প্রণয়তিথি
লেখনীতে : নাফিসা তাবাসসুম খান
৭.
রাত পেরিয়ে নতুন দিনের সূচনা হয়। বিছানায় ঘুমন্ত ক্যামেলিয়া হুট করেই চোখ পিটপিট করে মেলে তাকানোর চেষ্টা করে। কণ্ঠে স্পষ্ট মৃদু আর্তনাদ ভেসে আসে। কক্ষে উপস্থিত আরোণ লক্ষ্য করে মেয়ের চোখের পাপড়ি নড়ছে। সে ছুটে ক্যামেলিয়ার সামনে এসে বসে। কণ্ঠে সবটুকু কোমলতা ঢেলে দিয়ে বলে,
“ ক্যামি! জান। ঠিক আছো তুমি? “
ক্যামেলিয়া ক্ষীণ দৃষ্টি মেলে তাকায়। ঝাপসা চোখে দেখে নিজের বাবাকে। আরোণের চোখে মুখে একইসঙ্গে আনন্দাশ্রু এবং উদ্বিগ্নতা। এতটুকু দৃশ্য দেখতেই ক্যামেলিয়া হাসে। আদুরে গলায় বলে,
“ আমার আবার কি হবে? কান্নাকাটি করবে না তো বাবা। খুব নাটকীয় লাগে এসব। “
মেয়ের কথা শুনে আরোণও হাসে। মেয়ের একহাত ধরে হাতের উপর পিঠে চুমু খায়। হাত ছেড়ে কপালেও স্নেহের পরশ বুলায়। ক্যামেলিয়া পিতৃস্নেহে চোখ বুজে নেয়। আরোণ এবার মেয়েকে প্রশ্ন করে,
“ হাতে ব্যথা করছে? “
ক্যামেলিয়া মিথ্যা বলে না। মাথা নেড়ে জানায় যে তার হাতে ব্যথা হচ্ছে। আরোণ বলে,
“ ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে যাবে তুমি। তোমার নেকড়ে সত্তা খুব দূর্বল হয়ে পড়েছে রুপার বুলেটের প্রভাবে। দ্রুত সুস্থ হতে তোমাকে কোনো মানুষকে আহার হিসেবে নেওয়া আবশ্যক। “
ক্যামেলিয়া চমকায়। উঠে বসার চেষ্টা করে সে। আরোণ এসে মেয়েকে আধশোয়া ভঙ্গিতে বসতে সাহায্য করে। ক্যামেলিয়া এবার করুণ স্বরে বলে,
“ অসম্ভব! আমি মানুষদের রক্ত মাংস খাই না বাবা। কখনোই সম্ভব না আমার পক্ষে। “
আরোণ মেয়ের দু-হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলে,
“ নিজের অবস্থাটা একবার দেখো ক্যামি। ভীষণ দূর্বল তুমি। না বললেও জানি শরীরে অসহ্যকর যন্ত্রণা হচ্ছে। মানুষের রক্ত মাংস এখন তোমাকে শক্তি জোগাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। কথাটা শুনো তুমি। “
ক্যামেলিয়া শুনতে নারাজ। সে প্রতিবাদ করে বলে,
“ আমি কখনো কোনো মানুষকে ক্ষতির উদ্দেশ্যে ছুঁয়ে দেখি নি বাবা। আমার মা ওদের একজন ছিলো। আমার বিবেক হারাতে হবে এই কাজ করার আগে। প্রয়োজন হলে আমাকে কোনো পশু শিকার করে এনে দাও। আমি কোনো অভিযোগ ছাড়াই পশুর রক্ত, মাংস, হাড় চিবিয়ে খাবো। “
আরোণ জানে এই কাজটা ক্যামেলিয়ার জন্য সহজ হবে না। তবুও সে মেয়েকে বুঝানোর সুরে বলে,
“ তোমার সুস্থ হওয়ার এবং আগের স্থিতিতে ফিরে যাওয়ার এটাই এখন একমাত্র পথ ক্যামি। এই পরিস্থিতিতে তোমার দূর্বলতা ধীরে ধীরে বাড়বে বৈ কমবে না। আর দূর্বলতার মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেলে তোমার কথা বলার ক্ষমতাটুকুও গ্রাস করে নিবে। “
ক্যামেলিয়া অবিশ্বাস্যকর দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে রয়। সে কি কোনো পাপ করেছে? নাহলে এরকম শাস্তি কেনো পেতে হচ্ছে তাকে? কোনো মানুষকে আহার হিসেবে গ্রহণ করার কথা সে কখনো কল্পনায়ও ভাবে নি। সুস্থতা অর্জনের এ কি অদ্ভুৎ মূল্য চুকাতে হবে তাকে?
__________
আজ সকাল থেকেই মাহশার মেজাজ বেশ খারাপ। এর পিছনে অবশ্য কারণও আছে। জোসেফ এবং তার পুত্র ক্লাডিয়াস, দু'জনই গভীর রাত করে বাসায় ফিরে। সকালে বেরিয়েও যায় মাহশার নামাজ শেষ হওয়ার আগে আগেই। নিজের ছক অনুসারে মাহশা কিছুই জানতে সক্ষম হচ্ছে না। এই বাসায় থেকে তার সময় অপচয় ব্যতীত আর কিছুই হচ্ছে না। অথচ তার হৃদয় প্রতিশোধ অনলে পুড়ে ছাঁই হয়ে যাচ্ছে।
তার উপর নামাজ পড়া নিয়ে মাহশার বেশ ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। এখানে কোনো মসজিদ না থাকার দরুন আজান শোনা যায় না। ফলস্বরূপ প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজ মাহশার নিজ আন্দাজে নিয়ত করে আদায় করে নিতে হচ্ছে। বাকিটা কবুল করার মালিক আল্লাহ।
গতকাল দুপুরে আরো একটা ঘটনা ঘটেছে। মাহশা যখন যোহরের নামাজ আদায় করছিলো তখন জোয়ান্দ্রা তাকে কামরায় এসে দেখে ফেলে। নামাজ শেষে মাহশাকে এক প্রকার জেরা করতে শুরু করে। জোয়ান্দ্রার ভাষ্যমতে এরকম কিছু সে কখনো দেখে নি। মাহশা তখন জোয়ান্দ্রাকে ভেঙে বুঝায় নামাজ হলো মুসলিমদের প্রার্থনার মাধ্যম। জোয়ান্দ্রা আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে, মাহশার নিজ ধর্ম নিয়ে বিশদ আলোচনা করতে হয়।
আজ মাহশা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সে জোয়ান্দ্রাকে ছলে কৌশলে জেরা করবে। যেহেতু জোসেফ, ক্লাডিয়াস এবং এন্ড্রু তিন জনই রাজ প্রাসাদের জন্য কাজ করে সেহেতু নিশ্চয়ই জোয়ান্দ্রার প্রাসাদ নিয়ে কিছু ধারণা আছে।
ভাবনা অনুযায়ী কাজে লেগে পড়ে মাহশা। রান্নাঘরে ভেড়ার গোস্ত কাটতে ব্যস্ত জোয়ান্দ্রার শিয়রে গিয়ে দাঁড়ায়। সাহায্যের অজুহাতে প্রশ্ন করে উঠে,
“ মাতুশা, একটা প্রশ্ন করি? “
“ হ্যাঁ, অবশ্যই। বলো। “
“ আপনি কখনো রাজ প্রাসাদে গিয়েছেন? “
জোয়ান্দ্রা অবাক হয়ে পাল্টা প্রশ্ন করে,
“ হুট করে এই প্রশ্ন? “
মাহশা সাজিয়ে মিথ্যে বলে,
“ আমি কখনো আমার রাজ্যের রাজ প্রাসাদ স্বচক্ষে দেখি নি। আসলে খুব একটা বাসার বাহিরে বেরই হওয়া হয় নি। শুনেছি প্রাসাদ নাকি রূপকথার গল্পের মতো চোখ ধাধানো সুন্দর হয়। যেহেতু আপনার পরিবারের এতজনের প্রাসাদে আসা যাওয়া আছে, সেহেতু ভাবলাম আপনি কখনো প্রাসাদ দেখেছেন কি-না! আমার প্রশ্নে আপনি বিব্রতবোধ করলে দুঃখিত। “
জোয়ান্দ্রা হেসে বলে,
“ আরে বোকা মেয়ে! বিব্রতবোধ কেন করবো? বেশ অনেকবারই রাজপ্রাসাদে যাওয়া হয়েছে আমার। আমাদের রাজমাতা এবং কাউন্ট রিকার্ডোর বিবাহে উপস্থিত থাকারও সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। আমার দেখা শ্রেষ্ঠ বিবাহ অনুষ্ঠান ছিলো সেটি। “
মাহশার মনযোগ আরো গাঢ় হলো। সে প্রশ্ন করে,
“ কাউন্ট রিকার্ডো? “
“ হ্যাঁ। আমাদের বর্তমান কাউন্টের পিতা ছিলেন তিনি। খুব অল্প সময়ই উনাকে কাউন্ট হিসেবে পেয়েছিলাম আমরা। “
মাহশা গভীর ভাবনায় মগ্ন হলো। জোয়ান্দ্রা মিটিমিটি হেসে বলে,
“ তোমাকে একটা গোপন কথা বলি? “
মাহশা আগ্রহী স্বরে বলে,
“ অবশ্যই, বলুন। “
“ বর্তমানে তুমি যে-ই কামরাটায় আছো, এককালে সে-ই একই কামরায় আমাদের কাউন্টেস আনাস্তাসিয়া বেশ কিছুদিন ছিলেন। তখনও তিনি এক সাধারণ রমণী ছিলেন। কে জানতো ওই সাধারণ রমণীই একদিন এই সাম্রাজ্যের কাউন্টেস হবেন? আলবার্টদের প্রণয়কাব্য তো সম্পূর্ণ রোমানিয়া জুড়ে জনপ্রিয়। হোক সেটা লিও এবং ম্যারি কিংবা রিকার্ডো এবং আনাস্তাসিয়া। এ-ই বংশের সকল পুরুষদের রক্তেই বোধহয় প্রেমিকার জন্য জীবন উৎসর্গের ব্যাপারটা মিশে আছে। “
মাহশার বোধহয় এই রাজ পরিবারের গুণগান পছন্দ হলো না। সে মুখ কালো করে ফেলে। বাড়তি আর কিছু জিজ্ঞেস করে না। জোয়ান্দ্রার মুখ থেকে আলবার্টদের প্রশংসা শুনতে তার অসহ্যকর লাগছে। ও-ই অভিশপ্ত আলবার্টদের আসল রূপ এ-ই অন্ধ প্রজারা কখনোই জানবে না।
__________
সারাদিন রাজধানীতে ব্যস্ত সময় পাড় করে বিকেলের দিকে বাসকোভ প্রাসাদে এসে পৌঁছায় কাউন্ট ইয়ান। উদ্দেশ্য বোনের শারীরিক স্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে, রাজমাতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রাসাদে ফেরা। কেভ ইয়ানের সঙ্গে ভেতর গেলো না। বরং প্রাসাদের প্রধান ফটকের বাহিরেই দাঁড়িয়ে রইলো সে। ও-ই প্রাসাদ ভর্তি নেকড়েদের ভীড়ে তার তীব্র অস্বস্তি হয়।
আশেপাশে তাকিয়ে কাউন্টের অপেক্ষা করতে ব্যস্ত কেভ হঠাৎ লক্ষ্য করলো দু'জন নেকড়ে মানব প্রাসাদের দিকে তীব্র গতিতে আসছে। কেভ কিছুটা ভয় পেয়ে সরে দাঁড়ায়। স্পষ্ট দেখে তাদের একজনের কোলে একটা ছোট্ট নিথর শিশুর দেহ। বয়স কতো হবে বাচ্চাটার? আনুমানিক সাত কিংবা আট। মুখ এবং শরীর অস্বাভাবিক রকমের ফ্যাকাসে।
প্রধান সেনাপতি কেভ এ-ই দৃশ্যের মর্মার্থ ঠাওর করতে পারে না। বাচ্চাটা কে? কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাকে? কেভের সামনে দিয়ে ঝড়ের গতিতে বাচ্চা কোলে নিয়ে নেকড়ে মানবটা প্রাসাদের ভেতর চলে যায়। তবে দ্বিতীয় নেকড়ে মানব এতো তাড়া দেখায় না। বরং কেভকে দেখে স্থির হয়ে দাঁড়ায়। প্রশ্ন করে,
“ কাউন্ট এসেছেন? “
কেভ জবাব দেয় না। বরং পাল্টা প্রশ্ন করে,
“ কি হচ্ছে এখানে? ও-ই বাচ্চাটা কে? এখানে কি করছে? “
ক্রিয়াস উদাস গলায় বলে,
“ লুনা শারীরিক ভাবে বেশ দূর্বল। উনার সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার একটাই মাধ্যম। কোনো মানুষের রক্ত এবং মাংস আহার হিসেবে গ্রহণ করা। বাচ্চাটাকে জঙ্গলে অচেতন অবস্থায় পেয়েছি। ঠান্ডায় বোধহয় চেতনা হারিয়েছে। কিন্তু এখনো মারা যায় নি। আশা করছি, বাচ্চার কলিজাটা লুনাকে শারীরিক ভাবে শক্তি জোগাবে। “
বলেই ক্রিয়াস প্রাসাদের ভেতর চলে যায়। কেভ অবিশ্বাস্য দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে রয়। এইমাত্র যা শুনলো তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে ওর। ও-ই আলফার মেয়ে নিজে সুস্থ হওয়ার জন্য একটা নিষ্পাপ বাচ্চাকে খাবে? এতটা হিংস্র এবং নির্দয় ও-ই মেয়ে? কেভের সম্পূর্ণ মন ঘৃণায় বিষিয়ে উঠে। পশু কোথাকার! জানোয়ারদের রক্ত এবং সত্তা বহনকারীর থেকে আর কি-ই বা আশা করা যায়? কেভের আফসোস হয় খুব। কেনো সে ওই ক্যামেলিয়া নামক হিংস্র নেকড়ে মানবীর জীবন বাঁচালো? তার এই জীবন বাঁচানোর মূল্য এখন ও-ই নিষ্পাপ বাচ্চাটাকে মেটাতে হবে। রাগে কেভ আকাশ পানে তাকায়। এই অমানবিক নির্মমতা তার বুকটা ভার করে তুলেছে।
__________
চারিদিকে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নেমেছে। জোসেফ এবং ক্লাডিয়াস আজ বেশ জলদিই বাসায় ফিরেছে। জোয়ান্দ্রাও তা-ই আজ বেশ আয়োজন করে টেবিলে রাতের খাবার সাজাচ্ছে। তাকে সাহায্য করছে মাহশা। ক্লাডিয়াস এবং জোসেফ টেবিলে বসে প্লেট নিয়ে অপেক্ষা করছে।
টেবিলে এক এক করে সাজানো খাবার গুলো ভ্রু কুচকে দেখছে বাপ ছেলে। জোসেফ সুযোগ বুঝে স্ত্রীকে প্রশ্ন করে,
“ আজ শুধু ঘাস পাতা লতার আয়োজন কেন? “
জোয়ান্দ্রা অবাক হয়ে বলে,
“ ঘাস পাতা লতা কোনটাকে বলছো? ওগুলো সবজি। খাবারকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলবে না একদম। “
জোসেফ বলে,
“ ও-ই একই জিনিস। ঘরে কি মাংস শেষ না-কি? শুধু ভেড়ার গোস্তের স্যুপ রান্না করলে যে? “
মাহশা এবার টেবিলের ধারে এসে দাঁড়িয়ে বলে,
“ দুঃখিত। আমার কারণেই উনি এসব রান্না করেছেন। আমার খাদ্যাভ্যাস আপনাদের থেকে ভিন্ন। আপনারা যা খান সে-সব বেশিরভাগই আমার জন্য হারাম। ওগুলো খাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। “
জোসেফ ভ্রু কুচকে প্রশ্ন করে,
“ হারাম কি জিনিস? “
মাহশা বুঝিয়ে বলে,
“ হারাম মানে নিষিদ্ধ। আমার ধর্মে শুকর, মদ্যপান এসব খাবার খাওয়া নিষেধ। “
জোসেফ সতর্ক দৃষ্টি মেলে দেখে মাহশাকে। এ-ই মেয়েটার চালচলন বেশ অদ্ভুৎ ঠেকে তার কাছে। তাদের সামনে সবসময় মাথায় কাপড় প্যাঁচিয়ে রাখে। খুব একটা হাসি ঠাট্টা করে না। খাবার নিয়েও কতো বিধি নিষেধ মেনে চলে। এগুলো কি মুসলিমদের বৈশিষ্ট্য? কে জানে! জোসেফ আগে কখনো কোনো মুসলিমকে দেখে নি, তা-ই তার ধারণা নেই। সে আপত্তি না করে মাহশার প্রতি সম্মান রেখে বলে,
“ অসুবিধা নেই। তোমার যা যা খাওয়া নিষেধ তা জোয়ান্দ্রাকে জানিয়ে রাখবে। ও তোমার জন্য আলাদা করে খাবার রান্না করবে। “
মাহশা যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচে এতে। সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে একটা চেয়ার টেনে জোয়ান্দ্রার পাশে বসে পড়ে। ক্লাডিয়াস আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করে,
“ মাহশা আপু! তোমাদের ধর্মে আর কি কি নিষেধ? আমি জানতে আগ্রহবোধ করছি। “
মাহশা শুধু সবজি খেতে খেতে উত্তর দেয়,
“ টেবিলে রাখা এই ভেড়ার গোস্তের স্যুপটা আমার জন্য নিষিদ্ধ। কারণ এ-ই ভেড়াটি বিসমিল্লাহ না বলে জবাই করা হয়েছে। আল্লাহর নাম না নিয়ে কোরবানি করা পশুর গোস্ত আমাদের জন্য হালাল নয়। “
জোসেফ, জোয়ান্দ্রা, ক্লাডিয়াস অবাক হয়ে শুনে মাহশার কথা। ক্লাডিয়াস প্রশ্ন করে,
“ তোমার কি খারাপ লাগছে না শুধু শাক সবজি খেতে? “
মাহশা এবার মৃদু হেসে বলে,
“ হালাল খেতে খারাপ লাগবে কেন? “
ক্লাডিয়াস আরো কিছু বলতে নেয় তবে তার আগেই মাহশা গম্ভীর স্বরে বলে উঠে,
“ খাবার খাওয়া আমাদের নিকট ইবাদত তূল্য, ক্লাডিয়াস। এমন নয় যে খাওয়ার সময় কথা বলা নিষেধ। তবে আমি যেখান থেকে এসেছি সেখানে খাওয়ার সময় নীরবতাকে ভদ্রতার লক্ষ্মণ হিসেবে ধরা হয়। “
ক্লাডিয়াস আর কিছু বলে না। মাহশার কথার সূক্ষ্ম ইশারা বুঝতে অসুবিধা হয় না তার। সে নীরব বনে যায়। খাবারের টেবিলে হুট করেই নীরবতা ছেঁয়ে যায়। সকলে নিজের মতো খেতে থাকে। হুট করেই বাড়ির দরজায় করাঘাতের শব্দ হয়। জোসেফ বিরক্ত হয়। এ-ই সময় আবার কে এলো? সে উঠে গিয়ে দরজা খুলতেই চমকায়। সাধারণ প্রজার বেশে দাঁড়িয়ে থাকা কাউন্টকে দেখে হুট করে ব্যস্ত হয়ে পড়তে নিলেই ইয়ান তাকে চোখ রাঙায়। ইশারা করে মুখ ফসকে কিছু না বলতে। রাশভারী গলায় প্রশ্ন করে,
“ মাহশা কোথায়? “
জোসেফ সঙ্গে সঙ্গে গলা উঁচিয়ে ডাকে,
“ মাশা! এদিকে এসো। তোমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে একজন। “
মাহশা কিছুটা বিরক্তি নিয়ে টেবিল ছেড়ে দরজার নিকট এগিয়ে আসতে আসতে বলে,
“ আপনাকে কতবার বলেছি আমার নাম মাশা নয় মাহশা হবে। ঠিকঠাক উচ্চারণ করুন দয়া করে। আর আমার সঙ্গে রোমানিয়ায় কে দেখা করতে আসবে… “
বলতে বলতে দরজার কাছে এসেই মাহশা থমকে যায়। পরিচিত মুখ দেখে অস্পষ্ট স্বরে বলে,
“ এন্ড্রু! “
ইয়ান কিছুটা হেসে বলে,
“ কেমন আছো মাহশা? “
চলবে…