প্রণয়তিথি
লেখনীতে : নাফিসা তাবাসসুম খান
২৬.
বৈঠক কক্ষে দাঁড়িয়ে কাউন্ট ইয়ান আলবার্ট। তার পায়ের কাছে পড়ে আছে বিশাল কাগজে আঁকা রাজ্যের মানচিত্রের নকশাটা। হাতের তলোয়ারের ধাঁরালো অগ্রভাগটা সে-ই নকশার উপর স্থির করে রেখেছে ইয়ান। তার সামনেই দাঁড়িয়ে প্রধান সেনাপতি সহ বিশেষ দলের অন্য সদস্যরা। কেভের দৃষ্টি আজ নত। হার মেনে নেওয়া স্বরে বলে,
“ পুরো রাজ্যের প্রতিটা এলাকা, বন জঙ্গল, আস্তানা খোঁজা শেষ কাউন্ট। কোনো জায়গা বাদ রাখি নি আমরা। প্রিন্সেসের কোনো হদিস মিলে নি কোথাও। “
ইয়ানের মুখভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন দেখা গেলো না। নির্বাক চিত্তে মানচিত্রের পানে তাকিয়ে সে। তবে বুকের ভেতর বয়ে যাচ্ছে অসহ্যকর ঝড়। বোনকে না পাওয়ার হতাশা, নিজের মা'য়ের আশা গুড়ে বালি করার নিরাশা এবং নিজের অযোগ্যতার ভার ওকে কৃষ্ণ সাগরের অতলে নিয়ে ফেলছে ক্ষণে ক্ষণে।
এইতো হাতে কেবল আর তিনদিন আছে। ঠিক তিন দিন পরে প্রাসাদের সম্মুখে জোড়ো হবে প্রজারা। নাওমিকে স্বচক্ষে দেখতে চাইবে তারা। তখন? তখনও কি তার মা'ই যাবে প্রজাদের সামনে নতমস্তকে? ইয়ানের কি একটুও দায় নেই? নাকি পরিবারের সকলের কথা মেনে ও ভীড়ুর মতো নিজের কামরায় গা ঢাকা দিয়ে থাকবে?
মনে মনে নিজেকে তিরস্কার করতে করতে ইয়ান নীরবে বৈঠক কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। কাউন্টের এরকম নির্লিপ্ততা দেখে গোপন দীর্ঘশ্বাস ফেলে প্রধান সেনাপতি কেভ। কাউন্টার হতাশা সে টের পেয়েছে। আন্দাজ করতে পারছে উনার ভাবনা গুলো। তবে বৈঠক কক্ষে উপস্থিত আরেকটা হতাশ মুখও কেভের দৃষ্টি এড়ালো না। সেটা হলো ক্লাডিয়াসের। কেভ সহ সমগ্র দলের সদস্যরাও নিজেদের ব্যর্থতায় হতাশ। তবে ক্লাডিয়াসের হতাশাটা কেনো যেনো আরো গভীর বলে মনে হলো কেভের নিকট।
__________
দূর্গের এ-ই পরিপাটি কক্ষটায় বন্দীর ন্যায় দিন কাটছে নাওমির। দরজাটা বাহির থেকে বন্ধ থাকে সারাদিন। জানালা গুলোও জং ধরে যাওয়ার কারণে ঠিকঠাক খোলা যায় না। নাওমি একদিন খোলার চেষ্টা করেছিলো। তবে জং ধরা জানালার ক্যাটকেটে শব্দে সঙ্গে সঙ্গে বাহির থেকে আব্দুল নামক ওই শয়তানদের সহকারীটা দৌড়ে এসেছিলো।
এ-ই মুহূর্তেও জানালার নিকটই দাঁড়িয়ে আছে নাওমি। বিগত চার দিনে তার জ্বর এবং দূর্বলতা দুটোই কিছুটা দূর হয়েছে। শারীরিক ভাবে মোটমুটি সুস্থই সে। তবে তার আত্মা এই বন্দিত্বে মোটেও সুস্থ বোধ করে না। সর্বক্ষণ মনে হয় এ-ই বুঝি দমবন্ধ হয়ে সে মারা যাচ্ছে। চোখে আশার আলো দেখা না গেলেও, মনের গহীন কোণে তার এখনো সুপ্ত আশা রয়ে গিয়েছে। সে-ই আশার তাড়নাই তো অকারণে সারাদিন এ-ই জানালার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে সে। মনে হয়, এই বুঝি বাবা তার খোঁজ করতে করতে এসে পৌঁছাবে। এই বুঝি তার ভাই এসে ওই অসভ্য পুরুষের বুকে তলোয়ার চালিয়ে বলবে,
“ আমার বোনকে অপহরণের দুঃসাহস দেখানোর অপরাধে এখনই তোর মৃত্যু হবে। “
নাওমির বুক ভার হয়ে আসে। বিগত চার দিনে কম চেষ্টা তো করে নি সে। যতবারই পালানোর ফন্দি এঁটেছে, ততবারই তিন পঙ্গপাল ওর পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে। বিশেষ করে ছলনাময়ীর শয়তান ভাইটা। কেমন শকুনের নজর ওই পুরুষের! ও-ই নজর এড়িয়ে হম্বিতম্বি করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। নাওমিও বোধহয় হাল ছেড়ে দিয়েছে। মেনে নিয়েছে নিজের নিয়তি। প্রাসাদে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছেশক্তি প্রায় নিভু নিভু৷ এই জীবনে আর তার দুচোখ ভরে পৃথিবী দেখা হবে না। রূপকথার গল্পের মতো সে একটা সুখী প্রিন্সেস হতে পারবে না কোনোদিন। তার নামের পাশে আর তিনদিন পরেই কলঙ্কের সিল লেগে যাবে। হাহ! কি দূর্ভাগ্য!
আকাশের আলো আঁধারে ঢাকা পড়েছে। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হতে চললো। দরজায় শব্দ হয় হঠাৎ করে। নাওমি ঘুরে তাকায়। আব্দুল এসেছে। হাতের ট্রে তে করে খাবার নিয়ে এসেছে। একটা প্লেটে জাফরানি পোলাও এবং সঙ্গে রয়েছে স্বসাদু পোড়া ভেড়ার গোস্ত। এই ভেড়াটাকে নিজ হাতে বিসমিল্লাহ বলে জবাই করেছে আব্দুল। সম্পূর্ণ হালাল!
নাওমি মুখ কালো করে বলে,
“ শূয়রের গোস্ত পাও না তোমরা বাজারে? “
আব্দুল সঙ্গে সঙ্গে চোখমুখ কালো করে আরবিতে কিছু একটা শব্দ উচ্চারণ করলো। নাওমি বুঝলো না সেটার অর্থ। সে কেবল নীরবে তাকিয়ে রইলো। হাতের ট্রে টা বিছানায় রেখে আব্দুল বললো,
“ খেয়ে নিবেন। “
নাওমি বিগত চারদিনে টের পেয়েছে আব্দুল খুবই বাধ্য এবং মার্জিত স্বভাবের ভৃত্য। বিগত চারদিন ধরে আব্দুল ও-ই ছলনাময়ী জেইলানের সঙ্গে আর রাজধানী যায় না। আব্দুলের পরিবর্তে বেহজাদ নামক ওই একনিষ্ঠ ভাইটা নিজের বোনকে পাহারা দিতে যায়। এ-ই যাওয়া আসাটাও চলে নাওমি ঘুম থেকে উঠার আগে এবং ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে যাওয়ার পরে।
প্রথম প্রথম নাওমি এ-ই আব্দুলের সঙ্গে একা দূর্গে থাকা নিয়ে খুবই নাখোশ ছিল। সর্বক্ষণ সচেতন থাকতো নিজের সম্মানটুকু মুঠোয় পুরে৷ তবে আব্দুলের সার্বক্ষণিক নত দৃষ্টি এবং মেপে দুই শব্দে বলা কথার পিঠে নাওমি ধীরে ধীরে সহজ হয়েছে। মনের গোপন ভয়টুকু অজান্তেই দূর হয়ে গিয়েছে। পিতার বয়সী এই লোকটার প্রতি এখন আর অনিশ্চিত ভয় কাজ করে না তার।
ট্রে রেখে আব্দুল বেরিয়ে যেতে উদ্যোত হলেই নাওমি পিছু ডাকে,
“ আব্দুল! আমার সামনে কিছুক্ষণ বসবে? একা বসে খাওয়ার অভ্যাস নেই আমার। বিগত দিনগুলোতে পরিবারহীন খাবার গ্রহণের সময়টুকুতে আমার গলা দিয়ে কেনো যেনো খাবার নামতে চায় না। মনে হয় ক্ষুধা মরে গিয়েছে। “
কথাগুলো বলতে বলতে ধীর পায়ে বিছানার দিকে এগিয়ে গেলো নাওমি। তার প্রতি কদমে নুপুরের ন্যায় শব্দ ভেসে আসছে। কিন্তু সে-ই শব্দের উৎস হলো তার পায়ে বাধা শিকল। বেহজাদ নামক ও-ই বর্বর এ-ই শিকল বেধেছে তার পায়ে। নাওমি যেনো পালাতে না পারে। শিকলটা আসলেই কার্যকরী! নাওমি এটা পরে ধীর কদমে হাঁটতে সক্ষম হলেও, কখনো দৌড়াতে পারবে না।
নাওমি বিছানায় গিয়ে খাবারের ট্রেয়ের সামনে বসলো। তার কথার পিঠে আব্দুলও আর যায় নি। নীরবে দরজার ওখানটায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। নাওমি এক চামচ পোলাও তুলে মুখে দেয়। আব্দুলের দিকে তাকিয়ে চিবুতে চিবুতে নরম স্বরে প্রশ্ন করে,
“ আমি কোন পাপের শাস্তি পাচ্ছি তুমি বলতে পারো? “
আব্দুল নীরব। কোনো রা শব্দ করে না সে। নাওমি বলে,
“ ও-ই ভাইবোন দুটোর কি এমন ক্ষতি করেছে আমার পরিবার? কেন আমার ভাইকে খুন করতে মরিয়া তারা? কেন এতো ঘৃণা ওদের মনে? “
আব্দুল এবারও চুপ। নাওমি এবার কিছুটা তেজ নিয়ে বলে,
“ তোমাদেরকে আমার মিথ্যাবাদী বলে মনে হয়। অহেতুক রক্তের খেলায় নেমেছো। তোমরা কেন, গোটা বিশ্ব এসে বললেও আমি কখনো বিশ্বাস করবো না আমার পরিবার কখনো কারো ক্ষতির কারণ হয়েছে। “
এরকম একা একা বিভিন্ন কথা বলতে বলতে নাওমি এ-ই প্রথম পুরোটুকু খাবার শেষ করলো। সে পানি খেয়ে পা ঝুলিয়ে বসে থাকতেই আব্দুল এসে খাবারের ট্রে টা নিয়ে বেরিয়ে যায়। দরজাটাও বাহির থেকে তালাবদ্ধ করে দেয়। পুরো ঘটনার মাঝে আব্দুল লক্ষ্যই করলো না যে কথার তালে তালে নাওমি অতি গোপনে কাঁটা চামচটা নিজের জামার ভাজে লুকিয়ে রেখে দিয়েছে।
__________
নীরব কক্ষ। খোলা জানালা দিয়ে প্রবেশ করছে সাই-সাই বাতাস। কক্ষে প্রবেশ করতেই ম্যাথিউর দৃষ্টি গেলো টানটান হয়ে শুয়ে থাকা স্যাফিরার দিকে। দু চোখের পাতা বদ্ধ তার। ঘুমিয়েছে কি?
ম্যাথিউ নীরবে এগিয়ে যায়। ক্লান্ত ভঙ্গিতে গায়ের ক্লকটা খুলে রেখে স্ত্রীর পাশটায় বসে। স্যাফিরা চকিতে চোখ মেলে তাকায়। ম্যাথিউকে দেখে ব্যস্ত ভঙ্গিতে সঙ্গে সঙ্গে উঠে বসে সে। আশপাশটায় অনুসন্ধানী নজর বুলিয়ে জিজ্ঞেস করে,
“ নাওমি? আমার মেয়ে? আজও ওকে সঙ্গে নিয়ে ফিরো নি? “
ম্যাথিউ ফ্যালফ্যাল দৃষ্টি মেলে কতক্ষণ স্যাফিরাকে দেখে। অতঃপর ধীরে স্ত্রী'র মাথাটা নিজের বুকে চেপে ধরে। স্যাফিরা শান্ত হয়ে যায়। আর একটাও প্রশ্ন করে না। বুঝতে পারে শান্তনাবোধক এই আলিঙ্গনের মর্মার্থ। স্যাফিরার এই নিস্তব্ধতায় ম্যাথিউর ভেতরটা প্রতিমুহূর্তে দুমড়ে মুচড়ে আসে। সে ধরা গলায় বলে,
“ সম্পূর্ণ রাজ্য খুঁজে দেখা শেষ। প্রতিটা কোণে গিয়ে খুঁজেছি ওকে। কোথাও পাই নি… “
স্যাফিরা প্রাণহীন স্বরে বলে,
“ তোমরা কি ওকে মৃত ধরে নিয়েছো? ভাবছো নাওমিকে ওরা মেরে কোথাও মাটি চাপা দিয়ে দিয়েছে? নাওমি… “
স্যাফিরার সম্পূর্ণ কথা শেষ করার সুযোগ দেয় না ম্যাথিউ। দু'হাতের মাঝখানটায় ওর মুখ ধরে বলে,
“ বেঁচে আছে। আমি জানি, ও বেঁচে আছে। ওকে মারার সাধ্য আছে কার? আমাদের মেয়েকে চিনো না তুমি? ও নিশ্চিত ও-ই অপহরণকারীদের জীবন ইতিমধ্যে অতিষ্ট করে তুলেছে। “
চরম এ-ই হাহাকারের মুহূর্তেও ম্যাথিউর কথার পিঠে স্যাফিরা মলিন হাসলো। ম্যাথিউ ভুল বলে নি। নাওমি এতো সহজে হার মানার মতো মেয়ে নয়। স্যাফিরা চিনে নিজের মেয়েকে। নাওমির অদম্য সাহস রয়েছে। কেউ ওকে পরাস্ত করতে পারবে না। তার মেয়ে সে-ই সুযোগই দিবে না।
ম্যাথিউ ভরসা জুগিয়ে বলে,
“ তুমি আশা ছেড়ো না। আমি আছি না? সকলে আশা ছেড়ে দিলেও, আমি ওকে খুঁজে যাবো। যতক্ষণ না আমি নাওমিকে পাচ্ছি আমি স্থির হবো না। ওকে তোমার কাছে ফিরিয়ে না এনে হার মানবো না। “
নিজের কথাটুকু শেষ করেই ম্যাথিউ স্ত্রী'র হাতের পিঠে চুমু খায়। স্যাফিরা যেনো ভরসা খুঁজে পেলো। মনের গহীনে সে অবিরত প্রার্থনা চালিয়ে যায়।
__________
মোমবাতির টিমটিমে আলোয় শরাবের আসর জমে উঠেছে। বিশাল রাজকীয় কক্ষে একটা রাজার ন্যায় আসনে বসে আছে এক পুরুষ। পোশাক, মুখভঙ্গি সবকিছুতে রাজকীয়তার ছাপ। ভাসা ভাসা চোখে প্রকাশ পাচ্ছে মাতাল ভাব। পঞ্চাশার্ধো বয়সের এ-ই পুরুষ যখন গ্লাসে থাকা শারাবটুকু পানে ব্যস্ত তখন তার ব্যক্তিগত এক সেনা বলে উঠে,
“ পাশের রাজ্যের অবস্থা স্থিতিশীল নয় কাউন্ট। রাজ পরিবারের সদস্য নিখোঁজ। প্রিন্সেস নাওমি। প্রজাদের মধ্যে ব্যাপারটা জানাজানি হয়ে গিয়েছে। তবে সবসময়ের মতো এবারও কাউন্ট ইয়ানের ও-ই ধূর্ত মা পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। প্রজাদের কাছ থেকে এক সপ্তাহের সময় চেয়ে নিয়েছে। এক সপ্তাহ পূরণ হতে কেবল আর তিনদিন বাকি। “
গ্রীক সাম্রাজ্যের কাউন্ট মাইকেল বিরক্তিমাখা স্বরে বলে,
“ রাজমাতা আনাস্তাসিয়া! কাউন্ট ইয়ানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক অপ্রতিরোধ্য দূর্গের ন্যায় এই নারী! এ-ই নারী না থাকলে তার ও-ই ভীতু ছেলেটাকে পা দিয়ে মাড়িয়ে এতদিনে মাটিতে পিষে ফেলতাম আমি। “
পিতার সামনে বসে মদ্যপানে ব্যস্ত প্রিন্স এনাটোডা নেশালো স্বরে বলে,
“ সব দোষ তো আপনার! বলেছিলাম আমাকে অনুমতি দিতে। ও-ই ইয়ানটাকে মেরে এতদিনে রোমানিয়া নিজেদের দখলে নিয়ে নিতে পারতাম। “
রক্ত গরম ছেলের মূর্খের ন্যায় কথা শুনে রাগ হলেন কাউন্ট মাইকেল। ছেলেকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সে সেনাপতির দিকে তাকায়। কিছুটা ক্রুর হেসে বলে,
“ প্রিন্সেসের নিখোঁজের পিছনে কাদের হাত আছে তা ভালো করেই জানি আমি। এটাই কাম্য ছিলো আমার। তুরস্কের যুবরাজ এবং রাজকুমারী আলবার্টদের শেষটা দেখে ছাড়বে। দু পক্ষেই সংঘর্ষের আশংকা! বাতাসে যুদ্ধের গন্ধ পাচ্ছি। লাগুক এরা! শেষ করে দিক এক অপরকে। তারপর তুরস্ক এবং রোমানিয়া সম্পূর্ণটা আমার! পুরো পৃথিবীর অর্ধেকটা আমার মুঠোয় থাকবে। “
কাউন্ট মাইকেলের চোখ জোড়া চিকচিক করে উঠে। যেনো সুদূর ভবিষ্যৎ নিয়ে করা পরিকল্পনাটা তার চোখেরই সামনে। প্রিন্স এনাটোডা ফোঁড়ন কাটে।
“ আপনার মনে হয় প্রিন্সেস নাওমির এ-ই নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার পিছনে ওই ভাইবোনের হাত আছে কোনো? বাদশাহ কামরান আতাউল্লাহ নিজের প্রাণপ্রিয় সন্তানদের আগুনের মুখে ছেড়ে দেওয়ার মতো বোকা? আমার তো মনে হয়, প্রিন্সেসকে অন্য কেউ অপহরণ করেছে। “
সেনাপতি নিচু স্বরে এনাটোডাকে উদ্দেশ্য করে বলে,
“ প্রিন্স, আমাদের গোপন বার্তাবাহক নিশ্চিত করেছে। রাজকুমারী জেইলান কিংবা যুবরাজ বেহজাদ কেউ-ই তুরস্কে নেই। সুতরাং উনারা এ-ই মুহূর্তে রোমানিয়াতেই অবস্থান করছেন। “
নেশায় বুদ হয়ে বসে ঢুলতে থাকা এনাটোডা কতটুকু শুনতে পেলো তা বুঝা গেলো না। সে চোখ বুজে কেবল অস্পষ্ট স্বরে বলে উঠে,
“ দুই রাজ্যের দখলদারিত্ব আপনার হোক তবে দুই রাজকুমারী যেনো আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। শুনেছি রাজকুমারী দু'জনই ঐশ্বরিক সৌন্দর্যের মালকিন। এরকম সৌন্দর্য কেবল আমার পাশেই মানায়। “
এনাটোডা ডিভানে পিঠ এলিয়ে দিয়ে ঘুমে ডুব দিয়েছে। কাউন্ট মাইকেল সেদিকে আর তোয়াক্কা করলো না। তিনি সেনাপতিকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করেন,
“ বাদশাহ কামরান আতাউল্লাহর শারীরিক স্থিতি সম্পর্কে কোনো তথ্য পেয়েছো? “
সেনাপতি রহস্যময় ভঙ্গিতে হেসে বলে,
“ চিন্তা করবেন না কাউন্ট। শীঘ্রই কাঙ্ক্ষিত খবরটুকু পেয়ে যাবেন আপনি। শূন্য সিংহাসনটা ওদিন আপনার দখলে থাকবে। “
কাউন্ট মাইকেল হাসতে হাসতে আবার মদ্যপানে মগ্ন হয়। আর কেবল ক'টা দিনের অপেক্ষা! তারপরই চূড়ান্ত বিজয়টা তার মুঠোয় থাকবে।
চলবে…