ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়তিথি

৩৬তম পর্ব

লেখক: নাফিসা তাবাসসুম খান

প্রণয়তিথি

লেখনীতে : নাফিসা তাবাসসুম খান

৩৬.

সবুজের বুকে তিনটা শুভ্র রঙা ঘোড়ার পিঠে বসে প্রতিযোগিতায় মত্ত দু'জন যুবরাজ এবং একজন রাজকুমারী। আকাশের তীর্যক আলো ছড়ানো সূর্যটাও যেনো তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাসছে। প্রবল বাতাসে মুক্ত মাঠের ঘাস দুলছে। যুবরাজ দু'জনকে পিছনে ফেলে প্রতিযোগিতার মধ্যমণি হয়ে এগিয়ে আছে রাজকুমারী জেইলান। মুখে ফুটে আছে তার জয়ের হাসি।

পেছন হতে বড়ো ভাইজানের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে,

“ সাবধানে জেইলান। গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে রাখো। ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়লে খুব চোট পাবে। “

জেইলানের কণ্ঠস্বরে ভাইদের প্রতি আস্থা এবং একইসঙ্গে বেপরোয়া ভাব,

“ আমি পড়বো না? আপনি আছেন না? বাঁচিয়ে নিবেন জানি। “

দেনিজ বলে উঠে,

“ সবসময় আমি থাকবো না তোমাকে বাঁচানোর জন্য। “

জেইলান সীমানা লক্ষ্যে দৃষ্টি স্থির রেখে বলে,

“ আপনি না থাকলে কি হয়েছে? বেহজাদ ভাইজান তো আছেন। উনি আমাকে বাঁচাবেন। “

পেছন হতে বেহজাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায়,

“ ভাইজান, আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন। আমি আছি তো। পড়তে নিলে বাঁচিয়ে নিবো। “

তিন ভাইবোনের কথার মাঝেই শেষ সীমারেখা পাড় করে যেতেই জেইলান ঘোড়ার লাগাম টেনে ঘোড়াকে স্থির করে দাঁড় করায়। ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে ফিরে নিজের ভাইদের পানে তাকিয়ে হেসে শুধায়,

“ বলেছিলাম না, আমাকে হারাতে পারবেন না আপনারা? “

যুবরাজ দেনিজ নিজ ঘোড়া থামিয়ে হার মানার ভঙ্গিতে বলে,

“ হ্যাঁ। আমরা হেরেছি, তুমি জিতেছো। এবার খুশি? “

যুবরাজ বেহজাদ ফোড়ন কেটে বলে,

“ পরাজয় স্বীকার করবেন না ভাইজান। আমরা মোটেও হারি নি। বরং ইচ্ছে করে জেইলানকে জিতিয়ে দিয়েছি আমরা। “

জেইলান গাল ফুলিয়ে বলে,

“ ভাইজান, আমাকে রাগানোর জন্য মিথ্যে বলবেন না। “

বেহজাদ আসামীর ন্যায় দু-হাত তুলে হেসে দিয়ে বলে,

“ আচ্ছা, আচ্ছা। আর রাগাবো না। খুশি? “

জেইলান হেসে ঘোড়ার পিঠ থেকে নামতে নিলেই দেনিজ এবং বেহজাদ একইসঙ্গে চেঁচিয়ে উঠে,

“ আরে, আরে। দাঁড়াও। অপেক্ষা করো। “

জেইলান হকচকিয়ে থেমে যায়। প্রশ্নবোধক দৃষ্টি মেলে নিজের ভাইদের পানে তাকায় ও। দেনিজ এবং বেহজাদ ততক্ষণে নিজেদের ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে জেইলানের ঘোড়ার কাছে এগিয়ে এসেছে। জেইলান কিছু বলতে নিবে, তার আগেই দু'ভাই মিলে তাকে কাধে তুলে বসিয়ে নেয়। জেইলান প্রথমে আতংকে চিল্লিয়ে উঠে। তবে পরমুহূর্তেই সে হেসে উঠে। নিজেকে বিজয়িনী মনে হচ্ছে কোনো! দেনিজ এবং বেহজাদ একইসঙ্গে বোনের জিত উদযাপন করতে থাকে।

অতঃপর। অতঃপর হুট করেই সব অন্ধকার হয়ে যায়। ছটফট করতে করতে জেইলানের ঘুম ভেঙে যায়। সে ক্লান্ত ভঙ্গিতে চোখ মেলে তাকায়। এতক্ষণ তবে সে স্বপ্ন দেখছিলো! কি সুন্দরই না ছিলো স্বপ্নটা!

পানির তেষ্টায় গলার ভেতরটা খাঁ খাঁ করছে। জেইলান কোনো মতে মেঝেতে হাতের ভর দিয়ে উঠে বসে। আশেপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকারের কারণে নিজেকেও স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে না সে। কি এক শাস্তি এ! জেইলান না চাইতেও অস্ফুটে উচ্চারণ করে,

“ পানি… “

তবে তার এই কথাটা কারো কানেই পৌঁছায় না। অন্ধকারে আরো বেশ কিছুক্ষণ অনাহার এবং পানির তেষ্টায় তড়পাতে তড়পাতে জেইলানের শরীরটা ছেড়ে দেয়। অসার দেহটা বা’দিকে হেলে মেঝেতে পড়ে যায়। কেউ আসে না তার জন্য পানি নিয়ে। কেউ আসে না তাকে বাঁচাতে।

__________

দ্রুত কদমে দৌড়ে সিড়ি বেয়ে দূর্গের দ্বিতীয় তলার করিডর প্রান্তে উঠতেই বেহজাদের পায়ের কদম থমকে যায়। করিডরের অপরপ্রান্তের দৃশ্যটা তাকে আপন জায়গায় স্থির হতে বাধ্য করে। ভীত, সটান ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে নাওমি। তার ঠিক পিছনেই তাকে জোর করে চেপে ধরে দাঁড়িয়ে আছে এক পুরুষ। অপরিচিত এ-ই পুরুষের হাতের ধারালো খঞ্জরটা ঠিক নাওমির গলার চামড়া ছুঁয়ে চেপে ধরা হয়েছে।

নাওমি বরফের মতো জমে আছে। ভুল করে ঢোকও গিলছে না। যদি গলাটা কেটে যায়? দু চোখ তার অশ্রুতে টইটম্বুর। বারবার এ-ই মৃত্যুর দ্বারে এসে থেমে যাওয়া তার মোটেও ভালো লাগছে না। হয় এরা তাকে মেরে ফেলুক, আর না-হয় বাঁচতে দিক।

বেহজাদ অপরিচিত পুরুষটাকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত পরখ করতেই বুঝতে পারে এই লোকটা ডাকাত দলের সদস্য। নিশ্চয়ই ভ্যাম্পায়ার এবং প্রেতাত্মাদের ভয় ভুলে খালি দূর্গে দামী জিনিসপত্র ডাকাতি করতে এসেছে? তবে এই লোক ডাকাত হলে তো এ-র একার আসার কথা নয়। সঙ্গে অবশ্যই সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে এসেছে। তারা কোথায়? দূর্গের ভেতরেই আছে?

সিড়ি বেয়ে উপরে আসতে নেওয়া আব্দুল এবং কেরেমকে সঙ্গে সঙ্গে হাতের ইশারায় বেহজাদ উপরে আসতে নিষেধ করে। আব্দুল এবং কেরেম যুবরাজের ইশারা আমলে নেয়। আপন জায়গায় নীরব ভঙ্গিতে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে তারা।

নাওমিকে ধরে রাখা ডাকাতটা বেহজাদের কৌশলে করা হাতের ইশারা লক্ষ্য করলো না। না টের পেলো আব্দুল এবং কেরেমের উপস্থিতি। সে কেবল আগ্রাসী স্বরে চেঁচালো,

“ একদম কাছে আসবি না। নইলে এ-ই মেয়ের গলা কেটে দিবো। এক্ষুণি খঞ্জর চালাবো বলে দিলাম। “

বেহজাদ অনেকটা গা ছাড়া ভাবে বলে,

“ এ-ই মেয়েকে কাটো, মারো, যা ইচ্ছা করো, আমার কোনো অসুবিধা নেই। আমার কাছেও ও বন্দী অবস্থায়ই ছিলো। এক দু'দিনের মাঝে খুন করে ফেলবো ভাবছিলাম। তবে তুমি ওকে মেরে দিলেও সমস্যা নেই। অযথা আমার হাত নোংরা হবে না। “

নাওমির চোখে মুখে অবিশ্বাসের ছাপ। অজানা কারণে সে আশা করেছিলো বেহজাদ হয়তো তাকে বাঁচাবে। কিন্তু সে হয়তো ভুলে গিয়েছিলো যে বেহজাদ একজন অপহরণকারী। এই লোক কখনো তাকে রক্ষা করবে না। এই লোকের কোনো ঠেকা পড়ে নি তাকে রক্ষা করার। নাওমির মুখ থেকে অবিশ্বাস্যকর প্রতিক্রিয়া বদলে গিয়ে, তার বদলে হতাশা এসে ভর করে। যেনো সে নিজের ভাগ্য মেনে নিয়েছে। বেহজাদের দৃষ্টি এড়ায় না নাওমির সম্পূর্ণ প্রতিক্রিয়া। তবে সে সেদিকে খুব একটা ভ্রুক্ষেপ করে না। বরং লক্ষ্য স্থির রাখে ডাকাতের দ্বিধাগ্রস্ত মুখভঙ্গির দিকে। বেহজাদ মনে মনে হাসে৷ তার বুদ্ধি কাজে লাগছে।

ঠিক সে-ই মুহূর্তে করিডরের একপাশের একটা কামরা হতে আরো দু'জন ডাকাত সদস্য বেরিয়ে এসে বিরক্তিকর স্বরে বলে,

“ এটা আসলেই রাজপরিবারের দূর্গ তো? কোনো স্বর্ণ, হীরা, পান্না নেই কোথাও। দামী কিছু খুঁজে পাই নি। “

ডাকাত দু'জনের কণ্ঠস্বর নিচ হতে কেরেম এবং আব্দুল শুনতে পায়। তারা বুঝতে পারে দূর্গে আরো ডাকাতের আনাগোনা রয়েছে সম্ভবত। তবে তাদের সংখ্যা ঠিক কতো তা বলা যাচ্ছে না। আব্দুল এবং কেরেম চোখের ইশারায় নিজেদের মধ্যে কথা আদান প্রদান করে নিচ তলায় ছড়িয়ে পড়ে কোনো ডাকাত আছে কি-না খুঁজে দেখতে। নিচ তলাটা একবার তল্লাশী করে পরে না-হয় দো তলার এদের শায়েস্তা করা যাবে।

বেহজাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করে বেরিয়ে আসা ডাকাত দু'জন নাওমির পানে তাকায়। সঙ্গে সঙ্গে তাদের মাঝে একজনের চোখ চিকচিক করে উঠে। তার দৃষ্টি স্থির হয় নাওমির গলায় থাকা হারের পানে। মোটামুটি দামীই মনে হচ্ছে এই হারটা। ডাকাতের লোভাতুর দৃষ্টি লক্ষ্য করতেই নাওমির শরীর ঠান্ডা হয়ে আসে। এরা কি করবে? তার গলা কেটে কি এই হারটা ছিনিয়ে নিবে? বেহজাদ? ওই লোকটা দূরে দাঁড়িয়ে দেখবে এ-ই দৃশ্য?

নাওমিকে ধরে রাখা ডাকাতটা এবার বেহজাদকে উদ্দেশ্য করে চেঁচিয়ে উঠে,

“ এই মেয়েকে তোর প্রয়োজন না হলে এখনই এখান থেকে প্রস্থান কর। আমাদের কাজে বাধা দিবি না ভুলেও। না-হলে তোকেও কুপিয়ে রেখে যাবো। “

বেহজাদ হাই তুলতে তুলতে বলে,

“ দুঃখিত। প্রস্থান করতে পারছি না। আপাতত আমি এই দূর্গেই অবস্থান করছি, ছেড়ে যাওয়া সম্ভব নয়। “

বেহজাদের কথার ফাঁকেই নাওমির গলার হারের দিকে দৃষ্টি তাক করা ডাকাতটা এগিয়ে গিয়ে তার গলা থেকে হারটা ছিনিয়ে নিতে উদ্যোত হয়। ঠিক সে-ই মুহূর্তে একটা চাকু উড়ে এসে তার ঘাড়ের ভেতর গেঁথে যায়। সঙ্গে সঙ্গে সে-ই জায়গাতেই ডাকাতটা গোঙানির সুর তুলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। রক্তপাতে মুহূর্তেই মৃত্যুবরণ করে সে।

আকস্মিক ঘটনায় নাওমি ভীত হয়ে কিছুটা মুচড়ে উঠে। সঙ্গে সঙ্গে তার গলায় চেপে ধরে রাখা খঞ্জরটার ধারালো অংশের চাপ লাগে। গলার একপাশের চামড়া ভেদ করে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসে। নাওমি সঙ্গে সঙ্গে নিজের গলা চেপে ধরে আর্তনাদ করে উঠে।

বেহজাদকে এ-ই পর্যায়ে আক্রমণাত্মক দেখায়। সে নিজের পায়ের গোড়ালির কিছুটা উপরে বাঁধা জায়গা হতে আরেকটা চাকু তুলে খঞ্জরধারী ডাকাতের কপালের মাঝ বরাবর ছুঁড়ে মারে। সঙ্গে সঙ্গে সে-ই ডাকাতটিরও মৃত্যু হয়। নাওমি নিজের গলা চেপে ধরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে ততক্ষণে। সে স্পষ্ট অনুভব করছে তার গলা চেপে ধরে রাখা হাত দুটো রক্তাক্ত হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। সে বুঝি মারা যাচ্ছে!

সঙ্গী দুই ডাকাতের মৃত্যুতে তৃতীয় ডাকাত ভীত হয়ে পড়ে। সে নিজের সঙ্গে আনা তলোয়ার বের করে বেহজাদের দিকে এগিয়ে আসতে নিলেও, বেহজাদ একহাতে তাকে প্রতিহত করে অন্য হাতে কানশা বরাবর একটা চটকানা লাগিয়ে নাওমির পানে ছুটে যায়। আব্দুল এবং কেরেম ততক্ষণে দো তলায় চেঁচামেচির শব্দ শুনে দৌড়ে এসেছে। চড় খেয়ে মাথা ঘুরতে থাকা তৃতীয় ডাকাতকে তারা মুহুর্তেই বন্দী করে নিয়ে, বেহজাদের দিকে তাকায়।

বেহজাদ ছুটে গিয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়া নাওমিকে নিজের দু হাতের ভেতর বুঝে নিয়েছে। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা তনুটাকে নিজের হাতের বাঁধনে আগলে ধরে সে বাকরুদ্ধ ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে। নাওমি কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে। তবে সে আর তা উচ্চারণ করতে পারে না। তার পূর্বেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে নিজের। বেহজাদ ব্যস্ত স্বরে ডাকে,

“ এই মেয়ে? চোখ খুলো। তাকাও বলছি। “

নাওমি সেই ডাকে সাড়া দেয় না। বেহজাদ দ্রুত ভঙ্গিতে নাওমির দু হাত সরিয়ে নিজে একবার গলার কাটাটা দেখে নেয়। সঙ্গে সঙ্গে সে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। আল্লাহ রহম করেছেন। কাটা ক্ষতটা খুব গভীর নয়। কেবল চামড়া কেটে রক্ত বের হচ্ছে। নাওমি তবে ভয় পেয়ে জ্ঞান হারিয়েছে। বেহজাদ নাওমিকে পাজা করে কোলে তুলে নিয়ে তার কামরার দিকে হাঁটা ধরে চেঁচিয়ে আব্দুলকে উদ্দেশ্য করে বলে,

“ এই মেয়ের চিকিৎসা প্রয়োজন এই মুহূর্তে, আব্দুল। কি ব্যবস্থা করবে দ্রুত করো। ওর জ্ঞান ফেরাও। “

আব্দুল পড়ে বিপাকে। সে কি এই প্রিন্সেসের বিনা বেতনের চিকিৎসক হয়ে গেলো নাকি? প্রতিদিন এ-ই মেয়ের কিছু না কিছু হয় এবং আব্দুলকেই পরে সেটার জন্য ওষুধ প্রস্তুত করতে হয়। কেরেম আপাতত যুবরাজ এবং সে-ই অচেনা রমণীকে নিয়ে ভাবার সময় পেলো না। সে বরং পেছন হতে বেহজাদকে প্রশ্ন করলো,

“ এই বন্দী ডাকাতের ব্যাপারে আপনার কি সিদ্ধান্ত? “

বেহজাদ নাওমিকে নিয়ে কামরার দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করতে করতে জবাব দেয়,

“ সঙ্গে চাকু আছে? থাকলে এক্ষুণি সেটা হাতে নাও। অসভ্যের গলাটা ঠিক বা পাশ থেকে একটানে চিরে ফেলো। বাঁচে না যেনো। খেয়াল রেখো। “

বেহজাদের আদেশ শুনে আব্দুল হতভম্ব। যুবরাজ এইমাত্র গলা কেটে দেওয়ার আদেশ দিলো? ঠিক কি কারণে? ওই প্রিন্সেসকে করা আঘাতের শোধ তুলতে? অবিশ্বাস্যকর স্বরে আব্দুল কিছু বলতে নিবে ঠিক সেই মুহূর্তেই কেরেম তার উপর বর্তানো আদেশটা পালন করে। চাকুর সাহায্যে একটানে ডাকাতটার গলা কেটে ফেলে। ছটফট করতে করতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে পুরুষালি দেহটা। আব্দুলের চোখের সামনেই মৃত্যুবরণ করে সে। আব্দুল কেবল বিস্মিত নয়নে দেখে যায় সম্পূর্ণ দৃশ্যটা।

__________

ছোট্ট পরিত্যক্ত কুঠিরে তল্লাশি শেষে হতাশ মুখে বেরিয়ে এলো দু'জন সৈন্য। তাদের মুখের হতাশা দেখেই ইয়ান নিজের প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেলো। অর্থাৎ, নাওমি এলাম নেই। তবে ইয়ান হার মেনে নিলো না। সে উজ্জীবিত স্বরে আদেশ করে,

“ হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এখনো সম্পূর্ণ ট্রান্সেলভেনিয়া খুঁজে দেখা বাকি আমাদের। আমার মনে হয় সবাই একসঙ্গে একই জায়গা খুঁজলে সময় বেশি লাগবে। সবাই দু'জনের দলে বিভক্ত হয়ে চারিপাশে ছড়িয়ে পড়ো। প্রতিটা পরিত্যক্ত বাড়ি, কুঠির, আশ্রম, লঙ্গরখানার সব ঘুরে দেখবে। জঙ্গলের প্রতিটা ডাল পাতার আড়ালে অব্দি খুঁজবে। কেভ, ক্লাডিয়াস এবং আরো দু'জন সৈন্য আমার সঙ্গে থাকবে। বুঝতে পেরেছো, সবাই? “

সৈন্যরা সঙ্গে সঙ্গে একসঙ্গে জবাব দেয়,

“ বুঝতে পেরেছি, কাউন্ট৷ “

তন্মধ্যে একজন সৈন্য প্রশ্ন করে,

“ অভিযান শেষে সকলে কোথায় মিলিত হবো কাউন্ট? “

ইয়ান আনমনে কিছু একটা ভেবে জবাব দেয়,

“ তুষ দূর্গে। আমি ওখানেই অপেক্ষা করবো তোমাদের। যে-ই প্রিন্সেসকে খুঁজে পাবে, সে সরাসরি ওকে নিয়ে তুষ দূর্গে এসে উপস্থিত হবে। “

সৈন্যরা সকলে কাউন্টের আদেশটুকু বুঝে নিয়ে দু'জনের দলে বিভক্ত হয়ে আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে খোঁজার উদ্দেশ্যে। ইয়ানও কেভ এবং ক্লাডিয়াসকে সঙ্গে নিয়ে রওনা হয় সামনের দিকে খুঁজে আসতে। মনে মনে প্রবল আত্মবিশ্বাস কাজ করছে তার। এই অভিশপ্ত ট্রান্সেলভেনিয়াই তাকে তার বোন ফিরিয়ে দিবে। ইয়ান মনে মনে আওড়ায়,

“ নাওমি তোমার শহরে থেকে থাকলে, তুমি ওকে যেকোনো মূল্যে ঠিক রেখো বাবা। আমি পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত ও যেনো নিরাপদ থাকে। বহু বছর আগে নিজের সন্তানকে রক্ষা করেছিলে তুমি। আজ আরও একবার রক্ষা করো। নিজের ভাইয়ের সন্তানকে দেখে রেখো। “

চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন