ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়তিথি

১২তম পর্ব

লেখক: নাফিসা তাবাসসুম খান

প্রণয়তিথি

লেখনীতে : নাফিসা তাবাসসুম খান

১২.

নিগূঢ় নিস্তব্ধতায় ছেয়ে আছে গোটা কামরা। গায়ে জড়ানো গাউনটা বদলে রাতের জন্য পরিধেয় একটা লম্বা ঢিলেঢালা সাদা রঙের ফ্রক পরে নিলো ক্যামেলিয়া। বাদামি রঙের চুল গুলো আঁচড়ে একটা ঢিলে বেণি করে নিয়েছে সে। ক্ষানিক ক্লান্ত শরীরটা বিছানায় এলিয়ে দিয়েই দম ফেললো সে। বিগত একটা লম্বা সময় ধরে বাবাকে তার আকাশ কুসুম গল্প সাজিয়ে জঙ্গলে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে হয়েছে।

যদিও আরোণ যে ক্যামেলিয়ার কথায় আশ্বস্ত হয় নি, তা ক্যামেলিয়া ভালো করেই জানে। সে লক্ষ্য করেছে তার ব্যাখ্যার পিঠে বাবার মুখে অসন্তুষ্টির ছাপ। এভাবে বাবার মুখের উপর মিথ্যা বলতে ক্যামেলিয়ারও ভালো লাগছে না। কিন্তু সে কি-ই বা করবে? আর কোনো উপায়ও তো নেই তার কাছে। ওই অদ্ভুৎ লোকটার রহস্য আগে সে উন্মোচন করতে চায়। নিজে পুরো ব্যাপারটা নিশ্চিত না হয়ে কোনো মতেই বাবাকে এই ব্যাপারে কিছু জানানো যাবে না। বাবা এভাবেই বেশ ক্ষিপ্ত। গোপনে ক্রিয়াসকে নিয়ে যে ক্যামিকে গুলি করা ব্যক্তিকে খুঁজে বেড়াচ্ছে, তা ক্যামেলিয়ার অজানা নয়।

ক্যামেলিয়া নিশ্চিত তার বাবা আলফা আরোণ রদ্রিগেজ লোকটাকে পেলেই আগে হত্যা করবে। কিন্তু এতে যে ক্যামেলিয়ার আগ্রহ মিটবে না। সে জানতে আগ্রহী লোকটার পরিচয় সম্পর্কে। সে জানতে চায় লোকটা কি করে নেকড়ে মানবদের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানে। তাছাড়া লোকটা এ-ও বলেছে যে, তিনি নাকি আরোণের নেকড়ে হওয়ার ইতিহাস সম্বন্ধেও জানে। কিন্তু কিভাবে?

এ-ই এতো না জানা প্রশ্নের উত্তর কেবল ও-ই লোকটাই দিতে পারবে ক্যামেলিয়াকে। কিন্তু ক্যামেলিয়া লোকটাকে কি করে খুঁজে পাবে? ওইভাবে বোধহয় আর জঙ্গলে একা যাওয়াটা তার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠবে না। বাবার হম্বিতম্বি দেখে বুঝা যাচ্ছে, যে ক্যামেলিয়ার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠিন পাহারার ব্যবস্থা করবেন। এতো নেকড়ের চোখ ফাঁকি দেওয়াটা ক্যামেলিয়ার পক্ষে প্রায় অসম্ভব ব্যাপার।

রাগে, হতাশায় ক্যামেলিয়া বিছানার এক পাশ ফিরে শুয়ে বালিশ জড়িয়ে ধরে। সঙ্গে সঙ্গে খোলা বারান্দার দরজা দিয়ে শীতল বাতাস এসে কামরায় প্রবেশ করে। আচমকা ক্যামেলিয়া কানের কাছে শুনতে পায় একটা ফিসফিসানি স্বর,

“ দেখো, তোমাকে খুঁজে নিয়েছি আমি। “

ক্যামেলিয়া চমকে শোয়া থেকে উঠে বসে। আধো আলোকিত কক্ষের প্রতিটা কোণায় সে নিজের দৃষ্টি বুলায়। কি অদ্ভুৎ! কোথাও কেউ নেই। অথচ এইমাত্র সে ও-ই পুরুষের ফিসফিস করে বলা কথা শুনতে পেলো। ক্যামেলিয়া বড়ো করে নিঃশ্বাস ফেলে। অতঃপর আদেশের সুরে বলে উঠে,

“ নিজের পরিচয় জানাও আমাকে। “

ফের পুরুষালি কণ্ঠটা শোনা যায়,

“ নিজের রক্তকে চিনতে পারছো না, ক্যামেলিয়া রদ্রিগেজ? “

ক্যামেলিয়া যেনো এবার বিস্ময়ে বিমূঢ় হলো। কি বলছে এই লোক? রক্ত মানে? ক্যামেলিয়া সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন করে,

“ ভনিতা না করে সোজাসাপ্টা কথা বলো তুমি। “

অদৃশ্য স্বরটা এবার বলে উঠে,

“ বেশ সুশ্রী দেখতে হয়েছো তুমি। এ-ই রক্তের আর কোনো রমণী দেখতে এতটা আকর্ষণীয় ছিলো না। এ-ই রূপটা নিশ্চয়ই তোমার মায়ের অংশ হওয়ার ফলস্বরূপ পেয়েছো? এবার বুঝতে পেরেছি আরোণ কেন তোমাকে চোখে হারায়! ওর স্ত্রী'র একটা সত্তা নিজের মাঝে বহন করো তুমি। তোমার বাবা খুব ভীত ছিল, জানো? পশু সত্তা বহন করে এবং জঙ্গলের মাঝে বেড়ে উঠে ধীরে ধীরে পশুদের মতো হিংস্র এবং দুঃসাহসিক হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ও যে একজন মানুষকে বিয়ে করার মতো দুঃসাহস দেখাবে এটা কখনো কল্পনা করি নি। “

অদৃশ্য সত্তার এতো ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলা কথায় ক্যামেলিয়া বিরক্তবোধ করছিলো। সে বলে উঠে,

“ আমি জানতে চাইছি, কে তুমি? “

কণ্ঠস্বরটা এবার রহস্যময়ী স্বরে ফিসফিসিয়ে উঠে,

“ ভয় পেও না। সাহায্য করতে এসেছি আমি। অভিশাপের ইতি টানতেই তো আমার জন্ম হয়েছে। যতদিন না আমি ইতি টানবো ততদিন আমার শাস্তি ভোগ করে যেতে হবে। তবে তোমার সব প্রশ্নের উত্তর কেবল একটা শর্তেই দিবো আমি। আমার পরিচয় তোমাকে খুঁজে বের করতে হবে। বলতে হবে আমার নাম কি? “

এতটুকু বলেই কণ্ঠস্বরটা যেনো হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো। খোলা বারান্দার দরজা দিয়ে ভেসে আসা দখিনা হাওয়ার গতিও ধীর হলো। ক্যামেলিয়া হতবুদ্ধির ন্যায় বসে রইলো। কে ছিলো লোকটা? কোন অভিশাপের কথা বলছে? আর ক্যামি কিভাবেই বা এই লোকের নাম খুঁজে বের করবে?

__________

কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ আকাশে উঁকি দিয়েছে। হুট করেই গভীর ঘুমটা ভেঙে গেলো কাউন্ট ইয়ানের। তেষ্টা পেয়েছে তার খুব। হাত বাড়িয়ে বিছানার পাশে একটা ছোট্ট টেবিলের উপর থেকে পানির পাত্রটা নিলো সে। কারু খচিত কাঁচের গ্লাসটায় কিছুটা পানি ঢেলে নিয়ে তা পান করে গলার তেষ্টাটুকু মিটিয়ে নেয় ইয়ান।

কিছুক্ষণ থম মেরে বিছানায় বসে থেকে ধীর কদমে নেমে দাঁড়ায় সে। এগিয়ে যায় বারান্দার দরজার দিকে। দু কপাটের বিশাল দরজাটা দু'হাতের সাহায্যে খুলে বারান্দায় পা রাখে ইয়ান। এগিয়ে গিয়ে রেলিং ঘেঁষে দাঁড়ায়। চোখ বুজে অনুভব করে উত্তাল শীতল বাতাস।

এই বাতাসটা অনুভব করতে খুব উপভোগ করে ইয়ান। প্রতিবারই চোখ বুজে নেওয়ার পর বাতাসটা যখন এসে তার গায়ে ধাক্কা খায় তার মনে হয় এই বুঝি বাবার স্পর্শ পেলো সে। ও-ই মানুষটা যে কি-না তাকে অভিশাপ থেকে রক্ষা করতে নিজের জীবনটা বিলিয়ে দিলো। এই-যে এতো শান এবং জৌলুশ, এসব তো কিছুই ইয়ানের পাওয়ার কথা ছিলো না। যদি না তার মা বাবা থাকতো তবে সে-ই কবেই সে নিঃশেষ হয়ে যেতো!

কাউন্ট রিকার্ডো আলবার্ট নিজের জীবনের বিনিময়ে ইয়ানকে আয়ুষ্মান করেছে, অপরদিকে কাউন্টেস আনাস্তাসিয়া আলবার্ট নিজের রাতের ঘুম বিসর্জন দিয়ে ইয়ানের এই সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে এতো বছর ধরে পরিশ্রম করে যাচ্ছে। মা বাবার এতো ত্যাগের কথা ভাবতে বসে ইয়ানের প্রতিক্রিয়াটা ঠিক স্পষ্ট বুঝা গেলো না। সে শূন্যে তাকিয়ে রইলো বেশ কিছুক্ষণ। অতঃপর নীরবে নিজের কক্ষের ভেতর চলে যায়। কিছুক্ষণ পর ফিরে আসে বেহালা হাতে।

বেহালাটা ইয়ানের পিতা কাউন্ট রিকার্ডো আলবার্টের। মায়ের মুখে সে শুনেছে বাবা চমৎকার বেহালা বাজাতে জানতো। কাউন্ট রিকার্ডোর সূত্র ধরে তার স্ত্রী আনাস্তাসিয়াও বেহালায় সুর তোলা রপ্ত করেছেন। স্বামীর থেকে শেখা একই সুর নিজ পুত্রকেও তিনি হাতে ধরে শিখিয়েছেন।

ইয়ান চোখ বুজে রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে বাজানো শুরু করে চির পরিচিত এক সুর। বাতাসে ভেসে বেড়ানো সে-ই সুরে যেনো জেগে উঠলো সম্পূর্ণ প্রাসাদ। কেউ বা নিজ শয়নকক্ষে থেকে শুনতে থাকলো বেহালার সুর, কেউ বা বেরিয়ে এলো নিজ কক্ষের বারান্দায়। নাওমিও তার বিপরীত নয়। নিজ কক্ষের বারান্দার ধারে দাঁড়িয়ে ঘাড় উঁচু করে লক্ষ্য করলো ভাইকে। নির্লিপ্ত মুখভঙ্গি নিয়ে চোখ বুজে যেনো অন্য এক জগতে হারিয়ে গিয়েছে তার প্রিয় ভাই।

নাওমির মনটা খারাপ হলো। ক্লাডিয়াস হতে সে জেনেছে যে, তাদের বাসায় আশ্রিত থাকা মাহশা নামক মেয়েটা আজই নিজ রাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। ও-ই মেয়ের প্রস্থানের কারণেই কি ভাইয়ের মনটা খারাপ?

নাওমি দৃষ্টি নামিয়ে অন্ধকার প্রাসাদ আঙিনার পানে তাকিয়ে রয়। রাতের এই নিকষ কালো আঁধারে কি অদ্ভুৎ এক মায়া লুকিয়ে আছে! সে-ই মায়ার মাত্রা দ্বিগুণ করে দিচ্ছে এই সুর। এ-ই সুরকে কি নামে ডাকা যায়? হৃদয় বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া বিচ্ছেদের সুর নাকি হৃদয়ে উত্তাল ঝড় তোলা প্রেমের সুর? নাওমির মনে প্রশ্ন জাগে, তার জীবনেও কি কখনো প্রেম আসবে? সে-ই প্রেমটা কেমন হবে? কেমন-ই বা হবে নাওমির প্রেমিক পুরুষ? এ-ই প্রাসাদে ভাঙা হৃদয় নিয়ে বয়ে চলা মানুষ গুলোর ভীড়ে নাওমির প্রেমের সমাপ্তিটাই বা কেমন হবে? ইতিতে উৎসর্গ থাকবে নাকি উৎসব?

__________

কাউন্ট ইয়ান আলবার্টের দিনের শুরুটা হয় এক নতুন উদ্যোমে। তৈরী হয়ে রাজমাতা আনাস্তাসিয়ার সঙ্গে নাস্তা সেড়ে নেয় সে। অতঃপর অগ্রসর হয় রাজসভার দিকে। আসন্ন সফর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সভাটা সম্পূর্ণ মনযোগের সহিত সম্পন্ন করে ইয়ান। মাহশাকে নিজ রাজ্যে ফেরত পাঠানোর মাধ্যমে মাথা এবং ঘাড়ের উপর থেকে যেনো বিশাল একটা দায়িত্বের বোঝা সরলো তার। বিগত দিনগুলোয় মাহশা নামক মেয়েটাকে কিভাবে ফেরত পাঠালে উত্তম হয় সে-ই চিন্তায় তার মনযোগে কিছুটা হেরফের হয়েছিলো বৈকি। তবে এবার সে আবারও নিজের পূর্বের জীবনে ফিরে এসেছে। সে-ই সঙ্গে মুক্তি মিলেছে নিজের মিথ্যা পরিচয় এবং এন্ড্রু নামটা থেকে।

রাজসভা শেষে ইয়ান নিজ কক্ষে ফিরে আসে। গায়ের পোশাকটা বদলে ঠান্ডা শরবত পান করতে করতে কিছু জরুরী নথিপত্র দেখতে বসে সে। চোখেমুখে আলাদাই স্বস্তি লক্ষনীয় তার। জরুরী কাজের মাঝে কামরার দরজায় করাঘাতের শব্দ হয়। প্রহরী কক্ষে প্রবেশ করে জানায় প্রিন্সেস নাওমি এসেছে দেখা করতে। সাধারণত জরুরী কাজের মাঝে কাউকেই দেখা করার জন্য অনুমতি দেয় না ইয়ান। তবে আজ মনটা ফুরফুরে। বোনকে দেওয়ার মতো কিছুটা সময়ও হাতে আছে। তাই সে অনুমতি দেয়।

প্রহরী বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মাঝেই নাওমি কক্ষে প্রবেশ করে। টেবিলের কাছে গিয়ে মুখ ভার করে বলে,

“ ভাই! কি শুনছি এসব? মাহশা চলে গেলো? “

বাতাসের সঙ্গে উড়ে গোপন খবরটুকু বোনের কানে পৌঁছে যাওয়া দেখে ইয়ান অবাক হয় না। নিশ্চয়ই নাওমি ক্লাডিয়াসকে জেরা করে এসব জেনেছে। ইয়ান একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে শান্ত গলায় বলে,

“ হ্যাঁ, এখনো বোধহয় জাহাজেই আছে। তুরস্কে পৌঁছাতে ওর দিন কয়েক লাগবে। আশা করছি পৌঁছে যাবে সুস্থভাবে। “

নাওমির সুশ্রী মুখে ঘন কালো আঁধার নেমে আসে। সে ফট করে প্রশ্ন করে,

“ তোমার প্রেম শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে গেলো? “

ইয়ান এ-ই পর্যায়ে এক দৃষ্টিতে নাওমির দিকে তাকায়। তার দৃষ্টিতে মিশে আছে চাপা রাগ। নাওমি সেই দৃষ্টি লক্ষ্য করতেই টের পেলো সে সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ভাইকে বোধহয় রাগিয়ে দিলো সে। আমতা আমতা স্বরে নাওমি বলতে নেয়,

“ থাক… আমি “

সম্পূর্ণ কথাটুকু শেষ করার পূর্বেই একপ্রকার ঝড়ের গতিতে কক্ষের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে প্রধান সেনাপতি কেভ। নাওমির কথাটুকু অসম্পূর্ণ রয়ে যায়। সে ঘাড় ঘুরিয়ে বিস্ফোরিত নয়নে তাকায়। অবাক হয় ইয়ানও। তবে রাগ দেখিয়ে বলে,

“ এ কেমন অভদ্রের মতো আচরণ? “

কেভকে দেখাচ্ছে কিছুটা বিধ্বস্ত। এই নিম্ন তাপমাত্রায়ও তার কপাল গড়িয়ে ঘাম স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, যেনো এইমাত্র দৌড়ে এলো সে। নাওমিকে লক্ষ্য করতেই কেভ নিজেকে সংযত করে। রয়েসয়ে ক্ষান্ত হয়ে বলে,

“ আপনার সঙ্গে একটা জরুরী ব্যাপারে একান্ত আলাপ করা প্রয়োজন কাউন্ট। “

সূক্ষ্ণ ইশারা ধরতে পেয়েই নাওমি আদেশের অপেক্ষায় রইলো না। ভাইয়ের থেকে অনুমতি নিয়ে সে নীরবে কক্ষ ত্যাগ করে। কেভ এবার সচেতন স্বরে জানায়,

“ এইমাত্র খবর পেলাম কাউন্ট। তুরস্কগামী আমাদের জাহাজটা, সেটা গতরাতে সমুদ্রপথে জলদস্যুদের হাতে পড়ে। জলদস্যুরা জাহাজে হামলা চালিয়েছে। “

ইয়ান হতবাক হলো। এজন্য নয় যে জাহাজটায় অসভ্য জলদস্যুদের হামলার শিকার হয়েছে, বরং এই কারণে যে জাহাজটায় মাহশা নামক ও-ই মেয়েটা উপস্থিতি ছিল। ইয়ান যথাসম্ভব নিজের শান্ত দৃঢ়তা বজায় রেখে প্রশ্ন করে,

“ মাহশা? “

কেভ মাথা নিচু করে জবাব দেয়,

“ আক্রমণ করে কিছু মানুষকে মেরে সমুদ্রে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তথ্য অনুযায়ী সমুদ্রে যাদের ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে তারা পুরুষ ছিলো। জাহাজ লুট করে নিয়ে উপস্থিত নারীদের সহ জাহাজটা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রের বুকে এখনো জাহাজের পোড়া অংশবিশেষ গুলো ভেসে বেড়াচ্ছে। বোধহয় মাহশাও আর নেই৷ “

ইয়ান বাকরুদ্ধ বনে গেলো। মাহশা বোধহয় আর নেই মানে কি? হ্যাঁ বা না একটা কিছুতে কেন উত্তর পেল না সে? বোধহয় শব্দটা যুক্ত করে এমন অনিশ্চয়তায় ফেলার মানে কি? তার করে দেওয়া বন্দোবস্ততে একটা মানুষ কি করে নাই হয়ে যেতে পারে?

চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন