ফন্ট সাইজ:
থিম:
উল্টা পাল্টা সংসার

৩০তম পর্ব

লেখক: আরিয়ানা আরিফা

`উল্টাপাল্টা সংসার`

~আরিয়ানা আরিফা

৩০.

ব্রাউন চুলের ছেলেটা যার নাম কিনা দিব্য এবং ব্ল্যাক চুলের ছেলেটা যার নাম কিনা রূপ, দুইজনই হা করে মালিহা-মায়িদার দিকে তাকিয়ে আছে।আরে,তাদের স্কুল-কলেজের সেই গুন্ডি গুন্ডি প্রেয়সী দুইটা নাহ?যাদের পিছু পিছু তারা ঘুরেছে,লাথি খেয়েছে,থাপ্পড় খেয়ে দুইটা দাঁতও ভেঙেছে।এখন কী শুনছে?সেই গুন্ডি মেয়ে দুইটার 'কবুল' বলা হয়ে গিয়েছে।সাথের এই ক্যাবলামন্ত যুবক দুইটা কিনা তাদের জামাই লাগে?দিব্য, রূপ একটা একটার দিকে তাকালো।ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেলে দিব্য মালিহাকে বলল,

-মালে,তুমি এটা করতে পারলা?তুমি জানো,আমি তোমার জন্য এখনও ছাদে অপেক্ষা করে থাকি।প্রতিদিন ভাবি,একদিন তুমি আসবে। আমার মাথায় গুন্ডিদের মতন গুল্লি ঠেকিয়ে বলবে,'এই দিব্য,কবুল বল।' আর এখন?তুমি অন্য কাউকে কবুল করে ফেললে?কেন করলে মালে?

বলতে বলতেই দিব্যকে কেঁদে ফেলতে দেখা গেল।দিব্যর দেখাদেখি রূপও মায়িদার দিকে তাকিয়ে বলল,

-মাদে,এটা তুমি কী করলে?কীভাবে আমাকে ধোঁকা দিতে পারলে?আমি তোমাকে ভালোবাসি মাদে।খুউউউব!

রূপও কেঁদে ফেলল।যদিও তাদের চোখের পানি দেখা গেল না, শুধু ভ্যা ভ্যা'ই শোনা গেল।মালিহা মাথা চাপড়ালো।এদের সুযোগ পেলেই কান্নার এক্টিং করার অভ্যাসটা এখনো গেল নাহ।নাটকবাজ দুইটা।বিন আংকেল কীভাবে যে উনার এ দুই নাটুকে ছেলেকে সহ্য করেন আল্লাহ মালুম!

দুই নাটুকে ছেলেকে এবার দুইটা থাপ্পড় খেতে দেখা গেল।তবে, এবারের থাপ্পড় গুলো মালিহা কিংবা মায়িদার তরফ থেকে আসে নি।এসেছে তাদের কবুল করে নেয়া জামাই অয়ন এবং নোভানের থেকে।অয়ন দিব্যকে থাপ্পড় মেরে বলল,

-হোয়াট মালে?

নোভানও রূপকে থাপ্পড় মেরে একইভাবে বলল,

-হোয়াট মাদে?

তারপর একমিনিটও দাঁড়ালো না সে।মায়িদার হাত ধরে ধপধপ পা তুলে নিচে নেমে গেল।এতক্ষণ অবধি তার শরীরে একটুও শক্তি না থাকলেও,এইবার কোথা থেকে যেন শক্তি এসে গেল।তার ইচ্ছে করছিল,ওই কাইল্লা চুলের ছেলেটাকে ফুটবলের মতন একটা আছাড় মারতে।বলে কিনা মাদে!ভালোবাসি!হুহ!

অয়ন অবশ্য নিচে নামলো না।সে বুকে হাত গুঁযে দিব্যর সামনে দাঁড়ালো।বলল,

-তা কী বলছিলেন?

দিব্য-রূপ দুই ভাইয়ের ভিতর দিব্যর জেদ ভয়ানক। এই ছেলে দুনিয়ার কাউকে তোয়াক্কা করে না।সেদিন তাদের ভার্সিটির স্যারকে বলেছিল,

-স্যার,আপনি এক কাজ করবেন।দয়া করে ভার্সিটিতে আসার আগে প্রতিদিন দুইবার করে ব্রাশ করে আসবেন।আপনার মুখ থেকে বিচ্ছিরি গন্ধ বের হচ্ছে।এই গন্ধের জন্য, আমাদের মুখে হাত দিয়ে আপনার লেকচার শুনতে মোটেই ভালো লাগছে না। প্লিজ ব্রাশ ইউর টিথ ডেইলি,স্যার!

এই কথা বলার সাথে সাথে স্যারের হাতে বিশাল একটা চড় খেয়েছিল অবশ্য। তাতে কি হয়েছে?চড় খেয়েছে বলে কী সে আর সত্য কথা বলবে না?বলবে'ই বলবে।

দিব্যও অয়নের মত বুকে হাত গুঁযে দাঁড়ালো।অয়নের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,

-থাপ্পড় মারলেন কেন?

-আমার ইচ্ছা।

-আমারও এখন আপনাকে থাপ্পড় মারতে ইচ্ছা হচ্ছে।এই মালে,উনাকে দুইটা থাপ্পড় মারি?

মালিহা চোখ গরম করে দিব্যর দিকে তাকালো।কত্ত বড় সাহস এই ছেলের!তার আদরের জামাইটাকে থাপ্পড় মারতে চায়?মালিহা আগের মত গুন্ডিগিরি দেখালে, নিশ্চিত এই ছেলের আরো দুইটা দাঁত ভেঙে ফেলতো।

-মালিহা,নট মালে।

অয়ন শক্ত কন্ঠে বলল।ওর বুঝে আসে না,দুনিয়ার সব ছেলেদের ওর বউকে এমন অদ্ভুত অদ্ভুত নামে কেন ডাকতে হবে?রাফি ডাকে মাল্লু বলে,এখন এই ছেলে ডাকছে মালে বলে!রাবিশের দল!

-তো,ওকে আমি ভালোবাসতাম,ইনফ্যাক্ট এখনো বাসি।ভালোবাসার মানুষদের আদুরে নামে ডাকা যায়,বুঝলেন মিস্টার ডট ডট ডট?

-তোমাকে আমার কী করতে ইচ্ছে করছে জানো?ছাদ থেকে জাস্ট ধপাস করে ফেলে দিতে ইচ্ছে করছে।

অয়ন এবার আপনি থেকে তুমিতে নেমে আসলো।মালিহা ঠোঁট কাঁমড়ালো।তার মোটেই এখন হাঙ্গামা দেখতে ইচ্ছে করছে না।কিন্তু তার মন বলছে,এখন একটা হাঙ্গামা হবে।সেই হাঙ্গামা তাকে মাথায় হাত দিয়ে দেখতে হবে।

দিব্য অয়নের আরেকটু সামনে এসে দাঁড়ালো।তার দৃষ্টিও শক্ত, কঠোর।

-নে, ধপাস করে ফেল দেখি।

মালিহা হতবাক হয়ে তাকালো।এই ছেলে তো ডাইরেক তুই তে নেমে গিয়েছে।অয়ন নিজের রাগ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করলো।সে চাইছে না,আরেকজনের বাসায় এসে কোনো ঝামেলা করতে।আল্লাহও বোধহয় কোনো ঝামেলা চাচ্ছেন না।যার দরুন, অয়নের পায়ের নিচে একটা ইঁদুরকে কুচকুচ করতে দেখা গেল।মালিহা যেরকম ইঁদুর ভয় পায়,অয়নও তাই!অয়ন পুরো ছাদ কাঁপিয়ে একটা চিক্কর মারলো।মালিহা অয়নের পিছনে শার্ট খামছে ধরে লুকালো এবং অয়ন?অয়ন ব্যাটাকে দিব্যকে ডাইরেক পিছন থেকে জড়িয়ে ধরতে দেখা গেল।তারা দুইজনই লাফাচ্ছে।ইঁদুর এখনো সামনে থেকে সরছে না।বরং ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে তাদের কান্ড দেখছে।মেয়েরা তাকে দেখে চিক্কর মারে,এইটা নতুন কিছু নাহ।কিন্তু একটা ছেলে উহুম লম্বা টম্বা যুবক, তাকে দেখে এরকম বাচ্চাদের মত লাফাচ্ছে কেন?আরেএএ!

অয়ন-মালিহার কান্ড দেখে রূপ হাসতে হাসতে অলরেডি শুয়ে পরেছে।অয়নের চিক্করের সাথে সাথে রূপের হাসির আওয়াজ একদম 'তাক ধুম তাক ধুম' হয়ে বাজতে লাগলো।দিব্য চোখ কুঁচকে আছে।যদিও তার হাসি পাচ্ছে অনেক।কিন্তু হাসা যাবে না।তাকে এখন বিরক্তির এক্টিং করতে হবে।সে ইঁদুরটাকে মুখ দিয়ে 'চু চু' করে চোখের ইশারায় অন্যদিকে যেতে বলল।অয়ন অবাক হয়ে দেখল, ইঁদুরটা দিব্যর ইশারায় চলেও গেল।যেন,এটা দিব্যর পোষ মানা ইঁদুর।

মালিহা হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।অয়ন চোখ মুখ আবার শক্ত করে ফেলল।যেন এই কিছুক্ষণ আগে কোনো কাহিনিই ঘটে নি।অয়ন নামক এক তাগড়া যুবক মোটেই ওই ব্রাউন চুলের ছেলেটাকে ধরে চিক্কর মেরে মেরে লাফায় নিই!সে শক্ত করে মালিহার হাত ধরে এক দৌঁড়ে উধাও হয়ে গেল।দিব্য কিছুক্ষণ তাদের উধাও হওয়ার দিকে তাকিয়ে ছাদে বসে পড়ল।এবার সেও রূপের মতন পেটে হাত দিয়ে হো হো করে হাসবে।

_________

মায়িদা এবং নোভান বর্তমানে একটা আরেকটার মুখের দিকে রাগী রাগী চোখে তাকিয়ে আছে।নোভানের মেজাজ আজ বড্ড খারাপ।সে মুখ শক্ত করে জিজ্ঞেস করল,

-ওই ছেলেকে ভালোবাসেন?

নোভান এই প্রশ্নটা এখন অবধি একশোবার করেছে।মায়িদাও একশোবার বলেছে,আরে না ভাই,ওইটাকে আমি কেন ভালোবাসতে যাব?তোমার কী আমাকে দেখে মনে হয়,আমি কোনো ছেলেকে ভালোবেসে প্রেম করতে পারি?আজিব!

-কী হলো? কথা বলছেন না কেন?বাসেন ভালো?

মায়িদা এবার রেগে বোম হয়ে গেল।ব্যাগ থেকে একটা কেঁচি বের করে নোভানের চুলে চালাতে যেতেই নোভান খপ করে ধরে ফেলল।মায়িদার হাত পেঁচিয়ে সুন্দর করে তাকে আঁকড়ে ধরল।মায়িদা হতবাক হয়ে তাকালো।আস্তে করে বলল,

-নভু ছাড়ো।

নোভানের আজ কী হলো কে জানে!সে তার বউটাকে ছাড়লো না।বরং জিজ্ঞেস করলো,

-ভালোবাসেন?

-আরে না ব্রো।কয়বার বলব? ওকে আমি ভালোবাসি না।না, না, না।

-ওকে নাহ।

মায়িদা ভ্রু কুঁচকে বলল,

-কাকে?

-আমাকে।

~চলবে..

(ছোট্ট একটা পর্ব।হ্যাপি রিডিং পাঠকবাসী।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন