ফন্ট সাইজ:
থিম:
শুধু বলো ভালোবাসি

২৪তম পর্ব

লেখক: মুহসানাত নুসাইবা
#শুধু_বলো_ভালোবাসি
#মুহসানাত_নুসাইবা
২৪.
পরদিন সকালে মাহতাব বাড়িতে পুলিশ হাজির হয়। হাবিবের পরিবার উজানের নামে কেস করেছে। হাবিবের মাথায় গুনে গুনে সাতটা সেলাই দেওয়া লেগেছে। হাত খুব বাজে ভাবে ভেঙেছে। তার ঠিক হতে কম পক্ষে ছয় সাত মাস লেগে যাবে। এদিকে ইতিমধ্যে মিডিয়াতেও ছড়িয়ে গিয়েছে এমপি অভ্র যোহানের বিয়েতে তারই ভাগ্নি সাফওয়ান উজান মাহতাব একজনকে বেধরম পিটিয়েছে। হাবিবকে মারার নির্মন দৃশ্য কেও বা কারা সোশ্যাল মিডিয়াতে ছেড়ে দিয়েছে। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে উজান হাবিবের মাথায় ভারি কাঠের চেয়ার দিয়ে কিভাবে আঘাত করেছে। পরবর্তীতে আবার হাত ভেঙে দিয়েছে।
"মিস্টার উজান মাহতাবকে আমাদের সাথে যেতে হবে। তার নামে ওয়ারেন্ট আছে।" পুলিশ অফিসার বললেন।
অভ্র এগিয়ে আসলো, "উজান এখান থেকে এক পাও নড়বে না।"
"স্যার, আমাদের কাছে ওয়ারেন্ট আছে। আপনি না বললেও আমাদের কিছু করার নেই। উজান মাহতাবকে আমাদের সাথে যেতেই হবে। আপনার কিছু করার হলে পুলিশ স্টেশনে এসে করতে হবে।"
রফিকুল সাহেব রাগে চেতে উঠলেন,
"এই ছেলেটা আমাকে আর শান্তি দিবে না। আজকে যে এই বাড়ির একটা ছেলের বিয়ে এই খবর কারো আছে? এই ভরা অতিথিদের ভেতরে এইসব কি শুরু হয়েছে?"
"ভাই শান্ত হও তুমি।" অভ্র বলে উঠলো।
"তুই কোনো কথাই বলবি না। একদম তোর মতো হয়েছে এই ছেলে। ভরা মজলিসে ওই ছেলেকে মারা কি দরকার ছিলো? পুরো নেট দুনিয়ার সেই ভিডিও এখন ভাইরাল। এখন কি ভাবে ছাড়া পাবে ও? সাধারণ পর্যায়ে রয়েছে এই ব্যাপারটা এখন?"
"কিছু হবে না। ও বিকালের ভেতরে বাড়ি চলে আসবে। চিন্তার কিছু নেই।" 
রায়হান রাগে চেঁচিয়ে উঠলো,
"তোমার এই ছেলের জন্য একদিন আমাদের সবাইকে রাস্তায় নামতে হবে দেখে নিও। ওর জন্য পরিবারের মানসম্মান সব শেষ হয়ে গিয়েছে। আর কি কিছু বাকি রয়েছে করার মতো? আগেরবার না হয় কোনো প্রমান ছিলো না খুব আরামে ছাড়া পেয়ে গিয়েছিলো কিন্ত এবার কি করবে শুনি? ওর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে বুঝতে পারছো? ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে এ কিভাবে সবার সামনে হাবিবকে মেরেছে।"
তুহিন বললো, "কথা তো এটাও উঠে, এই ভিডিও ভাইরাল করেছে কে? ভিডিও প্রেসের কাছে কিভাবে গেলো? কে দিলো?"
"সেটাই। ওই ভিডিও কে করেছে আর কেই না প্রেসের কাছে এই ভিডিও দিলো?"
রাসেলও তুহিনের সাথে তাল মিলালো।
রায়হান আরো জোরে চেঁচিয়ে উঠলো, "ও অপরাধ করেছে এর শাস্তি ও পাচ্ছে। এখন ভিডিও কে করলো, ভিডিও কে দিলো তার পেছনে পরে আছিস তোরা। ওখানে কি কম মানুষ ছিলো?"
"আস্তে কথা বল। গরুর মতো চেঁচাচ্ছিস কেনো?"
অভ্র ধমকে উঠলো।
অভ্রের কথায় পেট ফেটে হাসি আসলেও অনেক কষ্টে হাসি আটকে রাখলো তুহিন, রাসেল।
অভ্র উজানের দিকে তাকিয়ে চোখে কিছু একটা ইশারা করলো। উজান মাথা নাড়ালো। উজান এগিয়ে আসতে গেলে রুহানী উজানের হাত শক্ত করে ধরে রাখলো।
এক পাশে দাঁড়িয়ে হামিদা বেগম কাঁদছেন। তাকে শান্ত করছে সুরাইয়া।
পুলিশ উজানের দিকে এগিয়ে আসলো।  পুলিশ উজানকে ধরতে গেলে রুহানী শক্ত করে তাকে জরিয়ে ধরলো। ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো।
"আমি আপনাকে কোথাও যেতে দিবো না। ওদের বলুন না চলে যেতে।" 
হেঁচকি তুলে কাঁদে রুহানী। হাতের বাধন আরো মজবুত করে। উজান শান্ত করার চেষ্টা করে। রুহানী ক্রমাগত মাথা নাড়িয়েই যাচ্ছে কারো কথা শুনছে না। 
উজান রুহানীর দিকে ঝুঁকলো। ডান কানে ফিসফিসিয়ে বললো,
"যেতে দে, জান। খুব শীঘ্রই ফিরে আসবো তোর কাছে। প্রহর গুনতে থাক শুধু।"
কানের লতিতে হালকা করে ঠোঁট ছোঁয়ালো উজান। রুহানী হাত ঢুলা করলো কিন্ত ছাড়লো না। উজান হাত ছাড়িয়ে রুহানীর মুখ উচু করে কপালে আলতো করে চুমু খেলো। রুহানী আবার উজানের হাত শক্ত করে ধরলো।
পুলিশ হাতে হ্যান্ডকাপ লাগাতে গেলে উজান বললো,
"এটা লাগানো লাগবে না আমি যাচ্ছি।"
বাহিরে পুলিশের গাড়ি ছিলো উজান গিয়ে উঠে বসলো গাড়িতে। যাওয়ার সময়ও রুহানী হাত ছাড়লো না। গাড়ি পযন্ত উজানের হাত ধরে রাখলো। গাড়ি ছেড়ে দিলে আস্তে করে হাত ছেড়ে দিলো। রুহানীর চোখ থেকে অনবরত পানি পরছে। উজান জানালা দিয়ে মাথা বের করে হালকা হাসলো।
পেছন পেছন অভ্রও গাড়ি নিয়ে বের হলো। রুহানী অভ্রর কাছে গিয়ে মিনতি করতে শুরু করলো,
"আমিও যাবো চাচ্চু। আমাকেও নিয়ে চলেন প্লিজ।"
"তোর কষ্ট করে যাওয়া লাগবে না, রুহানী। আমরা বিকালের ভেতরেই চলে আসবো। তুই সবার সাথে রেডি হয়ে হোটেলে যা।"
"না না আমি যাবো। আপনি না নিলে আমি একাই চলে যাবো তবুও আমি যাবো।"
কিন্ত রুহানী অভ্রর কোনো বারণ শুনতে নারাজ। সে বারবার সাথে যাওয়ার জন্য জেদ ধরলো। অবশেষে রুহানীকে নিতে বাধ্য হলো অভ্র। 
রফিকুল সাহেব আসলে তাকে আসতে বারণ করলো। 
"তোমার আসা লাগবে না, ভাই। আমরা গিয়ে নিয়ে আসছি। তুমি এদিকটা সামলাও। বাড়িতে তুমি না থাকলে সমস্যা হবে।"
"হ্যাঁ আমি না যাই আর আবার তোমরা উলটা পালটা কিছু করে আসো তাই না?"
বিরক্তিতে বলে উঠলেন রফিকুল মাহতাব।
"চিন্তা করো না এমন কিছু হবে না।" অভ্র আশ্বাস দিলো। 
অভ্র সবাইকে ডেকে বললো সবাই যেনো রেডি হয়ে হোটেলে চলে যায়। আয়েশাকে নিয়ে পার্লারে যেতে বললো। উজান সময় মতো চলে আসবে।
অভ্রর কথা মতো সবাই কাজে লেগে পরলো।
অবশেষে অভ্র, রুহানী, তুহিন আর রায়হান বেরিয়ে পরলো থানার উদ্দেশ্যে।
____
হাজতে ঢুকানো হলো উজানকে। উজান পকেট থেকে বেনসন সিগারেটের প্যাকেট বের করলো। নিঃসঙ্গচে তা থেকে একটা সিগারেট বের করে ঠোঁটে চাপলো। তাতে আগুন জ্বালিয়ে কয়েকটা টান দিলো। 
একজন কনস্টেবল এগিয়ে এসে বললেন, "এক্সকিউজ মি স্যার? এটা পুলিশ স্টেশন আপনার বাড়ি না।"
উজান সিগারেটে আরেকটা টান দিয়ে উপরের দিকে ধোয়া উড়িয়ে। মাথা হালকা কাত করে কনস্টেবলের দিকে চোখ তুলে তাকালো। 
"সো হোয়াট?"  কন্ঠটা এতোটাই গম্ভীর ছিলো কনস্টেবল আর কিছু বললেন না।
কিছুক্ষনের ভেতরে সেখানে অভ্ররা এসে হাজির হলো। অভ্র, রায়হান, তুহিন গিয়ে অফিসারে সামনে বসলো। রুহানী উজানকে খুজতে লাগলো। হঠাৎ কানে ভেষে আসলো পরিচিত কন্ঠে অপরিচিত সম্মোধন। 
"হ্যালো সুইটহার্ট, আমি এখানে।"
উজানের ডাক শুনে ডান সাইডে হাজতে উজানকে দেখে রুহানী ছুটে গেলো সেদিকে। উজান হাত বের করে দিলো। বাম হাতে সিগারেট এখনো জ্বলছে। উজানের ডান হাত ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো রুহানী। এই মানুষটাকে এখানে একদমই মানাচ্ছে না।
উজান শীতল কন্ঠে বলে উঠলো, "অনুভূতি কেমন?"
"কিসের?" রুহানী মাথা তুলে জিজ্ঞেস করলো।
"এইজে তোর স্বামীকে হাজতে দেখে?"
"একদমই বাজে। খুব বাজে। আপনাকে এখানে মানায় না উজান ভাই। আপনাকে খোলা আসমানে আমার সাথে মানায়।"
"যদি আমাকে ওরা আটকে রাখে?" 
রুহানী ছলছল চোখে তাকালো উজানের দিকে।
"তাহলে আমিও আপনার সাথে এখানে থাকবো।"
"কিন্ত আমাকে তো এখানে রাখা হবে না। চালান দিয়ে দিলে আমাকে বড়ো জেলখানায় রাখা হবে। ওখানের খাবার ভালো না, বিছানা ভালো না আর খুব মশা।"
"আপনি যেখানেই থাকুন না কেনো আমিও সেখানে থাকবো। আপনি পারলে আমিও পারবো। আপনার সাথে হাজার পথ পাড়ি দিতে পারবো। আপনি আমার শেষ গন্তব্য।"
উজান হালকা হাসলো, "ভালোই কথা শিখেছিস তো!"
"আপনার জন্যে।"
উজা ভ্রু তুললো, "আমার জন্যে?"
রুহানী মাথা নিচু করে বললো,
"হ্যাঁ।"
"ভালোবাসিস?"
এই অসময়ে এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে উজানের এমন অপ্রত্যাশিত প্রশ্নে ভ্যাবাচেকা খেয়ে উঠলো রুহানী। হকচকিয়ে উজানের দিকে তাকালো। উজান ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
"বাসিস?" 
রুহানী মাথা নিচু করে উজানের হাত নিজের দুই হাত দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরে কপালের সাথে লাগিয়ে আবার ফুঁপিয়ে উঠলো। 
উজান আবার জিজ্ঞেস করলো, "ভালোবাসিস আমায়?"
রুহানী অসহায় মুখে উজানের দিকে তাকালো। কান্না আটকে বললো,
"এটা কোনো সময় হলো এমন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার? আমি কি উত্তর দিবো বলেন?"
"তুই সেই উত্তর দিবি যেটা তোর মনে আছে। তুই সেই উত্তর দিবি যেটার তোর যানা আছে।"
উজান হাতের সিগারেটটায় শেষ টান দিয়ে ফেলে দিলো। রুহানী তাকিয়ে আছে উজানের দিকে। 
উজান আবারও জিজ্ঞেস করলো, "বল? ভালোবাসিস আমায়?"
রুহানী ঠোঁট উলটে আবার ফুঁপিয়ে উঠলো। তার কি হয়েছে সে বুঝতে পারছে না। এতো কান্না পাচ্ছে তার!
রুহানী উজানের হাত কপালের সাথে ঠেঁকিয়ে বললো, "হ্যাঁ বাসি। ভালোবাসি আমি আপনায়।"
উজানের মুখে হাসি ফুটে উঠলো। বললো,
"তাকা আমার দিকে।"
রুহানী তাকালো উজানের দিকে। উজান আঙুলের ইশায় কাছে আসতে বললো।
রুহানী একটু কাছে এগিয়ে আসতেই উজান বম হাত দিয়ে রুহানীর মাথার পেছনে চেপে আরো কাছে আনলো। মঝে শুধু লোহার গ্রিলটা বাধা হয়ে দাঁড়ালো। কিন্ত তারা তাদের কাছে আশায় কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারলো না। উজান শক্ত করে রুহানীর ঠোঁটে শব্দ করে একটা চুমু খেলো। আবারও ঠোঁট আটকে ধরলো। রুহানীর চোখ থেকে জল গড়িয়ে পরলো। 
কিছুটা দূরে দুইজন কনস্টেবল দাঁড়িয়ে ছিল এদিকে তাকিয়েই। তাদের কান্ডে দুইজনই হকচকিয়ে উঠলো। দুইজন দুইজনের দিকে তাকিয়ে দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেললো।
উজান রুহানীকে ছাড়তেই রুহানী হাফাতে শুরু করলো। মুখে সিগারেটের গন্ধে ভরে গেছে।
ভ্রু কুঁচকে উজানের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,
"নিজে সিগারেট খাচ্ছেন সাথে আমাকে চুমু খেয়ে আমাকেও সিগারেট খাওয়াচ্ছেন?"
আচমকা উজান হো হো করে হেসে উঠলো। রুহানী মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে দেখলো সেই হাসি। 
____
"দেখুন স্যার, উজান মাহতাবের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ওয়ারেন্ট এসেছে। উনাকে কম পক্ষে হলেও কিছুদিন এখানে থাকতে হবে। জনগণকে শান্ত হতে হবে। এখনই উনাকে ছেড়ে দিলে আমাদের উপর প্রশ্ন উঠবে। ঝামেলা বাড়বে বৈকি কমবে না।"
অফিসারের কথা থামতেই অভ্র বলতে শুরু করলো,
"কিছু একটা ব্যাবস্থা করুন অফিসার। আজকে আমার বিয়ে। কোনো ঝামেলা চাইছি না। ওকে বের করার ব্যাবস্থা করুন।"
"অভ্র স্যার, আপনি আমার কথা বুঝতে পারছেন না। পরিস্থিতি আমাদের হাতে নেই যে উনাকে আমারা ছেড়ে দিবো এখন। মিস্টার মাহতাবকে কম পক্ষে কিছুদিন অবশ্যই থাকতে হবে। উনি ছাড়া পেয়েছেন এটা প্রেসে কোনো ভাবে খবর গেলে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে আমাদের সবার।"
"আচ্ছা আমরা যদি বাহিরে এই খবর না দেই?"
"মানে?" অফিসার তাকালেন অভ্রর দিকে
"মানে উজানকে আমরা নিয়ে যাবো কিন্ত এই খবর বাহিরে যাবে না। উজান কিছুদিন আন্ডারগ্রাউন্ড থাকবে।"
"কিন্ত এখান থেকে বাহিরে গেলেই উনাকে সবাই দেখে ফেলবে। বাহিরে অনেক প্রেস দাঁড়িয়ে আছে।"
"ওকে পেছন দিক থেকে বের করার ব্যাবস্থা করে দিন।"
পুলিশ হার মেনে নিলেন অবশেষে।
উজানক থানার পেছন দিক থেকে বের করার প্লান করা হলো। স্টেশনের সামনে দিয়ে উজান, রুহানী, তুহিন, রাসেল বেরিয়ে গাড়িতে উঠলো। গাড়ি অনেকটা ঘুরে থানার পেছন দিকে গেলো। উজান মাক্স পরে দাঁড়িয়ে আছে। রুহানী গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে গিয়ে ঝাপিয়ে পরলো উজানের উপর। এতো শক্ত করে ধরলো যেনো আর কেও আলাদা করতে না পারে তাদের। যেনো আর কেও কেড়ে নিতে না পারে তার উজানকে। 
উজান রুহানীকে বুক থেকে উঠিয়ে দুই হাতে মুখ আঁজলা করে ধরে মুখে এলোপাতাড়ি চুমু দিচ্ছে। রুহানী কেঁদেই চলেছে। এতোক্ষন তার দম বন্ধ হয়ে ছিলো। 
তাদের কান্ডে অভ্র, তুহিন, রাসেল মুচকি হাসলো।
বাড়ি ফেরার সময় সম্পুর্ণটা সময় রুহানী উজানের সাথে লেপ্টে ছিলো। যেনো ছাড়লেই উজান আবার কোথাও হারিয়ে যাবে।
____
উজানকে বাড়িতে থাকতে বলা হলো। হোটেলে যেতে দেওয়া হলো না। সবাই ইতিমধ্যে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে চলে গিয়েছে। শুধু উজান আর রুহানী বাদে। রুহানীকে হাজার বলেও কেও সাথে নিতে পারলো না। উজান বললেও সে যায়নি। সেখানে উজান যাচ্ছে না তাহলে সে যাবে কেনো? এতো কষ্টের পর স্বামীকে ফিরে পেয়েছে সে। কিছুতেই এখন তাকে একা ছাড়বে না।
তাদের খাওয়া দাওয়া শেষ। রুহানী ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে চুল আঁচড়াচ্ছিলো। উজান কাউচে বসে ল্যাপটপে কাজ করছে। হঠাৎ ল্যাপটপটা বন্ধ করে উজান ডেকে উঠলো,
"রুহানী?"
"জ্বী?" ডাক শুনলো রুহানী।
"বাড়িতে কেও নেই।"
"হ্যাঁ। তো?"
"চল প্রেম করি।"
রুহানী চোখ বড়োবড়ো করে পেছনে ফিরে উজানের দিকে তাকালো। উজান কাউচে হেলান দিয়ে বসে আছে। ডান দিকে মাথা কাত করে তার দিকে তাকিয়ে আছে। ডান হাতের আঙুল ঠোঁট ছোঁয়ানো। 
রুহানী বুঝতে পারছে না উজানের কি হয়েছে। আজকে সারাদিন উদ্ভট নামে ডেকেছে তাকে। আবার হঠাৎ এই কথা!
রুহানী অবিশ্বাস্য কন্ঠে বললো, "কি বললেন আপনি?"
"বলেছি, চল প্রেম করি।" উজান আবারও সেই একই বাক্য বললো।
রুহানী বললো, "আপনার কি হয়েছে উজান ভাই?"
"কি হবে?"
"আপনি এমন উদ্ভট কথা বলছেন কেনো?"
"প্রেম করার কথা বুঝি উদ্ভট কথা?"
"না সেটা না কিন্ত আপনি বলছেন এইসব?"
উজান তাকিয়ে থাকলো রুহানীর দিকে। 
রুহানী আবার ডেকে উঠলো, "উজান ভাই?"
"চুপ! তোর কোন জন্মের ভাই লাগি আমি? হ্যাঁ?"  উজান ধমকে উঠলো।
উজানের ধমকে রুহানীর আত্মা কেঁপে উঠলো। অবাক চোখে তাকালো উজানের দিকে। এই লোকটা মাত্রই প্রেম করার কথা বললো আবার কিভাবে মুহুর্তে চেঞ্জ হয়ে গেলো!
উজান ডেকে উঠলো, "রুহানী?"
"জ্বী।"
"কাছে আয়।"
রুহানী ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো। উজানের সামনে যেতেই উজান রুহানীর হাত টেনে নিজের কোলে বসালো। রুহানী কেঁপে উঠলো। উজান রুহানীর দুই হাত ধরে নিজের ঘাড়ের পেছনে রাখলো। 
উজান গভীর চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
"তোর স্বামী কে?"
"আমার ভালোবাসা।" 
রুহানীর নির্ভেজাল শিকার উক্তি 
উজান আবার জিজ্ঞেস করলো,
"তোর ভালোবাসা কে?"
"আপনি।" 
উজা হাসলো। আবার জিজ্ঞেস করলো, 
"তাহলে 'ভাই' ডাকিস কেনো?"
"অভ্যাস তো।"
"অভ্যাস বদলে ফেল।"
"আচ্ছা।"
উজান ধীরে ধীরে রুহানীর মুখের কাছে ঝুঁকলো। রুহানী চোখ মুদে নিলো, নিঃশ্বাস আটকে গেলো বুকের ভেতর। পরম মুহূর্তে উজানের ঠোঁট ছুঁয়ে গেলো রুহানীর ঠোঁট। 
রুহানীর চোখের কোণে অশ্রু জমে উঠলো, সেটা ছিলো আনন্দের অশ্রু। ঠোঁট ছুঁয়ে ছুঁয়ে দু'জন যেন শপথ করছিলো, এ জীবনে আর কিছু চাই না, একে অপরই যথেষ্ট।
উজান তাকে আরও শক্ত করে বুকে টেনে নিলো। রুহানী মাথা গুঁজলো উজানের বুকের ভেতর, তার হৃদস্পন্দনের শব্দে হারিয়ে যেতে থাকলো।
উজান গলা নামিয়ে কানে ফিসফিসিয়ে বললো,
"তুই শুধু আমার। উজান মাহতাবের বউ তুই। আমার বউ। একমাত্র বউ।" 
"হ্যাঁ… কেবল আপনারই।" রুহানীর কণ্ঠ কেঁপে উঠলো।
উজান রুহানীর মুখমণ্ডল, চুল, কপাল সাবধানে ছুঁয়ে যাচ্ছিলো। রুহানীর শরীর কেঁপে উঠছিলো বারবার, কিন্তু প্রতিবারই সে উজানের মাঝে নিবিড় ভাবে মিশে যাচ্ছিলো।
আচমকে উজান রুহানীকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে পরলো। বিছানার দিকে যেতে যেতে বাঁকা হেসে তাকালো রুহানীর দিকে। রুহানী লজ্জায় উজানেরই বুকে মিশে গেলো। 
সেই রাতটা হয়ে উঠলো তাদের জীবনের সবচেয়ে বিশেষ রাত। ভালোবাসার অঙ্গীকারে, হৃদয়ের নিঃশব্দ স্রোতে, শরীর-মন একাকার হয়ে তারা জড়িয়ে গেলো একে অপরের মধ্যে।
আলো-অন্ধকারে জন্ম নিলো নতুন এক যাত্রা, শুধু উজান আর রুহানীর জন্য।
চলবে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন