প্রণয়তিথি
লেখনীতে : নাফিসা তাবাসসুম খান
২১.
ট্রান্সেলভেনিয়ায় সকালের দৃশ্যটা আজ বেশ চমৎকার। রাতভর হওয়া তীব্র তুষারপাতে ঢেকে গিয়েছে জঙ্গলে রূপান্তর হওয়া গোটা পরিত্যক্ত শহরটা। মনে হচ্ছে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন একটা ছোট্ট বরফের রাজ্য বুঝি এটা। তুষ দূর্গের আঙিনা জুড়ে অযত্নে এবং প্রাকৃতিক নিয়মে বেড়ে উঠা নাম না জানা জংলী ফুলগুলোও দেখতে বেশ আকর্ষণীয় লাগছে। নিজ অবস্থানরত কক্ষের জানালা হতে এ-ই ঐশ্বরিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পরখ করছিলো বেহজাদ। ডান হাতের গ্লাসটায় নীরব চুমুক বসিয়ে সে উপভোগ করছে আব্দুলের তৈরী করা ধোঁয়া উঠা উষ্ণ পানীয়। এ-ই হীম আবহাওয়ায় শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়া প্রতিরোধ করতে বেশ কার্যকরী পানীয় এটি।
জেইলান সকাল সকাল আব্দুলের সঙ্গে সিবিউতে প্রাসাদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। বেহজাদের হাজারটা বুঝও কানে তুলতে নারাজ সে। প্রাসাদে না-কি ওই জালিমের জন্য আজ নতুন আয়োজন করবে সে। বেহজাদ জেইলানকে জোরালো ভাবে চাইলেও বাঁধা দিতে পারে না। এ-ই প্রতিশোধের অধ্যায়ে জেইলানের অধিকার যে সবচেয়ে বেশি। বেহজাদ যে-ই ভাইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে আজ এই ভীন রাজ্যে এসেছে, সে-ই ভাইটা তো জেইলানের আপন মায়ের গর্ভজাত ভাই ছিলো। বেহজাদের বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। বিষাদ-মনে বাইরের পানে তাকিয়ে অস্ফুটে বলে উঠে,
“ দেনিজ! ভাই আমার! আপনার রক্তের শোধ অবশ্যই তুলবো আমরা। “
‘রক্তের শোধ’ শব্দ দুটো উচ্চারণ করতেই বেহজাদের খেয়াল হয় ও-ই ফাজিল মেয়ের কথা। গতরাতে কারাগারে নিক্ষেপ করে আসার পর আর কেউ পাতালপুরী মুখো হয় নি এখনো। বেহজাদ সম্পূর্ণ পানীয় টুকু শেষ না করেই গ্লাসটা হাত থেকে রেখে দেয়। সিদ্ধান্ত নেয় নিচে গিয়ে ওই তেজী মেয়ের তেজ কতটুকু অবশিষ্ট আছে তা দেখে আসবে এক দফা।
ভাবনা অনুযায়ী কারাগারের উদ্দেশ্যে পা বাড়ায় বেহজাদ। নিচের কারাগারে যাওয়ার ওই পথটা দিনের বেলায়ও ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে থাকে। তা-ই বাধ্য হয়ে বেহজাদ একটা মশালে আগুন ধরিয়ে সঙ্গে করে নিয়ে নেয়। এক ধাপ, এক ধাপ করে সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে বেহজাদ অনুভব করে রাগের মাথায় গতরাতে সে একটা ব্যাপার লক্ষ্য করে নি। তা হলো তুষ দূর্গের এ-ই জায়গাটুকু যেকোনো সাধারণ মানুষের অন্তরাত্মা কাঁপানোর জন্য যথেষ্ট। নোংরা, বিদঘুটে এবং ভুতুড়ে একটা পরিবেশ বিরাজ করছে চারিপাশ জুড়ে।
কারাগারের সামনে এসে স্থির ভঙ্গিতে দাঁড়াতেই বেহজাদ লক্ষ্য করে ফাজিল মেয়েটা দেয়াল হেলান দিয়ে অপর পাশে মুখ ঘুরিয়ে ঘুমোচ্ছে। বেহজাদ মনে মনে বিদ্রুপের হাসি হাসে নিজের উপর। অহেতুক ভাবছিলো সে। এ-ই মেয়ে তো এ-ই পোকামাকড়দের মাঝেও নিজেকে মানিয়ে নিয়ে নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছে। একে নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করার কিছু নেই।
বেহজাদ উল্টো ঘুরে ফিরে যেতে নিয়েও আবার থেমে গেলো। কি ভেবে যেনো মশালটা এক পাশে রেখে নিজের পকেট হাতড়ে কারাগারের চাবিটা খুঁজে বের করলো। নিপুণ ভঙ্গিতে চাবি দিয়ে তালাটা খুলেই সে লোহার দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে। ধীর কদমে এগিয়ে গিয়ে ঠিক নাওমির সামনে স্থির হয়ে দাঁড়ায়। কোনো মানুষের পদচারণে নাওমির চারিপাশে ভীড় করা পাঁচ ছয়টা মাঝারি আকারের ইঁদুর ছোটাছুটি শুরু করে দেয়। মেঝে জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পোকামাকড় গুলোর মাঝেও অস্থিরতা দেখা দেয়।
মুখটা অন্যপাশে ফিরিয়ে রাখায় এবং মুখের উপর খুচরো চুল বিরাজ করায় নাওমির মুখখানা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। বেহজাদ উশখুশ করছে। নিজের অস্বস্তি ভাব কিছুটা কাটিয়ে সে গলা ঝেড়ে কাশির শব্দ করে। এতে খুব একটা লাভ হয় না। নাওমির ঘুমও ভাঙে না আর না সে কারো উপস্থিতি টের পায়। যক্ষ্মা রোগীর মতো মিছে কাশির পরিকল্পনাটা বৃথা যেতেই বেহজাদের ধৈর্য্য ফুরায়। সে গলা ছেড়ে ডেকে উঠে,
“ এই মেয়ে! উঠো। ডাকছি আমি। এক্ষুণি উঠো বলছি। শুনতে পাচ্ছো? এই! এই মেয়ে! “
নাওমির মাঝে কোনো হেলদোল দেখা যায় না। বেহজাদের কপালে ভাজ লক্ষণীয় হয়। ভয়ে মরে টরে গেলো নাকি এই মেয়ে? বেহজাদ আর ভাবতে পারে না। নিশ্চিত হতে সে নাওমির মুখোমুখি এক হাঁটু গেড়ে বসে। সঙ্গে সঙ্গে সে লক্ষ্য করে নাওমির পা ছুঁই ছুঁই গাউনের কাপড়ের নিচ থেকে একটা ইঁদুর দৌড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। বেহজাদ সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে মাঝারি আকারের ইঁদুরটাকে পর্যবেক্ষণ করে।
অতঃপর কিছু একটা ভেবে সে দু আঙুলের সাহায্যে নাওমির আবৃত পায়ের পাতার উপর থেকে কিছুটা গাউনের কাপড় সরিয়ে ফেলে। নোংরা ডান পায়ের পাতায় লক্ষ্য করে কিছু আঁচড়ের দাগ। এই সুনিপুণ আঁচড়ের কারিগর যে ইঁদুর মশাই সেটা বুঝতে বাকি থাকে না বেহজাদের। সে দ্রুত হাত বাড়িয়ে নাওমির ঘাড়টা নিজের দিকে ফিরাতেই বিস্মিত হয়। এ-ই মেয়ের তাপমাত্রা তো ভয়ংকর পরিমাণে বেশি। জ্ঞানটাও বোধহয় নেই। এ-ই আপদ জ্বরটা আবার কখন বাঁধালো?
বিস্মিত বেহজাদ কারাগারের চারিপাশে তাকায়। দূর্গন্ধে টেকা যাচ্ছে না এখানে। সে সঙ্গে সঙ্গে কিছু না ভেবে নাওমিকে পাজাকোলে তুলে নেয়। এক মুহূর্ত আর অপেক্ষা করে না পাতালপুরীতে। তার নিজেরই দূর্গন্ধে পেট গুলিয়ে বমি পাচ্ছে। এ-ই মেয়ে সারারাত কি করে কাটিয়েছে ওই আজাবখানায়? নোংরা পরিবেশ, দূর্গন্ধ, নিম্ন আবহাওয়ার তাপমাত্রা, অন্ধকার এবং ইঁদুরের উপদ্রব এতো কিছুর মাঝে কিভাবে নিশ্চুপ ছিলো? নিজের আত্মগরিমা বজায় রাখতে বুঝি দম খিচে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতেও কোনো দ্বিধা নেই প্রিন্সেসের?
__________
সকাল সকাল হন্তদন্ত ভঙ্গিতে আরোণের কাছে এলো ক্যামেলিয়া। চোখে মুখে তার দুঃশ্চিন্তার ছাপ। আরোণ ভ্রু কুচকে প্রশ্ন করে,
“ কি হয়েছে, জান? তোমাকে চিন্তিত মনে হচ্ছে। কিছু হয়েছে? “
ক্যামেলিয়া বিরক্তি নিয়ে বলে,
“ কি হয়েছে সেটা তো কারোই অজানা নয় বাবা। নাওমি আজ দু'দিন ধরে নিখোঁজ। আর আমরা প্রাসাদে পায়ের উপর পা তুলে বসে আছি। “
আরোণ বলে উঠে,
“ সৈন্যরা খুঁজছে ওকে। “
“ সৈন্যরা নিজেদের কাজ করছে। তবে বাবা, ওরা তো মানুষ। কচ্ছপের গতিতে খুঁজছে ওরা। এরকম চলতে থাকলে নাওমিকে কখনো খুঁজে পাওয়া যাবে না। তোমার মনে হয় না, আমাদের নেকড়ে পালের উচিত ওদের সহায়তা করা? “
ক্যামেলিয়ার কথাটা সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করার মতো নয়। আরোণকে ভাবুক দেখায়। ক্যামেলিয়া সুযোগে আরেকটু বলে,
“ সাহায্য করার জন্য এতো ভাবাভাবির প্রয়োজন দেখছি না বাবা। আমি যখন নিখোঁজ হয়েছিলাম তখন সবাই মিলে আমাকে খুঁজতে সাহায্য করেছিল। অথচ নাওমির বেলায় আমাদের এরকম নির্লিপ্ততাটা কি কোনো সভ্য আচরণের কাতারে পড়ে? প্রধান সেনাপতির মুখে শুনেছিলাম, নাওমির নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারটা গোপন রাখতে বোধহয় ওরা এক এক করে সবগুলো শহর খুঁজবে। কিন্তু এতে খুব লম্বা সময় লাগবে। আমরা চাইলেই কিন্তু প্রতিটা শহরের জঙ্গল গুলো দ্রুত সময়ে খুঁজে দেখতে পারি। আমাদের গতি ওদের থেকেও দ্রুত ব্যাপারটা মাথায় রাখতে হবে। “
ক্যামেলিয়া ভুল কিছু বলে নি। আপন জায়গা থেকে আরোণ নিজেও নাওমিকে বেশ স্নেহ করে। নাওমির এরকম নিখোঁজ হওয়া নিয়ে সে-ও চিন্তিত। তবে ব্যক্তিগত কিছু ব্যাপারের কারণে সে এই দু'দিন খুব একটা তৎপরতা দেখাতে পারে নি। এখন যেহেতু তার হাতে সময় আছে, সেহেতু নাওমিকে খুঁজতে সাহায্য করায় কোনো ক্ষতি নেই। আরোণ বলে উঠে,
“ আমি সম্পূর্ণ পাল নিয়ে গিয়ে সকল জঙ্গল গুলো খুঁজে দেখছি। তবে তুমি আমাদের সঙ্গে যাবে না। এখানেই, প্রাসাদেই থাকবে চুপচাপ। ঠিকাছে? রাজি? “
ক্যামেলিয়া সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেয়,
“ আচ্ছা, বাবা। তুমি চিন্তা করো না। তোমরা ভালো করে নাওমিকে খুঁজবে কিন্তু। “
মেয়ের এক বাক্যেই রাজি হয়ে যাওয়া দেখে আরোণ কিছুটা অবাক হয়। তার মেয়ের তো এতো সহজে রাজি হয়ে যাওয়ার কথা নয়। আরোণ ভেবেছিলো ক্যামি বোধহয় তার সঙ্গে যাওয়ার জন্য জেদ ধরবে। কিন্তু এখানে তেমন কিছুই হলো না।
বাবাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে ক্যামেলিয়া তাড়া দিয়ে বলে,
“ দাঁড়িয়ে আছো কেন? দ্রুত যাও। দেরি করলে পরে খুঁজতে খুঁজতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। “
আরোণ আর কথা বাড়ায় না। সোজা নিচে চলে যায় পালকে জোড়ো করতে। ক্যামেলিয়া স্বস্তির একটা নিঃশ্বাস ফেলে। প্রাসাদটা খালি হওয়ার অপেক্ষা এখন কেবল। একবার প্রাসাদ খালি হলেই তার গোয়েন্দাগিরি শুরু হবে।
__________
নিজ কক্ষের পরিষ্কার বিছানাটায় বেহুশ নাওমিকে জায়গা দিয়েছে বেহজাদ। এই দূর্গে আরো দুটো পরিষ্কার কক্ষ আছে। একটা জেইলানের এবং অপরটি আব্দুলের। তাদের কক্ষে অনুমতি ব্যতীত প্রবেশ বেহজাদের নীতি বিরুদ্ধ কাজ। তাই বাধ্য হয়ে এই আপদকে নিজের কক্ষেই নিয়ে আসতে হয়েছে তার।
বেহজাদ বুঝতে পারছে না প্রিন্সেসের জ্বরের পিছনে দায়ী কোনটা? নিম্ন তাপমাত্রার আবহাওয়া নাকি ইঁদুরের কামড়? দায়ী যেটাই হোক, এই মুহূর্তে দ্রুত আগে ইঁদুরের কামড় কিংবা আঁচড় যেটাই হোক সেটার আগে প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরী।
বেহজাদ দ্রুত একটা পাত্রে করে পরিষ্কার উষ্ণ পানির জোগান করে নিয়ে আসে। একটা পরিষ্কার কাপড়েরও প্রয়োজন তার। তবে তার কাছে এ-ই মুহূর্তে বাড়তি কাপড়ের জোগান নেই। চট করে বেহজাদের কিছু একটা মনে পড়ে। সে নিজের প্যান্টের পকেট হতে পরিষ্কার একটা সুতির কাপড়ের রুমাল বের করে। এটা ব্যবহারের উপযোগী।
বেহজাদ কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে নাওমির পায়ের কাছটায় মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে। কিছুটা দ্বিধা নিয়েই সে রুমালটা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে নাওমির পায়ের পাতার ক্ষত জায়গা গুলো পরিষ্কার করতে থাকে। ক্ষত জায়গাটা ভালো করে পরিষ্কার করতেই স্পষ্ট দাগ গুলো দেখে ধারণা করা গেলো যে ইঁদুর মহাশয়রা কেবল আঁচড়ই কেটেছে, কোনো কামড় দেয় নি। তবে বেহজাদের জানামতে ইঁদুরের আঁচড়ও খুব একটা নিরাপদ নয়। তা-ই সে উঠে বেরিয়ে যায় জীবাণুনাশক কিছু ভেষজ পাতা খুঁজে আনতে।
দূর্গের বাহিরে কিছুটা খুঁজতেই বেহজাদ কাঙ্ক্ষিত ভেষজ পেয়ে যায়। দূর্গে ফিরে এসে সে ওই পাতাগুলো চেপে রস বের করে নেয় একটা পাত্রে। সে-ই রসটাই ওষুধের ন্যায় পায়ের কাটা জায়গা গুলোতে লাগাতে থাকে সে। এমন সময়ই তার চোখ যায় নাওমির মুখের দিকে। জেইলানের নখের আঁচড়ের সাহায্যে করা আঘাতের ছাপ মুখে এখনো রয়ে গিয়েছে। দু গালেই লম্বা আঁচড়ের দাগ গুলো কেমন বিদঘুটে দেখাচ্ছে।
বেহজাদ নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়। গালের ওই ক্ষত গুলোতেও ওষুধ লাগানো জরুরী। তবে বেহজাদের বিন্দুমাত্র ইচ্ছা করছে না এই কাজটুকু করতে। মনে মনে সে বেশ বিরক্ত। এ-ই মেয়ের তার নিকট বন্দী হয়ে থাকার কথা ছিলো। অথচ ভাগ্যের জোরে এখন তার কামরা দখল করে, তার থেকে থেকে চিকিৎসা নিয়ে কি আরামে ঘুমোচ্ছে!
পায়ের ক্ষতর জন্য জরুরী চিকিৎসা পর্ব শেষ করেই বেহজাদ উঠে এসে নাওমির শিয়রে বসে। অবশিষ্ট ভেষজ পাতার রসটুকু একটা পরিষ্কার তুলির সাহায্যে গালে লাগিয়ে দিতে থাকে। তার মনযোগ পুরোটা জেইলানের কাছে। মেয়েটা যদি ভুলক্রমেও প্রাসাদে কারো নিকট ধরা খায়, তাহলে ওই জানোয়ার গুলো একটুও মানবতা দেখাবে না। বেহজাদ নাওমির এই বেহুশ অবস্থাতেও নিজ জায়গা থেকে যতটুকু দূরত্ব বজায় রাখছে, সেটুকুও বোধহয় আলবার্টরা করবে না।
আলবার্টদের বর্বরতার কথা ভাবতেই বেহজাদের চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। সে নাওমির মুখে দৃষ্টিপাত করে। তার ইচ্ছে করছে এ-ই মুহূর্তেই নাওমির গলাটা চেপে ধরে মেরে ফেলতে। কিন্তু এ-ই আপদকে বাঁচিয়ে রাখতে বাধ্য সে। ইয়ান আলবার্টকে বন্দী করার জন্য এবং জেইলানের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য হলেও নাওমিকে তার বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
চলবে…