ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমায় দিও একটু খানি ছুয়ে

৩৩তম পর্ব

লেখক: মিমি মুসকান

#আমায়_দিও_একটুখানি_ছুঁয়ে 🌺

#পর্ব_৩৩
#মিমি_মুসকান ( লেখনিতে )
রাতে কিট্টুকে ছাড়াই বাড়ি ফিরে এলো তুহিন। বেশ রাত করেই এলো সে। অথচ কেউ যে তার অপেক্ষায় ক্লান্তিহীন ভাবে বসে আছে এই সম্পর্কে পুরোপুরি অগত্যা সে। তাই তো বাড়িতে ঢুকে চেয়ারে অন্তুকে বসে থাকতে দেখে বেশ অবাক হলো সে। অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অন্তু এবার উঠে দাঁড়াল। তার চঞ্চল আঁখি জোড়া বার বার পিছনে ফিরছে। হয়তো আরো কারো অপেক্ষা। তুহিন তাকে একনজর দেখেই থমকে উঠল। ঘন কালো তার কোঁকড়া চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে মাথা জুড়ে। অস্বাভাবিক সুন্দর লাগছে তাকে। তুহিনের দৃষ্টি সেই মোহমায়া আকর্ষণ অগ্রাহ্য করতে পারল না। 
অন্তু নাক টানল। কাঁদতে কাঁদতে বোধহয় তার ঠান্ডা লেগে গেছে। অন্তু ভাঙ্গা গলায় বলল, “আপনি একা এসেছেন তুহিন ভাই?" 
“হ্যাঁ কেন? কারো কি আসার কথা ছিল নাকি?" 
অন্তু মিনমিন স্বরে জবাব দিল, না আমি ভাবলাম আপনি কিট্টুকে খুঁজতে গেছেন।
“কিছু বললি?" 
“গেটের বাইরে কিট্টুকে দেখেছেন? ও কি এসেছে? আমি মতি মিয়াকে বলেছি আজকের রাতে দরজা খোলা রাখতে। দাড়োয়ান চাচাকেও বলে এসেছি। 
যদি ফিরে আসে। হতেই তো পারে ও রাস্তা ভুলে গেছে তাই না তুহিন ভাই।" 
তুহিন মাথায় দুলিয়ে চেয়ারে বসে পড়ল। অন্তু বলে উঠলো, “আপনি কি রাতে খেয়েছেন? খাবার দিব? কিট্টু ও তো রাতে কিছু খায়নি বোধহয়। রাস্তায় কি আছে খাওয়ার জন্য। আপনাকে খাবার দিব তুহিন দিব?" 
“না খেয়ে এসেছি। তুই খেয়েছিস?" 
“হুঁ!" 
জবাবেই বুঝল অন্তু মিথ্যে বলছে। তুহিন বলল, “যা ঘুমাতে যা।" 
“হুঁ যাচ্ছি। আপনি ঘুমাতে যান তুহিন ভাই। অনেক রাত হয়েছে।" 
বলেও সে দাঁড়িয়ে রইল। তুহিন নিরবে চেয়ারে বসে তার উপস্থিতি টের পাচ্ছে। আচমকা দাঁড়িয়ে বলল, “বাইরে যাবি।" 
অন্তু চমকে উঠে বলল, "যাবেন? একবার দেখে আসবেন এলো কি না।" 
তুহিন দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলল, "আচ্ছা যাচ্ছি!” 
অন্তু স্বস্তি বোধ করল। তুহিন মেইন গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। দূরে দাঁড়িয়ে অন্তু উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। তুহিন রাস্তার এদিক থেকে ওদিক ফিরে তাকাল। কোনো জনমানব নেই। হাত দিয়ে ইশারা করে ডাকল অন্তুকে। অথচ এতো রাতে বাইরে যাবার অনুমতি অন্তুর ছিলো না। তাই তুহিন ভাই ডাকতেই সে চট করে বেরিয়ে এলো। তুহিন মাথা চুলকে বলল, "ওই রাস্তা অবধি একবার যেয়ে দেখবি?” 
অন্তু সঙ্গে সঙ্গে উড়না টেনে মাথায় দিল। বলল, "চলুন যাই।” 
 
চাঁদের আলোয় পাশাপাশি হাঁটছে তারা দু'জন। অন্তুর নজর এদিক ওদিক।‌ মাঝে মাঝে নিচু স্বরে কিট্টু কিট্টু করে ডাকছে সে। তুহিন মুচকি হেসে উঠল। সে ভেবেছিল অন্তু এখন ঘুমিয়ে গেছে তাই কিট্টুকে সকালে এনে নিব। সে এখন নির্ঘাত নিহামের সঙ্গে আরামে ঘুমাচ্ছে। 
হাঁটতে হাঁটতে তারা গলি পেরিয়ে এলো। অন্তু চিন্তিত স্বরে বলল, “পেলাম না তো তুহিন ভাই। কোথায় গেছে বলুন তো?" 
“হবে এখানেই। অনেক রাত হয়েছে না। কোথাও পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে নিশ্চিত।" 
“কোথায় ঘুমাচ্ছে? ঘুমানোর জায়গা আছে নাকি? আমার তো ভীষণ চিন্তা হচ্ছে তুহিন ভাই!" 
সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটা কুকুরের চিৎকার শোনা গেল। অন্তু ভয় পেয়ে গেল। পাশাপাশি যে দূরত্ব ছিল সেটা মিটিয়ে দিয়ে তুহিনের গা ঘেঁষে দাঁড়াল সে। ভর্য়াত গলায় বলল, “তুহিন ভাই! কুকুর ওকে খেয়ে ফেলেনি তো?" 
“ধুর বোকা। কুকুর বিড়াল খায় না।" 
“ওহ্। কিন্তু কামড় তো দেয়।‌ যদি কামড়ে মে*রে ফেলে তখন!" 
তুহিন জবাব না দিয়ে মুচকি হাসল। চাঁদের আলোয় অন্তুর মায়া মুখখানি দেখা যাচ্ছে। বেচারি ভয়ে নীল হয়ে গেছে। তার আঁখি পল্লবে পানি টলটল করছে। সবকিছু এতো স্পষ্ট কেন? এটা কি কেবল মনের ভুল। নাকি? 
তুহিন মাথা তুলে আকাশের দিকে ফিরে তাকাল। ওহ পূর্ণিমা আজ। সে তো জানত না। এটা কি কেবলই কাকতালীয়! আচমকা ঠান্ডা হাতের স্পর্শ পেল সে। অন্তু ভয়ে তার হাত আঁকড়ে ধরেছে। তুহিন ওদিকে তাকাল। দু তিনটে কুকুর ছোটাছুটি করছে এখানে। সঙ্গে চেঁচামেচি করছে। অন্তু ভীষণ ভয় পেয়েছে। একদম তুহিন ভাইয়ের হাত আঁকড়ে ধরে আছে। তুহিন তাকে ডানপাশে সরিয়ে নিয়ে হাতটা শক্ত করে ধরে বলল, "ভ*য় পাস না। আমি আছি তো!” 
কি সুন্দর মাধুর্যময় কথা। "আমি আছি তো।” কথাটা কেবল তার কানে বাজতে লাগল। অন্তু খেয়াল করল তার হাতটা তুহিন ভাই শক্ত করে ধরে আছে। তার মুখে স্নিগ্ধ হাসি। অন্তুর মন ছটফট করছে। সে হাতটা ছাড়িয়ে নিতে চাইলো। কিন্তু তুহিন ছাড়ল না। ছাড়া যায় নাকি? একবার কিছু ধরলে ছেড়ে ফেলা যায় বুঝি! 
অন্তু মিনমিন স্বরে বলল, “তুহিন ভাই, চলুন ফিরে যাই।" 
“আরেকটু সামনে গিয়ে দেখবি না?" 
ছলনা! ছলনা করেও আরেকটু ক্ষণ যে পাশে চাই তাকে। অন্তু বিনা দ্বিধায় রাজি হলো। তার হাতটা আগলে ধরে তুহিন হেঁটে যাচ্ছে। অন্তুর শরীর উষ্ণ হয়ে উঠল। তার মন ছটফট করছে। এখন মনে হচ্ছে কেন এতো রাতে তুহিন ভাইয়ের সঙ্গে বেরুলো সে। কি দরকার ছিল বেরুবার! 
দুটো মানব মানবী ছাড়া আর কাউকে দেখা যায় না। অন্তুর মাথা থেকে কিট্টুর কথা বেরিয়ে গেছে ততক্ষনে। তার মনে ভীষণ চঞ্চলতা। নিস্তব্ধে তারা হেঁটে আবারো ফিরে এলো বাড়ির কাছে। বাসার কাছে ফিরে আসতেই অন্তুর মনটা খা খা করল। মনে হলো কিছু একটা যেনো নেই বাড়িতে। কিছু একটার অভাব বোধ করছে সে। তুহিন তার হাত ছেড়ে দিল। অন্তু নিচু স্বরে বলল, “সকালে বোধহয় কিট্টু ফিরে আসবে। এখন কোথায় পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে। তাই হবে, বলুন তুহিন ভাই!” 
তুহিন নিশ্চুপ! জবাব দিলো না। অন্তু জবাব না পেয়ে ফিরে চাইল। তুহিন ভাই অপলক দৃষ্টিতে তাকেই দেখছে। মাথায় ঘোমটা টেনে অন্তু শুধাল, "কি ভাবছেন তুহিন ভাই?” 
"তোকে খুব সুন্দর লাগছে অন্তু। মাথায় ঘোমটা টেনে রাখলে দেখতে সুন্দর লাগে।”
লজ্জায় অন্তু মাথা নুইয়ে ফেলল। ঠোঁট কামড়ে উড়নার আড়াল থেকে আড়চোখে ফিরে চাইল। তার মন কেমন ছটফট করছে। তুহিন বলে উঠল, "তোর সেই রাতের কথা মনে আছে অন্তু?” 
চমকে উঠল অন্তু। স্থির নয়নে ফিরে তাকাল তুহিন ভাইয়ের পানে। সেই রাত! সেই ঝড় বৃষ্টির রাত! সেই রাতের কথা ভাবতেই অন্তুর পুরো শরীর হিমশীতল হয়ে গেল। তুহিন আকাশের দিকে ফিরে তাকাল। একটুকরো চাঁদটা তখন তার চোখে জ্বলজ্বল করছে। তুহিন কোনো ভনীতা ছাড়াই বলে উঠলো, "সেদিন আমি তোকে কোনো মিথ্যে বলিনি অন্তু। যা বলেছি সত্য বলেছি, আমার মনের কথা বলেছি। পুরোটাই আমার মনের কথা ছিল। আমি কোনো ছলনা করিনি। আমি সেইদিন নে*শা করিনি। তুই হয়তো জানিস না, আমি নেশা করি না। সেইরাতে, তোর আর আমার মধ্যে যা হয়েছিল তা সব সত্য ছিল, আমার ইচ্ছায় ছিল। কিন্তু সময়টা ভুল ছিল। এই কারণে আমি লজ্জিত। নিজের কাছে বহুদিন ধরে অপ*রাধী হয়ে ছিলাম এই কারণেই। তোর ছোট্ট বয়সে হয়তো সেসব কথাগুলো বলা আমার উচিত হয়নি। তোকে সব কথা বলার পর মনে হলো তুই আমায় বুঝতে পারিস নি। কিন্তু…. কিন্তু এখন কি তুই আমায় বুঝতে পারবি অন্তু? পারবি কি?" 
অন্তু নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে সকল কথা শুনছিলো। মূহুর্তের মধ্যে মনে হলো সে স্বপ্ন দেখছে। এটা ভ্রম! নাকি অন্যকিছু। এটা কি স্বপ্ন? নাকি নতুন কোনো ছলনা। অন্তুর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।‌ তুহিন ভাই তার পানে ফিরে তাকাতেই সে ছুটে বাড়ির ভেতর চলে গেল। তুহিন মেনে নিল সেটা। অন্তুর সময় দরকার। যা হয়েছে তা মেনে নিতে তার সময় চাই। এই সময় তুহিন অন্তুকে দিবে। তার যে দিতেই হবে! 
নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে ছুটে বিছানার চাদরের নিচে ঢুকে গেল অন্তু। তার পুরো শরীর কাঁপছে। মুখ খুলে শ্বাস নিচ্ছে সে। হৃদয় লাফাচ্ছে দ্রুত গতিতে। চোখ বন্ধ করলেই স্বপ্নের মতো ভেসে চোখের সামনে। তুহিন ভাইয়ের শক্ত হাত তখন তার নরম হাত শক্ত করে ছুঁয়ে ধরেছিল, তার উষ্ণ ঠোঁট ছুঁয়েছিল তার গলার কাছে, সেই চোখ! লালচে সেই চোখ যেখানে লুকিয়ে ছিল অজস্র অনুভূতি, আবেগ। না বলা কতো কথা। তার কিশোর মনে কি দারুণ প্রভাব ফেলেছিলো সবকিছু। তুহিন ভাই নিজ মুখে প্রথমবার বলেছিল তাকে ভালোবাসার কথা। অথচ তার আগে থেকেই তুহিন ভাই তার স্বপ্নের পুরুষ। সেই স্বপ্নের পুরুষের সেই আলিঙ্গন তার কাছে স্বপ্নের মতো লাগল। সারারাত জেগে জেগে ভেবেছিল কতোশত জল্পনা কল্পনা, কতো স্বপ্ন সাজিয়েছিল।‌ কিন্তু! কিন্তু সকাল হতেই তুহিন ভাই সবকিছু অস্বীকার করে বসলেন। তার নাকি কিছু মনে নেই। যা হয়েছে সবটাই নে*শার ঘোরে। অন্তু মেনে নিতে পারেনি এসব। তার মন বলতো তুহিন ভাই মিথ্যে বলছে অথচ জিজ্ঞেস করার সাহস ছিলো না। মনের ভিতর সবকিছু চেপে রেখেছিল এই দীর্ঘ কাল।‌ সময়ের সাথে সাথে ভুলে যাবার চেষ্টা করল।‌ ভুলতে না পারলেও সবকিছু এখন তার কাছে ধোঁয়াশা মনে হতো। ধূসর রঙের স্বপ্ন যেন! কিন্তু আজ! আজ তুহিন ভাই মনে করিয়ে দিলেন সে সব কিছু। সব সত্যি ছিল! কি সত্যি ছিল? কোন কথা? ভালোবাসার কথা? তাকে আগলে রাখার কথা, কাছে পাবার কথা! কতো কিছুই তো ছিল।‌ কোন সত্যির কথা বলছেন তিনি। 
অন্তু হাঁপিয়ে উঠল। মুখ বুঝে নিঃশব্দে কেঁদে উঠল। যে সত্যি থেকে পিছু ছাড়াবার জন্য ছুটে পালিয়ে যাচ্ছিল সে, অথচ শেষ রক্ষা যেন হলো না। তারা তাকে ধরেই ফেলল।‌‌ মানসিক চাপ আর তীব্র হৃদয় বে*দনায় সে ক্লান্ত হয়ে পড়ল। হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে কাঁদতে লাগল কেবল! 
কখন ঘুমালো জানা নেই। সকাল বেলা রহিমা খালা এসে দরজা ধাক্কাতে লাগলেন। অন্তু কোনমতে উঠে এসে দরজা খুলল। প্রথমেই চোখ পড়ল পাশের ঘরের দিকে। দরজা খোলা, তার মানে তুহিন ভাই বাড়িতে নেই। তিনি যতক্ষণ বাড়িতে থাকেন ততোক্ষণই দরজা বন্ধ থাকেন। রহিমা খালা হাসতে হাসতে বললেন, কিট্টু চলে এসেছে গো মা। আসো আসো নিচে আসো। দেখো কি অবস্থা তার। 
কিট্টুর কথা শুনে ছুটে নিচে নামল অন্তু। দেখল একটা ঝুড়ির মধ্যে আরামে বসে আছে সে। ঝুড়ির চারদিকে বাহারী ফুল। অন্তু কিট্টু বলে ডাকতেই সে ছুটে নিচে নামল। কি যে আহ্লাদী হয়ে উঠল সে। বলা বাহুল্য! জামাল সাহেব অবধি হকচকিয়ে গেলেন। বিস্ময়ের সীমা রইলো না। বিড়ালটা ফিরে এলো কি করে? 
রহিমা খালা জানালেন,‌ একটা সুন্দর করে লম্বা ছেলে এসে ফেরত দিয়ে গেছে। তুহিন ভাইয়ের বন্ধু তিনি। চিনে অথচ নাম জানে না।‌ সেই এসে কিট্টুকে দিয়ে গেছে। 
অন্তু অবাক চোখে সমস্ত কথা শুনল। তুহিন ভাইয়ের বন্ধু মানে? নিহাম ভাই নাকি? তিনি দিয়ে গেছেন কিট্টুকে।‌ কিন্তু এখন এতো কিছু ভাবার সময় নেই তার। সে কিট্টুকে নিয়েই ব্যস্ত। কোলের মধ্যে নিয়ে আদর করতে লাগল। খাবার খাইয়ে দিতে লাগল। রহিমা খালা ঝুড়ি দেখিয়ে বললেন, এটা কি করব খালা? 
ঝুড়িটি অন্তুর খুব পছন্দ হলো। এটা সে ঘরে রেখে দিবে।‌ কিট্টু চাইলে এটার মধ্যে বসে থাকবে।‌ তাই সে ঝুড়িটা নিয়ে নিল।‌ মনে হলো ঝুড়ির মধ্যে কিছু একটা জিনিস চিকচিক করছে। অন্তু তুলে নিল সেটা।‌ পেনডেন্ট! তুহিন ভাইয়ের গলার সেই রূপালী রঙের পেনডেন্ট! অন্তু বাকরুদ্ধ হয়ে গেল।‌ তার মানে তুহিন ভাই খুঁজে পেয়েছিলেন কিট্টুকে! 
__________
রোহান ফিরে এসেছে। তার পায়ের ব্যাথা সেরেছে। হাঁটতে চলতে ওতো অসুবিধে হয় না। তবুও ডাক্তার বলেছিলো আরো কিছুদিন রেস্টে থাকতে। সেইসব কথা উপেক্ষা করে রোহান ফিরে এসেছে। ভার্সিটিতে ঢুকতেই প্রথমেই চোখ পড়ল অরিত্রের উপর। অরিত্র কিঞ্চিত হাসল তাকে দেখে। বিনিময়ে সেও হাসল। তার অরিত্র আর রিয়াজের মধ্যে একটা ঠান্ডা যুদ্ধ চলছে। আর সেটা হচ্ছে তাহিয়াকে নিয়ে। তুহিনের বেস্ট ফ্রেন্ড তাহিয়া। রোহান কখনো চায় না অরিত্র তাহিয়ার প্রেমে পড়ুক। অথচ এই বান্দা প্রেমের জলে হাবুডুবু খেয়ে যে সাতড়াচ্ছে এটাই সে জানতে পারল কিছুদিন আগে। এইজন্য অরিত্র রোজ সন্ধ্যায় বেরিয়ে যেত, ক্যাফেতে তাহিয়াকে দেখার জন্য। তার চোখের আড়ালে তার বন্ধু এই অসাধ্য সাধন করে গেছে অথচ সে জানতে পারেনি। এই যে না জানতে পারার ব্যা*থা, এই ব্যা*থা তাকে অ*স্থির করে তুলে। যদিও কথায় কথায় রোহান অরিত্রকে বুঝিয়ে দিচ্ছে তাহিয়ার পিছু ছেড়ে দিতে কিন্তু অরিত্র কথাগুলো আদলে নিচ্ছে না আসলে। 
ক্যাম্পাসে বসে বর্ষনা আর অন্তু তাদের প্রেজেন্টেশন তৈরি করছে। তাদের সাহায্য করছে অদিতি। অন্তুকে আজ সুন্দর লাগছে। আকাশী রঙের শাড়িতে তাকে মানিয়েছে বেশ। রোহানের চোখে সর্বপ্রথম এই স্বপ্ন কুমারীকে নজর কাড়ল। সে কিঞ্চিত হেসে কাছে এগিয়ে এলো। অন্তু একগাল হেসে বলল, “কেমন আছেন ভাইয়া? আপনার পায়ের অবস্থা কি?" 
“ঠিক হয়ে গেছে। তোমাদের কি অবস্থা? প্রেজেন্টেশন নাকি?" 
“হ্যাঁ তাও প্রথমবার!" 
বলেই হাসল। তার হাসিতে অস্থিরতা বিদ্যমান। রোহান বলে উঠলো, “নার্ভাস মনে হচ্ছে!" 
অন্তু পাশে বর্ষণাকে দেখে বলল, হ্যাঁ কিছুটা। 
বর্ষণা ও তাল মিলিয়ে বলল, “প্রথমবার বলেই একটু নার্ভাস লাগছে। পরে ঠিক হয়ে যাবে। 
অরিত্র জবাবে বলল, "না, সবসময় নার্ভাস লাগে।’
“আপনি এই কথা বলছেন? অথচ সেদিন স্যার বলল আপনি নাকি চমৎকার কথা বলেন!" 
অরিত্র হাসার চেষ্টা করল। রোহান বলল, “ফুচকা খেলে টেনশন কমতে পারে। খাবে নাকি?" 
বর্ষণা বলল, আপনি ট্রিট দিচ্ছেন?” 
"হ্যাঁ ধরে নিতে পারো। চলো যাওয়া যাক। এই অ্যাকাউন্টিং ডিপার্টমেন্ট আপনিও আসুন!" 
অদিতি হকচকিয়ে বলল, আমি!
অরিত্র বলল, চলে আসো। রোহান খাওয়াচ্ছে। ব্যাটা কিন্তু হারকিপ্টে আজ তার মন উদার করেছে। সমস্যা কি এতে?। 
অন্তু অদিতিকে ডেকে বলল, যা তুই। 
রোহান শুধাল, তুমি যাবে না? 
“না খেতে ইচ্ছে করছে না।" 
"কেন?”
"সকাল থেকে কিছু খায়নি তো। খালি পেটে এখন আর খেতে ইচ্ছে করছে না। 
বর্ষণা তার হাত টেনে বলল, ধুর চল তো। এভাবেই তো সিনিয়র থেকে ট্রিট পাই না। আজ আবার একজন দিচ্ছে তুই বাহানা করছিস। চল!” 
টেনে নিয়ে গেলো সামনের ফুচকার দোকানে। পাঁচ জন একসঙ্গে দাঁড়িয়ে গল্প করছে। রোহান একটু একটু করে অন্তুর সঙ্গে ভাব জমাতে চাইছে। সেটা অন্তু না বুঝলে আরেকজন ঠিকই বুঝতে পারল। দূর থেকে তুহিনের তী*ক্ষ্ণ নজর বিস্তর করল কেবল অন্তুর উপর। তার মনে হচ্ছে এই মেয়েকে সময় দিয়ে সে সময় নষ্ট বৈকি আর কিছুই করছে না। অতঃপর গাল বাঁকিয়ে হাসল সে।
#চলবে…..

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন