ফন্ট সাইজ:
থিম:
নূরের পথে ফিরে আসো (১ম খন্ড)

৮ম পর্ব

লেখক: নূরায়া মেহনাজ

#নূরের_পথে_ফিরে_আসা

#নূরায়া_মেহনাজ

#পর্ব_৮

ইসলামের পথে আসা মানে কেবল রুটিন মাফিক নামাজ পড়া নয় বরং নিজের ভিতরের অন্ধকারের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করা। এই যুদ্ধ সবচেয়ে কঠিন - নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ ( সংগ্রাম)। যেখানে বিজয়ী হওয়া অর্থ নিজেকে জয় করা।

একদিন বিকেলে একা বসে আয়েশা পবিত্র কুরআন পড়ছিল। তার চোখ নিবদ্ধ ছিল আয়াতের দিকে, শান্তু মনে সে কুরআন তিলাওয়াত করছিল। হঠাৎ তার মনে অদ্ভুত ভাবনা এল -

"তুই তো এখন অনেক ভালো হয়ে গেছিস। নামাজ পড়িস আবার ইসলামের পথে আসার জন্য সবাইকে দাওয়াত দিস। আরে কি দরকার এত পরিশ্রমের? এবার একটু বিশ্রাম নে!"

আয়েশা তখনই বুঝতে পারল, এটা তার নিজের মনের কথা নয়। এটা শয়তানের সূক্ষ্ম ফিসফিসানি, যা ভালো কাজের পর মানুষকে আলস্যে ডুবিয়ে দিতে চায়। তখন আয়েশা কুরআনের সেই সতর্কবাণী আয়াতটি পড়ল -

“নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু ; তাই তোমরা তাকে শত্রু হিসেবেই গণ্য করো। ”

( সূরা ফাতির ৩৫:৫ )

আয়েশা তসবিহ হাতে নিয়ে আস্তে আস্তে বলতে লাগল, “ আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম”( বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই )

দোয়াটি পড়ার সাথে সাথে আয়েশার মনের অস্থির ভাব কমে আসলো। মুহুর্তেই শয়তানের প্ররোচনা থেমে গেল।

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আয়েশার ভেতর চলতে লাগল এক অদ্ভুত লড়াই। একদিকে পুরনো জীবনের সেই স্মৃতি - পার্টি, গান-বাজনা, পুরনো বন্ধুদের সাথে মেশার ইচ্ছা জাগ্রত হচ্ছিল, অন্যদিকে আল্লাহ কে মনে মনে স্মরণ করে পাচ্ছে অনাবিল প্রশান্তি।

আয়েশার মন হঠাৎই দূর্বল হয়ে গেল। সে ভাবল - "একটা মুভি বা গান দেখলে কি ক্ষতি হবে? শুধু একটু রিল্যাক্স করব।"

তখনই তার কানে বাজলো কুরআনের সেই আয়াতটি-

“নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। ” ( সূরা আনকাবুত ২৯:৪৫ )

আয়েশা দ্রুত বিছানা থেকে উঠে গেল। ওজু করে দুই রাকাআত নফল নামাজ পড়ল৷ নামাজ বসে আয়েশা কান্না করতে লাগল৷ মনে মনে বলল, "হে আল্লাহ! আমাকে এমন শক্তি দাও, যেন আমি নিজের নফসকে জয় করতে পারি৷

একদিন সন্ধ্যায় আমেনা বেগম আয়েশার কাছে এসে বললেন,

- " মা মনে রাখিস, আল্লাহর পথে চলার সময় হাজারো বাঁধা আসবে। সেই বাঁধা বাইরের মানুষের কাছ থেকে আসতে পারে আবার তোর মন থেকেও আসতে পারে। কিন্তু কখনো ভাবিস না তুই একা। মহান রাব্বুল আলামীন বলেছেন,

“ আমি আমার বান্দার সাথে আছি, যখন সে আমাকে স্মরণ করে।”(সহীহ বুখারী)

আয়েশা মায়ের হাত ধরে বলল,

- " যতদিন আমি আল্লাহ কে মনে রাখব, ততদিন কেউ আমায় হারাতে পারবে না। "

কিছুদিন পর আয়েশার মন আবার অস্থির হয়ে উঠলো চারপাশে সকলের তাকে নিয়ে উপহাস, বন্ধুদের থেকে দূরত্ব সব মিলিয়ে তার বুকের ভেতর হাহাকার জেগে উঠলো।

আয়েশা রাতে একা ছাদে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখছিল। তার চোখে পানি চিকচিক করছে।

"হে আল্লাহ! তুমি তো বলেছো -

“আমি তোমার দোয়ার উত্তর দেই, যখন তুমি আমাকে ডাকো। ”( সূরা আল-বাকারা ২:১৮৬)

" আমি তো তোমাকে সবসময় স্মরণ করি, সবসময় ডাকি মালিক। আমার মনকে তুমি আরো বেশি দৃঢ় করে দাও। "

হঠাৎই চারপাশে বাতাস বইতে লাগল। আকাশ থেকে মেঘ সরে গিয়ে এক টুকরো চাঁদের আলো ঠিক আয়েশার মুখে এসে পড়ল। আয়েশা অনুভব করল, আল্লাহ তার দোয়া শুনছেন।

পরদিন সকালে আয়েশা আয়নার দিকে তাকিয়ে হাসল। সেই হাসিতে ছিল দৃঢ়তা, পরাজয় না মানার প্রতিজ্ঞা।

আয়েশা মনে মনে বলল,

"আজ থেকে শুধু আমি নিজের জন্য নয়, প্রতিটি বোনের জন্য লড়ব। যাদের মনে এখনও দ্বিধা আছে, আল্লাহর পথে আসবে নাকি আসবে না। "

আয়েশা তার ডায়েরিতে লিখল -" যে নিজেকে জয় করতে পারে, সে-ই আসল বিজয়ী। "

তার নিচে লিখল তার জীবনের মূল উদ্দেশ্যের কথা -

“আর যারা আমার পথে আসার চেষ্টা করে, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। ”

(সূরা আনকাবুত ২৯:৬৯)

সেইদিন থেকেই আয়েশা নিজের নফসের বিরুদ্ধে প্রতিদিন যুদ্ধ ঘোষনা করল৷ প্রতিদিন সকালে কুরআনের এক আয়াত করে মুখস্থ করা, বিকেলে নিজের জীবনের ভুল নিয়ে চিন্তা করা, রাতে আল্লাহর কাছে তওবা করা।

এটাই আসল জিহাদ। যেখানে তরবারি নয়, ব্যবহৃত হয় তসবিহ ও চোখের অশ্রু।

#চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন