ফন্ট সাইজ:
থিম:
ইশ্কনামাহ

৩য় পর্ব

লেখক: মিথিলা মাশরেকা

#ইশ্কনামাহ্ 

লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা 
৩.
টিফিনবক্সটা ঠিকঠাক করে দ্রুতপদে ছোটমেয়ের ঘরে আসলেন পারিজা বেগম। ঘরে ঢুকতেই দেখেন বিছানার চাদর থেকে শুরু করে, টেবিল, ওয়ারড্রোব সে ঘর পুরো এলোমেলো। পারিজা বেগমের মাথা ঘুরে ওঠে। হতাশ চোখে তিনি মেয়ের দিকে তাকালেন। সে আয়নার সামনে দাড়িয়ে কপালে টিপ পরছিল। টিফিনবক্স টেবিলের ওপর রেখে এবার বিছানা গোছাতে লাগলেন তিনি। স্রোত একপলক আয়নায় মায়ের দিকে তাকালো। তারপর ড্রেসিং টেবিলে কিছুএকটা খুঁজতে খুঁজতে বলল,
– আম্মি? আমার সাঞ্জিদুটো কোথায় গো? দেখেছ তুমি? 
– সাঞ্জি আবার কারা?
– ওইযে শেষবার যে রুপালিরঙা ঝুমকোদুটো কিনলাম। দেখেছ কোথাও ওদের?
– ড্রেসিংটেবিলে নেই?
– না। খুঁজে পাচ্ছি না তো।
পারিজা বেগম এগিয়ে আসলেন। ড্রেসিংটেবিল খুজে ঝুমকো না পেয়ে টেবিলের দিকে এগোলেন তিনি। সেখানে শেলফের একটা বইয়ে হুক গুজে দেওয়া অবস্থায় ঝুমকো ঝুলছে। সেটা এনে মেয়ের হাতে ধরিয়ে দিলেন পারিজা বেগম। স্রোত খুশিমনে দুল কানে পরলো। পারিজা বেগম বললেন,
– তুই এতো অগোছালো হয়েছিস কেন স্রোত? এমন হলে সংসার করবি কিকরে?
– ছোটবেলায় তুমিই তো বলতে, আমায় বিয়ে করতে ঘোড়ায় চড়ে রাজপুত্র আসবে। তো যার বিয়ে রাজপুত্রের সাথে হয়, সে আবার ঘরদোর গোছায় নাকি হু?
বলতে বলতেই চোখ টিপে দেয় স্রোত। তারপর চিরুনীটা মায়ের হাতে গুজে দিয়ে বিছানায় বাবু হয়ে বসে গেল। মোবাইল দেখতে দেখতে বলল,
– এবার আমার সংসারের চিন্তা না করে জলদিজলদি বিনুনী করে দাও! লেইট হচ্ছি। 
পারিজা বেগম এগিয়ে গিয়ে মেয়ের চুল আচড়ে বিনুনি করতে শুরু করে দিলেন। এরমাঝেই শেউতি পাশের ঘর থেকে ছুটে এসে স্রোতের সামনে দাড়ালো। উত্তেজনা নিয়ে বলল,
– মনি! আজকে কিন্তু আমি তোমার ক্লাসে থাকব!
মোবাইল সরিয়ে শেউতির দিকে তাকাল স্রোত। তার পরনে সাদা স্কুলড্রেস, সাদা মোজা, সাদা সু। মাথার সামনের চুল উচুতে ঝুঁটি করা, পেছনে ছাড়া। স্রোত ভ্রুকুচকে বলল,
– কিন্তু তোর তো আজকে ডান্সক্লাস নেই। 
– তো কি হয়েছে? আমার মনির ক্লাস, আমি করব! তাতে এতো ঝামেলা হবে কেন?
শেউতি রাগ নিয়ে বলছিল। গালও ফুলিয়ে ফেলেছে সে। স্রোত অবাক হয়। এইটুকু মেয়ের যে এতো রাগ হয়েছে, সেটা ওর আগে চোখে পরেনি। পারিজা বেগম স্রোতের চুলে বিনুনি বাধতে বাধতে বললেন,
– এজন্যই বারণ করেছিলাম। শেউতিকে তোর একাডেমিতে দেওয়ার দরকার নেই। আমার মনি, আমার মনি করে করে ও জেদ করবে। কে শোনে কার কথা! 
– রিদম আধঘন্টা হলো বাইক নিয়ে বাসার সামনে দাড়িয়ে আছে।
মাকে কিছু বলার আগেই বোনের আওয়াজ কানে আসে স্রোতের। ঘাড় ঘুরিয়ে দরজায় তাকায় ও। কনিকা দরজায় দাড়ানো। একটা ছোট্ট শ্বাস ফেললো স্রোত। আগেরদিন রাগারাগি করে এই ছেলেকে ও বাসা থেকে বার করে দিয়েছিল। এখানে আসতেও বারণ করেছে। সে কথাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে রিদম বাসায় আসছে না ঠিকই, অথচ বাসার সামনে দাড়িয়ে আছে। কণিকা বলল,
– এই ছেলেটা আর কতোদিন তোর পিছনে ঘুরবে বলতো ছুটকি?
– ও কার পেছনে ঘোরে না বলোতো আপু?
– তোকেও তো ছাড়ছে না।
– অপমানও তো কম করিনি!
পারিজা বেগমের বিনুনি করা শেষ। উনি কিছু বলতে চাইছিলেন। তাকে সে সুযোগ না দিয়ে স্রোত বিছানায় থাকা ওড়না কাধে নিলো। হনহনিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে দেখে, রিদম একটা নেভী ব্লু শার্ট আর ধুসর প্যান্ট পরে বাইকে বসা। স্রোত সোজা ওর সামনে দাড়িয়ে গিয়ে শক্ত গলায় বলল,
– সমস্যা কি তোর? বারণ করেছি না এ বাসায় আসতে?
– এইটা তোর বাসা? ওমা তুই রাস্তায় নেমে গেছিস স্রোত? এতো গরিব কবে হলি তুই?
চরম বিস্ময়ের সাথে প্রশ্ন করে রিদম। স্রোত এদিকওদিক ফিরে, নিজের কপাল চেপে ধরলো। এই ছেলেকে কিছু বলাই বেকার! ওর বুঝে আসে না, রিদমকে ঠিক কি করে বুঝাবে, ওর এ বাসায় আসা নিয়ে পাড়ায় হাজারো কথা হয়। হাল ছেড়ে এবার স্রোত হতাশ কন্ঠে বলল, 
– দেখ রিদম. . .
– দেখছি। তোকে অনেক সুন্দর ল্. . .
বলা শেষ হবার আগেই ঠাস করে চড় পরে রিদমের গালে। গালে হাত নিয়ে ও আগে আশেপাশে তাকালো। নাহ! কেউ নেই। অতঃপর তাকালো স্রোতের দিকে। চড় মেরে সেই শক্ত চোখমুখ করেই দাড়িয়ে আছে সে। রিদম কিছুটা অভিমানী গলায় বললো,
– এই নিয়ে চারটা মারলি স্রোত। অথচ আমি বয়সে তোর চারমাসের বড়!
– যেই চিপ ফ্লার্টগুলো করিস, তোর কপাল ভালো শুধু চারটে চড় মেরেছি। এখনো থানায় কেইস করিনি।
রিদম মাথা নিচু করে নেয়। কতোশতো মেয়ে ওর জন্য পাগল। একদফা কথা বললেই তারা রিদমের প্রেমে পরে যায়। অথচ স্রোত! সে তার নামের মতোই! এই মেয়েকে পটানো তো দুর, একটু ভালো করেও কথা বলা যায় না। গালে হাত বুলাতে থাকে রিদম। স্রোত আগের মতোই কঠোর গলায় বলল,
– এরপর থেকে আর কোনোদিন তোর ওই শর্টটাইম প্রেমিকাদের মতো আমার সাথে ফ্লার্ট করবি না! পরেরবার কিন্তু আর চড় না, সত্যিসত্যি কেইস করে দেবো! 
– আচ্ছা সরি। আর বলব না। 
স্রোত ক্ষান্ত হলো না। কণিকার বলা কথা ওর গায়ে লেগেছে। আরোকিছু বলতে যাবে, এরমাঝে শেউতিকে নিয়ে কণিকা বাইরে চলে আসে৷ শেউতি রিদমকে দেখেই বলে উঠল,
– আজকে রিকশায় যাব না মনি! রিদম মামার বাইকে যাই চলো!
গাল থেকে হাত সরিয়ে বুকের বা পাশ চেপে ধরে রিদম। বোহায়ার মতো প্রসারিত হেসে চেয়ে রইল শেউতির দিকে। মনেমনে বলল, “ওপরওয়ালার কি অপার মহিমা! ওই মুখ দিয়ে ওকে মামাও ডাকাচ্ছে, আবার ওই মুখ দিয়েই ওকে খালুওয়ালা ফিল দেওয়ার বায়না করাচ্ছে! কি বিষন্নসুন্দর ব্যাপারস্যাপার! বাহ্!” স্রোত কিছু বলার আগেই ও গিয়ে শেউতিকে কোলে তুলে নিলো। বাইকে বসাতে বসাতে বলল,
– থ্যাংকিউ! আয় মা! আয় বাইকে আয়! 
তারপর স্রোতের দিকে ফিরে অনুনয় করলো,
– আসেন ম্যাডাম? বাইকে আসেন?
– খালি?
স্রোত রিকশা ডাক দিয়েছিল। সাথে শেউতিকেও ইশারা করেছিল, ও বাইকে যাবে? নাকি রিকশায়? আশানুরূপভাবে, মনির সাথেই যেতে উদ্যত হয় শেউতি। ও রিদমকে বলল বাইক থেকে নামানোর জন্য। বিব্রত চেহারা করে করে ওকে নামিয়ে দিলো রিদম। স্রোত শেউতিকে নিয়ে রিকশায় চড়ে বসলে রিকশা চলতে শুরু করে। কম গতিতে বাইক চালিয়ে রিকশাটার আগেপরে করে একাডেমিতে পৌছায় রিদমও।
•
কপালের সামনে থেকে মাথায় বাধা রুমালটা উল্টোদিকে টেনে খুলে ফেলল সায়র। অনেকটাসময় একদৃষ্টিতে চেয়ে রইল সামনে। তারপর একেবারেই শান্ত-ধীর আওয়াজে বলল,
– এবার একটু বেশিই দেরি করে ফেললাম। তুই রাগ করেছিস কায়েফ?
জবাব আসে না কোনো। সায়র জানতো, জবাব আসবে না। “Kaif Enayet” লেখা ফলকবিশিষ্ট কবরটার পাশে তাকালো ও। সেখানের নয়নতারা গাছটায় বেশকিছু বেগুনীরঙা ফুল এসেছে। বেশকিছু ঝরেও গেছে। উজ্জ্বল রঙের ফুলগুলো দেখে সায়রের চোখ ভরে ওঠে। কানে আসে,
– স্যার? প্রিন্সিপাল ম্যাম চলে এসেছেন। 
সায়র কিঞ্চিত মাথা ঘুরালো। পুনরায় সামনের কবরের দিকে চেয়ে বলল,
– অপেক্ষা বলো ওনাকে। আমি আসছি।
– ওকে স্যার।
লোকটা চলে যায়। দুদন্ড চুপকরে দাঁড়িয়ে থাকার পর সায়রও চলে আসতে উদ্যত হয়। তখনই এলোমেলো চুল আর রোগাপাতলা গরনের একটা মেয়ে ওর সামনে চলে আসে। ঘাড় অদ্ভুতভাবে হেলিয়েদুলিয়ে, সে মেয়েটা সায়রকে একটানা বলতে শুরু করে,
– এই তুমি কে? এখানে কি করছ? তুমি কি আমার গাছের ফুল ছিড়েছ? ন্যানিকে ডাকব? ভালো দুষ্টু তো তুমি! আমার গাছের কতগুলো ফুল ছিড়েছ সেটা বলো? তোমাকে আমি জেলে দেবো! ন্যানি? ন্যানি?
সায়র কিছুই বলল না। ডাকাডাকি শুনে এক মহিলা ছুটে আসে ওদের দিকে। তার পরনে মিশনারীর পোষাক। ন্যানি এসেই হট্টগোল করতে থাকা মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরলো। ওকে শান্ত করার উদ্দেশ্যে বলল,
– Calm down Rain! Calm down! তুমি তো ভালো বাচ্চা আমাদের। এমন কেন করছ? 
– ন্যানি! ন্যানি ও আমার গাছের ফুল ছিড়েছে! 
– না রেইন! ওগুলো আপনাআপনিই ঝরে গেছে। 
– না ন্যানি! ও সিন করেছে! দেখো দেখো, কতোগুলো ফুল নিচে পরা! দেখো!
– উনি তোমার ভালো ভাইয়া হয় রেইন। কায়েফ ভাইয়ার মতো ভালো ভাইয়া। আর তুমি তো জানো! ভালো ভাইয়া ফুল ছেড়ে না, সিন করে না। উনিও ফুল ছেঁড়েন নি, সিন করেন নি। 
মেয়েটা এবার আস্তেআস্তে শান্ত হলো। ন্যানি ওকে আরোকিছু বুঝিয়ে ওখান থেকে অন্যদিকে পাঠিয়ে দেয়। চলে যায় মেয়েটা। সায়র চুপচাপ ওর চলে যাওয়া দেখল। ন্যানি বলল,
– ও বৃষ্টি। কিন্তু ওর নিজের নাম পছন্দ না। এজন্য কায়েফ ওকে রেইন ডাকতে বলেছিল। আমরা ওকে রেইন বলেই ডাকি। ওর বয়স চৌদ্দ। কিন্তু মানসিকভাবে ও এখনো পাঁচ-ছয় বছরের বাচ্চা। এখানকার বেশিরভাগ বাচ্চার ক্ষেত্রে যেমনটা হয় আরকি। 
– কায়েফ সত্যিই কোনো সিন করেনি ন্যানি।
– Every soul is a sinner Shayor. Every soul is a sinner.
নিশব্দ হাসির সাথে, মাথা ডানেবামে দুলাতে দুলাতে বলছিল ন্যানি। সায়র জবাব দিলো না। ন্যানি হাসি কমিয়ে ওরদিকে তাকালো। শুধাল,
– একেবারে দেশে চলে আসলে যে?
– শুরুটা এখানে, শেষটাও তো এখানেই হতো। আমারই ভুল ছিল অন্যকোথাও শেষ খোঁজা।
– ভুল কেন বলছ? হয়তো এটাই ডেস্টিনি।
– তাহলে অকারণ, অহেতুক, অপ্রয়োজনীয় জায়গায় এতোগুলো দিন নষ্ট করার মানে কি? যা চাইছি, তা আমার ডেস্টিনিতে নেই?
– কারো দায়িত্ব না হয়েও যে কায়েফ অনেকের দায়িত্ব নিয়েছিল, তুমি সেই কায়েফের দায়িত্ব নিয়েছ সায়র। তুমি যা চাও, আমার বিশ্বাস তুমি তা পাবে। আমি মনপ্রাণ দিয়ে যীশুকে বলব, সে যেন তোমাকে তোমার চাওয়াটুকো দেয়। 
পাশের চার্চ থেকে ঘন্টার আওয়াজ আসে। সায়র একপলক সেখানকার ইয়া বড় ক্রুশ চিহ্নটার দিকে তাকাল। তারপর আবারো তাকালো ন্যানির দিকে। ন্যানি মাথা নেড়ে অনুমতি বুঝালে পা বাড়ায় সায়র। চলে আসে সোজা প্রিন্সিপালের রুমে। নক করতেই চেয়ারে বসা পঞ্চাশোর্ধ রমনী বললেন,
– SR! এসো! তোমারই অপেক্ষা করছিলাম। 
সায়র ভেতরে ঢুকল। কোটের বোতাম খুলে, সামনের চেয়ার টেনে, পায়পর ওপর পা তুলে তাতে আয়েশে বসে গেল। কোনোরকমের অনুমতির অপেক্ষা করেনি ও। নাকের ওপর রাখা চশমার ওপর দিয়ে সিস্টার ইমি সামনের বেপরোয়া যুববকে দেখল। বলল,
– কেমন আছো?
– ভালো। 
– একেবারে দেশে আসছ জেনে খুশি হলাম।
– That's not my topic. You better come to the point.
সিস্টার ইমি কথা বলতে পারলো না। সায়র রেহনেওয়াজের পেশাদার কথা বলার ধরন তার মুখ সপাটে বন্ধ করে দিয়েছিল। টেবিলের নিচ থেকে একটা খাম বের করে সায়রকে এগিয়ে দেয় সে। ভ্রু কিঞ্চিৎ কুচকে, কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে সায়র খামটা খুলল। ওটা খুলতেই বেরিয়ে আসে একটা কাগজ। আর তা দেখে দৃষ্টি প্রসারিত হয় সায়রের। নিজেকে সামলে ও সামনে তাকিয়ে বলল,
– কবে এসেছে এটা?
– গতকাল।
– প্রেরক?
– জানিনা। এটা দেখার পর আমার মনে হলো তোমাকেও দেখানো উচিত, তাই. . . 
সিস্টার ইমির কথা শেষ করার আগেই সায়র কোটের ভেতরের পকেট থেকে একটা বান্ডিল টেবিলে রাখল। দুহাত একত্রে টেবিলে রেখে, সোজা হয়ে বসলো ও। ওর শক্তপোক্ত চাওনি দেখে গলা শুকালেও, টাকার বান্ডিলটা দেখে মৃদু হাসলো সিস্টার ইমি। বলল,
– সরি SR. তোমার টাকা আজ আমার মুখ খোলাতে পারছে না। আমি সত্যিই জানিনা কে ছিল। খামটা কেউ রেইনের হাতে দিয়ে গেছে।
সায়র তৎক্ষনাৎ চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ালো। দ্রুতপদে এগিয়ে গেল হোমের সে বাগানটার দিকে, যেখানে ন্যানি রেইনকে পাঠিয়েছিল। ওকে পুনরায় ওখানে দেখে অবাক হলো ন্যানি। বেতের টুলে বসে রেইনকে তখন চুল বেধে দিচ্ছিল সে। আর রেইন পেন্সিল দিয়ে খাতায় কিছু আকিবুকি করছিল। সায়র এগিয়ে আসলো। রেইনের সামনে ঘাসে হাটুতে বসে গিয়ে, হাতের খামটা দেখিয়ে আস্তেকরে বলল,
– ও কে রেইন? চেনো তুমি ওকে? 
রেইন একপলক পেছনে ন্যানির দিকে চাইল। অতঃপর আবারো সায়রের দিক ফিরে, ভয়েভয়ে মাথা নাড়িয়ে না বুঝালো। সায়র আবারো বলল,
– আগে দেখেছ কখনো?
– নাহ্!
– কখনো দেখলে চিনবে?
কানের পেছনে চুলকে রেইন এবারেও মাথা ডানেবামে দুলায়। সায়র দৃষ্টি নামিয়ে নিলো। একটুখানি হেসে, রেইনের মাথায় তালু বসিয়ে আদর করলো ও। তারপর উঠে দাড়ালো হোম থেকে বেরিয়ে আসার উদ্দেশ্যে। কিন্তু ও দুইপা এগোতেই রেইন পেছন থেকে ডাক লাগালো,
– ভালো ভাইয়া?
পা থামে সায়রের। ন্যানির হাতের নিচ থেকে রেইন উঠে এগিয়ে আসলো ওর দিকে। হাতের উল্টোপিঠে গলা ডলতে ডলতে, শরীর মোচড়াতে মোচড়াতে, সায়রের হাতের খামটা হাতে নিলো ও। তারপর কিছু একটা লিখে দিয়ে সেটা ফেরত দিলো সায়রকে। যেভাবে এসেছিল, সেভাবেই শরীর মোচড়াতে মোচড়াতে চলে গেল রেইন। সায়র চোখের সামনে খামটা তুলে ধরলো। অতি সুক্ষ্ম একপ্রকার জয়ের হাসি ফোটে ওর চেহারায়।  
চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন