#গোধূলির_রক্তিম_শিখা
#লেখনীতে_পরিনিতা
"সুরেশ এসেছিলো ঘরে?"
ফুল স্বামীর এমন প্রশ্নে ভীষণ অবাক। সে তো গোসলে ছিলো কি করে জানবে সে?
ফুল চুপ করে রইলো,
আহসান ফুলের কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললো,,
" কি প্রশ্ন করতেছি তোরে? ঘরে সুরেশ কি করছিলো? আর তুই ই বা এখন গোসল করতে গেলি কেনো?"
ফুল আর চুপ করে রইলো না। নিচের দিকে তাকিয়ে বললো,,
" ঘরে পরপুরুষ ঢোকানোর স্বভাব অন্তত আমার নেই। পর জিনিস আপনাকে আকৃষ্ট করতে পারে আমাকে না।"
আহসান ফুলকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো মেঝেতে। হনহনিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেলো।
নিশি দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলো। সে চেয়েছিলো এ সুযোগে হয়তো আহসান এ মেয়েটাকে বাড়ি থেকে বের দিবে।কিন্তু এমন যখন কিছু ই হলো না। মুখটা গম্ভীর করে সেখান থেকে চলে এলো সে।
ফুল মেঝেতে বসেই চুপ করে খোলা জানালার দিকে তাকিয়েই রইলো।
সেদিন সন্ধ্যার পর থেকে মিলাদ পড়ানো হলো। শত শত মানুষকে খাওয়ানো হলো। কিন্তু একবারের জন্য কেউ বাড়ির ছোট বউয়ের খোঁজ নিলো না। দোতলার বারান্দা থেকে মিলাদের স্থানটুকু দেখা যায় স্পষ্ট। ফুল বেরিয়ে তাকাতেই নজরে এলে আহসান নিজের প্লেট থেকে কি যত্ন করে নিশিকে খাইয়ে দিচ্ছে। নিশিও আহসানের মাথায় হাত বুলাচ্ছে আর খাচ্ছে। আশেপাশের সবাই দেখছে, সবাই ভীষণ খুশি এতে। এক ছোটলোকের ঘরের মেয়ে অবশেষে তাদের ঘাড় থেকে নামবে। কতই না অত্যাচার সবাই মিলে এতদিন করেছে, অবশেষে সবাই মিলে সফল ও হচ্ছে তাই যেনো সবার খুশি আর ধরে না। কিন্তু এখন ফুল যদি নিচে গিয়ে ঘোমটা ছাড়া দাঁড়ায়, তখন সবাই মিলে বলাবলি শুরু করে দিবে, বাড়ির বউরা নিজেদের শরীর অপরকে দেখানোর সুযোগ করে দিয়েছে। সবাই উপহার হিসেবে চরিত্রহীন নামটাও তার নামের পাশে জুড়ে দেবে। কিন্তু বাড়ির পুরুষ মানুষেরা প্রকাশ্যে বেহায়াপনা করছে তাতে কোন সমস্যা নেই।
ফুল আর এক মূহুর্ত ও অপেক্ষা করলো না। রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে চোখের পানি ফেলতে লাগলো। আর কি ই বা করার আছে তার।
ফুল নিজের গায়ে নিজের নখ দিয়ে কয়েকটা আঁচড় কাটলো।দরকার নেই তো এমন রূপের, সে-ই তো স্বামী দিনশেষে পরনারীতেই মজলো। অনেক সময় ফুলের ইচ্ছে হয় নিজের মৃত্যু কামনা করতে কিন্তু তার মায়ের মুখে সে শুনেছিলো, নিজের মৃত্যু নিজে কামনা করলে ও পাপ হয়, গুনাহের কাজ এটা। এমনিতেই কত পাপ জীবন জুড়ে রয়েছে আর শুধু শুধু এ মূল্যহীন জীবন নিয়ে পাপের বোঝা বাড়িয়ে কি লাভ?
___________
এদিকে,,
রাতে খাবার খেতে বসলো অনিকেরা সবাই। হোসেন হাওলাদার খেতে খেতে ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বললো,
" তোমার মতো বয়সে আমি সংসারের হাল ধরেছি। আর তুমি পাড়ায় পাড়ায় মাস্তানি করে বেড়াও? মানুষের গাছ থেকে এটা-ওটা চুরি করো?মারামারি করে বেড়াও? লজ্জা করে না তোমার? উচ্চ মাধ্যমিক পাস টুকু ও করতে পারলে না এখন ও অব্দি। বাপের ঘাড়ে বসে বসে খেতে লজ্জা করছে না?"
অনিক ভাত খাওয়া বন্ধ করলো না। একের পর এক লোকমা দিয়ে ই চলেছে মুখে। নুরুন্নেছা বেগম (অনিকের মা) আড়চোখে ছেলের মুখের দিকে তাকালো। কিন্তু তার ছেলে যেনো এসবে পাত্তা ই দিলো না। দিব্যি সে নিজের মতো খেয়েই চলেছে।
হোসেন হাওলাদার ছেলের এমন গা ছাড়া ভাব দেখে আরও রেগে গেলেন যেনো। হাত ধুয়ে উঠে চলে গেলেন সোজা।
উনি যাওয়া মাত্র ই নুরুন্নেছা বেগম অনিকের কান টেনে ধরে বললো,
" কেনো লোকটাকে শুধু শুধু রাগিয়ে দিলি? গ্রামের ছেলেপেলের সাথে মারামারি করিস কেনো এত?"
অনিক খাওয়া শেষে মায়ের আঁচলে হাত মুছতে মুছতে বললো,
" কি মাস্টারের বউ কিছু বলবা?"
নুরুন্নেছা বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন,
" বেয়াদব ছেলে তোর মা লাগি। "
অনিক মায়ের থেকে কান ছাড়িয়ে দরজা সামনে যেতেই প্রেমার উপস্থিতি, হাতে একটা ঢাকনা দেওয়া বাটি ও রয়েছে।
অনিক ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে বললো,
"রাতবিরেতে চুল খুলে শাঁকচুন্নির মতো ঘুরে বেড়াচ্ছিস কেনো?"
প্রেমা ওর দিকে তাকিয়ে একটা ভেংচি কেটে বললো,,
" শাঁকচুন্নি নয়, আমি হলাম পরি বুঝলে, জলজ্যান্ত পরি।আমায় মায় আমারে পরি বলে। "
বলেই যেনো মেয়েটা খুশিতে গদগদ হয়ে উঠলো।
অনিক ওর মাথায় একটা গাট্টা মেরে বললো,
" এহ আসছে আমার পরিরে। তুই যদি পরি হছ, তাইলে আমি ও আমার মা'র জ্বিন।"
প্রেমা আর নুরুন্নেছা মিলে হাসতে হাসতে কুটিকুটি হয়ে গেলো।
অনিক ওর দিকে তাকিয়ে বললো,,
" যা ভাগ এখান থেকে। তোর হাসি দেখলে আমার গা পিত্তি জ্বলে যায়।"
পাশ থেকে নুরুন্নেছা বেগম (অনিকের মা) বলে উঠলেন,
" তাহলে সারাদিন ২৪ ঘন্টা তোর গা পিত্তি জ্বালানোর জন্য হলেও প্রেমাকে একেবারে এ ঘরে তুলতে হবে দেখছি। "
অনিক পানি খেয়ে বললো,,
" আমি আর এ শাঁকচুন্নি? ছ্যাহ জীবনে ও না। "
প্রেমার মাথায় আরেকটা গাট্টা মেরে অনিক বললো,,
" সর সামনে থেকে শাঁকচুন্নি। "
প্রেমা পিছন ফিরে অনিককে ঘুষি দিতে নিলেই দেখলো অনিক দৌড়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে গেছে কখন ই।
প্রেমা ঘাড় ঘুরিয়ে নুরুন্নেছা বেগমের তাকিয়ে তাকিয়ে নিজের হাতের বাটিটা ওনার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,
" একটু ভর্তা বেটেছিলাম আজ, তাই তোমার লাইগা আনলাম।"
___________
কেটে গেলো দু'টো দিন।
আজ বহুদিন পর অনিক কলেজে এসেছে। গ্রাম থেকে বেশ দূরে ই কলেজটা। তাই আসতে চায় না সে এদিকে। আর উড়তি বয়সী কতগুলো প্রজাপতি আছে, যাদের মধ্যে লজ্জার ছিটেফোটা নেই। পোলা একটা দেখলে ই ধলে পড়া স্বভাব যেনো তাদের কিন্তু সবাই আবার এক রকম না।
অনিক কলেজ ড্রেস পড়ে না। এসবে নাকি তাকে পোষায় না।
কলেজ ঢোকামাত্রই মুকবুল স্যারের সাথে তার দেখা। ওনার সাথে তার বনিবনা নেই বললেই চলে।
অনিক হেঁটে চলে ই যাচ্ছিলো ওনার সামনে দিয়ে,
মুকবুল স্যার ডাক দিলেন,,
" এ ছেলে দাঁড়াও। "
অনিক শুনেও না শোনার ভান ধরে চললো,
আবার ও মুকবুল স্যার ডাক দিয়ে বললেন,
" অনিক দাঁড়াও। "
অনিক এবার দাঁড়ালো। ওনার দিকে হাসিহাসি মুখ করে সালাম দিলো লম্বা করে।
মুকবুল স্যার সালামের জবাব না নিয়ে ই বললো,
" শিক্ষকদের কীভাবে সম্মান দিতে হয় জানো না? তোমাকে আমি ডাকা সত্ত্বেও দাঁড়ালে না কেনো? "
অনিক মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো,,
" আমাকেই ডাকছিলেন বুঝি? আমি আরও ভাবলাম কারে না কারে ডাকলেন। যখন আমার নাম জানেন ই তখন এই ছেলে এ-ই ছেলে আবার কি স্যার?"
মুকবুল স্যার ধমকের ন্যায় বললেন,,
" এখন কি তোমার কাছ থেকে আমাকে শিখতে হবে আমাকে কীভাবে কথা বলতে হবে? "
অনিক: শিখার কোন বয়স নাই স্যার।
মুকবুল স্যার ভীষণ অপমানিত বোধ করলেন। এ ছেলেটা বরাবরই এমন বেয়াদব স্বভাবের। কিন্তু কথায় মোটেও জেতা যায় না এর সাথে, একদিক না একদিক দিয়ে ফাঁকফোকর কেটে বেরিয়ে যাবেই।
মুকবুল স্যার : কলেজে কি এসব বেয়াদবী করতে এসেছো? এটা একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখানে আসতে বই খাতার প্রয়োজন পড়ে। জানো না?
অনিক প্যান্টের পকেট থেকে তিনভাজ করে রাখা একটা খাতা বের করলো। সাথে একটা কলম ও।
এরপর ওনার দিকে তাকিয়ে বললো,,
" এই রইলো খাতা, কলম আর বই একজনের থেকে টান দিয়ে নিয়ে নেবো। বই হলেই তো হলো কার বই সেটা দেখার বিষয় না। আর কিছু বলবেন স্যার? আপনি কিন্তু এবার আমার মূল্যবান সময় নষ্ট করছেন।"
মুকবুল স্যার তাকিয়ে দেখলেন ইতিমধ্যে আশেপাশে অনেকজন এসে ভিড় জমিয়েছে তারা সবাই হাসাহাসি করছে। মুকবুল স্যার আর কিছু না বলে পাশ কেটে চলে গেলেন অফিসকক্ষের দিকে। আর মনে মনে অনিককে বেয়াদব, বাউণ্ডুলে আরও কিছু বলতে লাগলো.....
অনিক জয়ের হাসি হেসে খাতাটা আর কলমটা দিয়ে ক্লাসরুমের দিকে গেলো।
মাঠের ও প্রান্তে নিহাল ও রাসেল দাঁড়িয়ে আছে। অনিক ভালো করেই জানে এরা তার জন্য ই দাঁড়িয়ে আছে।
ওদের কাছে গিয়ে বললো,
" ক্লাস শুরু হয়েছে ১৫ মিনিট আগে যাস নি কেনো?"
নিহাল জবাব দিলো,
" আরে কচুর ক্লাস। যাবো এখন উপস্থিতির খাতায় নাম লেখিয়ে পরের ক্লাসেই বের হয়ে যাবো। চল।"
তিনজন গেলো ক্লাসের দিকে।
____
কথামতো পরের ক্লাসের সময় ই তিনজন বের হয়ে আসলো।
অনিকরা মাঠের পাশটায় আসামাত্র ই একটা মেয়ে ডাক দিলো অনিককে,,
" অনিক। "
মেয়েলি কারো কন্ঠে নিজের নাম শুনে সে চমকে উঠলো। এমন কোন মেয়ের এত দুঃসাহস করার কথা ও নয়। অনিকের এসব মেয়েলি ব্যাপার ট্যাপার পছন্দ না। এক তার মা আর প্রেমা ছাড়া আর কোন নারীর সাথে সচরাচর কথাও বলে না দরকার ছাড়া সে।
অনিক ঘাড় ঘুরিয়ে ভ্রু কুঁচকে তাকালো মেয়েটার দিকে।
মেয়েটা একটা গোলাপ এগিয়ে দিয়ে অনিককে বললো,,
" আমি তোমাকে পছন্দ করি অনিক।"
মেয়েটার এমন কথা শুনে অনিক নিহাল আর রাসেলের দিকে তাকালো। ওরাও খুব ভালো করেই জানে এখন কি হবে।
নিহাল বিড়বিড় করে বললো,,
" আর মানুষ পেলো না প্রেম নিবেদন করার জন্য। "
অনিক মেয়েটাকে ধমকের ন্যায় বললো,
" কিসে পড়ো তুমি? "
মেয়েটা সাথে সাথে উত্তর দিলো,
" আসলে আমি এ কলেজের না, আমি তো স্কুলে পড়ি অষ্টম শ্রেণিতে। আমার আপু এখানে পড়ে, তোমাকে প্রথম দেখেই আমি তো ফিদা হয়ে গিয়েছি।"
মেয়েটি আরও কিছু বলতে নিলো কিন্তু তার আগেই অনিক হাত উচিয়ে বললো,
"এই হাতটা দেখেছো? এই ছেরি এই। একবারে তোমার মুখের সাইজের থেকে ও আমার হাত বড়। নাক টিপলে দুধ বের হবে আসছে আবার প্রেম নিবেদন করতে। ঠিক সময়ে বিয়ে করলে তোমার মতো একজন আমারে আব্বা আব্বা ডাকতো। বেয়াদব মেয়ে। এসব বাচ্চা কাচ্চাদের কারা ঢুকতে দেয় কলেজে?"
অনিক চলে আসলো সেখান থেকে। মেয়েটা ছলছল চোখে তাকিয়ে রইলো।
___________
এদিকে,,
বিকালের দিকে আহসান পাটোয়ারী বাড়িতে ফিরলো।
সোজা রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো।
ফুল বিছানার উপর বসেই ছিলো।
আহসান ওর পাশে গিয়ে দাড়িয়ে বললো,
" তোর বাপেরে যে কইছিলাম যৌতুক দিতে? কই টাকা আমার? ২০ হাজার টাকা দিতে বলছিলাম না? টাকা লাগবো আমার। "
ফুল চুপ করে রইলো।
আহসান দাঁত খিচে বললো,
" তোরে কি কইলাম বা*ন্দীর বাচ্চা? কথায় কানে যায় না তোর? তুই তোর বাপেরে কছ নাই টাকার কথা?"
ফুল শান্ত ভঙ্গিতে জবাব দিলো,,
" না বলি নি। আমার আব্বার নিজের বলতে এখন শুধু থাকার ভিটাটা আর হের জানটাই আছে। আমি আমার সুখের জন্য তাগো জান কাইরা নিতে তো পারি না তাই না?"
আহসান তেড়ে গিয়ে ফুলের চুলের মুঠি ধরলো।কয়েকটা চুল ছিঁড়ে আহসানের হাতেও চলে আসলো। আহসান চুলের মুঠি ধরে খাট থেকে ফুলকে নামিয়ে দেয়ালের সাথে ধাক্কা দিলো। মেয়েটার হাতের চামড়াসহ ছিলে গেলো।
আহসান দেয়ালে ঝুলানো চাবুক টা হাতে নিয়ে ফুলের গায়ে আঘাত করতে করতে বললো,
" আমার টাকা লাগবো। তোর রূপ ধুইয়া কি আমি পানি খামু? লাগলে তোরে নিলামে তুলুম তারপর ও আমার টাকা লাগবো। তাগো জান কাইরা নিতে পারতি না তাই তো? এবার তোর জান কাইরা নিমু।"
বলতে ইচ্ছে মত চাবুকের আঘাত করতে লাগলো। ফুল একটু টু শব্দটাও করেনি। করার চেষ্টা ও করলো না। আহসানের বলা প্রতিটা কথা তার হৃদয়ে তীরের ন্যায় আঘাত হেনেছে। যেখানে অন্তরটাই ক্ষতবিক্ষত সেখানে বাহিরটা আর এমন কি।
মেহেরুন যাচ্ছিলো এদিক দিয়েই। আহসানের কথাগুলো শোনামাত্র দরজা ধাক্কাতে লাগলো মেয়েটা। আর বলতে লাগলো,
" ছোট ভাই দরজাটা খুইল্লা দেও। মাইয়াডা মইরা যাইবো। এমন নিষ্ঠুর হইও না। তোমার ই তো বউ।"
কিন্তু না আহসান দরজা খুললো না। মেহেরুন দৌড়ে গিয়ে শাশুড়ীর কাছে গেলো। কিন্তু জামেলা বেগম (আহসানের মা) সবটা শুনে যেনো খুশি ই হলেন উল্টো। তিনি গেলেন না বাঁচাতে। নিশিও মিটিমিটি হাসতে লাগলো।
কিছুক্ষণ পর আহসান পাটোয়ারী ক্লান্ত হয়ে গেলো আঘাত করতে করতে। কিন্তু এ মেয়ে এখনও অব্দি টু শব্দটুকুও করেনি। এটা দেখে তার আরও রাগ লাগলো।
এসব চিন্তা সে ঝেড়ে ফেললো মাথা থেকে। এখন শুধু তার একটা কথা ই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে,
" টাকা লাগবে তার, অনেক টাকা। "
আহসান বেরিয়ে গেলো রুম থেকে। মেহেরুন সাথে সাথে রুমে গেলো। দেখলো মেঝেতে হাত পা গুটিয়ে মেয়েটা বসে তাকিয়ে আছে নিভু নিভু আলোতে জ্বলতে থাকা মোমবাতির দিকে এক ধ্যানে।
মেহেরুন পাশে বসলো। ফুলের হাতের উপর হাত রাখলো। স্পর্শ পেয়ে ফুল মাথা তুলে মেহেরুনের দিকে তাকিয়ে কেমন করে যেনো বললো,
" উনি আজ কি বলেছে জানো বড় ভাবি? আমাকে নিলামে তুলে হলেও উনি টাকা তুলবে।"
______________
সন্ধ্যার পর থেকে এখনও অব্দি বাড়িতে আহসান পাটোয়ারী এলো না।
বাড়িটা আজ কেমন নীরব হয়েই আছে। কেউ যেনো নেই যেনো।
ফজরের নামাজ পড়ে ফুল শুয়েছিলে মাত্র। তখন শুনতে পেলো
অনেকক্ষণ ধরেই সদরদরজাটা কেউ ধাক্কা দিয়েই চলেছে জোরে জোরে। কিন্তু কেউ খুলে দিলো না।
ফুল রুম থেকে বের হয়ে সিড়ি অব্দি এলো।
ফুল দেখলো ইতিমধ্যে ই জামেলা বেগম (আহসানের মা) দরজা খুলে দিয়েছেন।
আর দরজার ওপাশে আহসান পাটোয়ারী হাসিহাসি মুখ করে দাঁড়িয়ে। তার পাশে লাল শাড়িতে নববধূ রূপে কেউ একজন বড় একটা ঘোমটা টেনে দাঁড়িয়ে আছে।
চলবে....