#প্রণয়ের_বৃষ্টি
#writer_nazmin
#Part_7
🚫 হ্যাশট্যাগ বিহীন কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ‼️
পরদিন ক্যাম্পাসে সবাই অবাক হয়ে গেলো।ইশিতা আবার নিয়মিত আসছে।স্টাইলিশ ড্রেস, আত্মবিশ্বাসী হাঁটা।সে যেন নিজেই একটা ঝড়।
ক্যান্টিনে বসে ছিল আরিয়ান, রিদ্ম, তানভীর।হঠাৎ ইশিতা এসে হেসে বললো,
“কেমন আছো আরিয়ান?মিস করছিলে নাকি আমায়?”
রিদ্ম বিরবির করে বললো,
“শুরু হয়ে গেলো এর ড্রামা!”
আরিয়ান বিরক্ত হয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
“কি চাই তোমার?”
ইশিতা বাঁকা হেসে তার সামনে বসে বললো,
“তোমাকে।”
পরিবেশ যেন থমকে গেল।ঠিক তখনই মেঘলা ঢুকলো।ধুর থেকে সে দৃশ্যটা দেখে থেমে গেল।ইশিতা মেঘলাকে দেখে ইচ্ছে করে আরিয়ানের হাত ছুঁয়ে বললো,
“মনে আছে অতীতের দিনগুলো?(আরেকটু কাছে এসে ফিসফিসিয়ে) প্রথম অনুভূতি, প্রথম কন্ফেশান!”
মেঘলার বুক ধক করে উঠল।আরিয়ান হাত সরিয়ে রেগে বললো,
“ডোন্ট ক্রস ইউর লিমিট!”
ইশিতা মুচকি হেসে চোখে চোখ রেখে বললো,
“আমি নিজের সীমার মধ্যেই আছি।(মেঘলার দিকে চেয়ে)বরঞ্চ অন্যরা নিজেদের সীমা ভূলে যেতে চাইছে।”
আরিয়ান আঙ্গুল তুলে কিছু বলতে যাবে এমন সময় ওর মেঘলার দিকে চোখ পড়ল।মেঘলা ধীরে ঘুরে চলে যেতে লাগল।আরিয়ান ডাকল,
“মেঘলা! দাঁড়াও!”
কিন্তু সে থামল না।দূরে গিয়ে স্নিগ্ধার সাথে দেখা হলো। চোখ মুছতে মুছতে স্নিগ্ধাকে বললো,
“আমি হয়তো ভুল মানুষকে ভালবেসেছি রে।”
স্নিগ্ধা কিছু বুঝতে না পেরে বললো,
"কি বলছিস এসব তুই, আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।আর কি হয়েছে তুই কাঁদছিস কেন?"
মেঘলা সব কথা স্নিগ্ধাকে বললো।স্নিগ্ধা বললো,
“দেখ তুই যা দেখছিস সেটা তো পুরোপুরি সত্য নাও হতে পারে তাই না। তারউপর তুই ওদের কথাবার্তাও ভালো করে শুনিস নি। হতেও তো পারে তুই ভূল ভাবছিস।”
ওদিকে-
ইশিতা ধীরে বললো,
“গেম অন, আরিয়ান!”
আর একটা নতুন ঝড় শুরু হলো।সারারাত মেঘলার ঘুম হয়নি।তার মাথায় শুধু একটাই দৃশ্য ইশিতা আর আরিয়ান হাত ধরে একসাথে বসে আছে।
---------------
সকালবেলা স্নিগ্ধা বললো,
“এই, তুই ক্লাসে যাবি না?”
মেঘলা ধীরে বললো,
“না রে,আজ ভালো লাগছে না।”
“কারণটা কি আমি জানি?"
স্নিগ্ধা চোখ সরু করে তাকাল।মেঘলা একটু চুপ থেকে বলল,
“আমি উনাকে অজান্তেই ভালোবেসে ফেলেছি কিন্তু যদি উনি এখনো ইশিতাকে ভালোবাসে?”
স্নিগ্ধা একটা শ্বাস ফেলে গম্ভীর হয়ে বললো,
“দেখ আমি শুধু একটা কথাই বলবো, চোখের দেখা কিন্তু সবসময় সত্যি হয় না।”
ওদিকে-
আরিয়ান পুরো ক্যাম্পাসে মেঘলাকে খুঁজছে।রিদ্ম বললো,
“ও বোধহয় তোকে এড়িয়ে চলছে।”
“কিন্তু কেন?"
আরিয়ান বিরক্ত হয়ে বললো।তখন তানভীর বললো,
“কারণ তুই ওকে এক্সপ্লেইন করিস নি।”
অবশেষে করিডোরে দেখা মেঘলা আরিয়ানের দেখা হয়।
“মেঘলা, প্লিজ দাঁড়াও!”
আরিয়ান বলল।মেঘলা ঠান্ডা গলায় বললো,
“আপনার কিছু বলার আছে?না থাকলে আমি ক্লাসে যাবো।”
“হ্যাঁ! কাল যা দেখেছো...”
মেঘলা তাকে থামিয়ে দিলো,
“ওটা আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার, আমাকে বলার কোনো প্রয়োজন নেই।”
তার চোখে জল কিন্তু মুখে কঠোরতা।
“দেখো তুমি ভূল ভাবছো!”
“আমি এমন বিশেষ কেউ না যে আমায় কিছু এক্সপ্লেইন করতে হবে।”
একটা দীর্ঘ নীরবতা দেখা দেয়।আরিয়ান করুন স্বরে বললো,
“তুমি তো নিজেও জানো তুমি বিশেষ কেউ কি না।(একটু চুপ থেকে)তুমি কি আমাকে বিশ্বাস করো না?”
মেঘলা তাকিয়ে রইল কিন্তু উত্তর দিল না।দুজনের মাঝে একটা অদৃশ্য দেয়াল তৈরি হলো।
চলবে...
💬 গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন