ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়তিথি

২৫তম পর্ব

লেখক: নাফিসা তাবাসসুম খান

প্রণয়তিথি

লেখনীতে : নাফিসা তাবাসসুম খান

২৫.

ঘাড়ের পেছন হতে ধীরে ধীরে ঘাম ছাড়ছে শরীরটা। তীব্র জ্বরটা এবং শরীরের অত্যাধিক তাপমাত্রাটা কমে আসার লক্ষ্মণ এটা। অস্বস্তিকর অস্থিরতায় নাওমির ঘুম পাতলা হয়ে এলো। জ্বরে কাতর চোখজোড়া পিটপিট করে মেলে তাকানোর চেষ্টা করলো সে। চোখ খুলতেই নিজেকে অজানা জায়গায় আবিষ্কার করে সে কতক্ষণ হতবুদ্ধির ন্যায় তাকিয়ে রইলো। বুঝার চেষ্টা করছে সম্পূর্ণ দৃশ্যটা। কি ঘটেছিল তার সঙ্গে তা মনে করার প্রয়াস লক্ষণীয় তার মধ্যে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই নাওমির মনে পড়ে যায় সম্পূর্ণ ঘটনা। সে তো ওই নোংরা কারাগারে ছিলো! ও-ই ভয়ংকর, দমবন্ধকর জায়গাটায়! তীব্র ঠান্ডা এবং সুপ্ত ভয়ে গা কাপিয়ে জ্বর চলে আসে তার। সে-ই জ্বর গায়ে বোধহয় এতটা ধকল সইতে না পেরে সে জ্ঞান হারিয়েছিলো। তারপর? তারপর কি হয়েছে? সে এখানে কি করে এলো?

নাওমি ছোট ছোট চোখ জোড়া মেলে চারিপাশে তাকায়। এটাও কি তুষ দূর্গেরই একটা কামরা? কামরার আসবাবপত্র গুলো দেখতে পুরনো হলেও, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করায় আভিজাত্য এবং রাজকীয়তা ফুটে উঠেছে। উঁহু, এটা আসবাবপত্র নিয়ে ভাবার সময় নয়। এখনো অনেক কিছু বুঝে উঠা বাকি তার। যেমন, তাকে এখানে কে নিয়ে এসেছে?

নাওমি নিজের অবস্থার দিকে তাকায়। ঘাড়টা ঘাম নিঃসৃত করলেও বাকি পুরো বদন তার জ্বরের প্রকোপে উত্তপ্ত। আলতো হাতে গায়ের চাদরটা সরাতে নিলেই নাওমি লক্ষ্য করে তার গায়ে ভিন্ন একটা পরিষ্কার পোশাক। নাওমি চমকায়। তার নিজস্ব পোশাকটা কোথায় গেলো? তার পোশাক বদলে দেওয়া হয়েছে! কিন্তু কে বদলেছে?

দূর্বল শরীরটাকে টেনে কোনমতে উঠে বসে নাওমি। ভার মাথাটা চিনচিনে ব্যথায় মনে হচ্ছে ছিঁড়ে যাবে এক্ষুণি। পায়ের ওখানটায় কিসের জন্য পট্টি করা তা বুঝতে সক্ষম হচ্ছে না সে। মাথার কাছে রাখা গোলাকার পাত্র এবং রুমাল আকৃতির কাপড়টার তাৎপর্যও তার বোধগম্য হয় না। কেউ কি তার মাথায় জলপট্টি দিয়েছিল? কিন্তু কে দিবে? তুষ দূর্গে ওই তিনটা অমানুষ ব্যতীত আরো কেউ আছে নাকি?

সকল ভাবনাকে একপাশে ফেলে নাওমি যেটা লক্ষ্য করে সেটা হলো এই কক্ষে কেউ নেই। ওই জালিম গুলো আশেপাশে নেই! এইতো! এটাই সুযোগ! নাওমি নিজেকে সামলে ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে নামে। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মতো শক্তিটাও তার শরীর খুঁজে পাচ্ছে না। তবুও সে দেয়াল ধরে ধরে কামরার জানালার নিকট গিয়ে দাঁড়ায়। গভীর রাত এখন। জানালা গলে বাহিরে দৃষ্টিপাত করে নাওমি যা বুঝতে পারে, সেটা হলো সে যে-ই কামরাটায় আছে সেটা দ্বিতীয় তলায়। অর্থাৎ পালিয়ে যাওয়াটা তুলনামূলক কিছুটা সহজ তার জন্য।

নাওমি এবার সাহস করে কক্ষের দরজার দিকে এগোয়। দাঁতে ঠোঁট চেপে মনে মনে প্রার্থনা করতে করতে সে দরজাটা খুলে। সৌভাগ্যক্রমে দরজা খোলার সময় কোনো ক্যাটকেটে শব্দ হয় নি। মাথাটা সামান্য বের করে বাহিরে উঁকি দিতেই দেখে সম্পূর্ণ করিডর জুড়ে কোনো কাকপক্ষী অব্দি নেই। পুরোটা করিডর অন্ধকারে ডুবে আছে! নাওমি সামান্য ঢোক গিলে। ভূতের ব্যাপারে তার খুব একটা ভয় নেই। তবে এ-ই নির্জন, অমানিশাময় পরিস্থিতিটা তার গায়ে ছমছমে অনুভূতির জানান দিচ্ছে।

নাওমি খালি পায়েই ধীরে ধীরে করিডরে বেরিয়ে আসে। কোনদিকে যেতে হবে সে নিশ্চিত বুঝতে পারছে না। বামে নাকি ডানে? কিছুক্ষণ ভেবে নাওমি ডান দিকে অগ্রসর হয়। দেয়াল ধরে ধরে এগিয়ে যায় সামনের দিকে। ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করতে থাকে যেনো ওই অমানুষ গুলোর মুখোমুখি না হতে হয় তাকে। তার শরীরে বিন্দুমাত্র শক্তি নেই যে সে শত্রুদের ঘায়েল করতে পারবে। তা-ই এ-ই দূর্গ থেকে বের হতে হলে তাকে সবার দৃষ্টি এড়িয়ে চলতে হবে যেকোনো মূল্যে।

ডানদিকের করিডরের শেষ মাথায় পৌঁছাতেই নিচে নামার সিঁড়ির দেখা মিলে। তবে নাওমি খুব একটা খুশি হতে পারে না এতে। কারণ সে উপর থেকেই লণ্ঠনের আলোয় দেখতে পাচ্ছে নিচে হলরুমের মতো খোলা জায়গাটায় তিন শয়তান একত্র হয়েছে। নাওমি সঙ্গে সঙ্গে একটা পিলারের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে ফেলে। আড়াল হতে শোনার চেষ্টা করে শয়তানদের আলোচনা সভার কথোপকথন। কানে ভেসে আসে মেডুসার গলার স্বর,

“ আগামীকাল থেকে আব্দুল আমার সঙ্গে রাজধানীতে যাবে না ভাইজান। “

বেহজাদ বিস্ময় নিয়ে জানতে চায়,

“ কেন? “

মেডুসা বলে উঠে,

“ আজ ওকে একটা দায়িত্ব দিয়েছিলাম। প্রিন্সেসের নিখোঁজ হওয়ার খবরটা ও বাজারে সকল প্রজাদের মাথায় ছড়িয়ে দিয়েছে। প্রজারা ওর কথা বিশ্বাস করে নিয়েছে। “

বেহজাদকে অবাক দেখালো। মেডুসা বলতে থাকে,

“ আপনি বিশ্বাস করবেন না! প্রজারা একত্রিত হয়ে প্রাসাদের সম্মুখে গিয়ে জোড়ো হয়েছিলো। প্রিন্সেসের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে জবাবদিহিতা চাচ্ছিলো। আমি ভেবেছিলাম পরিস্থিতি সামাল দিতে বোধহয় কাউন্ট ইয়ান আলবার্ট বাধ্য হবে নিজে প্রজাদের সামনে উপস্থিত হতে। কিন্তু আমি ভুল প্রমাণিত হই। ভীত কাউন্ট নিজের মা'কে পাঠিয়ে দিয়েছিল পুরো ব্যাপারটা সামলাতে। “

বলেই মেডুসা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো। নাওমির গা জ্বলে উঠলো। মন চাচ্ছে এক্ষুনি গিয়ে এ-ই মেয়ের পেটে ছুরি চালিয়ে দিতে। ঠিক সে-ই মুহূর্তে বেহজাদের প্রশ্ন কানে ভেসে আসে,

“ সামলাতে পেরেছে? “

“ মিথ্যা বলে সামলেছে। বলে কি-না, প্রিন্সেস নিজের নানির বাড়িতে গিয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ফিরে এসে প্রজাদের সামনে উপস্থিত হবেন। “

বেহজাদ ভ্রু কুচকে বলে,

“ এদের রক্তে তবে প্রতারণা এবং মিথ্যাও মিশে আছে। অবাক হই নি আমি। যাদের রক্তে খুনের নেশা রয়েছে, তাদের জন্য অকপটে মিথ্যা বলা খুব বড়ো কোনো বিষয় নয়। “

মেডুসা বলে,

“ আগামী সাত দিন কিন্তু আমাদের সতর্ক থাকতে হবে ভাইজান। প্রতারকেরা নিজের মিথ্যাকে সত্য প্রমাণের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে। প্রজাদের সামনে তাদের কাউন্ট এবং রাজমাতার মুখোশ টেনে আসল রূপটা বের করা জরুরী। এদের চূড়ান্ত অপদস্ত করবো আমি। তারপরই একমাত্র ও-ই কাউন্টের প্রাণ নিয়ে শান্ত হবো আমি। “

বেহজাদ বলে উঠে,

“ জেইলান, বোন আমার, আমি তোমার পাশে আছি। “

জেইলান! নাওমির মনে প্রশ্ন জাগে, এ-ই মেয়ের আসল নাম তবে মেডুসা নয়? জেইলান নামটা তো শুনতে মুসলিমের মনে হচ্ছে। এরা তবে মুসলিম? জাতীয়তা ভিন্ন সেটা নাওমি আগেই ধারণা করেছিল, তবে ধর্মও যে ভিন্ন হতে পারে এতো কিছুর ভীড়ে এটা তার মাথায় আসে নি একবারও।

মেডুসা নামধারী জেইলান এ-ই মুহূর্তে বলে উঠে,

“ প্রজাদের মুখের কথা শুনে এসেছি ভাইজান। একবার যদি প্রমাণিত হয় প্রিন্সেস শত্রুদের হাতে বন্দী এবং নিখোঁজ, তবে এর পরিণাম ভয়াবহ হবে। এ-ই সত্যিটা জানার পর, প্রিন্সেস মুক্ত হলেও আর কিছু আসে যায় না। রাজ্যের প্রজারা ও-ই মেয়েকে গ্রহণ করবে না। শত্রুদের দ্বারা নিপীড়ন এবং লাঞ্ছনার দায়ে ওকে সকলে নোংরা নজরে দেখবে। “

নাওমির কানে ভেসে আসে সম্পূর্ণ কথাটুকু। সঙ্গে সঙ্গে শরীর ছেড়ে দেয় তার। এতক্ষণ ধরে জোর করে দাঁড়িয়ে থাকা শরীরটা মুহূর্তেই মেঝেতে বসে পড়ে। দু'হাতের মুঠোয় গাউনের কাপড়টুকু চেপে ধরে সে। সে কিভাবে ভুলে গিয়েছিলো এতো গুরুত্বপূর্ণ একটা কথা! তার এই বন্দিত্ব প্রজাদের নিকট তাকে কলঙ্কিত করে তুলবে। তাকে রাজ পরিবার থেকে বহিষ্কার করতে বাধ্য করা হবে! আর যদি বহিষ্কার না করা হয়, তবে তার জীবন এতটা দূর্বিষহ করে তুলবে সকলে যে নাওমিকেও আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হবে।

জেইলানের মুখে আজকের দিনের বর্ণনা শুনে বেহজাদ সিদ্ধান্ত জানায় যে, আব্দুল এখন থেকে আর রাজধানীতে যাবে না। আব্দুলকে খোঁজ করবে এখন আলবার্টরা। ওকে খুঁজে পেলেই দন্ড দেওয়া হবে। তা-ই ওর এখন রাজধানীমুখী হওয়া কোনো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। আব্দুলের অবশ্য প্রতিক্রিয়া নিষ্প্রাণ। তার মুখ দেখে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে এ-সব কিছু তার পছন্দ হচ্ছে না। তা-ই সে চুপচাপ নিজের কামরায় চলে যায়। ঘুমের চোটে হাই তুলতে তুলতে জেইলানও নিজের জন্য বরাদ্দকৃত কামরায় চলে যায়।

হলরুমে রয়ে যায় কেবল বেহজাদ। সে-ও নিজের কামরায় ফেরার উদ্দেশ্যে সিঁড়ির দিকে পা বাড়ায়। সিঁড়ি বেয়ে উঠতেই আলো আঁধারের মধ্যে বেহজাদ লক্ষ্য করে করিডর সংলগ্ন পিলারের সঙ্গে ঠেস দিয়ে কেউ বুঝি বসে আছে। বেহজাদ প্রথমে থমকায়। অতঃপর দু কদম পিছিয়ে সিঁড়ি পথের দেয়ালের কাছ হতে একটা মশাল হাতে নিয়ে ফিরে আসে। মশালের জ্বলন্ত আগুনের আলোয় সে স্পষ্ট দেখতে পায় নাওমিকে। এলোমেলো ভঙ্গিতে মেঝেতে বসে আছে। গভীর কোনো ভাবনায় যেনো ডুবে আছে। মুখশ্রীর অবস্থা মুমূর্ষুের ন্যায়।

বেহজাদ আন্দাজ করে নেয়, প্রিন্সেস বোধহয় এতক্ষণ গোপনে তাদের সকল কথা শুনেছে। প্রজাদের নিকট নিজের সম্ভাব্য পরিণতিই কি এ-ই মেয়েকে বিধ্বস্ত অবস্থায় পৌঁছে দিয়েছে? এসব ভেবে বেহজাদের কাজ নেই। সে নিজের স্বভাবসলুভ রাগ, বিরক্তি এবং গাম্ভীর্যতা মুখে ফুটিয়ে সামান্য গলা ঝাড়ার শব্দ করে। সঙ্গে সঙ্গে নাওমির ধ্যান ভাঙে। সে চোখ তুলে তাকায়। বেহজাদকে দেখতেই তার চোখেমুখে ক্ষোভ, ঘৃণা এবং আক্রোশ ফুটে উঠে। অসুস্থতার মাঝেও চোখে জ্বলে উঠে পরিচিত সে-ই তেজ। শরীর টেনে উঠে দাঁড়িয়ে সে অহংকারী গলায় বলে উঠে,

“ আমি প্রিন্সেস নাওমি। আমাকে বদনাম করার অধিকার আমি পৃথিবীর কাউকে দেই নি। কেউ যদি ভেবে থাকে আমার পরিণতি তার নিয়ন্ত্রণে তবে এটা তার ভুল ধারণা। এতো সহজে আমি হাল ছেড়ে দিবো না। যতক্ষণ না আমি নিজে বদনাম কুড়াতে সম্মতি পোষণ করি, ততক্ষণ গোটা দুনিয়ার কেউ আমাকে রাজ্যে লাঞ্ছিত করতে পারবে না। “

বেহজাদ নীরবে শুনে সবটা। দেখে এই অসভ্য মেয়ের চোখে জ্বলজ্বল করা তেজ। এ-ই মুহূর্তে তার এই মেয়ের সঙ্গে তর্ক করতে ইচ্ছে করছে না। সে ভালো করেই বুঝে গিয়েছে, এই হাঁটুর বয়সী মেয়ে কতটা অজ্ঞ। অজ্ঞ না হলে কি একজন যুবরাজের সামনে দাঁড়িয়ে যখন তখন বেয়াদবি করার মতো বোকামি করে?

__________

রাত্রির শেষ প্রহর প্রায়। ইদানীং প্রায়ই বাড়ি ফিরতে খুব দেরি করে ক্লাডিয়াস। আজও তার ব্যতিক্রম নয়। বিশেষ দলের সঙ্গে প্রিন্সেসকে অনুসন্ধানের অভিযান শেষে, সে নিজেও আলাদা করে লম্বা সময় ধরে খুঁজেছে। কিন্তু রোজকার মতো আজও ফলাফল শূন্য। সে-ই শুন্য ফলাফলের হতাশা ক্লাডিয়াসের চোখেমুখে পরিষ্কার।

বাড়ির দরজার কাছে এসে দাঁড়াতেই ক্লাডিয়াস অবাক হয়। দরজা ভেতর থেকে কেবল চাপিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু লাগানো হয় নি। কেন? মা কি ইচ্ছে করেই তার জন্য দরজা লাগায় নি?

ক্লাডিয়াস মনে মনে ঠিক করে মা'কে আগামীকাল থেকে জানিয়ে দিবে, যেনো রাত জেগে তার জন্য অপেক্ষা না করে অথবা এভাবে অনিরাপদ ভঙ্গিতে দরজা না খোলা রাখে। বেশি রাত হয়ে গেলে দরকারে ক্লাডিয়াস বাসায় না ফিরে সেনা নিবাসে চলে যাবে। শেষ রাত্রির এই কিছু পল সে আরামে ওখানে কাটিয়ে দিতে পারবে।

নিঃশব্দে পা টিপেটিপে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করতেই ক্লাডিয়াসের কানে ভেসে আসে একটা পরিচিত কণ্ঠস্বর,

“ প্রিন্সেসকে খোঁজা শেষ আজকের মতো? “

ক্লাডিয়াস চমকে পিছনে ফিরে তাকায়। টেবিলের শিয়রে দাঁড়িয়ে থাকা তার পিতা আপন ভঙ্গিতে দিয়াশলাইয়ের সাহায্যে লণ্ঠনে আগুন ধরাতে ব্যস্ত। ক্লাডিয়াস সাফাই দেওয়ার ভঙ্গিতে বলে,

“ প্রিন্সেস? উনাকে আমি কেন খুঁজবো? ওইটা তো প্রধান সেনাপতির বিশেষ দলের কাজ। “

টিমটিমে আলোয় চারিপাশটা আলোকিত হতেই জোসেফ সরাসরি নিজের ছেলের দিকে তাকায়। ক্ষানিকটা হেসে এগিয়ে আসতে আসতে বলে,

“ অকপটে মিথ্যা বলতে শিখে গিয়েছো দেখছি। অথচ আমি জানতাম আমি আমার ছেলেকে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার শিক্ষা দেই নি। প্রেম মানুষকে দিয়ে কতো কিছু করানো শিখিয়ে দেয়! “

ক্লাডিয়াস ভীত স্বরে বলে,

“ প্রেম? কিসের প্রেম? কি বলছো তুমি? “

“ কেন? প্রিন্সেস নাওমিকে ভালোবাসো না তুমি? উনার জন্য নিজের মনে প্রেম জমিয়ে রাখো নি? “

ক্লাডিয়াসের মুখের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হয় যেনো সে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে গিয়েছে। সে কোনো মতে বলে,

“ তুমি অহেতুক সন্দেহ করছো। “

জোসেফ অতিষ্ট হয়ে ধৈর্য্যহারার ন্যায় বলে,

“ পৃথিবীতে তিনটা জিনিস আছে যা সকলে ভিত্তিহীন ভাবে। কিন্তু সেগুলো মোটেও ভিত্তিহীন নয়। প্রথমটা হলো এই সাম্রাজ্যে এককালে বিরাজমান ভ্যাম্পায়ারদের অস্তিত্ব। দ্বিতীয়টা হলো এই সাম্রাজ্যে এখনো বিরাজমান নেকড়েমানবদের অস্তিত্ব। তৃতীয় এবং শেষটি হলো জোসেফের করা সন্দেহ। শুরুতে আমার সন্দেহ গুলোকে অহেতুক মনে হলেও, শেষ পর্যন্ত দেখা যায় আমি যা ধারণা করি তা-ই ঠিক হয়। যেখানে কাউন্ট রিকার্ডোর প্রেম আমার চোখ ফাঁকি দিতে পারে নি, সেখানে আমার রক্ত হয়ে তুমি কি করে ভাবলে আমি কিছু টের পাবো না? “

ক্লাডিয়াস বুঝতে পারে তার পিতার দূরদর্শী নজর বোধহয় গোপন ব্যাপারটা আঁচ করতে পেরেছে। সে তা-ই অযথা আর কোনো ব্যাখ্যা দিতে যায় না। কেবল নিজের মাথাটা নত করে দাঁড়িয়ে রয়। জোসেফ এগিয়ে এসে ছেলের কাধে হাত রেখে বলে,

“ আগে যদি জানতাম তুমি এমন একটা অঘটন ঘটাবে, তাহলে জুন জেনির জায়গায় ধরে বেধে তোমাকে আগে বিয়ে দিতাম। এখনো হাতে সময় আছে। নিজের অনুভূতি এবং এরকম আচরণ নিয়ন্ত্রণে আনো। যেটা আমার চোখে ধরা খেয়েছে, সেটা যেনো আর কারো সামনে প্রকাশ না পায়। ভুলে যেও না তুমি যাকে ভালোবাসার দুঃসাহস দেখিয়েছো উনি একজন প্রিন্সেস। উনার দিকে চোখ তুলে তাকানোও দণ্ডনীয় অপরাধ। আমার কথা বুঝতে পারছো তুমি? “

ক্লাডিয়াস কেবল মাথা নেড়ে হ্যাঁ বুঝায়। জোসেফের ঠোঁটের কোণে কিঞ্চিৎ হাসি ফুটে উঠে। সে অহংকার মিশ্রিত স্বরে বলে উঠে,

“ আমি জানি তুমি কোনো ভুল করবে না। হাজার হোক তুমি আমার ছেলে। নিজের পিতার মতো বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিবে সবসময়। “

ক্লাডিয়াস চোখ তুলে পিতার দিকে তাকায়। মনে মনে সে বিড়বিড়িয়ে উঠে,

“ আমি তোমার ছেলে এটাই তো আসল সমস্যা। তুমি প্রাণ ঝুঁকি নিয়ে রক্তচোষাদের হয়ে কাজ করতে। অপরদিকে আমি প্রাণ ঝুঁকি নিয়ে ও-ই রক্তচোষাদের মেয়ে এবং রাজ্যের প্রিন্সেসকে ভালোবেসে ফেলেছি। “

চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন