প্রণয়তিথি
লেখনীতে : নাফিসা তাবাসসুম খান
১৭.
তুলতুলে শরীর জুড়ে কিছু একটার বিচরণ অনুভূত হতেই নাওমির জ্ঞান ফিরে আসতে শুরু করলো। পিটপিট করে চোখ মেলে তাকায় সে। প্রথম কিছু সময় তার মস্তিষ্কটা ফাঁকা অনুভব হয়। মনে করে উঠতে পারে না কোনো কিছু। জ্ঞান হারানোর পূর্বের সম্পূর্ণ চিত্র সম্পর্কে যেনো বেমালুম সে!
অতঃপর হুট করেই তার চোখের সামনে ভেসে উঠে গতরাতের দৃশ্যচিত্র। মনে পড়ে যায় সম্পূর্ণ ঘটনা। নাওমি সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্য করে নিজের বর্তমান স্থিতি। মুখটা এখনো ওই অসভ্য বর্বরের কাপড় দিয়ে বাধা। হাত আর পা জোড়া! নাওমি লক্ষ্য করে তার হাত এবং পা জং ধরে যাওয়া লোহার শিকল জাতীয় বস্তু দিয়ে প্যাঁচানো। কি ভয়ানক পরিস্থিতি!
হাত, পা এবং মুখ বন্ধ পরিস্থিতিতে আটকে থাকার কারণে নাওমি চেয়েও চেঁচাতে পারলো না। রাগের চটে নিজের ক্রোধটুকুও জাহির করতে পারলো না। উল্টো মুহূর্তের মাঝে নাওমি টের পায় তার শরীর জুড়ে কিছু একটা বিচরণ করছে। মাথা কিছুটা তুলে নিজের দিকে ভালো করে তাকাতেই সে দেখতে পায় একটা মাকড়সা তার বাম পায়ের তালু বেয়ে ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠছে।
নাওমি মৃদু আতংকিত হয়। এ কি হালে আছে সে! দাসীদের পরিচালনায় প্রাকৃতিক সামগ্রী দিয়ে পরিচর্যা করে ত্বকে কি-না পোকামাকড় হেঁটে বেড়াচ্ছে! নাওমি পা নাড়িয়ে মাকড়সাটাকে নিজের শরীর থেকে ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু এতে খুব একটা লাভ হয় না। বেহায়া মাকড়সা নাওমির চামড়া আঁকড়ে ধরে নিজ জায়গায় অনড়।
নাওমি বাধ্য হয়ে বাধা হাত পা নিয়েই বিছানায় গড়াগড়ি খেতে খেতে মাকড়সার সঙ্গে একপ্রকার যুদ্ধ লাগিয়ে দেয়। যুদ্ধের এক পর্যায়ে বেখেয়াল বশত মাহশা ধাপ করে বিছানা থেকে সোজা মেঝেতে পড়ে যায়। ঠিক সে-ই মুহূর্তে কক্ষের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে ছদ্মবেশী যুবরাজ বেহজাদ। কক্ষে প্রবেশ করেই এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত একটা দৃশ্য দেখে সে দরজার ওখানটাতেই স্থির দাঁড়িয়ে পড়ে। নাওমি তখন শক্ত মেঝেতে পড়ে কোমরে পাওয়া চটের আঘাতে উউউ জাতীয় শব্দ করে চাপা আর্তনাদ করে যাচ্ছে।
বেহজাদের সমান্তরাল কপাল সংকুচিত হয়। সে বিরক্তিমাখা স্বরে বলে উঠে,
“ মেঝেতে গড়াগড়ি খাওয়ার ব্যামো আছে নাকি? “
তীব্র কোমর ব্যথার মাঝেও নাওমি অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করে। মনে মনে ছুড়তে থাকে জীবনের শোনা সকল গালি। একবার খালি তার হাতটা মুক্ত করা হোক, সে এ-ই খচ্চরকে নিজ হাতে খুন করবে।
বেহজাদ এগিয়ে এসে নাওমির সামনে এক হাঁটু গেড়ে বসে। সচেতন দৃষ্টি মেলে নাওমিকে পরখ করে নেয়। এ-ই ঠান্ডা আবহাওয়াতেও ঘামছে এই মেয়ে। মুখভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নেওয়ার অভাবে এখুনি বুঝি দম ফুরিয়ে পটল তুলবে। কিন্তু এতো সহজে যে এই সোনার হাঁসকে মরতে দেওয়া যাবে না। আলবার্টদের নাচাতে এই হাঁসকে জীবিত রাখতে হবে বেহজাদের। তাই সে বিরক্তি মুখে এক হাত বাড়িয়ে নাওমির মুখের কাপড়টা একটানে খুলে ফেলে।
মুক্ত বাতাসে শান্তিতে এক দন্ড নিঃশ্বাস নেওয়ার পূর্বেই নাওমি সম্পূর্ণ তুষ দূর্গ কাঁপিয়ে ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠে। উচ্চস্বরে করা আর্তনাদে বেহজাদ নিজের কান চেপে ধরতে বাধ্য হয়। মানুষ নাকি খ্যাকশিয়াল এটা? এভাবে গলা ফাটিয়ে চেঁচানোর মানে কি? নাওমি আর্তনাদ করতে করতে রাজ পরিবারের নীতি ভেঙে অশ্রব্য গালিগালাজ করতে থাকে। বেহজাদ কান থেকে হাত সরিয়ে চোখ গরম করে তাকিয়ে ধমকে উঠে,
“ আর একটাও শব্দ উচ্চারণ করলে জিভ টেনে ছিড়ে ফেলবো। সময় থাকতে মুখের লাগাম টানো। নয়তো বা… “
নাওমি পাল্টা ধমকে উঠে,
“ নয়তো বা কি হ্যাঁ? কলিজা থাকলে আমার হাত আর পা খুলে দেখ। আমার জিভ টেনে ছেড়ার জন্য তোর হাত অক্ষত রাখি কি-না আগে দেখ। “
গতরাতে যে-ই মুখে তুমি সম্বোধন ছিল, আজ সে-ই একই মুখে তুই সম্বোধন শুনে বেহজাদের মাথা গরম হয়ে গেলো। একজন যুবরাজকে অসম্মান করার স্পর্ধা দেখাচ্ছে এই নির্বোধ মেয়ে। এটা যদি রোমানিয়া না হয়ে তুরস্ক হতো তাহলে এতক্ষণে জনসম্মুখে এই অসভ্য মেয়ের ফাঁসি কার্যকর হয়ে যেতো। বেহজাদ এবার ঠান্ডা স্বরে হুমকি ছুড়ে,
“ মুখ সামলে, তোমার সামনে থাকা মানুষটার পরিচয় সম্পর্কে কোনো ধারণা আছে তোমার? “
নাওমি মুখ ভেংচি কেটে বলে,
“ কে তুই? কোনো রাজ্যের গুপ্তচর? মালিকের কাছে খবর পৌঁছে দেওয়ার গোলামি করতে আমার রাজ্যে এসেছিস? “
বেহজাদ রেগে এগিয়ে গিয়ে একহাতের থাবায় নাওমির চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে। ফিসফিসিয়ে বলে উঠে,
“ আমার পরিচয় জানতে হলে কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে তোমাকে। নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করে নেই একবার। তোমাকে শেষ করার আগাম মুহূর্তে নিজের পরিচয়টুকু এলান করে দিবো। “
বলেই বেহজাদ উঠে কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলো। নাওমি ফ্যালফ্যাল করে তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলো। কোন উদ্দেশ্যটা হাসিল করতে চাইছে এই লোক? নাওমির পরিবারের ক্ষতি করতে এসেছে নাকি? আর শেষে এটা কি বলে গেলো? তোমাকে শেষ করার আগাম মুহূর্ত মানে কি? নাওমিকে খুন করতে চায়, সেই ইঙ্গিতটাই কি বুঝিয়ে দিয়ে গেলো?
বেহজাদের বলে যাওয়া কথার উপর থেকে মনযোগ সরিয়ে নাওমি আবার নিজের দিকে তাকায়। মাকড়াসাটা তার পা ছেড়ে মেঝে ধরে পালিয়েছে অনেকক্ষণ হলো। কিন্তু এখন? এই বাধা হাত পা নিয়ে কি সে এই নোংরা মেঝেতে পড়ে থাকবে? নাওমি রাগে দরজার দিকে তাকিয়ে আবার চেঁচিয়ে উঠে,
“ এই গুপ্তচর! আমি এই নোংরা কামরায় থাকবো না। আমাকে এক্ষুনি পরিষ্কার কামরায় নিয়ে চল। কোথায় গেলি? এই! নিজের শেষ বাক্য পড়ে নে তুই। আমার বাবা আর ভাই এলে এই ট্রান্সেলভেনিয়াতে তোর সমাধি গেড়ে যাবে। “
__________
রাত গড়িয়ে সকাল হয়েছে। নাওমি এখনো প্রাসাদে ফিরে আসে নি। সারারাত ভর স্যাফিরা এই বলে নিজেকে শান্তনা দিচ্ছিলো যে তার মেয়ে যেখানেই যাক, ঘুরাঘুরি শেষে নিজ দায়িত্বে প্রাসাদে ফিরে আসবে। কিন্তু এক প্রহর পেরিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও যখন নাওমি ফিরে আসে না, তখন সকলে নিশ্চিত হয় কিছু একটা অবশ্যই ঘটেছে। মেয়েটা নিজ ইচ্ছায় প্রাসাদ থেকে বের হলেও, কোনো না কোনো বিপদে অবশ্যই ফেঁসেছে।
কাউন্ট ইয়ান আলবার্টের আদেশে ইতিমধ্যে সৈন্যের একটা বিশেষ দল ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্য জুড়ে। নাওমির খোঁজ চলছে চারিদিকে। প্রধান সেনাপতি নিজে সেই দলের দায়িত্বে আছেন। রাজমাতা আনাস্তাসিয়া ব্যস্ত শক্ত মনে স্যাফিরাকে সামলাতে। মেয়ের দুঃশ্চিন্তায় স্যাফিরা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছে।
সভা কক্ষে মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা সেড়ে বের হতেই করিডরে ম্যাথিউর মুখোমুখি হয় ইয়ান। ম্যাথিউর মুখভঙ্গিতে চাপা চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। ইয়ান এগিয়ে যায় চাচার দিকে। কাধে এক হাত রেখে আশ্বাস দেওয়ার সুরে বলে,
“ নাওমিকে ঠিকই খুঁজে বের করা হবে। “
ইয়ানের কথায় খুব একটা আশ্বস্ত হলো না ম্যাথিউ। মনের মাঝে বাজতে থাকা চিন্তার ঘন্টাটা ক্রমশ দামাদাম বেজে যাচ্ছে। সে ক্লান্ত স্বরে বলে উঠে,
“ যদি ও শত্রুদের হাতে আটকা পড়ে থাকে? যদি এসব কিছুর পিছনে গ্রীকদের হাত থাকে? ওরা যে সুযোগের জন্য ওঁৎ পেতে আছে তা আমাদের অজানা নয়। “
ম্যাথিউর কথাটা অযৌক্তিক নয়। হতেই পারে নাওমির এই নিখোঁজ হওয়ার পিছনে গ্রীকদের হাত রয়েছে। তবুও ইয়ান ম্যাথিউকে শান্তনা দিয়ে বলে,
“ গ্রীকদের হাত থাকলেও ওরা নাওমির ক্ষতি করার মতো দুঃসাহস দেখাবে না। নাওমিকে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু ওকে জানে মারবে না নিশ্চিত থাকো। “
ম্যাথিউ আর কিছু বলে না। সে ক্লান্ত দেহটা টেনে উল্টো পথে হাঁটা ধরে। সৈন্যদের নিয়ে তার গিয়ে নাওমির খোঁজ করতে হবে। একটা মাত্র সন্তান তার। নাওমিকে যতই শাসনে রাখা হোক না কেন, তার প্রতি ভালোবাসাটাও তো সকলের প্রবল।
__________
সবুজ অরণ্যের বুকে ঘোড়ার পিঠে বসে ছুটে চলেছে ক্যামেলিয়া। তার পিছু পিছু ঘোড়া নিয়ে ছুটছে প্রধান সেনাপতি কেভ। গতরাতে বাসকোভ প্রাসাদ থেকে আরোণের অনুমতি নিয়েই কেভ এবং তার দলের সঙ্গে নাওমির খোঁজ করতে সঙ্গে এসেছে ক্যামেলিয়া। তার জানামতে এখন পর্যন্ত বেশ কিছু সম্ভাব্য জায়গায় খুঁজে দেখা হয়েছে। তবে কোথাও নাওমির খোঁজ মিলে নি।
যেহেতু সৈন্যের দলও সঙ্গে আছে তাই ক্যামেলিয়া নিজের নেকড়ে রূপে ঘুরে বেড়াতে পারছে না। বাধ্য হয়ে ঘোড়ায় করে তার চলতে হচ্ছে। জঙ্গলের ভেতর চমৎকার একটা জায়গায় এসে ক্যামেলিয়া নিজের ঘোড়ার লাগাম টানে। সঙ্গে সঙ্গে ঘোড়াটা স্থির দাঁড়িয়ে যায়।
ক্যামেলিয়া ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে চারিদিকে সতর্ক দৃষ্টি বুলায়। সঙ্গে আসা সৈন্যদের আদেশের সুরে বলে,
“ আশেপাশের জায়গাটা ভালো করে খুঁজে দেখো তোমরা। “
কাউন্টের আত্মীয় হওয়ার সুবাদে সৈন্যদের নিকট ক্যামেলিয়ার কথার একটা ভার এবং গুরুত্ব আছে সদা। তারা ক্যামেলিয়ার কথা অনুযায়ী আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে প্রিন্সেস নাওমির খোঁজ করতে। কেভ এবার নিজের ঘোড়া ছেড়ে নেমে আসে। বিরক্তিমাখা স্বরে বলে উঠে,
“ এসব অহেতুক জায়গায় ঘুরিয়ে আপনি আমার এবং আমার সৈন্যদের সময় অপচয় করছেন? “
ক্যামেলিয়া ভ্রু কুচকে ফিরে তাকিয়ে বলে উঠে,
“ তুমি কি নাওমিকে আমার থেকে বেশি চিনো? “
“ না। ব্যক্তিগত ভাবে আমি উনাকে চিনি না। কিন্তু উনার খোঁজ করার দায়িত্বটা আমার, আপনার নয়। “
ক্যামেলিয়া জবাব দেয়,
“ আমিও এখানে নৃত্য করতে আসি নি। ওর খোঁজই করছি। এই জায়গা গুলো ওর প্রিয় তাই আগে এখানে খুঁজে দেখছি। “
কেভ বিরক্তি নিয়ে আশেপাশে তাকায়। জায়গাটা জুড়ে বেশ চমৎকার জংলি ফুলের বাহার। তবে কোথাও প্রিন্সেসের কোনো চিহ্ন নেই। কেভ বিরক্ত হয়ে বলে,
“ সঙ্গে যেহেতু এসেছেন সেহেতু নিজের ক্ষমতার ব্যবহার করুন। ঘ্রাণ শক্তি দিয়ে খুঁজে দেখুন আশেপাশে প্রিন্সেসের ঘ্রাণ পান কি-না। আপনার নেকড়ের ক্ষমতা অন্তত কোনো উপকারে তো আসবে আমাদের! “
ক্যামেলিয়া কেভের কথায় তেঁতে উঠে বলে,
“ গাধার মতো কথাবার্তা বলবে না আমার সামনে। ঘ্রাণ শক্তি কোথায় পাবো আমি? আমি নেকড়েমানবী, কোনো কুকুর না। “
কেভ একই স্বরে চেঁচিয়ে উঠে,
“ আর আমিও মানুষ, কোনো গাধা না। “
নিজের কথাটুকু শেষ করেই কেভ সেখান থেকে হনহনিয়ে চলে যায় আশেপাশে খুঁজে দেখতে। ক্যামেলিয়া আপন জায়গায় দাঁড়িয়ে রাগে কাপতে থাকে। ঠিক সে-ই মুহূর্তে কোথা থেকে যেনো দমকা হাওয়া এসে তাকে ছুঁয়ে। কর্ণকুহরে ভেসে আসে একটা ফিসফিস স্বর,
“ আমার কথা ভুলে গিয়েছো, ক্যামেলিয়া? “
ক্যামেলিয়া চমকে তাকায়। চিনে যায় এই অদৃশ্য স্বরটাকে। এতোদিন তো এই গায়েবি স্বরটা সে শুনতে পায় নি। তাহলে আজ হঠাৎ? কেন? পুরুষালি স্বরটা আবারও বলে উঠে,
“ আমার পরিচয় এখনো উদঘাটন করতে পারো নি, তাই তো? “
ক্যামেলিয়া ভীত হয় না। সাহসের সঙ্গে জবাব দেয়,
“ তুমি যে-ই হও, শুনে রাখো এই মুহূর্তে আমার তোমার জন্য এক দন্ড সময় নেই। “
“ আরোণের কাছে গিয়েছিলে তুমি। প্রশ্ন করেছিলে ওকে। কিন্তু ও তোমাকে কিছু বলে নি, তাই না? “
ক্যামেলিয়া চমকায়। এই ঘটনাটুকু এই অদৃশ্য মানব কি করে জানলো? সে কিছু বলতে নিবে তার আগেই কণ্ঠটা বলে উঠে,
“ অভিশাপ মুক্ত হতে হলে তোমাকে অবশ্যই আমার পরিচয় খুঁজে বের করতে হবে ক্যামেলিয়া। এটাই শর্ত। শর্তের বাহিরে গিয়ে তোমাকে সাহায্য করার সাধ্য আমার নেই। “
বলেই কণ্ঠস্বরটা হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। ক্যামেলিয়া হতবুদ্ধির ন্যায় আপন জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে। কে হতে পারে এই অদৃশ্য মানব? কি করে সে এতো কিছু জানে? আর কোন অভিশাপেরই বা কথা বলছে সে?
__________
প্রিন্সেস নাওমি নিখোঁজ। সকালে প্রাসাদে কদম রাখতেই সবার আগে এই খবরটুকু পেয়েছে ক্লাডিয়াস। প্রিন্সেসকে খোঁজার কার্যক্রম শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। নৌ বাহিনীর প্রধান ম্যাথিউর সঙ্গে সে-ও এসেছে প্রিন্সেসের খোঁজ করতে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো হদিস মিলে নি।
রাজধানীর পার্শ্ববর্তী শহরে দিনের অর্ধেক প্রহর লাগিয়ে প্রিন্সেসকে খোঁজার ফলাফল এখন পর্যন্ত শূন্য। কোথায় যেতে পারে প্রিন্সেস? কোন বিপদে ফেঁসে গিয়েছে কে জানে! ক্লাডিয়াস মনে মনে প্রার্থনা করে ঈশ্বর যেনো প্রিন্সেসকে রক্ষা করে। নাওমির চিন্তার ভারটা যে কেবল তার বাবা নয়, নব্য সৈন্য সদস্য ক্লাডিয়াসও বৈছে।
চলবে…