প্রণয়তিথি
লেখনীতে : নাফিসা তাবাসসুম খান
৫২.
শীতকালকে বিদায় জানিয়ে বসন্তের রঙে প্রকৃতি সেজেছে। পাখিদের কিচিরমিচির এবং ফুলের সমারোহে রাজ্য মুখরিত। ইয়ানের জ্ঞান ফিরেছে আজ পাঁচদিন হয়ে গিয়েছে। এ-ই পাঁচ দিনে সে নিজের কামরা ছেড়ে বিশেষ কোনো প্রয়োজনেও বের হয় নি। সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থেকে দ্রুত সুস্থ হওয়াটাই আপাতত তার মূল লক্ষ্য। অসুস্থ শরীর নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে ফের শয্যাশায়ী হওয়ার থেকে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে নিজের দায়িত্বে ফেরাটাকে বেশি উপযোগী মনে হচ্ছে তার।
বুকের জখমটা ধীরে ধীরে ঠিক হতে শুরু করেছে। তবে মূল পীড়াটা দিচ্ছে পেটের জখম। আঘাতপ্রাপ্ত জায়গাটা এখনো শুকাতেই চাইছে না। তবে চিকিৎসকরা আশাবাদী। যেহেতু শীত গড়িয়ে বসন্তকালের সূচনা হয়েছে, সেহেতু একটু সময় নিলেও ঘা'টা শুকিয়ে যাবে বলে আশা রাখা যায়। এতো কিছুর মাঝে আরেকটা কাজ করেছে প্রধান সেনাপতি। সেটা হচ্ছে কাউন্ট এর কক্ষের বাহিরের নিরাপত্তা আরো জোরদার করেছে। পূর্ববর্তী প্রহরীদের সরিয়ে নতুন প্রহরী নিয়োগ করেছে। পাহারা জোরালো করেছে। কাউন্টের জন্য আনা খাবারটাও আগে পরীক্ষা করে তারপর কামরায় পাঠাচ্ছে সে।
গত পাঁচ দিনে ইয়ান মাহশা কিংবা তার সঙ্গীদের ব্যাপারে কোনো মন্তব্যই করে নি। একবারও জানতে চাই নি, তাদের কি অবস্থা বা কোথায় আছে। কেভ যখন তাদের শাস্তি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে তখন কেবল উত্তরে অপেক্ষা করতে বলেছে সে। গত পাঁচ দিনে ইয়ানের প্রতিক্রিয়া কেভকে অনেকটাই অবাক করেছে। এতো বড়ো একটা ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর, কাউন্টের এরকম নির্লিপ্ততা তাকে খুব ভাবাচ্ছে। বারবার তার মনে খটকা লাগছে। আবেগে ভেসে যদি কাউন্ট নরম আচরণ করে ও-ই মেয়েটার সাথে? কেভ চায় না কাউন্ট আর নরম হোক। অপাত্রে নমনীয়তা এবং অনুভূতি ঢালার কোনো মানেই হয় না।
__________
নাওমিকে আজকাল বেশ বিষণ্ণ দেখায়। কি কারণ তা কারো জানা নেই। ক্যামেলিয়া আজ সকাল সকাল সিবিউ প্রাসাদে এসে উপস্থিত হয়েছে। আজকাল তারও কেমন নিজেকে একা মনে হয়। হুট করেই যেনো তার চারিপাশের সকলে বদলে গিয়েছে। বাবাকে সার্বক্ষণিক কেমন থমথমে দেখায়। ইয়ান এবং নাওমিও অন্য জগতে ডুবে থাকে। তাদের অর্ধেক কথা তো সকলের মাথার উপর দিয়ে যায়। বাকি রইলো অ্যানা! রাজমাতা রাজ্য তোলপাড় করে ফেলছে কয়েদীদের খুঁজে বের করতে। অন্য কোনো কিছু নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো তার হাতে সময় নেই।
সারাদিন প্রাসাদে শুয়ে বসে এবং বই পড়ে কাটিয়ে বিকেলের দিকে ক্যামেলিয়া সময় অতিবাহিত করার জন্য নাওমির কক্ষে এসে উপস্থিত হয়। নাওমি তখন ভাবুক ভঙ্গিতে নিজ কক্ষের বারান্দায় বসে ছিলো। হাতে তার থালি ভর্তি কালো আঙুর। থোকা থেকে একটা একটা করে আঙুর ছিড়ে সে মুখে দিচ্ছে এবং কিছু একটা ভাবছে। ক্যামেলিয়া ধুপ করে এসে তার পাশে বসে বলে,
“ এতো কি ভাবছিস? আঙুরের ব্যবসা করবি না-কি? দ্বীপ অঞ্চলে আঙুরের ভালো চাহিদা শুনেছি আমি। “
নাওমি ভাবনা থেকে বেরিয়ে ক্যামেলিয়ার কথার জবাব দিয়ে বলে,
“ কি যা তা বলছো! “
ক্যামেলিয়া সামান্য হেসে থালা থেকে একটা আঙ্গুর ছিড়ে নেওয়ার জন্য সামনের দিকে ঝুঁকতেই তার চোখ পড়ে নাওমির গলায়। সে সঙ্গে সঙ্গে নাওমির গলায় ঝুলতে থাকা কৃত্রিম প্রজাপতির হারটা ছুঁয়ে প্রশ্ন করে,
“ এই, এটা কোথায় পেয়েছিস রে? কি সুন্দর! সাদা রঙের প্রজাপতিটাকে খুবই জীবন্ত মনে হচ্ছে। “
নাওমি অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে জবাব দেয়,
“ এটা? এটা উম্ম… এটা একজন কারিগরকে দিয়ে আমি বানিয়েছিলাম। ভীনদেশী কারিগর একজন বাণিজ্য করতে কিছু দিনের জন্য রাজ্যে এসেছিলেন। উনি-ই বানিয়ে দিয়েছেন। এখন উনি রাজ্যে নেই। “
নাওমির কথার ধরনে ক্যামেলিয়ার কপাল কুচকে আসে। সে বলে উঠে,
“ আগে তো কখনো এটা তোর গলায় দেখি নি। উদ্ধার হয়ে তুই ফিরে আসার পর থেকেই এটা সর্বক্ষণ তোর গলায় ঝুলছে। তুই তো অলংকারের প্রতি খুব একটা আগ্রহী না আমার জানা মতে। “
নাওমি এবার কিছুটা অন্যমনস্ক হয়ে বলে,
“ সময়ের সঙ্গে আগ্রহ তো বদলাতেও পারে। “
ক্যামেলিয়ার পছন্দ হলো না উত্তরটা। এরকম অন্যমনস্ক বাবা, ইয়ান এবং নাওমিকে তার মোটেও ভালো লাগে না। সে তা-ই প্রসঙ্গ বদলে বলে,
“ তোদের ও-ই বীর বাহাদুর প্রধান সেনাপতিকে আজকাল লক্ষ্য করেছিস? “
নাওমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
“ কি লক্ষ্য করবো? “
“ ওর চোখে মুখের ভাষা বদলেছে। মনে হচ্ছে গভীর কিছু একটা লুকিয়ে বেড়াচ্ছে। চেহারাটা কেমন চোর ডাকাতদের মতো লাগে দেখতে। “
নাওমি এবার আরো অবাক হয়ে বলে,
“ কি বলছো? আমার তো এমন মনে হয় নি। দেখতে তো ঠিকঠাকই আছে মনে হয়। “
ক্যামেলিয়া বিরক্তি নিয়ে বলে,
“ ধুর। তোর এবং আমার দৃষ্টি এক হলো নাকি? আমি ওকে যে-ই দৃষ্টিতে দেখি তুই ও-ই দৃষ্টিতে দেখিস না। “
“ তুমি ওকে কোন দৃষ্টিতে দেখো? “
“ আমি তো ওকে… “
এতদূর বলেই ক্যামেলিয়া থেমে যায়। খেয়াল হতেই দ্রুত সে নিজের মুখের লাগাম টানে। দ্রুত এখান থেকে পালিয়ে যেতে বিরক্তি নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলে,
“ ধ্যাৎ! তুই তোর আঙ্গুর খা। আমার অনেক কাজ আছে। “
বলেই ক্যামেলিয়া হনহনিয়ে হেঁটে বেড়িয়ে যেতে নেয়। নাওমি পিছনে আয়েশ করে বসে আঙ্গুর মুখে দিয়ে বলে,
“ জরুরী কাজটা কি প্রধান সেনাপতি কেন্দ্রিক? “
ক্যামেলিয়া অবাক হয়। পর মুহূর্তেই সে আরো দ্রুত পা চালিয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। নাওমি মিটমিটিয়ে হাসতে থাকে দরজার পানে তাকিয়ে। বহুদিন পর তার ঠোঁটে হাসি ফুটলো। আবার মুহূর্তেই তা মিলিয়েও গেলো।
__________
নাওমির কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসা ক্যামেলিয়া দ্রুত কদমে নিজ কক্ষের দিকে হাঁটছিলো। তখনই তার চোখ পড়ে করিডরের অপর প্রান্তে। কেভ কেমন ব্যস্ত কদমে কোথাও যাচ্ছে। ক্যামেলিয়ার সন্দেহর দৃষ্টি আবারও গাঢ় হয়। তার মন বারবার কেন বলছে যে, এই প্রধান সেনাপতি কোনো শরবত গোলাচ্ছে?
নিজের সন্দেহ নিশ্চিত করতে ক্যামেলিয়া কিছু না ভেবেই কেভের পিছু নেয়। আজ সে দেখে ছাড়বে যে তার এ-ই সন্দেহটা কি কেবলই মনের ভুল নাকি সত্যি।
__________
হুট করে দরজায় করাঘাতের শব্দ পেতেই নাওমি উঠে দাঁড়ায়। এগিয়ে গিয়ে কামরায় প্রবেশ করে অনুমতি দিতেই তার বিশ্বস্ত সৈন্যকে দেখতে পায়। সৈন্য কামরায় প্রবেশ করেই প্রথমে সম্মান প্রদর্শন করে। অতঃপর নিচু স্বরে বলে উঠে,
“ প্রিন্সেস, কয়েদীদের খোঁজ পেয়ে গিয়েছি। “
নাওমি দ্রুত বলে উঠে,
“ সত্যি? কোথায় ওরা? ধরে এনেছো? “
“ না প্রিন্সেস। ঠিকানা জেনে এসেছি। ধরে আনা সম্ভব না। কড়া পাহারায় রাখা হয়েছে ওদের। সৈন্যরা পাহারা দিচ্ছে। “
নাওমি অবাক হয়ে বলে,
“ কড়া পাহারা? সৈন্য? কোথায় ওরা? “
সৈন্য এবার কিছুটা নিচু স্বরে নাওমির প্রশ্নের উত্তর দেয়। সঙ্গে সঙ্গে নাওমি খুব চমকায়। এটা কি করে সম্ভব? এর পিছনে কি কারণ হতে পারে? কোনো যুক্তিই মিলাতে পারছে না নাওমি। সৈন্য ডাকতেই নাওমির সম্বিত ফিরে। সৈন্য প্রশ্ন করে,
“ এখন আপনার কি আদেশ, প্রিন্সেস? “
নাওমি কিছু একটা ভেবে বলে,
“ ঘোড়া প্রস্তুত করতে বলো আমার। আমি তৈরী হয়ে আসছি। আমাকে ওদের কাছে নিয়ে যাবে তুমি। “
সৈন্যকে কিছুটা ভীত দেখায়। প্রিন্সেসকে না বলার সাধ্যি তার নেই। তবে এভাবে যাওয়াটাও কতটুকু ঠিক তা সে বুঝতে পারছে না।
__________
লুকিয়ে প্রধান সেনাপতির পিছু করাটা ক্যামেলিয়ার জন্য কঠিন কোনো ব্যাপার ছিলো না। লোকচক্ষু এড়িয়ে সে কেভের পিছু করতে করতে সোজা কেভের বাড়ির কাছটায় এসে পৌঁছেছে। তবে দো তলা কাঠ এবং মোটা পাথরের তৈরী এই বাড়িটার দিকে তাকাতেই ক্যামেলিয়ার ভ্রু কুচকে এলো। বাড়ির বাহিরে এতো নিরাপত্তা কর্মী কেন? তা-ও এরকম শুনসান, নিরিবিলি একটা জায়গায়?
একজন প্রধান সেনাপতির বাড়ির বাহিরে এরকম কড়া নিরাপত্তা থাকাটা ঠিক কতটা যুক্তিগত তা ক্যামেলিয়া বুঝে উঠতে পারে না। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে। অন্ধকার নেমে এসেছে চারিপাশে। ক্যামেলিয়া একটা গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে দূর থেকে লক্ষ্য করে কেভের গতিবিধি। বাড়ির বাহিরে একজন প্রহরীর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলে, সে নীরবে বাসার ভেতর প্রবেশ করে
ক্যামেলিয়ার সন্দেহ তবুও দূর হয় না। বাড়ির ভেতর কি এমন আছে যেটা সুরক্ষিত রাখতে প্রধান সেনাপতি এতো সচেতনতা অবলম্বন করেছেন? আগ্রহী ক্যামেলিয়া এবার লুকিয়ে বাড়ির পেছন দিকটায় যায়। পিছনের এদিকটায় লেক থাকায় খুব একটা প্রহরীদের দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। যে একজন প্রহরী তবুও এদিকে আছে তার চোখ ফাঁকি দেওয়া ক্যামেলিয়ার বা হাতের খেল।
প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ক্যামেলিয়া নিজের লকলকে শরীর এবং নেকড়ে সত্তার ক্ষমতা ব্যবহার করে সহজেই পাথর বেয়ে দো তলার একটা কক্ষের জানালার ধারে উঠে দাঁড়ায়। জানালার এপাশ হতেই সে স্পষ্ট শুনতে পায় কেভের গলার স্বর। কাউকে ধমকের স্বরে বলছে,
“ দিনে কয়বার শৌচালয়ে যেতে হয় তোমার? “
আরেকজন পুরুষের গলার স্বর শোনা যায়,
“ প্রকৃতির ডাক এলে আমি সাড় না দিয়ে থাকি কিভাবে? “
ক্যামেলিয়া অবাক হয়। পুরোপুরি সন্দেহ খতিয়ে দেখতে সে ঠাস করে জানালাটা ভেতরের দিকে ঠেলে দেয়। তার হাতের জোরেই কি-না বুঝা গেলো না, তবে মুহূর্তেই জানালাটা সম্পূর্ণ খুলে গেলো। কেভ সহ কক্ষে উপস্থিত দু'জনই চমকে জানালার পানে তাকায়। ক্যামেলিয়া বিস্মিত দৃষ্টিতে দেখে কক্ষে উপস্থিত বাকি দু'জনকে। কেভ সম্বিত ফিরে পেতেই দ্রুত জানালার দিকে এগিয়ে যেতে নেয়। কিন্তু ক্যামেলিয়া মুখে ঘৃণার ছাপ নিয়ে দ্রুত নিচে নামতে নেয়। তাড়াহুড়োর চক্করে লম্বা গাউনে পা পেচিয়ে যায় তার। কেভ দৌড়ে এসে হাত বাড়িয়ে দেয় তবে ততক্ষণে ক্যামেলিয়া সোজা লেকের পানিতে পড়ে গিয়েছে। কেভ চাপা চিৎকার দিয়ে উঠে,
“ ক্যামেলিয়া! “
সঙ্গে সঙ্গে কেভ উল্টো ঘুরে দৌড়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। বেহজাদ কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে আপন জায়গায় বসে রয়। বাকি রইলো আব্দুল! সে নিজের মুখ কালো করে বিড়বিড় করে,
“ আমার প্রকৃতির ডাকের কি হবে? “
__________
কেভের চিৎকার এবং পানিতে ধপাস করে কিছু পড়ে যাওয়া শব্দে প্রহরীরা দৌড়ে লেকের এদিকটায় এলো। কেভ ততক্ষণে বজ্রগতিতে দৌড়ে এসে কিছু না ভেবেই লেকে ঝাপ দেয়। প্রহরীরা এতে আরো চমকায়। ঘটনা কি? প্রথমত কেভের বেইমানি এবং দ্বিতীয়ত দূর্ঘটনা বশত পানিতে পড়ে যাওয়া দুটো ঘটনাই ক্যামেলিয়ার রাগ সপ্তম আকাশে পৌঁছে দিয়েছে। সে ফোঁস ফোঁস করতে করতে সাঁতার কেটে লেকের অন্য তীরে চলে যায়। কেভ ক্যামেলিয়াকে সাঁতার কেটে যেতে দেখে নিজেও চিন্তার দরুণ তার পিছু পিছু যায়। যাওয়ার সময় চেঁচিয়ে প্রহরীদের বলে,
“ তোমরা নিজেদের কাজে ফিরো। “
প্রহরীরা আর দাঁড়ায় না। সবাই ওখান থেকে প্রস্থান করে। ক্যামেলিয়ার সাঁতারের গতি দ্রুত। টেক্কা দিতে কেভের বেগ পোহাতে হচ্ছে। সে তীরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ক্যামেলিয়া স্থলে উঠে রাগে গজগজ করতে করতে নিজের গাউনের নিচের ভাগ হাতের মুঠোয় নিয়ে চিপে পানি ঝারতে থাকে।
কেভ তীরে উঠেই দৌড়ে ক্যামেলিয়ার কাছে এগিয়ে এসে তার দু বাহু চেপে ধরে প্রশ্ন করে,
“ ক্যামেলিয়া, ঠিক আছো? তুমি… “
কেভের কথা শেষ হওয়ার পূর্বেই ক্যামেলিয়া সম্পূর্ণ বল নিয়ে কেভের বুকের পাঁজরের হাড় বরাবর ঘুষি মেরে চেঁচিয়ে বলে উঠে,
“ বেইমান, বিশ্বাসঘাতক, প্রতারক। সবাইকে জানাবো আমি তোমার কুকীর্তি সম্পর্কে। সবার আগে জানাবো কাউন্টকে। ছেড়ে দিবো না তোমাকে। ফাঁসিতে ঝুলা… “
ক্যামেলিয়ার উচ্চস্বরে বলা কথার পিঠে কেভ হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে। সে বুঝে উঠতে পারে না ক্যামেলিয়াকে কিভাবে থামানো উচিত। তা-ই বোকার মতো জোর করে একটা চুমুতে আবদ্ধ করে ক্যামেলিয়ার কথা বন্ধ করে। ক্যামেলিয়া চমকায়, বাকরুদ্ধ হয়। অতঃপর আবারও রাগ এসে ঘিরে ধরে তাকে। নিজের হাত মুষ্টিবদ্ধ করে আরেকটা শক্ত কিল বসায় কেভের বুক বরাবর। নেকড়ে কন্যার এক কিলে কেভ কুপোকাত হয়। ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠে। ক্যামেলিয়া ফোঁস ফোঁস করে বলে,
“ এখন এতো নাক ছিটকানো কোথায় গেলো তোমার? আমাকে রুখতে চুমু খাওয়ার নাটক করছো? ভালোবেসে চুমু খেলে তোমার জাত যাবে? “
কেভ বোকার ন্যায় কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। অতঃপর ক্যামেলিয়াকে টেনে কাছে এনে তার কোমর জড়িয়ে ধরে। নিচু স্বরে বলে,
“ এবার ভালোভেসে চুমু দিবো। জাত যায় কি-না দেখি। তবে ঘুষি মেরে প্রাণ নিও না আর। “
বলেই কেভ আবারও রাগে তিরতির করে কাঁপতে থাকা অধর ছুঁয়ে দেয়। এবার আর মুখ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সত্যি সত্যিই ভালোবেসে। ক্যামেলিয়া টের পায় সে-ই ভালোবাসা। মনে মনে দ্বিধাগ্রস্ত সে। একটা বেইমানের চুমু খাওয়া কি ঠিক হচ্ছে তার? পর মুহূর্তেই মনে মনে ভাবে, সে-সব পরে দেখা যাবে। আপাতত আগে চুমুর মুহূর্তটা উপভোগ করা যাক। চুমু শেষ হতেই সে এ-ই প্রতারককে হাত পা ভেঙে টেনে প্রাসাদে নিয়ে যাবে। ব্যক্তিগত এ-ই মুহূর্তটুকুয় ব্যস্ত দু'জন টেরই পেলো না ওদিকে দো তলার ও-ই কামরাটায় কার আগমন ঘটেছে।
চলবে…