ফন্ট সাইজ:
থিম:
উল্টা পাল্টা সংসার

৩১তম পর্ব

লেখক: আরিয়ানা আরিফা

উল্টাপাল্টা সংসার

~আরিয়ানা আরিফা

৩১.

বিগত এক ঘন্টা যাবত মায়িদা-নোভান দুইটা দুইদিকে ফিরে বসে আছে।তাদের দুইটার চোখে মুখে লজ্জা।এত লজ্জা কেন পাচ্ছে তারা নিজেরা'ই বুঝতে পারছে না।লজ্জার কোনো কাহিনী তো ঘটে নি।শুধু এক ঘন্টা আগে, নোভান মায়িদার হাত ধরে বলেছে,

-শুনছেন?এই নোভান দ্য মুড সুইং এর বসটা বোধহয় আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছে।

ব্যস!এইটুকুই! সেই থেকেই নোভান দ্য মুড সুইং এর কারবার এবং তার বিয়ে করা বউটা একটা একটার দিকে পিঠ দিয়ে অন্য দিকে ফিরে আছে।দুইটারই গাল লাল হয়ে আছে।মায়িদা নিজেকে মনে মনে অবশ্য কয়েকবার ধমক টমক দিলো।এই ক্যারেক্টরটা তার সাথে একদমই যাচ্ছে না।আজিব!সে এত লজ্জা পাচ্ছে কেন?এর আগেও তো, অনেক ছেলে তাকে প্রপোজ করেছে।কই?তখন তো এত লজ্জা পায় নি।উলটো মালিহার মত কাউকে পানিতে ফেলেছে,চড় মেরেছে,লাঠি নিয়ে দৌঁড়িয়েছে।

নোভান এবার লাইট বন্ধ করে শোয়ে পড়ল। কিছু হয় নি এমন ভাবে বলল,

-ঘুমাবেন না?

-হু?

-ঘুম?

-হুম হুম।

মায়িদা ঠাস করে কাঁথা পেঁচিয়ে শোয়ে পড়ল।যদিও তার মনে হচ্ছে,ঘুম বাবাজীবন তার চোখ আজ বন্ধ করবে না।বরং সে চোখ খোলা রেখে মুচকি মুচকি হাসবে।আশ্চর্য! সে হাসবে কেন?

নোভান আবার চট করে উঠে বসল।লাইট জ্বালিয়ে মায়িদাকে বলল,

-উঠুন।

মায়িদা উঠল।স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,

-কী ব্রো?

-শুনেন,এক ঘন্টা আগে যা ঘটেছে ভুলে যান।মনে করেন,আপনার জামাই আপনাকে কোনো প্রপোজ ট্রপোজ করে নি।আপনাদের আগে যেরকম ঝগড়ার সম্পর্ক ছিল,এখনও তাই।

মায়িদা কিছুক্ষণ চুপ থেকে নোভানের মুখে বালিশ ছুঁড়ে মারল।নোভান সেই বালিশ ক্যাঁচ ধরে বলল,

-কী?

-ঝগড়ার সম্পর্ক।

নোভান খুশি হলো।এখন আর তার লজ্জা লাগছে না।সে গালে হাত দিয়ে বলল,

-চলেন,আজ মুখ দিয়ে ঝগড়া করি।মারামারি করতে ইচ্ছে করছে না।

-ওকে, ডান।

-আপনি একটা পেত্নি।

-তুমি পেত্না।

-আপনি ভূতনি।

-তুমি ভূতনা।

-আপনি জংলী।

-তুমি জংলা।

-আপনি নোভানের বউ।

-তুমি মায়িদার বর।

বলেই দুইটা 'হি হি হো হো' করে হেসে উঠলো।আজি এই চট্টগ্রামের বাতাসে তাদের নতুন একটা সংসার আরম্ভ হলো।এই সংসার যেরকম ঝগড়ার,সেরকম আনন্দের।একইসাথে প্রেমেরও বলা চলে।যদিও তাদের দ্বারা প্রেম ট্রেম হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে না।যাদের বউকে প্রপোজ করতে এবং বরের থেকে প্রপোজ পেতে গিয়ে লজ্জায় মরি মরি অবস্থা হয়,তাদের দ্বারা আর যায় হোক!প্রেম হওয়া সম্ভব নয়!

_________

শাবানা বাড়ির সবচেয়ে ছোট সদস্য, অকু দ্য গ্রেট দুষ্ট বাচ্চা মিস্টার বিন বাড়িতে এসে এক্কেবারে শান্ত শিষ্ট বাচ্চাটি হয়ে গিয়েছে।যে বাচ্চা সুযোগ পেলেই শুধু ঘুমাচ্ছে।তবে সে মোটেই খাটে ঘুমাচ্ছে না।সবার কোলে কোলে ঘুমাচ্ছে।বর্তমানে তার ঘুমানোর জায়গা হচ্ছে জহির সাহেবের কোল।জহির সাহেব ঘুমন্ত অকুকে কয়েকবার খাটে শোয়াতে চেয়েছেন, কিন্তু পারেন নি।যতবারই কোল থেকে নামিয়েছেন, ততবারই অকু ভ্যা ভ্যা করে কেঁদেছে।জহির সাহেবের কোমর ব্যাথা করছে।

জালাল সাহেব ভাইয়ের দিকে হাত বাড়িয়ে বললেন,

-আমার কোলে দাও।

জহির সাহেব মুখ শক্ত করে ফেললেন।দরকার হলে কোমর ভেঙে যাবে উনার,তবুও উনি জালালের কোলে অকুকে দিবেন না।জালাল কী প্রমাণ করতে চাইছে?উনি বুড়ো হয়ে গিয়েছেন?উনার শরীরে শক্তি নেই?সামান্য একটা বাচ্চাকেও উনি কোলে নিতে পারছেন না?হুহ!

-তুই হারো ইয়ানতুন।(তুই যা এইখান থেকে)

-যাব, আগে ওকে দাও।তোমার কোমর ব্যাথা করছে।

-তোরে কইছি আঁর মাঞ্জা ব্যাতা?(তোকে বলেছি আমার কোমর ব্যাথা?)

-বলা লাগবে কেন?তোমাকে দেখেই তো বোঝা যাচ্ছে।

কথাটা জালাল সাহেব এক হাত কোমরে রাখা ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে কৌতুক করে বললেন।এই কৌতুকে জহির সাহেবের রাগ হলো ভীষণ।

-তুই কি কইতি চারি?আঁই.. ইংরেজিতে এটারে কি কয় না?ওই যে শক্তি টক্তি নাই..

-আনফিট?

-হ।কী কইতি চারি তুই?আঁই আনফিট?

-এটা কখন বললাম?

-ইক্কিনি আগেই তো কইলি?

-ওইটা তো তুমি জিগাইলা!

-আঁই জিগাইলেই কইতো অইবো?

-আশ্চর্য!তুমি শুধু শুধু ঝগড়া করতে চাচ্ছো কেন?

জহির সাহেব আরো রেগে গেলেন।অকুকে কোলে রেখেই হাত উঁচিয়ে বললেন,

-আঁই ঝগড়াইতাম চাইয়ের?

-তো?

-তো কিয়া?

জালাল সাহেব কিছু বলতে যাবেন তার আগেই অকু কেঁদে উঠল।দাদা-নানার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে চোখ মুছে বলল,

-পতা লোক।

বলেই সে জহির সাহেবের কোল থেকে নেমে পড়লো। এই পঁচা লোকদের কোলে সে আর ঘুমাবে না।এরা শুধু ঝগড়া করতেই পারে।বাচ্চাদের কীভাবে কোলে নিয়ে ঘুম পাড়াতে হয়,তা পারে না।অকু নতুন কোল খুঁজতে লাগলো।তাকে এখন মিষ্টি আরেকটা ঘুম দিতে হবে।

_______

সকাল সকাল দিব্যকে সোফার উপর বসে বসে জালাল সাহেবের সাথে গল্প করতে দেখে অয়নের ভ্রু কুঁচকে গেল।অয়ন কুঁচকানো ভ্রু নিয়ে জালাল সাহেবের কথা শুনলো যিনি দিব্য নামক ওই ব্রাউন চুলের ছেলেটার কাঁধ করে বলছেন,

-বুঝলে দিব্য,তোমাকে আমার মালুর জামাই বানাতে পারলাম না,এই আফসোসটা আমার কোনোদিন যাবে না।মালুর মা টা ধরে বেঁধে মেয়েটাকে বিয়ে দিয়ে দিলো।তাও কার সাথে?আমার ঘর শত্রু বিভীষণ ভাইয়ের ছেলের সাথে।যে ছেলে আমার মেয়েটাকে একটুও ভালোবাসে না।আহ!

দিব্য সোফার পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা অয়নকে দেখলো।অয়নের দিকে তাকিয়েই বলল,

-ভালোবাসে না?

জালাল সাহেব দিব্যর চোখ অনুসরণ করে পিছনে তাকালেন।অয়নকে দেখে হতাশ স্বরে বললেন,

-নাহ।

অয়ন কিছু বলল না।চোখ মুখ শক্ত করে রুমে গিয়ে মালিহাকে বলল,

-রেডি হও।

মালিহা ফোনে একটা কমিকস পড়ে হাসছিল।অয়নের কথা শুনে অবাক হয়ে বলল,

-কেন?

অয়ন কেন এর জবাব দিলো না।ব্যাগ থেকে মালিহার একটা শাড়ি বের করে তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল,

-পড়ে আসো।কুইক।

পাক্কা পনেরো মিনিট লাগিয়ে মালিহা শাড়ি, হিজাব পড়ে আসলো।অয়ন মালিহার হাত ধরে দিব্য এবং জালাল সাহেবের সামনে দিয়ে বেরিয়ে পড়ল।একটা রিক্সায় উঠে মালিহাকে বলল,

-তোমার শহরটা ঘুরে দেখাবে?

মালিহা খুশি হলো।তার পছন্দের জাদুই শহরটা ভীষণ আনন্দ নিয়ে অয়নকে দেখাতে লাগলো।কোন জায়গাটাকে কী বলে হাত নেড়ে নেড়ে বলতে লাগলো।অয়ন অবশ্য এত কিছু শুনলো না।সে তো শুধু তার মালাকে দেখলো।এই দেখা দেখি ঘুরাঘুরি করতে করতে অয়ন আরেকটা কাজ করল।চট্টগ্রাম হচ্ছে জারুল ফুলের শহর।সেই জারুল ফুলের শহরের একটা জারুল ঢাল ভেঙে মালিহার দিকে বাড়িয়ে দিলো।অনেক অনেক দিন বাদে ছুপারুস্তম অয়ন নিজের ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়ে বলল,

-ভালোবাসি মালা।

মালিহার আজ খুশির দিন, আনন্দের দিন।তার এই মূহুর্তে একটা চিক্কর মারতে ইচ্ছে করছে।তাদের চট্টগ্রাম শহরটা আসলেই জাদুই শহর।এই জাদুই শহরে আরেকটা কাকতালীয় ঘটনা ঘটলো।তাদের পিছনে একটা বন্ধুমহলের কন্ঠে মালিহার সেই প্রিয় গানটা বাজতে লাগলো,

'ও হালাচাঁন গলার মালা,

পেটফুরেদ্দে তোঁয়ার লাই!'

~চলবে..

(এই পর্বটা লিখতে এত কাঁটাছিঁড়া করা লাগছে!তবুও ভালো হয় নাই।যায় হোক,অবশেষে অয়ন -নোভান দুইটা'ই তাদের বউদের প্রপোজ করে ফেলল।আর দুই তিন পর্ব হলেই শেষ হয়ে যাবে এইটা।হ্যাপি রিডিং পাঠকবাসী।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন