প্রণয়তিথি
লেখনীতে : নাফিসা তাবাসসুম খান
৩৯.
ভুল নাকি ঠিক সে-ই হিসেব ভুলে খাওয়া চুমুটার পরে নাওমি এবং বেহজাদ দু'জনেই একে অপরের থেকে ছিটকে দূরে সরে গিয়েছিলো। একটা খ্রিস্টান মেয়ে এবং একইসঙ্গে কোনো সম্পর্ক বহির্ভূত মেয়েকে চুমু খাওয়ার দায়ে বেহজাদ দৃষ্টি লুকিয়ে গুহা থেকে বেরিয়ে গিয়ে পাথরের সঙ্গে এককোণে হেলান দিয়ে বসে থেকে রাত পাড় করে দেয়। আর নাওমি? সে নিজেকে এবং নিজের মুখে ফুটে উঠা রাগ, লজ্জা এবং দ্বিধাকে আঁধারে লুকিয়ে বসে রয়। বেহজাদ ভুগতে থাকে অপরাধবোধে, অপরদিকে নাওমি ভুগতে থাকে কুণ্ঠাবোধে। তাদের এই নীরব স্থিতির কারণে সৈন্যরা তাদের খুঁজে না পেয়ে কিছুক্ষণ পরেই প্রস্থান করেছিল।
এখন ভোর সকাল। সমুদ্রের তীরের মুক্ত আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে এক ঝাক শঙ্খচিল। সারারাত নির্ঘুম পাড় করা বেহজাদ আড়মোড়া ভেঙে সোজা হয়ে বসে। পাথরে পিঠ হেলান দিয়ে রাখার ফলস্বরূপ পিঠ খুব ব্যথা করছে তার। এর উপর আবার সারারাত ঠান্ডার মাঝে ওই মেয়ের কারণে শীতের কাপড় ব্যতীত কাটাতে হয়েছে। কি এক মুসিবত!
বেহজাদ উঠে দাঁড়িয়ে গুহার ভেতর পানে তাকায়। সারারাত আড়ষ্টতার কারণে সে আর ভুলেও নাওমির দিকে তাকায় নি। তবে ভোরের এই প্রথম প্রহরে তাকাতেই সে দেখতে পেলো গুহার ভেতরের জমিনে গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে থাকা নাওমিকে। বেহজাদের গায়ের ক্লকটাকে অনেকটা কম্বলের মতো ব্যবহার করে সারা শরীর ঢেকে রেখেছে।
ঘুমন্ত নাওমির নিষ্পাপ মুখখানা দেখে বেহজাদের মায়া হলো কি-না বুঝা গেলো না। সে আর নাওমিকে এ-ই মুহূর্তে ঘুম থেকে ডেকে তুললো না। বরং নিজে নীরবে হাঁটু সমান সমুদ্রের পানিতে নেমে গেলো। সমুদ্রের পানিতে ওযুটা সেরে নিয়ে সে গুহার ভেতর এসে দাঁড়ায়। এই রাজ্যে কদম রাখার পর থেকে এখন অব্দি বেহজাদ কোনো আজান শুনে নি। খ্রিস্টানভিত্তিক এই রাজ্যে মসজিদ না থাকাটাই স্বাভাবিক। তাই, বাধ্য হয়ে বেহজাদ নিজ আন্দাজ অনুযায়ী ওয়াক্ত হিসাব করে নামাজ পড়ে নেয়। আজও তার ব্যতিক্রম নয়।
পরিষ্কার জায়গা বুঝে বেহজাদ নামাজে দাঁড়াতেই নাওমির ঘুম ভেঙে যায়। সে পিটপিট করে তাকাতেই লক্ষ্য করে মাঝারি আকৃতির এই গুহাটার একপাশে বেহজাদ দাঁড়িয়ে দু হাত পেটের কাছে বেধে বিড়বিড়িয়ে কিছু একটা পড়ছে। আগ্রহী নাওমি উঠে বসে। পূর্ণ মনযোগের সহিত লক্ষ্য করে বেহজাদের গতিবিধি। একবার দাঁড়াচ্ছে, একবার হাঁটুতে ভর দিয়ে নত হচ্ছে, একবার বসছে আবার মাথা জমিনের সংস্পর্শে নিচ্ছে। এসব কি হচ্ছে? বেহজাদ কি প্রার্থনা করছে? মুসলিমদের প্রার্থনা বুঝি এমন হয়? কি যেনো বলে একে? ওহ হ্যাঁ, নামাজ!
নাওমি হাঁটুতে থুতনি ঠেকিয়ে বসে দেখতে থাকে বেহজাদের নামাজ পড়ার দৃশ্য। হুট করেই তার মনে পড়ে যায়, গতরাতের ও-ই এক মুহূর্তের জন্য লিপ্ত হয়ে করে ফেলা ভুল কাজের কথা। নাওমির মুখটা কালো হয়ে যায়। নিজের কাছে নিজে ছোট হয়ে গিয়েছে সে। কেমন, বেলাজ নারীর তালিকায় নিজের নামটা লিখিয়ে নিলো সে! রাজ পরিবারের নীতি অনুযায়ী নিজের বিশুদ্ধতাকে কুলষিত করলো সে। একজন প্রিন্সেস, একজন জেদী রমণী এবং একজন নারী হিসেবে তার মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে উক্ত ঘটনার মধ্যে দিয়ে। নাওমি দু হাত জোড় করে চোখ বুজে ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করে,
“ ক্ষমা করে দাও ঈশ্বর। ভুল করে আবেগের বশে একটা পাপ করে ফেলেছি। আমার বিশুদ্ধতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলো না তুমি। “
অপরদিকে বেহজাদও নামাজ শেষে সালাম ফিরিয়ে মোনাজাতে হাত তুলেছে। দু চোখ বুঝে অপরাধবোধে সিক্ত হৃদয় নিয়ে মনে মনে আওড়ায়,
“ ভুল হয়ে গিয়েছে আল্লাহ। ক্ষমা করে দাও তোমার এই বান্দাকে। আমি এক মুহূর্তের জন্য নিজের সংযমের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলাম। “
এই তিনটা বাক্য আওড়াতেই বেহজাদের মনে একটা প্রশ্ন উদয় হয়। আচ্ছা, গতরাতের ওই চুমুটাই কি তার একমাত্র পাপ ছিলো? আর কোনো পাপ কি সে করে নি? এই-যে প্রতিশোধ পরায়ণ আচরণটা, এটা কি অপরাধ নয়? কাউন্ট ইয়ান আলবার্টের অপরাধের শাস্তি যে নাওমিকেও দেওয়া হচ্ছে, এটা কি ভুল হচ্ছে না? সবশেষে নাওমির সঙ্গে এই ভালোবাসার ছলনা করাটা, এটা কি পাপ নয়?
মনে উদিত প্রশ্নগুলো বেহজাদকে লম্বা সময় ধরে ভাবায়। আসলেই কি সে ভুল করছে? প্রশ্নের দোলাচালে বেহজাদকে দ্বিধাগ্রস্ত দেখা যায়। নফসের সঙ্গে এই অন্তরাল যুদ্ধে বেহজাদ হেরে যায়। বোনের জীবন বাঁচানোর অযুহাতটা তার নফসের পাল্লা ভারী করে তুলে। কানের পাশে শয়তান যেনো ফিসফিসিয়ে বলছে,
“ কিচ্ছু ভুল করছো না তুমি। এটাই সঠিক। তুমি যা করছো, ভালোর জন্য করছো। “
__________
সকাল সকাল গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত থাকতে হবে বিধায় ইয়ান শেষ রাতে প্রাসাদে ফিরে এসেছে। সভা শুরু হতে এখনো বেশ সময় বাকি। ইয়ান নাস্তা সেরে, তৈরি হয়ে কামরা থেকে বের হতে নিবে ঠিক এমন সময়ই তার কক্ষের দরজায় করাঘাতের শব্দ হয়। সঙ্গে সঙ্গেই দরজা খুলে কক্ষে প্রবেশ করে রাজমাতা আনাস্তাসিয়া। ইয়ান ক্ষানিকটা হেসে বলে,
“ সুপ্রভাত, মা। “
আনাস্তাসিয়ার মুখে হাসি দেখা গেলো না। না সে সুপ্রভাতের জবাব নিলো। বরং হতাশা, ক্রোধ এবং শাসন মিশ্রিত স্বরে বললো,
“ আজ সন্ধ্যায় প্রজারা প্রাসাদ আঙিনায় এসে জোড়ো হবে ইয়ান। নাওমির এখনো কোনো হদিস মিলে নি। কি জবাব দেবে প্রজাদের? ম্যাথিউ, স্যাফিরা? ওদেরই বা কিভাবে মুখ দেখাবে তুমি? “
ইয়ানকে খুব একটা বিচলিত দেখালো না। সে বরং বলে উঠে,
“ আমাকে এখন সভায় যেতে হবে, মা। পরে কথা বলছি। “
আনাস্তাসিয়া ছেলের এহেন দায়সারা ভাবে আরো বেশি রেগে গেলো। সে কিছুটা ধমকে উঠে বলে,
“ তুমি সভার চিন্তা করছো? নাওমির কথা একবারও ভাবছো না? রাজ্যের চিন্তায় কি বোনের সম্মান বিসর্জন দেওয়ার পরিকল্পনা করছো? “
ইয়ান খুব একটা কিছু মনে করে না। তার মা রেগে আছে। রাগ এবং দুঃশ্চিন্তায় এসব কথা বলাটা খুবই স্বাভাবিক। ইয়ান তাই খুব একটা পাত্তা না দিয়ে তাড়া দেখিয়ে কামরা ছেড়ে বেরিয়ে যেতে নিলেই পিছন থেকে আনাস্তাসিয়া বলে উঠে,
“ একটা সামান্য দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করতে পারলে না তুমি। নাওমির দূর্ভাগ্য যে ওকে তোমার বোন হয়ে জন্মাতে হয়েছে। আজ নিজে প্রজাদের মুখোমুখি হয়ে তাদের প্রশ্নের জবাবগুলো দিয়ে দিও। “
ইয়ান শুনে সবটা। অতঃপর বেরিয়ে যায় কামরা ছেড়ে। যেহেতু সভা শুরু হতে এখনো হাতে সময় আছে, তাই সিদ্ধান্ত নেয় সে আগে কারাগারে গিয়ে মাহশাকে একদফা দেখে নিবে। তাছাড়া, মাহশার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কথাও রয়েছে তার।
__________
অন্ধকার কারাগারের সামনে স্থির দাঁড়িয়ে কাউন্ট ইয়ান আলবার্ট একটা জোরে নিঃশ্বাস নিলো। নিজের অযাচিত আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়াস এটা। ভেতরে বন্দী থাকা ওই মেয়েটা কেবল একজন ছলনাময়ী, এ-ই সত্যটা নিজেকে স্মরণ করালো সে। একটুও দয়া দেখানো যাবে না। সর্বোচ্চ কঠিন আচরণ করবে সে।
মনে মনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে ইয়ান কারাগারে প্রবেশ করে। সোজা হেঁটে গিয়ে মাহশাকে বন্দী করে রাখা কুঠুরিটার সামনে দাঁড়ায় সে। অন্ধকারে ভেতরটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। ইয়ান শিনা টান টান করে দাঁড়িয়ে দু হাত পিঠের কাছে নিয়ে ভাজ করে। অতঃপর একজন প্রহরীকে ডেকে দরজা খুলে দেওয়ার ইশারা করে।
আগুনের মশাল এবং চাবির গোছা হাতে প্রহরী এসে দরজা খুলতে উদ্যোত হয়। ইয়ান বাহির হতে লক্ষ্য করে মাহশা অপর পাশে ফিরে শুয়ে আছে। দরজার তালা খোলা হয়ে যেতেই ইয়ান প্রহরীকে বলে চলে যেতে। প্রহরী চলে যেতেই ইয়ান নিজের কঠোর সত্তা বজায় রেখে কারাগারের ভেতর প্রবেশ করে। জেইলান তখনও ঘুমিয়ে। ইয়ান পাশে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ দেনামোনা করে অতঃপর নিজের গলা ঝেড়ে কিছুটা শব্দ করে। কিন্তু এতেও খুব একটা লাভ হয় না।
ইয়ানের হুট করেই কিছু একটা সন্দেহ হয়। সে সন্দিহান গলায় ডাকে,
“ মাহশা? “
জেইলান কোনো প্রতুত্তর করে না। ইয়ান সঙ্গে সঙ্গে এক হাঁটু গেড়ে বসে জেইলানের মুখটা নিজের দিকে ফেরায়। উপলব্ধি করে এই মেয়ে বেহুশ হয়ে গিয়েছে। সাথে সাথে একহাতে জেইলানকে আগলে ধরে, কাউন্ট ইয়ান আলবার্ট গলা উঁচু করে প্রহরীকে ডাকে। প্রহরী ত্রস্ত পায়ে এসে হাজির হতেই ইয়ান পানি নিয়ে আসার আদেশ দেয়।
অতঃপর জেইলানের গালে আলতো থাপ্পড় দিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করতে করতে ডাকে,
“ মাহশা? মাহশা? এই মাহশা… “
প্রহরী একটি পিতলের গ্লাসে করে পানি নিয়ে আসে দ্রুত। ইয়ান গ্লাসটা নিজের হাতে নিয়ে সামান্য পানি ছিটায় জেইলানের মুখে। কিছুক্ষণের মাঝেই জেইলান পিটপিট করে চোখ মেলে তাকায়। ইয়ান আড়ালেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। হাতের সাহায্যে জেইলানের ঘাড় কিছুটা উঁচু করে তাকে পানি পান করতে সাহায্য করে। অতঃপর গ্লাসটা প্রহরীর হাতে ধরিয়ে দিয়ে তাকে যাওয়ার ইশারা করে।
প্রহরী বেরিয়ে যেতেই ইয়ান এবার সরাসরি জেইলানের মুখপানে তাকায়। এখনো ঠিকঠাক হুশ ফিরে নি মনে হচ্ছে। দু'দিনের অনাহার এবং অত্যাচারেই কেমন হাড্ডিসারের ন্যায় অবস্থা হয়ে গিয়েছে। মুখটাও শুকিয়ে একটুখানি হয়ে আছে। ইয়ান কিছু একটা ভাবে। অতঃপর চকিতে জেইলানকে পাজাকোলে তুলে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসে। জেইলানের মাঝে প্রতিবাদের শক্তিটুকু অবশিষ্ট নেই। সে শরীরের ভার ছেড়ে দিয়ে চোখ বুজে আছে। প্রহরীদের দৃষ্টি তখন বিস্ফোরিত। দাসী থেকে শুরু করে সবাই বাকা দৃষ্টিতে দেখছে কাউন্ট ইয়ান আলবার্টকে। তবে ইয়ান সে-সবের তোয়াক্কা করলো না। করিডর হয়ে প্রাসাদের নিচ তলার উদ্দেশ্যে এগোচ্ছে সে।
এসবের মাঝে ইয়ান লক্ষ্যই করলো না যে দূর হতে তার মা এবং সঙ্গে থাকা জোসেফ সম্পূর্ণ দৃশ্যটার সাক্ষী হয়েছে। আনাস্তাসিয়া হতাশ চোখে দেখে ছেলের এই অধ্বপতন। নিজের বোনের অপহরণকারীকে কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে! এই হলো ইয়ানের কঠিন শাস্তির নমুনা? জোসেফের চোখে মুখেও অসন্তোষ ভাব। মনে মনে সে বিড়বিড়িয়ে বলে,
“ গেলো রে ইজ্জত গেলো! কাউন্ট হয়ে এই চতুর মেয়ের ইশারায় নাচছে! আজ কোলে উঠে চড়েছে, দু'দিন পর মাথায় উঠে চড়বে। আমার কি? আমি তো সবাইকেই সতর্ক করি! আমার কথা শুনে না যে জন, জীবনের প্রতিটা পদে বাঁশ খায় সে জন। জোসেফের সতর্কবাণীকে উপেক্ষা করার ফল! “
জেইলানকে কোলে নিয়ে দ্রুত কদমে চিকিৎসালয়ে প্রবেশ করে ইয়ান। কাউন্টকে এভাবে আসতে দেখে চিকিৎসকরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ইয়ান একটা সরু বিছানায় জেইলানকে শুইয়ে দিয়ে চিকিৎসকদের উদ্দেশ্য করে বলে,
“ দু'দিন ধরে না খেয়ে আছে। পিঠেও চাবুকের আঘাত পেয়েছে। প্রয়োজনীয় এবং সবথেকে ভালো চিকিৎসাটা যেনো ওকে দেওয়া হয়। “
মেয়েটা কে কিংবা তার পরিচয় নিয়ে ভাবার সময় পেলো না কেউ। সকলেই কাউন্টের আদেশ পালনে ব্যস্ত হয়ে গেলো। ইয়ান আড়চোখে এক পলক জেইলানকে দেখে ফের আদেশ করে,
“ শুধুমাত্র নারী চিকিৎসকরা ওর সেবায় নিয়োজিত থাকবে। ও যতক্ষণ এই চিকিৎসালয়ে আছে আমি কোনো পুরুষকে এই কক্ষের ভেতর দেখতে চাই না। কথাটা যেনো মাথায় থাকে। “
এই দফায় ইয়ানের কথা শুনে পুরুষ চিকিৎসক যে কয়জন উপস্থিত ছিলেন, তারা মাথা নত করে প্রস্থান করেন। একজন মহিলা চিকিৎসক এগিয়ে এসে জেইলানকে ধরে এক কাথ করে শোয়ায়। কাউন্টের উপস্থিতি ভুলে গাউনের পিঠের কাছে থাকা চেইনটা খুলতেই ভদ্রমহিলা কিছুটা ভীত হয়ে পড়েন। অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে ইয়ানেরও চোখে পড়ে যায় সে দৃশ্যটা। সে সঙ্গে সঙ্গে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলেও এই মাত্র দেখা দৃশ্যটা তার চোখে আটকে রয়। জেইলানের সম্পূর্ণ পিঠে চাবুকের আঘাতের দাগগুলো বিভৎসকর কালসিটে বর্ণ ধারণ করেছে। একটা অংশও ফাঁকা নেই যেখানে চাবুকের আঘাত পড়ে নি। এতো যন্ত্রণা হজম করেও মেয়েটা একবারও নিজের মুখ খুলে নি। ঘৃণা, ক্ষোভ এবং জেদ মানুষকে কোন পর্যায়ে পৌঁছে দেয়!
জেইলানের পিঠের অবস্থা দেখে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় ওষুধ তৈরী করতে যেতেই ইয়ান ঘুরে জেইলানের দিকে এগিয়ে যায়। বিছানায় চোখ বুজে শুয়ে থাকা জেইলানের শিয়রে দাঁড়িয়ে সামান্য ঝুকে সে। মুখটা আহত রমণীর কানের কাছে নিয়ে ফিসফিসিয়ে কিছু একটা বলে সে। জেইলান শুনে সবটা। তবে ফিরতি কিছু বলার অবস্থায় নেই সে। কাউন্ট ইয়ান আর অপেক্ষা করে না। চিকিৎসালয় থেকে বেরিয়ে যায়। জেইলানের চোখের কার্ণিশ গড়িয়ে অশ্রু নেমে আসে। মন চাইছে চিৎকার করে কান্না করতে। তবে সে-ই সুযোগটুকুও নেই তার কাছে।
চলবে…