ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়তিথি

৪৬তম পর্ব

লেখক: নাফিসা তাবাসসুম খান

প্রণয়তিথি

লেখনীতে : নাফিসা তাবাসসুম খান

৪৬.

কাউন্টকে গুরুত্বপূর্ণ একটা খবর জানাতে এই মধ্যরাতেই প্রাসাদে হাজির হয়েছে প্রধান সেনাপতি কেভ। তবে প্রাসাদে প্রবেশ করতেই তার কানে খবর আসে যে কয়েদি মেয়েটা অর্থাৎ মাহশাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কেভ বিরক্তি নিয়ে সৈন্যদের খোঁজে লাগিয়ে দিয়ে উপরে চলে যায় সোজা কাউন্টের কামরার উদ্দেশ্যে। তবে কাউন্ট ইয়ান আলবার্টের কক্ষের সামনে এসে উপস্থিত হতেই কেভের ভ্রু কুচকে যায়। কক্ষের সামনে পাহারার দায়িত্বে থাকা প্রহরীদ্বয় কোথায়?

কেভ নিজের আদব অনুযায়ী কাউন্টের কক্ষের দরজার কড়া নেড়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে। ভিতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে সে চিন্তিত হয়। নিয়ম লঙ্ঘন করে দরজা খুলে তড়িঘড়ি করে কক্ষে প্রবেশ করতে নেয়। সঙ্গে সঙ্গেই তার পা জোড়া থেমে যায়। হতভম্ব ভঙ্গিতে কেভ দেখছে সম্পূর্ণ দৃশ্যটা।

কাউন্ট ইয়ান আলবার্ট পরাজিত এক ব্যক্তির ন্যায় নিথর ভঙ্গিতে মেঝেতে পড়ে আছে। তার বুক, পেট থেকে গলগলিয়ে রক্ত বের হয়ে মেঝে ভেসে যাচ্ছে। তার শিয়রেই বসে মাথা নত করে ডুকরে কাদছে এক প্রতারক কয়েদি। তার পাশে পড়ে থাকা খঞ্জরটাই পুরো পরিস্থিতি স্পষ্ট ব্যাখ্যা করে দিচ্ছে।

কেভ কেবল এক মুহূর্ত নিলো পুরো দৃশ্যটা দেখতে এবং পরিস্থিতিটা বুঝতে। একবার বুঝে যেতেই সে হুংকার দিয়ে উঠে দৌড়ে এসে বন্ধুতূল্য কাউন্টকে জাপ্টে ধরলো। জেইলান তবুও মাথা তুললো না। না পালানোর চেষ্টা করলো। কেভ চিৎকার করে প্রহরীদের ডাকতে ডাকতে হন্যি হয়ে আশেপাশে তাকালো। তার চোখ পড়লো জেইলানের একপাশে এলোমেলো ভঙ্গিতে পড়ে থাকা শালটার দিকে। কেভ দ্রুত শালটা হাতে নিয়ে দলা পাকিয়ে সেটাকে ইয়ানের পেটের একপাশে চেপে ধরলো। রক্তপাত বন্ধের চেষ্টা চালাচ্ছে সে। তবে পেটে কাপড় চেপে ধরতেই সে দেখলো ইয়ানের বুকও পুরোটা রক্তে মাখামাখি অবস্থা।

কেভ দিশেহারা অনুভব করলো। সে চিৎকার করে আবারও প্রহরীদের ডাকলো। তার চিৎকার এতটাই প্রখর ছিলো যে সম্পূর্ণ প্রাসাদ যেনো কেঁপে উঠলো। কেভ ইয়ানের জ্ঞান ফেরানোর জন্য ইয়ানকে ডাকতে নেয়। এর মাঝেই কয়েকজন প্রহরী কোথা থেকে ছুটে আসে।

প্রহরীরা আসতেই কেভ তাদের আপাতত না ধমকিয়ে প্রয়োজনীয় কাজে আগে মনযোগ দিলো। দ্রুত একজন প্রহরীকে বললো গিয়ে চিকিৎসকদের ডেকে আনতে। বাকি প্রহরীদের বললো কাউন্টকে দ্রুত পালঙ্কে তুলে শুইয়ে দিতে। কাউন্টকে বাঁচানোর জন্য প্রহরী এবং প্রধান সেনাপতির এতো তোরজোড়ের মাঝেই কক্ষে উপস্থিত রমণী থমথমে স্বরে বলে উঠে,

“ বৃথা চেষ্টা করছো তোমরা। তোমাদের কাউন্ট আর নেই। মরে গিয়েছে। “

কেভ এ-ই পর্যায়ে তাকায় জেইলানের পানে। জেইলান এখন আর কাদছে না। উল্টো তার চেহারা অত্যন্ত থমথমে রূপ ধারণ করে আছে। প্রহরীরা জেইলানের কথার তোয়াক্কা না করে নিজেদের কাজে ব্যস্ত। কাউন্টকে দ্রুত পালঙ্কে নিয়ে শুইয়ে দিয়েছে তারা। কেভ ধীরে ধীরে উঠে এগিয়ে আসে জেইলানের পানে। জেইলানের মাঝে কোনো হেলদোল নেই। সে পাথরের মূর্তির ন্যায় বসে আছে।

কেভ জানে তার সামনে বসে থাকা এই রমণী কোনো এক সাম্রাজ্যের রাজকুমারী। কিন্তু কেভের নিকট এই মেয়ে কেবল মাত্র একজন অপরাধী। তাই নিজের ক্রোধটুকুকে কাবু না করে সে জেইলানের চুলের মুঠি ধরে তাকে টেনে তুলে। এক হাতে জেইলানের চুলের মুঠি ধরে রেখে অপর হাতে তার গলা চেপে ধরে কেভ। জেইলানকে নির্লিপ্ত দেখায়। কেভ কিড়মিড়িয়ে বলে,

“ জীবনে যত দোয়া শিখেছো সব পড়ে নাও, মাহশা। প্রার্থনা করো যেনো কাউন্টের কিছু না হয়। উনার কিছু হলে তোমাকে আমার হাত থেকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না। ফাঁসি দিবো তোমাকে আমি। তোমার গলায় ফাঁসির দড়ি যতক্ষণ না পেঁচাচ্ছি ততক্ষণ আমি শান্ত হবো না। “

কেভের কথা শেষ হতে না হতেই কক্ষে হুড়মুড়িয়ে আনাস্তাসিয়া এবং নাওমিকে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তাদের পিছু পিছুই প্রবেশ করে ক্যামেলিয়া। অতঃপর ম্যাথিউ এবং স্যাফিরাকেও দেখা যায়। নাওমি সরল এবং নরম গোছের মানুষ। ভাইয়ের এমন পরিস্থিতি দেখে সে স্বাভাবিক থাকতে পারে না। সে আর্তনাদ করে ভাইয়ের কাছে ছুটে যায়। ক্যামেলিয়া বাকহারা। ম্যাথিউ দৌড়ে যায় চিকিৎসক ধরে আনতে। স্যাফিরা দ্রুত এসে আনাস্তাসিয়াকে সামলায়।

আনাস্তাসিয়া ফ্যালফ্যাল করে দেখছে নিজের ছেলেকে। চিকিৎসক আসার পূর্বে কাজ এগিয়ে রাখতে প্রহরীরা কাউন্টের গায়ের শার্ট খুলে ফেলেছে ইতিমধ্যে। বুক এবং পেটে নির্দয়ভাবে চালানো খঞ্জরের দাগ গুলো রক্তের কারণে স্পষ্ট দেখাই যাচ্ছে না। ছেলের এরকম অবস্থা দেখে আনাস্তাসিয়ার শরীর টলে উঠলো। ক্যামেলিয়া দ্রুত এসে আরেক পাশ থেকে তাকে সামলায়।

ছেলের থেকে চোখ ফিরিয়ে পাশ ফিরে তাকাতেই আনাস্তাসিয়া লক্ষ্য করে কেভের হাতে বন্দী জেইলানের পানে। সঙ্গে সঙ্গে যেনো অদৃশ্য শক্তি এসে ভর করে আনাস্তাসিয়ার শরীরে। সে নিজেকে স্যাফিরা এবং ক্যামেলিয়ার হাত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে এগিয়ে যায় জেইলানের পানে। রাজমাতাকে এগিয়ে আসতে দেখে কেভ কিছুটা সড়ে দাঁড়ায়। জেইলানের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আনাস্তাসিয়া কোনো সময় অপচয় না করে সজোরে একটা চড় বসায় জেইলানের গালে।

চড়ের প্রকোপে জেইলান বাম দিকে মুখ ঘুরাতে বাধ্য হয়। স্যাফিরা ঘৃণাভরা দৃষ্টি মেলে পিছন থেকে বলে উঠে,

“ এই অশুভ মেয়ে আমাদের সন্তানগুলোর জীবন কেড়ে নিতে উঠে পড়ে লেগেছে। “

জীবনে বহু কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে আনাস্তাসিয়া। কখনো সে হাল ছাড়ে নি। আজ আরো একবার জীবন তার পরীক্ষা নিচ্ছে তার সন্তানের সংকটপন্ন জীবনের মাধ্যমে। এবারও আনাস্তাসিয়া হাল ছাড়বে না। নিজের ছেলেকে সুস্থ করার সম্পূর্ণ চেষ্টা চালাবে ও। তবে তার আগে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরী। আনাস্তাসিয়া অত্যন্ত শান্ত গলায় কেভকে উদ্দেশ্য করে বলে,

“ মেয়েটাকে কারাগারে নিয়ে যাও কেভ। আজ সারারাত ওকে এবং ওর সঙ্গীদের সঙ্গে কি করতে হবে তা আশা করছি আমার তোমাকে বলে দিতে হবে না। আগামীকাল এই মেয়েকে এবং এ-র সঙ্গীদের যেনো ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। এটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তের উপর আমল করা হোক। “

আনাস্তাসিয়ার কথা শেষ হতেই চিকিৎসক দলকে কক্ষে প্রবেশ করতে দেখা যায়। আনাস্তাসিয়া আর কথা না বাড়িয়ে দ্রুত ওদিকে চলে যায়। কেভ বিনাবাক্য ব্যয়ে দু'জন প্রহরীকে ইশারা করতেই তারা এসে জেইলানকে ধরে কারাগারের দিকে নিয়ে যায়। কেভও যায় তাদের পিছু পিছু।

__________

ক্লান্ত দেহটা ঘুমে ডুব দিয়েছে বেশ কিছুক্ষণ হলো। হুট করে কিছু একটার শব্দ পেতেই বেহজাদের কাচা ঘুমটা ভেঙে যায়। সে চোখ মেলে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করে কি হচ্ছে। আগ্রহবশত উঠে দরজার দিকে এগিয়ে যেতেই সে দরজার সামান্য ফাঁকা জায়গা দিয়ে দেখলো যে দু'জন সৈন্য মিলে একটা মেয়েকে ধরে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করছে। পিছন থেকে মেয়েটার এক ঝলক দেখতেই বেহজাদের তাকে চিনতে অসুবিধা হলো না। সে সঙ্গে সঙ্গে অস্থির গলায় ডেকে উঠে,

“ জেইলান! “

কারাগারে পা রাখার পর থেকেই জেইলান অস্থির ভঙ্গিতে আশেপাশে তাকিয়ে নিজের ভাইকেই খুঁজছিলো। হুট করে তাই ভাইয়ের কণ্ঠস্বর শুনতেই সে চকিতে ফিরে তাকায়। দরজার ও-ই ছোট্ট ফাঁকা অংশ দিয়ে এক পলকের জন্য কেবল বেহজাদের চোখ জোড়া দেখতে পেলো জেইলান। পর মুহূর্তেই ওকে টেনে হিঁচড়ে কারাগারে ঢুকানো হয়।

এ-ই দৃশ্য দেখতেই বেহজাদের পায়ের রক্ত মাথায় উঠে যায়। সে চেঁচিয়ে উঠে,

“ ওকে ছাড়। ওর হাত ছাড়। একদম গায়ে হাত দিবি না। “

বেহজাদের চেঁচামেচিতে পাশের কারাগারে থাকা আব্দুলও সজাগ হয়। সে-ও নিজের দরজার ধারে এসে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকে সম্পূর্ণ দৃশ্য। ঠিক সে-ই মুহূর্তেই কারাগারের সরু পথে এসে দাঁড়ায় প্রধান সেনাপতি। সে এক পলক পুরো পরিস্থিতি দেখে নিয়ে নিজের পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা সৈন্যদের কিছু একটা ইশারা করে। সঙ্গে সঙ্গে চারজন করে সৈন্য কারাগারের তিন কক্ষের ভেতর প্রবেশ করে।

অতঃপর কেবল তিন কারাগারের কক্ষ থেকে ভেসে আসে দমফাটা চিৎকার। আব্দুল অত্যাচারের প্রকোপে চিল্লিয়ে যাচ্ছে। জেইলানও না চাইতে বার কয়েক আর্তনাদ করছে। এবং বেহজাদ? সে কারাগারের ভেতর ধস্তাধস্তি এবং মারামারি শুরু করে দিয়েছে। চারজন সৈন্যকেই সে নিজের শক্তপোক্ত হাতের সাহায্যে নাস্তানাবুদ করে তুলেছে।

কেভ উপায় না পেয়ে আরো চারজন সৈন্যকে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করে। বেশ অনেকক্ষণ সময় নিয়ে এবং বহু কসরত করে বেহজাদকে ঘাড় চেপে ধরে হাঁটুর উপর ভর দিয়ে বসানো হয়। তবে বেহজাদ মাথা নত করে না। জোর করেও কেউ করাতে পারে না। বড়ো বড়ো নিঃশ্বাস নিয়ে ফুসছে সে। ধস্তাধস্তিতে হাতের জখমের জায়গার পট্টিটা আবার রক্তে ভেসে উঠেছে।

কেভ এ-ই মুহূর্তে এগিয়ে এসে এক হাতে বেহজাদের চুল মুঠি করে ধরে, অপর হাত মুষ্টি বদ্ধ করে বেহজাদের নাক বরাবর ঘুষি মারতে নেয়। ঠিক সে-ই মুহূর্তে আবারও জেইলানের আর্তনাদ ভেসে আসে। বোনের চিৎকারের শব্দ কানে ভেসে আসতেই বেহজাদ হিংস্র ভঙ্গিতে চেঁচিয়ে উঠে,

“ আমার বোনকে ছাড়! “

কেভের হাতটা সঙ্গে সঙ্গে থেমে যায়। বোন মানে? ও-ই প্রতারক মেয়েটা এ-ই ছেলের বোন? কিন্তু মাহশা… ও তো তুরস্কের রাজকুমারী। তাহলে এই ছেলে… এ তুরস্কের যুবরাজ?

__________

কক্ষের এক কোণে পাথরের মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে বিছানায় শুয়ে থাকা নিজ ছেলের পানে তাকিয়ে আছে আনাস্তাসিয়া। কাউন্ট ইয়ান আলবার্টের চিকিৎসা করছে প্রাসাদের অভিজ্ঞ সব চিকিৎসকরা। তবে তাদের কপালেও রয়েছে চিন্তার ভাব। কাউন্টকে বেশ বিশ্রীভাবে জখম করা হয়েছে। বেশ কয়েকবারের ছুরিকাঘাতে শরীরের ভেতরেও বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ইয়ানের উন্মুক্ত বুকের উপর থেকে নিচের দিকে টানা বিশাল আঁচড়টা থেকে রক্তপাত বন্ধ করে জীবাণু প্রতিরোধের জন্য ওষুধ লেপ্টে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে। তবে তার পেটের কাছের জখমটার চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরোপুরি রক্তপাত বন্ধ করা সম্ভবই হচ্ছে না। চিকিৎসকরা বেশ কয়েকটা ওষুধ লাগিয়ে কাপড় দিয়ে পট্টি করছে। তবে ফলাফল শূন্য। বারবার কাপড়গুলো রক্তে ভিজে উঠছে।

ম্যাথিউ কক্ষে প্রবেশ করেই দেখে ইয়ানের করুণ অবস্থা। অতঃপর দেখে কক্ষের এককোণে দাঁড়িয়ে থাকা আনাস্তাসিয়াকে। ম্যাথিউ আনাস্তাসিয়ার দিকে এগিয়ে গিয়ে তার পাশে দাঁড়িয়ে বলে,

“ আমি আছি এখানে। চিকিৎসকরাও আছে। তুমি গিয়ে বিশ্রাম করো। “

আনাস্তাসিয়ার মাঝে কোনো হেলদোল দেখা যায় না। কোনো প্রতুত্তরও করে না সে। ম্যাথিউ আবারও বলে,

“ ও বাঁচবে। চিন্তা করো না। ওকে বাঁচতেই হবে। “

মুখে এ-ই কথা বললেও মনে মনে ম্যাথিউ চিন্তিত। কাউন্টের শারীরিক অবস্থার খবর বাহিরের কেউ না জানলেও প্রাসাদের সকল দাসী এবং সৈন্যরা জানে। ইতিমধ্যেই তাদের মধ্যে কানাঘুষা শুরু হয়ে গিয়েছে। যদি কাউন্ট না বাঁচে তবে সাম্রাজ্যের ভবিষ্যতের কি হবে? এই রাজ পরিবারে একমাত্র ইয়ানের শরীরেই আলবার্ট বংশের রক্ত বহমান। বাদবাকি সবাই নামমাত্র রাজ পরিবারের সদস্য হলেও তারা কেউ-ই প্রকৃতিপক্ষে আলবার্ট নয়। আবার এদিকে কাউন্টের কোনো উত্তরসূরীও নেই। কি সংকটপূর্ণ একটা পরিস্থিতি!

ম্যাথিউ কিছুটা গলা ঝেড়ে বলে,

“ আমার কিছু জরুরী কথা আছে। আমার সঙ্গে এসো। “

আনাস্তাসিয়া এবার ছেলের পান থেকে চোখ ফিরিয়ে এক পলক ম্যাথিউর দিকে তাকায়। অতঃপর ম্যাথিউর সঙ্গে কামরার বারান্দায় গিয়ে রেলিং ঘেঁষে দাঁড়ায়। ম্যাথিউ কথা প্যাঁচায় না। সরাসরি বলে,

“ আমি যা বলবো তা মন দিয়ে শুনো। আমার বিশ্বাস নিজের আবেগের তুলনায় কথার যুক্তিকে বোঝার চেষ্টা করবে তুমি। ইয়ান বড়ো হয়েছে। তুমি সবসময় ইয়ানের চিন্তায় তটস্থ থাকো। ওর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত থাকো। কিন্তু এখন তোমার ইয়ানের পাশাপাশি সিংহাসনের নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তা করা উচিত। “

আনাস্তাসিয়া বুঝতে পারে ম্যাথিউর কথা কোন দিকে যেতে পারে। সে চুপ রয়। ম্যাথিউ বলতে থাকে,

“ আমার মনে হয় তোমার ইয়ানের বিয়ে নিয়ে ভাবা উচিত। ও সুস্থ হতেই বিয়ে দিয়ে ওর একটা বিহিত করা জরুরী। সিংহাসন এবং সাম্রাজ্যের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একজন উত্তরসূরী প্রয়োজন। “

অকপটে কথাগুলো বলে ফেললেও ম্যাথিউ কিছুটা ভীত। আনাস্তাসিয়া যদি উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখায়? তবে তার ভয়কে দূর করে আনাস্তাসিয়া বেশ শান্ত গলায় বলে,

“ আমার ছেলেটা আগে বাঁচুক। ও সুস্থ হলেই সবার আগে ওর বিয়ের ব্যাপারটা আমি সম্পন্ন করতে চাই। আমার ছেলের যোগ্য স্ত্রী এবং এই সাম্রাজ্যের জন্য যোগ্য কাউন্টেস হওয়ার যোগ্যতা রাখে এমন মেয়েদের খোঁজ করো। আমি নিজে মেয়ে পছন্দ করবো। সিংহাসন বেশিদিন উত্তরসূরী ছাড়া খালি রাখাটা ঠিক হবে না। “

ম্যাথিউ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। সে আনাস্তাসিয়াকে বিশ্রাম করতে বলে, ইয়ানের শারীরিক অবস্থা দেখতে কামরার ভেতর চলে যায়। আনাস্তাসিয়া নিজ জায়গা থেকে নড়ে না। সে আকাশ পানে তাকিয়ে রয় চুপচাপ। তার ছেলের আজ এই অবস্থার পিছনে একমাত্র দায়ী ইয়ানের অবান্তর এবং সর্বনাশা এক অনুভূতি। বাহিরের শত্রুদের থেকে ছেলেদের রক্ষা করতে করতে আনাস্তাসিয়া টেরই পায় নি, কখন ইয়ানের নিজের মনই তার সবথেকে বড়ো দুশমন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এর বিহিতটা মাহশা নামক ও-ই প্রতারকের ফাঁসি এবং ইয়ানের ভালো কোনো মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই সমাধান করবে আনাস্তাসিয়া।

চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন