ফন্ট সাইজ:
থিম:
স্বরলিপিতে তুমি

২৯তম পর্ব

লেখক: জাবিন ফোরকান

#স্বরলিপিতে_তুমি

#জাবিন_ফোরকান

#পর্বসংখ্যা২৯

পর্ব ২৯: [ মুক্তি ]

━━━━━━━━━━━

সুরের ঝংকারে উন্মত্ত চারপাশ। তীব্র গুঞ্জন ছাপিয়ে যাচ্ছে ইলেকট্রিক গিটারের ধ্বনি। ড্রামারের তালের সঙ্গে সঙ্গে মাইক্রোফোনে দরাজ কণ্ঠটির আত্মপ্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে যেন সকলের অন্তরাত্মা ছুঁয়ে গেলো মূর্ছনায়।

~মন রে~

ওরে হাইলা লোকের লাঙ্গল বাঁকা

জনম বাঁকা চান্দ রে

জনম বাঁকা চান্দ

অন্তর খিঁচে আসে এক অসম আবেদনে। ওই কণ্ঠের মাঝে অদ্ভুতুড়ে ঐন্দ্রজালিক ক্ষমতা আছে। বিষন্ন - বিরহ এবং সম্পূর্ণ অব্যক্ত এক অনুভূতি মেশানো কণ্ঠের সুরে সুরে জড়ানো আর্তনাদ, হাহাকার। ভারীক্কি, দরাজ এবং ভাঙা স্বরের মাঝে আর্দ্র নিবেদন। অন্তর কেঁপে উঠে যেন। অজান্তেই তালে তালে সকলে গেয়ে উঠছে, সম্মিলিত সঙ্গীতের তাড়নায় কেঁপে কেঁপে উঠছে হলটি।

দোহা সামনের কিছুই দেখতে পাচ্ছেনা। কারণ সে বর্তমানে চোখ বুঁজে আছে। এক হাতে মাইক্রোফোন বাগড়ে ধরে উগড়ে দিচ্ছে ভেতরের সবকিছু। সকল না বলা অনুভূতি তার ঝরে পড়ছে গানের সঙ্গে সঙ্গে।

~তার চাইতে অধিক বাঁকা, হায় হায়

তার চাইতে অধিক বাঁকা

যারে দিছি প্রাণ রে

দুরন্ত পরবাসী~

কিছু একটা ভেঙেচুরে গেলো দোহার মধ্যে। বদ্ধ চোখের পাতা বেয়ে টপটপ করে অশ্রু গড়াতে লাগলো। ভেঙে কর্কশ হয়ে উঠলো সুগভীর কন্ঠস্বর, তবুও সে জারি রাখলো গান। তার এমন ভাঙন, এমন ক্রন্দন উপস্থিত প্রত্যেকের অন্তরে নিদারুণ দাগ কেটে গেলো। স্তব্ধ হয়ে গেলো সময়। সম্মিলিত সমুদ্রসম গর্জনে কেঁপে উঠলো গোটা হল।

~আমার হাড় কালা করলাম রে

ও আমার দেহ কালার লাইগা রে

আমার অন্তর কালা করলাম রে

দুরন্ত পরবাসী~

গাল বেয়ে গড়ালো অশ্রু, নিঃশব্দ অশ্রু কাঁপন ধরালো সুরে। নিভু নিভু আলোর মাঝে স্টেজের উপর থাকা ইলেকট্রিক গিটার হাতে থাকা দোহার চেহারা অবশ্য কারো চোখে পড়লো না। দেখলো না তারা আর্দ্র অনুভূতিটুকু। সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার ভগ্ন হাহাকার। কিন্তু অনুভব করলো। সুরের মাধ্যমে স্থাপিত হলো অন্তরের যোগাযোগ। তাইতো যখন গানটি সমাপ্ত হলো তখনও দর্শকদের অনেকেই একত্রে গেয়ে চলেছে। গায়কের গানের সঙ্গে সঙ্গে তারা আপন আপন জীবনের বেদনাটুকুও অনুভব করেছে প্রগাঢ়ভাবে।

কিছুক্ষণ পর।

বাইরের স্টেজে এখন ভিন্ন একটি ব্যান্ড পারফর্ম করছে। দোহা একটি চেয়ারে বসে টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে নিচ্ছে। গোটা শরীর ঘেমেনেয়ে একাকার হয়ে গিয়েছে। গিটারটা সে ব্যাগে ভরতে ভরতে ভীষণ হাসিমুখে এক লোক উঁকি দিলো পর্দা সরিয়ে,

- আজকে পুরো খেয়ে ছেড়ে দিয়েছিস!

তার দিকে চেয়ে দোহা কিছুই বললোনা। শুধু একটু মাথা দোলালো। সে ভেতরে প্রবেশ করলো, পকেট থেকে গোটা গোটা চারটা হাজার টাকার নোট বের করে এগিয়ে দিলো দোহার দিকে। দোহা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো।

- ওয়েট... তিন হাজারে কথা হয়েছিলো।

- জানি। এটা রাখ। ক্লায়েন্টদের সবাই পুরোই পাগল হয়ে গিয়েছে তোর গানে। তুই জানিস, গত কয়েক মাসে কত ক্লায়েন্ট বেড়েছে আমাদের?

দোহা একটি ঢোক গিললো, টাকাটা হাতে নিয়ে স্থির চেয়ে রইলো। মনের ভেতর কেমন একটা বিরহের অনুভূতি হলো। বুকটা ভারী ভারী ঠেকলো। এই সুখপাখির জন্য কতই না সংগ্রাম ছিলো তার এককালে! এখনো আছে, তবে প্রয়োজন নেই। যে প্রয়োজন ছিলো, সে তো চলে গিয়েছে! সঙ্গে নিয়ে গিয়েছে তার জীবনের সবটুকু সুখ, বন্ধু, ভালোবাসা, পরিবার—সবকিছু! এই দোহা আর দোহা নেই, সে আগের দোহা ইসলামের একটা ফাঁপা খোলসমাত্র।

বর্তমান দোহার জীবনের কোনো উদ্দেশ্য নেই। সে চলছে, চলতে হয় বলে। টাকাটা পকেটে ভরে সে বাকিদের বিদায় জানিয়ে বেরিয়ে এলো। হল পেরিয়ে দ্রুতই বাইরে চলে এলো। হুডির টুপিটা মাথায় তুলে নিলো, কাঁধে গিটারের ব্যাগ।

এই প্রায় দুইটা বছরে তার জীবন আমূল বদলে গিয়েছে। আবার অনেক কিছুই বদলায়নি। আগের ব্যান্ড দোহা ছেড়ে দিয়েছে, সে বর্তমানে কোনো ব্যান্ডের অধীনে কাজ করেনা। একাকী সময়ে নিজের স্কিল ঝালিয়ে আরো দূর্দান্ত করে তুলেছে নিজেকে। অজস্র জায়গায় অডিশন দিয়েছে। উহু, চান্স পাওয়ার জন্য নয় ঠিক। পরিচিতি পাওয়ার জন্য। চান্স না হলেও লাভ হয়েছে। এই যেমন ছোটখাটো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, ব্যক্তিগত আয়োজনে কিংবা স্কুল কলেজের অনুষ্ঠানে তার ডাক পড়ে ভোকালিস্ট হিসাবে। আজকে তেমনি একটা শো ছিলো।

রাতের সড়কের ধার বেয়ে হাঁটতে হাঁটতে দোহা নিজের ভাবনায় হারিয়ে গেলো। গত সপ্তাহে জিই - শু চায়নায় চলে গিয়েছে। আর আজকে রাজীব অস্ট্রেলিয়া গেলো। দোহা নিজেই তাকে এয়ারপোর্টে বিদায় জানিয়ে এসেছে। অতঃপর শো করেছে। এইযে, সে এবার প্রকৃত অর্থেই নিঃস্ব হয়ে পড়লো। তার পৃথিবীতে আর কি বাকি রইলো? কিসের জন্য সে লড়াই করবে? এগিয়ে যাবে? শায়লা নেই, অনিক নেই, আমারা নেই.....এই রিক্ত জীবনে এগিয়ে গিয়েও বা কি হবে তার? এইযে ভাগ্যের হাতে নিজেকে সমর্পণ করে দিলো, বাবার মনের মতন ছেলে হয়ে উঠতে চাইলেও হতে পারলোনা শুধু পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স পায়নি বলে, দিয়াকে একরাশ পারিবারিক বন্ধনের আশ্বাস দিয়েও সবটা কর্পূরের মতন উবিয়ে দিলো, কি হবে তাকে দিয়ে?

কিছু কি আদও হবে? নাকি এভাবেই উদ্দেশ্যহীন বয়ে যাবে তার জীবনতরী?

- এক্সকিউজ মি?

অপরিচিত কন্ঠ কানে যেতেই দোহা ফুটপাথের উপর থমকে গেলো। ঘুরে দাঁড়ালো। অচেনা এক যুবক দাঁড়িয়ে আছে মুখোমুখি। স্ট্রিট লাইটের আভায় আবছায়া দেখা গেলো তার চেহারা। বাংলাদেশী মনে হলোনা। তীক্ষ্ণ এক ভাব আছে চেহারার গাঁথুনিতে। চকচকে ফ্যাকাশে চোখ, বিড়ালের মতন। মাথার ঝাঁকড়া চুলগুলোও ঠিক কালো নয়, বাদামী মিশ্রিত। দোহা খানিক সতর্ক হয়ে দাঁড়ালো, যদিও মুখের ভঙ্গিতে বুঝতে দিলোনা।

- ক্যান আই নো ইওর নেইম?

স্পষ্টত ব্রিটিশ উচ্চারণের টান কন্ঠে। দোহা ইংরেজিতে জবাব দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলো।

- দোহা।

যুবকের অধরে বিস্তৃত এক হাসি ফুটলো। নিজের ডান হাতটি বাড়িয়ে দিলো সে। দোহা কিছুক্ষণ সন্দেহজনক চেয়ে থেকে অতঃপর গ্রহণ করলো সেই হাত। করমর্দন করলো।

- নাইস টু মিট ইউ, দোহা। আই অ্যাম...নিকোলাস। ইউ ক্যান কল মি নিকি।

দোহা বুঝতে পারলোনা এই বিদেশী বান্দা তার কাছে ঠিক কি চায়। তাই সে কোনো মন্তব্য করলোনা। নিজের হাতটা সরিয়ে নিয়ে দৃঢ় দৃষ্টিতে তাকালো। নিকোলাস কিংবা নিকি যেই হোক না কেনো, সে প্যান্টের পকেটে দুহাত ভরে দৃপ্ত কন্ঠে জানালো,

- ইউ হ্যাভ আ ইউনিক ভয়েস।

দোহা ভ্রু তুললো। আচ্ছা, এ তবে কনসার্ট হলে ছিলো। এবার দোহা যখন ভালো করে দেখলো, তখন একটা বিস্ময়কর ব্যাপার আবিষ্কার করলো। নিকির পরনে একটি লেদার জ্যাকেট, ঢোলা জিন্স এবং কেডস। কানের লতিতে অত্যন্ত ছোট্ট একটা রিং। আর ঠিক ঘাড়ের কাছে সূক্ষ্ম একটা ট্যাটু। কিসের তা অবশ্য বোঝা যাচ্ছেনা। এই অবয়বকে দোহা আজ প্রথম দেখছেনা। দোহার মন বলছে আগের কিছু শো তেও এই নিকি ছিলো দর্শকরূপে, আবছা আবছা নজরে এসেছে মাঝে মাঝে। তবে সে আজকের আগে কোনোদিন দোহার সঙ্গে কথা বলেনি।

দোহাকে আপন ভাবনায় ডুবে যেতে দেখে নিকি নিজের ঝকঝকে দাঁতের ঝলক দেখিয়ে সামান্য হাসলো। তারপর এক পা এগিয়ে উৎফুল্ল হয়ে জিজ্ঞেস করলো,

- ক্যান ইউ সিং ইন ইংলিশ দোও?

দোহা একটি ঢোক গিলে জানালো,

- হোয়াই ডু ইউ আস্ক?

নিকি জবাব দিলোনা। নিজের পকেটে হাত ভরলো। দোহা ভড়কে গেলো, সাবধানতার হিসাবে দুইপা পিছিয়ে গেলো। নিকি তাতে খিলখিল করে হাসলো। পকেট থেকে হাত বের করতেই দেখা গেলো তাতে একটা কার্ড। দোহার দিকে সে বাড়িয়ে দিলো সেটি। সামান্য ইতস্তত করে সেটি গ্রহণ করে নিলো দোহা। একটি ঠিকানা লিখা আছে। খুব সম্ভবত কোনো হোটেলের।

- ইফ ইউ থিঙ্ক ইউ হ্যাভ দ্যা স্পার্ক....কাম টু মি।

দুই আঙ্গুল কপালে ছুঁয়ে অদ্ভুতুড়ে ভঙ্গিতে স্যালুট ঠুকে উল্টো ঘুরে গেলো নিকি। ঠিক যেভাবে হঠাৎ উধাও হয়েছিলো তেমন করেই ধীরে ধীরে হেঁটে আড়াল হয়ে গেলো দৃষ্টিসীমার। দোহা ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইলো, তার দৃষ্টি আটকে রইলো অদ্ভুত বিদেশী ছেলেটার চলার পথে। পরক্ষণেই সে দৃষ্টি নামিয়ে দেখলো কার্ডটাকে। স্ট্রিট লাইটের আলোয় জ্বলজ্বল করছে তা। অদ্ভুতভাবে হাতের মাঝে সেটি ভীষণ উষ্ণ অনুভূত হলো। দোহা আনমনে চেপে ধরলো কার্ডটা, পকেটস্থ করতে করতে ভাবলো এইমাত্র তার সঙ্গে ঠিক কি হলো?

━━━━━━━━━━━━━━━━

- মধু....মধু?

ক্ষীণ একটি আওয়াজ। ক্রমান্বয়ে ডেকে যাচ্ছে আমারাকে। সুরেলা ধ্বনি তার গোটা শরীরকে আবেশিত করে তুলছে। ছটফট করে উঠলো আমারা। ওই আওয়াজকে ছোঁয়ার তাড়নায়।

- কে? কে ডাকে আমায়?

- মধু...এইযে আমি....আমাকে চিনতে পারছিস না?

অস্বচ্ছ দৃষ্টিতে আমারা চোখ পিটপিট করে তাকালো। অন্ধকারে নিমজ্জিত স্থানটির মাঝে এক ঝলক আলোর রোশনাই দেখা গেলো। তাতে ফিনফিনে একটি অবয়ব। দুহাত বাড়িয়ে আছে তার দিকে।

- মধু। আমাকে ফেলে তুই কিভাবে ঠিক আছিস?

- ক...কে তুমি?

আমারা প্রশ্ন ছুড়লো। অনুভব করলো হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়েছে তার।

- আমাকে ভুলে যাচ্ছিস?

রাগান্বিত শোনালো কণ্ঠটি।

- কোন সাহসে তুই আমাদের ভুলে যাস?

পুরুষালী ভিন্ন আরেকটি কন্ঠ। তারপরই অতর্কিতে আমারার গলা চে*পে ধরলো কেউ। নিঃশ্বাসরোধ হয়ে পড়লো। আলুথালু শরীরটা ঝটকা দিয়ে উঠলো। কানে ক্রমশ বাজতে থাকলো গুঞ্জরণ।

- আমাদেরকে ভুলে গিয়ে সুখে থাকবি তুই? কক্ষনো না!

- মনে রাখতে হবে। তোকে মনে রাখতে হবে আমাদের!

- খবরদার!

- তোর ওখানে থাকার কথা ছিলো! আমাদের সাথে এই জগতে পাড়ি জমানোর কথা ছিলো!

- আয়....আয় আমাদের সাথে.... চল...

আমারা একটা টু শব্দও উচ্চারণ করতে পারলোনা। মনে হচ্ছে সমস্ত শরীর বরফে পরিণত হয়ে গিয়েছে। নাড়ানো অসম্ভব। তারপরই প্রচন্ড একটা ঝটকা।

- না! আমি যাবনা!

ধড়ফড় করে নিজের বিছানায় উঠে বসলো আমারা। উদ্ভ্রান্তের মতন আশেপাশে তাকালো। প্রসারিত দৃষ্টি মেলে দেখলো নিজের বিছানায় শুয়ে আছে সে। আবছায়া আঁধারে আচ্ছন্ন রুম। শুধুমাত্র টেবিলের উপর ল্যাম্পশেড জ্বলছে। শরীর চিটচিটে অনুভব হলো। ঘেমে পোশাক লেপ্টে গিয়েছে শরীরে। আমারা দুহাতে মাথা চেপে ধরলো। আনমনে ফিসফিস করতে থাকলো,

- জারা...অনিক...অনিক...জারা... না...আমি ভুলবো না....আমি ভুলতে পারিনা...জারা....জারা...!

প্রায় মিনিট দশেক সময় নিয়ে আমারা সামান্য ধাতস্থ হয়েছে কি হয়নি এমন মুহূর্তেই নিচ থেকে চাপা গুঞ্জন এবং হুটোপুটির শব্দ ভেসে আসতে শুনলো সে। একটি ঢোক গিললো। বিছানা ছেড়ে পায়ে পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসলো নিচতলায়। সিঁড়ির গোঁড়ায় দাঁড়িয়ে দেখলো চৌধুরীবাড়ির হলরুমের ঠিক মাঝ বরাবর মুখোমুখি অবস্থানে দন্ডায়মান আশফিকা এবং মীর। মীরের পিছনে জড়োসড়ো হয়ে লুকিয়ে আছে, তার অতীব প্রিয় অ্যাসিস্টেন্ট মেয়েটি। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলো আমারা।

আশফিকা বুকে দুবাহু ভাঁজ করে শীতল দৃষ্টিতে তাকালেন মীরের দিকে। যার কোনো পরোয়া আছে বলে মনে হয়না।

- সিরিয়াসলি মীর?

- সিরিয়াসলি হোয়াট?

আশফিকা মাথা কাত করে জবুথবু হয়ে থাকা মেয়েটার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে জিজ্ঞেস করলেন,

- এই মেয়ে আমার বাড়িতে কি করছে?

- ওহ, প্লীজ। দিস ইয মাই হাউজ!

মীর সামান্য হাসলেন। আশফিকার দুহাত মুঠো পাকিয়ে এলো।

- তুমি ওয়াদা করেছিলে যে....

- ওয়েল, তুমি যদি রাত বিরাতে পরপুরুষের বাড়িতে আনাগোনা করতে পারো, তবে আমিও আমার বাড়িতে আমার মনমতো কাউকে নিয়ে আসতেই পারি। হিসাব বরাবর।

কাঁধ ঝাঁকালেন মীর। আশফিকা হতবিহ্বল হয়ে তাকিয়ে রইলেন। বুকটা কেঁপে উঠলো তার। মীর কোনদিকে ইঙ্গিত করছেন বুঝতে তার কিছুই বাকি রইলনা।

- মীর!

অনাকাঙ্ক্ষিত জোর পড়লো কন্ঠে।

- লোকটার মেয়ে মা*রা গিয়েছে মীর! আর ইউ বিইং সিরিয়াস রাইট নাউ?

- ওহ, আই অ্যাম টোটালি সিরিয়াস। মেয়ে মা*রা গিয়েছে কি যায়নি সেটা বিষয় নয়। আমি তো আর বাড়ির ভেতরে ঢুকে দেখিনি তোমরা কি করেছ। হয়তো এক বিছানায় এক চাদরে শুতেও পারো।

ঠাস!

মীর কথাটা শেষ করার সাথে সাথে নিজের গালে সজোরে কিছু আছড়ে পড়তে অনুভব করলেন। আশফিকার হাত জোরালোভাবে আ*ঘাত হেনেছে তার গালে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য সব নিশ্চুপ। তারপরই আগুন গরম চোখে ফিরে তাকালেন মীর। আশফিকার দিকে তীব্র বিতৃষ্ণা নিয়ে চেয়ে হিসিয়ে উঠলেন,

- হাউ ডেয়ার ইউ...

কিছু বুঝে ওঠার আগেই আশফিকার গলা চেপে ধরলেন তিনি দুহাতে। আছড়ে ফেললেন পাশের টেবিলের উপর। অ্যাসিস্টেন্ট মেয়েটি এমন কান্ডে ভীষণ ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলো। দ্রুতই লুকিয়ে পড়লো পিছনের থামের আড়ালে। আমারা আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলোনা। সিঁড়ির গোড়া থেকে লাফিয়ে নেমে ছুটে গেলো, পিছন থেকে আঁকড়ে ধরলো মীরকে,

- বাবাই! স্টপ ইট প্লীজ!

মীরের কোনোদিকেই খেয়াল নেই। আক্রোশের তাড়নায় তিনি ব্যস্ত স্ত্রীর শরীর থেকে জীবনটুকু কেড়ে নিতে।

- তোর এত্ত বড় সাহস তুই আমার গায়ে হাত তুলিস! মীর চৌধুরীর গায়ে! তোর দেমাগ যদি আজ আমি না ভেঙেছি...

- বাবাই!

আমারার জোরালো ধাক্কায় অবশেষে মীর টলতে বাধ্য হলেন। আশফিকা ছাড়া পেয়ে লোভীর মতন দম নিতে থাকলেন। গলায় তার আঙুলের দাগ বসে গিয়েছে স্পষ্ট। আমারার চেহারা রাগে টকটকে হয়ে উঠলো। মীরকে আরো কয়েকটি ধাক্কা দিয়ে সে চেঁচিয়ে উঠলো,

- কি সমস্যা তোমার বাবাই? কেনো করো তুমি আমার মামণির সঙ্গে এমন? মামণি তোমাকে ভালোবাসে, কিন্তু তুমি সেই ভালোবাসা দুমড়ে মুচড়ে নিজের মতন তাকে ব্যবহার করে যাও। কেনো বলো তো? জাইন আংকেলের বাসায় আমিও ছিলাম, মামণি আর আংকেল আমার সামনে ছিলো। তুমি কিভাবে তাদের নিয়ে এমন সব বিশ্রী কথা বলতে পারলে? তোমার বুকে একটুও বাঁধলোনা?

- বেশি মুখ ফুটেছে তোমার!

আমারার চিবুক চেপে ধরলেন মীর। ব্যথায় ককিয়ে উঠলো বেচারী।

- বয়স কত তোমার? কি বুঝবে তুমি আমাদের ব্যাপার?

- স্টপ বিহেভিং লাইক আই অ্যাম আ কিড!

ঝটকা দিয়ে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলো আমারা। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে তার। টলমল করে উঠলো উভয় ডাগর ডাগর আঁখি। জোরালো কন্ঠে সে বলতে লাগলো,

- তোমাদের কি মনে হয় মামণি, বাবাই? আমি কিচ্ছু জানিনা? তুমি যে মামণিকে ফেলে বাইরে অ্যাফেয়ার করে বেড়াও আমি জানিনা ভেবেছ বাবাই? আমার থেকে সবকিছু লুকিয়ে রাখতে মামণি আমাকে সেন্ট পিটার্সবার্গে পড়তে পাঠিয়েছিল। আমাকে এতটাও অবুঝ ভেবোনা তোমরা।

স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলেন মীর এবং আশফিকা উভয়ে। আমারার অশ্রু নয়ন পেরিয়ে গাল বেয়ে গড়াতে আরম্ভ করেছে। নাক টেনে সে মীরের দিকে ফিরে বললো,

- আমার মামণি নেহায়েত সরল মানুষ। উহু, সরল না। আমি বলবো, মামণি আসলে বোকা, ভালোবাসায় অন্ধ। আমি শুধু তোমাদের মন রাখতে চেয়েছিলাম। কিচ্ছু না বোঝার না জানার ভান ধরে ছিলাম। দেখতে চেয়েছিলাম কতদূর গড়াও সবকিছু। আজকে সীমা পরিসীমা পাড় হয়ে গিয়েছে। ক্যান ইউ গাইয, জাস্ট স্টপ দিস শিট অ্যান্ড লেট মি লিভ ইন পিস?

আশফিকা নিজের মাথা নত করে নিলেন। অপরাধীর ভঙ্গিতে মেঝের দিকে চেয়ে মিনমিন করলেন,

- সরি বেইবি। মামণি ইয রিয়েলি সরি....

আমারা মুখ ফিরিয়ে নিলো। নিদারুণ যন্ত্রণা হচ্ছে তার। ভগ্ন রূপ সহ্য হচ্ছেনা। মীরের দিকে চেয়ে সে বললো,

- তুমি মামণিকে ডিজার্ভ করোনা বাবাই। তুমি একটা লম্পট - কাপুরুষ!

- ইয়েস আই অ্যাম!

খেঁকিয়ে উঠলেন মীর। মাথায় যেন র*ক্ত চড়ে গিয়েছে তার। আমারার দিকে অত্যন্ত বিতৃষ্ণাভরে তাকিয়ে তিনি হিসহিস করে উঠলেন,

- যেমন মা তার তেমন মেয়ে। আমার তো সন্দেহ হয়... তুমি আসলেই আমার মেয়ে তো?

সহসাই আমারার চিবুক চেপে ধরলেন তিনি,

- একটুও তো বাবাইয়ের মতন হওনি। দৈত্যের মতন শরীর। তোমাকে জন্ম দিতে তোমার মামণি কার সাথে শুয়েছিল কে জানে!

কথাগুলো যেন প্রতিধ্বনিত হলো দেয়ালে দেয়ালে। আমারা বরফখন্ডে পরিণত হলো। মীরের দিকে তাকিয়ে রইলো অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে।

- ডিড ইউ জাস্ট....

পিছন থেকে আশফিকার মৃদু অসমাপ্ত কন্ঠ ভেসে এলো। কয়েক সেকেন্ডের পিনপতন নীরবতা। শুধু ভারী নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের শব্দ। তারপরই কিছু একটা আছড়ে পড়লো মীরের উপর। মাথা চেপে ধরে তিনি সোফায় এলিয়ে পড়লেন। একটা গ্লাস, মীরের কপালে আ*ঘাত করে সেটা ফ্লোরে আছড়ে পড়ে চুরমার হয়ে গেলো। আশফিকা এগিয়ে গিয়ে মীরের সিল্কের নাইটগাউনের কলার টেনে মোক্ষম এক ঘু*ষি বসালেন মুখ বরাবর। দাঁতে দাঁত চেপে হুংকার ছুঁড়লেন,

- হয়ে ডেয়ার ইউ ইনসাল্ট মাই চাইল্ড?

মীর স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। আশফিকা এর আগে তাকে আঘাত করা তো দূরে থাক কোনোদিন শক্ত কথা বলতেও কয়েকবার ভেবেছেন। তবে আজ যেন বাঁধনটুকু ছিঁড়ে গিয়েছে। আশফিকা দুহাতে তার কলার আঁকড়ে ঝাঁকিয়ে তীব্র কন্ঠে জানালেন,

- একজন মায়ের সামনে তার বাচ্চাকে অপমান করে তুমি পার পেয়ে যাবে ভেবেছ? স্কাউন্ড্রেল! তুমি বাবা নামের কলংক! তুমি একটা বহুরূপী জানোয়ার মীর! আজ তুমি প্রমাণ করে দিলে, তোমার নামটা যতটা না উঁচু, তোমার অন্তর তার থেকেও নিচু। একটা নর্দমার পোকা তুমি। নিকৃষ্ট একটা জন্তু!

মীর বুঝলেন, তিনি গোলমাল পাকিয়ে ফেলেছেন। রাগের মাথায় একটু বেশীই বলে ফেলেছেন। হাত বাড়িয়ে তিনি আশফিকাকে আগলে নিতে চাইলেন,

- ওহ, মাই সুইটহার্ট, আমি সরি....আসলে রাগের মাথায়...

- শাট দ্যা ফাক আপ!

মীরের হাতটা ঝটকা দিয়ে সরিয়ে দিলেন আশফিকা। দূরে সরে দাঁড়ালেন।

- আবার মিষ্টি কথায় মন ভোলানোর চেষ্টা করছো?

- কাম অন আশফিকা, তুমি আমাকে ভালোবাসো।

- একটুও না!

স্তব্ধ হলো চারিপাশ। মীর প্রসারিত নয়নে চেয়ে থাকলেন। আশফিকা নিজের বুক চাপড়ে বললেন,

- এতদিন আমি যেই অনুভূতিকে তোমার প্রতি ভালোবাসা বলে ভাবতাম, সেটা স্রেফ ভয় ছিলো মীর! নিজের পরিবার হারিয়ে ফেলার ভয়, ছোট্ট সুখের নীড় হারিয়ে ফেলার ভয়, নিজের কাছে নিজে ছোট হয়ে যাওয়ার ভয়। বাট থ্যাংক্স টু ইউ, আজকে আমার সব ভুল ধারণা ভেঙে গিয়েছে।

আশফিকা দুহাত মুঠো করলেন। তারপর শীতলতম কন্ঠে ব্যক্ত করলেন,

- আজ যদি তোমার মতন একটা লম্পট জোচ্চোরকে আমি মাফ করে দেই, তাহলে এই পৃথিবী আমাকে কোনোদিন ক্ষমা করবেনা। আমারা আমাকে ক্ষমা করবেনা। প্রকৃত ভালোবাসার, প্রকৃত পরিবারের অপমান করা হবে। আমরা কোনোদিন একটা পরিবার ছিলাম না, আর না কোনোদিন হবো। মীর.... দিস এন্ডস হেয়ার! মাই বেইবি ডায নট ডিজার্ভ আ ফাদার লাইক ইউ!

পিছিয়ে গেলেন আশফিকা। মুখজুড়ে তার প্রগাঢ় আত্মবিশ্বাস।

- তোমার সাথে আমার শেষ দেখা হবে কোর্টে!

হিংস্র সিংহীর ন্যায় গর্জন তুললেন আশফিকা। মীর স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলেন, একটা টু শব্দও বেরোলো না তার মুখ থেকে। এ কোন আশফিকাকে দেখছেন তিনি?

- এখন, এই মুহূর্ত থেকে আমি আর আশফিকা চৌধুরী নই, আশফিকা খান। আমারা মীর চৌধুরী শুধুমাত্র আমারা খান।

- আশফি....

- হুশশশ! একদম চুপ!

ঠোঁটে আঙুল ছুঁয়ে তীর্যক হাসলেন আশফিকা, রীতিমত উন্মাদের ন্যায়। মীরের শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত খেলে গেলো। একটি ঢোক গলাধঃকরণ করলেন তিনি। আশফিকা হাত বাড়িয়ে পিছনে দাঁড়ানো স্তম্ভিত আমারার হাতটি নিজের মুঠোয় পুরে জ্বলজ্বলে শিখাখচিত নয়নে তাকালেন মীর চৌধুরীর দিকে, তারপর দৃঢ় কণ্ঠে হিসিয়ে উঠলেন,

- ইউ আর ফা*কড আপ মিস্টার চৌধুরী!

এটুকুই।

উল্টো ঘুরে গেলেন আশফিকা। আমারাকে সঙ্গে নিয়ে হনহন করে এগোলেন বাড়ির বাইরের দিকে। মেয়ে তার বিহ্বল পদক্ষেপে অনুসরণ করলো তাকে। মীর শেষমেষ মাথা চেপে ধরে তীব্র স্বরে চেঁচিয়ে উঠলেন,

- আশফিকা! ভুলে যেওনা চৌধুরী নামটা ছাড়া তুমি কিচ্ছু না!

থামলেন আশফিকা। এক মুহূর্তের জন্য। তারপর মাথা কাত করে পিছনে ফিরলেন। সহসাই থু ছুঁড়ে ফেললেন মেঝেতে। ভড়কে গেলেন মীর। আশফিকা বাঁকা হেসে জবাব দিলেন,

- চৌধুরী নামের উপর আমার থুথু!

সটান বাড়ির চৌকাঠের বাইরে বেরিয়ে গেলেন আশফিকা এবং আমারা। ওই অবস্থায়ই। কেউই একটাবারও আর পিছন ফিরে তাকালোনা। যেন উভয়ে বেরিয়ে এলো, এক অদৃশ্য বিষাক্ত শৃংখল মুক্ত করে। আজীবনের জন্য।

。

。

。

রাত্রির নির্জনতম সড়ক।

আশফিকা অফিস থেকে ফিরেছিলেন মাত্র, পরনে শার্ট এবং প্যান্ট ছাড়া কিছুই নেই। অপরদিকে আমারা ঘুমের পোশাক পরে আছে। ওই অবস্থায়ই উভয়ে বেরিয়ে এসেছে। প্রচন্ড ঠান্ডা হাওয়ায় আমারা থেকে থেকে কেঁপে উঠছে। আশফিকা ব্যস্ত হয়ে আশেপাশে তাকাচ্ছেন, নিজের ফোন দেখছেন। কিছুটা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। তিনি যা করছেন, ঠিক করছেন কি?

আমারা একটা হাঁচি দিতেই তিনি কেঁপে উঠলেন। দুহাতে আগলে নিলেন,

- সোনা, খারাপ লাগছে? মামণি সরি। আমরা দ্রুতই কোথাও একটা...

- বার্ড!

পুরুষালী ডাকটা কানে যেতেই মা - মেয়ে উভয়ে জমে গেলো খানিক। মাথা তুলে তাকালো সামনে। আবছায়া আঁধার ভেদ করে ছুটে আসছে একটি লম্বাটে অবয়ব। কিছুটা কাছাকাছি আসার পর ল্যাম্পপোস্টের আলোয় দেখা গেলো মুখটি।

জাইন আমিন।

খানিক হাঁপাচ্ছেন। গভীর নয়ন তার কয়েক নজর দেখলো আশফিকা এবং আমারাকে।

- আংকেল....

রীতিমত ফিসফিস কন্ঠে উচ্চারণ করলো আমারা। কেনো যেন তার দুচোখ অশ্রুতে ভরে উঠলো। বুঝতেও পারলোনা। জাইন নিজের পরনের কোট খুলে নিয়ে দ্রুতপায়ে হেঁটে এসে আমারার শরীরে জড়িয়ে দিলেন।।তারপর টেনে নিলেন তাকে নিজের বুকের মাঝে। উষ্ণ আলিঙ্গনের মাঝে আমারা নিজেকে হারিয়ে ফেললো, ফুঁপিয়ে উঠলো মৃদুস্বরে। জাইন তার পিঠে হাত বুলিয়ে দিয়ে মাথায় অধর ছুঁয়ে ফিসফিস করলেন,

- হুশ হুশ, আই অ্যাম হেয়ার বার্ড, এভরিথিং উইল বি অলরাইট।

জাইনের দৃষ্টি মিললো ঠিক পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা আশফিকার দিকে। জ্বলজ্বলে আবেদন উভয়ের মাঝে। ঢোক গিললেন জাইন, তার দৃষ্টি পড়লো আশফিকার গলায় দগদগে হয়ে থাকা দাগের দিকে। ক্ষণিকের জন্য জ্বলে উঠলো তার চোখ, শীতল প্রজ্জ্বলনে। কোনো কথা ছাড়াই অপর হাতটি বাড়িয়ে দিলেন তিনি, আমারাকে বুকের একপাশে ধরে রেখে অন্যপাশে টেনে নিলেন আশফিকাকে। রমণী প্রথমটায় জমে গেলেন, পরমুহুর্তে শিথিল হয়ে পড়লেন। যে অশ্রু এতক্ষণ যাবৎ গড়ায়নি, তাই টপটপ করে ঝরতে আরম্ভ করলো নিঃশব্দে। এক হাতে আঁকড়ে ধরলেন তিনি জাইনকে, মুখ ডুবিয়ে দিলেন অদ্ভুত ভরসার ওই বুকের মাঝে। জাইন উভয়কে নিজের আলিঙ্গনে জোরালোভাবে চেপে ধরলেন। টলটলে হলো তার টানা টানা আঁখিজোড়া, অদ্ভুত এক স্ফুলিঙ্গের ছোঁয়া ভাসলো তাতে।

- ক্যান আই জাস্ট ফা*কিং কি*ল ইওর হাসব্যান্ড!?

ক্ষীণ জড়ানো কন্ঠে হিসিয়ে উঠলেন জাইন। তার মুখে ভাসলো অমোঘ এক প্রতিজ্ঞা।

—চলবে—

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন