#প্রণয়ের_বৃষ্টি
#writer_nazmin
#Part_35
🚨🚨🚨কাল আপনাদের বেশি রেসপন্সের কারণে গল্পটি বন্ধ করা হয়নি। আমি আশা করব আপনারা এভাবেই পাশে থাকবেন।
🚫 হ্যাশট্যাগ বিহীন কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ‼️
পর্দার ফাঁক দিয়ে সকালে রোদের কিরণ চোখে মুখে পড়তেই মেঘলার ঘুম ভেঙ্গে গেল।সোফার দিকে কাত হয়ে শুয়েছিল বলে সর্বপ্রথমই ওর চোখ পরল আরিয়ান এর উপর।সোফায় গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে ও।ওকে দেখতেই মেঘলার মুখে হাসি ফুটে উঠলো। অপলক দৃষ্টিতে আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে রইলো মেঘলা।ঘুমের মধ্যেই আরিয়ানকে চোখ মুখ কুঁচকাতে দেখে মেঘলার ভ্রু কুঁচকে গেল।তখনই ও লক্ষ্য করল ওপাশের জানালা দিয়ে আসা রোদের আলো আরিয়ানের উপর পড়ছে আর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়ই এমনটা করছে ও।মেঘলা সাবধানে উঠে ওপাশের জানালার পর্দা গুলো মেলে দিল।তারপর ধীরে ধীরে সোফার সামনে ঘুমন্ত আরিয়ানের মুখোমুখি বসলো। ওর দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে মুচকি হেসে বললো,
"এই যে মিস্টার বর সাহেব,অনেক রাগ করেছেন না? সমস্যা নেই আপনার সব রাগ করে পানি বানিয়ে দেব। দেখবেন আপনার এই বউ এখন কি কি করে।(মেঘলা আবার হেসে দিল)"
আরো কিছুক্ষণ আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে থেকে ও ফ্রেশ হতে বাথরুমে চলে গেল।বাথরুম থেকে বের হয়ে দেখল আরিয়ান এখনো ঘুমিয়ে আছে।মেঘলা ঠোঁট উল্টে নিজের দিকে তাকালো।একটা চিকেনের থ্রি পিস পড়েছে ও।যদিও শাড়ি পড়তে চেয়েছিলো।কিন্তু শাড়ি পড়তে পারে না বিধায় এই পোশাক।যাই হোক আর এতো কিছু না ভেবে ও আয়না দেখে নিজেকে ঠিকঠাক করে মাথায় ঘোমটা দিয়ে নিচে চলে গেলো।
--------------
নিচে কিচেনে কাজ করছিলেন নীলিমা। অতিথি যারা আছেন তারা বোধহয় এখনো ঘুম থেকে উঠেনি। মেঘলা পেছন থেকে বললো,
"আমি কিছু করতে পারি?"
নীলিমা পেছন ফিরে তাকালেন।মেঘলাকে দেখে উনার মুখে মিষ্টি একটা হাসি ফুটে উঠলো।সকালের আলোয় ভেজা চুলে,মাথায় হালকা ঘোমটা টেনে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটা।কালকের সেই বিধ্বস্ত,ভীত মেয়েটার সাথে আজকের মেঘলার যেন অনেক পার্থক্য।কয়েক সেকেন্ড ওর দিকে তাকিয়ে থেকে নীলিমা ধীরে ধীরে একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন।তারপর হাতের খুন্তিটা নামিয়ে রেখে বললেন,
"এত সকালে উঠে পড়েছো মা?আরে আরও একটু ঘুমাতে পারতে।গতকাল তোমার উপর দিয়ে কত ধকল গেছে!"
মেঘলা ছোট্ট করে হাসলো।তারপর এগিয়ে এসে বললো,
"ঘুম ভেঙে গেছে।আর আপনি একা একা কাজ করছেন দেখে খারাপ লাগছিল।তাই ভাবলাম সাহায্য করি।"
নীলিমার ভেতরটা অদ্ভুত ভালো লাগায় ভরে উঠলো।আজকালকার মেয়েদের মধ্যে এমন আন্তরিকতা খুব কমই দেখা যায়।মেয়েটা যতটুকু সময় এই বাড়িতে আছে,ততটুকুতেই যেন সবার মন জয় করে ফেলেছে।উনি মমতাভরা চোখে তাকিয়ে বললেন,
"তোমাকে কিছু করতে হবে না।এখন তুমি এই বাড়ির অতিথিও না আবার পুরোপুরি পুরোনো সদস্যও না।তাই আজ শুধু আরাম করবে।"
মেঘলা ঠোঁট ফুলিয়ে বললো,
"এটা কিন্তু অন্যায় হলো আন্টি।"
কথাটা বলা মাত্রই নীলিমার মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেল।উনি দুই হাত কোমরে রেখে গম্ভীর মুখে বললেন,
"কি বললে?"
মেঘলা থমকে গেল।
"জি?"
"আবার বলো তো কি বললে?"
মেঘলা এবার পুরোপুরি ঘাবড়ে গেল।
"আমি...মানে..."
"আন্টি কে?"
নীলিমার এমন ভাব দেখে মেঘলা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল।ওর মুখের দিকে তাকিয়ে বোঝাই যাচ্ছে কি উত্তর দেবে বুঝতে পারছে না।ওকে এমন অবস্থায় দেখে নীলিমা আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না।হেসে ফেললেন।
"তোমার সাথে আমার ছেলের বিয়ে হয়ে গেছে।আর তুমি আমাকে আন্টি ডাকছো?"
মেঘলা লজ্জায় লাল হয়ে গেল।
"আ...আসলে অভ্যাস নেই তো!"
"অভ্যাস করতে হবে।"
"কিন্তু..."
"কোনো কিন্তু না।আজ থেকে মা ডাকবে।"
মেঘলা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইলো।কেন জানি না শব্দটা মুখে আনতে একটু সংকোচ লাগছিল।কিন্তু নীলিমার স্নেহভরা চোখ দুটো দেখে ওর সংকোচ ধীরে ধীরে কেটে গেল।ও আস্তে করে বললো,
"জি মা।"
শব্দটা শুনে নীলিমার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো।
"এই তো আমার ভালো মেয়ে।"
কথাটা বলে উনি মেঘলার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।মেঘলার বুকের ভেতর কেমন যেন উষ্ণ অনুভূতি ছড়িয়ে পড়লো।এই বাড়িতে আসার পর থেকে সবাই যেভাবে ওকে গ্রহণ করেছে,সেটা ও কল্পনাও করেনি।
কিছুক্ষণ পর নাস্তার প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়ে এলো।মেঘলা টুকটাক কাজ করে দিচ্ছিল।এমন সময় বাইরে গেট খোলার শব্দ ভেসে এলো।নীলিমা জানালার দিকে তাকিয়ে বললেন,
"তোমার শ্বশুর বোধহয় ওয়াকিং শেষ করে ফিরলো।প্রতিদিন সকালবেলা হাঁটতে না বেরোলে উনার নাকি দিনই শুরু হয় না।"
মেঘলা মাথা নাড়লো।ঠিক তখনই ওর চোখ পড়লো রান্নাঘরের কাউন্টারে রাখা ধোঁয়া ওঠা এক মগ কফির উপর।
নীলিমাও সেদিকে তাকালেন।তারপর যেন কিছু মনে পড়তেই বললেন,
"আরে হ্যাঁ!আরিয়ান তো এখনও ঘুমাচ্ছে।"
মেঘলার বুকটা কেমন ধক করে উঠলো।আরিয়ানের নাম শুনলেই এখন অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছে।একদিকে অপরাধবোধ,অন্যদিকে অকারণ টান।নীলিমা কফির মগটা একটা ট্রেতে রেখে মেঘলার দিকে বাড়িয়ে দিলেন।
"এই নাও।"
মেঘলা অবাক হয়ে তাকালো।
"কি করবো এটা নিয়ে?"
"উপরে নিয়ে যাবে।"
"আমি?"
"হ্যাঁ তুমি।"
মেঘলার গলাটা শুকিয়ে গেল।
"কিন্তু..."
"আবার কিন্তু?"
নীলিমা চোখ ছোট করে তাকালেন।
"ও আমার ছেলে ঠিকই,কিন্তু এখন তোমার স্বামীও।তাই কফিটা তুমি দিয়েই আসো।"
মেঘলার গাল হালকা লাল হয়ে উঠলো।ও ট্রেটা হাতে নিলো ঠিকই,কিন্তু বুকের ভেতরটা অস্থির হয়ে উঠলো।গত রাতের কথাগুলো এখনও কানে বাজে।আরিয়ানের প্রতিটা কথায় কতটা অভিমান ছিল সেটা ভুলতে পারছে না ও।নীলিমা মুচকি হেসে বললেন,
"কি হলো?এভাবে দাঁড়িয়ে আছো কেন?"
মেঘলা মাথা নাড়লো।
"না...কিছু না।"
"তাহলে যাও।আর শোনো,কফিটা যেন ঠান্ডা না হয়ে যায়।"
মেঘলা ধীরে ধীরে ট্রেটা হাতে নিয়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলো।সিঁড়ির সামনে এসে একবার থামলো।তারপর গভীর শ্বাস নিয়ে উপরে উঠতে শুরু করলো।
--------------
ঘরে প্রবেশ করে সেন্টার টেবিলে কফির কাপ রাখতেই ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে আরিয়ান।ওর গায়ে শুধুমাত্র একটা টাওয়াল প্যাঁচানো। মেঘলাকে দেখতেই ও ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। মেঘলাও বেশ অপ্রস্তুত হয়ে গেলো। নিজেকে সামলে আরিয়ান এবার কাঠ কাঠ গলায় বললো,
"ঘরে আসতে হলে যে নক করে আসতে হয় সেটাও ভুলে গেছো।"
ব্যস!এই এক কথায়ই মেঘলার লজ্জা-টজ্জা সব ফুরুৎ।ও রাগে দাঁতে দাঁত চিপলো।নক না?দেখাচ্ছি। মেঘলা মনে মনে শ'য়'তা'নি হাসলো।ও হঠাৎ করে আরিয়ানের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো।আরিয়ান ওর হঠাৎ এই রূপ বদলে হতভম্ব হয়ে গেলো।ও তুতঁলে বললো,
"এ...এই তুমি এভাবে এগিয়ে আসছো কেন?"
মেঘলা সমানে এগোচ্ছে আর আরিয়ান সমানে পেছোচ্ছে।একসময় আরিয়ান ওয়াশরুমের পাশের দেয়ালে ধাক্কা খেলো। মেঘলার এসব আচরণে যেন ও আকাশ থেকে পড়েছে।ও বারবার ঢোক গিলছে।
মেঘলা ওর এক আঙ্গুল দ্বারা আরিয়ানের বুকে স্লাইড করতে করতে বললো,
"কেন বর সাহেব আমি কি তোমার পর যে নক করে আসতে হবে?"
আরিয়ান হাঁ করে বললো,
"বর সাহেব!"
"হ্যাঁ আমার বর সাহেব।(চোখ টিপে কানে কানে)আর আমাদের মধ্যে লাজ লজ্জার আর কিইবা বেঁচে আছে।"
আরিয়ানের কাশি শুরু হয়ে গেলো। মেঘলা বাঁকা হেসে ওর থেকে দূরে সরে গেলো।
"হয়েছে কফিটা খেয়ে জলদি নিচে এসো বর সাহেব........"
মেঘলা গুনগুন করতে করতে ওখান থেকে চলে গেলো। আরিয়ান কাশতে কাশতে এখনো ওর যাওয়ার দিকে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে।কাশি থামতেই ও বিরবির করে বললো,
"এটা কি সত্যিই মেঘলা না জ্বীন টিন আসর করলো?"
চলবে...
💬 গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন।