ফন্ট সাইজ:
থিম:
শুধু বলো ভালোবাসি

২৩তম পর্ব

লেখক: মুহসানাত নুসাইবা
#শুধু_বলো_ভালোবাসি
#মুহসানাত_নুসাইবা
২৩
ডান্স ফ্লোরে এখনও জমজমাট নাচ চলছে। রঙিন আলো ঝলমল করছে চারদিকে, মিউজিক আর দর্শকদের তালি চিৎকারে হলঘর মাতোয়ারা হয়ে আছে। সামনে অতিথিদের বসার আসনে একদম প্রথম সারিতেই বসে আছে উজান। তার বাম পাশে ওমর আর ডান পাশ ঘেঁষে ইশিতা বসেছে। যেন সুযোগ পেলেই কোলে উঠে বসে যাবে! ইশিতা নিজের মনেই উজানের সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছে অবিরাম।উজান মোবাইল ফোনে কাজ করতে ব্যস্ত, মাঝেমধ্যে মাথা না তুলে ছোট ছোট জবাব দিচ্ছে। 
রুহানী তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছে সেদিকে। মুহূর্তেই ভ্রু কুঁচকে সামনে ডান্স ফ্লোরে দৃষ্টি ফেরালো, সামলে নিলো নিজেকে। 
এমন সময় স্টেজে ভেসে আসলো 'Makhna' গানের সুর। উচ্ছ্বসিত করতালির মাঝে ফ্লোরে নেমেছে হায়াত। শাড়ি পরে দারুণ নাচছে সে। রুহানী আবার আড় চোখে উজানের দিকে তাকালো। 
নাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই করতালি দিয়ে উঠলো চারদিক। হায়াত হাসিমুখে মঞ্চ থেকে নেমে সামনের দিকে এগিয়ে আসছে। রুহানীর চোখ আবারও উজানের দিকে পড়লো। 
উজানের বাম পাশে কিছুক্ষণ আগে ওমর বসে ছিলো। এখন সেই জায়গা খালি। রুহানী ভাবলো সুযোগ বুঝে সেখানেই গিয়ে বসবে। পা বাড়ালো, কিন্তু ঠিক তার আগেই হায়াত তাকে টপকে গিয়ে বসে পড়লো উজানের বাঁ পাশে। রুহানী থমকে দাঁড়িয়ে রইলো। বিস্মিত, অবিশ্বাসে ভরা চোখে তাকিয়ে রইলো উজানের দিকে।
এখন উজানের দুই পাশে দুই মেয়ে। ডানে ইশিতা, বাঁয়ে হায়াত! দৃশ্যটা যেন আগুনে ঘি ঢেলে দিল রুহানীর বুকের ভেতরে।
উজান পাশে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে মুখ ঘুরালো। তার দৃষ্টি গিয়ে পড়লো হায়াতের দিকে। লাজুক চোখে তাকিয়ে আছে মেয়েটা। উজান হালকা একটা হাসি দিলো, ভদ্রতার খাতিরে জিজ্ঞেস করলো
"এখানে কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো?"
হায়াত ঠোঁট কামড়ে নিচু স্বরে বললো,
"না… কোনো সমস্যা হচ্ছে না আমার।"
"আচ্ছা।"
"কেমন আছেন আপনি?" হায়াত জিজ্ঞেস করলো।
"আলহামদুলিল্লাহ ভালো।" উজান জবাব দিলো।
উজান মাথা নেড়ে সামনে তাকাতেই তার দৃষ্টি গিয়ে আটকালো রুহানীর উপর। সামনে দাঁড়িয়েই ভ্রু কুঁচকে নাক ফুলিয়ে তাকিয়ে আছে সরাসরি তার দিকে। কেন এত রাগ, মুহূর্তে কিছুই বুঝে উঠতে পারলো না উজান। ভ্রু উঁচু করলো। কিন্তু সাথে সাথে তার ব্রেইন সজাগ হয়ে উঠলো। হঠাৎ খেয়াল এলো তার দুই পাশে এখন দুইটা মেয়ে বসে আছে!
উজান হকচকিয়ে তড়াক করে উঠে দাঁড়ালো। তখনই রুহানী ঝড়ের মতো গটগট পায়ে সেখান থেকে চলে গেলো।
বুকের ভেতরটা ধক করে উঠলো উজানের। 
"আল্লাহ মাপ করো। আমার বউয়ের মাথা থেকে এই সব বের করে দাও" উজান বিরবির করলো।
উজানের হঠাৎ এমন আচরণে ইশিতা আর হায়াত দুজনেই হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।
"কি হলো উজান? হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেলি কেন?" বিস্মিত স্বরে প্রশ্ন করলো ইশিতা।
উজান আর কোনো জবাব দিলো না।মোবাইলটা পকেটে ঢুকিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে গেলো দ্রুত পায়ে। পিছনে রয়ে গেলো ইশিতা আর হায়াতের বিস্মিত দৃষ্টি। ইশিতা হায়াতের দিকে তাকালো। হায়াতও তাকালো ইশিতার দিকে।
____
তুহিন ইসরাতকে টেনে নিয়ে আসলো সবার থেকে। হোটেল থেকে বেরিয়ে আসলো একেবারে। রাস্তার পাড় দিতে হাত ধরে হাটতে শুরু করলো। ইসরাত এতোক্ষন নিরবে দেখছিলো তুহিনের কর্মকান্ড। এবার জিজ্ঞেস করে উঠলো,
"কোথায় যাচ্ছি আমরা?"
"রাতে ঢাকা শহর ঘুরতে।"
"ওখানের সবাই খুজবে আমাদের।"
"খুজবে না।"
"সবাই কি ভাববে এভাবে চলে আসাতে?"
"কিছু ভাববে না।"
"যদি ভাবে?"
"উফ তুমি একটু বেশি ভাবো।" ইসরাতের হাতে শক্তি দিয়ে বললো।
ইসরাত তুহিনের হাত জরিয়ে ধরলো। হঠাৎ যেন চারপাশের ভিড়, আলো, কোলাহল সব থেমে গেলো। তুহিন কোনো কথা না বলে হাত তুললো রাস্তার দিকে, থেমে থাকা এক রিকশাওয়ালাকে ইশারা করলো।
রিকশাটা এগিয়ে এলো টুংটাং ঘণ্টির শব্দে। তুহিন সামান্য ঝুঁকে ইসরাতকে আগে উঠতে দিলো, তারপর নিজেও উঠে বসল। একবার চোখাচোখি হতেই দুজনের ঠোঁটে এক অদ্ভুত নির্লিপ্ত হাসি খেলে গেলো। গন্তব্যের কথা কেউ জিজ্ঞেস করলো না। এই মুহূর্তে তাদের কোথাও পৌঁছানো দরকার নেই। শুধু চলতে থাকা দরকার।
রিকশার চাকার ঘূর্ণির সাথে সাথে পেছনে ফেলে আসা রাস্তাগুলো আলোয় ভেসে যাচ্ছে। রাতের ঢাকা শহর এক অন্য রূপে ধরা দিলো। 
ইসরাত মাথা কাত করে শহরের আলো দেখছিলো। ইসরাতের হাত তুহিনিয়ে মুঠোয়। হঠাৎ খুব আস্তে বললো,
"আজ কোথায় যাচ্ছি আমরা?"
তুহিন হেসে উত্তর দিলো,
"জানি না…  পুরো ঢাকা শহর ঘুরবো আজ। এই রাতের শহরটা শুধু আমাদের।"
রিকশাওয়ালা কিছু না বুঝে মাথা নেড়ে প্যাডেল ঘুরিয়ে চলতে থাকলো অজানা পথে। দুজনের হৃদয়ে যেন এক অদ্ভুত মুক্তির অনুভূতি ছড়িয়ে গেলো। 
ফুটপাতের একটা ফুচকার দোকানের আসলো দুইজন। ইসরাত ঝালঝাল এক প্লেট ফুচকা অর্ডার দিলো। সেই এক প্লেট দুইজনে খেলো। আবারও হাতে হাত রেখে হাটতে শুরু করলো। একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকলো দুজন। খাবার অর্ডার দিলো। একটা ড্রিংক অর্ডার দিলো। একটা ড্রিংকে দুইটা স্ট্রো দিয়ে দুইজন খেলো। 
____
রাগে সবার থেকে সরে এক কোণায় দাঁড়িয়ে ছিলো রুহানী। হঠাৎ পাশে কারো উপস্থিত টের পেয়ে পাশে তাকালো। তাকে তাকাতে দেখে হাবিব হাসলো। রুহানী অনিচ্ছা থাকলেও হালকা হাসলো। 
"তুমি এখানে একা কি করছো?" হাবিব জিজ্ঞেস করলো।
"কিছু না এমনিতেই দাঁড়িয়ে আছি এখানে।" রুহানী জবাব দিলো।
হাবিব আবার জিজ্ঞেস করলো, "তোমার পরিক্ষা কেমন হয়েছে?"
"আলহামদুলিল্লাহ ভালো।"
"তোমার আর উজানের সব ঠিকঠাক চলে?"
রুহানী তাকালো হাবিবের দিকে। মুচকি হেসে বললো,
"আলহামদুলিল্লাহ। আমরা সুখী আছি।"
"সত্যি সুখী আছো?" হাবিব তাকালো রুহানীর দিকে।
রুহানী বুঝতে পারছে না হাবিব কি বলতে চাচ্ছে। জিজ্ঞেস করলো,
"আপনি কিসের কথা বলছেন আমি বুঝতে পারছি না ঠিক।"
"তোমার আর উজানের তো স্বাভাবিক বিয়ে ছিলো না।"
"হ্যাঁ। তাতে কি হয়েছে?"
"না মানে... এর জন্য জিজ্ঞস করলাম আরকি। তোমরা সত্যি হ্যাপি আছো তো?"
রুহানী এবার সম্পুর্ণ ঘুরলো হাবিবের দিকে। মুখে হাসি ফুটিয়ে বলে চললো,
"দেখুন ভাইয়া, আমি আর উজান আল্লাহর রহমতে আলহামদুলিল্লাহ অনেক সুখী আছি। আমরা একে-অপরকে অনেক ভালোবাসি। আমাদের ভালোবাসায় কোনো খাদ নেই, আলহামদুলিল্লাহ। আপনি যেটা মিন করেই বলেন না কেনো আপনার সম্পুর্ণ ধারণা ভুল। সেটার প্রমান কিছুদিনের ভেতরে পাবেন। বুঝতে পারছেন কিসের কথা বলছি আমি?"
রুহানী একটু ঝুঁকে ফিসফিসিয়ে বললো, "আমাদের পূর্ণতা, মানে আমাদের বাচ্চাকে দেখে।"
মুখে ক্রুর হাসি ঝুলিয়ে পেছনে ফিরে সেখান থেকে সরে আসলো। ওইতো সামনে উজান দাঁড়িয়ে। রুহানীর রাগ এবার দ্বিগুণ বেড়ে গেলো। আচমকা লাইট বন্ধ হয়ে গেলো। এক নিমিষে নিভে গেলো সব আলো। পুরো জায়গাটা যেন অন্ধকারে গিলে নিলো।
রুহানীর সেখানেই থমকে দাঁড়ালো। হঠাৎ
তার কোমরের কাছে ঠান্ডা কিছু ছুঁয়ে গেলো। চোখের পলকে অচেনা এক হাত খামছে ধরলো তার খোলা কোমর। রুহানীর ভেতরটা হিম হয়ে গেলো। রক্ত হিম করা আতঙ্কে শিরদাঁড়া কেঁপে উঠলো তার।
মুহূর্তের ভেতরে মনে হলো ত্বকটা যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে, দম বন্ধ করা অস্বস্তি আর অজানা যন্ত্রণায় শিউরে উঠলো সে। হাতটা খামচে ধরেছিলো, আবার যতো দ্রুত এসেছিলো, ততো দ্রুতই মিলিয়ে গেলো অন্ধকারের ভেতরে। চারপাশে কেবল কালো শূন্যতা।
রুহানী হঠাৎ ঘুরে দাঁড়ালো। বুক উঠানামা করছে দ্রুত শ্বাসে। হাত-পা অবিরাম কাঁপছে তার। মনে হচ্ছে শরীরের ভেতর থেকে শক্তি খসে পড়ছে প্রতিটা মুহূর্তে। কানে ভেসে আসছে শুধু নিজের হৃদস্পন্দন, আর শিরায় শিরায় ছুটে চলা ভয়ের শিরশিরানি।
আবার লাইট জ্বলে উঠলো। রুহানী চারপাশ খুজতে শুরু করলো সেই অজ্ঞাত ব্যাক্তিকে কিন্ত তার ছায়াটাও খুজে পেলো না। জীবনে প্রথম এমন খারাপ স্পর্শের শিকার হলো সে।  শিরদাঁড়া পযন্ত কাপছে। উজান আর সে যায়গায় নেই। রুহানী দ্রুত স্টেজের সামনে এসে দাঁড়ালো। বুকের উঠানামা এখনো জোরালো চলছে। কাঠের চেয়ারটায় গিয়ে বসলো। 
তখন উজান ওখানটায় উপস্থিত হলো। 
কোনো কথা না বলে উজান এসে রুহানীর পাশের চেয়ারটা এক হাতে তুলে নিলো।
ভারী চেয়ারটি মেঝেতে ঘষে টেনে নিয়ে যেতে শুরু করলো সে।
ঘর্ষণের তীব্র, কানে বিদ্ধ করা আওয়াজে মুহূর্তেই সবার দৃষ্টি আটকে গেলো উজানের দিকে। একে একে সব অতিথি তাকিয়ে আছে। রুহানীর স্থির হয়ে বসে শুধু তাকিয়ে রইলো উজানের দিকে।
চেয়ারটি ধীরে ধীরে টেনে উজান গিয়ে দাঁড়ালো হাবিবের সামনে। হাবিব  তাকালো উজানের দিকে।
উজান ঠোঁটে মৃদু এক রহস্যময় হাসি ঝুলিয়ে বললো,
"ভালো আছো, হাবিব?"
হাবিবও একপ্রকার আড়ষ্ট ভঙ্গিতে হেসে উত্তর দিলো,
"জ্বী ভাই, আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।"
উজান তার আগের মতোই হাসি বজায় রেখে হঠাৎ বললো,
"কিন্তু এখন তো আর ভালো থাকবে না তুমি।"
কথাগুলো শোনা মাত্রই হাবিবের ভ্রু কুঁচকে উঠলো। 
এরপর কোনো আগাম ইঙ্গিত ছাড়াই আচমকা উজান হাতে ধরা ভারী কাঠের চেয়ারটা আকাশের দিকে তুললো এবং মুহূর্তের মধ্যে হাবিবের মাথায় জোরে আছাড় মারলো।
একটা প্রচণ্ড শব্দ হলো। চেয়ার ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো। হাবিব চিৎকারও দিতে পারলো না, ধাক্কায় শরীর ছিটকে গিয়ে দূরে মেঝেতে আছড়ে পড়লো।
ঘটনার হঠাৎ ঘটায় পুরো হলঘরে শোরগোল পড়ে গেলো। একে একে সবার নিঃশ্বাস গলায় আটকে এলো। রুহানী ভয়ে, অবিশ্বাসে হকচকিয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। তার বুক কাঁপছে, চোখ বড়ো হয়ে গেছে। সে যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না কী ঘটলো।
উজান আবার এগিয়ে গিয়ে মেঝেতে লুটিয়ে থাকা হাবিবের বাম হাত টেনে তুললো। তার দুই হাত দিয়ে হাবিবের হাতটা মুচড়ে ধরলো, আর মুহূর্তের মধ্যে শোনা গেলো ভয়ঙ্কর 'কড়মড়' শব্দ। হাড় ভাঙার নির্মম আওয়াজ।
হাবিব যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে চিৎকার করে উঠলো। মাথা ফেটে রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছে তার। 
অভ্র, রাসেল, ওমর, নাহিদ দৌড়ে এসে ধরলো উজানকে। 
অভ্র চেঁচিয়ে উঠলো, "উজান! কি করছিস কি এগুলো! পুরো হলরুম ভরা মানুষ!"
উজান বিশ্রী এক গালি দিয়ে বলে উঠল, "এই কুত্তার বাচ্চাকে আমি মেরেই ফেললো। ছাড়ো আমাকে।"
মোচড়ামুচড়ি শুরু করলো উজান। অভ্র শক্ত করে ধরে রাখলো। হাবিবের মা-বাবা ছুটে আসলো। ছেলের এই অবস্থা দেখে আহাজারি করতে শুরু করলো। 
"আল্লাহ! আমার ছেলের এ কি হলোরে! আমি কাওকে ক্ষমা করবো না। আমার ছেলের কিছু হলে আমি কাওকে ছাড়বো না বলে দিলাম।"
হাবিবের মা চেঁচামেচি করতে লাগলেন। 
মুহুর্তের ভেতরে এতোক্ষন চলা আনন্দ সব শেষ হয়ে গেলো। হাবিবকে দ্রুত হসপিটালে নেওয়া হলো। 
রফিকুল সাহেব এসে সবার সামনে উজানের ডান গালে প্রকাণ্ড এক চড় মারলেন। রুহানী মুখে হাত চেপে ধরলো। উজানকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে সবাই। কারো মুখ থেকেই বিস্ময়ের ছাপ সরছে না।
আকাশ পাতাল এক করে চেঁচিয়ে উঠলেন রফিকুল সাহেব।,
"তোমার জন্য মানসম্মান সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। আর কতো জ্বালাবে আমাদের? বলো? কেনো মারলে তুমি হাবিবকে?"
উজান মাথা নিছু করে আছে। তার চোখ লাল হয়ে আছে। কপালের শিরদাঁড়া খাড়া হয়ে আছে। মুখ লাল হয়ে আছে। রাগ কন্ট্রোল করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে সে।
রফিকুল সাহেব উজানের কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখে আবার চড় মারতে হাত তুললেন। হঠাৎ রুহানী উজানের সামনে এসে দাঁড়ালো। অবাক চোখে তাকালো রফিকুল সাহেব। উজানও অবাক হয়ে গেলো।
"মারবেন না, বাবা। ও কখনো বিনা কারনে কাওকে এভাবে মারবে না। নিশ্চয়ই হাবিব কিছু করেছে।"
রুহানী মিনতি করলো। চোখ বেয়ে গড়িয়ে পরছে অশ্রু।
রফিকুল সাহেব কিছু বলবে তার আগে উজান রুহানীর হাত ধরে সেখান থেকে বেরিয়ে আসলো। রুহানী অনুভব করলো, উজান ছাড়া এই গোটা বিশ্বে তার আর কেও আপন না। তার স্বামীই তার সব। সে বুঝে গিয়েছে উজানের এরুপ প্রতিক্রিয়ার কারন। এটাও বুঝে গিয়েছে তাকে স্পর্শ করা অজ্ঞাত ব্যাক্তিটা কে।
"তোমাদের আগেই বলেছি আমি, এই ছেলে আস্ত একটা বেয়াদব হইছে। এই সময়ে ওর এই বেয়ারাপনা না করলে হতো না? হল ভরা অতিথিদের মাঝে এ কেমন অসভ্যতামি করলো তোমার ছেলে?"
রায়হান এবার রাগে চেঁচিয়ে উঠলো রফিকুল সাহেবের উপর।
এবার হামিদা বললেন, "অবশ্যই ওই হাবিব ছেলেটা কিছু করেছে না হলে উজান এমনটা কেনো করবে?"
"হাবিব যদি কিছু করেই থাকে তাহলে এখানে কি বড়োরা ছিলো না? ওর মা বাবা এখানে ছিলো না? অতিরিক্ত কিছু করলেও পুলিশ ছিলো না? ও কেনো এভাবে মারলো? ছেলেটা কি আদেও বাচবে? গ্যারান্টি দিতে পারবে তুমি? কোনো মতে বেচে ফিরলেও ওর হসপিটালে কম পক্ষে পাঁচ মাসের বেশি থাকা লাগবে। এভাবে পাষাণ্ডের মতো কে মারে কাওকে?"
সবার কথা বন্ধ হয়ে গেলো রায়হানের কথা শুনে।  
রায়হান আবার বলতে শুরু করলো, "এবার পুলিশ কেস হলে কি করবে? ভরা মজলিসে তোমার ছেলে নিজের খেল দেখিয়ে গেলো। এতো সহজে ছাড়া পাবে সে?"
অভ্র বিরক্ত হয়ে বলে উঠলো, "উফ চুপ কর তো। তোমরা যে যার কাজে চলে যাও। এই সব নিয়ে আর কথা বলো না। অনুষ্টান এখানেই শেষ করো।"
বলেই অভ্র চলে গেলো সেখান থেকে।
____
বাড়িতে এসে উজান রুহানীকে ঘরে পাঠিয়ে দিয়ে নিজে ছাদে চলে গেলো। 
রুহানী ঘরে এসে শাড়ি খুলে একটা থ্রি-পিস পরলো। ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে রুমে আসলো। উজান ঘরে ঢুকলো তখন। রুহানীর দিকে না তাকিয়েই সোজা ওয়াশরুমে চলে গেলো। গোসল করে বেরিয়ে আসলো। রুহানী খাটের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। 
উজান ট্রাউজার পরে বিছায় গিয়ে শুয়ে পরলো। রুহানীর দিকে দুই হাত বারিয়ে ডেকে উঠলো,
"মিসেস সাফওয়ান উজান মাহতাব, বুকে আসো।"
উজানের বলতে দেড়ি কিন্ত রুহানীর উল্কার গতিতে ছুটে আসতে দেড়ি হলো না। উজানের বুকে আছড়ে পরে ফুফিয়ে  কেঁদে উঠলো রুহানী।
"তোকে ছুঁতে আশা সব অভিশাপকে আমি ধ্বংস করে দেবো। তোর দিকে বাড়ানো হাত আমি ভেঙে দেবো। তার চোখ উপরে দেবো যে তোর দিকে তাকাবে। উজান মাহতাবের বউ তুই। আমার বউ। একমাত্র বউ।"
চলবে...
(ভুল ক্রুটি হলে মাপ করবে। কেমন হয়েছে জানাবেন কিন্ত।🥹)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন