প্রণয়তিথি
লেখনীতে : নাফিসা তাবাসসুম খান
৩৭.
চিনচিনে ব্যথায় চোখ মুখ কুচকে পিটপিট করে তাকায় নাওমি। আলো জ্বলজ্বল করা কামরাটায় প্রথম দফায় সে চোখ মেলে তাকাতে সক্ষম হয় না। অতঃপর ধীরে ধীরে তাকায় সে। সর্বপ্রথম নিজের শিয়রে বেহজাদকে দেখতে পায় সে। বেহজাদের শীতল সে-ই দৃষ্টি তাকেই পরখ করছিলো। চোখে কি সামান্য চিন্তার লেশ আছে? কে জানে?
নাওমি এতোকিছু লক্ষ্য করলো না। সে সর্বপ্রথম ভীতসন্ত্রস্ত ভঙ্গিতে দু'হাতে নিজের গলা ছুঁতে শুরু করে। গলার বাম পাশটায় আঙুল লাগতেই সে ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠে। বেহজাদ ওর দিকে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিয়ে বলে,
“ পানি খেয়ে নাও। “
নাওমি তখনও ভীত। ওর না গলা কেঁটে গিয়েছিলো? ও না মারা গিয়েছিলো? তাহলে এখন এসব কি? ও কি স্বপ্ন দেখছে? বেহজাদ আবারও নাওমির সামনে পানি ধরতেই নাওমি তা এক ঝটকায় ধাক্কা মারে। সঙ্গে সঙ্গে কাঁচের গ্লাসটা মেঝেতে পড়ে ভেঙে গুড়িয়ে যায়। তবে নাওমি শান্ত হয় না। সে নিজের আহত পা নিয়েই দ্রুত কদমে বিছানা ছেড়ে নেমে গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। নিজের চুলগুলো পিঠের পিছনে সরিয়ে আয়নায় ভালো করে দেখতে থাকে নিজের গলাটা৷
গলার একপাশে একটা লম্বা কাটা দাগ দেখা যাচ্ছে। বিদঘুটে দেখতে জায়গাটায় তরল কিছু একটার প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। তবে নাওমির মনে হচ্ছে এসব কিছু স্বপ্ন। সে আসলে মারা গিয়েছে। মরে গিয়ে একটা গলা কাটা ভূত হয়ে গিয়েছে।
বেহজাদ এগিয়ে এসে নাওমির পিছনে দাঁড়িয়ে বলে,
“ আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। সম্পূর্ণ ঠিক আছো তুমি। এক সপ্তাহের ভেতর কাটা জায়গাটা শুকিয়ে যাবে। “
নাওমি আশ্বস্ত হয় না। সে ঘাবড়ানো ভঙ্গিতে পিছু ফিরে বেহজাদের পানে তাকায়। গলায় চিনচিনে ব্যথা নিয়েই আওড়ায়,
“ তুমি? তুমিই ওদের বলেছিলে আমাকে মেরে ফেলতে। দূরে থাকো তুমি। একদম ছলনা করবে না। তুমি রক্ষা করো নি আমায়। “
নাওমি যে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য অবস্থায় আছে তা তার কথা শুনেই বুঝতে পারছে বেহজাদ। সে কিছুটা নাওমিকে শান্ত করার চেষ্টা করে বলে,
“ আমি ইচ্ছে করেই বলেছিলাম। পরোয়া করি বুঝালে ওরা আরো বেশি পেয়ে বসতো। তোমাকে রক্ষা করতেই মিথ্যা বলেছি। “
নাওমি অস্থির ভঙ্গিতে হিচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“ আমি মারা গিয়েছি, তাই না? এসব আমার স্বপ্ন! গলা কাটা গেলে কেউ বাঁচে না। “
বেহজাদ বাধ্য হয়ে নাওমিকে বুকের ভেতর আগলে ধরে বুঝানোর চেষ্টা করে,
“ বেঁচে আছো। গলায় গভীর ভাবে কাটে নি। কেবল চামড়ায় খঞ্জরের আঁচড় লেগেছিলো। কিচ্ছু হয় নি। শান্ত হও। “
নাওমি শান্ত না হয়ে মোচড়ামুচড়ি করে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে। হাসফাস লাগছে তার। একটু আগে সে মরতে বসেছিলো, এটা ভাবতেও গা কাঁপছে। এই মোচড়ামুচড়ির মাঝেই নাওমি ভাঙা কাঁচের উপর পা রাখতে নিচ্ছিলো। তবে তার পূর্বেই বেহজাদ এক হাতে নাওমির কোমর পেচিয়ে ধরে তার পা জমিন থেকে কিছুটা উপরে তুলে ফেলে। অন্যহাতে নাওমির মাথাটা নিজের কাধের কাছটায় চেপে ধরে শান্ত গলায় বলে,
“ একটু শান্ত হও। “
এ দফায় নাওমি বোধহয় পানির ন্যায় শান্ত হয়ে দমে যায়। এক মুহূর্তের জন্য ভুলে যায় সংস্পর্শের ব্যক্তিটি তার অপহরণকারী। নিজের শূন্য হাত দুটো দিয়ে আঁকড়ে ধরে বেহজাদের গলা। কাধে মুখ গুজে হাউমাউ করে কেঁদে উঠে। ভীত স্বরে আওড়াতে থাকে,
“ আমি ভেবেছিলাম আমি মারা যাচ্ছি। আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। তবে কোনো ডাকাতের হাতে এভাবে গলা কেটে হত্যা হওয়াটাও আমি মেনে নিতে পারছিলাম না। “
বেহজাদ টু শব্দও করে না। নীরবে চোখ বুজে শোনে নাওমির বুলি। ঠিক সে-ই মুহূর্তেই নিঃশব্দে দরজার সামনে এসে দাঁড়ায় আব্দুল। তবে এহেন অপ্রীতিকর দৃশ্য দেখে সে আর কামরায় প্রবেশের সাহস পায় না। উল্টো ঘুরে করিডর ধরে হাঁটা শুরু করে। তীব্র অসন্তোষ নিয়ে চোখ মুখ খিচে পড়তে থাকে,
“ আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। “
__________
নিকষ আঁধারে নিমজ্জিত কক্ষটির জানালার ধারে দাঁড়িয়ে আলফা আরোণ রদ্রিগেজ। এতো বছর ধরে খুঁজে চলা কাঙ্ক্ষিত পথটা সম্পর্কে আজ সে জানতে পেরেছে। সেই সঙ্গে জানতে পেরেছে আরো ভয়ংকর কিছু সত্য। এই সবটা একসঙ্গে হজম করা কিছুটা কঠিন বটে। তবে তা হজম করে নেওয়ার চেষ্টা করছে আরোণ।
চোখে এখনো আটকে আছে ক্যাথরিনের প্রতিবিম্ব দেখতে পাওয়ার দৃশ্যটা। জীবনে এই প্রথম ও-ই জাদুকর লোকটা বোধহয় তাকে তৃপ্ত করতে পেরেছে। আজ কতগুলো বছর পর আবার ওই মুখটা দেখতে পেলো সে। এ-ই কিছু মুহূর্তের প্রশান্তি নিয়ে বোধহয় সে আমরণ কাটিয়ে দিতে পারবে।
তবে ক্যাথরিনকে নিয়ে বেশিক্ষণ ভাবা হলো না আরোণের। তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে ওরেল রদ্রিগেজের বলে যাওয়া কথাগুলো। প্রথমত তো ওরেলের অস্তিত্ব! ওরেলের ভাষ্যমতে সে এখন এক অতৃপ্ত আত্মা! যে মুক্তি পাবে কেবলমাত্র নিজের সৃষ্ট অভিশাপের ইতি টানার মাধ্যমে। আর এই ইতি টানার শর্ত হলো সমগ্র নেকড়ে পালের ধ্বংস! নেকড়েমানব নামক এই পালের অস্তিত্ব মিটিয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই প্রকৃতি নিজের স্বাভাবিক নিয়মে ফিরে আসতে পারবে। সে-ই সঙ্গে ওরেলের অতৃপ্ত আত্মা এবং এ-ই অমরত্ব লাভ করা নেকড়েমানবদেরও মৃত্যু ঘটবে।
আরোণ মৃত্যুর পথ খুঁজে বেড়াচ্ছিলো এ-ই কথাটা মিথ্যা নয়। তবে সেটা কেবল নিজের জন্য। সমগ্র পালের নেকড়েদের মৃত্যু তো সে চাইছিলো না। কিন্তু এখানে যে তার একার মৃত্যুবরণের কোনো পথ নেই। এখন চিন্তার বিষয় হলো, পালের সকল নেকড়েরা কি নিজেদের এই দীর্ঘ জীবনের ইতি টানতে আগ্রহী?
তাছাড়াও আরেকটা দুঃশ্চিন্তা আরোণকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। তা হলো ক্যামেলিয়া। ক্যামেলিয়াও তো এই পালের সদস্য। সে-ও তো একজন নেকড়ে কন্যা। তবে কি ক্যামেলিয়াকেও মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে?
আরোণ দু পাশে মাথা নাড়ায়। উঁহু। সে কখনোই চায় না এতো কম বয়সে তার মেয়ের জীবনের সমাপ্তি ঘটুক। ক্যামেলিয়ার এখনো বেঁচে থাকার জন্য লম্বা জীবন পড়ে রয়েছে। সেটাকে এভাবে শেষ করে দিতে পারে না আরোণ। নিজের মেয়ের জীবনের জন্য প্রয়োজনে সে এই অভিশপ্ত জীবন বয়ে বেড়াতে রাজি আছে। তাতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে ক্যামেলিয়ার জীবনের মূল্যে কোনো মুক্তি চাই না তার।
__________
নাওমিকে শান্ত করে বুকে আগলে রেখেই বিছানার এককোণে বসে আছে বেহজাদ। তার ডান পায়ের উরুর উপর বসে কাধে মাথা এলিয়ে রেখেছে নাওমি। চোখ দুটো তার নিভু নিভু। হুটহাট গলায় চিনচিনে ব্যথা অনুভব হলেই কপাল কুচকে ফেলছে সে। আদৌতে সে কি চাইছে তা বোঝা যাচ্ছে না। তবে বেহজাদের চাওয়া পাওয়া বেহজাদের নিকট স্পষ্ট। ছলনা করছে সে। বিনিময়ে নাওমির কাছ থেকে সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার ছক কষছে মনে মনে। এই আদর, যত্ন, সহমর্মিতা সবটাই তার নাটকের অংশ। বরফের ন্যায় শক্ত প্রিন্সেসের মন গলানোটা যে খুব জরুরী। বেহজাদ চোখ বুজে রাখা নাওমির চুলে হাত বুলিয়ে দিতে থাকে গম্ভীর মুখে। মনে মনে দোয়া করে যাচ্ছে, তার এতো পরিশ্রম যেনো বৃথা না যায়। প্রিন্সেস যেনো ভালোবেসে ফেলে তাকে। ভালোবাসা এমন এক অস্ত্র, যেটা পৃথিবীর সবথেকে বুদ্ধিমান মানুষটিকেও বোকাদের কাতারে নিয়ে ফেলে। ভালোবাসার মানুষটির জন্য এই চতুর, চালাক মানুষ গুলোও কেমন সব করতে রাজি হয়ে যায়। এই সব করতে রাজি হয়ে যাওয়া নাওমিটাকেই তো বেহজাদ চায়। যে বেহজাদের বিনাবাক্য ব্যয়েই নিজের সবটা বাজি রাখতে প্রস্তুত থাকবে।
হুট করে বাহির হতে একদল ঘোড়ার ছুটে আসার শব্দ কর্ণকুহরে প্রবেশ করতেই বেহজাদ সতর্ক হয়। সঙ্গে সঙ্গে নাওমিকে নিজের কোল হতে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে জানালার দিকে এগিয়ে যায়। নাওমির ঘুম ঘুম ভাবটা উবে যায় মুহূর্তে। সে সজাগ চোখে লক্ষ্য করে বেহজাদকে। ঘোড়ার দৌড়ের আওয়াজ সে-ও শুনতে পাচ্ছে।
জানালার কাছে এসে দাঁড়াতেই বেহজাদ দেখে দূর হতে মশালের আলোর কিঞ্চিৎ ঝলক দেখতে পায়। সঙ্গে সঙ্গে সে দু কদম পিছিয়ে যায়। এতো গুলো ঘোড়ার একসঙ্গে অগ্রসর হওয়াটা ভালো লক্ষ্মণ নয়। খুব সম্ভবত এরা প্রাসাদের সৈন্যবাহিনী। নিশ্চয়ই নাওমির খোঁজ করছে। কারণ, ডাকাতদের সাঙ্গপাঙ্গ হলে তাদের কাছে এতো ঘোড়া থাকার কথা নয়। কিন্তু এ-ই কথা নাওমিকে জানানো যাবে না। ওই মেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যাবে সৈন্যদের কাছে।
বেহজাদ তাই ছল করে ঘাবড়ানোর সুরে বলে,
“ আল্লাহ! ডাকাতদের সম্পূর্ণ দল এগিয়ে আসছে। রক্ষা নেই আজ! “
কিছুক্ষণ পূর্বের ওই ঘটনার দরুণ নাওমি এখনো কিছুটা ভীত হয়ে আছে। তাই ডাকাত শব্দটা মুহূর্তেই তাকে কাবু করতে পারলো। সে ভীত স্বরে বলে,
“ এখন? “
বেহজাদ জবাব দিলো না কোনো। এই দূর্গে লুকিয়ে থাকার কোনো উপায় নেই। সৈন্যরা আসলে সম্পূর্ণ দূর্গেরই তল্লাশি নিবে। বেহজাদ কোনো কথা না বলে দ্রুত নাওমির কামরার লণ্ঠনটা নিভিয়ে দেয়। অতঃপর নাওমির এক হাত ধরে কক্ষ থেকে বেরিয়ে ছুটতে ছুটতে বলে,
“ সময় নেই। আমাদের নিরাপদ আশ্রয়ে লুকাতে হবে। ডাকাতদের বিরুদ্ধে লড়ার মতো যথেষ্ট অস্ত্র নেই আমাদের। “
নাওমি কোনো প্রশ্ন করলো না। সে নিজের আহত শরীরটাকে টেনেই বেহজাদের সঙ্গে কদম মিলিয়ে ছুটছে। এ-ই মুহূর্তে নিজের অজান্তেই সে বেহজাদকে খুব ভরসা করে ফেলেছে। লোকটার কথা শুনলেই যেনো সে বাঁচতে পারবে। বেহজাদের তুলনায় আর কেউ তার ভালো বুঝবে না এই মুহূর্তে।
বাহিরে ঘোড়ার পদধ্বনি শুনে কেরেম এবং আব্দুলও দৌড়ে উপরে আসছিলো। বেহজাদ সিড়ি বেয়ে নামতে নামতে দ্রুত তাদের আদেশ করে,
“ হলরুমের লণ্ঠন নিভিয়ে দাও। বাহির থেকে দেখে যেনো মনে হয় এ-ই দূর্গে কেউ কখনো আসে নি৷ আমি ঘোড়া এবং এই মেয়েকে নিয়ে নিরাপদ কোথাও গিয়ে লুকোচ্ছি। তোমরাও পালিয়ে আজকের রাতটা কোথাও আশ্রয় নাও। একবার এরা চলে যাক। আগামীকাল আমরা আবার এ-ই দূর্গে এসে মিলিত হবো। ঠিক আছে? “
আব্দুল এবং কেরেম আদেশটুকু বুঝে মাথা নাড়তেই বেহজাদ দ্রুত নাওমিকে নিয়ে বেরিয়ে যায়। ঘোড়ার পিঠে নাওমিকে বসিয়ে নিজেও উঠে বসে দ্রুত ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরে। ঘোড়া দৌড়ে দূর্গের অপরদিকের রাস্তা ধরে যাওয়া শুরু করে। বেহজাদের ভেতরটা ধুকপুক করছে। মনে মনে সে দোয়া করছে সৈন্যরা যেনো টের না পায় তাদের এই পালানোর ব্যাপারটা। বেহজাদ চাচ্ছে না এরা তাকে এবং নাওমিকে তাড়া করুক। কারণ এই মেয়ে যদি সৈন্যদের উপস্থিতি টের পায়, তাহলে একে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
গহীন অরণ্যের ঠিক কোন দিশায় গেলে সৈন্যরা নাওমি এবং তার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে না, তা জানা নেই বেহজাদের। সে কেবল নিরুদ্দেশ ভঙ্গিতে ঘোড়া ছুটিয়ে তুষ দূর্গ হতে যতটা সম্ভব দূরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ঘোড়ার গতির কারণে ফিনফিনে বাতাসটা বেশ গায়ে লাগছিলো নাওমির। কেবল গাউন এই শীতল আবহাওয়া মানানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
নাওমি যখন নীরবে শীত এবং বাতাসের তীব্রতা সইছিলো, ঠিক সে-ই মুহূর্তে পেছনে বসে থাকা বেহজাদ নিজের গায়ের ক্লকটার ভেতর নাওমিকে আড়াল করে নেয়। অনাকাঙ্ক্ষিত এই যত্নটুকুতে নাওমি বোধহয় কিছুটা কাবু হয়। হুট করেই তার ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠে। জীবনটা হঠাৎ রোমাঞ্চকর মনে হচ্ছে তার কাছে। পরপর বেহজাদের থেকে পাওয়া এই যত্নগুলো তার নারী মনকে অজান্তেই নরম হতে বাধ্য করে। এই নরম হওয়াটা আদৌ তার জন্য সুখকর হবে নাকি অভিশাপ হবে, কে জানে?
চলবে…