#দ্বিতীয়_বসন্তের_অপেক্ষা 🪶 [ #পার্ট_১৩ ]
আমান রুমে গিয়ে বইগুলো বিছানায় রেখে সাওয়ার নিতে চলে গেল । দশ মিনিটের মধ্যে সাওয়ার নিয়ে বের হলো। ভাবলো তুবা হয়ো এসে লক্ষী মেয়ের মতো পড়তে বসেছে । কিন্তু না , মহারানি আসে নি। আমান শুধু ভাবছে তুবার কলিজা টা কতো বড়ো । আমান এর কথার অবাধ্য হয় । আমান হন্তদন্ত পায়ে বেরিয়ে রেলিং ঘেসে নিচে তাকালো। তুবা মহিনি বেগম এর আঁচলে মুখ ঢেকে শুয়ে আছে। আমান চেঁচিয়ে তুবা কে ডাকলো
____ তুবা,
তুবা চমকে তাকালো।
____ এক্ষুনি উপরে আয় আমি যদি নিচে নামি তোর কপালে দুঃখ আছে।
____ আমি পড়বো না আপনার কাছে ।
____ আমিই আসছি।
আমান রেগে যেতে নিলে তুবা সোফায় থেকে লাফিয়ে উঠে দাঁড়ালো। ভয়ার্ত কন্ঠে বললো
____ আসছি আমি মারবেন না আমাকে।
আমান থামলো , তুবা আর কোনো দিকে না তাকিয়ে ভয়ে দৌড়ে উপরে আসলো ।
আমান তার রুমে চলে গেল তুবা পেছন পেছন গেল।
মহিনি বেগম মুচকি হাসলেন। মাহিরার সাথে তার কথা হয় না বেশ কয়েকদিন হলো। তাই মাহিরা কে কল করলো
____ আসসালামুয়ালাইকুম আন্টি ?
____ ওয়া আলাইকুমুস সালাম, কেমন আছো মাহিরা?
____ ভালো আন্টি আপনারা কেমন আছেন?
____ আলহামদুলিল্লাহ ভালো।
____ আমান দেশে ফিরেছে , দেখা হয়েছে তোমাদের?
____ হুম আন্টি। আন্টি
____ হুম বলো ?
____ ইয়ে মানে,,,
____ কি হয়েছে বলো ?
____ আমান তো অনেক ব্যস্ত থাকে , সময় করে আসবেন আমাদের বাসায়।
মহিনি বেগম মিষ্টি হেসে বললো
____ হুম , সময় হলে ঠিক আসবো। এক কাজ করো তুমি তোমার আম্মু কে নিয়ে চলে আসো । কয়েকদিন থেকে যাও।
____ আমি আম্মুকে বলে জানাবো।
____ আচ্ছা।
এরপর তাদের মধ্যে আরো কিছুক্ষণ কথা হলো। তারপর মহিনি বেগম কল কেটে দিলেন। পারুল বেগম মহিনি বেগম এর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন
____ কি বললো ?
____ তেমন কিছু না। আসতে বললাম কয়েক দিন ঘুরে যাবে ।
____ আমান কে দেখে মনে হয় না এতো তাড়াতাড়ি বিয়ের জন্য রাজি হবে।
____ তা ঠিক বলেছেন মা । কিন্তু এভাবে হলে কি করে হয় মেয়েটা তো আশায় আছে। আমান বিয়ে না করুক আপাতত আন্টি পরিয়ে রাখবো। বছর খানেক গেলে না হয় বিয়ের অনুষ্ঠান করবো।
____ হুম এটাই ঠিক হবে। আসিফ এর সাথে কথা বলতে হবে এই বিষয় নিয়ে।
তুবা গাল ফুলিয়ে বইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। পড়তে একটুও ভালো লাগে না তার। মনে মনে কয়েকশ গালি দেয়া শেষ আমান কে ।
____ আমাকে গালাগালি করা শেষ হলে পড়া শুরু কর।
____ আমান ভাই আপনি অনেক ভালো লোক।
আমান ভ্রু কুঁচকে তাকালো তুবার দিকে । তুবার মুখে তার প্রতি প্রশংসা , বিষয় টা অনেকটা অপ্রত্যাশিত।
____ ঝেড়ে কাশ তুবা।
তুবা ইনোসেন্ট ফেশ করে বললো
____ আপনি কতো কষ্ট করে কাজ করে এখন টায়ার্ড, তবুও আমাকে পড়াতে চাইছেন। এজন্য বললাম আরকি । আমি তো আপনার কষ্ট বুঝি
বলুন। আজকে আপনি রেস্ট নেন কাল থেকে পড়বো নে। আপনার যদি হাত পা মাথা কিছু ব্যাথা করে তাহলে বলুন আমি ম্যাসাজ করে দেই।
আমান বাঁকা হেসে তুবার গাল টানলো। তুবা নিঃশ্বাস আটকে বসে আছে। তার ব্যক্তিগত পুরুষ এর ছোয়ায় পুরো শরীর টা শিরশির করে উঠলো।
আমান বুঝলো না তুবার এমন রিয়েক্ট করার কারন
____ টিকটিকি কি হলো তোর ?
তুবা ওভাবেই স্তব্ধ হয়ে বসে আছে।
____ না পড়ার ধান্দা? তাকা আমার দিকে।
তুবা তাকালো না । আমান এবার তুবার বাহু ধরে ঝাঁকুনী দিলো। তুবা নড়েচড়ে বসলো
____ কিরে টিকটিকি কি হয়েছে?
____ কি,, কিছু না ।
____ তাহলে ভালো, কি কি পড়েছিস এতোদিন সবটা আমাকে দেখা।
তুবা আমান এর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।
____ কিরে এভাবে তাকিয়ে হাসছিস কেন?
তুবা চোখ সরিয়ে বইয়ের দিকে তাকালো।
____ কিছু না।
____ তাহলে বল কোনটা কোনটা পড়েছিস।
তুবা দেখালো সবটা, আমান সব দেখে তুবা কে নতুন নতুন কয়েক টা ম্যাথ বুঝিয়ে দিলো। তুবা বুঝার থেকে বেশি আমান কে তাকিয়ে দেখছে। তুবা
এতক্ষণ বোকার মতো পড়ায় ফাঁকি দেওয়ার জন্য নানান বাহানা খুঁজেছে। কিন্তু এখন বুঝতে পারলো পড়ার অযুহাতে আমান এর অনেক টা কাছে থাকতে পারবে মন ভরে দেখতে পারবে।
____ বুঝেছিস সবটা।
____ হু
____ তাহলে এগুলো কর আমি কথা বলে আসছি।
____ কি কথা ?
____ ইম্পর্ট্যান্ট কল ।
____ আচ্ছা।
আমান বেলকনিতে চলে গেল । মাহিরা কল করেছে।
____ হ্যালো
____ বলো ?
____ আমার কিছু টাকা লাগবে ।
____ কেন ?
____ টাকার জন্য এখন কৈফিয়ত দেয়া লাগবে?
____ অবশ্যই লাগবে । এতো টাকা দিয়ে কি করো তুমি?
____ সে কৈফিয়ত আমি তোমাকে দিতে পারবো না।
আমান রেগে গেলো । কয়েকদিন পর পর মাহিরা টাকা চায়, আমান এতোদিঞ কিছু না বলে সবটা দিয়েছে। ভেবেছে মেয়ে মানুষ সপিং করবে পার্লারে যাবে তাই হয়তো। কিন্তু এখন তা মনে হয় না । কারন আমান এর কাছ থেকে টাকা চাওয়ায় প্রয়োজন নেই মাহিরার। মাহিরার আম্মুর যথেষ্ট টাকা পয়সা আছে তার মেয়েকে চালানোর। তবে মাহিরা কে সে বিয়ে করবে কয়েকদিন পড়, সে দায়িত্বে মাহিরা এতো দিন টাকা চেয়েছে দেখে দিয়েছে কিন্তু কখনো জিজ্ঞেস করেনি টাকা দিয়ে কি করবে না করবে । ইদানিং আমান জিজ্ঞেস করে কারন মেয়ে মানুষ এর তো এতো লাখ লাখ টাকা সপ্তাহ প্রয়োজন পড়ে না।
____ কেন পারবে না ?
____ কয় লাখ টাকা দিয়ে হাঁপিয়ে গিয়েছো আমান? তাহলে আমাকে বিয়ে করে রাখবে কিভাবে?
____ কথার ধরন ঠিক করো মাহিরা। প্রথমত টাকা দিতে আমার কোনো সমস্যা নেই তবে এতো টাকা দিয়ে তুমি কি করো সেটা জানার অধিকার আমার আছে।
মাহিরা কল কেটে দিলো। আমান কিছুটা অবাক হলো মাহিরা মুখের উপর কল কেটে দেওয়ায়। আমান কল বেক করলো না। মোবাইল অফ করে রুমে চলে আসলো। রুমে এসে দেখলো তুবা ঘুমিয়ে আছে তার বিছানায়। বইপত্র ছড়ানো তার বিছানা জুড়ে।আমান
নিজের অজান্তেই হেসে ফেললো।
____ পড়া চোর কোথাকার!
আমান তুবা কাছে এসে বই গুলো গুছিয়ে তুবার শরীরে চাদর দিয়ে বেরিয়ে আসলো রুম থেকে।
তয়ন ও বেরিয়েছে রুম থেকে ভাইকে দেখে এগিয়ে আসলো।
____ ভাইয়া।
____ বল ?
____ আমার ল্যাপটপ এ প্রবলেম হচ্ছে। ঠিক মতো পড়তে পারছি না।
____ কাল কলেজ থেকে সোজা আমার অফিসে যাবি, এরপর তোকে নিয়ে বেরোবো।
____ আচ্ছা , ভাইয়া। কোথাও বেরোচ্ছো ?
____ হুম। ফুপুদের বাসায় যাচ্ছি।
____ মাহিরা ভাবিদের বাসায়।
আমান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো তয়ন এর দিকে।
____ আমার আর মাহিরার এখনো বিয়ে হয়নি। তাই ওকে ভাবি বলার প্রয়োজন নেই। আপু বলে ডাকতে পারিস।
____ আচ্ছা।
**
____ এতো রাতে কোথায় বেরোচ্ছো ?
____ আম্মু প্রতিদিন তোমার এক প্রশ্ন শুনতে ভালো লাগে না। মাত্র বাজে এগোরাটা।
____ দেখো তুমি মেয়ে মানুষ রাত বি রাতে বেরোলে আমার টেনশন হয় তোমাকে নিয়ে।
____ ফালতু টেনশন না করে যেয়ে ঘুমাও।
____ তোমার ফ্রেন্ডদের নাম্বার দাও আমি কথা বলবো তাদের সাথে।
মাহিরা কিছু না বলে বেরিয়ে গেল বাসা থেকে। মালিহা বেগম পেছন থেকে ডাকলেন কয়েক বার কিন্তু মাহিরা শুনলো না।
আমান বেরিয়েছে বাইক নিয়ে। আধা ঘন্টার রাস্তা পাড়ি দিয়ে পৌছালো মাহিরাদের বাসায়। মেনডোর এর কলিং বেলের শব্দে মালিহা বেগম এসে দড়জা খুললেন। ভেবেছিল মাহিরা চলে এসেছে । হঠাৎ আমান এই অসময়ে দেখে কিছু টা চমকে গেলেন তিনি।
চলবে,,,
🚫কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ🚫
#লেখিকা_অরোরা_ইমান_কায়নাত #fbpostviral #trendingpost #viralpostchallenge