#আবরণ
#সাহারা_জান্নাত_মুমু
#পর্ব_২৩ (শেষাংশ)
মেহজাবিন বসে অপেক্ষা করছিল ঠিক সেই সময় তার ফোনে তামান্নার কল আসে।
কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে তামান্না বলে,
“আমি নিচে এসে গেছি, তুমি চলে আসো।”
“আচ্ছা আসছি।”
কল কেটে মেহজাবিন শেষবারের মতো আয়নায় নিজেকে দেখে নিল চুল গুলো ঠিক করে নিল। এরপর ক্লাচ ব্যাগটা হাতে নিয়ে নিচে নেমে এলো।
বাড়ির সামনে এসে দেখল তামান্না আর আবির গাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে তার জন্য অপেক্ষা করছে। তামান্নার পরনে ছিল রয়্যাল ব্লু রঙের একটি এলিগেন্ট গাউন। গাউনজুড়ে সূক্ষ্ম স্টোন ওয়ার্ক করা, যা ল্যাম্পপোস্টের নিওন আলো পড়তেই মৃদু ঝিলমিল করে উঠছিল। খোলা চুলগুলো হালকা ওয়েভ করা, কানে ছোট্ট ইয়াররিং আর হাতে একটি সিলভার ব্রেসলেট। সব মিলিয়ে তাকে বেশ অভিজাত আর আত্মবিশ্বাসী লাগছিল।
অন্যদিকে আবিরের পরনে ছিল নেভি ব্লু রঙের কোট সাথে ম্যাচিং প্যান্ট। ভেতরে সাদা শার্ট, হাতে স্টিলের ঘড়ি আর চুলগুলো সুন্দর করে সেট করা। মুখে তার সেই চিরচেনা দুষ্টু হাসিটা লেগেই ছিল, যা তাকে সবসময় অন্যদের থেকে একটু আলাদা করে তোলে।
আবির গাড়ির সঙ্গে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। ঠিক সেই সময় মেহজাবিনকে দেখে সে কয়েক সেকেন্ডের জন্য থমকে গেল। মেহজাবিন তাদের সামনে এসে দাঁড়াতেই আবির মুগ্ধ হয়ে বলল,
“আরে মেহজাবিন ম্যাডাম আপনাকে আজকে অন্যরকম লাগছে।”
মেহজাবিন মৃদু হেসে বলে,
“অন্যরকম লাগছে বলতে, কি রকম লাগছে।”
“অপূর্ব, একদম অন্যরকম সুন্দর।”
তামান্না আবিরের কথা শুনে হাসে এবং তার সাথে তাল মিলিয়ে মেহজাবিনের অনেক প্রশংসা করে। মেহজাবিন তাদের দুইজন কে ধন্যাবাদ জানায় এবং তাদেরও সুন্দর লাগছে বলে জানায়।
মেহজাবিন তামান্না কে উদ্দেশ্য করে বলে,
“তামান্না আপু আমি ভেবেছিলাম তুমি একা থাকবে, আবির সাহেব কে কিভাবে জোগাড় করলে।”
আবির মেহজাবিন এর কথায় বুকে হাত দিয়ে আহত কন্ঠে বলে,
“আমি আসাতে আপনি কষ্ট পেয়েছেন বুঝি।”
“একদমই নয়, আমি খুশি হয়েছি।”
তামান্না মুচকি হেসে বলে,
“আমরা একসাথে যাওয়ার প্ল্যান করেছিলাম গতকাল থেকেই তাই আবির সাহেব গাড়ি বুক করে রেখেছিল, এরপর স্যার আমাকে কল করে তোমাকে নিয়ে যেতে বলে তারপর ভাবলাম ভালোই হলো সবাই একসাথে মিলে গেলে ভালো লাগবে আর আড্ডা দিতে দিতে যাওয়া হবে।”
তারপর আবির তামান্না আর মেহজাবিন এর জন্য গাড়ির দরজা খুলে দিল, তারা দুজন গাড়িতে উঠে বসে। মেহজাবিন তার পাশে তাকিয়ে দেখে তার ঠিক পাশেই তন্ময় বসে আছে।
তন্ময়ের গায়ে অফহোয়াইট রঙের কোট সাথে ম্যাচিং প্যান্ট আর ভেতরে সাদা রঙের শার্ট, চুল গুলো সুন্দর করে সেট করা, বাম হাতে ঘড়ি, বেশ সুন্দর লাগছে তন্ময় কে।
মেহজাবিন তো কিছু না বলে তন্ময় এর দিকে অপলক তাকিয়ে আছে। তখন তার অন্য পাশে বসে থাকা তামান্না বলে ওঠে,
“সাথে তন্ময় সাহেবও আছে, তোমার কোনো সমস্যা নেই তো।”
মেহজাবিন তামান্নার কথা শুনে তন্ময় এর দিকে তাকিয়েই মাথা নেরে কোনো সমস্যা নেই বুঝালো। একটুপরে গাড়ি চলতে শুরু করে। মেয়েটা একটু পরপর আর চোখে তন্ময় কে দেখছে আর ভাবছে,
<এই লোকটা আজকে এত চুপ করে আছে কেনো, কিছু হলো নাকি কে জানে। অন্য দিন গুলোতে তো তাকে বকা দিয়েও চুপ করানো যায় না, আর আজকে মজা করেও কিছু বলল না।>
মেহজাবিন মন খারাপ করে নিচের দিকে তাকিয়ে বসে রইলো, তামান্না আর আবির নিজেদের মতো গল্প করছে, তন্ময় চুপ করে গাড়ির জানালার বাহিরে তাকিয়ে আছে, আর মেহজাবিন চুপ করে বসে আছে। কথার মাঝে আবির পুনরায় মেহজাবিনের অনেক প্রশংসা করলো সাথে তামান্নাও জানায় তাকে এই শাড়িতে বেশ মানিয়েছে। তখন হঠাৎ করে আবির তন্ময় কে উদ্দেশ্য করে বলে,
“কি তন্ময় সাহেব আজকে দেখি আপনি মেহজাবিন ম্যাডাম কে দেখে কিছুই বললেন না। উনি যে আপনার পাশে এসে বসলো তার কোনো প্রতিক্রিয়া ও দেখালেন না। ভাই আমার সাথে এত রূপবতী নারী বসলে আমিতো চোখ সরাতেই পারতাম না।”
আবিরের কথা শুনে তামান্না হাসে, মেহজাবিন চোখ দুটো ছোট করে তাকায়, আর তন্ময় এর হুশ ফিরে আসে। সে এতক্ষন একটা ঘোরে ছিল তাই আশে পাশে কি ঘটে গেছে সে খায়াল করেনি। আবিরের কথায় এখন সে বাস্তবে ফিরে আসে।
তন্ময় মুখে হাসি নিয়ে পাশে ফিরে তাকাতেই মেহজাবিনের সাথে চোখাচোখি হয়, হঠাৎ করেই মনে হলো তার হৃদস্পন্দন বেরে গেছে, সে সাথে সাথে চোখ সরিয়ে নিয়ে স্বাভাবিক হয়ে বলে,
“বাহ ম্যাডাম আজকেতো আপনাকে বেশ সুন্দর লাগছে।”
মেহজাবিন ভ্রু উঁচু করে বলল,
“অন্য দিন বুঝি লাগে না।”
তন্ময় মুচকি হেসে বলে,
“সবসময় সুন্দর লাগে তবে আজকে একটু বেশি সুন্দর লাগছে।”
মেহজাবিন পাল্টা আর কিছু বলল না শুধু মচকি হাসলো। হয়তো তন্ময় এর মুখ থেকে এই দুটো বাক্য শুনার আগ্রহে বসে ছিল সে।
এরপর সবাই টুকটাক কথা বলে সারা রাস্তা পার করে, আর তন্ময় একটু কথা বলে, আবার বাহিরে তাকিয়ে একটা কথাই বারবার ভাবতে থাকে, আজ কি সে ফারিবাকে নিজের মনের কথাগুলো বলতে পারবে? নাকি আবারও দেরি করে ফেলবে?
কথাগুলো ভাবতেই সে ধীরে ধীরে নিজের হাতের মুঠো শক্ত করে ফেলল। মেহজাবিন খেয়াল করলো তন্ময় কিছু একটা ভেবে যাচ্ছে একমনে। মেহজাবিনের আজ তন্ময় কে দেখে অন্যরকম মনে হতে থাকে।
আজ হয়তো সত্যিই তন্ময় আর পাঁচটা দিনের মতো স্বাভাবিক নেই। এইসব নিয়ে ভাবতে ভাবতেই বেশ কয়েক মিনিটের মধ্যেই গাড়িটা শহরের সবচেয়ে অভিজাত হোটেলগুলোর একটির সামনে এসে থামল।
সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই শহরের অন্যতম অভিজাত হোটেলটির হলরুম আলোয় ঝলমল করে উঠেছে।
পুরো হলরুমজুড়ে সোনালি আর সাদা আলোর মিশ্রণ। একপাশে লাইভ মিউজিকের ব্যবস্থা করা হয়েছে, অন্যপাশে অতিথিদের জন্য সাজানো হয়েছে বিভিন্ন খাবারের কাউন্টার।
কোম্পানির বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের কর্মীরা ধীরে ধীরে ভেন্যুতে আসতে শুরু করেছে। কেউ সহকর্মীদের সাথে গল্পে ব্যস্ত, কেউ ছবি তুলছে, আবার কেউ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার অপেক্ষা করছে।
আদিল অনেক আগেই ভেন্যুতে পৌঁছে গেছে। কালো রঙের থ্রি-পিস স্যুটে তাকে আজ অন্য দিনের তুলনায় আরও বেশি গম্ভীর আর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন লাগছে।
কিন্তু এত মানুষের ভিড়ের মাঝেও তার দৃষ্টি বারবার ভেন্যুর প্রবেশপথের দিকেই চলে যাচ্ছে। যেন সে অজান্তেই কারো অপেক্ষা করছে। নিজের এই আচরণে সে নিজেই বিরক্ত হয়ে অন্যদিকে তাকানোর চেষ্টা করল।
ঠিক তখনই তামান্না, মেহজাবিন, তন্ময় আর আবির ভেতরে প্রবেশ করল। এমেরাল্ড গ্রিন ওয়েস্টার্ন শাড়িতে মেহজাবিনকে দেখে কয়েকজন সহকর্মী বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে রইল। সাধারণত সবাই তাকে ওয়েস্টার্ন ড্রেসেই দেখতে অভ্যস্ত।
তাই আজকের এই লুক যেন অনেককেই অবাক করে দিল। আদিলও একবার বোনের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে ফেলল। তারপর মাথা নেড়ে বলল,
“আমার মেহু পাখিটাকে আজ খুব সুন্দর লাগছে।”
কথাটা শুনে মেহজাবিন খুশিতে হেসে ফেলল। আদিল বাকি তিনজন কে স্বাগতম জানায়, হ্যান্ডশেক করে সবাই স্বাভাবিক ভাবে হাত মিলিয়ে নিলেও তন্ময় আদিলের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায় কিছুক্ষন। এরপর তার সেই চিরচেনা হাসি দিয়ে হাত মিলিয়ে নেয়।
আদিল তাদের পার্টি এনজয় করতে বলে মেহজাবিন কে নিয়ে বাকি গেস্টদের অ্যাটেন্ড করতে চলে যায়। তন্ময় চারপাশে ঘুরে দেখতে থাকে ফারিবা এসে পৌঁছেছে কি না।
আদিলও বারবার ঘড়ির দিকে তাকিয়ে প্রহর গুনছে একটা মানুষের, অপেক্ষা করছে, বারবার মেইন গেটের দিকে চোখ চলে যাচ্ছে একটা মানুষের জন্য। সে বুঝতে পারছে না আজ সেই মানুষ টার জন্য কতটা অপেক্ষা করতে হবে তাকে।
অন্যদিকে...
একই সময়ে ফারিবা অপেক্ষা করছিল সাবরিনা শান্তার জন্য। বেশ কিছুক্ষণ পর তার ফোনটা বেজে উঠল।
ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে শান্তার কণ্ঠ ভেসে এলো,
“আমি এসে গেছি। তুমি বের হয়ে আসো।”
“আচ্ছা, আসছি।”
কল কেটে ফারিবা ব্যাগটা হাতে নিল। তারপর বের হওয়ার আগে ফারদিনের মায়ের কাছে গিয়ে বিদায় নিল।
ফারদিনের মা মমতা ভরা চোখে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বললেন,
“সাবধানে যাবি মা। আর বেশি রাত হলে একা ফিরিস না। কাউকে সঙ্গে নিয়ে আসিস বা পৌঁছে দিতে বলিস।”
ফারিবা মৃদু হেসে মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। এরপর ধীরে ধীরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো। বাইরে এসে দেখল রাস্তার পাশে সাবরিনা শান্তার গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। গাড়িতে উঠে বসতেই তার চোখ গিয়ে আটকালো শান্তার দিকে।
কালো রঙের সিকুইন্স ওয়ার্ক করা শাড়ি, পরিপাটি করে বাঁধা খোঁপা আর হালকা মেকআপে আজ তাকে বেশ মার্জিত আর অভিজাত লাগছিল।
ফারিবা কিছু বলার আগেই শান্তা তার দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ স্বরে বলে উঠল,
“বাহ ফারিবা! তোমাকে তো আজ দারুণ লাগছে। একদম প্রিন্সেসের মতো।”
কয়েক সেকেন্ড ভেবে আবার হেসে বলল,
“না না, প্রিন্সেস না। একদম গোলাপি পরীর মতো লাগছে।”
কথাটা শুনে ফারিবা হেসে ফেলল।
নিকাবের আড়ালে তার হাসিটা দেখা না গেলেও চোখ দুটো চিকচিক করে উঠল।
সে মৃদু স্বরে বলল,
“আপনাকেও কিন্তু অনেক সুন্দর লাগছে আজ।”
শান্তা হেসে বলল,
“ধন্যবাদ ম্যাডাম। অন্তত কেউতো প্রশংসা করলো, আমার হাজবেন্ড তো একবার তাকিয়েও দেখেনি, তার কাজ নিয়ে ব্যাস্ত ছিল। যখন জিজ্ঞেস করলাম কেমন লাগছে, মহাশয় ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে বলল একদম এলিগেন্ট লাগছে, ভাবো একবার লোকটা শুধু কাজ বুঝে আর কিছু চোখে দেখে না।”
কথাটা বলেই দুজনে এক সাথে হেসে উঠল। এরপর গাড়িটা ধীরে ধীরে ভেন্যুর উদ্দেশ্যে চলতে শুরু করল।
সন্ধ্যার আলো তখন পুরো শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। রাস্তার দু'পাশে জ্বলে উঠেছে অসংখ্য আলো। ব্যস্ত শহরটা যেন নতুন করে সেজে উঠেছে।
পথজুড়ে দুজনের মধ্যে চলতে লাগল নানা গল্প, অফিসের কথা, সহকর্মীদের কথা আর আজকের পার্টি নিয়ে ছোটখাটো আলোচনা।
ফারিবা আর সাবরিনা শান্তা গল্প করতে করতে পথ পাড়ি দিতে থাকে। মাঝে মাঝে শান্তা বিভিন্ন অফিসের মজার ঘটনা বলছে, আর ফারিবা নীরবে শুনে হালকা হাসছে।
বেশ কিছুক্ষণ পর অবশেষে তাদের গাড়ি ভেন্যুর সামনে এসে থামল। দূর থেকেই দেখা যাচ্ছে পুরো জায়গাটা রঙিন আলোয় সেজে উঠেছে। প্রবেশপথ জুড়ে ফুল আর আলোর সুন্দর সাজসজ্জা।
গাড়ি থামতেই শান্তা দরজা খুলে নেমে গেল। ফারিবাও ধীরে ধীরে গাড়ি থেকে নামল। ভেন্যুর দিকে চোখ পড়তেই সে কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল।
আজকের সন্ধ্যাটা ঠিক কেমন হতে চলেছে, সেটা তার জানা নেই। তবে অজান্তেই বুকের ভেতরটা হালকা কেঁপে উঠল তার।
চারপাশের কোলাহল, আলো আর মানুষের ভিড়ের মাঝেও আজ তার বুকের ভেতর অদ্ভুত এক অস্থিরতা কাজ করছিল।
কেন এমন লাগছে, তার উত্তর ফারিবার জানা নেই। তাই সব প্রশ্ন আপাতত মনের এক কোণে রেখে শান্তার সঙ্গে ভেতরের দিকে এগিয়ে গেল সে।
শান্তা ভেতরে যেতেই সবার সাথে কথা বলা শুরু করে দিল, কিন্তু ফারিবা এখনো ভেন্যুর বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। তার মনের ভেতর যেন অদ্ভুত এক ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
সে জানে না, ভেতরে গিয়ে কিভাবে সবার মুখোমুখি হবে। আজ কেন জানি নিজেকে তার ভীষণ অচেনা আর বেমানান মনে হচ্ছে।
অথচ বাস্তবতা সম্পূর্ণ আলাদা। আজ তাকে আগের যেকোনো দিনের তুলনায় অনেক বেশি স্নিগ্ধ আর সুন্দর লাগছে। এমন এক সৌন্দর্য, যা কোনো জাঁকজমকপূর্ণ সাজে নয়, বরং তার সরলতা, ব্যক্তিত্ব আর মায়াবী উপস্থিতিতেই ফুটে উঠেছে।
তবে সেই কথাটা হয়তো সে নিজেও বুঝতে পারছে না। ফারিবা চোখ বন্ধ করে একটা দীর্ঘশ্বাস নিল। তারপর নিজের অস্থির মনটাকে যতটা সম্ভব শান্ত করে ধীরে ধীরে ভেতরে প্রবেশ করল।
পুরো হলরুমটা নরম সোনালি আলোয় ঝলমল করছে। ছাদের ক্রিস্টাল ঝাড়বাতির আলো চারদিকে ছড়িয়ে এক মোহময় পরিবেশ তৈরি করেছে। হালকা সুরের মিউজিক ভেসে বেড়াচ্ছে চারপাশে। কেউ খাবারের টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে গল্প করছে, কেউ আবার ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে আড্ডায় মেতে আছে।
ঠিক তখনই হলরুমের বিশাল দরজাটা ধীরে ধীরে খুলে গেল। আর পরের মুহূর্তেই যেন আশপাশের সবকিছু কয়েক সেকেন্ডের জন্য থমকে গেল।
ধীর পায়ে ভেতরে প্রবেশ করল ফারিবা। প্যাস্টেল পিংক রঙের লং গাউনটা তার চলার সঙ্গে সঙ্গে হালকা দুলে উঠছে। গাউনজুড়ে সূক্ষ্ম কারুকাজ আলোয় ঝিকমিক করে উঠছে। একই রঙের হিজাব আর নিকাব তার সৌন্দর্যকে আরও স্নিগ্ধ করে তুলেছে।
মুখের বেশিরভাগ অংশ আড়াল করা থাকলেও তার গভীর নয়নযুগল আর চোখে টানা কাজলের ছোঁয়া অদ্ভুত এক মায়া তৈরি করেছে। আজ তার মাঝে কোনো জাঁকজমকপূর্ণ সৌন্দর্য ছিল না। বরং ছিল এক ধরনের শান্ত, মার্জিত আর হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া কোমলতা।
চারপাশের অনেকেই অজান্তেই তাকিয়ে রইল তার দিকে। কারণ মেয়েটার উপস্থিতির মাঝেই এমন কিছু ছিল, যা সহজে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।
হলরুমের একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা তন্ময়ও প্রথমে বিষয়টা খেয়াল করেনি। কারও সঙ্গে কথা বলার মাঝেই হঠাৎ তার দৃষ্টি গিয়ে থামল দরজার দিকে।
আর তারপর সে যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল। তার চোখদুটো ধীরে ধীরে বিস্ময় আর মুগ্ধতায় ভরে উঠল। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ফারিবার দিকে।
মেয়েটাকে আজ ঠিক কেমন লাগছে, সেটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারল না সে। কোনো কাব্য দিয়েও ব্যাখ্যা করতে অক্ষম রইল। শুধু মনে হলো, এতদিন ধরে যার কথা ভেবে এসেছে, সে যেন আজ বাস্তবের মানুষ নয়, বরং কোনো সুন্দর স্বপ্নের অংশ হয়ে তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।
অজান্তেই তার ঠোঁটের কোণে একটা হাসি ফুটে উঠল। খুব আস্তে নিজের মনেই বলল,
“আমার অপ্সরী।”
একটা ছোট শব্দ, কিন্তু সেই ছোট শব্দের মাঝেই যেন তার সমস্ত অনুভূতি লুকিয়ে আছে।
অন্যদিকে...
হলরুমের আরেক পাশে কালো কোট পরে দাঁড়িয়ে ছিল আদিল। কয়েকজন ক্লায়েন্টের সঙ্গে কথা বলছিল সে। কিন্তু তার দৃষ্টি অনেক আগেই স্থির হয়ে গেছে অন্য কোথাও। ফারিবা ভেতরে প্রবেশ করার পর থেকে একবারের জন্যও চোখ সরাতে পারেনি সে।
চারপাশের কোলাহল, মানুষের হাসি, মিউজিকের শব্দ সবকিছু যেন ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে লাগল, আর তার চোখে শুধু একজন মানুষই রয়ে গেল।
কয়েকদিনের অদ্ভুত শূন্যতা, অকারণ অস্থিরতা আর অজানা অনুভূতিগুলোর কারণ যেন হঠাৎ করেই তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। আদিল ধীরে ধীরে মকটেলের গ্লাসে চুমুক দিল। তারপর মৃদু হাসল। কিন্তু সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল এমন এক অনুভূতি, যে অনুভূতি ব্যাখ্যা সে নিজেকেও দিতে পারেনি।
শুধু নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল ফারিবার দিকে। আর মনে মনে স্বীকার করল, এই মেয়েটা অজান্তেই তার শান্ত, গুছানো জীবনে এক অদ্ভুত ঝড় তুলে দিয়েছে। ফারিবার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আদিলের চোখে ক্ষণিকের জন্য অন্যরকম এক অনুভূতি ফুটে উঠল।
এই একই দৃশ্যটা যেন কোথাও আগে দেখেছে সে। বহু বছর আগের একটা সন্ধ্যা হঠাৎ করেই তার স্মৃতির দরজায় কড়া নাড়ল।
একটা কনফারেন্স রুম, অনেক মানুষের ভীর। সাদা রঙের পোশাক পরিহিত একজন, হাতে কিছু ফাইল, আর অসহায় মানুষদের জন্য লড়াই করা এক জেদি মেয়ের কণ্ঠস্বর...
পরের মুহূর্তেই আদিল নিজের চিন্তাকে থামিয়ে দিল।
অতীতের সেই স্মৃতিটা এখনো যে এত স্পষ্ট, সেটা কাউকে জানাতে চায় না সে। সেই ভাবনা থেকে বেড়িয়ে এলো সে। এরপর সবার উপস্থিতিতে এত বড় একটা প্রজেক্টের সাকসেস পার্টি উপলক্ষে কিছু বক্তব্য পেশ করার জন্য মঞ্চে উঠে মাইক্রোফোনটা হাতে নিল আদিল। মুহূর্তেই পুরো হলরুমটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে সে হালকা হাসল। তারপর শান্ত গলায় বলতে শুরু করল,
“Good evening everyone. May I have your attention, please?”
আদিলের কণ্ঠ ভেসে উঠতেই ধীরে ধীরে হলরুমের সবার দৃষ্টি তার দিকে চলে গেল। মুহূর্তেই চারপাশের কথাবার্তা থেমে এলো।
আদিল মৃদু হাসল। তারপর উপস্থিত সবার দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করল,
“First of all, thank you everyone for being here tonight.
শুরুতেই আমি আপনাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে চাই, কারণ আজকের এই সাফল্য কোনো একজন মানুষের অর্জন নয়, এটা আমাদের পুরো টিমের সম্মিলিত পরিশ্রম, ডেডিকেশন আর বিশ্বাসের ফল।
অনেস্টলী, একটা সময় ছিল যখন আমি নিজেও ভাবিনি এত বড় দায়িত্ব এত সুন্দরভাবে সামলাতে পারব। বিশেষ করে এই কোম্পানিটাকে।
এই প্রতিষ্ঠানটা শুধু একটা বিসনেস নয়, এটা আমার আম্মুর স্বপ্ন। আর যখন প্রথমবার এই দায়িত্ব আমার কাঁধে আসে, তখন আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে আমি তার স্বপ্নকে কতদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।
But today, as I stand here looking at all of you, I can proudly say that we did it Together.
এই কোম্পানিটা আজ যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, তার পেছনে আমার একার কোনো কৃতিত্ব নেই। আপনাদের প্রতিদিনের হার্ড ওয়ার্ক , স্লীপলেস নাইটস, ডেডিকেশন আর কমিটমেন্ট ছাড়া আমরা কখনোই আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে পারতাম না।
And I am truly proud of all of you.
আজকের এই প্রজেক্ট সাকসেস কোনো একজন মানুষের অর্জন নয়। এটা আমাদের পুরো টিমের অ্যাচিভমেন্ট।
প্রত্যেকটা ডিপার্টমেন্ট, প্রত্যেকটা এমপ্লয়ী নিজের জায়গা থেকে শতভাগ এফোর্ট দিয়েছে বলেই আমরা আজ এই অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি।
তাই আজকের ক্রেডিট শুধু মাত্র আমার, বা মেনেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের নয় এখানে উপস্থিত প্রত্যেকটা মানুষের যারা কঠোর পরিশ্রম করেছে আর এই কোম্পানির উপর আস্থা রেখেছে।
Thank you for your hard work, dedication and trust.
আশা করি ভবিষ্যতেও আমরা সবাই একসাথে আরও বড় বড় সাকসেস স্টোরি তৈরি করতে পারব ইনশাআল্লাহ।
So tonight, forget the pressure, forget the deadlines and just enjoy the moment. Because all of you deserve this celebration.
And lastly thank you everyone.”
কথাগুলো শেষ করে আদিল মৃদু হাসল। আর সঙ্গে সঙ্গে পুরো হলরুম করতালিতে গর্জে উঠল। কেউ প্রশংসাসূচক ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে উঠল, কেউ আবার হাততালি দিতে দিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করল।
আজকের সাফল্যের আনন্দ যেন মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ল পুরো পরিবেশজুড়ে।
ফারিবা আর মেহজাবিন একসাথে দাঁড়িয়ে ছিল, আদিলের বক্তব্য শুনে দুজন একসাথে হাততালি দেয়। ফারিবা আনমনে বলে ওঠে,
“মানুষটা কতোই না সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলে, তার প্রতিটা বাক্য মনের মধ্যে এক অদ্ভুত প্রশান্তির ছাপ রেখে যায়।”
ফারিবার প্রতিটি কথা মেহজাবিনের কানে পৌঁছে, সে মুচকি হাসে পাশে তাকিয়ে না শোনার ভান করে বলে,
“আপু কিছু বলছিলে আমাকে, আমি এতো শব্দের জন্য কিছুই শুনতে পাইনি।”
মেহজাবিনের কথায় হুশ ফিরে আসে তার, সে নিজেই নিজেকে বকতে শুরু করে, কেনো সে এইসব ভাবছে, ভাবলেও কেনো সবার সামনে প্রকাশে বলে ফেলছে। ভাগ্গিস মেয়েটা কিছু শুনতে পায়নি, যদি শুনতে পেতো তাহলে কতই না লজ্জায় পরতে হতো তাকে।
মেহজাবিন ফারিবাকে চুপ থাকতে দেখে আবার জিজ্ঞেস করে,
“কি গো আপু কিছু বলছিলে আমাকে।”
ফারিবা সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেয়,
“না না আমি কিছু বলিনি।”
“ওহ আচ্ছা হয়তো আমি ভুল বুঝেছি, যে তুমি আমাকে কিছু বলছো।”
কথাটা বলেই মেহজাবিন ঠোঁট চেপে হাসে, এরপর সে কিছু বলতে যাবে তখনই তার ডাক পরে, আর সে ফারিবাকে পার্টি এনজয় করতে বলে সেদিকে চলে যায়। মেহজাবিন চলে যেতেই ফারিবা এক কোনায় গিয়ে বসে থাকে।
ফারিবাকে একা বসে থাকতে দেখে তন্ময় ভাবে এটাই সুযোগ ফারিবাকে তার মনের কথা বলে দাওয়া। তন্ময় সুযোগ বুঝে ফারিবার দিকে এগিয়ে যায়, তার এক হাতে সফ্টড্রিংক আর অন্য হাতে ফ্রেশ জুস। তন্ময় ফারিবার সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করে,
“কি মিস. সিরিয়াস, পার্টিতে বোর হচ্ছেন নিশ্চই।”
ফারিবা একমনে কিছু একটা ভাবছিল, এমন সময় হঠাৎ তন্ময় এর প্রশ্ন শুনে সে চমকে যায়। সামনে তাকিয়ে পরিচিত মুখ দেখে স্বস্তির শ্বাস নেয়। ফারিবা তন্ময় এর প্রশ্নের প্রতিউত্তরে কিছুই বলে না। তন্ময় ফারিবার কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখে মুখ ভার করে জুসের গ্লাস টা এগিয়ে দেয়।
ফারিবা গ্লাস টা হাতে নিয়ে ছোটো করে ধন্যাবাদ জানায়। তন্ময় মৃদু হাসে এরপর ফারিবার পাশে ফাঁকা চেয়ারটাতে বসে পরে। তার মনের কথা বলার আগে পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করার জন্য বলে,
“আপনাকে আজকে অনেক সুন্দর লাগছে, একদম যেনো রূপকথার অপ্সরীদের মতো।”
ফারিবা তন্ময়ের কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে তাকাল। তন্ময়কে আজ প্রতিদিনের মতো মনে হচ্ছে না তার কাছে। আজ লোকটার চোখেমুখে কেমন যেন অদ্ভুত এক অস্থিরতা ফুটে আছে। লোকটার ভেতরে এক অন্য সত্তার অস্তিত্বের টের পাচ্ছে সে। ফারিবা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল,
“আপনি ঠিক আছেন তন্ময় সাহেব?”
তন্ময় হালকা হেসে মাথা নেড়ে বলল,
“কেন, আমাকে দেখে কি অসুস্থ মনে হচ্ছে?”
“না তেমন কিছু নয়, তবে আপনাকে আজ একটু অন্যরকম লাগছে।”
কথাটা শুনে তন্ময়ের হাসিটা ম্লান হয়ে এলো। সে কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল। তারপর হাতে থাকা গ্লাসটার দিকে তাকিয়ে আস্তে বলল,
“হয়তো সত্যিই আজ আমি প্রতিদিনের মতো নেই।”
ফারিবা অবাক হয়ে তার দিকে তাকায়ে বলে,
“মানে?”
তন্ময় গভীর শ্বাস নিয়ে বলে,
“কিছু কিছু কথা অনেকদিন ধরে বুকের ভেতর জমতে থাকে। ইচ্ছে থাকলেও বলা যায় না। আর যত সময় যায়, সেই কথাগুলো তত ভারী হয়ে ওঠতে থাকে, এরপর দম নিতেও কষ্ট হয়।”
ফারিবার বুকের ভেতর কেমন যেন ধক করে উঠল। তন্ময়ের কন্ঠস্বর আজ স্বাভাবিক নয়, কিছু একটাতো চলছে তার মনে। সেইকথা ফারিবা খুব ভালো করেই বুঝতে পারলো। এরপর নিজেকে স্বাভাবিক রেখে বলে,
“আপনি কি কিছু বলতে চান, চইলে নির্দ্বিধায় বলতে পারেন।”
তন্ময় তার দিকে তাকাল। আজ প্রথমবারের মতো তার চোখে কোনো হাসি নেই। শুধু গভীর এক আন্তরিকতা। তন্ময় কয়েকবার কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। তার ভেতরের দ্বিধা আর অস্থিরতা যেন ক্রমেই বেরে চলছে।
ফারিবা অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়, তন্ময়ও কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে ফারিবার দিকে তাকাল। নিজের মনকে বলে, আজ আর পিছিয়ে যেতে চায় না সে।
অনেক সাহস জুগিয়ে কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনই পেছন থেকে কারও কণ্ঠ ভেসে এলো,
“তন্ময় ভাই, আপনি এখানে কি করছেন, ওইদিকে তো আপনাকে সবাই খুঁজছে।”
মুহূর্তেই ভেঙে গেল পরিবেশটা। তন্ময়ের মুখে বিরক্তির ছাপ ফুটে উঠল। এতক্ষণে সাহস জোগাড় করেছিল, অথচ ঠিক সেই সময়ই বাধা এসে পরলো।
সে একবার ফারিবার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল,
“আমার ডাক পরেছে, আমি আসছি পরে কথা হবে কেমন।”
কথাটা বলেই উঠে দাঁড়াল সে। ফারিবা কিছু বুঝে উঠার আগেই তন্ময় সেখান থেকে চলে যায়। তবে আজ তন্ময়কে এমন অস্বাভাবিক দেখে ফারিবা হয়তো কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছে।
আর এদিকে হলরুমের একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা আদিল হেসে হেসে সবার সাথে কথা বলছিল, আর আশেপাশে সবার থেকে প্রশংসা কুঁড়িয়ে নিচ্ছিল। ঠিক সেই সময় তার দৃষ্টি অজান্তেই গিয়ে থামল ফারিবা আর তন্ময়ের দিকে।
দুজনকে পাশাপাশি বসে কথা বলতে দেখে তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ল, মুহূর্তের মধ্যেই তার ঠোঁটের কোনা থেকে হাসি মিলিয়ে গেলো।
সে ফারিবার পাশে কাওকে সহ্য করতে পারে না, কিন্তু কেনো সেই উত্তর তার জানা থাকলেও সে যেনো কোনো ভাবে সেটা বুঝতে চায়না, বা বুঝেও না বুঝার ভান করে।
আদিল জানে, ফারিবার জীবনে তার কোনো অধিকার নেই, কোনো অস্তিত্ব নেই। তবুও কেনো জানি দৃশ্যটা তার ভালো লাগল না।
কয়েক মুহূর্ত স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে সে মকটেলের গ্লাসে চুমুক দিল। ঠোঁটের কোণে একটুকরো তিক্ত হাসি ফুটে উঠল।
কিছু অনুভূতি মানুষ চাইলেও অস্বীকার করতে পারে না।
আবার কিছু মানুষকে বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও ভুলে থাকা যায় না.....
চলবে.....
[ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আর গল্পটা কেমন লাগলো সুন্দর মতামত দিবেন, ধন্যাবাদ]