ফন্ট সাইজ:
থিম:
নূরের পথে ফিরে আসো (২য় খন্ড)

২য় পর্ব

লেখক: নূরায়া মেহনাজ

#নূরের_পথে_ফিরে_আসা { ২য় খন্ড }

#লেখনিতে_নূরায়া_মেহনাজ

#পর্ব_২

—“ এসব কী হায়াত? এমন সং সেজে কোথায় যাচ্ছ? মানুষজন তো আগে থেকেই নানাধরণের কথা বলছে। এখন এই কালো তাবু গায়ে দিয়ে কি বোঝাতে চাইছো সবাইকে?

হায়াতের বাবা রাগান্বিত হয়ে কথাগুলো বলে মাথায় হাত দিয়ে বসে রইলেন। পাশে বসে থাকা হায়াতের মা রিজিয়া বেগম বললেন,

—“ হায়াত, আমাদের একটা স্ট্যাটাস আছে, তুমি কি সেটা ভুলে যাচ্ছ? তুমি আধুনিক যুগের মেয়ে হয়ে এসব কেনো পড়েছো? একটু শালীন পোশাক পড়লেই তো হয়, বোরকা পড়ার কী দরকার? আমাদের আত্মীয়স্বজন-রা দেখলে তো হাসাহাসি শুরু করে দিবে।”

বাবা মায়ের কথায় হায়াত মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। বাবা মায়ের এমন আচরণে তার কলিজা ছিড়ে যাচ্ছে, তবুও সে নিজেকে সামলে নিয়ে বাবাকে বলে,

—“বাবা আমি ভুল করেছি এবং তার মাশুলও দিচ্ছি। তোমাদের সো কলড্ সোসাইটি আমার ভুলগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে আমাকে অনেক কথা শুনিয়েছে এমনকি এখনো শোনাচ্ছে। অথচ তারা আমার অনুশোচনাকে দেখেও এড়িয়ে গেছে। আমার সম্মান যখন মাটিতে মিশে যাচ্ছিল, তখন তোমার সোসাইটির মানুষ তো আমাকে একটু স্বান্তনা দিতে আসে নাই৷ এখন যখন আমি ভালো হতে চাচ্ছি, আল্লাহর পথে ফিরে আসছি তখন আমি সোসাইটি বা মানুষের কথা কেন শুনবো? তারা যা ইচ্ছে ভাবুক, যা ইচ্ছে বলুক। তাতে আমার কোনো যাই আসে না। তোমাদের উচিত আমাকে সাপোর্ট করা। ছোটবেলা থেকে ইসলাম নিয়ে আমার খুব ভালোই ধারণা ছিল কিন্তু ক্ষণিকের আনন্দে পড়ে আমি ভুল পথ বেছে নিয়েছিলাম। তার জন্যই আজ আমার এই অবস্থা। আমি এখন নতুনভাবে বাঁচব। আর আমার পরনে এটা কোনো কালো তাবু নয়। এটা একজন নারীর গর্ব। এটার মাধ্যমে আমি এখন নিজেকে নিরাপদ মনে করছি বাবা। দয়া করে আমাকে বাঁধা দিও না।”

বাড়ি থেকে বের হয়ে ইউনিভার্সিটি যাওয়ার জন্য বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছে হায়াত। রাস্তার মোড়ে অনেকে তার দিকে তাকিয়ে হাসাহাসি করছে খুব ভালোভাবে বুঝল হায়াত।

—“ আরে! এটা আমাদের সেই গ্লামার গার্ল হায়াত, নাকি ভূতের মুভি থেকে কোনো ভূত-প্রেত উঠে এল? কথাটি বলেই মেয়েটি উচ্চস্বরে হাসতে লাগল।

—“পাপের পাহাড় জমিয়ে এখন সতি-সাবিত্রী সাজার শখ হয়েছে বুঝি?”

আরেকজন টিপ্পনী কেটে বলল,

—“এই পোশাক পরে কলঙ্ক ঢাকা যায় না আপু, চরিত্র ঠিক করা লাগে।”

​ লজ্জায় অপমানে হায়াতের পুরো শরীর কাপছে। কিন্তু সে চোখ বন্ধ করে মনে মনে আল্লাহকে স্মরণ করতে লাগল। সে তাদের কথার কোনো উত্তর না দিয়ে মাথা নিচু করে ভিড়ের মাঝ দিয়ে হেঁটে চলে গেল।

ভার্সিটির করিডোর দিয়ে হায়াত যখন ক্লাসে যাচ্ছিল তখন তার কিছু বান্ধবীদের সাথে দেখা হলো।

—“হায়াত তুই কি পাগল হয়ে গেছিস? এই গরমের মধ্যে কিসব পড়েছিস তুই? তোর সামনে একটা ব্রাইট ক্যারিয়ার আছে, তোর এই সৌন্দর্য— সব কি এই কালো কাপড়ের নিচে কবর দিতে চাস?”

—“না রে আমি কোনোকিছুই কবর দেয় নাই বরং মুক্তি দিয়েছি। আমি এখন আর কারো চোখের খোরাক নই। আমি এখন শুধু আমার রবের বান্দা। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,

​‘দুনিয়া হলো মুমিনদের জন্য কারাগার আর কাফিরদের জন্য জান্নাত।’

(সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৯৫৬)

আমি এই কারাগার থেকে বের হয়ে আল্লাহর প্রশস্ত জান্নাতের দিকে যেতে চাই।”

[ ছয় ]

সারাদিনের ব্যস্ততা কাটিয়ে হায়াত যখন আয়েশা ইনিস্টিটিউটে ফিরল, তখন হায়াতের চোখে পানি দেখে আমিনা আপু তাকে জড়িয়ে ধরে বলে,

"কেঁদো না হায়াত। আয়েশা আপুও একদিন এভাবেই অপমানিত হয়েছিলেন। কিন্তু মনে রেখো, লোহার ওপর যেমন বারবার আঘাত করে তাকে শক্ত করা হয়, আল্লাহও তেমনি তোমাকে এই যাতনা দিয়ে তাঁর যোগ্য করে গড়ে নিচ্ছেন।”

"মানুষ আমাকে পাথর ছুড়ে মারছে, আর আমি সেই পাথর দিয়েই জান্নাতের সিঁড়ি বানাচ্ছি। পর্দা করায় হবে আমার ঈমানের ঘোষণা।”

রাতে হায়াত নামাজ পড়ে জানালার কাছে এসে দাঁড়ায়। সে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতে থাকে তার প্রিয় পুরুষের সাথে কাটানো মুহুর্তগুলো।

রায়হান! তাদের পরিচয়টা হয়েছিল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের সেই পুরনো কড়ই গাছটার নিচে, এক ঝুম বৃষ্টির দুপুরে। হায়াত সেদিন তার সিক্ত নীল কামিজ আর এলোচুল সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল। ঠিক তখনই তার পাশ থেকে কেউ একজন তার মাথায় ছাতা মেলে ধরেছিল। হায়াত মাথা তুলে তাকাতেই দেখল একজোড়া উজ্জ্বল মায়াভরা চোখ আর ঠোঁটের কোণে এক চিলতে অমায়িক হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রায়হান ।

সেখান থেকেই শুরু তাদের প্রণয়ের সম্পর্ক। এরপর মাঝে মধ্যে ক্যাফেতে বসে কফির কাপে আড্ডা দেওয়া হতো, লাইব্রেরিতে বই পড়ার আড়ালে অপলক চেয়ে থাকা আর রিকশার হুড ফেলে দিয়ে অকারণে পুরো শহর ঘুরে বেড়ানো। রায়হান জানত কীভাবে কথার মায়াজাল বুনতে হয়। সে হায়াতের সাধারণ গুণগুলোকেও এমনভাবে প্রশংসা করত যে, হায়াতের মনে হতো সে বুঝি এই পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবতী নারী।

​রায়হানের কথা বলার ধরন ছিল জাদুকরী। সে বলত,

—“হায়াত, তুমি আমার কাছে সাধারণ কেউ নও, তুমি হলে আমার কবিতার সেই হারানো ছন্দ। যাকে আমি আমার জীবনে সবসময়ের জন্য চেয়েছি।”

অল্পবয়সী হায়াতের কাছে এই আবেগি কথাগুলোই ছিল ধ্রুব সত্য। সে বুঝতে পারেনি যে মানুষটার বুকে সে আশ্রয় খুঁজেছিল, সেই একদিন তার জীবনকে টাকে ঢেকে দেবে ঘোর অন্ধকারে।

তারপর রাতভর ফেসবুকে চলত তাদের প্রেমালাপ। টেক্সট থেকে ভয়েস কল, আর সেখান থেকে ভিডিও কল। ভালোবাসার নামে রায়হান ধীরে ধীরে হায়াতের সবটুকু নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নিল।

—“বেবি তোমাকে একটু দেখি না, আমাকে কি বিশ্বাস করো না? যাকে ভালোবাসো তাকে দেখাতে কি সমস্যা? ভালোবাসার মানুষের কাছে লুকানোর কি আছে? তুমি আর আমি-ই তো শুধু!” — এই আবেগমাখা কথাগুলো ছিল আসলে একেকটা সুক্ষ্ম জাল।

হায়াত ​ সেই জালে ধরা দিয়েছিল অন্ধভাবে। সে ভেবেছিল, যে মানুষটি তার চোখের পানি মোছাতে পারে, সকল সুখ-দুঃখে তার পাশে থাকে। সে কখনোই আমাকে কষ্ট দিতে পারবে না। বিশ্বাসের সেই চরম শিখরে দাঁড়িয়েই সে পাঠিয়েছিল তার জীবনের সেই ব্যক্তিগত মুহূর্তের প্রথম ছবিটা।

হায়াতের জীবনের সেই বসন্তটা এসেছিল মরীচিকার ছদ্মবেশে। রায়হান যার কণ্ঠের প্রতিটি শব্দে একসময় হায়াত তার সমস্ত জগতের সুর খুঁজে পেত। সেই প্রেম ছিল আগুনের মতো, যা তাকে ধীরে ধীরে দহন করছিল অথচ সে ভেবেছিল ওটাই উষ্ণতা। আধুনিকতার নামে আর ‘ভালোবাসার প্রমাণ’ দেওয়ার এক অদ্ভুত নেশায় বুঁদ হয়ে হায়াত হারিয়ে ফেলেছিল তার বিচারবোধ।৷ রায়হান তার কাছে শরীর আর মনের এমন এক দাবি তুলেছিল, যাকে সে তখন মনে করেছিল ভালোবাসার চরম সার্থকতা। একান্ত মুহূর্তের সেই ছবি আর ভিডিওগুলো ছিল

একচরম তম অপরাধ।

​সেদিন ছিল বৃষ্টির এক বিষণ্ণ বিকেল। হায়াত রায়হানের ফ্ল্যাটে গিয়েছিল তাকে নিয়ে ঘুরতে বের হবে বলে। কিন্তু কয়েকদিন ধরেই সে খেয়াল করছে রায়হান তাকে এড়িয়ে চলছে।

রায়হানের আচরণে এক অদ্ভুত দূরত্ব অনুভব করছিল সে।

হায়াত লিফট থেকে বের হয়ে রায়হানের ফ্ল্যাটের সামনে এসে দাঁড়াল। কলিংবেল দিতে গিয়ে দেখল দরজা খোলায় আছে শুধু হালকা করে দরজা দেয়া। হায়াত ভেতরে ঢুকতেই যা দেখল তাতে তার রক্ত হিম হয়ে গেল।

সে দেখল, রায়হান তার ল্যাপটপে গভীর মনোযোগ দিয়ে কিছু একটা দেখছে আর তার পাশে বসে থাকা এক বন্ধু বিদ্রূপের হাসি হাসছে।

হায়াত কাছে যেতেই দেখল, স্ক্রিনে আর কেউ নয়—খোদ সে নিজে। তাদের একান্ত কিছু মুহূর্তের ভিডিও রায়হান তার বন্ধুদের দেখাচ্ছে। সারার মনে হলো পায়ের তলার মাটি সরে গিয়ে সে কোনো অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে।

​কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে সারা শুধু বলতে পেরেছিল,

—“রায়হার, এটা তুমি কী করছ? তুমি না আমাকে ভালোবাসো?”

হায়াতের উপস্থিতি রায়হান অনেক আগেই বুঝতে পেরেছিল। রায়হান ল্যাপটপ থেকে মুখ না তুলেই একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিল। সেই চোখে আজ আর কোনো মায়া নেই, বরং সেখানে এক হিংস্র উল্লাস। সে সোফায় হেলান দিয়ে আয়েশী ভঙ্গিতে বলল,

—"ভালোবাসা? ওটা তো স্রেফ একটা অজুহাত ছিল হায়াত বেবি। তোমার মতো মেয়েরা আসলে ভালোবাসার কাঙাল, একটু মিষ্টি কথা বললেই গলে যাও। ভেবেছিলে তোমাকে বিয়ে করে ঘরে তুলব? এতোটা বোকা কেন তুমি?”

হায়াতেন চোখের পানি তখন বাঁধ ভেঙেছে। সে আর্তনাদ করে বলল,

— "কিন্তু ওই ভিডিওগুলো? ওগুলো তো আমার বিশ্বাস ছিল! তুমি আমার সাথে এত বড় বেঈমানি কীভাবে করতে পারলে? ছি! মানুষ এতটা খারাপ কীভাবে হতে পারে। একটা মেয়ের সম্মান নিয়ে তুমি এভাবে উল্লাস করছো! জানোয়ার একটা তুমি।”

—“বিশ্বাস….হ্যাঁ! বোকা মেয়ে। আমাকে যখন তুমি জানোয়ার বলেই ফেলেছ। তাহলে আরেকটু জানোয়ারের মতো কাজ করি? কি বলো বেবি!”

—“মানে! কি বলতে চাইছো তুমি?”

—“শোনো এগুলো এখন আমার হাতের তাসের টেক্কা। ব্রেক-আপ যদি করতেই হয়, তবে হাত খালি করে তো আর যাব না। এই ভিডিওগুলো এখন ইন্টারনেটে তোমার নতুন পরিচয় তৈরি করবে। দেখি, কোন রাজপুত্র এসে এবার তোমাকে উদ্ধার করে!”

হায়াত স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। যে মানুষটির বুকে সে মাথা রেখে শান্তির স্বপ্ন দেখেছিল, সেই মানুষটিই আজ তার সম্মানকে বাজারে নিলামে তুলেছে।

রায়হানের প্রতিটি কথার শব্দ যেন একেকটা বিষাক্ত তীর হয়ে সারার আত্মাকে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিচ্ছিল। সে বুঝতে পারল, সে কোনো মানুষের প্রেমে পড়েনি, সে এক পিশাচের মায়াজালে আটকা পড়েছিল।

সেদিন সেই ফ্ল্যাট থেকে বেরোনোর সময় হায়াতের মনে হচ্ছিল, সে আর বেঁচে নেই। তার চারপাশের পৃথিবীটা এক নিমেষে ধুলোয় মিশে গেছে। অপমানের সেই তপ্ত শিখা তার হৃদপিণ্ডটাকে যেন কয়লা করে দিচ্ছিল।

সেদিন তাদের সম্পর্কের সুতোয় টান পড়ল, রায়হানের সেই ‘প্রেমিক’ মুখোশটা খসে পড়ল মুহূর্তেই। বিচ্ছেদের প্রতিশোধ নিতে রায়হান বেছে নিল এক কাপুরুষোচিত পথ।

এক রাতে হায়াত শুয়ে শুয়ে ফেসবুক স্ক্রল করছিল । হঠাৎ তার ফোনে একটি মেসেজ আসলো। হায়াত নোটিফিকেশন দেখে ভ্রু কুঁচকে ভাবল এত রাতে আবার কে মেসেজ দিচ্ছে৷ মেসেজটি ওপেন করতেই যা দেখল, তা কয়েক মিনিটের ব্যবধানে হায়াতের জীবনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দেয়ালে দেয়ালে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের খোরাক হয়ে গেল। মানুষের লালসার দৃষ্টি আর নোংরা কৌতূহলের শিকার হলো তার শরীরী প্রতিচ্ছবি।ফোনের স্ক্রিনে নিজের সেই ছবিগুলো দেখে হায়াতের মনে হয়েছিল, তার হৃৎপিণ্ডটা বুঝি কেউ জ্যান্ত ছিঁড়ে ফেলেছে। যে বিশ্বাসকে সে হিরের মতো আগলে রেখেছিল, তা এখন কাঁচের টুকরোর মতো ভেঙে তার পায়ের তলায় বিঁধছে।

মুহূর্তেই সে হয়ে গেল এক নিষিদ্ধ বিনোদনের নাম। পরিচিত মুখগুলো বদলে গেল বিদ্রূপের হাসিতে, আর ইনবক্স ভরে উঠল সহস্র ঘৃণ্য প্রস্তাবে। ভালোবাসার নামে পাওয়া সেই আশ্রয়ই এখন তার জন্য এক শ্বাসরুদ্ধকর নরক—যেখানে বাতাস নেই, আলো নেই, আছে শুধু এক গভীর অন্তহীন অপমান।

অতীতের সেই কালো ছায়া আজও হায়াতের ঘুমের ঘোরে হানা দেয়। তার মনে হয়, সেই হারানো মুহূর্তগুলো কি কখনো মুছে যাবে? নাকি এই কলঙ্কের ছাপ তার ললাটে স্থায়ীভাবে খোদাই হয়ে রইল?

#চলবে_ইনশাআল্লাহ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন