীর ট্যাগ তো লেগেই আছে।"
-" বাহ্। বাহ্। আমার সম্পর্কে অনেক কিছুই জানিস দেখছি। তবে তোর সম্পর্কে ঠিকই শুনেছিলাম। অনেক দিন পর একজন ভালো মাপের খেলোয়াড় পেলাম। এখন খেলে মজা পাব।"
-" মজা পাবি নাকি আমার সাথে দেখা হওয়ার জন্য আফসোস করবি সেটা তো সময় বলে দেবে। "
-" আমি কখনো আফসোস করিনা। সবটাই পরিকল্পনা মাফিক।"
-" হাহাহা.....। তুই তো এখনো বাচ্ছা আমার কাছে। এই বুদ্ধি নিয়ে আমার সাথে খেলতে এসেছিস। ভাবতেও হাসি পাচ্ছে।"
রোহান মির্জা উচ্চস্বরে বললো-" হেসে নে, হেসে নে। কে বলতে পারে এইটাই হয়তো তোর শেষ হাসি।"
হৃদ পাশের একটি টেবিলে লাথি মেরে বললো-" এই আওয়াজ নিচে। রিশাদ চৌধুরী হৃদ উচ্চ স্বর একদম পছন্দ করে না। গলা নিচু করে কথা বল।"
রোহান রিধির গলার ছুড়িটা এটে দিয়ে বললো-" এই শান্ত শান্ত। না হলে একদম মেরে দেব একে।"
-" সত্যি বলছি রিধির গায়ে যদি আর একটা আচরও পরে তোকে মেরে মেরে এমন হাল করবো যে নিজের চেহারাটা দেখেও তুই শিউরে উঠবি। আমার আগেই সন্দেহ হয়েছিল আরিয়ান একা এসব করতে পারবে না। কারণ ও তো দেশে বাইরে চলে গিয়েছিলো। দেশের কোনো কুকুরের সাহায্য ছাড়া এসব অসম্ভব।"
-" হুম হুম। তুই ঠিকই ধরেছিস। ঐ বোকাটা তো আমার খেলার একটা ঘুটি মাত্র। যাকে ইউজ করেছি আমি। মেইন মাস্টার মাইন্ড তো আমি। মাঝ খান থেকে ও মরা গেল। ইশ সত্যিই দুঃখজনক। কিন্তু আমার দুঃখ লাগছে না। হাহাহা......।
-" তুই একটা মেন্টাল। যার মাথার ঠিক নেই। তোর মেন্টাল ট্রিটমেন্ট দরকার।"
-" ট্রিটমেন্ট তো তোর বউয়ের দরকার। সত্যিই তোর উপযুক্ত সহধর্মীনি বলতে হবে। বেশ লাফালাফি করছিল। শান্ত হচ্ছিলোই না। তোর মতোই হাতও চলে। আমি কিন্তু বেশ ইমপ্রেস হয়েছি তোর বউয়ের উপর।লাইফে প্রথম কোনো মেয়ে প্রতি ইমপ্রেস হয়েছি আমি।"
হৃদ তখন রিধিকে ধরার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে যেতেই রোহান হুংকার ছেড়ে বললো-" না না। সামনে এগুবি না। সামনে এগিয়ে আসলেই ওকে শেষ করে দিব। আজই শেষ দিন হবে ওর।"
হৃদ একটু পিছিয়ে গিয়ে বললো-" ওকে কি করেছিস। সত্যি করে বল হা'রা'মির বাচ্চা।ওর কি করেছিস। ও এভাবে ঝিমুচ্ছে কেন?"
-" আরে আরে এই টুকুতেই এতো রাগ করলে চলে নাকি। আরও অনেক কিছুই তো বাকি আছে এখনো। "
কথাটা বলেই রোহান পকেট থেকে একটা ইনজেকশন বের করলো। ইনজেকশনটা হৃদকে দেখিয়ে বললো-" এটা কি জানিস তো। এটা হচ্ছে এলএসডি মেডিসিন। অর্থাৎ লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাই-ইথ্যালামাইড। এটা এমন এক ধরনের মেডিসিন যা মানুষের মস্তিষ্কের উপর প্রভাব ফেলে। যার ফলে মানুষ ভ্রম দেখে। অবাস্তব জিনিস বাস্তব মনে হয় মানুষে। বাস্তব আর অবাস্তবে মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না মানুষ। দুইটার মধ্যে তালগোল পাকিয়ে ফেলে মানুষ। আর এক সময় প্রচন্ড চাপে ব্রেইন স্টোক পর্যন্ত হয়। ইতোমধ্যে এই ইনজেকশনটা চার বার পুশ করা হয়েছে বেচারির শরীরের। তাই তো এমন অবস্থা। তাছাড়া তোদের বাড়ি থেকে কিডন্যাপ করার সময় তো একটা ঘুমের ইনজেকশনও পুশ করেছিলাম। তা না হলে এ কি এতো শান্ত থাকার মেয়ে। দেখছিস না সোজা হয়ে দাড়াতেও পারছে না। তবে বলতেই হবে জব্বর মাল ভাই।"
হৃদ প্রচন্ড রাগে পাশ থেকে একটা চেয়ার উপরে উঠিয়ে বললো-" তোকে তো আমি এখনই শেষ করে দিব। এই নোংরা মুখে ওর সম্পর্কে একটা কথাও না। মাল বলছিস কাকে। ও রিশাদ চৌধুরী হৃদের বউ। শুনতে পেয়েছিস ও রিশাদ চৌধুরী হৃদের বউ। ওর যদি আর একটা ফুলের টোকা লাগে আমি তোকে ভয়ানক ভাবে মারবো। ওকে তো আমি সেইভ করে নেব। কিন্তু মাঝ খান থেকে তোর জীরনটা বলি হবে।"
-" আমি বলি হবো। হাসালি তুই। আমার আস্তানায় এসে আমাকেই হুমকি।"
-" আস্তনা নিয়ে ঘুরে কারা জানিস। কুকুরের দল। আর আমি হলাম সিংহ । বনের রাজা। যেখানে যাই পুরোটাই আমার।"
-" ওহ তাই নাকি। তোর চোখের সামনে থেকে তোর বউ কে নিয়ে যাব। আর তুই কিচ্ছু করতে পারবি না কিচ্ছু না। পাচার করে দেব সি আই ডি ইন্সপেক্টর অয়নিকা চৌধুরী রিধিমা কে। সিআইডির সব অহংকার শেষ করে দেব।ভেঙ্গে দেব তোদের।শুনেছি তোদের বিয়েটা নাকি অ্যাকসিডেন্টলি হয়েছে। আচ্ছা বাসর করেছিস ওহো তুই তো তখন তোর প্রেমিকা নিয়ে ব্যস্ত ছিলি। সে যাই হোক এখন থেকে প্রতিদিনই বাসর হবে তোর বউয়ের। প্রতিদিন একেকটা পুরুষ অপবিত্র করে দেবে তোর বউকে। মৃত্যুর জন্য কান্না করবে তোর বউ কিন্তু মৃত্যু মিলবে না। ঠিক তুই যেভাবে আমার বাবাকে মেরেছিস। আর আমি ড্যাম সিউর ওর শরীরে অন্য পুরুষের ছোয়া তোকে জালিয়ে পুড়িয়ে শেষ দিবে।"
-" খরবদার এই সব কথা মাথাও আনবি না।"
-" মাথায় আনবো কেন? আমি তো করে দেখাবো।তারপর ভিডিও করে ভাইরাল করে দেব। চিন্তা করিস না তোকে না হয় পারসোনালি পাঠাবো। আসছি আমি।"
কথাটা বলেই রোহান রিধির গলায় ধরে রাখা ছুড়িটা তার লোক জনের হাতে দিয়ে রিধিকে গাড়িতে উঠাতে বললো।
নেশায় বুধ হয়ে আছে রিধি। চোখ বুঝে আসছে বারবার। মেডিসিনের ওভার ডোজে মাথায় যন্ত্রণা হচ্ছে। কোথায় আছে? কি হচ্ছে? কিছুই বুঝতে পারছে না রিধি।
রোহান রিধিকে নিয়ে একটা নির্জন রাস্তায় এগিয়ে চলেছে। এদিকে চারিদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। মাগরিবে আজানে মুখরিত চারপাশ। গাড়ির হর্নের শব্দ নেই; নেই কোন প্রাকৃতিক কোলাহল । হৃদও পিছু করে চলেছে রোহানের গাড়ি। দুইটা গাড়ি সমান তালে এগিয়ে চলেছে। কেউ কারো কাছে হার মানতে নারাজ।
চারপাশে জঙ্গল আর জঙ্গল। হৃদ বেশ ভালো করেই বুঝতে পারছে তারা শহর থেকে একটু দূরেই আছে। নেটওয়ার্কও ক্রমশ কমে আসছে। এক সময় হৃদের সাথে শিশিরে কানেকশন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে হৃদ আর রিধির লোকেশন দেখতে পারে না । এদিকে সামনে দুইটা রাস্তা। কোন দিক দিয়ে যাবে বুঝতে পারবে না। গাড়ি থামিয়ে রাগে গাড়িতে ঘুসি মারলো হৃদ। রাগ তার ক্রমেই বেরে চলেছে। এদিকে রোহানের গাড়ি তো ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে।
পাশের সিটে থাকা পানির বোতল থেকে পানি নিয়ে মাথায় দিতে দিতে হৃদ নিজেই নিজেকে বললো-" কনট্রোল ইউর সেলফ হৃদ। কনট্রোল ইউর সেলফ। এখন মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। ঠান্ডা মাথায় সবটা করতে হবে। মেইনলি রিধি ওদের কাছে আছে। তাই আমার যা করার ভেবে চিন্তে করতে হবে। দেরি হলে রিধি রিস্কে পরবে। আর আমি তা কখনো হতে দেব না। আজ না হয় নিজের ভাগ্য পরিক্ষা হয়ে যাক। "
কথাটা বলেই বাম দিকে রাস্তায় এগিয়ে গেল হৃদ।বিরবির করে বললো-" ঐ বিধাতা নিজে যদি তোকে আমার ভাগ্যে লিখে রাখে, তাহলে আমি তোর কিচ্ছু হতে দেব না রিধি। আমি আসছি রিধি আমি আসছি। একটু ওয়েট কর। একটু বিশ্বাস রাখ আমার উপরে।"
একটু এগিয়ে যেতেই দুইটা গাড়ি দেখতে পেল হৃদ। এগুলো রোহানেরই গাড়ি। হৃদ দেখেই চিনতে পেরেছে। হৃদ দৌড়ে গাড়ির কাছে গেল, কিন্তু কেউ নেই। চারিদিকে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলো হৃদ।
#চলবে