#প্রণয়ের_বৃষ্টি
#writer_nazmin
#Part_38
🚫 হ্যাশট্যাগ বিহীন কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ‼️
রিসেপশনের কোলাহল থেকে খানিকটা দূরে, বাড়ির পেছনের বাগানের নির্জন অংশে দাঁড়িয়ে আছে আরিয়ান। চারপাশে ঝুলানো ফেয়ারি লাইটের আলো গাছের পাতায় পড়ে অদ্ভুত এক আবহ তৈরি করেছে। দূরে মিউজিক বাজছে, মানুষের হাসির শব্দ ভেসে আসছে, কিন্তু এখানে যেন সবকিছু নিস্তব্ধ।
ইশিতা দুহাত বুকের উপর গুটিয়ে ওর সামনে দাঁড়িয়ে।
"তুমি এখনও আমার উপর রাগ করে আছো?"
আরিয়ান ঠান্ডা চোখে তাকালো।
"আমার মনে হয় না এই প্রশ্নটার উত্তর তোমার অজানা।"
ইশিতা মুচকি হাসলো।
"সাত বছর হয়ে গেছে আরিয়ান। এখনও এত অভিমান?"
"অভিমান?"
আরিয়ান তাচ্ছিল্যের হাসি দিলো।
"যে মানুষটা কাউকে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তার উপর অভিমান করা যায় না ইশিতা। তাকে শুধু ভুলে যাওয়া যায়।"
কথাটা শুনে ইশিতার চোখে এক মুহূর্তের জন্য কষ্টের ছায়া নেমে এলো।
"সত্যিই ভুলে গেছো?"
আরিয়ান তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো,
"নাটক বন্ধ করে যাও এখান থেকে।(চিল্লিয়ে)জাস্ট লিভ!"
ইশিতা ভয়ে ওখান থেকে চলে গেলো।ও যেতেই আরিয়ানের চোখের সামনে ভেসে উঠলো বহু বছর আগের সেই দিনগুলো।
---------------
অতীত-
তখন আরিয়ান আর ইশিতা দুজনেই ক্লাস নাইনে পড়ে।
প্রতিবছরের মতো এবারও গ্রীষ্মের ছুটিতে জয়া ফুপিরা বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছেন। ছোটবেলা থেকেই ইশিতা আরিয়ানদের বাড়িতে আসত। দুজনের বয়স কাছাকাছি হওয়ায় বন্ধুত্বও ছিল দারুণ।তবে সেই বছরটায় কিছু একটা বদলে গিয়েছিল।
সেদিন বিকেলে বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে ছিল আরিয়ান। হাতে ক্রিকেট ব্যাট।হঠাৎ পেছন থেকে একটা কাগজের বল এসে ওর মাথায় লাগলো।ঘুরে তাকাতেই দেখলো ইশিতা দাঁড়িয়ে আছে।
"এই!"
আরিয়ান ভ্রু কুঁচকে বললো,
"কি সমস্যা তোর?"
ইশিতা জিভ বের করলো।
"তোকে ডাকছিলাম।শুনিস নি।"
"তাই বলে মাথায় বল মারবি?"
"তুই তো এমনিতেও গাধা। আরেকটু মারলে কি হবে?"
আরিয়ান রেগে তেড়ে আসতেই ইশিতা দৌড় দিলো।
"ধরতে পারলে ধর!"
সেদিন পুরো বিকেলটা ওরা ছাদে দৌড়াদৌড়ি করে কাটিয়েছিল।কিন্তু সেই দিনই প্রথমবারের মতো আরিয়ান খেয়াল করেছিল ছোটবেলার সেই বাচ্চা মেয়েটা আর আগের মতো নেই।হাসলে গালে টোল পড়ে।চুলগুলো বড় হয়ে গেছে।আর চোখদুটো অদ্ভুত সুন্দর।
সেদিন রাতে নিজের রুমে বসে বারবার ইশিতার কথাই ভাবছিল আরিয়ান।আর নিজের উপরই বিরক্ত হচ্ছিল।
"ধুর! আমি এসব কি ভাবছি?"
কিন্তু যতই ভুলতে চাইছিল ততই যেন মেয়েটার মুখটা মাথায় ঘুরছিল।
--------------
দুই বছর পর তখন তারা কলেজে।বন্ধুত্বটা ধীরে ধীরে অন্যরকম একটা সম্পর্কে বদলে গেছে।তবে সেটা পরিবারের কেউ জানতো না।জানবেই বা কিভাবে?
দুজনেই বিষয়টা লুকিয়ে রেখেছিল।
সেদিন বিকেলে কলেজ ছুটির পর একটা লেকের পাশে বসেছিল তারা।ইশিতা আইসক্রিম খাচ্ছিল।আরিয়ান ওর দিকে তাকিয়ে ছিল।ইশিতা বিরক্ত হয়ে বললো,
"এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?"
"দেখছি।"
"কি দেখছো?"
"তোমাকে।"
ইশিতা লজ্জা পেয়ে অন্যদিকে তাকালো।
"তুমি না একদম অসহ্য।"
আরিয়ান হাসলো।
"তাহলে ভালোবাসো কেন?"
ইশিতা কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বললো,
"জানি না।"
"মিথ্যা।"
"সত্যি।"
"আমিও জানি না কেন তোমাকে ভালোবাসি।"
ইশিতা এবার হেসে ফেললো।
"এই ডায়লগ কোথা থেকে শিখেছো?"
"ডায়লগ না। সত্যি।"
কয়েক মুহূর্ত নীরবতা নেমে এলো।তারপর আরিয়ান ধীরে বললো,
"একদিন আমি অনেক বড় হবো।"
"হুম।"
"নিজের কোম্পানি হবে।"
"হুম।"
"আর তারপর..."
"তারপর?"
"তোমাকে বিয়ে করবো।"
ইশিতা থমকে গেলো।ওর চোখে তখন অদ্ভুত একটা আলো।ধীরে ধীরে বললো,
"প্রমিস?"
আরিয়ান নিজের হাত বাড়িয়ে দিলো।
"প্রমিস।"
ইশিতাও নিজের হাত রাখলো ওর হাতে।
দুজনের মুখেই তখন ভবিষ্যতের হাজারো স্বপ্ন।
কিন্তু তারা কেউ জানতো না ভাগ্য তাদের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু লিখে রেখেছে।
---------------
সেদিন ছিল আরিয়ানের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোর একটি।আরিয়ানের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের রেজাল্টের দিন।ইশিতাও তখন ওদের ভার্সিটিতেই দ্বিতীয় বর্ষে।আর ঠিক সেই সময়েই ইশিতা হঠাৎ করে বদলে যেতে শুরু করলো।আগের মতো ফোন করতো না।মেসেজের উত্তর দিত দেরিতে।দেখা করতেও চাইতো না।প্রথমে আরিয়ান ভেবেছিল হয়তো কোনো সমস্যা হয়েছে।কিন্তু ধীরে ধীরে সন্দেহ জন্মাতে শুরু করলো।
অবশেষে একদিন আরিয়ান নিজেই ওর সাথে দেখা করতে গেল।শহরের এক ক্যাফেতে বসেছিল ইশিতা।আর ওর সামনের চেয়ারে বসে ছিল এক অচেনা ছেলে।
দুজনকে একসাথে দেখে আরিয়ানের বুকের ভেতরটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠলো।সে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল।
ইশিতার মুখ ওকে দেখেই ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
"আরিয়ান..."
আরিয়ানের চোখ তখন শুধু ওই ছেলেটার উপর।
"ও কে?"
ইশিতা চুপ।
"আমি জিজ্ঞেস করেছি ও কে?(চিৎকার করে)"
কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর ইশিতা ধীরে বললো,
"ভিভান।"
"ভিভান কে?"
"আমার ফিয়ান্সে।"
এক মুহূর্তের জন্য পৃথিবীটা যেন থেমে গেল।আরিয়ান বিশ্বাসই করতে পারছিল না।
"কি বললে?"
ইশিতার চোখ ভিজে উঠলো।
"আমি কিছু করতে পারিনি।"
"মানে?"
"বাবা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।"
"আর তুমি মেনে নিয়েছো?"
"আমার কোনো উপায় ছিল না।"
আরিয়ান হাসলো।
তবে সেই হাসিতে কোনো আনন্দ ছিল না।
শুধু ভাঙা একটা মানুষের কষ্ট ছিল।
"তাহলে এতদিন যা ছিল সব মিথ্যা?"
"না!"
ইশিতা কেঁদে উঠলো।
"আমি তোমাকে ভালোবাসতাম।"
"ভালোবাসতে?"
আরিয়ানের কণ্ঠ কেঁপে উঠলো।
"অতীত কাল?"
ইশিতা মাথা নিচু করে ফেললো।আরিয়ান অনেকক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো।তারপর ধীরে ধীরে বললো,
"আজ থেকে তুমি আমার কাছে মৃত, ইশিতা।"
"আরিয়ান প্লিজ..."
"না।"
আরিয়ান এক পা পিছিয়ে গেল।
"যেদিন তুমি অন্য কারও হাত ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছো, সেদিনই আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।"
সেদিন আর পিছনে ফিরে তাকায়নি আরিয়ান।কিন্তু সেই ঘটনার পর বহু রাত ও ঘুমাতে পারেনি।পরে অবশ্য ইশিতার সেই বিয়েটা ভেঙ্গে গিয়েছিল। কারণ পাত্রপক্ষ জানতে পেরেছিলো ইশিতার একাধিক সম্পর্ক আছে। আরিয়ান এসব খবর শুনে শুধু তাচ্ছিল্য হেসেছিল।আর তখন থেকেই ইশিতা আবার আরিয়ানের জীবনে ফেরার চেষ্টা করতে থাকে।
চলবে...
💬 গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন