প্রণয়তিথি
লেখনীতে : নাফিসা তাবাসসুম খান
৪১.
সন্ধ্যা প্রায় ঘনিয়ে আসছে। আনাস্তাসিয়া থমথমে মুখে নিজ আসনে বসে আছে। রাগে ক্ষণেক্ষণে সে ফুসছে। ম্যাথিউ এবং স্যাফিরা অস্থির ভঙ্গিতে পায়চারি করছে তার সামনে। এইতো আর কিছুক্ষণ! তার পরই প্রাসাদ আঙিনায় প্রজারা এসে জমায়েত হবে।
আনাস্তাসিয়ার শিয়রে চিন্তিত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা জোসেফ লক্ষ্য করছে সব। মনে মনে সে কিছুটা বিরক্ত। এতো দুঃশ্চিন্তার একটা মুহূর্তে কাউন্ট গায়েব। প্রিন্সেস নাওমিকে উদ্ধার করতে না পারুক, অন্তত এখানে উপস্থিত থেকে নিজের চাচা, চাচীকে শান্তনা তো দিতে পারতো। কিন্তু না, উনি যেনো প্রজাদের প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়ার থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কি একটা অবস্থা!
হুট করেই আনাস্তাসিয়ার কক্ষের দরজাটা দু পাশে খুলে গেলো। আনাস্তাসিয়া এবং জোসেফ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় দরজার পানে। স্যাফিরা এবং ম্যাথিউ-ও নিজেদের পায়চারি থামিয়ে দরজার দিকে তাকায়। সকলেই লক্ষ্য করে দ্বার প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা ইয়ান আলবার্টকে। ইয়ান ধীর পায়ে কক্ষে প্রবেশ করে। তার পিছু পিছু প্রবেশ করে কেউ একজন। স্পষ্ট তাকে দেখা যাচ্ছে না। তবে ইয়ান স্পষ্ট দেখার সুযোগ করে দিতে নিজে একপাশে সরে দাঁড়ায়।
সবাই বিস্ফোরিত নয়নে দেখে মাথা নত করে দাঁড়িয়ে থাকা রমণীকে। অদ্ভুৎ সাধারণ একটা গাউন তার গায়ে। গায়ের পোশাকটা দেখতে কেমন নোংরা দেখাচ্ছে! গাউনের নিচের দিকটাও ছেঁড়া। প্রথম দেখায় কেউ-ই বুঝবে না যে এ-ই রমণী আদৌতে কোনো প্রিন্সেস!
ভীতসন্ত্রস্ত রমণীটা নিজের ভাইয়ের গা ঘেঁষে এক হাতে ভাইয়ের কনুইটা এক হাতে ধরে রেখেছে। ভয়ে এখনো সে মাথা তুলে তাকাচ্ছে না। যদি সবাই তাকে খুব বকে? যদি তাকে একটা চড় মেরে বসে উড়নচণ্ডী স্বভাবটার জন্য?
তবে, নাওমিকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে তার মা লেডি স্যাফিরা ছুটে আসেন। মেয়েকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে ঝরঝরিয়ে কেঁদে দেন তিনি। এতদিন পর নিজের সন্তানকে ফিরে পেয়ে যেনো উনি নিজের প্রাণ ফিরে পেয়েছেন। পরপর ম্যাথিউও ছুটে আসে। মেয়েকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে সে স্বস্তির নিঃশ্বাসটা ফেলে। নিজের আবেগটুকু লুকিয়ে বুকে ঠেকা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে,
“ নাওমি? আমার মেয়ে! ঠিক আছো? ওরা কোথায় রেখেছিলো তোমাকে? কষ্ট দেয় নি তো? “
নাওমির বোধহয় নিজের মা বাবার এই সান্নিধ্যটুকুর খুব প্রয়োজন ছিলো। সে এই আদরটুকুতে নরম হয়। নিজেও কেঁদে ফেলে। কান্নার কারণে কথা বলতে পারে না। ইয়ান এবং নাওমির সঙ্গে প্রধান সেনাপতি কখন কক্ষে এসে উপস্থিত হয়েছে তা কেউ লক্ষ্য করে নি। কেভ নাওমির হয়ে জবাব দিয়ে উঠে,
“ কাউন্টের কারণে প্রিন্সেসকে খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছি আমরা। আমরা যখন হাল ছেড়ে দেই, তখন গতকাল সন্ধ্যায় কাউন্ট এসে বলেন যে আমাদের এখনো ট্রান্সেলভেনিয়া খুঁজে দেখা হয় নি। আমাদের সঙ্গে নিয়ে উনি গতকালই ট্রান্সেলভেনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হোন। আমরা ট্রান্সেলভেনিয়ার প্রতিটা কোণা খুঁজি। সবশেষে তুষ দূর্গে গিয়ে প্রিন্সেসের আলামত খুঁজে পাই…। “
কেভ পুরো ঘটনাটাই খুলে বলে। পুরো ঘটনা শুনে আনাস্তাসিয়ার চেহারায় গর্বের ঝলক দেখা যায়। ম্যাথিউ মেয়েকে ছেড়ে ইয়ানকে জড়িয়ে ধরে ধন্যবাদ জানাতে নেয়। তবে ইয়ান সঙ্গে সঙ্গে মাথা নেড়ে বলে,
“ নিজের বোনকে বাঁচানোর জন্য ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবেন না। “
আনাস্তাসিয়া এগিয়ে এসে নাওমিকে স্নেহের সহিত জড়িয়ে ধরে, তবে ঠিক ওই মুহূর্তে নাওমি মৃদু আর্তনাদ করে উঠে। সকলের মনযোগ নাওমির পানে স্থির হয়। আনাস্তাসিয়া সঙ্গে সঙ্গে নাওমিকে ছেড়ে দিয়ে তার পানে তাকায়। নাওমি গলার এক পাশ হাত দিয়ে চেপে ধরে চোখ খিচে বন্ধ করে রেখেছে। স্যাফিরা সচেতন হয়। মেয়ের হাতটা সরিয়ে গলাটা ভালো করে উন্মুক্ত করে। সঙ্গে সঙ্গে সে ঘাবড়ে আর্তনাদ করে উঠে,
“ হায়, ঈশ্বর! নাওমি! কি করেছে ওরা তোমার সঙ্গে? “
নাওমি কিছু বলতে পারে না। ইয়ানও বিস্মিত নয়নে দেখছে বোনের গলার দাগটা। নাওমিকে উদ্ধার করে প্রাসাদে নিয়ে আসার পর সবার আগে ইয়ানই গিয়েছিলো বোনের কাছে। কিন্তু তখন চুল দিয়ে গলা এবং ঘাড় ঢাকা থাকায় এই কাটা দাগটা ইয়ানের চোখে পড়ে নি।
ম্যাথিউ ছলছল নয়নে দেখছে নিজের মেয়ের অবস্থা। ক’দিনের ব্যবধানে রুক্ষ হয়ে গিয়েছে নাওমির চুলগুলো। গায়ের পোশাকের যা নয় তা অবস্থা! ফুলে মুড়িয়ে বড়ো হওয়া মেয়েটার গলায় কি বিচ্ছিরি একটা কাঁটা দাগ। পিতা হিসেবে এই জিনিসগুলো তাকে ভিতর থেকে ভেঙে চুরমার করে দেয়। ইয়ান বিস্ময়তাকে একপাশে ফেলে দ্রুত আদেশ দেয়,
“ মা, তোমরা নাওমিকে দ্রুত ওর কক্ষে নিয়ে যাও। ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে দেখো আর কোথায় কোথায় আঘাত পেয়েছে ও। আমি এক্ষুণি চিকিৎসক পাঠাচ্ছি ওর কামরায়। দেরি করো না। দ্রুত যাও। “
আনাস্তাসিয়া এবং স্যাফিরা সঙ্গে সঙ্গে নাওমিকে ধরে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যায়। ম্যাথিউ মেয়ের অবস্থা জানার জন্য তাদের পিছু পিছু বেরিয়ে যায়। ইয়ানও ত্রস্ত পায়ে বেরিয়ে যায় বোনের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে। কক্ষে রয়ে যায় কেবল প্রধান সেনাপতি এবং জোসেফ। জোসেফও বেরিয়ে যেতে নিবে, ঠিক সেই মুহূর্তে প্রধান সেনাপতি বলে উঠে,
“ আপনার সঙ্গে কিছু জরুরী কথা ছিলো আমার। “
জোসেফ থেমে, প্রশ্ন করে,
“ কি ব্যাপারে? “
কেভ উত্তর দেয়,
“ ক্লাডিয়াসের ব্যাপারে। “
__________
নিজ কক্ষে এতদিন পর কদম রেখে চারিপাশটা ভালো করে দেখার সুযোগও পেলো না নাওমি। তার আগেই আনাস্তাসিয়া এবং স্যাফিরা দ্রুত তাকে ধরে বিছানায় বসিয়ে দিলো। আনাস্তাসিয়া নাওমিকে প্রশ্ন করছে,
“ গলার এই আঘাতটা ও-ই অপহরণকারীদের কারণে পেয়েছো? “
নাওমি একটু হকচকানো স্বরে বলে,
“ না, রাজমাতা। ডাকাতরা হামলা করেছিলো। ওদের খঞ্জর দিয়েই গলা কেটেছে। “
স্যাফিরা মেয়ের চুল ভালো করে সরিয়ে ঘাড়, গলা পরখ করে নিচ্ছে। জামার হাতাটা সরিয়ে একে একে দুই হাত এবং বাহু ভালো করে পরীক্ষা করে নিয়ে সে নাওমির সামনে বসে পড়ে। গাউনের কাপড় টেনে হাঁটুর উপর তুলতেই সে আর্তনাদ করে উঠে। নাওমির দু পায়েই পট্টি করা। আনাস্তাসিয়া ঘাবড়ানো স্বরে প্রশ্ন করে,
“ পায়ে কি হয়েছে, নাওমি? “
নাওমি মুখ অন্ধকার করে বুঝানোর চেষ্টা করে,
“ তেমন কিছু না। আমি ঠিক আছি। ক্ষতগুলো ভালো করে পট্টি করা হয়েছে। “
স্যাফিরার মেয়ের এই কথা চেপে যাওয়ার ব্যাপারটা পছন্দ হয় না। সে উঠে নাওমির পাশে বসে সরাসরি নাওমির হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে ভীত স্বরে প্রশ্ন করে,
“ সত্যি করে বলো, নাওমি। ওখানে কয়জন ছিলো? ওরা কি করেছে তোমার সঙ্গে? “
আনাস্তাসিয়া স্যাফিরার চিন্তাটা বুঝতে পেরে চুপ হয়ে যায়। মেয়ের মা'য়ের জায়গা থেকে স্যাফিরার এই প্রশ্নটাকে ভুল বলে মনে হয় না তার। সে নিজেও উত্তর শুনতে আগ্রহী। এতে করে অপহরণকারীদের শাস্তি যথার্থ ভাবে সম্পন্ন করা যাবে। তবে নাওমি এতো কিছুর মাঝে প্রথম দফায় স্যাফিরার প্রশ্নের উত্তর ধরতে পারে না। সে জবাব দেয়,
“ মোট তিনজন ছিলো, মা। ওরা কিছু করে নি আমার সঙ্গে। কিছু করলে কি আমি এখন এভাবে তোমাদের সামনে থাকতে পারতাম? “
স্যাফিরা নিজের প্রশ্ন আরেকটু স্পষ্ট করে বলে,
“ আমি বুঝাতে চাইছি, কেউ কি নিজের সীমালঙ্ঘন করেছে? অযাচিতভাবে ছুঁয়েছে তোমাকে? নোংরামো করেছে কোনো ধরনের? “
নাওমি থমকায়। এরকম প্রশ্নের পিঠে কারো মুখই তার চোখের সামনে ভেসে উঠে না। কারণ কেউ-ই এমন কিছু করে নি তার সঙ্গে। বেহজাদ এবং আব্দুল দু'জনই তাকে নারী হিসেবে যতটুকু সম্মান দেওয়ার দিয়েছে। তবে বেহজাদের কাছাকাছি যাওয়াটা… সেটার দোষটা কি বেহজাদের উপর বর্তায়? সায় তো নাওমির তরফ থেকেও ছিলো। তারা দু'জনেই এই ভুলের সমান ভাগিদার। কিন্তু এই ব্যাপারে তো আর কাউকে জানানো সম্ভব নয়। এই পাপটুকু বেহজাদ এবং নাওমি পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে পুরো জীবন। নাওমি মাথা নেড়ে বলে,
“ নিশ্চিন্তে থাকো, এরকম কিছুই হয় নি। “
স্যাফিরা কিংবা আনাস্তাসিয়া আর কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ পায় না। দরজায় করাঘাতের শব্দ হয়। আনাস্তাসিয়া গলা উঁচিয়ে অনুমতি দিতেই দরজা খুলে কামরায় প্রবেশ করে চিকিৎসক। দরজার সামান্য ফাঁক দিয়ে আনাস্তাসিয়া লক্ষ্য করে চিন্তিত ম্যাথিউ দরজার ওপারেই দাঁড়িয়ে। আনাস্তাসিয়া প্রথমে নিজে ম্যাথিউর কাছে যেতে নেয়, অতঃপর কি ভেবে যেনো স্যাফিরাকে বলে,
“ ম্যাথিউকে চিন্তিত দেখাচ্ছে। তুমি ওর কাছে যাও। আমি নাওমির পাশে আছি। “
এইটুকু সময়ের মধ্যে সবার দৃষ্টির আড়ালে নাওমি নিজের গাউনের কোমরবন্ধের ভাজ হতে একটা ভাজ করা কাগজ বের করে তা বালিশের নিচে লুকিয়ে ফেলে। কেউ দেখে ফেললো কি-না নিশ্চিত হতে সে সবার মুখপানে তাকায়। নিশ্চিত হতেই সে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।
__________
দু হাত পিঠের পিছনে বাঁধা অবস্থায় আছে। চোখ দুটোও একটা কাপড় দিয়ে বাঁধা। তবুও শিনা টানটান করে দাঁড়িয়ে থাকা যুবককে ধরে কারাগারের পথে হাঁটছে দু'জন সৈনিক। একটা
নির্ধারিত কারাগার কক্ষের সামনে এসে দাঁড়াতেই আরেকজন প্রহরী ছুটে এসে কারাগারের দরজার তালা খুলে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে সৈন্য দু'জন যুবকটাকে একপ্রকার ধাক্কা মেরে কারাগারের ভেতর ঢুকিয়ে নিজেরাও পিছু পিছু ঢুকে। চোখে কাপড় বাঁধা যুবকটা ফুসছে। সৈন্য দু'জন তাকে ওই অবস্থায় রেখেই কারাগার থেকে বেরিয়ে দরজা তালাবদ্ধ করে প্রস্থান করে।
সঙ্গে সঙ্গে পাশের কারাগার কক্ষ হতে একটা পুরুষালি স্বর ভেসে আসে,
“ বেহজাদ! তুমি ঠিক আছো, বেহজাদ? তোমাকেও বন্দী করেছে এরা? “
আব্দুলের কণ্ঠস্বর শুনতেই বেহজাদ কিছুটা আশেপাশে মাথা ঘুরায়। চোখে পট্টি বাঁধা থাকার কারণে সে কিছু দেখতে পারছে না। দুনিয়াটা সম্পূর্ণ অন্ধকার মনে হচ্ছে তার। তবে সে আব্দুলের বুদ্ধিমত্তায় খুশি হয়। ভাগ্যিস তাকে যুবরাজ ডাকে নি! না-হয় তার পরিচয়টা ফাঁস হয়ে যেতো। বেহজাদ জবাব দেয়,
“ হ্যাঁ, ঠিক আছি। তুমি একাই? কখন বন্দী করেছে তোমাকে? “
কারাগারের সামনে একজন সৈন্য উপস্থিত থাকায় আব্দুল কিছুটা চতুরতার সঙ্গে জবাব দেয়,
“ গতরাতেই বন্দী হয়েছি আমি। তখনই আমাকে কারাগারে নিয়ে আসা হয়েছে। “
বেহজাদ বুঝতে পারে কেরেম হয়তো পালাতে সক্ষম হয়েছে। তাই সে কেরেমের অস্তিত্ব সম্পর্কে আর সৈন্যদের জানতে দেয় না। কেরেম যদি পালিয়ে নিজের জীবন রক্ষা করতে পারে, তাহলে বেহজাদ কিছুটা স্বস্তি পাবে। আব্দুল ফের প্রশ্ন করে,
“ প্রিন্সেস? “
বেহজাদের অন্ধকার চোখের সামনে ভেসে উঠে একটা রঙিন দৃশ্য। ধূলিঝড়ের মাঝে একটা ছোট্ট ঘরে নাওমির কাছাকাছি যাওয়ার মুহূর্তটা। হঠাৎ তার মনে হলো নাওমির একটা বিশেষ গন্ধ আছে। গন্ধটা অনেকটা দারুচিনি এবং মধুর মিশ্রণের ন্যায়। সে-ই গন্ধ বুঝি এখনো বেহজাদের ঠোঁটে লেগে আছে। নিজের ভাবনায় লাগাম টেনে বেহজাদ জবাব দেয়,
“ উদ্ধার হয়েছে। প্রাসাদেই আছে। নিজের পরিবারের কাছে ফিরেছে। “
আব্দুল কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। মনের গহীনে সে খুব করে চাইতো প্রিন্সেস মুক্তি পাক। বিনা অপরাধে শাস্তি পাওয়ার যেনো একটা ইতি ঘটে। প্রিন্সেস নাওমির জন্য খুশি হলেও আব্দুলের নিজের যুবরাজ এবং রাজকুমারীর জন্য চিন্তা হয়। এই দু'জন এখন কিভাবে রক্ষা পাবেন?
চলবে…