ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়তিথি

১৪তম পর্ব

লেখক: নাফিসা তাবাসসুম খান

প্রণয়তিথি

লেখনীতে : নাফিসা তাবাসসুম খান

১৪.

খুব সাহস সঞ্চয় করে আজ নিজ বাবাকে কিছু প্রশ্ন করার উদ্দেশ্যে তার কক্ষে উপস্থিত হয়েছে ক্যামেলিয়া। গোটা সপ্তাহ প্রতিটা প্রহর সে-কি এক অস্থিরতার মাঝে কাটিয়েছে তা কেবল ক্যামেলিয়াই জানে। ও-ই অদ্ভুৎ অদৃশ্য সত্তাটা বিগত দিনগুলোতে আর তার আশেপাশে ভীড়ে নি। বাবার জারি করা কঠিন নিরাপত্তা জাল পেরিয়ে ক্যামেলিয়ারও নিজের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা সম্ভব হয় নি। তা-ই সকল উত্তর খুঁজতে সরাসরি আজ সে বাবাকেই বেছে নিল।

আরোণ তখন সবে বাহির থেকে ফিরে নিজ কামরার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলো। দু চোখের পাতা বদ্ধ তার। কাধে অনুভব করতে পাচ্ছে কারো শীতল মাথার ভরখানি। শীতল ছোঁয়াটা তার একহাতও ধীরে ধীরে জড়িয়ে ধরছে। পরিচিত ক্যামেলিয়া ফুলের সুবাসে যেনো চারিপাশটা মৌ মৌ করছে। আরোণের ভ্রম কাটে একটা কোমল স্বরের ডাকে। চোখ মেলে ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে ফিরে তাকাতেই দেখতে পায় ক্যামেলিয়া দাঁড়িয়ে।

আরোণ টের পায় এতক্ষণ অনুভব করা শীতল ছোঁয়া এবং ক্যামেলিয়া ফুলের সুবাসটা হুট করেই গায়েব হয়ে গিয়েছে। সে নিজের ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে এসে এক হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে,

“ হ্যাঁ, জান। এসো। ঘুমাও নি এখনো? “

আহ্লাদ এবং প্রশ্রয়ের দেখা মিলতেই ক্যামেলিয়া এগিয়ে এলো। বাবাকে জড়িয়ে ধরে বুকে মাথা গুজলো। গল্পের ছলে বলে উঠে,

“ ঘুম আসছিলো না, তা-ই তোমার সঙ্গে গল্প করতে এসেছি। “

আরোণ হেসে বলে,

“ রূপকথার গল্প তো তোমার পছন্দ নয়। কি গল্প শুনাই বলো তো? “

সুযোগ বুঝে ক্যামেলিয়া প্রশ্ন করে বসে,

“ বাবা, তোমার পরিবারে আমি কিংবা মা ব্যতীত আর কেউ কখনো ছিলো না? মা-বাবা, ভাইবোন, আত্মীয়-স্বজন? কেউ-ই কি ছিলো না? “

আচমকা মেয়ের মুখে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রশ্ন শুনে আরোণের মুখের হাসি মিলিয়ে যায়। সে বুঝে উঠতে পারে না হুট করে এই প্রশ্ন করার পিছনে কারণটা কি? কি কারণে ক্যামেলিয়ার মাথায় হুট করে এমন একটা ব্যাপার এলো? আরোণ নিজেকে সামলে নিয়ে জবাব দেয়,

“ হু, যখন মানুষ ছিলাম তখন ছিলো। অতঃপর আমি নেকড়ে হই। নেকড়ে মানব আরোণের একমাত্র পরিবার তুমি এবং তোমার মা। “

ক্যামেলিয়া কিছুটা রয়েসয়ে প্রশ্ন করে,

“ তোমার নেকড়ে হওয়ার ঘটনার সূত্রপাত কিভাবে হয়েছে বাবা? কি কারণে এরকম একটা অভিশপ্ত জীবন পাড় করতে হচ্ছে তোমার? ঠিক কি কারণে এই জীবনচক্রের সূত্রপাত ঘটেছে আমি জানতে চাই। “

শেষের কথাটুকু বেশ জোর দিয়ে বলে ক্যামেলিয়া। আরোণ কিছুক্ষণ নির্বিকার তাকিয়ে থাকে মেয়ের দিকে। অতঃপর ক্যামেলিয়াকে দু'হাতের বন্ধন থেকে মুক্ত করে বারান্দার রেলিঙের দিকে অগ্রসর হয়ে শীতল স্বরে বলে,

“ নিজ কামরায় ফিরে যাও ক্যামেলিয়া। “

ক্যামেলিয়া অবাক হয়। বাবা স্পষ্ট তার প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। ক্যামেলিয়া ব্যস্ত স্বরে বলে,

“ কিন্তু বাবা… “

আরোণ সম্পূর্ণ কথা শেষ করতে না দিয়ে মাঝপথে শীতল স্বরে বলে উঠে,

“ যেতে বলেছি ক্যামেলিয়া। “

ক্যামেলিয়া আর এক মুহূর্ত দাঁড়ায় না সেখানে। চুপচাপ কামরা ছেড়ে বেরিয়ে যায়। আরোণের কপালে তখন চিন্তার ভাজ। ক্যামেলিয়ার এ-ই কৌতূহল অহেতুক নয় তা সে বেশ আন্দাজ করতে পারছে। কিন্তু ঠিক কি কারণে এই কৌতূহল জেগেছে তা আরোণের খুঁজে বের করতে হবে।

__________

ট্রান্সেলভেনিয়ার উপকূলে কৃষ্ণ সাগরের তীরে চিকচিক করা বালির বুকে বসে অপেক্ষার প্রহর গুনছে ছদ্মবেশী তুরস্কের রাজকুমারী জেইলান। রাতের চাঁদের আলোয় অথৈ সমুদ্রের পানে তার দৃষ্টি স্থির। চেহারায় বিন্দুমাত্র দুঃশ্চিন্তার ছাপ নেই তার। এ-ই মুহূর্তে সে রোমানিয়ার সবথেকে সুরক্ষিত জায়গায় অবস্থান করছে। যেখানটায় কোনো জনমানবের আনাগোনা নেই। আনাগোনা নেই বললে ভুল হবে। ঠিক এই জায়গাটাতেই তো এন্ড্রু নামক ওই যুবকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিলো তার।

এন্ড্রুর কথা মনে পড়তেই জেইলান কিছুটা অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে। ও-ই ছেলের কানে কি জাহাজে জলদস্যুদের হামলা এবং আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনাটুকু পৌঁছেছে? এন্ড্রু নামক ও-ই ছেলের কাছে কি মাহশা নামধারী মানুষটা বর্তমানে মৃত? জেইলানের মনে পড়ে যায় সেদিনকার ঘটনা। জেইলানকে জাহাজে তুলে দিয়ে সকলে প্রস্থান করতেই কোথা থেকে আব্দুল এসে উপস্থিত হয়। আব্দুলের সহায়তা নিয়ে জেইলান লোক চক্ষু এড়িয়ে জাহাজ থেকে পালিয়ে যায়। বহু কাঠখড় পেরিয়ে আব্দুলকে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছায় ট্রান্সেলভেনিয়াতে। দু তিনটে দিন গা ঢাকা দিয়ে এ-ই জঙ্গলেই পাড় করে সে। হাতের জখমটাকেও সময় দেয় সেড়ে উঠার। সে-ই সুযোগে তার ভাইয়ের পাঠানো সাহায্যকারী ব্যক্তি আব্দুলের সঙ্গে মিলে সে প্রতিশোধের খেলার ছক কষতে থাকে।

সু কৌশলে আব্দুলের জোগাড় করে আনা তথ্যে জেইলান জানতে পারে যে তিন চারদিনের মধ্যেই কাউন্টের জন্মদিন উপলক্ষে রাজ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এই সুযোগ জেইলান হাতছাড়া করে না। সাধারণ প্রজার বেশ ধরে পৌঁছে যায় রাজপ্রাসাদে। ছলনা করে মূর্খ রাজমাতার চোখে ধূলো ছিটিয়ে প্রবেশ করে রাজপ্রাসাদের অন্তরীক্ষে। কেবল তা-ই নয় বরং মেডুসা পরিচয় দিয়ে নিজের বানানো গল্প শুনিয়ে রাজপ্রাসাদে একটা কাজও জুটিয়ে ফেলেছে সে। এখন আর তাকে কে ঠেকায়? যে-ই রাজপ্রাসাদের ভেতর সে পা রাখতে চলেছে সেই প্রাসাদের হৃদয় চিরে যদি সে টুকরো টুকরো না করেছে তবে তার নামও জেইলান নয়।

আত্মঅহংকারে জেইলানের মুখে হাসি ফুটে উঠতেই হুট করে তার চোখ যায় তার হাতের বাহুর পানে। কি ভেবে যেনো গায়ের শালটা কিছুটা ঢিলে করে হাতের বাহুখানি সে উন্মুক্ত করে। কোমল ত্বকে ওইটুকু কাটা দাগটা স্পষ্ট ফুটে আছে। ঘা’টা যদিও এখন প্রায় শুকানোর পথে। সেদিন জাহাজে আরোহন করার পূর্বে এন্ড্রুর তরফ হতে যে-ই থলেটা তাকে দেওয়া হয়েছিলো সেটার মধ্যে প্রাথমিক পট্টির জিনিসপত্র এবং কিছু ভেষজ ওষুধের জোগান ছিল। ও-ই লোকটা যে কিছুটা হলেও মাহশাকে নিয়ে চিন্তা করতো তারই প্রমাণ বহন করে ও-ই অর্থবহ জিনিস সামগ্রী। বিগত দিনগুলোতে এন্ড্রুর দেওয়া সে-ই উপহারটা বেশ কাজে লেগেছে জেইলানের।

অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত জেইলান এবার উঠে দাঁড়ায়। জরুরী কোনো ব্যাপারে কথা বলার জন্য আব্দুল তাকে এই জায়গাটায় অপেক্ষা করতে বলেছিলো। আব্দুলের কথা মতো সময়মতো উপস্থিত হয়ে এখানটায় অপেক্ষা করছে জেইলান। তবে আব্দুলের এখনো আসার নামগন্ধ নেই। এরকম সময় জ্ঞানহীনতার ব্যাপারটা জেইলানের মোটেও পছন্দ হয় না।

হুট করেই জঙ্গলের ভেতর হতে হ্রেষাধ্বনি ভেসে আসে। জেইলান চকিতে পিছনে ফিরে তাকায়। এইমাত্র ঘোড়ার শব্দ শুনতে পেলো না সে? হ্যাঁ, তাই তো! এদিকেই অগ্রসর হচ্ছে মনে হচ্ছে। ঘোড়ায় করে কে আসছে? আব্দুল? কিন্তু সে এখানে কোথা থেকে ঘোড়া পাবে? জেইলান মুহূর্ত অপচয় না করে দ্রুত সমুদ্র তীর হতে জঙ্গলের অন্যপাশে দৌড় লাগায়। চোখের পলকে লুকিয়ে পড়ে একটা বিশাল গাছের আড়ালে। তাড়াহুড়ো করে দৌড়ানোর ফলে বুকের ভেতরটা কেমন ঢিপঢিপ স্বরে যেনো হাতুড়ি পেটা করছে। সেদিকে তোয়াক্কা না করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাহশা গাছের আড়াল হতে উঁকি দেয় সম্মুখ পানের দৃশ্যটুকু দেখে নিতে।

একটা কালো রঙের ঘোড়া টগবগ করে কেমন সমুদ্রের তীরে এসে স্থির হলো। ঘোড়ার পিঠে বসে আছে এক যুবক। অন্যদিকে ফিরে থাকায় এবং কালো কাপড় মোড়ানো থাকায় মুখটা এখনো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। জেইলানের দৃষ্টি সরু হয়। এই জনমানবশূন্য শহরে হঠাৎ এই আগুন্তকের আগমনের পিছনে কারণ কি হতে পারে?

জেইলানের ভ্রান্ত ধারণা মুহূর্তেই হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। যুবকটা ঘোড়ার পিঠ হতে নেমে দাঁড়াতেই দূর হতে উন্মুক্ত চোখ জোড়া জেইলানের নজরে আসে। জেইলান চমকায়। অস্ফুটে উচ্চারণ করে,

“ এন্ড্রু। “

মুখে প্যাচানো কাপড়টা খুলে হাতে পেচিয়ে নেয় এন্ড্রু। ধীর কদমে এগিয়ে যায় সমুদ্রের দিকে। জেইলান নিজেকে যথাসম্ভব গাছের আড়ালে রেখে বিস্মিত নজর মেলে দেখতে থাকে এন্ড্রুকে। কি করতে চাইছে এই ছেলে? এখানে আসার পিছনে উদ্দেশ্যটা কি? সমুদ্রের দিকে এভাবে উদ্ভ্রান্তের মতো দিকশূন্য হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে কেন? আত্মহত্যার মতো মহাপাপের উদ্দেশ্যে নাকি?

জেইলান অস্থির হয়ে উঠে। চোখের সামনে একটা মানুষকে মরতে দেখবে সে? বিবেকের তাড়নায় এক কদম এগিয়ে যেতে নিয়েও হুট করে থেমে যায় সে। সে কোনো এই ছেলেকে বাঁচাতে যাবে? এতে তার লাভটা কোথায়? উল্টো এন্ড্রুর হাজারটা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে তাকে। এ-ই মুহূর্তে এন্ড্রুর প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়া এবং বাঘের গুহায় আশ্রয় নেওয়া একই সমতুল্য ব্যাপার। জেইলান কোনো মূল্যে নিজের প্রতিশোধের পথে কোনো বাধার সম্মুখীন হতে ইচ্ছুক নয়। তাই সে আর এগিয়ে যায় না। বরং গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে লুকিয়ে দেখতে থাকে সম্পূর্ণ দৃশ্য।

জেইলানকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করে দিয়ে এন্ড্রু সাগরে ডুব দিলো না। কেবল পা ছুঁই ছুঁই সমুদ্রের সংস্পর্শে এসে এক হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো। আলতো হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দিলো সমুদ্রের পানি। দু চোখ বুজে নিলো নিজের। যেনো সমুদ্রের জলে হারিয়ে মিশে যাওয়ার চেষ্টা। জেইলান নিষ্প্রাণ দৃষ্টি মেলে দেখে সবটুকু দৃশ্য। এন্ড্রুর ট্রান্সেলভেনিয়ায় আসার পিছনে কারণের থেকেও এই মুহূর্তে তার কাছে মুখ্য প্রশ্ন হলো এন্ড্রু এভাবে সমুদ্রের জল ছুঁইছে কেন? কি আছে এই কৃষ্ণ সাগরে? এন্ড্রুও কি কাউকে হারিয়েছে এই সমুদ্রের বুকে? সেই অজ্ঞাত কেউটা কি মাহশা নামধারী একটা প্রতারক মেয়ে?

__________

গহীন জঙ্গলের বুকে ঘোড়ার পিঠে চড়ে এগিয়ে যাচ্ছে এক রমণী। অবাধ্য চুলগুলো বাতাসের প্রকোপে খুব উড়ছে। দৃষ্টি তার সচেতন। চারিপাশটায় চোখ বুলাতে বুলাতে ধীরে ধীরে ঘোড়ার লাগাম টেনে এগোচ্ছে সে। রাজ্যের এই নিষিদ্ধ শহরকে ছোটবেলা হতে মৃত্যুপুরী নামে জেনে এসেছে নাওমি। কতো ঘটনা শুনেছে এই শহরকে ঘিরে! প্লেগ রোগ, মহামারী, অভিশাপ, রক্তচোষাদের বসবাস, কাউন্ট রিকার্ডোর মৃত্যু এবং সবশেষে তার ভাই কাউন্ট ইয়ান আলবার্টের জন্ম। এই এক শহরকে ঘিরে কতো তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটে গিয়েছে ইতিহাসের পাতায়!

প্রথমবারের মতো রাজ্যের এই নিষিদ্ধ সীমানায় প্রবেশ করে নাওমি অদ্ভুৎ শিহরণ অনুভব করছে। জনমানবশূন্য হওয়ায় বোধহয় পুরো শহরটা একটা গহীন জঙ্গলে রূপান্তর হয়েছে। দেখে বুঝার অবকাশ নেই যে শতাব্দী পূর্বে এই শহরেই মানুষের বসতি ছিলো!

একহাতের মুঠোয় থাকা লণ্ঠনের আলোয় এই ভুতুড়ে পরিবেশটা পরখ করতে ব্যস্ত নাওমি মনযোগী হয়, সে যাকে অনুসরণ করতে করতে এখানটায় পৌঁছালো তার খোঁজ করতে। চারিদিকে কোথাও ভাইয়ের হদিস নেই। প্রাসাদ হতে ওভাবে ভাইকে বেরিয়ে যেতে দেখে নাওমিও আগ্রহটা দমন করতে না পেরে সবার দৃষ্টির অগোচরে ঘোড়া নিয়ে ইয়ানের পিছু করে। মোটামুটি পুরোটা পথ ইয়ানকে ঠিকঠাক ভাবে অনুসরণ করলেও, ট্রান্সেলভেনিয়ার সীমান্তে এসে সে ভাইকে হারিয়ে ফেলে। ঘোড়া নিয়ে সে সচক্ষে ইয়ানকে এই নিষিদ্ধ সীমানায় প্রবেশ করতে দেখেছে। তবে কোন দিকটায় গিয়েছে তা-ই এখন খুঁজে পাচ্ছে না নাওমি!

আরো কিছুটা এগিয়ে যেতেই হুট করে নাওমি লক্ষ্য করে সামনে যাওয়ার পথটা বন্ধ। বিশাল একটা গাছ ভেঙে কেমন পথরোধ করে রেখেছে। পথিমধ্যে সম্মুখীন হওয়া এই বাধাটা কি প্রকৃতির এঁকে দেওয়া সীমারেখা নাকি কোনো মনুষ্যের ঘটানো ইচ্ছাকৃত চাল তা বুঝতে পারে না নাওমি। সে কৌতূহল বশত লণ্ঠন হাতে ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে পড়ে। নিজের কোমরে থাকা কাপড়ের ভাজ হতে একটা ধারালো খঞ্জর বের করে হাতে নেয়। সুকৌশলে বিশাল দেহী গাছটাকে টপকে পৌঁছে যায় অপর প্রান্তে।

খঞ্জরের সাহায্যে গাছের ডালপালা কেটে কেটে এগিয়ে যেতে থাকে নাওমি। আচমকা সে কিছু একটা দেখে থমকে দাঁড়ায়। লণ্ঠন কিছুটা উঁচু করে ধরে মাথা তুলে দেখে সামনে থাকা বিশাল দূর্গকে। চাঁদের আলোয় আঁধারে তলিয়ে থাকা একটা ভূতূড়ে দূর্গ। দূর্গের প্রধান লোহার ফটক জড়িয়ে ঝুলে আছে বুনো লতাপাতা। এটাই কি সে-ই তুষ দূর্গ?

নিজের অজান্তেই দু কদম পিছিয়ে যেতেই শক্ত কিছু একটার সঙ্গে গিয়ে ঠেকে নাওমির পিঠ। কানের কাছে ভেসে আসে একটা রাশভারী পুরুষ স্বর,

“ কে তুমি, মেয়ে? “

নাওমির প্রতিটা লোমকূপে শীতল হাওয়া বয়ে যায়। সে কি ঠিক শুনলো? কোনো মানুষ তাকে এ-ই অর্থবহ প্রশ্নটা করেছে? জনমানবহীন এই ট্রান্সেলভেনিয়ায় মানুষ আছে? মানুষ নাকি কাউন্ট রিকার্ডোর অতৃপ্ত আত্মা এটা? অবান্তর ভয়ের মাত্রাটা আকাশচুম্বী হতেই নাওমি চোখ খিচে বন্ধ করে একটা গগনবিদারী চিৎকার দিয়ে উঠে,

“ ঈশ্বর রক্ষা ক… “

চিৎকার বাক্য সম্পন্ন হওয়ার পূর্বেই একটা রুক্ষ হাত নাওমির মুখটা পিছন থেকে চেপে ধরলো। নাওমির হাত ছিটকে পড়ে গেলো জ্বলন্ত লণ্ঠনটা। কানের কাছে গম্ভীর স্বরটা হুমকি ছুড়ে দিয়ে বললো,

“ একটাও শব্দ করলে খুন করে সমুদ্রে ভাসিয়ে দিবো। “

চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন