#প্রণয়ের_বৃষ্টি
#writer_nazmin
#Part_36
🚫 হ্যাশট্যাগ বিহীন কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ‼️
ডাইনিং টেবিলে খেতে বসেছে ফারহান নীলিমা ও মেঘলা।এ বাড়িতে এখন যে সমস্ত অতিথিরা রয়েছে তাদের কারোরই এগারোটার আগে সকাল হয় না।তাই সকলের উঠার আগেই পরিবারের সবাই খেয়ে নিচ্ছে।মেঘলা অবশ্য ওনাদের খাবার সার্ভ করে দিতে চেয়েছিল।কিন্তু নীলিমা বকেঝকে বসিয়ে দিয়েছেন। এতক্ষণ ধরে ফারহানের সাথেও মেঘলার ভালো কুশলাদি বিনিময় হয়ে গেছে। আর তাকেও ও বাবা ডাকতে শুরু করেছে। এমন সময় সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামলো আরিয়ান।সিঁড়ির দিকে চাইতেই মেঘলা যেন আরেক দফা ক্রাশ খেলো। হালকা ভেজা এলোমেলো চুল,ফর্সা শরীরে ক্রিম কালারের টি-শার্ট আর ব্ল্যাক ট্রাউজারে কোন রাজপুত্রের চাইতে কম লাগছিল না আরিয়ানকে।নীলিমার গলা পেয়ে মেঘলা নিজেকে সামলে নিলো।
"আয় বাবা খেতে বস।"
আরিয়ান চেয়ার টেনে নীলিমার পাশে বসতেই যাচ্ছিল এমন সময় ফারহান খান ওকে ধমকে উঠলেন।
"এই বাঁদর ছেলে বিয়ে হয়ে গেল তাও বুদ্ধি-সুদ্ধি হলো না।যাও মেঘলা মায়ের পাশে গিয়ে বস।"
মেঘলা মুখ টিপে হেসে ফেললো। আরিয়ান বিরক্তিতে দাঁত কটমট করতে করতে মেঘলার পাশের চেয়ার টেনে বসলো।ও আর কথা বাড়ালো না।নইলে ওর যা বাবা কি থেকে কি বলে দেয় আল্লাহ মালুম!
সকলে খেতে শুরু করলো।নীলিমা ঠেসে টুসে মেঘলাকে খাবার দিচ্ছে।আরিয়ান আড় চোখে সব লক্ষ্য করছে আর মনে মনে মুখ ভেংচি কাটছে।ও মুখেও বলেই ফেললো,
"সব যত্ন কি ওর জন্যই রেখেছো।বাকিদের দিকেও একটু তাকাও।নীলিমা ওর বাহুতে হালকা চাপড় মেরে বললেন হেসে বললেন,
"এই দুষ্ট ছেলে মেঘলামাকে হিংসে করা হচ্ছে?"
আরিয়ান আর কিছু না বলে মুখ ফুলিয়ে রাখলো।ফারহান এবার কথা শুরু করলেন,
"আরিয়ান আজ তোমাদের রিসেপশন তাই এখন একটু রেস্ট নিয়ে নাও।কিছুক্ষণ পর থেকেই বাকি অতিথিরাও আসা শুরু করে দেবে।
আরিয়ান অবাক হয়ে বললো,
"হোয়াট?রিসেপশন!"
ফারহান শান্ত গলায় বললেন,
"তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে আকাশ থেকে পড়লে? তোমাদের বিয়ের পর দিনই রিসিপশনের কথা ছিল। নেহাতই কিছু ঝামেলার কারণে সময়টা বদলেছে কিন্তু রিসেপশনটা তো বাদ দেওয়া যায় না।এছাড়া রিসেপশনটা ছোট করে করার কথা ছিল।কিন্তু এখন এভাবে বিয়েতে অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন উঠেছে।তাই রিসেপশনটা অনেক বড় করেই করা হচ্ছে।
আরিয়ান বিরক্তির সাথে বললো,
"কিন্তু বাবা এখন এসব..."
ফারহান ওকে থামিয়ে দিলেন,
"তোমার থেকে আমি উপদেশ চাইনি।তোমাকে শুধু জানিয়ে দিলাম। আশা করছি আমাদের এতটুকু কথা রাখবে।এর আগে কথা দিয়ে তুমি কি করেছো সেটা নিশ্চয়ই ভুলে যাওনি।"
আরিয়ান আর কিছু না বলে অর্ধেক খেয়েই ওখান থেকে চলে গেলো। নীলিমা ওকে পেছন থেকে ডাকছে,
"এই আরিয়ান!দেখো দেখি এভাবে অর্ধেক খাবার খেয়ে চলে গেলো!এই আরিয়ান!"
মেঘলা ওর গমন পথের দিকে চেয়ে রইলো।ওর গলা দিয়েও আর খাবার নামলো না।
--------------
খাওয়া শেষ হতেই নীলিমা ও মেঘলাকে নিয়ে নিজের রুমে চলে গেলেন।রুমে ঢুকেই বড় আলমারিটা খুললেন নীলিমা। একের পর এক শাড়ি বের করতে লাগলেন। কারও রং হালকা গোলাপি, কারও আকাশি, আবার কোনোটা গাঢ় মেরুন। মেঘলা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে।
"মা,এত শাড়ি বের করছো কেন?"
বলে রাখা ভালো এতোটা সময়ে নীলিমার জোড়াজুড়িতে ওনাকে তুমি বলতে শুরু করেছে মেঘলা। নীলিমাও ওকে তুই বলে আপনি করে নিয়েছেন। ফারহান অবশ্য তুমিতেই সীমাবদ্ধ আছেন।নীলিমা একটা হালকা পিচ রঙের শাড়ি হাতে নিয়ে ওর সামনে ধরলেন।
"কারণ আজ তোকে শাড়ি পরতে হবে।"
মেঘলার মুখ সাথে সাথে কাঁচুমাচু হয়ে গেল।
"কিন্তু আমি তো শাড়ি পরতে পারি না।"
"তাতে কি হয়েছে? আমি আছি না?"
মেঘলা অসহায় মুখে বললো,
"সত্যি বলতে কি, আমি শাড়ি পরতে গেলেই সব উল্টাপাল্টা হয়ে যায়। একবার কলেজের অনুষ্ঠানে পরতে গিয়ে এমন অবস্থা করেছিলাম যে পিন খুলে পুরো শাড়ি নেমে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।"
কথাটা শুনে নীলিমা হেসে ফেললেন।
"আজ আর সেই ভয় নেই।"
এরপর প্রায় আধাঘণ্টা সময় নিয়ে নিজের হাতে মেঘলাকে শাড়ি পরিয়ে দিলেন তিনি। আঁচল ঠিক করে দিলেন,কোমরের ভাঁজগুলো গুছিয়ে দিলেন,চুলগুলোও সুন্দর করে কাঁধের উপর ছড়িয়ে দিলেন।
আয়নার সামনে দাঁড়াতেই মেঘলা নিজেই নিজেকে দেখে অবাক হয়ে গেল।ওর চোখে ভেসে উঠলো গ্রামের সেই দিনের কথা।নীলিমা পেছন থেকে ওর দুই কাঁধে হাত রেখে আয়নার দিকে তাকিয়ে বললেন,
"মাশাআল্লাহ।একদম রাজকন্যা লাগছে আমার বউমাকে।"
মেঘলার গাল লাল হয়ে উঠলো।
"মা..."
"লজ্জা পাস । এখন সবাই ঘুমাচ্ছে। আর একটু পরেই একে একে সবাই উঠে পড়বে। তখন কিন্তু তোকে নিয়েই আলোচনা হবে।"
"আমাকে নিয়ে কেন?"
"কারণ তুই আজকের অনুষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের একজন। বুঝলি?(মেঘলার থুতনি ধরে)"
মেঘলা কিছু বললো না। শুধু আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বটার দিকে তাকিয়ে রইলো।নীলিমা এবার বললেন,
"যা এখন একটু বিশ্রাম নিয়ে নে।বিকেলে পার্লার থেকে লোক আসবে। তখন আবার অনেক সময় লাগবে।"
মেঘলা বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নাড়লো।
--------------
অন্যদিকে-
বাড়ির তৃতীয় তলায় নিজের স্টাডি রুমে বসে আছে আরিয়ান।ওর সামনে ল্যাপটপ খোলা।কিন্তু গত দশ মিনিটে স্ক্রিনের দিকে একবারও ভালো করে তাকায়নি সে।মাথার ভেতর একের পর এক চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে।
ঠিক তখনই ফোনটা বেজে উঠলো।স্ক্রিনে ভেসে উঠলো 'রিদ্ম'।আরিয়ান ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে নাটকীয় কণ্ঠ ভেসে এলো,
"আসসালামু আলাইকুম জনাব বর সাহেব। নববিবাহিত জীবন কেমন চলছে?"
আরিয়ান চোখ বন্ধ করে ধৈর্য ধরার চেষ্টা করলো।
"কাজের কথা বল।"
"ওহ! কাজের কথা! আমি তো ভাবলাম বাসর রাতের অভিজ্ঞতা শুনবো।"
আরিয়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।
"রিদ্ম!"
"হুম বলো দুলাহ মিয়া।"
"তোকে সামনে পেলে খুন করে ফেলবো!"
ওপাশে হো হো করে হাসতে লাগলো রিদ্ম।
"আচ্ছা বল তো,ভাবী কি এখনও তোর উপর রাগ করে আছে নাকি তুই ভাবীর উপর রাগ করে আছিস?"
"চুপ কর।"
"না সিরিয়াসলি জানতে চাচ্ছি।"
"রিদ্ম!"
"আচ্ছা আচ্ছা রাগ করিস না।"
আরিয়ান আর এক সেকেন্ডও কথা না বাড়িয়ে ফোন কেটে দিল।ফোনটা টেবিলের উপর ছুঁড়ে রেখে দুই হাত দিয়ে নিজের চুল খামচে ধরলো ও।জীবনটা ঠিক কবে থেকে এত জটিল হয়ে গেল?যে মেয়েটাকে পাঁচ বছর ধরে ভুলতে পারেনি,ভাগ্য তাকে আবার ফিরিয়ে দিয়েছে। অথচ সেই ফিরে পাওয়ার মাঝেও যেন এক সমুদ্র দূরত্ব।আরিয়ান চোখ বন্ধ করলো।মেঘলার মুখটা বারবার ভেসে উঠছে সামনে।আর সেটাই ওর বিরক্তি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।চুলের মুঠি শক্ত করে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে ফিসফিস করে বললো,
"তুমি আমাকে এত সহজে শান্তিতে থাকতে দিবে না, তাই না মেঘলা?"
--------------
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই পুরো খান ভিলা যেন আলোয় ঝলমল করে উঠলো। বাড়ির সামনের বিশাল লন জুড়ে সাজানো হয়েছে রিসেপশনের আয়োজন। সাদা, সোনালি আর হালকা পিচ রঙের ফুল দিয়ে তৈরি আর্চওয়ে, চারপাশে ফেয়ারি লাইটের ঝলকানি, মাঝখানে বড় স্টেজ।সব মিলিয়ে জায়গাটা যেন কোনো স্বপ্নের রাজ্য। দূর থেকে ভেসে আসছে নরম সুরের মিউজিক। একে একে অতিথিরা আসতে শুরু করেছে।
অফিসের অনেক সহকর্মীও এসেছে। কারণ আরিয়ান আর মেঘলা দুজনেই কোম্পানির পরিচিত মুখ। তাই সবার মধ্যেই কৌতূহলের শেষ নেই। কেউ ফুলের তোড়া নিয়ে আসছে, কেউ আবার শুভেচ্ছা জানিয়ে ছবি তুলছে।
উপরে আরিয়ানের রুমে আয়নার সামনে বসে আছে মেঘলা। পার্লারের মেয়েরা ওর সাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছে। পিচ আর গোল্ডেন কম্বিনেশনের ভারী লেহেঙ্গায় আজ ওকে অবিশ্বাস্য সুন্দর লাগছে। মাথার একপাশে খোঁপা, তাতে সাদা গোলাপ গোঁজা। চোখে হালকা মেকআপ, ঠোঁটে মৃদু গোলাপি রঙ,আর ডায়মন্ড কাট পাথরের গহনা।নিজেকে আয়নায় দেখে নিজেই একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেলো মেঘলা।
ঠিক তখনই দরজা ঠেলে ঢুকলো তিথি।মেঘলাকে দেখে সে নাটকীয় ভঙ্গিতে বুক চেপে ধরলো।
"হায় আল্লাহ! মানুষ এত সুন্দর হয় কিভাবে?"
মেঘলা হাসলো।
"নাটক করিস না।"
"নাটক? আমি সত্যি বলছি। ভাবছি আরিয়ান স্যার আজকে বেঁচে ফিরবে তো?"
"তিথি!"
"আচ্ছা আচ্ছা, কিছু বললাম না।"
তিথি এসে ওর পাশে বসে পড়লো।
"কেমন লাগছে?"
মেঘলা কয়েক সেকেন্ড চুপ রইলো।
"অদ্ভুত।"
"মানে?"
"সবকিছু যেন খুব দ্রুত হয়ে যাচ্ছে। এখনো বিশ্বাস হয় না।"
তিথির মুখের হাসিটা একটু নরম হয়ে এলো। ইতিমধ্যেই মেঘলা ও আরিয়ানের অতীত ও ওদের বিয়ের পদ্ধতি সম্বন্ধে জেনে গেছে ও।
"সব ঠিক হয়ে যাবে।"
মেঘলা মৃদু হেসে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো।
--------------
অন্যদিকে নিচের রুমে আয়নার সামনে শেষবারের মতো দাঁড়ালো আরিয়ান।কালো রঙের স্যুটে ওকে আজ অসাধারণ লাগছে। চুলগুলো সুন্দর করে সেট করা। কব্জিতে ঘড়ি। পুরো লুকটাই রাজকীয়।
রিদ্ম ওকে দেখে শিস দিয়ে উঠলো।
"উফফ! বর সাহেবকে তো একদম সিনেমার হিরো লাগছে!"
আরিয়ান কটমট করে তাকালো।
"চুপ কর।"
"কেন? সত্যি বলছি।"
"তুই আজকে খুব বেশি কথা বলছিস।"
রিদ্ম হেসে ফেললো।
"বিয়ের পর থেকে তোকে খোঁচানোই আমার নতুন শখ।"
আরিয়ানের ইচ্ছে করছিলো ওকে ধাক্কা মেরে বের করে দেয়।
--------------
কিছুক্ষণ পর স্টেজে এসে দাঁড়ালো নবদম্পতি।মেঘলাকে দেখেই যেন কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলো পুরো হল।অফিসের একজন মহিলা সহকর্মী ফিসফিস করে বললেন,
"ও মাই গড! মেঘলাকে এত সুন্দর লাগতে পারে?"
আরেকজন বললো,
"আরিয়ান স্যারের সাথে তো একদম পারফেক্ট লাগছে।"
ক্যামেরার ফ্ল্যাশ একের পর এক জ্বলতে লাগলো।
আরিয়ান পাশ থেকে একবার তাকালো মেঘলার দিকে।
তারপরই দ্রুত চোখ সরিয়ে নিল।কিন্তু সত্যিটা হলো আজ মেঘলাকে দেখে ওর বুকের ভেতরটা কেমন যেন অস্থির হয়ে উঠেছে।মেঘলাও সেটা লক্ষ্য করেছিল।
আরিয়ানের সেই এক ঝলক তাকানো।কিন্তু পরের মুহূর্তেই আবার আগের মতো নির্লিপ্ত মুখ।মেঘলার বুকের ভেতর হালকা খচখচে একটা অনুভূতি হলো।
এদিকে অতিথিরা একে একে এসে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।
ফারহান আর নীলিমা সবাইকে অভ্যর্থনা জানাতে ব্যস্ত।
একজন আত্মীয় এসে বললেন,
"মাশাআল্লাহ। এমন সুন্দর জুটি অনেকদিন দেখিনি।"
নীলিমা গর্বিত হাসলেন।
"দোয়া করবেন।"
স্নিগ্ধা আর নাবিলের কথা উঠতেই তিথি মুখ বাঁকালো।
"ওরা আসতে পারলো না।"
মেঘলা জিজ্ঞেস করলো,
"কেন?"
"স্নিগ্ধার শরীরটা খারাপ রে।তাই নাবিলও ওকে রেখে আসেনি।"
মেঘলা চিন্তিত গলায় বললো,
"সিরিয়াস কিছু?"
"না নাবিল তো বললো বেশি চিন্তার কিছু নেই।"
মেঘলা একটু মন খারাপ করলো।
"ওরা থাকলে ভালো লাগতো।"
"ভিডিও কল করে পরে দেখিয়ে দিবো।"
--------------
সময় যত যাচ্ছে, অনুষ্ঠান তত জমে উঠছে।বাচ্চারা দৌড়াদৌড়ি করছে,কেউ ছবি তুলছে,কেউ খাবারের প্রশংসা করছে।পুরো পরিবেশটা আনন্দে ভরে গেছে।
কিন্তু এই আনন্দের মাঝেও মেঘলা বারবার অনুভব করছে আরিয়ানের সাথে অদৃশ্য একটা দেয়াল।
স্টেজে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে তারা।তবু যেন অনেক দূরে।
একজন অতিথির সাথে কথা বলছিলো আরিয়ান।মেঘলাও পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।ও মাহাবুবদের আসার অপেক্ষায় ছিলো।
হঠাৎই একটা মেয়ে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো আরিয়ানকে।সকলে হতভম্ব হয়ে গেলো। মেঘলার বুক ধক করে উঠলো।ওর মুখ থেকে অস্ফুটে বের হয়ে এলো,
"ইশিতা!"
চলবে...
💬 গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন