ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রনয়ের বৃষ্টি

৩৭তম পর্ব

লেখক: নাজমিন

#প্রণয়ের_বৃষ্টি

#writer_nazmin

#Part_37

🚫 হ্যাশট্যাগ বিহীন কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ‼️

মাহাবুব আলম স্বপরিবারে এসেছেন রিসেপশন পার্টিতে। প্রথমেই দুই বন্ধু ও দুই বন্ধুর স্ত্রীদের মধ্যে আলাপ-সালাপ ও কুশলাদি বিনিময় চললো।আজ রাহাতও এসেছে। গতকাল রাতেই ছুটিতে এসেছে ও। ভাগ্যক্রমে দুদিনের ছুটি পেয়ে গেছে। নয়তো সেনাবাহিনীর চাকরিতে ঘন ঘন ছুটি পাওয়া তো আর এত সহজ নয়।সে যতই মেজর হোক না কেন!ও আর তৃধাও সকলের সাথে কুশল বিনিময় করলো।

এবার সকলে স্টেজে গেলো আরিয়ান ও মেঘলার সাথে কুশল বিনিময় করতে।স্টেজের সামনে তখন ছোটখাটো ভিড় জমে গেছে। আত্মীয়-স্বজন, অফিসের সহকর্মী, পরিচিতজন সবাই একে একে নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাতে ব্যস্ত।ক্যামেরার ফ্ল্যাশ একের পর এক জ্বলে উঠছে। চারপাশে হাসি-আনন্দে মুখর পরিবেশ।

রাহাত সবার আগে স্টেজে উঠে আরিয়ানকে জড়িয়ে ধরলো।

"কংগ্রাচুলেশনস,মিস্টার বিজনেসম্যান।"

আরিয়ান হেসে ওর পিঠে চাপড় দিলো।

"থ্যাংকস, মেজর সাহেব।তা এলে কবে?"

"গতকাল রাতে।আর আসবো না? আমার একমাত্র বোনের বিয়ে বলে কথা।"

"ভালো করেছিস।"

আসলে ছোটবেলায় সমবয়সী আরিয়ান ও রাহাত একসাথে খেলাধুলা করতো।তাই দুজন তুমি সম্বোধনই করলো।তারপর দুজনের মধ্যে আরও কিছুক্ষণ গল্প চললো। তৃধাও মেঘলাকে জড়িয়ে ধরলো।

"কেমন আছিস?"

মেঘলা ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে বললো,

"ভালো আছি।"

"মিথ্যা।"

মেঘলা চমকে তাকালো।তৃধা ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।

"তোর মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে কিছু একটা হয়েছে।"

"কই না তো।"

"মেঘলা, আমাকে চিনিস না?"

মেঘলা হালকা হেসে বললো,

"সত্যি কিছু হয়নি।"

তৃধা কিছুক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর আর চাপ দিলো না। কারণ এত মানুষের সামনে কিছু জিজ্ঞেস করাও সম্ভব নয়।এদিকে মাহাবুব আলম স্টেজে উঠে আরিয়ানের কাঁধে হাত রাখলেন।

"কেমন আছো বাবা?"

আরিয়ান সম্মান নিয়ে বললো,

"আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি বাবা। আপনি কেমন আছেন?"

জামাইয়ের মুখে বাঁড়া শুনে মাহাবুব যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেলেন।

"এখন তো অনেক ভালো লাগছে।"

ফারহানও পাশে এসে দাঁড়ালেন।

"দেখেছিস মাহাবুব? ছেলেমেয়েদের জন্য আমরা কত টেনশন করলাম।"

মাহাবুব হেসে বললেন,

"আলহামদুলিল্লাহ, শেষটা ভালো হয়েছে এটাই বড় কথা।"

শারমিন বেগমও মেঘলা ও আরিয়ানের সাথে কথা বললেন।এতো কথাবার্তার মাঝেও মেঘলা যেন কোথাও হারিয়ে ছিল।ওর ঠোঁটে হাসি আছে।সবার সাথে কথা বলছে।ছবি তুলছে।শুভেচ্ছা গ্রহণ করছে।কিন্তু ওর ভেতরের কোথাও যেন একটা অংশ ভেঙে পড়ে আছে।

কিছুক্ষণ আগের দৃশ্যটা বারবার মাথার ভেতর ঘুরে বেড়াচ্ছে।

--------------

কিছুক্ষণ আগে-

ইশিতা আরিয়ানকে ছেড়ে দিয়েই হেসে ফেললো। মেঘলা মুখ শক্ত করে কিছু বলতে নিবে এমন সময় নীলিমার কণ্ঠ ভেসে এলো।

"ইশিতা মা কবে এলে তুমি?"

নীলিমা এগিয়ে এসে ইশিতাকে কৌশলে আরিয়ানের থেকে একটু দূরে নিয়ে জড়িয়ে ধরলেন।উপস্থিত সকলের ফুসুরফাসুর যেন আরো বাড়লো।মেঘলা হতভঙ্গ হয়ে রইলো।এটা কি হল?মা ওকে এভাবে জড়িয়ে ধরলো!ওকি তবে এখানে পরিচিত?

এবার স্টেজে উঠে আসলেন একজন মধ্যবয়স্ক মহিলা। ফারহান খানের সাথে চেহারার মিল ভালই রয়েছে। দেখে ভাই বোনের মতোই মনে হচ্ছে।মহিলাটির পরনে ভারী শাড়ি ও দামি দামি গহনা।দেখে আভিজাত্যের ভাব প্রকাশ পাচ্ছে।মহিলাটি আসতেই ফারহান খান সম্মান দিয়ে বলে উঠলেন,

"আরে আপা তোমরা না বললে আসতে পারবে না?"

মহিলাটি মুখ বাঁকিয়ে বলে উঠলো,

"আরে বাহ আসতে পারবো না বললাম বলে এখন এসেছি বলে দোষ হয়ে গেল নাকি?নাকি না জানিয়ে তোর ছেলের রিসিপশনে আসা যাবে না হ্যাঁ?"

"আহা এসব কি বলছ?আমি এসব কখন বললাম?আচ্ছা ছাড়ো যাই হোক তোমরা এসেছ এই অনেক।"

নীলিমা মহিলাটিকে সালাম দিলেন তারপর বললেন,

"আসুন আপা।আগে বললে তো গাড়ি পাঠাতে পারতাম।"

"থাক থাক আর এত কিছু বলতে হবেনা।কত কি যে করতে তা জানা আছে।"

আরিয়ানের চেহারা দেখে মনে হল সে ভীষণ বিরক্ত ও ওর মেজাজও তেমন একটা ভালো না।মেঘলা এতক্ষন এতসব ঘটনা দেখে যা বুঝলো ইনিই হয়তো আরিয়ানের বড় ফুপু জয়া যার কথা নীলিমা দুপুরেই ওকে বলেছিলেন।যিনি বিদেশ থাকেন।বলেছিলেন আজ হয়তো আসতে পারবেন না।এবার আরেক দফা চমকে উঠল মেঘলা যখন ইশিতা বলে উঠলো,

"আসলে মামা আমি নিজেই টিকিট কেটেছি সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম তাই মমকে বলিনি।তাই মম কিছু জানতো না।"

তার মানে ইশিতা আরিয়ানের ফুফাতো বোন! মেঘলার যেন মাথা ঘুরছে, স্থির থাকতে পারছে না ও।কি হচ্ছে ওর সাথে এসব?ভাগ্য কোথায় এটা দাঁড় করাচ্ছে ওকে? একে একে সব পুরনো অতীত এভাবে... আর ফারহানা নীলিমা এত স্বাভাবিক!উনারা কি আর আরিয়ানা আর ইশিতার ব্যাপারে কিছু জানেন না। আর নাকি জানেন কিন্তু...

আরও আরো কিছুক্ষণ কথাবার্তার পর নীলিমা এবার জয়াকে মেঘলা সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন।

"আপা এই হচ্ছে আমার বউমা!"

নিজেকে সামলে মেঘলা ওনাকে সালাম দিলো।উনি সালামের জবাব দিলেন তবে উনার মুখ দেখে অনেক মেঘলা কে বিশেষ একটা পছন্দ হয়েছে বলে মনে হলো না।এমনটা মনে হওয়ার কারণ উনি মেঘলার সাথে সালাম বিনিময়ের পর আর কোন কথাই বললেন না। সোজা ফারহান খানকে বললেন,

"শোন তোর দুলাভাই বিজনেসের জন্য আসতে পারেনি। আর আমরা এবার একমাস তোদের এখানেই থাকবো। তারপর অন্যান্য কিছু জায়গায় ঘুরে তিন মাস পর আবার ফিরবো। আর এখন আমার বেবি আর আমি অনেক ক্লান্ত।তাই আমরা এখন রেস্ট নিব। আমাদের রুমটা দেখিয়ে দে।"

ফারহান ব্যস্ত হয়ে বললেন,

"আচ্ছা আপা।(নীলিমাকে উদ্দেশ্য করে)আপাদের রুমটা দেখিয়ে দিতে বলো।"

"হ্যাঁ।"

নীলিমা একজন কাজের মহিলাকে বললেন ওনাদের রুম দেখিয়ে দিতে। জয়া এটি শুনে রেগে বলে উঠলেন,

"তা নীলিমা আমাদের রুম দেখিয়ে দিতে কাজের লোককে বলতে হচ্ছে।নিজে যেতে পারছ না?"

"এ মা না না আপা।আসলে এখানে..."

"ঠিক আছে।ঠিক আছে।তোমার এত কথা বলতে হবে না।সবই বুঝেছি।"

"না না আমি যাচ্ছি।"

যাওয়ার আগে ইশতা মেঘলার দিকে চেয়ে কুটিল হাসলো।

--------------

বর্তমান-

মেঘলা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেললো।ও জানে না সামনে কি অপেক্ষা করছে ওর জন্য।

অন্যদিকে-

স্টেজের আশেপাশে তখন বেশ ভিড়। কেউ ছবি তুলছে, কেউ গল্প করছে, কেউ আবার খাবারের দিকে ছুটছে। তিথি এতক্ষণ মেঘলার সাথেই ছিল। কিন্তু হঠাৎই ওর চোখ পড়লো বুফে কাউন্টারের দিকে।রসগোল্লা!একেবারে টাটকা, বড় বড় সাদা রসগোল্লা সাজানো।তিথির চোখ চকচক করে উঠলো।

"একটা প্লেট নিয়ে আসি।"

বলে সে দ্রুত বুফের দিকে চলে গেল।

ওদিকে ঠিক একই সময়ে রিদ্মও খাবারের টেবিলের দিকে যাচ্ছিল। সকাল থেকে ঠিকমতো কিছু খাওয়া হয়নি। বিশেষ করে ওর দুর্বলতা মিষ্টির উপর।

দুজনই প্রায় একই সময়ে রসগোল্লার ট্রের সামনে পৌঁছালো।তিথি চামচ বাড়াতেই আরেকটা চামচ এসে একই রসগোল্লার উপর পড়লো।

দুজনেই একসাথে বললো,

"এটা আমি নিচ্ছি।"

পরের মুহূর্তেই দুজনের চোখাচোখি হলো।কয়েক সেকেন্ড দুজনেই স্থির হয়ে রইলো।তারপর তিথির চোখ বড় বড় হয়ে গেল।

"ধলা হনুমান!"

রিদ্মও প্রায় লাফিয়ে উঠলো।

"টেডি সন্ত্রাসী!"

দুজনেই একসাথে চেঁচিয়ে উঠলো,

"আপনি!"

চারপাশের কয়েকজন অবাক হয়ে তাকালো।তিথি চোখ কুঁচকে বললো,

"আপনি এখানে কি করছেন?"

রিদ্ম অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,

"আমি কি করছি মানে? এটা আমার বন্ধুর রিসেপশন!"

"ওহ! তাহলে আপনি সেই রিদ্ম?"

"আরে রাখুন আগে বলুন আপনি কে?"

"আমি তিথি।"

"মানে ভাবীর বান্ধবী!"

দুজনেই আবার কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইলো।তারপর তিথি মুখ বাঁকিয়ে বললো।ষ,

"যাই হোক আপনাকে অবশ্য নামটা মানায়নি।"

"কি বলতে চান?"

"রিদ্ম নাম শুনলে শান্তশিষ্ট মানুষ মনে হয়। আপনি তো পুরো ঝামেলার কারখানা।"

রিদ্ম হেসে ফেললো।

"বাহ! এই কথা আপনার মুখে মানায়?"

"কেন মানাবে না?"

"কারণ শপিংমলের মাঝখানে একজন ভদ্রলোকের চুল ধরে ঝাঁকানোর রেকর্ড আপনার আছে।"

তিথি সাথে সাথে বলে উঠলো,

"ভদ্রলোক কোথায় ছিলেন? আমি তো হনুমান দেখেছিলাম।"

রিদ্ম গভীর শ্বাস নিল।

"ইয়া আল্লাহ! আবার শুরু হলো।"

"শুরু আমি করিনি।"

"হ্যাঁ, আপনি তো কখনো কিছু শুরু করেন না। আপনি সরাসরি যুদ্ধ শুরু করেন।"

তিথি উত্তর দিতে যাবে এমন সময় আবার দুজনের নজর একই রসগোল্লার দিকে গেল।রিদ্ম চামচ বাড়ালো।তিথিও বাড়ালো।আবার একই রসগোল্লা!

রিদ্ম বিরক্ত হয়ে বললো,

"এতগুলো রসগোল্লা থাকতে এই একটাই কেন?"

তিথি গম্ভীর মুখে বললো,

"কারণ এটা সবচেয়ে সুন্দর।"

রিদ্ম হাঁ করে তাকিয়ে রইলো।

"রসগোল্লাও সুন্দর-অসুন্দর হয়?"

"অবশ্যই হয়।"

"আপনি কি রসগোল্লার সাথেও ইমোশনাল বন্ডিং করে ফেলেছেন?"

তিথি গর্বিত মুখে মাথা নাড়লো।

"হ্যাঁ।"

রিদ্ম দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরলো।

"আবার বন্ডিং!"

"সত্যিকারের বন্ডিং হতে সময় লাগে না।"

এক মুহূর্তের জন্য রিদ্ম চুপ করে রইলো।

তারপর হঠাৎ বললো,

"এক মিনিট এই ডায়লগটা কোথায় যেন শুনেছি।"

তিথি দাঁত বের করে হাসলো।

"কারণ শপিংমলেও বলেছিলাম।"

রিদ্মের মুখ অন্ধকার হয়ে গেল।

"ওই ঘটনার কথা মনে করাবেন না প্লিজ।"

"কেন? চুল এখনও ব্যথা করে?"

"আপনি ভাগ্যবান যে এখানে এত মানুষ আছে।"

"ওমা! আবার হুমকি!"

"না, সতর্কতা।"

"ধলা হনুমানের সতর্কতায় আমি ভয় পাই না।"

"আর আমি টেডি সন্ত্রাসীকে ভয় পাই না।"

দুজন আবার কটমট করে তাকিয়ে রইলো।ঠিক তখনই একজন ওয়েটার এসে ট্রে বদলে দিল।রসগোল্লা উধাও।দুজনেই হতভম্ব।ওয়েটার ভদ্রভাবে বললো,

"স্যার, ম্যাম, নতুন ট্রে আসছে।"

তিথি আর রিদ্ম একসাথে ট্রের দিকে তাকিয়ে রইলো।

তারপর একসাথে বলে উঠলো,

"সব আপনার জন্য হয়েছে!"

পরের মুহূর্তেই আবার ঝগড়া শুরু হয়ে গেল।আর আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন মজা নিয়ে সেই দৃশ্য দেখতে লাগলো।

চলবে...

💬 গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন