ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়তিথি

১৩তম পর্ব

লেখক: নাফিসা তাবাসসুম খান

প্রণয়তিথি

লেখনীতে : নাফিসা তাবাসসুম খান

১৩.

প্রাসাদের সম্মুখে আজ প্রজাদের খুব ভীড়। রাজ্যের বিশেষ এক উপলক্ষ্য আজ। রোমানিয়ান সাম্রাজ্যের কাউন্ট ইয়ান আলবার্টের জন্মদিন। কাউন্টের জন্মদিন উপলক্ষে রাজ্যে সকল প্রজাদের মাঝে শীতের পোশাক বিলিয়ে দিচ্ছেন রাজমাতা আনাস্তাসিয়ার ব্যক্তিগত তহবিল। বিশেষ ব্যবস্থাপনায় প্রাসাদের বিশাল বিশাল পাতিলে রান্না করা খাবারও দুস্থদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই খাবার বিলানোর কাজটা করছেন স্বয়ং রাজমাতা আনাস্তাসিয়া।

আনাস্তাসিয়ার দু'পাশে দাঁড়িয়ে স্যাফিরা এবং নাওমি। তারাও আনাস্তাসিয়াকে খাবার বিলানোর কাজে সাহায্য করে যাচ্ছে। যদিও নাওমির মুখটা কিছুটা অন্ধকার দেখাচ্ছে। তবে এর কারণ হলো এ-ই দায়িত্বের জন্য সকাল সকাল তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলা হয়েছে। নাওমির মতে পৃথিবীর সকল কষ্ট একদিকে এবং শীতের সকাল জোর করে ঘুম থেকে তোলার কষ্ট আরেকদিকে।

যেহেতু রাজ পরিবারের সদস্যরা এখানে উপস্থিত তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশ কঠিন করেই জারি করা হয়েছে চারিদিকে। দক্ষ নব সেনা সদস্যরাও রাজমাতার নিরাপত্তার জন্য প্রহরীর দায়িত্বে নিযুক্ত। তাদের মাঝেই রয়েছে জোসেফ পুত্র ক্লাডিয়াস। যার অবাধ্য দৃষ্টি ঘুরেফিরে সাদা রঙের লম্বা ক্লক গায়ে জড়ানো প্রিন্সেসের পানে নিবদ্ধ। সে দূর হতেই লক্ষ্য করে, একটু পরপর প্রিন্সেস নাওমির চোখ কচলানো, হাই তোলা, ল্যাডি স্যাফিরার চোখ রাঙানিতে মুখটা কাচুমাচু করে ফেলা। দৃশ্যটা চমৎকার লাগে ক্লাডিয়াসের নিকট। শুধু এ-ই দৃশ্যটাই নয়, বরং প্রিন্সেস জড়িত সব ব্যাপারগুলোই খুব চমৎকার এবং আকর্ষণীয় হয়।

সারিবদ্ধ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধ মহিলার হাতে রাজমাতা আনাস্তাসিয়া খাবারের বাটিটা তুলে দিতেই বৃদ্ধা হেসে বলেন,

“ ঈশ্বর আপনাকে লম্বা আয়ু দান করুক রাজমাতা। “

আনাস্তাসিয়া মলিন হেসে বলে,

“ আমার জন্য নয় বরং আমার ছেলে এবং আপনাদের কাউন্টের জন্য প্রার্থনা করবেন। দীর্ঘায়ু যেনো ও পায়। সকল সফলতা যেনো ওর কদম ছুঁয়ে যায়। “

বৃদ্ধার পিছনে উপস্থিত এক রমণী স্পষ্ট শুনে আনাস্তাসিয়ার বলা কথাগুলো। তার চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। আদিখ্যেতা যত্তসব! বৃদ্ধা খাবার নিয়ে সরে যেতেই রমণীর মুখের ভাবমূর্তি মুহূর্তে বদলে যায়। সে হাসিমুখে এগিয়ে যায় সারির সম্মুখ শ্রেণির প্রজা হিসেবে। আনাস্তাসিয়া এক পলকের জন্য লক্ষ্য করে মেয়েটাকে। অতঃপর দৃষ্টি নামিয়ে নিয়ে সে খাবার বাড়তে বাড়তে হাসিমুখে প্রশ্ন করে,

“ বেশ সুন্দরী তো তুমি! চমৎকার দেখতে তোমার চোখজোড়া। নাম কি? “

রাজমাতা আনাস্তাসিয়ার কথা স্পষ্ট নাওমির কানে ভেসে আসে। সে আগ্রহী নয়নে চোখ তুলে তাকায়। সঙ্গে সঙ্গে তার চোখাচোখি হয় উক্ত সুন্দর চোখের মালিকানার সঙ্গে। নাওমি মনে মনে ভাবে, আসলেই মেয়েটা সুন্দর! রমণী বেশ স্বাভাবিক স্বরে রাজমাতার প্রশ্নের জবাব দেয়,

“ মেডুসা। আমার নাম মেডুসা। “

আনাস্তাসিয়া হেসে বলে,

“ সুন্দর নাম তো! “

রমণী ভালো করে লক্ষ্য করে আনাস্তাসিয়াকে। কতই বা হবে রাজমাতা আনাস্তাসিয়ার বয়স? খুব সম্ভবত চল্লিশ ছুঁই ছুঁই পর্যায়ে আছে। তবে মুখের লাবণ্য এখনো অটুট। কি চমৎকার নীল চোখ! সূক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আনাস্তাসিয়াকে পর্যবেক্ষণ করতে করতে হাতে খাবারের বাটিটা নেয় মেডুসা নামক রমণী। অতঃপর ইচ্ছে করেই সেটা হাত থেকে ফেলে দিয়ে চাপা স্বরে চেঁচিয়ে উঠে,

“ হায় ঈশ্বর! “

আনাস্তাসিয়া সহ সকলের মনযোগ আকস্মিক ঘটনায় সে-ই মেয়ের প্রতি স্থির হয়। রাজমাতা ব্যস্ত পায়ে এগিয়ে যায় মেয়েটার নিকট। সৈন্যরাও এগিয়ে যেতে নিলে তিনি চোখের ইশারায় থামতে বলে। গরম খাবার পায়ের উপর পড়ে পায়ের চামড়া বোধহয় কিছুটা জ্বলে গেলো সঙ্গে সঙ্গে। মেডুসা নামক মেয়েটা নিজের পা চেপে ধরে মাটিতে বসে পড়লো। রাজমাতা হওয়ার উপাধির তোয়াক্কা না করে আনাস্তাসিয়া মেয়েটার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পায়ের অবস্থাটা পরখ করে চেঁচিয়ে পানি চায়। মেডুসা ব্যস্ত স্বরে বলে,

“ আমি ঠিক আছি রাজমাতা। আপনি ব্যস্ত হবেন না। উঠুন দয়া করে। “

আনাস্তাসিয়া উঠলো না। ততক্ষণে এক দাসী একটা মাটির পাত্রে ঠান্ডা পানি নিয়ে হাজির হলো। আনাস্তাসিয়া সে-ই পানি মেয়েটার পায়ের লাল হয়ে আসা অংশে পানিটুকু ঢেলে দিতেই যেনো জ্বলুনির পরিমাণ কিছু সময়ের জন্য ক্ষানিকটা কমে আসলো। মেডুসা নামক মেয়েটা মুখ কালো করে বলে,

“ আমাকে ক্ষমা করুন রাজমাতা। ইচ্ছে করে ফেলি নি। ব্যক্তিগত দুঃশ্চিন্তায় অন্যমনস্ক হয়ে পড়ায় খেয়াল করি নি। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য আমি খুবই লজ্জিত। আমার জন্য কি আপনি দন্ড ঘোষণা করবেন? “

আনাস্তাসিয়া বিচক্ষণ দৃষ্টি মেলে দেখলো মেয়েটার ভীত মুখ। সে চোখের ইশারায় একজন দাসীকে ডেকে বললো,

“ ওকে সাহায্য করো উঠে দাঁড়াতে। আমার সঙ্গে নিয়ে চলো। প্রাসাদের চিকিৎসালয়ে ওর পায়ের জখমটা একবার পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া হবে। “

এই অনাকাঙ্ক্ষিত সেবাটুকু পেতেই যেনো মেডুসা অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো। ব্যস্ত গলায় বললো,

“ ওসবের প্রয়োজন নেই রাজমাতা। কিচ্ছু হয় নি। খুব গভীর ভাবে পুড়ে নি। “

কথাটুকু বলতে বলতেও মেয়েটার মুখে ব্যথাতুর ভাব ফুটে উঠে। আনাস্তাসিয়া তা লক্ষ্য করে। নিজের শব্দ খরচ না করে দাসীকে কিছু একটা ইশারা দিয়ে প্রাসাদের ভেতর পথে হাঁটা ধরে। দাসীটা রাজমাতার সুপ্ত ইশারাটুকু আমলে নিয়েই সঙ্গে সঙ্গে মেডুসা নামক মেয়েটাকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করে। অতঃপর তার হাত ধরে রাজমাতার পিছু পিছু পথ অনুসরণ শুরু করে। স্যাফিরা আবারও খাবার এবং বস্ত্র বিতরণের কার্যটুকু বহাল রাখে। তবে নাওমির মনযোগ তখনো মেডুসা নামক আহত মেয়েটির যাওয়ার পানে নিবদ্ধ। মেয়েটা বেশ সুন্দরী তবে তাদের মতো নয়। গায়ের রঙটা তাদের মতো শেতাঙ্গ নয় বরং উজ্জ্বল চন্দনের মতো কিছুটা। মুখের আদলটাও কেমন তীক্ষ্ণ! রোমানিয়াতে এরকম মুখ আদলের মেয়ে নাওমি আগ কখনো দেখে নি।

__________

চিকিৎসালয়ে যাওয়ার পথে প্রাসাদের প্রতিটা ইট, পথ, প্রাচীর সূক্ষ্ণ নজরে পরখ করে নিতে এক জোড়া আগ্রহী দৃষ্টি। শরীরের প্রতিটি লোমকূপে তার বয়ে যাচ্ছে অদ্ভুৎ এক অনুভূতি। অজানা সে-ই অনুভূতির ব্যাখ্যাটা উহ্য রেখে ধীর কদমে এগিয়ে যায় সে-ই রমণী।

চিকিৎসালয়ে প্রবেশ করতেই আনাস্তাসিয়াকে দেখে ব্যস্ত ভঙ্গিতে এগিয়ে আসে প্রাসাদের চিকিৎসক দল। রাজমাতা আনাস্তাসিয়াকে সম্মান দেখিয়ে তারা চিন্তিত স্বরে জানতে চায়,

“ আপনি ঠিক আছেন রাজমাতা? শারীরিক কোনো অসুবিধা অনুভব করছেন? দাসী পাঠিয়ে খবর দিতেন, আমরা হাজির হয়ে যেতাম। “

আনাস্তাসিয়া সকলের চিন্তাকে পাশ কাটিয়ে নিজের পিছনে দাসীর সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটাকে দেখিয়ে বলে উঠে,

“ ওর পায়ে গরম খাবার পড়েছে। চামড়া বোধহয় জ্বলে গিয়েছে। চিকিৎসার জন্য যা যা প্রয়োজনীয় সব করুন। “

আনাস্তাসিয়ার আদেশ বাক্য কর্ণকুহরে প্রবেশ করতেই চিকিৎসকরা ব্যস্ত হয়ে পড়লো। মেডুসাকে টেনে একটা রোগীর বিছানায় বসিয়ে দিয়ে তার পায়ের অবস্থা দেখে সে-ই অনুযায়ী প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

আনাস্তাসিয়া শিয়রে দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করে সবকিছু। মেয়েটা কেমন চুপচাপ ভাবনায় ডুবে আছে মনে হচ্ছে। স্বভাবসলুভ নিজ চিন্তার জায়গা হতে আনাস্তাসিয়া প্রশ্ন করে বসে,

“ অন্যমনস্ক হয়ে পায়ে গরম খাবার ফেলে দেওয়ার পিছনে তোমার ব্যক্তিগত দুঃশ্চিন্তার কারণটা কি জানতে পারি? “

মেডুসা সঙ্গে সঙ্গে যেনো গভীর ভাবনা থেকে বেরিয়ে এলো। সে মাথা নত করে লজ্জিত স্বরে বলে উঠে,

“ আপনাকে এই গরীবের সমস্যার কথা জানিয়ে বিরক্ত করতে চাচ্ছি না রাজমাতা। “

আনাস্তাসিয়া এবার আরেকটু আগ্রহী হয়ে বলে,

“ কাউন্টের মা হওয়ার দরুণ কেবল রাজমাতা নই আমি। এই পদবীর সঙ্গে বেশ কিছু দায়িত্বও আমার উপর বর্তায়। তোমার অসুবিধার কথা আমাকে জানাও, আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করবো সাহায্য করার। “

মেয়েটা এবার বলে উঠে,

“ আমার বাবা মারা গিয়েছেন বেশ কিছু দিন হলো। বাড়িতে বৃদ্ধ দাদী আছেন। সংসারের সম্পূর্ণ দায়িত্বটা এখন আমার উপর। পুরুষহীন পরিবারের রুজিরোজগার থাকে না বললেই চলে। অনভিজ্ঞ হওয়ায় এখনো কোনো কাজের ব্যবস্থাও করে উঠতে পারি নি। “

আনাস্তাসিয়ার মনটা বুঝি কিঞ্চিৎ নরম হয়ে গেলো। সে মলিন মুখে মেয়েটার মুখ লক্ষ্য করে। চোখ গুলো কেমন ভাসা ভাসা! দেখে মনে হচ্ছে এই বুঝি চোখ ফেটে জল গড়িয়ে পড়বে। আনাস্তাসিয়া সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠে,

“ কি কি কাজ জানো তুমি? “

রমণী সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ত গলায় এক এক করে বেশ কিছু আয়ত্ত্বে থাকা কাজের তালিকা জানায়। তার চোখের মণিতে ফুটে উঠেছে আশার আলো। আনাস্তাসিয়া সবটুকু শুনে ঠান্ডা গলায় একজন দাসীকে ডেকে বলে,

“ প্রাসাদের যেকোনো ফাঁকা আসনের দাসীর দায়িত্বটুকু ওকে বুঝিয়ে দিবে। শুরুর দিকে কাজ এবং প্রাসাদের রীতিনীতিও ওকে জানিয়ে দিবে। আমি চললাম। “

আদেশ বাক্যটুকু শেষ করে আনাস্তাসিয়া মেডুসার দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,

“ খেয়াল রেখো নিজের। “

রাজমাতা প্রস্থান করতেই দরজার পানে তাকিয়ে থাকে মেডুসা। ঠোঁটের কোণে তার মিহি রহস্যময়ী হাসি ফুটে উঠেছে। ধপ করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সে নিজের পায়ের দিকে তাকায়। লাল চামড়ার উপর ইতিমধ্যে ঠান্ডা জাতীয় একটা প্রলেপ মেখে দেওয়া হয়েছে। আরামে তার মন জুড়িয়ে যায়।

__________

বিশাল কক্ষের দরজা খুলে যেতেই কক্ষে প্রবেশ করে কাউন্ট ইয়ান আলবার্ট। ধীর কদমে অগ্রসর হয় বারান্দার দিকে। মৃদু ঠান্ডা বাতাসে মুহূর্তেই তার দেহ শীতল হয়ে যায়। বারান্দার মধ্যিখানে থাকা ডিভানটায় ক্লান্ত দেহটা এলিয়ে বসে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে আকাশ পানে। নিশুতি আকাশের বুকটাকে রঙ ছড়িয়ে আলোকিত করে তুলছে আতশবাজি।

রাজ্যে আতশবাজি দিয়ে সৃষ্টি হওয়া এই উৎসব উৎসব আমেজটার পিছনে মুখ্য কারণ হলো আজ কাউন্ট ইয়ান আলবার্টের জন্মদিন। যদিও জন্মদিন উৎযাপনের নামে এ-ই বাড়াবাড়ি আয়োজনের প্রতি বিন্দু মাত্র আগ্রহ ইয়ানের নেই কিন্তু নিজের মায়ের শখকে নজর আন্দাজ করাও সম্ভব নয় তার পক্ষে। আনাস্তাসিয়া প্রতিবছর ছেলের জন্মের এই দিনটায় রাজ্যে বিভিন্ন ধরনের আয়োজন করে। সারাদিন সে-ই আয়োজনে রমরমা পরিবেশে মাতিয়ে রাখে নিজেকে। কারণটা ইয়ান কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারে। এ-ই দিনটায় কেবল ইয়ান পৃথিবীতে আসে নি বরং কাউন্ট রিকার্ডোর অস্তিত্বও নিঃশেষ হয়েছিলো। সে-ই কষ্টুটুকু ভুলে থাকার জন্যই আনাস্তাসিয়ার এতো আয়োজন।

ইয়ান ছোট্ট করে একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে মাথাটা পিছনে এলিয়ে দিয়ে চোখ বুজে। কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে যায় আপন ভুবনে। যেখানে কোনো শোরগোল নেই, কোনো হৈ-হুল্লোড় নেই, কোনো জনমানব নেই। হুট করে অন্ধকার চিরে বদ্ধ চোখের কপাটে ভেসে উঠে একটা অর্থবহ দৃশ্য। অথৈ সমুদ্রে ঝড় উঠেছে। সাগরের পানিগুলো কেমন ভয়ংকর দানবের রূপ নিয়েছে। উত্তাল ঢেউ গ্রাস করে নিতে চাইছে সর্বস্ব। এক জোড়া নারী হাত সমুদ্রের ভেতর থেকে সাহায্যের আশায় হাত তুলে ছটফট করছে।

এক ঝলক দৃশ্যটা চোখের সামনে ভেসে উঠে আবারও চারিদিকটা আঁধারে ডুবে গেলো। ইয়ান চকিতে দু চোখ মেলে তাকায়। তার কপালের ডান পাশ বেয়ে বিন্দু বিন্দু ঘামের কণা গড়িয়ে পড়ছে। স্বপ্নের মতো এই সামান্য দৃশ্যটুকু ইঙ্গিত করছে একটা মানুষের দিকে। মাহশা! কৃষ্ণ সাগরের বুকে হারিয়ে যাওয়া মাহশা! সমুদ্রের অতলে যার বাস এখন সে-ই মেয়েটা!

ইয়ান বড়ো বড়ো দুটো নিঃশ্বাস ছাড়ে। কিছুটা অস্থির লাগছে তার। ডিভান ছেড়ে উঠে কক্ষে ফিরে যায় সে। গায়ের পোশাক বদলে একটা সাধারণ প্রজার বেশভূষা ধারণ করে সে। এ-ই প্রাসাদের চার দেয়ালের ভেতর হুট করেই তার দম বন্ধ হয়ে আসছে। তা-ই মুক্ত বাতাসের আশায় সে খাপে তলোয়ার ভরে বেরিয়ে পড়ে নিজ কক্ষ থেকে। সঙ্গে করে কোনো সৈন্য কিংবা প্রহরীকে নেয় না। প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে ঘোড়ার পিঠে চেপে বসে সে। নিজেকে শান্ত করতে একা বেরিয়ে যায় প্রাসাদের ফটক টপকে।

নিজ বারান্দা হতে উক্ত দৃশ্যখানা দেখে নাওমি। ভ্রু জোড়া কুচকে আসে তার। এতো রাতে ভাই এভাবে বেশভূষা বদলে কোথায় যাচ্ছে? চট করে নাওমির মাথায় একটাই জায়গার নাম আসে। ট্রান্সেলভেনিয়া!

চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন