ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক ম্লান রক্তসন্ধ্যার গান

৬৮তম পর্ব

লেখক: নাফিসা তাবাসসুম খান

এক ম্লান রক্তসন্ধ্যার গান

লেখনীতে : নাফিসা তাবাসসুম খান

৬৮.

ঘরে প্রবেশ করেই সবার আগে বিছানায় এলোমেলো করে রাখা জিনিসপত্র গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বাণী। শাড়ির আঁচল কোমরে গুজে যখন সে সব জিনিসপত্র জায়গা মতো রাখছিলো ঠিক সেই মুহুর্তে দূর্জয় বহ্নিকে কোলে নিয়ে রুমে প্রবেশ করে। দরজার কাছে দাঁড়িয়েই বাণীর পাক্কা গৃহিণীর মতো রূপ দেখে সেকেন্ড ক্ষানিকের জন্য থমকায়। বাণী চোখ তুলে দূর্জয়কে দেখে নিচু গলায় প্রশ্ন করে,

“ ঘুমিয়ে পড়েছে? “

দূর্জয় মাথা নেড়ে বলে,

“ উঠোনে কোলে নিয়ে হাঁটছিলাম। ক্লান্ত ছিলো হয়তো খুব। কোলেই ঘুমিয়ে পড়েছে। “

বাণী একই স্বরে বলে,

“ আপাতত ওকে একটু অন্য রুমে শুইয়ে দিয়ে আসবে? আমি এসব কিছু জায়গা মতো রেখে বিছানা ঝেড়ে নেই। সবকিছুর হযবরল অবস্থা। “

দূর্জয় বলে,

“ আচ্ছা। একটু ওডোমোসটা দাও। ওর হাতে পায়ে লাগিয়ে দিচ্ছি। পায়ে মশার কামড়ের দাগ দেখা যাচ্ছে। “

বাণী ওডোমোসটা এগিয়ে দিতেই দূর্জয় বহ্নিকে নিয়ে পাশের রুমে চলে যায়। অতি সাবধানে বিছানায় শুইয়ে দেওয়ার পরও বহ্নি মিনিট দু এই ঘুমের ঘোরে মোচড়ামুচড়ি করে। দূর্জয় অপেক্ষা করে। সম্পূর্ণ ঘুমে নিমজ্জিত হতেই সাবধানে আগে পায়ের জুতো দুটো খুলে নিচে রাখে। অত:পর পায়ে আর হাতে ক্রিম মেখে দিয়ে কম্বল টেনে ছোট্ট শরীরটা ঢেকে দেয়। অত:পর রুমের লাইট অফ করে কেবল ড্রিম লাইটটা জ্বেলে দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসে।

নিজেদের রুমে পা রাখতেই দূর্জয় দেখে বাণী ইতিমধ্যে বিছানা ঝেড়ে রুমটা পরিপাটি করে ফেলেছে। দূর্জয়কে দেখতেই বাণী প্রশ্ন করে,

“ বহ্নি যেহেতু ঘুমাচ্ছে এই সুযোগে আমি ব্যাগ প্যাক করে ফেলি? “

বাণীর প্রশ্ন শুনে দূর্জয়ের মনে পড়ে আগামীকাল তাদের ঢাকায় যাওয়ার কথা। গত দেড় বছরে জমানো ছুটি গুলো থেকে বেশ কিছুদিন হাতে রেখে কেবল পনেরোটা দিন দূর্জয় পরিবারকে সময় দিবে বলে ছুটির আবেদন করেছিলো। ভাগ্যিস ছুটির আবেদনটা মঞ্জুর হয়েছে। এই সুযোগে বাণী এবং বহ্নিকে ক'টা দিন নিশ্চিন্তে সময় দিতে পারবে সে৷ দূর্জয় বলে,

“ আগে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো। তারপর দু'জনে মিলে প্যাকিং এর কাজটা করে ফেলবো চট করে। “

বাণী কথাটা মেনে নিয়ে নিজের একসেট কামিজ নিয়ে পাশের রুমে চলে যায়। দূর্জয়ও সেই ফাঁকে হাত মুখ ধুয়ে চেঞ্জ করে ওয়াশরুম থেকে বের হয়। ব্যাগ বের করার জন্য যে-ই না ও আলমারির মাঝের দরজাটা খুলে ঠিক সেই মুহুর্তে ওর চোখে পড়ে উপরের তাকের এককোণে জায়গা দখল করে রাখা গিটারটার দিকে। দূর্জয় গিটারটা দেখে মনে মনে কিছু একটা ভাবে। বাণীও ঠিক সেই মুহুর্তে গোসল সেড়ে শাড়ি বদলে রুমে পা রেখেছে। দরজা থেকেই দূর্জয়কে গিটারটার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে তার পা জোড়া থেমে যায়। পুরনো স্মৃতি তাকে জেকে ধরে।

দূর্জয় বাণীকে লক্ষ্য করতেই স্বাভাবিক গলায় বলে,

“ তোমার গিটারটা বেশ ভালো বন্ধু। অনেক বছর ধরে আমাকে সঙ্গ দিচ্ছে। “

বাণী গলা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে বলে,

“ ভালো তো! “

বলে নিজেই চুপচাপ এগিয়ে গিয়ে দূর্জয়ের পাশ কেটে একটা ব্যাগ নিয়ে তা গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। দূর্জয়ের চোখ এড়ায় না বাণীর অস্থিরতা। বাণী আলমারির পাশের তাক হতে নিজের কাপড় নামাতে নিলেই দূর্জয় তার হাত ধরে থামায়৷ টেনে এনে নিজের সামনে দাঁড় করিয়ে বলে,

“ গিটারটা আমি যে-ই অবস্থায় পেয়েছিলাম, সেই অবস্থায় এতে সুর তোলা অসম্ভব বিষয় ছিলো। তা-ই বলে আমি গিটারটা ফেলে দেই নি। মেরামত করিয়ে সুরের উপযোগী করে তুলেছি। তুমিও ব্যতিক্রম নও। ভাঙা অংশগুলো জোড়া লাগানো শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি হাল ছাড়ছি না। আই উইল নট গিভ আপ অন ইউ। “

বাণী কিছু বলে না। তবে দূর্জয়ের চোখ থেকে চোখও সরায় না। ইদানীং যতটা সম্ভব নিজেকে সহজ করার চেষ্টায় মত্ত সে। তার সামনের মানুষটা যেখানে এতটা এফোর্ট দিচ্ছে সেখানে বিন্দুমাত্র সাড়া না দেওয়াটা বড্ড বেমানান দেখায়। আচমকা কি ভেবে যেনো বাণী প্রশ্ন করে,

“ বিয়ের দিন রাতে যাওয়ার আগে তুমি বলেছিলে তুমি পঞ্চম ধাপে আছো। এখনো কি ও-ই ধাপটাতেই আছো? নাকি এক দু ধাপ উপরে উঠেছো? “

বাণীর প্রশ্নের পিঠে দূর্জয় নিঃশব্দে হেসে জানতে চায়,

“ তোমার কি মনে হয়? “

বাণী ভাবনায় বুদ হয়ে জবাব দেয়,

“ তুমি সপ্তম ধাপে আছো। আমাকে প্রতিনিয়ত ভালো রাখার দায়িত্বটা পালন করছো। এটা সপ্তম ধাপ নয়? “

দূর্জয় বাণীকে টেনে আয়নার সামনে নিয়ে দাঁড় করায়। কিছু না বলেই হেয়ার ড্রায়ারটা তুলে নিয়ে বাণীর ভেজা চুলগুলো উষ্ণ হাওয়ায় শুকাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ক্ষানিক বাদে আয়নার দিকে তাকিয়ে বাণীর চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করে,

“ সপ্তম ধাপে পৌঁছাতে হলে আমাকে আগে ষষ্ঠ ধাপ অতিক্রম করতে হবে। ষষ্ঠ ধাপটা কি ছিলো মনে আছে? আসক্তি। কি মনে হয় বাণী? আমি তোমাতে আসক্ত? “

বাণী ক্ষানিকটা বিস্ময় নিয়ে আয়না হয়ে দূর্জয়ের চোখে চোখ রাখে। কি অদ্ভুৎ! এই প্রশ্নটার কোনো উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না কেন সে? নিরুত্তর বাণী নিজের চোখ নামিয়ে নেয়। দূর্জয় হেসে কথা ঘুরিয়ে বলে,

“ ঢাকায় গিয়েই বহ্নির আকিকার কাজটা সেড়ে ফেলতে হবে। ওখানে আমাদের বাসার কাছের মসজিদের হুজুরের সঙ্গে আমি এই ব্যাপারে কথা বলবো। একবার আকিকা হয়ে গেলে, তাহলে ওর বার্থ সার্টিফিকেট আর পাসপোর্টটা দ্রুত রেডি করতে দিয়ে দিতে পারবো। ওর পাসপোর্টটা থাকলে এখন বাই রোড লং জার্নিটা আর করতে হতো না। আমার চিন্তা হচ্ছে এতদূরের লং জার্নির ধকল ও নিতে পারবে নাকি ভেবে! “

__________

মখমলের চাদরের উপর সামান্য জায়গা দখল করে বসে থাকা নয় মাসের বহ্নি তখন তারস্বরে কান্না মিশ্রিত গলায় পুরো বাড়িটা মাথায় তুলে রেখেছে। বাণী তার পাশে দু হাতে মাথা চেপে ধরে বসে আছে। বিছানা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বহ্নির বিভিন্ন খেলনা এবং সেই সঙ্গে তার জন্য রেডি করা বেবি ফুড আর একটা ফিডারে করে পিউরিফাইড পানি। গত এক ঘন্টা ধরে মেয়েটাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছে বাণী, কিন্তু মেয়ে খাওয়ার বদলে উল্টো কান্না করে খাবার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

সেই কান্নার স্বরে বাণীর মাথা ব্যথা করলেও করার মতো কিছু নেই হাতে। সম্পূর্ণ বাড়িতে একটা কাকপক্ষীও নেই। হিরণ নামক জানোয়ারটা এখনো বাসায় ফিরে নি। কেয়ার টেকাররা কাজ শেষ করে যে যার ঠিকানায় চলে গিয়েছে। বাণী বুঝতে পারে না এই মুহুর্তে তার কি করা উচিত। অভিজ্ঞ কেউ-ই নেই যে তাকে ধারণা দিবে একটা বাচ্চা কিভাবে হ্যান্ডেল করতে হয়। গত নয় মাস ধরে বহ্নিকে সম্পূর্ণ নিজের অভিজ্ঞতাহীন মস্তিষ্ক খাটিয়েই পেলে চলেছে বাণী।

বাণী নিজেকে কিছুটা ধাতস্থ করে আবার খাবারের বাটি এবং চামচটা নিয়ে বহ্নির দিকে এগিয়ে গিয়ে নরম গলায় বলে,

“ একটু খেয়ে নাও মা। কয় ঘন্টা ধরে তুমি না খেয়ে আছো জানো? অন্তত দুই চামচ মুখে নাও। আই প্রমিজ, আমি আর একটুও জোর করবো না তোমাকে। “

এবারও বহ্নি খাবার মুখে তুলতে নারাজ হলে বাণী হার মেনে খাবার রেখে ওয়াটার ফিডারটা বহ্নির মুখের কাছে নিয়ে ধরে। কিছুটা জোর করে পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করতেই বহ্নির ছোট ছোট হাতের থাবায় ফিডারটা হাত থেকে পড়ে যায়। মুহুর্তেই ফিডারের উপরের মুখটা খুলে সম্পূর্ণ পানি বিছানা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। কেবল বিছানা নয় বরং বহ্নির জামাও বেশ অনেকটা ভিজে যায়। বাণী রাগে বিরক্তিতে মুখ দিয়ে চ জাতীয় শব্দ করে। সারাটা দিন নির্ঘুম থাকার দরুন মস্তিষ্কটা তখন ঠিকঠাক কাজ করছিলো না তার। দ্রুত খাবারের বাটি নিয়ে দাঁড়িয়ে বিছানার চারিদিকে বালিশ টেনে দিয়ে নিচে চলে যায় এসব রেখে আসতে।

বাণী মিনিট খানেকের মধ্যে খাবারের বাটি রান্নাঘরে রেখে বের হতেই দেখে হিরণ কেবল ঘরে ঢুকলো। বাণীকে দেখে হিরণ কিছু বলতে নিবে ঠিক সেই মুহুর্তে উপর থেকে বহ্নির গলা ফাটিয়ে কান্নার শব্দ ভেসে আসে। বাণী এক সেকেন্ড কেবল হিরণের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা আঁচ করতেই ভয়ে কুকড়ে যায়। হিরণ ততক্ষণে বড় বড় কদম ফেলে একপ্রকার দৌড়ে দ্রুত সিঁড়ি ভেঙে উপরে চলে গেলো। বাণীও দ্রুত হিরণের পিছু পিছু উপরে কাঙ্ক্ষিত রুমটায় পৌঁছে যেই দৃশ্যটা দেখে তাতে তার পুরো শরীর ভয়ে ঠান্ডা হয়ে যায়।

ছোট্ট দেহটা কেমন চিৎ হয়ে ফ্লোরে পড়ে আছে। নরম মাথাটা শক্ত ফ্লোরে আঘাত পাওয়ার ফলে যন্ত্রণার জানানটুকু দিতে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করছে। পুরো শুভ্র মুখটা ব্যথায় মুহুর্তেই লাল নীল বর্ণ ধারণ করেছে। হিরণ ততক্ষণে চিলের মতো ছোঁ মেরে মেয়ের ছোট্ট নাজুক দেহটা তুলে বুকে মিশিয়ে নিয়েছে। মা, মা বলে মুখে একপ্রকার ফ্যানা তুলে ফেলেছে।

বাণী দুরুদুরু বুকে হিরণের কাছে এগিয়ে মেয়েকে ছুঁতে নিলেই হিরণ ক্ষোভটুকু চেপে রাখতে না পেরে এক ঝাটকায় বাণীকে ধাক্কা মেরে দূরে সরিয়ে দিয়ে দ্রুত মেয়েকে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। এক বারের জন্যও পিছনে ফিরে তাকালো না। কোনো কিছুর তোয়াক্কাও করলো না। হয়তো পিছনে ফিরে তাকালে দেখতে পেতো গোল কাঁচের টি টেবিলটার উপর গিয়ে পড়া নারী দেহটা কিভাবে চূর্ণ বিচূর্ণ কাঁচের দ্বারা আহত হয়ে নিচে পড়ে আছে।

অতীত বাস্তবতাটুকু দুঃস্বপ্ন হয়ে হানা দিতেই শীতের রাতেও ঘেমে একপ্রকার হুড়মুড়িয়ে ঘুম থেকে উঠলো বাণী। তার পাশে ক্ষানিকটা দূরত্ব বজিয়ে ঘুমানো মানুষটাও তা টের পেতে দ্রুত উঠে বসলো। অন্ধকারাচ্ছন্ন রুমে পাশের পুরুষালি অবয়বটাকে হিরণের বলে মনে হলো বাণীর কাছে। কেমন এক ভয়ংকর ঘোরে বাঁধা পড়ে আছে সে। ভয়ে আচ্ছন্ন উন্মাদের ন্যায় অস্ফুটে কি আওড়াতে আওড়াতে যেনো সে বিছানা ছেড়ে নেমে যায় সে। সেই পুরুষটাও অন্ধকারের মাঝেই এক লাফে বিছানা ছেড়ে নেমে এসে বাণীকে পিছন থেকে অতি যত্ন এবং অধিকারের সহিত জাপ্টে ধরে সদ্য ঘুম ভাঙা জড়ানো শব্দে আওড়ায়,

“ দুঃস্বপ্ন দেখেছো। কিছু হয় নি। শান্ত হও। “

বাণী শান্ত হয় না। তার শরীরটা এখনো কাঁপছে। শরীরের প্রতিটা ক্ষত যেনো তাজা হয়ে উঠেছে। ব্যথাগুলো স্পষ্ট অনুভব করতে পারছে সে। দূর্জয় নিজের পেশল বাহুবন্ধনে স্ত্রীর সবটুকু তনু আগলে ধরে বলে,

“ তুমি কোথায় আছো বুঝতে পারছো? পৃথিবীর সবথেকে সেফ জায়গায় আছো। এখানে কেউ তোমার ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না। কেউ তোমাকে ছুঁতে পারবে না। তুমি কি আমার কথার মর্মার্থ বুঝতে পারছো জানা? “

উত্তাল খরস্রোতা নদীর ন্যায় আচরণ করা বাণী ধীরে ধীরে কেমন শান্ত হয়ে যায়। অন্ধকারের মাঝেও দূর্জয় এবং হিরণের মাঝে পার্থক্যটা উপলব্ধি করতেই প্রতিরোধ্য দেহটা মিইয়ে নিজের ভার ছেড়ে দেয়। আশ্বস্ত বাক্যগুলোর মাঝে খুঁজে পায় ভরসা। ছোট্ট সম্বোধনের মাঝে খুঁজে পায় স্নেহ। অধিকার পূর্ণ সেই হাতের বাঁধনে অসংলগ্ন কোনো কিছু অনুভত হয় না। বরং যা অনুভূত হয় তা কেবল গভীর এবং প্রগাঢ় পবিত্রতা।

শান্ত মনে আচমকা বহ্নির চিন্তা উঁকি দিতেই বাণীর মনে পড়ে বহ্নি পাশের রুমে ঘুমোচ্ছে। ঘুমের মাঝে তুলে আবার এই রুমে এনে শুইয়ে দেওয়ার সময় ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনাটুকুর জন্যই বাণী মেয়েকে ওই রুমটায় ঘুমাতে দিয়েছে। ভাগ্যিস বহ্নি রুমে ছিলো না। নাহয় মা'য়ের ভীত উন্মাদ রূপ দেখে তার মেয়েটা ভয়ে মিইয়ে যেতো।

বাণী কিছুটা শান্ত হয়েছে বুঝতে পেরেই দূর্জয় হাতের বাঁধন আলগা করলো। পরপর শক্ত হাত জোড়ার সাহায্যে বাণীকে শূন্যে তুলতেই বাণী ভীত স্বরে বলে,

“ কি করছো? “

দূর্জয় অন্ধকারের মাঝেই বাণীকে বিছানায় জায়গা দিয়ে নিচু স্বরে বলে,

“ ওয়াইফের সার্ভিসে আছি আপাতত। “

চার শব্দের বাক্যটার অর্থটা ঠাহর করতে পারে না বাণী। দূর্জয় নিরাপদ দূরত্ব রেখে পাশে এসে শুয়েছে উপলব্ধি করতেই হঠাৎ অবচেতন মন ভুল বুঝে বসে। কিন্তু তার ভুল ধারণা দীর্ঘস্থায়ী হতে না দিয়ে দূর্জয় নরম গলায় বলে,

“ মাঝের দূরত্ব সীমানা আমি পাড় করবো না বাণী। তবে নির্বিঘ্নে ঘুমের জন্য নিরাপদ আশ্রয় অফার করতে পারি। যদি মনে হয় ইউ আর ওকে উইথ ইট তাহলে নিজেই দূরত্বটুকু ঘোচাতে পারো। এই আশ্রয়স্থানটা একান্তই তোমার। মন সায় দিলে দ্বিধা পাশে রেখো এসো। “

দূর্জয় একহাত বাড়িয়ে দিয়ে কথাগুলো উচ্চারণ করে। বাণী নীরব থেকে যখন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না, দূর্জয় তখন কিছু না বলেই নিজের বাড়িয়ে দেওয়া হাতটা গুটিয়ে ফেলতে নেয়। কিন্তু ঠিক সেই মুহুর্তে বাণী সত্যি সত্যি দ্বিধাকে পাশ কেটে এগিয়ে এসে দূর্জয়ের বাড়িয়ে দেওয়া হাতে মাথা রাখে। তার কপাল গিয়ে ঠেকে প্রশস্ত বুকের একপাশে। দূর্জয় প্রথম দফায় ক্ষানিকটা অবাক হলেও পরমুহূর্তে তার ঠোঁটের কোণে নির্মল হাসি ফুটে উঠে। মনে মনে বাণীকে অজস্র ধন্যবাদ জানায়। দূর্জয় যতই চেষ্টা করুক বাণী নিজ থেকে সাড়া না দিলে সম্পর্কটা দূর্জয়ের একার পক্ষে স্বাভাবিক করে তোলা কখনোই সম্ভব হতো না।

যেই হাতটায় বাণী মাথা রেখেছে তা ভাজ অবস্থায় বাণীর পিঠে গিয়ে ঠেকেছে। উক্ত ছোঁয়া টের পেতেই বাণী নিজের কপালে পুরুষ্টু ওষ্ঠদ্বয়ের নিবিড় ছোঁয়া অনুভব করে। নিচু স্বর কানের কাছে উচ্চারণ করে,

“ নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ো এখন। কালকে লং জার্নি আছে। সকালে তাড়াতাড়ি উঠতে হবে। “

চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন