ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়তিথি

৩৫তম পর্ব

লেখক: নাফিসা তাবাসসুম খান

প্রণয়তিথি

লেখনীতে : নাফিসা তাবাসসুম খান

৩৫.

মৃত পিতাকে এতো শতাব্দী পর নিজের চোখের সামনে দেখে আরোণের প্রতিক্রিয়া ভূত দেখে চমকে যাওয়ার মতো ছিল। সে বুঝে উঠতে পারছে না কিছু। সে তো নিজ হাতে তার পিতাকে খুন করেছিলো। তাহলে এখন সামনে যাকে দেখছে সে কে? ওরেল রদ্রিগেজের এই রহস্যময় অস্তিত্বের পিছনে কি কারণ লুকিয়ে আছে?

মনুষ্য শরীরে রূপ নেওয়া ওরেল রদ্রিগেজ এক কদম এগিয়ে এসে বলে,

“ আমায় দেখে খুশি হও নি? “

আরোণের চোখমুখ হতে বিস্ময়তা উবে গিয়ে ঘৃণার উদ্রেক দেখা দেয়। সে ক্যামেলিয়ার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁত কিড়মিড়িয়ে শুধায়,

“ মোটেও না। তোমার সম্পর্কে কোনো কিছু জানতে আগ্রহী নই আমি। আমার এবং ক্যামেলিয়ার থেকে দূরে থাকবে। “

বলেই আরোণ ক্যামেলিয়ার হাত ধরে সেখান থেকে প্রস্থানের জন্য পা বাড়াতে নেয়। তবে ক্যামেলিয়া নিজ জায়গা থেকে নড়ে না। বরং আপন জায়গায় অনড় দাঁড়িয়ে থেকে সে বলে উঠে,

“ উনার কথাটা একবার শুনো, বাবা। “

আরোণ রাগ নিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে মেয়ের মুখপানে তাকায়। ক্যামেলিয়া অনুরোধের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আরোণ রাগ নিয়েই প্রশ্ন করে,

“ এই লোকের সঙ্গে তোমার পরিচয় কি করে হয়েছে? আর তখন যেসব তন্ত্রমন্ত্র পড়ছিলে? এগুলো এই লোক তোমাকে শিখিয়েছে? “

ক্যামেলিয়া কিছুটা বুঝানোর স্বরে বলে উঠে,

“ তুমি যা খুঁজে বেড়াচ্ছো, সে-ই উপায় উনার জানা আছে। একটাবার উনার পুরো কথাটা তো শুনো তুমি। তোমাদের দু'জনেরই অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়ার একমাত্র পথ এটা। “

আরোণ রক্তিম দৃষ্টি মেলে তাকায় ওরেল রদ্রিগেজের পানে। উনাকে শাসিয়ে জিজ্ঞেস করে,

“ আমার মেয়েকে কিসব বুঝিয়েছো তুমি? আমাকে অভিশপ্ত করে সুখ মিলে নি তোমার? এখন আবার কোন নতুন অভিশাপ সঙ্গে নিয়ে ফিরে এসেছো? “

ওরেল রদ্রিগেজ এবার মুখ খুলে,

“ কোনো নতুন অভিশাপ নিয়ে নয় বরং পুরনো অভিশাপের ইতি টানতে এসেছি আমি। “

আরোণ বিদ্রুপের সুরে হেসে বলে,

“ চমৎকার ঠাট্টা করছো। “

ওরেল রদ্রিগেজের কণ্ঠে কিছুটা অপরাধবোধের ছাপ,

“ আমি সত্যি বলছি, আরোণ। “

আরোণ কোনো কথা শুনতে নারাজ। সে জোর করে ক্যামেলিয়ার হাত ধরে তাকে টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। ঠিক সে-ই মুহূর্তে পেছন থেকে ওরেল বলে উঠে,

“ তুমি মৃত্যু চাও, আরোণ এবং আমি সে-ই মৃত্যু কার্য সিদ্ধ করতেই ফিরে এসেছি। অভিশপ্ত তুমি একা হও নি। জাদুবিদ্যার অপব্যবহারের কারণে আমিও অভিশপ্ত হয়েছি। আমাদের দু'জনের অভিশাপ কাটানোর পথ কেবল একটাই। বিশেষ এক বলি সম্পাদনের মাধ্যমে এই নেকড়েমানব অভিশাপকে ধূলিসাৎ করে দেওয়া। “

ওরেলের পিছন থেকে বলে উঠা কথা শুনে আরোণ কিছু সময়ের জন্য থমকে দাঁড়ায়। তবে পরমুহূর্তেই সে আবার ক্যামেলিয়াকে নিয়ে পা বাড়াতে নেয়৷ ওরেল নামক এই জাদুকরের কোনো কথাকেই সে বিশ্বাস করবে না। ওরেল ফের পেছন হতে বলে উঠে,

“ তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে পারছো না, তাই না? নিশ্চয়ই ভাবছো, আমি অসম্ভব আশ্বাস দিচ্ছি তোমাকে? তবে তুমি চাও আমি তোমাকে নিজের ক্ষমতার এক ঝলক প্রমাণ দেখাই? কি দেখালে বিশ্বাস করবে তুমি? তোমার ক্যাথরিনকে দেখাবো? “

ক্যাথরিনের নাম শুনতেই আরোণ থেমে যেতে বাধ্য হয়। ক্যামেলিয়াও চমকে পিছু ঘুরে তাকায়। সে ওরেলের কথার অর্থ বুঝে উঠতে পারছে না। ওরেল আরোণকে উদ্দেশ্য করে বলে,

“ ক্যাথরিনকে দেখতে চাও? দেখাবো আমি? তবে আমাকে বিশ্বাস করবে তো তুমি? “

আরোণ চোখ বুজে নেয় এক পলের জন্য। চোখের পাতায় ভেসে উঠে চমৎকার সুন্দর একটা মুখশ্রী। এই মুখখানা তো বহু বছর ধরে কেবল তার স্মৃতির পাতায় বন্দী হয়ে আছে। সে-ই স্মৃতির সিন্দুক হতেই আরোণের মনে রয়ে গিয়েছে এই মুখখানা। আবারও সেই পরিচিত মুখের দেখা পাওয়া কি সম্ভব?

আরোণ ধীরে ধীরে পিছনে ঘুরে তাকায়। ওরেল মৃদু হাসে। মুখে হাসি নিয়েই সে এগিয়ে যায় জলধারা বয়ে নামা লেকের নিকট। লেকের পানি চাঁদের আলোয় বেশ স্বচ্ছ এবং উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। ওরেল এক হাঁটু গেড়ে বসে লেকের পানিতে নিজের বাম হাত রাখে। অতঃপর নিজের চোখ বুজে নিয়ে বিড়বিড়িয়ে কিছু একটা পড়তে শুরু করে।

আরোণ ক্যামেলিয়ার হাত ছেড়ে দিয়েছে ততক্ষণে। সে এক পা, দু পা করে লেকের ধারে এগিয়ে যাচ্ছে। ক্যামেলিয়াও কৌতূহলী দৃষ্টি মেলে দেখছে ওরেলকে। হুট করেই লেকের তীরের শান্ত শীতল পানির বুকে একটা প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠে। আরোণ স্পষ্ট দেখতে পায় লেকের পানিতে পরিচিত সেই মুখের প্রতিবিম্ব। খুবই পরিচিত সে-ই মুখটার এক ঝলক আরোণের নিঃশ্বাস রুদ্ধ করার জন্য যথেষ্ট ছিলো। সে অবিশ্বাস্য ভঙ্গিতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। আলতো হাত বাড়িয়ে ছুৃঁয়ে দেখতে চায় একবার ক্যাথরিনকে। তবে হাতে লেকের জল ব্যতীত আর কোনো কিছু অনুভব করে না সে।

ক্যামেলিয়া ফ্যালফ্যাল দৃষ্টি মেলে দেখছে জলের পানে। বাদামী চুলের এই সুন্দরী যুবতী তার মা? যাকে খুব ছোট বয়সেই হারিয়ে ফেলেছিলো ক্যামেলিয়া, কখনো যাকে দেখার সুযোগ হয় নি তার, সে-ই মা-ই এটা? ক্যামেলিয়া বোধহয় কখনো স্বপ্নেও ভাবে নি এই সৌভাগ্য হবে তার। ক্যামেলিয়ার অস্ফুটে বলে উঠে,

“ মা… “

কেবল এক ঝলক ক্যাথরিনের মুখের দর্শন দেখিয়েই ওরেল নিজের হাত পানি থেকে তুলে নেয়। বন্ধ করে নিজের মন্ত্র পাঠ। সঙ্গে সঙ্গে ক্যাথরিনের প্রতিবিম্ব জলে মিলিয়ে যায়। আরোণ তখনও ঘোর থেকে বের হতে পারছে না। তার অশ্রু জোড়া ছলছল করছে।

ক্যামেলিয়াও বাকরুদ্ধ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রয়। নিজের মা'য়ের এক ঝলক যেনো তার জন্য যথেষ্ট ছিলো না। তার চোখ নিজের মা'কে আরো কিছুক্ষণ দেখার জন্য তৃষ্ণার্ত। ওরেল এবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলে,

“ দেখলে তো? বিশ্বাস হলো আমাকে? এখনো তোমার মনে অবিশ্বাস আছে কোনো? “

আরোণ চোখ বুজে কিছুটা নিঃশ্বাস টেনে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। ওরেলের দিকে তাকিয়ে সে গম্ভীর স্বরে আওড়ায়,

“ কি বলতে চাও বলো তুমি। আমি শুনছি। তোমার অভিশাপ মুক্তির উপায় শোনা যাক তবে। “

__________

নিজের সৈন্য বাহিনী নিয়ে রাতের আঁধারে লোকচক্ষু এড়িয়ে ট্রান্সেলভেনিয়ার সীমানায় প্রবেশ করেছে ইয়ান আলবার্ট। ঘোড়ার বেগ যথাসম্ভব দ্রুত রেখে এগিয়ে যাচ্ছে সে। তার পিছনেই রয়েছে প্রধান সেনাপতি এবং তার বিশেষ দল। সকলের মনেই চাপা উত্তেজনা কাজ করছে। ইয়ান এবং কেভ ব্যতীত আর কেউ পূর্বে এই ট্রান্সেলভেনিয়ার সীমানা মাড়ায় নি কখনো। সকলেরই গা ছমছম করছে কিছুটা।

এই বিশেষ দলের মধ্যে ক্লাডিয়াসও রয়েছে। সে যখন প্রাসাদে এক জরুরী প্রয়োজনে প্রধান সেনাপতির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল, ঠিক সে-ই মুহূর্তে কাউন্ট কেভকে জরুরী তলব করে। কাউন্টের কক্ষ হতে বেরিয়ে যখন কেভ নাওমির খোঁজের ব্যাপারে ক্লাডিয়াসকে অবগত করে, তখন কেভের পক্ষে আর সেনা শিবিরে ফিরে যাওয়া সম্ভব হয় নি। ঢিপঢিপ করা বুক নিয়ে সে-ও কাউন্টের সঙ্গে এসেছে।

ইয়ান মনে মনে প্রার্থনা করে চলেছে। এই ট্রান্সেলভেনিয়াতেই যেনো নাওমিকে খুঁজে পায় সে। এটাই যেনো নাওমিকে খুঁজে পাওয়ার জন্য শেষ অভিযান হয়। আজ যেনো সে প্রাসাদে নাওমিকে সঙ্গে নিয়েই ফিরতে পারে। প্রধান সেনাপতি পিছন হতে বলে উঠে,

“ কাউন্ট? আমাদের কি প্রিন্সেস নাওমির পিতাকেও এই সংবাদ জানানো উচিত ছিলো না? উনি নিশ্চয়ই খুশি হতেন! “

ইয়ান পথে দৃষ্টি স্থির রেখে খানিকটা উচ্চস্বরে জবাব দেয়,

“ আমি উনাকে মিথ্যা আশ্বাস দিতে চাচ্ছিলাম না। একবার নিজেরা নাওমিকে খুঁজে পাই। ওকে সুস্থ সবল অবস্থায় প্রাসাদে ফিরিয়ে নিতে পারলে, উনি এভাবেই খুশি হবেন। “

ইয়ানের কথায় যুক্তি আছে। কেভ আর কিছু বলে না। ইয়ান হুট করেই হাতের ইশারায় সকলকে ঘোড়া থামানোর আদেশ দেয়। ট্রান্সেলভেনিয়ার জঙ্গলের গহিনে একটা ছোট্ট কুঠিরের সামনে এসে উপস্থিত হয়েছে সে। ইয়ান বড়ো করে নিঃশ্বাস টেনে আবারও হাতের সাহায্যে কিছু একটা ইশারা করে। সঙ্গে সঙ্গে সকল সৈনিকেরা কুঠিরটাকে চারিপাশ হতে ঘিরে ফেলে। প্রত্যেকের মনেই কৌতূহল। এই কুঠিরের ভেতরেই কি প্রিন্সেসকে পাওয়া যাবে?

__________

তুষ দূর্গের প্রধান ফটকের সামনে এসে থেমেছে কালো রঙা ঘোড়াটি৷ ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমেই বেহজাদ বিনাবাক্য ব্যয়ে নাওমির কোমর আগলে ধরে তাকে নামতে সাহায্য করে। নাওমি কোনো টু শব্দ করে না। বেহজাদ নামক এই পুরুষের সঙ্গে তার ট্রান্সেলভেনিয়ার যাত্রাটা বোধহয় তার নিকট স্মরণীয় হয়ে থাকবে। পথে কতকিছু জানতে পেরেছে সে! জ্বিন সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব সম্পর্কে, মুসলিমদের জীবন-বিধান সম্পর্কে, তুর্কীতে দেখার মতো চমৎকার জায়গা সমূহ সম্পর্কে। অজানাকে জানার পিপাসু নাওমি মুগ্ধ হয়ে পুরোটা পথ বেহজাদকে কেবল শুনে গিয়েছে। নিজের বন্দীদশা সম্পর্কে বেমালুম ভুলে বসেছিল সে। তবে এই মুহূর্তে দূর্গের সামনে আসতেই আবারও নিজের বন্দিত্ব দশার কথা মনে পড়ে গেলো তার।

নাওমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথা নত করে ধীর পায়ে দূর্গের দিকে এগিয়ে যায়। ঘোড়াকে নির্ধারিত জায়গায় বাধতে বাধতে বেহজাদ লক্ষ্য করে নাওমির এই পরাজিত ভঙ্গিতে হেঁটে যাওয়া। মেয়েটার পালিয়ে যাওয়ার স্পৃহা বোধহয় নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে। এটাই তো ভালো! বেহজাদের একটু ঝামেলা কমলো এতে করে। এভাবেই আজ সকাল থেকে এই মেয়ের সামনে অভিনয় করতে করতে ক্লান্ত সে। তবে সারাদিনের এই এতটুকু ভালো ব্যবহারে মেয়েটা কিছুটা দূর্বল হয়েছে এটা বেহজাদ নিশ্চিত। এই দূর্বলতাটাকেই এখন বেহজাদ ব্যবহার করবে। জেইলানকে আলবার্টদের হাত থেকে ছাড়ানোর জন্য এবং নিরাপদে এ-ই রাজ্য ছেড়ে তুরস্কে ফিরে যাওয়ার জন্য নাওমিকে ব্যবহার করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই তার কাছে।

ঘোড়া বেধে রেখে দূর্গের ভিতরে যেতে নিয়েই কারো পদধ্বনির শব্দ শুনে বেহজাদ থেমে যায়। ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে ফিরে তাকাতেই দেখে মাথায় হুড টানা লম্বা ক্লক পরিহিত দু'জন ব্যক্তি দূর্গের আঙিনায় প্রবেশ করছে। প্রথম ব্যক্তি আব্দুল হলেও, দ্বিতীয় ব্যক্তিকে দেখে বেহজাদ চমকায়। নিজের মা'য়ের বিশ্বস্ত লোক কেরেমকে সে মোটেও রোমানিয়াতে আশা করে নি। বেহজাদ বিস্মিত স্বরে বলে,

“ কেরেম? “

কেরেম বুকের ডান পাশে একহাত রেখে মাথা সামান্য নত করে বলে উঠে,

“ আসসালামু আলাইকুম, যুবরাজ। “

“ ওয়ালাইকুম আস সালাম। তুমি এখানে কি করছো? আব্দুল, তুমি কেরেমকে কোথায় পেলে? “

আব্দুল জবাব দেয়,

“ আমি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বন্দরে গিয়েছিলাম, যুবরাজ। সেখানে সৌভাগ্যক্রমে কেরেমকে খুঁজে পাই। অনেক সাবধানতার সহিত ও রোমানিয়ায় এসে পৌঁছেছে আজই। আপনার খোঁজে পাঠানো হয়েছে ওকে। বাদশাহ বেগম জরুরী সন্দেশ পাঠিয়েছে ওর মাধ্যমে। “

বেহজাদ কেরেমের দিকে তাকাতেই কেরেম ক্লকের ভেতর হতে একটা ভাজ করা কাগজ বের করে। বেহজাদের দিকে কাগজটা এগিয়ে দিতেই বেহজাদ সেটা হাতে নিয়ে ভাজ খুলে। আরবি হরফে লেখা চিঠিটা পড়তে শুরু করে সে।

বেহজাদ,

বাবা আমার! কতদিন হয়েছে তুমি আমার চোখের আড়াল। এরকম একটা পাগলামি করার আগে কি একবারও আমার কথা মনে পড়লো না তোমার? রাজকুমারী কি তোমার কাছে নিজের মায়ের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ? যাই হোক, তোমাকে এক গুরুত্বপূর্ণ খবর জানাতে এই চিঠিটা লিখছি আমি। তোমার পিতা, আমাদের মাননীয় বাদশাহ শারীরিক ভাবে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন হুট করে। চলাফেরা করার পরিস্থিতিতেও নেই উনি। সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী অবস্থায় আছেন। দু চোখ মেলেও তাকাচ্ছেন না। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে, তারা কোনো রোগ খুঁজে পাচ্ছেন না। এদিকে তোমার পিতার অবস্থাও ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। চিকিৎসকরা আশা ছেড়ে দিয়েছে। তোমার পিতা নিজের অন্তিম প্রহর গুণছেন। যেকোনো মুহূর্তে উনি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে ফেলবেন। এরকম পরিস্থিতিতে রাজ্যের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে আছে, বাবা। সিংহাসন এবং রাজ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে তোমার এই মুহূর্তে নিজের পিতার পাশে উপস্থিত থাকাটা অত্যন্ত জরুরী। তোমার সিংহাসনে বসার সময় এসে পড়েছে। জেইলান ফিরবে না-কি না, সেটা আমার দেখার বিষয় না। আমি কেবল জানি, তোমার এ-ই মুহূর্তেই নিজের রাজ্যে ফিরে আসা উচিত। কেরেমকে আমি এই চিঠিটা দিয়ে পাঠাবো। ও তোমার নিরাপদে ফিরে আসার সকল ব্যবস্থা করে দিবে। আল্লাহর দোহাই লাগে, তুমি নিজের জেদ ছেড়ে ওর সঙ্গে দ্রুত নিজের রাজ্যে ফিরে আসো। নিজের সিংহাসন এভাবে শত্রুদের মুখে শূন্য অবস্থায় ফেলে রেখো না। আমি তোমার অপেক্ষায় থাকবো।

ইতি,

বাদশাহ বেগম আয়েশা

চিঠিটা সম্পূর্ণ পড়া শেষ হতেই বেহজাদ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। পিতার শারীরিক পরিস্থিতির কথা শুনে তার ভেতরটা অস্থির হয়ে উঠেছে। কপালে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে চিন্তার ছাপ। নিজের মা'য়ের কথাটাকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে আখ্যা দিতে পারছে না সে। বাদশাহ কামরান আতাউল্লাহ যদি আসলেই মৃত্যু পদযাত্রী হোন, তবে উনার সন্তান এবং যুবরাজ হিসেবে সাম্রাজ্যের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা এই মুহূর্তে বেহজাদের একান্ত দায়িত্ব এবং কর্তব্য। তবে সন্তান এবং যুবরাজের দায়িত্ব পালনের জন্য নিজের বোনকে এই হায়েনাদের আওতায় রেখে যাওয়াও তার পক্ষে সম্ভব হবে না। তাকে দ্রুত নিজের রাজ্যে ফিরতে হবে এবং জেইলানকে নিয়েই ফিরতে হবে।

কেরেম প্রশ্ন করে,

“ আপনার কি আদেশ, যুবরাজ? আপনি বললে আমরা এখনই রওনা হতে পারি। কিছু স্বর্ণমুদ্রা খরচ করলেই আমরা রোমানিয়ানদের সীমানা ছেড়ে নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পারবো। “

বেহজাদ কিছু বলতে নিবে ঠিক সে-ই মুহূর্তে দূর্গের ভেতর হতে নাওমির চিৎকার ভেসে আসে। বেহজাদ সহ উপস্থিত দু'জন চমকে দূর্গের পানে তাকায়। বেহজাদের খেয়াল হয় যে, আব্দুল তার সামনে উপস্থিত। তারমানে নাওমি দূর্গের ভেতর একা। একাকী মেয়েটা এভাবে চেঁচালো কেনো? হাতের চিঠিটা পকেটে গুজে বেহজাদ ভেতরে ছুটে। তার পিছু পিছু আব্দুল এবং কেরেমও ছুট লাগায়। প্রত্যেকেই দূর্গের ভেতর অন্য দলের উপস্থিতি সম্পর্কে বেখবর।

চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন