প্রণয়তিথি
লেখনীতে : নাফিসা তাবাসসুম খান
৫৩.
প্রধান সেনাপতির বাড়িটায় বিনা বাধায় প্রবেশ করলো এক ছায়ামূর্তি। পথে কেউ তাকে বাঁধা দেওয়ার দুঃসাহস দেখায় নি। কে দেখাবে এমন দুঃসাহস? নিজেদের প্রাণের মায়া সকলেরই আছে। সে-ই প্রাণের মায়ার তরে কখনো কখনো প্রধান সেনাপতির আদেশ অমান্য করাটাও খুব একটা দোষের নয়।
নিস্তব্ধ বাড়িটার নিচ তলার নির্দিষ্ট দিকের পথ ধরে হাঁটছে ছায়ামূর্তিটা। বসার ঘর, খাওয়ার ঘর, রান্নাঘর সব কিছু পেরিয়ে রহস্যময়ী একটা দরজার সামনে এসে দাঁড়ায় সে। দরজার বাহিরে ঝুলতে থাকা তালাটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে সে। অতঃপর নিজের হাতের মুঠোয় থাকা চাবিটার সাহায্যে তালাটা খুলে ফেলে নিঃশব্দে। চাবিটা সে এইমাত্র বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকা এক প্রহরীর কাছ থেকে বুঝে নিয়েছে। তার এক বাক্যেই প্রহরী সুন্দর করে চাবিটা তাকে দিয়ে দিয়েছে।
দরজা খুলে সরু সিঁড়িপথ ধরে নেমে যায় ছায়ামূর্তিটি। সবজি এবং ফলমূল সংরক্ষণের এ-ই কক্ষটিতে কেবল মাত্র একটি লণ্ঠন ঝুলছে। বাহিরে এতটা ঠান্ডা না হলেও এই কক্ষের তাপমাত্রাটা তূলনামূলক ঠান্ডা। মাটির তৈরী কক্ষ বলেই হয়তো। লণ্ঠনের টিমটিমে আলোয় পুরো কক্ষে চোখ বুলাতেই সে দেখতে পায় কক্ষের এককোণে মেঝেতে গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে থাকা জেইলানকে।
ছায়ামূর্তিটা নীরবে এগিয়ে যায়। জেইলানকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত অবলোকন করে। গায়ের সাদা রঙা পোষাকটা নোংরা হয়ে কেমন মাটি রঙা একটা বর্ণ ধারণ করেছে। মাথার চুলগুলোও অতিরিক্ত রুক্ষ দেখাচ্ছে। বোধহয় বেশ অনেকদিন ধরে পানির ছোঁয়া পায় নি। কেউ দেখে বিশ্বাস করবে যে, এটাই তুরস্কের রাজকুমারী? উঁহু, বোধহয় না। তবে কাউন্ট ইয়ান আলবার্ট বিশ্বাস করলো এই সত্যিটা।
ইয়ান আরো একবার চোখ বুলায় জেইলানের পানে। স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে তার প্রধান সেনাপতি এ-ই প্রতারককে বেশ কঠিন পরিস্থিতিতেই রেখেছে এ কয়দিন। যথার্থ আচরণটুকুই করেছে একদম। একজন রাজকুমারী যার কি-না পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতি ঝোঁক তাকে মুখটুকু অব্দি ধোয়ার সুযোগ না দেওয়া, খাবারে ইচ্ছেকৃত ভাবে রুটিটুকুর সঙ্গে প্রতি বেলায় শূয়রের গোস্ত পরিবেশন করা, ইবাদত করতে দেওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি না রাখা, নোংরা পোশাক বদলানোর কোনো সুযোগ না দেওয়া এবং প্রায় সময়ই রাতে লণ্ঠনের আলো না দেওয়া সহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তির মুখোমুখি করেছে কেভ। সে বিন্দুমাত্র দয়া দেখায় নি এই হত্যাচেষ্টাকারীকে।
ইয়ান এক হাঁটু ভেঙে মাহশার শিয়রে নিচু হয়ে বসতে নিলেই টের পায় পেটের কাছের জখমটায় টান অনুভব করছে সে। তাই নিজেকে কষ্ট দিয়ে আর বসে না সে। বরং আপন জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকেই দু হাত পিঠের পিছনে নিয়ে ভাজ করে। জেইলানকে মুখে ডেকে ঘুম থেকে তোলার রুচিবোধ করে না বলে সে দু কদম হেঁটে গিয়ে একটা খালি মাটির পাত্রে জোরে লাথি দেয়। লাথির দাপটে পাত্রটা গিয়ে দেয়ালের সঙ্গে লেগে শব্দ তুলে ভেঙে যায়।
পাত্র ভাঙার শব্দে জেইলানের ঘুম ভেঙে যায়। আতংকিত হয়ে লাফিয়ে উঠে বসে সে। বুক ধড়ফড় করছে তার। অকস্মাৎ এ-ই শব্দে যতটা না ভীত হয়েছে সে, তার থেকে বেশি অবাক হয়েছে কক্ষে উপস্থিত ব্যক্তিকে দেখে। যে কি-না নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে তাকেই দেখছে।
জেইলানের জানা নেই তার এ-ই মুহূর্তে কেমন প্রতিক্রিয়া দেওয়া উচিত। সে কেবল নিশ্চুপ ভঙ্গিতে বসে রইলো। ইয়ানই নীরবতা ভেঙে প্রথম কথা শুরু করে। বিদ্রুপের সুরে বলে,
“ কি? আমাকে জীবিত দেখে খুব হতাশ হয়েছো? আমার মৃত্যু কামনা করছিলে, তাই-না? “
জেইলান কোনো প্রতুত্তর করে না। নীরব রয়। কেউ হয়তো এখনো লক্ষ্য করে নি ব্যাপারটা। তবে সত্য জানার পর থেকে সে সম্পূর্ণ নীরব বনে গিয়েছে। কারো সঙ্গেই কোনো কথা বলে না। কেউ কিছু বললেও তার পিঠে টু শব্দও করে না।
আর কেউ যেটা লক্ষ্য করে নি, সেটা ইয়ানও লক্ষ্য করলো না। সে বলে উঠে,
“ কি রাজকুমারী? চুপ কেন? বলুন, আমাকে জীবিত দেখে আপনার মনক্ষুণ্ণ হয় নি? “
এবারও জেইলান নীরব রয়। ইয়ান বোধহয় বিরক্ত হলো এমন নীরবতায়। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
“ তোমার ভাইয়ের মৃত্যুর সত্যিটা আমিও জেনেছি। কি অদ্ভুৎ তাই না? সকলের সঙ্গে ছলনা করতে করতে একদিন এসে দেখলে সবথেকে বড়ো ছলনা তোমার সঙ্গে হয়েছে। কেমন অনুভব করছো, বলো তো? প্রতারিত হওয়ার অনুভূতি একটু নিজ মুখে ব্যাখ্যা করো তো। “
জেইলান নিষ্প্রাণ দৃষ্টি মেলে কেবল তাকিয়ে রয়। তার ব্যাখ্যা করার মতো কিছুই নেই। সে এখন ঠিক তেমন অনুভব করছে, যেমনটা ওদিন প্রতারিত হয়ে জেইলানের হাতে আহত হয়ে ইয়ান অনুভব করেছিল। এবারও জেইলানের নিশ্চুপ থাকাটা ইয়ানের মাথায় রক্ত চাপিয়ে দেয়। সে রেগে গিয়ে জেইলানের সামনে এসে তার দিকে ঝুঁকে তার বাহু চেপে ধরে। হিংস্র ভঙ্গিতে চেঁচায়,
“ আবারও নাটক করছো? চুপ থেকে কি জাহির করতে চাচ্ছো? তুমি অনুতপ্ত? আমাকে ভুলাতে চাইছো? তোমাকে আমি খুন করে ফেলবো। “
ইয়ানের এরকম হিংস্র কথা বলার ধরণ এবং মুখভঙ্গি দেখে এক মুহূর্তের জন্য জেইলানের মনে হলো ইয়ান সত্যি সত্যিই কোন রক্ত পিপাসুর পুত্র। তবে নিজের অবান্তর ভাবনাকে সে বিশেষ পাত্তা দিলো না। বরং অস্ফুটে উচ্চারণ করলো,
“ করো খুন। দাও শাস্তি। ভুল করেও দয়া দেখাবে না। “
ইয়ানের দৃষ্টি অস্থির। সে অগ্নি চোখে জেইলানকে দেখছে। পারলে এক্ষুণি খুন করে ফেলে সে। নিজেকে কিছুটা ধাতস্থ করে উঠে দাঁড়ায় সে। পেটের ব্যথার কথা বেমালুম ভুলে বসেছে সে। দু কদম পিছিয়ে গিয়ে কাঠের টেবিলের উপর রাখা মোটা দড়িটা নিজের হাতে নেয় সে। এখানে আসার সময় সঙ্গে করে এটা নিয়ে এসেছিলো সে।
জেইলান মেঝেতে বসে নীরবে দেখে দড়িটাকে। চোখে মুখে প্রশান্তির মৃদু ছাপ ফুটে উঠেছে তার। অবশেষে নিজের ভাগের শাস্তিটুকু পেতে চলেছে সে। এই শাস্তির অপেক্ষাতেই তো সে ছিলো। অসহ্যকর এই জীবন বয়ে বেড়ানোটা বড়ো কঠিন মনে হচ্ছে তার। সে চাইলেই পারতো আত্মহত্যা করে নিজেকে মুক্তি দিতে। কিন্তু হঠাৎ তার বিবেক তাকে এই মহাপাপটা করতে অনুমতি না দেওয়ায় সে আর কিছু করে নি। দু'দিন আগেও যখন সে এতো এতো অপরাধ করে যাচ্ছিলো তখন এই বিবেকটা কোথায় ছিলো কে জানে!
ইয়ান ধীর কদমে এগিয়ে আসে জেইলানের পানে। জেইলান টু শব্দও করে না। বসা থেকে উঠে ইয়ানের দিকে পিঠ করে দাঁড়ায় সে। চোখ বুজে নিজের নিয়তি মেনে নেয়। ধীরে ধীরে সে অনুভব করে তার গলায় দঁড়ির স্পর্শ। গুল্মলতার মতো প্যাঁচিয়ে যাচ্ছে যেনো।
জেইলান বুকভরে নিঃশ্বাস টেনে নেয়। এটাই বোধহয় তার শেষ নিঃশ্বাস নেওয়া। আর কখনো পৃথিবীর এ-ই মুক্ত হাওয়া তার ফুসফুস পর্যন্ত পৌঁছানোর সুযোগ পাবে না। এইতো আর কিছুক্ষণ পরই তার হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।
দঁড়িটা আলতো অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে দৃঢ়ভাবে জেইলানের গলা প্যাঁচিয়ে ধরে। ইয়ানের হাতের বল মজবুত হয়। মনে সামান্যতম দয়া নেই তার। আজ ঠিক ততটুকু কঠোর সে, যতটুকু কঠোরতা সেদিন জেইলান তাকে ছুরিকাঘাত করার সময় দেখিয়েছিল। গলায় চাপটা দৃঢ়তার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালে জেইলান আর স্থির থাকতে পারে না। শাস্তি এবং মৃত্যুকে মেনে নেওয়া মেনেটাও নিঃশ্বাস স্বল্পতার যন্ত্রণায় ছটফটিয়ে উঠে। গলা কাটা মুরগির ন্যায় তড়পাতে শুরু করে সে। না চাইতেও দু হাতে গলার দড়িটা আঁকড়ে ধরে কিছুটা ঢিল করার প্রচেষ্টায়। কিন্তু ইয়ানের হাতের শক্তির সঙ্গে পেরে উঠে না সে।
হা হয়ে আসা মুখটা, প্রায় উল্টে যাওয়া চোখ জোড়া এবং ছটফট করতে থাকা হাত পা'র অবস্থা ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে দেখতে থাকে ইয়ান। তার এ-ই নির্লিপ্ততার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অনুভূতি গুলোকে আজ বিন্দুমাত্র আশকারা দিবে না সে। জেইলানের ভাগের শাস্তিটুকু না দিয়ে আজ এখান থেকে প্রস্থান করবে না সে। মোটেও না।
__________
গায়ের ভেজা পোশাকটা বিরক্তির সৃষ্টি করতেই ক্যামেলিয়া ভ্রু কুচকে কেভকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। নিজের প্রতিই বিরক্ত ক্যামেলিয়া। কোন শয়তানে তার উপর ভর করেছিল কে জানে! তার উচিত ছিলো সবার আগে এ-ই বেইমানকে প্রাসাদে নিয়ে এর মুখোশ উন্মোচন করে, অতঃপর নিজের গায়ের এই ভেজা পোশাক পরিবর্তন করে নেওয়া। অথচ সে কি-না এখানে দাঁড়িয়ে এই বেইমানের কথায় মন হারিয়ে চুমু খেতে ব্যস্ত ছিলো! হেহ! কি অধঃপতন হলো তার! চুমু খেয়ে মনে হচ্ছে যেনো নিজের ইজ্জত এই লেকের পানিতে বিসর্জন দিয়ে দিয়েছে সে।
ক্যামেলিয়ার আকস্মিক ধাক্কায় কেভ কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গিয়েছে। সে লজ্জিত স্বরে প্রশ্ন করে,
“ আমি কি কিছু ভুল করেছি? “
ক্যামেলিয়া রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে বলে,
“ একটুও লজ্জা করলো না আমাকে চুমু খেতে? “
কেভ বিস্মিত হয়ে বলে,
“ চুমু খেতে লজ্জা লাগে? আমি ভেবেছিলাম ভালোবাসা লাগে। আমি তো ভালোবেসেই… “
“ একদম চুপ। মিথ্যাবাদী কোথাকার! আগে আমার ভাইয়ের সাথে বেইমানী করেছো, এখন আমাকে ভুলাতে চাইছো? “
কেভ সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ত হয়ে ক্যামেলিয়াকে বুঝানোর চেষ্টা করে বলে,
“ তুমি আমাকে ভুল বুঝছো। “
“ আমি নিজ চোখে দেখেছি। তুমি কয়েদীদের পালাতে সাহায্য করেছো৷ আবার নিজের বাসায় এনে আশ্রয় দিয়েছো! “
“ ওদের ব্যাপারে কাউন্ট সব জানে। উনার আদেশেই কয়েদীরা এখনো আমার কাছে বন্দী। তুমি খামোখা ভুল বুঝছো। “
এতটুকু শুনে ক্যামেলিয়া অবাক হয়। বিস্মিত স্বরে জিজ্ঞেস করে,
“ ইয়ান জানে এসব? “
কেভ মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। ক্যামেলিয়াকে নিশ্চুপ দেখায়। কিছু একটা ভাবছে সে। অ্যানা পুরো রাজ্য তোলপাড় করে ফেলছে কয়েদীদের খুঁজে বের করতে। অথচ ইয়ান কয়েদীদের ঠিকানা জেনেও চুপ? এর পিছনে কি কারণ হতে পারে? ইয়ান কি ও-ই মাহশাটাকে বাঁচাতে চাইছে? ছুরির আঘাত খেয়েও এই ছেলের শিক্ষা হয় নি? প্রেমে পড়ে আক্কেল বুদ্ধি সব কি কৃষ্ণ সাগরে ডুবিয়ে দিয়েছে না-কি?
ক্যামেলিয়া এবার আরো বেশি রেগে গিয়ে কেভের বাহুতে মেরে বলে,
“ ও যা বলবে তা-ই তোমার করতে হবে? প্রধান সেনাপতি হয়ে কোন ঘন্টাটা করছো তুমি? কাউন্টকে বিপদ থেকে রক্ষা করা তোমার দায়িত্ব না? চোখের সামনে ওকে একটা মেয়ে লাট্টুর মতো ঘোরাচ্ছে। তুমি বসে বসে সে-ই তামাশা দেখছো? “
“ উনি যদি ও-ই মেয়ের প্রতি অন্ধ হয়ে সেধে আগুনে ঝাঁপ দেয়, তাহলে এতে আমি কি করতে পারি? “
ক্যামেলিয়া এবার গম্ভীর স্বরে বলে,
“ যে-ই ভালোবাসা ওকে অন্ধ করে দিয়েছে সে-ই ভালোবাসার মানুষকে ওর থেকে দূর করতে হবে। “
কেভ ভ্রু কুচকে প্রশ্ন করে,
“ দূর বলতে? “
“ দূর বলতে সে-ই মানুষকে চিরতরে শেষ করে দিয়ে, ইয়ানকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। “
ক্যামেলিয়ার মুখে এহেন কথা শুনে কেভ চমকায়। সে অবাক হয়ে ক্যামেলিয়ার পানে তাকিয়ে রয়। ক্যামেলিয়া বিরক্তি নিয়ে বলে,
“ এভাবে কি দেখছো? ভুল কিছু বলি নি আমি। এভাবেও ও-ই মেয়ে যা করেছে তার শাস্তি মৃত্যুদন্ডই। ইয়ানের শাস্তির ভরসায় থাকলে ও কখনো এ-ই মেয়েকে যথাযথ শাস্তি দিবে। আবেগে ভেসে উল্টো দেখা যাবে নিজের রাজ্য ওর নামে লিখে দিবে। “
কেভ এবার প্রশ্ন করে,
“ মাহশা মরে গেলেই কাউন্টের মন থেকে ভালোবাসাও মুছে যাবে বলে মনে হয় তোমার? “
এই প্রশ্ন শুনে ক্যামেলিয়া থমকায়। চোখের পাতায় নিজের পিতার মুখটা ভেসে উঠে তার। সে-ই মুখটা দেখেই মন জবাব দিয়ে উঠে ‘না’।
__________
সৈন্যের সঙ্গে প্রধান সেনাপতির বাসার কাছাকাছি এসেই নাওমি গাছপালার আড়ালে লুকিয়ে পড়লো। বিস্মিত নয়নে সে দেখছে বাড়ির বাহির জুড়ে কঠোর পাহারাদার। নাওমি কিভাবে ভেতরে প্রবেশ করবে ভাবতে ভাবতেই সে লক্ষ্য করে, বাড়ির পিছন দিক থেকে প্রধান সেনাপতি এবং ক্যামেলিয়া বেড়িয়ে আসছে। দু'জনেই ভিজে জবজবে অবস্থা।
নাওমি অবাক হয়। ক্যামেলিয়া এখানে কি করছে? তা-ও এই অবস্থায়? নাওমির মনে প্রশ্ন জাগে। ক্যামেলিয়া কি সত্যিটা জানে? নাওমির ভাবনার মাঝেই তাকে আরো অবাক করে দিতে বাড়ির ভেতর থেকে বড়ো বড়ো কদম ফেলে বেরিয়ে আসে কাউন্ট ইয়ান আলবার্ট। এবার নাওমি বিস্ময়তার সপ্তম আকাশে পৌঁছে যায়। ভাই এখানে কি করছে? ভাই-ও কি সত্যিটা জানে?
নাওমির মতো কেভ এবং ক্যামেলিয়াও ইয়ানকে দেখে অবাক হয়। ইয়ানও কম অবাক হয় না। এ সময় ক্যামেলিয়াকে কেভের সঙ্গে দেখে সে-ও বিস্মিত হয়। সবার মুখের এরকম অভিব্যক্তি দেখে নাওমির সাথে থাকা সৈন্যও কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে যায়। এখানে আসলে হচ্ছেটা কি?
নাওমি লক্ষ্য করে ক্যামেলিয়া কিছু একটা বলে ইয়ানকে। ইয়ান সঙ্গে সঙ্গে রেগে ক্যামেলিয়াকে সেখান থেকে বোধহয় যেতে বলে। ক্যামেলিয়াও রাগে মুখ ঝামটা মেরে সেখান থেকে প্রস্থান করে। বাকি রইলো কেভ। তাহলে কেভকে কাউন্ট নিচু স্বরে কিছু একটা বলতেই, কেভ প্রহরীদের সতর্ক করে দিয়ে কাউন্টের সঙ্গে কোথায় যেনো চলে যায়। সবাইকে চলে যেতে দেখে সৈন্য সাহস নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে,
“ আমরাও চলুন ফিরে যাই, প্রিন্সেস। “
নাওমি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মেলে বাড়িটা দেখতে দেখতে বলে,
“ হু। তুমি ফিরে যাও। আমার কিছু কাজ আছে। “
চলবে…